চট্টগ্রাম বিভাগ

  • সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার । সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর এতটুকু ভরসা রাখতে হবে।

    রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পিরোজপুরে এলজিইডির প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

  • সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

    জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

    নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

  • কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম (১৫) নামে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নুরুল ইসলাম ইরান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। ইরানকে চিহ্নিত মাদক কারবারি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার বাড়িঘর ও মাদক সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    শনিবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নাঈম ও ইমরান (২০) নামে দুইজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইরান ও তার সহযোগীরা।

    অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয়। আর ইমরানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।

    গুরুতর আহত নাঈমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নাঈমের জানাজা শনিবার বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জানাজার পর মাইকে নাঈমের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ ইরানকে খুঁজতে বের হন।

    স্থানীয়দের দাবি, রাতে তাকে পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ধরে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ইরানকে হত্যার পর তার বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার দুপুরেও মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আলতাপ (৪৫) ও বাদশা (৫০) নামে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তারা ইরানের সহযোগী। আলতাপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত বাদশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক বলেন, ‘নাঈম দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে ভালো ছেলে ছিল। ইরানের ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে ও ইমরানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নাঈমের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়া হয়।’

    ইমরানের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘ইরানের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে আনি।’

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান বলেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সামনে নাঈমকে কুপিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আমার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

    নিহত ইরানের ছেলে রিফাত বলেন, তাঁদের ২২টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরের মালামাল লুটের পাশাপাশি একটি সিএনজি, দুটি পাওয়ারটিলার, একটি ভ্যান ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত।

    তবে মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এজাহারুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় মামলা হয়েছে। পরে নাঈমের জানাজা শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী ইরানকে হত্যা করে। তাঁর বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সীতাকুণ্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শামীমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনাতেও ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

  • শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

    পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সাত শিক্ষকের বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ‘সাত শিক্ষক একসঙ্গে বদলি কেন, জবাব চাই’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন।

    একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার চাকরি খাইও না। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাই। তোমরা আমাদের কোনো ক্ষতি কইরো না।’

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তানহা ও শান্তা বলেন, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কোনো শিক্ষক তাদের আন্দোলনে উৎসাহ দেননি। তারা বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। সব স্যার সরকারি চাকরিজীবী, বদলি হতেই পারেন। তবে বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে সাত শিক্ষকের বদলি বাতিলের দাবি জানায়। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত, তাই তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে চলে যায়।

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তাদের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

    গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই দিন অপরাহ্ন থেকে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

    বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ, নোয়াখালী), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’

  • ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    লোকজ ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, অনন্য পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরকে। স্থানীয় ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

    ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জেলা সদরে আয়োজিত হলেও দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে এসেছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার দর্শক।

    এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।

    অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলা-পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর-সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

    দর্শকপর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। তারপর এই নির্বাচিত দর্শকরা তাদের জেলারই কৃতিসন্তান জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

    পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী, লক্ষ্মীপুরের সন্তান নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বলেছেন পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে তার অনুভূতির কথা।

    প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও থাকছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারিগাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়াও রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একসময় নদী যার আয়ের উৎস ছিল, আজ সেই নদীই তাদের নিঃস্ব করেছে।

    এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের তৈরি অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

    থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ম ও তীর্যক নাট্যাংশ। তৈল টিভি, মুখোশের অন্তরালে, স্ক্রিনবন্দি জীবন, উন্নয়ন প্রতারণা, বিয়ে যন্ত্রণা, সবাই ডাক্তার, ইউটিউব ফিভার, ডিজিটাল চিকিৎসা, খাঁটি সোনা ও নকল সোনাসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।

    এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

    আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে দর্শকপ্রিয় ইত্যাদির এই পর্ব। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

  • এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এইচএসসি ও সমমানের পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এ নির্দেশনা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই  পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গত ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, গত ১৩ জুলাই যারা পদার্থবিজ্ঞান-হিসাববিজ্ঞান-যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই শুধু এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    যাদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তারা সুযোগ পাবেন কি না—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘না। এটা তো সম্ভব না। যারা দিয়েছে, তাদের আর পরীক্ষা দিতে হবে না। প্রশ্নে ভুল ছিল, সেটাতে আমরা সবাইকে নম্বর দিয়ে দিচ্ছি তো। এরপর আর কোনো কথা নেই।’

    গত ১৩ জুলাই দেশের ৫৯ জেলায় (চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে ওই দিন পরীক্ষা নেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

    এ নিয়ে ১৪ জুলাই সারা দেশে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

    আটকরা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গুচ্ছবিল এলাকার মরহুম আলাল হোসেনের ছেলে মো: মামুন হোসেন প্রকাশ ইমন (৩৭) ও একই উপজেলার গবমারা এলাকার পরলোকগত আচই মারমার ছেলে ঞোলাপ্রু মারমা (২৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ধুমঘাট বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি, করেরহাট রেঞ্জের সহযোগী স্টেশন কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করে দু‘টি জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফেনীর পরশুরামে একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা গেট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর আগে পরশুরামে একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে প্রিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাহেদা আক্তার তিমু। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সাথে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নিতে বলেছিলাম। তাকে আমি নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখতাম।

    পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টাকার অঙ্কে এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। বন্যা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার এবং খাগড়াছড়িতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পশু ও হাঁস-মুরগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

    তথ্যমতে, গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৯১০ টন দানাদার খাবারে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড় ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাস, যার মূল্য ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস।

    এছাড়া পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, এক লাখ ৬০ হাজার ৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ পশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে । অনেক কৃ ষক এ চাষটি করে থাকেন। এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে। সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন । অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে । এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

    তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

  • বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ। অতিবৃষ্টিতে আমনের বীজতলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসলি জমি ভাসিয়ে দিয়েছে। তাদেরই একজন পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম।তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর আশায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, কলা, চালকুমড়া, আউশ ও আমন ধানের চাষ করেন তিনি।

    সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার চাষ করা ফসলি জমির পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থার ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, পাঁচ হেক্টর পানের বরজ এবং ৩৬০ হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের সুখের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ এবং আউশ ও আমনের বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ—এই দুই সমস্যা কীভাবে সামলাব, তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ছি। এ মুহূর্তে সরকার আমাদের পাশে এসে না দাঁড়ালে মরণ ছাড়া কোনো পথ আছে বলে মনে হচ্ছে না।

    স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের ঋণ দেয় না। বন্যার পানিতে তার সবজি ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই সরকারের উচিত এই বিপদের সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়ানো।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিমের সবজি ক্ষেতের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার অনেক সময় লাগবে। একদিকে তিনি ঋণগ্রস্ত, অন্যদিকে বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থায় তাকে প্রতি মাস ও সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। বন্যার পর সেই কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নির্বাচন করে তা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা যাতে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।

  • পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় রদবদল

    পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের আগের একটি বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের আ ফ ম নিজাম উদ্দিন এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তার কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

    আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।

    হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

    নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।’

    নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।’

    আরেক দর্শক জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্নায় আদালতকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা শুরু করে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

  • দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন রাজধানীসহ সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    ঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনের শানডং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান (ওশানোগ্রাফি) বিভাগের অতিথি শিক্ষক জিহুয়া জাং। বিয়ের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে আল আমিন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে জিহুয়া জাংও তার ফেসবুক আইডিতে দুজনের একটি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    সুমাইয়া আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া নাস্তা ও পিঠা বিক্রির মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    বিয়ের বিষয়ে সুমাইয়া জানান, জিহুয়া জাং অতিথি শিক্ষক হিসেবে দুই দফায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। গত ১৪ জুলাই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম রাখা হয় আল আমিন।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষার একটি কোর্স করার সময় তাদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, জিহুয়া জাং বিভাগের একটি প্রকল্পের অধীনে অতিথি (অ্যাডজাঙ্কট) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ডেটা মডেলিং ও এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস বিষয়ে পাঠদান করতেন। গত দুই বছরে সামার ভ্যাকেশনের সময় তিনি দুইবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সর্বশেষ গত জুন মাসে তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছিলেন বলে জানান এই শিক্ষক।

  • বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    বন্যাকবলিত ৭ জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু

    দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

  • ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

    এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

    কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৪ ও ১৬ জুলাই যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নিকট বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ২০০ বস্তা করে ত্রাণসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

    ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এস. এম. আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কাজী শফিকুল ইসলাম (টিটু), আরশাদ-উর-রহমান, রিয়াজ ওয়ায়েজ ও বশির উদ্দিন আহমেদ। এ সময় সিএমপি, জেলা পুলিশ এবং বিজিএমইএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ত্রাণ গ্রহণকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম বিজিএমইএ’র এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ত্রাণসামগ্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এর আগে, গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

    বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিজিএমইএ তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর  গ্রেপ্তার

    চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার

    নোয়াখালীতে বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন হাতিয়া উপজেলার শূণ্যের চর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর আলাউদ্দিন এলাকার রফিক উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

    সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিডিনিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এদিকে, প্রায় দুই মাস আগে সোনাপুর এলাকা থেকে জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুক্রবার গ্রেপ্তার ফয়সাল মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই জয়দেবের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি নোয়াখালী থেকেও তারা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষিখাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। জেলার সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও ফলের বাগান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।

    শুধু কৃষিজমিই নয়, বন্যার তীব্র স্রোতে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ মৌসুমি চাষাবাদও ভেসে গেছে। নদীতীরবর্তী সবজি, ভুট্টা, মরিচ, আদা, হলুদ, কলা, পেঁপে, শসা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষকের আমন ধানের বীজতলা ও ফলের বাগানও নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অনেক কৃষকের।

    ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

    বান্দরবানের ছাইঙ্গ্যা এলাকার কৃষক মংমং মারমা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি আর নদীর পানি এসে আমার তিতকরলা আর শসার বাগান পঁচে গেছে। অনেক টাকা লোন নিয়েছি, এখন কেমনে কিস্তি দেব জানি না।

    বান্দরবানের বালাঘাটা ভরাখালীর কৃষক জসীম জানান, এমন বৃষ্টি আর বন্যা হয়েছে যে, আমাদের কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এই ক্ষতি এখন কে পুষিয়ে দেবে?

    আলীকদমের পানবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টি আর বন্যায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ শসার বাগান ও সবজিবাগান পানিতে ডুবে শেষ। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সব শেষ হয়ে গেছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, বান্দরবানে কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত আমরা বান্দরবানের সাত উপজেলার যে তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৩৬৮ হেক্টর কৃষিজমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।

  • ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিটি করেছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—মামলার নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার দশক ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের কর্মস্থল ও নাকের নিচের একটি তিলকে সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।

    মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক, জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’। মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

    মোজাফফর হোসেন তার নিজস্ব আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

    বন্যার কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সড়কে কাজও শুরু হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

    সুত্র: বাসস

  • নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

    মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।

    শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

    অবশেষে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।

  • নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।

    এর আগে একই দিন ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) এবং একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কালো রঙের একটি হার্ডজিপে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটের মধ্যে থাকা ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে মোট ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা রাখা ছিল।

    পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।

  • নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    মিয়ানমার উপকূলে জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও এর শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌযান দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করেছিল। আরোহীদের বেশির ভাগই ছিল দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিল।

    জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ আরোহী বহনকারী একটি নৌকা সমুদ্রে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌকাডুবির এসব ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

  • রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়।

    বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায় সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, তাকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে আটক করা হয়।

    ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

    মো. মোজাফফর হোসেন সে সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

  • পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৫টি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং প্রশ্নপ্রণয়নে দায়ীদের সাময়িক বরখাস্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও রয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের পাঠকদের জন্য মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ১। সারাদেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুল-সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

    ২। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    ৪। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে ফুল মার্কস দেওয়া হবে।

    ৫। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার

  • স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএসের স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকারে করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    কক্সবাজারের রামুতে অভিযান চালিয়ে গাড়ি থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবক ও দুই তরুণীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

    বুধবার সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রাবার বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মরহুম শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সিমা ইসলাম এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার উর্মি আক্তার উষা (১৯)।

    ডিএনসি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু রাবার বাগান এলাকায় একটি বিশেষ টিম অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার থামানোর সঙ্কেত দেয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর এর উইন্ডশিল্ডে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ ও ‘মিরপুর ডিওএইচএস’-এর স্টিকার দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিত বলে দাবি করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে ডিএনসি কর্মকর্তারা গাড়িটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্কচটেপ ও টিস্যু পেপারে মোড়ানো তিনটি পোটলা থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, চারটি স্মার্টফোন এবং গাড়ির বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি কিংবা ব্যবহৃত স্টিকারের সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই এসব স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রামু থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানায় ডিএনসি।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল সেগুলোতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে, ওই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার আমি আবারো বলছি- পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র ছয় নম্বর প্রশ্ন এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

  • বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার শুরু থেকেই কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তার লক্ষ্যেই অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। আজ এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত চাহিদা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। আর এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সহায়তা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনরায় নির্মাণ এবং কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    পাহাড়ধসে প্রাণহানির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বিকল্প স্থানে জমি ও গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    তিনি বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বা দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলকেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

    ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

    স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

    আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান।

    এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।

    আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।

    আদিল বিন মামুন আরও বলেন, মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ডেভিড ইমন নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। এমনকি তাঁর ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আদিল বিন মামুন তাঁদের চেয়ে বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।

    অফিস চলাকালীন সময়ে এই হামলা চালানো হয়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তাঁরা।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।

    আজ যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ১০ থেকে ১৫ জনের দল হামলা চালায়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    কে এই ইমন

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    চলতি বছরের জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫০ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি গত ১২ জুলাই অনুমোদন করা হয় এবং ১৩ জুলাই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারাদেশের বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১৭১টি দুর্ঘটনায় ১৪৩ জন নিহত এবং ২৬৪ জন আহত হয়েছেন।

    ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩ জন, আহত হয়েছেন ১৭৬ জন। রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। সিলেটে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। রংপুরে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৮২৭টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৭১ জন, অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯৪ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪১ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
    বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ১২ জন, মাইক্রোবাসে ৬ জন, অ্যাম্বুলেন্সে ৪ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১১ জন, ট্রাক্টরে ২ জন এবং ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের ৭টি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

    সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

    নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

  • রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি খোঁজখবর নেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

    এদিকে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ৫০০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    রাকিবুল ইসলাম রাকিবে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সব সময় মানুষের পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকবে।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ইমরান ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবালসহ, রামু উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

  • বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বন্যা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    ইতোমধ্যে গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও আজকের ১১ জুলাইয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে রুটিন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষা স্থগিতের কথা স্বীকার করে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ও বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দেশের অন্যান্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কি সিদ্ধান্ত আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট বোর্ডে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজও আমরা পরীক্ষা চালিয়েছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেও একই ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় গত বুধবার ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে ১১ জুলাই শনিবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। অপরদিকে এবারই সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ  গ্রেফতার -১

    চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার -১

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামাল হোসেন ভুঁইয়া নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আকাশ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার কামাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমানগন্ডা গ্রামে কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

    এসআই তারেক আকাশ বলেন, ‘মাদকসহ কামাল ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

  • কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী উপজেলাসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও কোমর পরিমাণ পানি ঢুকে গেছে বাড়িঘরে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে এসেছে। তবে বৃষ্টি কমলেও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

    এদিকে বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে চকরিয়া হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা ও শাওরিন মনি নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তাদের বাবা আব্দুল মালেক, তার স্ত্রী ও আরেক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    অপরদিকে টানা ছয় দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় জেলার বন্যাকবলিত এলাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

    শুক্রবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমে এলেও কক্সবাজারের দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    এই দুর্যোগে জেলায় অতিবৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস, দেয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গেলো পাঁচ দিনের এ ঘটনায় শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বিশজনের অধিক মানুষ।

    গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো সড়কে পানি উঠে পড়ায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

    স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টানা বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা।

    প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালী ইউনিয়নের হেদায়াতাবাদ, মাঝেরঘোনা, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, রাজাখালীর বামুলাপাড়া, মৌলভীপাড়া, উলুডিয়াপাড়া, মগনামার শরৎঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, ধারিয়াখালী, ধরদরীঘোনা, মটকাভাঙা, চেরাংঘোনা, মরিচ্যাদিয়া, রঙ্গিয়াখালী, মগঘোনা, মাঝিরপাড়া ও মৌলভীপাড়া, উজানটিয়ার মিয়াপাড়া, সাবখালীপাড়া, ঘোষলপাড়া, পেকুয়ারচর ও পেরাসিংগাপাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও পশ্চিম গোয়াখালী এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রাম।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবারে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    পেকুয়া উপজেলা বিএনপির

    সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ সাংবাদিকদের বলেন, নবগঠিত পেকুয়া পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পেকুয়া বাজারের জেনারেল হাসপাতাল থেকে বাজারের পশ্চিম মাথা পর্যন্ত কহেলখালী খালের প্রয়োজনীয় জায়গায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও খুলে দেয়া হয়েছে প্রবাহমান খালের ওয়াপদা সংলগ্ন স্লুইচ গেট।

    পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে চকরিয়া কাকারা ফাহাশিয়া খালী লক্ষেশ্বর করইয়া ঘোনা বমুবিলছড়ি চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি চকরিয়া সরকারি কলেজেও হাঁটু পরিমাণ পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ক্লাসসহ দাপ্তরিক কাজ করতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    আশ্রয়ে যাওয়া হলো না, নৌকা উল্টে দুই বোনের মৃত্যু

    বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আবদুল মালেক পরিবারের। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। ঝড়ো বাতাসে ডিঙি নৌকা উল্টে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা ও ৭ বছর বয়সী শাওরিন মনি। টানা চার ঘণ্টার উদ্বেগ, কান্না আর অপেক্ষার পর অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

    শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে। মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শাওরিন মনিকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    নিহত হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩) ও শাওরিন মনি (৭) ওই এলাকার কৃষক আবদুল মালেকের মেয়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ির চারপাশ তলিয়ে যায়। পানি বাড়তে থাকায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আবদুল মালেক। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিয়ে একটি ছোট ডিঙি নৌকায় রওনা হন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝড়ো বাতাসে নৌকাটি ডুবে যায়।

    এদিকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়।

    পরিবারের সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচতে সক্ষম হলেও স্রোতের পানিতে ভেসে যায় কিশোরী ঝর্ণা। তার মা লাকি আক্তার (৩১) এবং দুই বোন জেরিন মনি (৯) ও শাওরিন মনি (৭) সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও ঝর্ণাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল এনে পানির নিচে তল্লাশি চালানো হয়।

    চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানিতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে ডুবুরি দলের সহায়তায় প্রায় ৪ ঘণ্টা পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাইছার উদ্দিন বলেন, পরিবারটি শুধু নিরাপদ জায়গায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যে সেই যাত্রাই তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনায় আহত দুই বোন জেরিন মনি ও শাওরিন মনিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

    টানা বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার জেলায় গত পাঁচদিনে পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা পড়ে ও বন্যার পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঁচ দফা পাহাড় ধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার শহরে দুজন, চকরিয়া উপজেলায় তিনজন, পেকুয়া উপজেলায় একজন, উখিয়ার মরিচ্ছা এলাকায় একজন, মহেশখালী উপজেলায় একজন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পাহাড় ধসে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান।

    রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। যাদের মধ্যে গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় পাহাড় ধসে ৫ শিশু শিক্ষার্থী মারা যায়।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দিনপূর্ব রাত দেড়টার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশু মারা যায়।

    দুই নদীর পানি দুই দিন ধরে বিপৎসীমার উপরে

    কক্সবাজার জেলার দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি অতিবৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।

    কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    বাঁকখালী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৭৯ মিটার ও মাতামুহুরী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৮০ মিটার বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি জানান, জেলার কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছিল।

    পাঁচ দিনে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

    কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেলো ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    ইতোপূর্বে গত রোববার থেকে টানা ৫ দিনে ক

    ক্সবাজার জেলায় ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

    জেলা প্রশাসনের সতর্কতা

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যে কোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সময়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

  • চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাহ্দী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরকার জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উদ্ধার কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

  • পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগানোর ঘোষণা দিলেই হবে না, প্রকৃতপক্ষে কতটি গাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবে সর্বোচ্চ দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, “সাত লাখ গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো গাছ রোপণ করা হয়েছে। এটি সত্যিই দুঃখজনক।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই হবে না। কোন এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়েই বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে তুলি। সন্তান ও গাছ- দুটিই একসঙ্গে বেড়ে উঠুক।”

    সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব নগর ও শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি-আর) নীতির বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।”

    অনুষ্ঠানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

  • অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় বলছে, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্য বাবদ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি ও জেলা প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

    সেখানে দেখা যায়, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে, সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    তবে কক্সবাজার জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও সেখানে বর্তমানে কোনো আশ্রিত লোক নেই। দুর্গতদের সহায়তায় গত ৭ ও ৯ জুলাই দুই দফায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এর মধ্যে গত ৭ জুলাই প্রতিটি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    পরবর্তীতে ৯ জুলাই শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    একই দিনে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের এই পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    পাশপাশি, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষদের জন্য সুপেয় পানি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিশু খাদ্যসহ তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মো: জাহিদুল ইসলাম অমি নামে আশ্রয়হীন এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাকে উপজেলার মাধনগর আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের মো: আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    তারা জানান, বিএনপির দলীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তারা আরো জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তার ঘর-বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলা শ্রমিকের কাজ করে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজে রান্না করে খাবার খান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন।

    ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকেছি। আর কত দিন এভাবে থাকব, কত বছর থাকা যায়?

    তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক আমার পাশে দাঁড়াননি। কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেননি। দলের নেতা ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, তারা যেন জীবন চলার মতো আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

    মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা ও বাঁশিলা আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই দলের নেতারা তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলার প্রাচীন আদি পেশা পান চাষ। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে মহেশখালীর হাজারো পরিবার। তবে দেশের দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি, বাজারে পানের দরপতন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় পান চাষিরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে পান বরজ তৈরি করলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    স্থানীয় পান চাষি আমির হোসেন জানান, মহেশখালীতে প্রতিবছর তিন হাজারেরও বেশি পান বরজ রোপণ করা হয়। উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পান চাষের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, প্রায় ৩০০ বছর আগেও মহেশখালীতে পান চাষের প্রচলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মহেশখালীতেও বহু শতাব্দী ধরে পান চাষ হয়ে আসছে। একসময় জমিদার পরিবারগুলো বিবাহ ও সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে পান চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিত।

    মহেশখালী উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। এর মধ্যে ১৪০০ হেক্টর চাষাবাদ হয় পাহাড়ি জমিতে। পানের বরজের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের মতো।

    ঐতিহাসিক মৈনাক পর্বতের চারিদিকে ঢালু জমিতে যে মিষ্টি পান উৎপাদিত হয় তা দুনিয়ার আর কোথাও হয় না। এ কারণেই মহেশখালীর মিষ্টি পান এত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে বিশ্বজুড়ে। এমনটাই মনে করেন ঐতিহাসিকরা।

    পান চাষের জন্য প্রয়োজন উপযোগী ও উঁচু জমি। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে পান চাষ ভালো হয়। কিছু এলাকায় বিল বরজেও পান চাষের প্রচলন রয়েছে।

    একটি পান বরজ তৈরির জন্য প্রথমে জমি সমতল করা হয়। এরপর খুঁটি স্থাপন, রশি দিয়ে সারি নির্ধারণ, গর্ত তৈরি, ছন ও বাঁশ দিয়ে ছায়া তৈরি, মাটি খনন করে পাঠি নির্মাণসহ নানা কাজ সম্পন্ন করতে হয়। পরে অন্য বরজ থেকে রোগমুক্ত ও ভালো মানের লতা নির্বাচন করে দুই বা তিন গিরা করে চারা প্রস্তুত করা হয় এবং মাটির প্রলেপ দিয়ে রোপণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

    রোপণের ১২ থেকে ১৩ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। ৪০ থেকে ৫০ দিন পর পরিচর্যার কাজ শুরু হয়। রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। রোপণের প্রায় তিন মাস পর থেকে পান সংগ্রহ করা যায়।

    চাষিদের দাবি, একটি মাঝারি আকারের পান বরজ তৈরি ও পরিচর্যায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অধিকাংশ কৃষক ঋণ নিয়ে বরজ তৈরি করেন। কিন্তু বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় উৎপাদন খরচই উঠছে না।

    পান চাষি সুকুন্দ, মিদুল, আব্দুল করিম, আমির হোসেন ও আবু বক্কর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার আদি পেশা হিসেবে পান চাষ করে আসলেও আমরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এমনকি এক মুঠো সারও পাইনি। যদি পানের ন্যায্য মূল্য পেতাম, তাহলে আমাদের জীবনযাপন অনেক সুন্দর হতো।”

    তাঁরা আরও বলেন, “ঋণের টাকায় বরজ তৈরি করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিনের পর দিন পরিবার নিয়ে মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় পান বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার খরচও মেটানো যায় না।”

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফ্ফার বলেন, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু মহেশখালীর মিষ্টি পান চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি সাথে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশের জন্য বিখ্যাত। তাই পান চাষীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে উৎপাদনে আরো উৎসাহিত হবে এবং এই এলাকার পান চাষীরা উপকৃত হবে।

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি বিভাগের সিনিয়র উপসহকারী কর্মকর্তা জনাব জোনায়েদ জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো পান চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জাতীয় সংসদে মহেশখালীর পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জিআই স্বীকৃতির দাবি তুলে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন।

    স্থানীয় চাষিদের আশা, পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হলে মহেশখালীর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষকের মুখে আবারও হাসি ফুটবে।

    মহেশখালীর মিষ্টি পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সরকারিভাবে পান রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি বাজার সৃষ্টি করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পান বরজের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান। পানের সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা আধুনিক করা। রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি।

    পান চাষিদের জন্য ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা।

    মহেশখালীর মিষ্টি পান বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতিমান কৃষিপণ্য। মহেশখালীর পাহাড়ি ঢাল ও উপকূলীয় জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এ পানের স্বাদ ও গুণগত মানকে অনন্য করেছে। মিষ্টি স্বাদ, বড় আকার ও উন্নত মানের কারণে এ পানের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে; হাজারো কৃষকের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই পান চাষ।

  • মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মেহেরসাগর কলা এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৃষিপণ্য। জেলার বিভিন্ন কলার হাট থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। এই কলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, যা বদলে দিচ্ছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবন।

    বিশেষ করে জেলার গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর কলার হাট বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় কলার হাটগুলোর একটি। প্রতিদিন সকাল থেকে এখানে শুরু হয় কলা বেচাকেনা। স্থানীয় কৃষকরা মাঠ থেকে কলা এনে হাটে জড়ো করেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাকভর্তি কলা কিনে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু হেমায়েতপুর কলার হাট থেকেই প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। অন্যদিকে মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন আরও ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার কলার বাণিজ্য হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। জেলায় জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরসাগর কলার পাশাপাশি চাপা, বাইশ ছড়ি, সবরি ও রং জাতের কলারও ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

    গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের কলাচাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বড় কলার হাট গড়ে ওঠায় এখন আর দূরের বাজারে যেতে হয় না। পরিবহন খরচ কমেছে, একইসঙ্গে ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে কলা চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

    জুগিন্দা গ্রামের কৃষক ইবাদত হোসেন জানান, একবার কলার গাছ লাগালে সাধারণত দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে ৪০০ থেকে ৪৫০টি কলার গাছ লাগানো যায়। বাজারদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি কলার কাঁদি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন এই চাষে ঝুঁকছেন।

    বরিশাল থেকে আসা ফড়িয়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করি। এতে ভালো মানের কলা সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যবসায়ও লাভ হয়। মেহেরপুরের কলার চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। শুধু আমি নই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা হেমায়েতপুর হাট থেকে কলা কিনে নিয়ে যান।

    আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিদিন এক থেকে দুই ট্রাক কলা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, মেহেরপুরের কলা স্বাদ, গন্ধ ও মানের দিক থেকে আলাদা। এ কারণে দেশের বাজারে এই কলার চাহিদা সবসময়ই বেশি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, মেহেরসাগর কলা ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং জিআই ট্যাগ ব্যবহারের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মেহেরসাগর কলার পরিচিতি ও মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা কছি। একইসঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিপণন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    ফেনীর পরশুরামে বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্দমাক্ত সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের প্রধান সড়কে এ ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। পাশাপাশি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ জরুরি সেবার যানবাহনও এই সড়কে যেতে অনীহা দেখায়।

    বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাস্তার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মজুমদার বলেন, বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

    আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বহু বছর ধরে তারা এই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় এটি যেন চাষের জমি।

    মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম জানায়, বৃষ্টি হলে কাদা এড়িয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয় এবং পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে টেকসই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

    পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

    চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’


    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পানির নিচে চলে গেছে রেললাইন। এর ফলে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ আটকে থাকায় ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পানি জমলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এর পর থেকে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

    পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

  • চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    বিডি টািইমস ডেস্ক,

    চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সবশেষ বার্তায় বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতিও জানানো হয়। এই সময়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত, ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

    বন্যা তথ্য কেন্দ্রের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    যার ফলে এসব অঞ্চলের নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    এছাড়া উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    এসব জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    এছাড়া রংপুরের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘তবে, তিন থেকে চার দিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সাথে সাথে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা কম।’

  • ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগী বেশি হলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রোগী বেড়েছে গ্রামে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন আক্রান্ত হন। শুধু তাই নয় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগÑ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও প্রয়োগ করা হয়নি ওষুধ কিংবা ফগার মেশিন।

    যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কিট ও বেডের সংখ্যাও। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রাখেন।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ ও ৪ জুলাই ১৩ এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ১৩১ জন আর জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আক্রান্ত হন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে-তে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি মাসের পাঁচদিনে ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই রোগী বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন আক্রান্ত হচ্ছেন।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, বর্তমানে ৫১ জন রোগী নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাউজানে ১৭ ও মিরসরাই উপজেলায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    চলতি বছর চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১৯৭, নারী ৯৩ ও শিশু ৬৫ জন। গত পাঁচ মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে গত তিন মাসে শহরের তুলনায় গ্রামেই এখন রোগী বেশি।

    জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রামে চার হাজার ৮৬৪ আক্রান্তের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০২৩ সালে। ওই বছর ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়।

    এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে বলা হয়, নগরীর জরিপ করা প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩ নম্বর পাহাড়তলী, ২ নম্বর আলকরণ, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ বালুচরা, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা এবং ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা এই আটটি ওয়ার্ডকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বিভা

    গীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জরিপে দেখা গেছে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়িতে, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা প্রতি চারটি বাড়ির একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ চলাকালে ১১৪টি এডিস মশার লার্ভা পজিটিভ কনটেইনারও শনাক্ত করা হয়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া এডিস মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই প্রজাতির, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস এলবোপিকটাস, যা ডেঙ্গুর দ্বিতীয় প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাতটি জোনে আমরা প্রতিদিন নগরে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছি। এই বিভাগের জনবল ১৬০ জন থেকে ২০০ জন করা হয়েছে। পুরোনো ও অকেজো সব ফগার মেশিন মেরামত করে চালু করা হয়েছে। মশার প্রজননস্থান ধ্বংসে চসিক কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, তিনটি কর্মপন্থা ঠিক করেছি। আমরা চসিককে প্রতিবেদনটি দিয়েছি। তারা তাদের আলোকে কাজ করবে। আমরা বলেছি কার্যকর এবং মানসম্মত ওষুধের প্রয়োগ যেন বেগবান করা হয়। সেবা সংস্থাগুলোর জনবলকে আমরা প্রশিক্ষিত করে তুলছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত কীট, মশারি, কর্নার তৈরি করেছি। আমরা চাই যে কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন উপজেলা পর্যায়ে শেষ হয়। জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন নিজ বাড়ির এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে।

  • লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কাউসার আলম মোল্লা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ৬ হাজার ৯৩০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে রোপা আমন ধানের বীজ ও সার, গ্রীষ্মকালীন উফশী ও হাইব্রিড জাতের সবজির বীজ ও সার, হাইব্রিড মরিচের বীজ, সার ও বালাইনাশক, ফলদ ও লেবুর চারা/কলম, জৈব ও গোবর সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এছাড়া কৃষক-কৃষাণী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১০ হাজার ৪৫০টি চারা ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি উদ্যোগ। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করে যাবে।”

    তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের ঋণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের জন্য সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।”

    কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    এ এম

  • পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

    আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জেলার পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে কাজ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বারের স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর তা টানা ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। গভীর রাতে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে।

    সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মধ্যরাতে পাহাড়ের ঢাল ধসে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটিচাপা পড়েন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) মারা যায়। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ধসের পর আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একই রাতে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত আরও দুজনকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এদিকে আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। এতে আলী আকবর, তার স্ত্রী ও ছেলে মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘রাতের সব ঘটনাই খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দল উদ্ধারকাজে নামে। রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইনচার্জ মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণে ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঢাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    দুর্ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিবছর ক্যাম্পে পাহাড়ধস হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হয়। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছিলাম। এখানে মৃত্যু হলেও কিছু করার নেই। সবকিছু আল্লাহর হাতে। নিজের দেশে ফিরে মৃত্যু হলেও অন্তত সেই কষ্টটা থাকত না।’

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

  • নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়— আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

    ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।