চট্টগ্রাম বিভাগ

  • পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কারসহ ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় বেদেপাড়া এলাকায় আরসিএল ফিল্ডের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো: সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সিলভার রঙের একটি প্রাইভেট কার (চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৯৬৪) তল্লাশি করে প্লাস্টিকের তিনটি বস্তায় থাকা ২৫টি পোঁটলা থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    প্রতিটি পোঁটলায় ছিল দুই কেজি করে গাঁজা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ মাদক কারবারি পালিয়ে যায়।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

  • রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ক্বারী ইব্রাহীম নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধ্য সাগরদী এলাকার হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

    মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    আরো জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম প্রায় ২০ বছর ধরে মধ্য সাগরদী হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কোরআন শিক্ষাদানেও যুক্ত ছিলেন।

    সোমবার জোহরের নামাজের পর মধ্য সাগরদী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাপুরের চর লরেঞ্চ এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    মাদরাসার সুপার মাওলানা ইমরান বিন নাজির বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই মাদরাসায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো মানুষকে হারালাম। তার মৃত্যুতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’

    মাদরাসার সহ-সভাপতি ও রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক। কর্মস্থলে ক্লাস নেয়ার সময় তার এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তৌফিক দেন।’

    মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    শীত আসার আগেই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মাঠজুড়ে শিম ফুল ও কচি শিমে ভরে উঠেছে গাছ। আগাম জাতের শিম চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।


    কোটচাঁদপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় সাবদারপুর ইউনিয়নে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ বিঘার সমান।
    সাবদারপুর ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আগাম শিমের আবাদ। ফলে অন্যদের আগে শিম বাজারে তুলতে পারি। এ সময় বাজারে শিমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আমরা এ আবাদ করি।’


    তিনি জানান, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এতে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। গত বছর দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
    লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের শিমচাষি ছামারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে বাজারেও বিক্রি করছি।’


    তারা জানান, শিম তোলার প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। পরে কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম ধরে রাখতে পারলে প্রায় এক মাসে ১৫ কাঠা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন ইপসা-১ জাতের শিম চাষ হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নে এ আবাদ সবচেয়ে বেশি।’


    তিনি বলেন, ‘কোটচাঁদপুরের কৃষকরা সাধারণত এপ্রিল বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ শিমের আবাদ করেন। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়। আগাম গ্রীষ্মকালীন শিম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।’


    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাবদারপুর ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে অসময়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে কৃষকরা আয় করছেন। এ কারণে আগামীতে শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

  • বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৮ নম্বর জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোমনায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    যোগদানকারীরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুনুর রশিদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমীর হোসেন গাজী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাবেদ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান মিয়া এবং সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিপা বেগম ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা আক্তার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লা এবং তিতাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

    যোগদানের পর বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মো. বিল্লাল মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দূর থেকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া সত্যিই ভালো মনের মানুষ। তাই আজ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য (মেম্বার) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করলাম।

  • চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে এক সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি-সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।

    এ ছাড়া সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দুপুরের মধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    মধুপুর উপজেলা ঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের অর্থনীতির মূল জোগানদাতা হলো আনারস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা প্রায় ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জলডুগি, ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন জাতের আনারস বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা এখন জলডুগি চাষে বেশি ঝুঁকছেন। এর প্রধান কারণ হলো—এই আনারস চাষে সময়, জমি ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়। যেখানে ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন আনারসের ফলন পেতে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জলডুগির পূর্ণাঙ্গ ফলন মেলে এক বছরের মধ্যেই। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে জলডুগি, ৪২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার এবং ১০ হেক্টরে হানিকুইন চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলডুগির আবাদ ৬৫ হেক্টর বেড়েছে। ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ পিস জলডুগি উৎপাদিত হবে। প্রতিটি ফল গড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে এর বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ১ কোটি ৫৩ লাখ পিস ক্যালেন্ডার আনারস ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া হানিকুইনসহ অন্যান্য জাতের ৩ লাখ ৬০ হাজার আনারস থেকে আসবে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    সন্তোষপুর গ্রামের চাষি সোলমান সরকার ৩ একর জমিতে ৬০ হাজার চারা লাগিয়ে ১১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি ফলের দাম আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ জানালেন, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আনারস থেকে কৃষকরা ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

  • ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরিফের সামনে হিন্দু ধর্মীয় সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ছবি সংযোজন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ কাটিংকালে বিষাক্ত গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সহোদরসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩০ শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সমুদ্র উপকূলে মো: লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও ইয়ার্ডের কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে বাইর থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়নি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। যার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরাতন এলএনজিবাহী জাহাজ কাটিং করার জন্য আনা হয়। সেটি কাটিং করতে যান ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক।

    স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজগর জানান, শ্রমিকরা তখন জাহাজের ভেতরে ঢুকে কাটিং করার শুরুতে গ্যাসের ট্যাঙ্ক থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। কাটিংকালে কোনো সেফটির ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী অন্য শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে জানান চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: ইশতিয়াক আহম্মেদ।

    মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে সাতজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (২৬), দুই সহোদর মনসুর আলী (৪১) ও নাসির উদ্দিন (৩৭), হাবিবুর রহমান, মো: রানা (২৫) ও মো: সানি। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে আসে। এ সময় জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হন।

    স্থানীয় জেলে সর্দার চাঁদ জলদাস জানান, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মাহমুদ বলেন, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানা এলাকায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কারখানার ভেতরে ঢোকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিহত দুই সহোদর মনছুর ও নাছিরের ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেও কারখানায় কাজ করতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মনছুর ও নাছির। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তারা।

    নিহত খোকনের চাচা ও কারখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যাসের কারণে প্রথম দিকে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছিল না।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিএসবিএ-এর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

    কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, বিস্ফোরণ ও বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও এর কাছাকাছি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নৌযানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত  ৮

    সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন শুক্রবার দুপুরে আমার দেশকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

    এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এর আগেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, ‘গ্যাস ফ্রি’ সনদ, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু বিস্ফোরণের কারণ নয়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কাটিংয়ের অনুমোদন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

    এদিকে নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানিতে এ শিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর তাই শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • দুই দিন গ্যাসহীন কুমিল্লা, কবে আসবে জানে না কর্তৃপক্ষ

    দুই দিন গ্যাসহীন কুমিল্লা, কবে আসবে জানে না কর্তৃপক্ষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টানা দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার জনজীবন। কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই, আবার কোথাও মিলছে অতি স্বল্পচাপে। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। একই সঙ্গে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।

    নগরীর বাগিচাগাও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।

    কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় গতকাল ইলেকট্রিক চুলায় কোনো রকম রান্না করে খেয়েছেন। কিন্তু আজ বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা বানিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে কি চলা যায়?”

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার অসীম কুমার জানান, হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে। এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

    গ্যাস সংকটের বিষয়ে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিজিডিসিএল জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিজিডিসিএলের আওতাধীন বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

    এর প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। সাময়িক এ সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

    এ বিষয়ে বিজিডিসিএলের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

    পরে বিজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।’

    এদিকে টানা দুই দিন ধরে গ্যাস না থাকায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

  • নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুজন নিহতের ঘটনায় করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

  • বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার কড়া সতর্কতা

    বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার কড়া সতর্কতা

    কানাডা সরকার বাংলাদেশ ভ্রমণ নিয়ে তাদের নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনায় বাংলাদেশ সফরের ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। যেকোনো সময় বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দেখা দিতে পারে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কানাডা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ এবং অপহরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এলাকায় প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলে জানানো হয়েছে।

    সতর্কবার্তায় ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। হোটেল, উপাসনালয় এবং পর্যটন কেন্দ্রের মতো জনবহুল স্থানে আগে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়। বিদেশি নারীদের রাতে একা চলাচল না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বাংলাদেশে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এবং ডেঙ্গুর মতো রোগের উচ্চ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাও অপ্রতুল বলে জানানো হয়। গুরুতর অসুস্থতায় সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডে রোগী স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানানো হয়।

    বাংলাদেশের কঠোর স্থানীয় আইনের কথাও তুলে ধরা হয় সতর্কবার্তায়। মাদক অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। মুসলিমদের জন্য মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারি স্থাপনার ছবি তোলাও নিষিদ্ধ বলে জানানো হয়।

  • চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির (ভারপ্রাপ্ত) অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। পরে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা দায়িত্বে যোগদান করেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

    অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

    অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

    সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

    পুলিশের ১৯ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার রদবদল

    এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • এসএসসিতে পাস করতে না পেরে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    এসএসসিতে পাস করতে না পেরে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়, চট্টগ্রামের বাকলিয়ায়, শেরপুরের নকলায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় একজন করে শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সন্তানদের হারিয়ে কাঁদছেন তাদের বাবা-মা।

    রাজশাহীতে একজনের মৃত্যু

    রাজশাহীর বাগমারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। কারিনা পাল নামের ওই ছাত্রী সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

    কারিনা পাল উপজেলার ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের কাঞ্চন কুমার পালের মেয়ে। সে চাঁন্দেরআড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেন বা-মা। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান, গনিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু প্রমুখ।

    জানা যায়, এসএসসির ফল প্রকাশের পর কারিনা জানতে পারে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে ফেল করেছে। পরে নিজ ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মায়ের শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

    চাঁন্দেরআড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আ. আউয়াল বলেন, ‘কারিনা ছাত্রী হিসেবে ভালো ছিল। কী কারণে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে, তা বলা কঠিন। ফলাফল খারাপ হতেই পারে; তাই বলে জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। সে চাইলে পরবর্তীতে আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতো।’

    বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনের মৃত্যু

    শিবগঞ্জে এসএসসিতে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়ে বিষপানে হালিমা খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফল প্রকাশের পর এ ঘটনা ঘটে। হালিমা খাতুন উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পুরাতন উনিশবিঘী গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। সে চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

    স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর হালিমা জানতে পারে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশ হয়ে বিষপান করে। উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম বলেন, ‘বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হালিমাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর বিষপানে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    কুষ্টিয়ায় একজনের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে তানিয়া জাহান (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর কুচিয়ামোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া জাহান কুচিয়ামোড়া গ্রামের আজাহারুল ইসলামের মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয় তানিয়া। ফল প্রকাশের পর হতাশ হয়ে রাতে নিজ ঘরে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসককে খবর দিলে ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’

    চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে আদনানুজ্জামান নিহাল (১৯) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার সকালে নগরের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

    আদনানুজ্জামান নিহাল পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। সে কালামিয়া বাজার এলাকার মো. আনিসুজ্জামানের ছেলে। সোমবার ফল প্রকাশের পর পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দেয়।

    বাকলিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় ওই ছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

    শেরপুরে একজনের মৃত্যু

    শেরপুরের নকলায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে দিয়ামনি অন্তি (১৬) নামে এক পরীক্ষার্থী। সোমবার রাতে উপজেলার চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের চরবাছুর আলগী গ্রামের সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    দিয়ামনি চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে চরবাছুর আলগী গ্রামের দুলাল মিয়া মেয়ে। তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট অন্তিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশিত হলে অকৃতকার্য হওয়ায় সারাদিন মন খারাপ করে ঘরে বসেছিল। রাতে ঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। রাত ৩টার দিকে বাবা-মা ওই ঘরে গেলে ঝুলে থাকা অন্তির লাশ দেখতে পান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

    নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয় অন্তি। পরিবার জানিয়েছে লজ্জা ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

    গোপালগঞ্জে একজনের মৃত্যু

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর অভি বিশ্বাস (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভি বিশ্বাস উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামের গোপাল বিশ্বাসের ছেলে। সে বেদগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অভি জানতে পারে, সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এরপর সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    চাঁদপুরে একজনের মৃত্যু

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শুনেই মৃত্যু হয়েছে চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার মুন্নির। সে এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয় অকৃতকার্য হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মুন্নির মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানামুখী গুঞ্জন রয়েছে- অনেকেই জানান ফলাফল মেনে নিতে না পেরে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে; তবে পরিবারের দাবি স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত শামীমা আক্তার মুন্নি চেড়িয়ারা ষষ্ঠী বাড়ির শামীম হোসেনের মেয়ে। তার চাচা ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার সময় বাসায় কেউ ছিল না। মুন্নি অসুস্থ হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজির আহমেদ জানান, মুন্নি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখা থেকে অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এটি দুঃখজনক। তবে কোনও শিক্ষার্থীকে এ ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • চাঁদপুরে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩

    চাঁদপুরে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদর দক্ষিণের লালমাই এলাকার ড্রাম ট্রাকের চালক আব্দুল ওহাব (৪৫), গাইবান্ধা জেলার আল-আরাফাহ বাসের চালক কামাল হোসেন (৪০) ও বাগেরহাট জেলার বাসের সুপারভাইজার শোভন মিয়া (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী যাত্রীবাহী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাস এবং হাজীগঞ্জ থেকে কুমিল্লাগামী একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাস ও ট্রাকের চালকসহ তিনজন নিহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তাদের মধ্যে দুজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকটি জব্দ করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

    শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।

    শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। আহতদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

    চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের হামজারবাগে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই ব্যবসায়ীর ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নম্বরটি ব্লক করে দেওয়ার পর রাতেই বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

    সোমবার রাত ১১টার দিকে হামজারবাগ এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুলি দুটি বাড়ির গেটে লাগে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ঘটনার পর আতঙ্কে বাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    বাড়ির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত দুবাইপ্রবাসী। সোমবার দুপুরে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ভয়েস রেকর্ড পাঠানো হয়। এতে এক ব্যক্তি নিজেকে কাতারপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনেক টাকা রয়েছে। ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা নেওয়ার জন্য একজনকে পাঠানো হবে। তাঁর হাতে টাকা তুলে দিতে হবে। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

    বিষয়টি বাবাকে জানান শওকত। ইউসুফ তাঁকে কোনো উত্তর না দিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দিতে বলেন। এরপরই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ভয়েস রেকর্ডটি মুছে ফেলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    ইউসুফ বলেন, ‘গুলি করার সময় বিকট শব্দ হয়। সবাই ভয় পেয়ে ঘরে বসে ছিলাম। পরে নিচে নেমে দেখি বাড়ির গেটে গুলির চিহ্ন। দুটি গুলি গেটে লেগেছে।’

    তিনি জানান, গুলি করার সময় বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। এ কারণে তিনি দ্রুত গেট বন্ধ করে ভেতরে চলে যান। ফলে হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।

    মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। প্রায় ২৫ বছর ধরে তাঁরা হামজারবাগের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন। ইউসুফ নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তাঁর ছেলে শওকত কয়েক মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুরবাড়ি। আজিজ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুদিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

    পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাড়িটি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করেছে। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

    ওসি বলেন, ‘চাঁদা দাবির ভয়েস রেকর্ডের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। গুলির ঘটনা, চাঁদা দাবি এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে।’

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একাধিক দল। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ৪৬ হাজার ইয়াবা, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

    নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ৪৬ হাজার ইয়াবা, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ অভিযানে আড়াই লাখের কাছাকাছি পিস ইয়াবা, একটি বিদেশী পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি আভিযানিক দল গোপন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদককারবারী মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার করার পরিকল্পনা করছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৯ আগস্ট) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১২:১৫ টার (০০.১৫ টা) দিকে সীমান্ত পিলার-৩১ এর নিকটবর্তী ‘নয়াপাড়া’ নামক স্থানে কয়েকজন চোরাকারবারীকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।

    বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা সাথে থাকা ১টি বিদেশী পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করেন।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে।

    অভিযান সম্পর্কে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, ‘বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিজিবির এ ধরনের কার্যকর তৎপরতায় সীমান্তবর্তী জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আস্থা আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

  • জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক এসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৮) ও ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান ফাতেয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলেক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

    হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন আমিনুল ইসলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকেল ও রাতে তারা দুবার কক্ষের বাইরে বের হন। এরপর রাতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা চিৎকার শোনা যায়নি।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার তাদের কক্ষের দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কক্ষের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এ সময় খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরে ১০ মাস বয়সী শিশুটিও ছিল।

    হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, রোববার দুপুরে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে দুবার বাইরে বের হন। এরপর রাতে আমি নিজের কক্ষে চলে যাই। কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।

    মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তারা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্তানের জন্মনিবন্ধন করানোর কথা বলে স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমিনুল। অথচ বাড়ির পাশের বাজারের একটি হোটেলে গিয়ে কেন তারা রাত কাটালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন তিনি।

    এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।

    ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

    দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেন।

    একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।

    পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী কোল জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তার সামনে তুলে ধরেন।

    দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    মাতারবাড়ী প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশের স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের বন্দর, সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এই বৃহৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অনেকে।

    পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

  • মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে :প্রধানমন্ত্রী

    মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে :প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের ভাগ্যের পাশাপাশি দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

    রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    দেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

    মিরসরাই-মাতারবাড়ী পর্যন্ত শিল্পায়নের পরিকল্পনা

    চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত কীভাবে বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, এই দেশের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারি—সেই পরিকল্পনা গ্রহণের জন্যই আজ আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।

    চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন সফরে তিনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই মিল-কারখানাগুলোর মাধ্যমে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবে। এর ফলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতাল ১০০ শয্যায়

    স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে।

    কর্মসংস্থানই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য

    সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

    দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

    দেশের প্রতিটি মানুষকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’

    ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

    নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব।’

    বাঁশখালী এলাকাতেও ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী চার বছর এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোন এর আওতায় আসবেন।

    লবণ চাষিদের জন্যও সহায়তা

    বাঁশখালীর লবণ চাষিদের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু ধান, শাক-সবজি বা অন্যান্য ফসল চাষিরাই কৃষক কার্ড পাবেন না; লবণ চাষিরাও এর আওতায় আসবেন বলে জানান তিনি।

    লবণের মূল্য নির্ধারণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লবণ চাষিরা যাতে স্বাবলম্বী ও সচ্ছল হতে পারেন, সে জন্য আলোচনা করে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকতে হবে

    কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের জন্য দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে।

    ব্যবসা-বাণিজ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় গন্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ক্ষতি চান না। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও চান তাদের কারখানার উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে বন্দরে যেতে এবং কাঁচামাল সঠিকভাবে কারখানায় আসতে।

    বন্যার্তদের পুনর্বাসন

    বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। এদিন ১০০ দুঃস্থ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক দুঃস্থ মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা এবং কিছু দুঃস্থ নারীকে চাল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

    বক্তব্য বাঁশখালীর উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ আমাদের পরিকল্পনার একটি অংশ। ইনশাআল্লাহ বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে।’

    বাশঁখালীর কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

  • গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের গ্রামাঞ্চলে ‘হেলথ হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার (৮ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

    হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে চাঁদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুর আলম দীনকে স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম অতিরিক্ত দামে কেনার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে আসে। সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংগঠনিক সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার চট্টগ্রামের তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এটা তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি দেশ ও দলকে এগিয়ে নিতে চান।’

    প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সফরের সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড, বাবুনগর মাদ্রাসা, হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।

    মহেশখালী দিয়ে সফর শুরু

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় মহেশখালী পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করবেন। সেখানে জনসভা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ফটিকছড়িতে বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

    হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথের সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রাখতেই এই সফর।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

    হাটহাজারীতে পুনর্বাসন সহায়তা

    ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

    এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

    নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সন্ধ্যায় বিএনপির সাংগঠনিক সভা

    সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা ও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে গতকাল এক মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত একটি কনসেপ্ট পেপারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সভায় জানানো হয়, বন্ধ কারখানাগুলোর কারণে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমেছে। তবে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির অভাব এবং দক্ষ অপারেটরের ঘাটতিকে এ খাত পুনরুদ্ধারের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। সভায় উপস্থাপিত কনসেপ্ট পেপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও ব্যাংক খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে দেশের মোট রফতানির ১৮ শতাংশ, আমদানির ২১ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ, মোট আমানতের ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এ অঞ্চল থেকে জোগান দেয়া হয়।

    সভায় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি; ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, আইটি খাত এবং ম্যানমেড ফাইবারে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অদক্ষ হিসেবে না পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ করে বিদেশে প্রেরণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ত্বরান্বিত করা ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের জন্য বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেন।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি আর্থিক ও আয় বৈষম্য কমানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

    শুক্রবার (৭ আগষ্ট) ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার অনুমতি কোনোদিনই দেবে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-০১ উদ্বোধন করেন। ওই সময় তিনি কেবল ইট-পাথরের ইমারত ও অবকাঠামো নির্মাণের দিকে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পুরো একশ কিলোমিটার জুড়েই পর্যটনবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইচ্ছামতো বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকাজ পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজম বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজারের টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা অপহরণের মতো অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপহরণের মতো অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আমরা তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক প্রমুখ।

  • কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে মো: মিজানুর রহমান হাজারীকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    তবে একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান হাজারীর ছেলে মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মরহুম আলী হোসেনের ছেলে।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সাথে মিজানুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

    সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

    এ,আর

  • নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহনে চলতি মৌসুমে নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি, সাতমোড়া, রতনপুর ও উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষি জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। এখন মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারনে অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

    চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরো কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

    সাতমোড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯ এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।

    পৌরসভা বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ি বøকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারনে আগামীতে আরো অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

    এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়িতে ৭৫ বিঘা জমি এক সাথে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫০ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    নবীনগরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োগ এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এক সাথে মিললে অনাবাদি জমিও সোনালি ফসলে ভরে উঠতে পারে। মাঠ জুড়ে দুলতে থাকা আউশ ধানের শীষ আজ শুধু একটি সফল মৌসুমের প্রতীক নয়, বরং টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে লংমার্চ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর সড়কপথে লংমার্চ। ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা সড়কপথে লংমার্চ। ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট রেলপথে লংমার্চ। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।

    ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত এসব কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • পুড়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল চালু, স্বাভাবিক হবে গ্যাস সংকট

    পুড়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল চালু, স্বাভাবিক হবে গ্যাস সংকট

    এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল গত রাত ৩.১০ এ চালু হয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ( আরপিজিসিএল) আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্টিত করেছেন।

    সকাল সাড়ে ৯ টায় ৯ টার্মিনাল ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করছিল। এই সময় আর এলএনজি থেকে সর্বমোট ৬৬২ মিলিয়ন গ্যাস হচ্ছিল। বিকেল নাগাদ টার্নালকে সরবরাহ ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।

    আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে দেশে ভয়াবহ গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংকট শুরু হয়েছে। আরপিজিসিএল এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম নাসির উদ্দিন জানান, টার্মিনালটি গত রাত ৩টা ১০ মিনিটে চালু হয়েছে।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

    গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

    হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো টিনের চালা, ভাঙাচোরা কাঠের বেড়া ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় ৪৫ জন এতিম ও দরিদ্র শিশুকে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণসহ সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

    জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজীর উদ্যোগে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবনে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট সুবিধার আওতায় আসে। তবে বর্তমানে ৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১৮ জন। বাকি ২৭ জনের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার টিনের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং বহু জায়গায় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। নড়বড়ে খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা ও ছিদ্রযুক্ত টিনের চালার কারণে ভবনটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই কক্ষে গাদাগাদি করে বসে শিশুদের কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

    শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল জানায়, রাতে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাপ, ব্যাঙসহ বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে, ফলে নিরাপদে ঘুমানোও সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

    স্থানীয় সমাজসেবক গুলজার হোসেন, পিন্টু মিয়া ও আবুল হোসেন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

    এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য আলী হোসেন ও শিক্ষকরা জানান, মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত শিক্ষক, একটি একাডেমিক ভবন এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও একটি পাকা ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং সুবিধাবঞ্চিত ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ ঘরের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।

  • চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০ ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাহরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা ও মহাসচিব সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

    প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

  • স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলে তারা দেশকে তছনছ করে ফেলবে। শনিবার রাতে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিকথা’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম কি না, জানি না। যারা তখন ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। ফ্যাসিস্টদের অনুসারীরা এখনো আমাদের আশপাশে লুকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির নেতা ইউসুফ মোল্লা টিপু।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হানের সঞ্চালনায় এবং ফেইস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা।

  • কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরও বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। চট্টগ্রামে এক লাফে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এর পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। অন্য ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

    সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। এরই মধ্যে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিনদিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগই পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

    শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। টিসিবির হিসাব বলছে, পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এবারে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং আমদানি করতে হবে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

    খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার রবিন হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের সরবরাহকারীরা হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা কমিশনে মাল বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে আরও কয়েক টাকা বেশি তা স্বাভাবিক। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বন্যার প্রভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ছিল তা এখন ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭২-৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। কেজিপ্রতি মাঝারি মানের চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।

    ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে সবজির দামও আকাশচুম্বি। টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২ জন শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮৬। এদিকে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীদের ভিড় রয়েছে।

  • এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

    নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। এই দুই ব্যাংকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

    এদিকে পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নিযুক্ত পরিচালকদের কয়েকজন নানা অনিয়মে আগে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

    জানতে চাইলে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এখন আমার মূল দায়িত্ব ব্যাংকটিকে পেশাদারির সঙ্গে পরিচালিত করা, যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। নতুন করে অনিয়ম হলে ব্যাংকটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান কাজ।’

    যেভাবে গঠন হলো নতুন পর্ষদ

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সামাদ লাবু। এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে সক্রিয় ছিল কেডিএস গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গঠন করা হয় স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ। তাতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার। এ ছাড়া পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। পর্ষদ পুনর্গঠনের আগপর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। স্বতন্ত্র পরিচালকদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুটি পক্ষ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা ফেরত চায়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এই পক্ষে ছিলেন সাবেক পরিচালক ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)। সরকারের একটি পর্যায় থেকে দুই পক্ষ থেকে ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা যাদের হাতে ছিল, তাদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে যে ১৪ জনকে পর্ষদে নিয়োগ দেয়, তাঁদের মধ্যে ৬ জনই কেডিএস গ্রুপ ও গ্রুপটির শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন। তাঁরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এ ছাড়া কেডিএস মালিকদের আত্মীয়রাও নিয়োগ পেয়েছেন।

    পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য পরিচালকদের মধ্যে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমানও কেডিএস পরিবার–সংশ্লিষ্ট। অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লা, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম ও লিয়াকত আলী চৌধুরী।

    এ বিষয়ে মো. এনায়াত উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বহুদিন পর ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পেয়েছি। নতুন করে আর কাউকে অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

    এদিকে কেডিএস গ্রুপ থেকে পাঁচ পরিচালক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পদ গ্রহণ করেননি। কারণ, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এক পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ নেই। তাই কেডিএসের দুজন প্রতিনিধি বাদ যাওয়ার পর ব্যাংকটিতে নতুন করে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে চলছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। তাই আমরাও চেয়েছিলাম ব্যাংকগুলো ভালো ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের হাতে ফিরুক, তবে শুরুটা ভালো হলো না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে একটি গ্রুপের হাতে আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকটি তুলে দিতে হয়েছে।’

    পর্ষদের সভার চিত্র

    ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন হয়। এর পরদিনই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএসের সেলিম রহমান।

    সভায় উপস্থিত দুজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, পর্ষদের সভায় ব্যাংকটি থেকে চাকরিচ্যুত শাহেদ সিদ্দিকীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যোগ দেন। ১৯ পরিচালকের সভাটি সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল, তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জনের বেশি। সভায় কেডিএসের প্রতিনিধিরা ফিরে আসায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা চুপচাপ ছিলেন।

    ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ব্যাংকে ফিরে আসতে নানাভাবে চাপ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া গত দুই বছরে ব্যাংকে নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তাঁদের নির্দেশে চাকরি ছেড়েছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন।

    এ বিষয়ে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সম্মতিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। পর্ষদ সভার দিন অনেকে দেখা করতে এসেছেন। এ জন্য পরিবেশটা ভালো ছিল না। ডিএমডি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। আমরা কোনো নির্দেশনা দিইনি।’

    কেডিএস পরিবারের যত অনিয়ম

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনার তথ্য উঠে আসে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তার মধ্যে একজন হলেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান, বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। অপর সাবেক চেয়ারম্যান হলেন আবদুস সামাদ লাবু, তিনি এস আলমের ভাই।

    প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের জন্য এক কোটি টাকা সীমার মধ্যে একটি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন তোয়াক্কা না করে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি গাড়ি কেনা হয়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

    একইভাবে ২০২৩ সালের আগস্টে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ কেনা হয়। হিসাব গোপন ও অর্থের গতিবিধি আড়াল করতে গাড়ি দুটি ব্যাংকের নিজস্ব নামে নিবন্ধন না করে দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের (এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড) নামে কেনা হয়। টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’, ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব’ ব্যবহার করা হয়। গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ফিক্সড অ্যাসেট (স্থায়ী সম্পদ) রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এদের কোনো অবচয়ও হিসাবভুক্ত করা হয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে ব্যাংকের হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি এবং অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এস আলম গ্রুপ যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে, তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের পতনের পর তাঁকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন তাঁকেই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য একাধিক মামলার আসামি হন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন তিনি।

    একনজরে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক

    ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের আমানত গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। তখন ব্যাংকটির ঋণ বা বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ঋণের ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ খেলাপি। গত বছর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছে ৮৫ কোটি টাকা। উচ্চ খেলাপির কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এতে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। সারা দেশে ব্যাংকটির রয়েছে ২২৬টি শাখা। ব্যাংকটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারধারী পরিচালকেরা পরিচালনা করবেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তারা এত দিন কী করেছে, তা জাতি দেখেছে। এ জন্য অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তাই নতুন করে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না, যাঁরা ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কারও প্রভাবে ব্যবহৃত হলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৩ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৬৭ জন। এনিয়ে চলতি মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ২০৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১৫৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩১২ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু হবে। সুপ্ত প্রতিভাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। নারী ক্রীড়াবিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা; যুব সমাজকে খেলাধুলা মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় মাদরাসা এবং স্কুল কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক। ইচ্ছে করলে জয়েন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। এটা ঐচ্ছিক বিষয়ে আমরা রেখেছি।

    বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের ইশতেহারের একটি অঙ্গীকার।

    ড. মিলন জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • লক্ষ্মীপুরে মাটি খুঁড়তেই পাওয়া গেল রকেট লঞ্চার

    লক্ষ্মীপুরে মাটি খুঁড়তেই পাওয়া গেল রকেট লঞ্চার

    লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মাটি খুঁড়তেই পাওয়া গেল রকেট সাদৃশ্য বস্তু (রকেট লঞ্চার)। বুধবার সকালে উপজেলার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজের রাস্তার পাশে পানির লাইন স্থাপনের গর্ত খুঁড়তেই এগুলো দেখা যায়। উপ-প্রকৌশলী রিফাত হাসান বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবগত করেন। এগুলো দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

    রামগতি থানার কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান জানান, পৌর সভার পানির লাইনের কাজ করতে গিয়ে মাটি খুঁড়তেই তিনটি রকেট লঞ্চার পাওয়া যায়।

    এগুলো দেখতে রকেট সাদৃশ্য বস্তু হলেও ভিতরে কী আছে বুঝা যাচ্ছে না। রকেট লঞ্চারগুলো উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। রকেট লঞ্চার একধরনের সাময়িক আগ্নেয়াস্ত্র যা অনির্দেশিত বস্তু হিসেবে কাজ করে।

  • নোয়াখালী থেকে প্রতিদিন মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

    নোয়াখালী থেকে প্রতিদিন মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

    নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান মিলেছে। ৪৫ দিন খনন ও ১৫ দিন ডিএসটি টেস্ট শেষে জানা যাবে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ। তবে কূপটি সফলভাবে খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রতিদিন এখান থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এই নতুন কূপটির খননকাজ শুরু করে। আজ বুধবার সকাল থেকে পুরোদমে চলছে খননের কাজ। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’।

    বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে কূপটি মাটির নিচে ১ হাজার ৫৫০ মিটার খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, ৪৫ দিনের মধ্যে খননকাজ ও ১৫ দিনের ডিএসটি টেস্ট শেষে এখানে মজুদ করা গ্যাসের পরিমাণ জানা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার খননকাজ শুরু হয়েছে এবং এটি একনাগাড়ে চলবে। ১ হাজার ৫৫০ মিটার খননের জন্য প্রাথমিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সোহেল বলেন, ‘গ্যাসপ্রাপ্তির খবরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই গ্যাস জাতীয় সম্পদ জাতীয় গ্রীডের পাশাপাশি এটি সেনবাগ এবং নোয়াখালীর জনগণের মাঝে যাতে দেওয়া হয়। সেজন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাপেক্স কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।’

  • ভাঙছে নদী বাড়ছে শঙ্কা

    ভাঙছে নদী বাড়ছে শঙ্কা

    সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীর ভেঙে গেছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে প্লাবন ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

    পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ হাজার ৪২০ মিটার নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে ১ হাজার ৯৫ মিটার, ধুরুং নদীতে ১ হাজার ২০৫ মিটার এবং সর্তা নদীতে ১২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থান সংস্কারে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব।

    হালদা নদীর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাঠিয়ালছড়ি, নাজিরহাট পৌরসভার ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরপুর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধুরুং নদীর পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালির খয়রাতি পাড়া, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকাতেও নদীতীর ধসে পড়েছে। সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশ, মধ্যম খিরাম নুরনগরপাড়া, গোয়াজ মোহাম্মদ বাড়ির পূর্ব পাশ এবং প্রাচীন সমাধিখোলা এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ফরহাদাবাদ এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৮০) বলেন, হালদা নদীর বেড়িবাঁধ প্রতিবছরই ভাঙে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে মেরামত করলেও বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই দুর্ভোগ কমবে না।

    খিরাম এলাকার বাসিন্দা মন্টু নাথ বলেন, সর্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

    পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা দৌলত মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে ধুরুং নদীতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করেছে। এখন দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।

    চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ৪২০ মিটার বাঁধ ও নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

    ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫ জন।

    বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

    সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে।

    এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

    দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

    আবারো দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    বুধবার দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশর উপকূলীয় এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

    সেইসঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, অপর একটি বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদী বন্দরসমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • কাউন্সিলর একরাম হত্যা; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে: আইএসপিআর

    কাউন্সিলর একরাম হত্যা; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে: আইএসপিআর

    কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তৎকালীন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তাঁর নামও ছিল।

    এর আগে গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

    মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ওই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

  • টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    এদিকে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিললেও সিলেটের একটি পয়েন্টে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আগামী বৃহস্পতিবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    আগামী শুক্র ও শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

    এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা আট সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে।

    আগামী দুই দিন পানি আরও কমতে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের জারুকুল পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও কমছে, যদিও ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের মুহুরী নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে গোমতী, ফেনী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। আগামী এক দিন এসব নদীর পানি কিছুটা বাড়তে পারে, পরে তা স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও এর প্রভাবে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল। সৌদি আরবের দাম্মামে প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকে ফিরতে হলো দুটি কফিনে। তাঁদের একসঙ্গে দাফনের মধ্য দিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।

    আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষবিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

    কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব ঘুচাবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ এখনো শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নাই। এমন হবে, আমি কল্পনাও করি নাই।’

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। আজ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

    লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আজ দুই ভায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের লোকজন অংশ নেন। আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের কামারহাট মসজিদ মাঠেছবি: প্রথম আলো

    নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

    স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে সজল চোখে দুই ভাইকে শেষবিদায় জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

    চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত সরকার আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত একটি সাময়িকীর প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এই অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    তিনি দুর্নীতির একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের বিগত সরকারের সময়ে শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি, এক কেজি রড কিংবা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার হয়নি। অথচ কাগজে-কলমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

    অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যার সুফল দেশের মানুষ পায়নি। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

  • চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ভবনে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

    চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়–ভাটিয়ারী লিংক রোড–সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা–জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তারা। এ সময় মারধর করা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন শ্রমিককেও। পরে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

    ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসীদের হামলার পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাড়িটিতে হামলার ঘটনা তাঁরা দেখেছেন। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দিঘিরপাড় এলাকায় তাঁর পাইকারি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ১০ তলা বহুতল ভবনে নির্মাণকাজ শুরু করেন। জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। শহরে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার পর সবাই প্রতিবাদ করলে তারা একটু নীরব ছিল। এক সপ্তাহ ধরে আবার ফোন করছে চাঁদার জন্য। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। রোববারের ঘটনায় থানায় মামলা করব।’ কারা তাঁকে হুমকি দিয়েছে জানতে চাইলে, তিনি নাম জানেন না বলে জানিয়েছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, শুধু জসিমের নির্মাণাধীন ভবন নয়, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্বাধীনতার পর তাঁদের এলাকায় এভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

    সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন নির্মাণাধীন ভবনের দুই শ্রমিক ছবি: সংগৃহীত

    উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মুঠোফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। তবে ঘটনার পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুঠোফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।