সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৩৬ দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’।

    সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরিফ ওসমান হাদিসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারো বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় :

    — গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন।

    — রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ।

    — রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    — ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।

    — সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    — সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    — জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন।

    — নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

    — ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন।

    — শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন।

    — শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়।

    — জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।

    — ‘Echoes of July’ (জুলাইয়ের প্রতিধ্বনী) শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

    পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    কুমিল্লার নতুন ডিসি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত

    দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওই কর্মকর্তার নাম রোজী আক্তার।

    রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতা অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রোজী আকতার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ, বিনা অনুমতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করা, সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গাড়িচালক না থাকার অজুহাতে বাসভবনে বসে দাফতরিক কার্য সম্পাদন করা, প্রকল্পের ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(ক), ৩(খ), ও ৩(ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

    অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের ৫৯৫ নং প্রজ্ঞাপনমূলে তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ৩১৮ নং প্রজ্ঞাপনমূলে আরোপিত তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড বাতিল করা হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর সচিবালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

  • শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, সানজিদা আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঢাকা ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সদস্য পদ লাভ করেন। পরে তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মহিলা লীগের নেত্রী সানজিদা আক্তারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    চাটমোহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ নেতা গ্রেফতার

    পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আবুল আলীর ছেলে ইমরান নাজির (২৯) ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাটাখালী গ্রামের আ: ওহাবের ছেলে রজব আলী (৩২)।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৩, তাং ০৬/০১/২০২৫ ইং। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার ব্যাপক প্রবণতা ঠেকাতে নিয়ম অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর জরিমানা দ্বিগুণ করবে অস্ট্রেলিয়া। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

    নতুন এই আইনের মাধ্যমে পদ্ধতিগত বা বড় ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৮ শত ৩৭ কোটি টাকা) করা হবে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনলাইন ওয়াচডগ বা নজরদারি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ -কে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে তদন্ত’ করছে।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে, প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো আইন মেনে চলার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বেশি শিশু রয়ে গেছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর নিয়ম মেনে চলার যেকোনো ব্যর্থতাকে আমরা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি, এ পরিবর্তনগুলো তারই প্রতিফলন’।

    বয়স্কদের নামে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বা প্রাইভেট ব্রাউজারে লগ ইন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে।

    অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞার সাফল্যের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরও অনেক দেশ, যারা ইতোমধ্যে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বা করার কথা ভাবছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড।

    চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপটির প্রথম দিকের একটি সমকক্ষ-পর্যালোচিত (পিয়ার-রিভিউড) মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এর খুব একটা প্রভাব পড়ার ‘যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি’।

    গবেষকেরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে এবং তিন মাস পর ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালান। এতে দেখা যায়, তারা ব্যাপকভাবে এই নিয়ম ‘ফাঁকি’ দিচ্ছে।

    ১২-১৩ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ১৪-১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ব্যবহার কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্যবহার বেড়েছে।

    দায়সারা পদক্ষেপ

    সরকারের মতে, এটি স্পষ্ট যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও ক্ষমতার প্রয়োজন; যদিও গত ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।

    নতুন আইনের অধীনে, ‘ই-সেফটি’ কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এটা প্রমাণ করতে বাধ্য করতে পারবেন যে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি যাচাই করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি বয়স নিশ্চিতকরণ বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের মতো তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য ও নথি চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে।

    অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    ওয়েলস বলেন, ‘ই-সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে পাওয়া নিয়মিত আপডেটের ভিত্তিতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পুরোনো কৌশলই অবলম্বন করছে এবং পার পেয়ে যাওয়ার জন্য দায়সারা কাজ করছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। ই কঠোর নতুন জরিমানা ও ক্ষমতা প্রমাণ করে যে আমরা পিছপা হব না; বরং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহি করতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করছি’।

    গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে খুব বেশি সময় কাটানো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সন্তান সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিনে আঠার মতো লেগে থাকায় বিরক্ত অভিভাবকদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞা যেন এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    যদিও প্ল্যাটফর্মগুলো আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এ পদক্ষেপগুলো কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেটের অন্ধকার এবং অনিয়ন্ত্রিত জগতে ঠেলে দিতে পারে।

    অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬ বা তার বেশি কিনা, তা যাচাই করার একক দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর এবং কমবয়সী কিশোরদের দূর করতে তারা যে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিয়েছে, তা তাদের প্রমাণ করতে হবে।

    কিছু প্ল্যাটফর্ম ছবি থেকে বয়স অনুমান করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে সরকারি পরিচয়পত্র আপলোড করেও নিজেদের বয়স প্রমাণ করতে পারবেন।

  • ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল ও গ্যাস কেনার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান। রোববার পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরান থেকে তেল ও গ্যাস কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    লাহোরে সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন তুঙ্গে ছিল, তখন এপ্রিলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রতি লিটার ৪৬০ রুপিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর থেকে বিশ্বব্যাপী দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করে, যেখানে মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান।

    এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির জন্য অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এর সাথে ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মালিক বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অবিলম্বে এই সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং জ্বালানি দাম কমিয়েছেন।

  • ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বা ডেটা সেন্টারের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার জন্য জেমিনি এআই মডেলের ব্যবহার সীমিত করেছে গুগল।

    ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে গুগল মেটাকে জানায় যে, তাদের চাওয়া পরিমাণ কম্পিউটিং সক্ষমতা বা স্টোরেজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ফলে মেটার কয়েকটি অভ্যন্তরীণ এআই প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

    অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন গুগল তাদের ক্লাউড অবকাঠামোর মাধ্যমে জেমিনি এআই মডেল পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের আরও কয়েকজন গ্রাহকও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। তবে জেমিনি এআই ব্যবহারের চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মেটার ওপর।

    এ পরিস্থিতিতে মেটা তাদের কর্মীদের আরও দক্ষতার সঙ্গে এআই রিসোর্স ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, এআই মডেল ব্যবহারের পরিমাপক একক ‘টোকেন’-এর ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে গুগল ও মেটা কোনো প্রতিষ্ঠানই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং অবকাঠামো নিশ্চিত করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নতমানের চিপ ও ডেটা সেন্টারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই এর আগে জানিয়েছিলেন, কম্পিউটিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে গুগল ক্লাউডের আরও দ্রুত সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের অপেক্ষমাণ কাজের পরিমাণও বেড়েছে।

  • ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) ইরান দাবি করেছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে তারাও পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরকের মতো পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে পারে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায়। সেন্টকমের দাবি, ইরানের অব্যাহত আগ্রাসন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকির জবাবে নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোনগুদাম এবং মাইন স্থাপনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে এমন সময় আসতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযত থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করব, তখন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর অস্তিত্বে থাকবে না।’

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েতে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। পরে দ্বিতীয় দফায়ও সতর্কসংকেত জারি করা হয়।

    তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

  • দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো ‘তৃতীয় পক্ষকে’ লক্ষ্য করে নয় এবং এই সম্পর্ক যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং।

    শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’-এ চীনের সমর্থন এবং দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ঘোষণার পর পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা এল।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। চীন এই প্রকল্পে সাধ্যমতো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    গুও জিয়াকুন আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি অবশ্যই যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    https://5268880971524f0f34d8d0fe407fc93e.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে চীনের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ‘তৃতীয় পক্ষ’-সংক্রান্ত মন্তব্যটি ভারতের উদ্দেশ্যে একটি কূটনৈতিক বার্তা। কারণ, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতরতা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি চীন সফরকালে এই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। ২৫-২৬ জুন বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    সফরের শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চীন তার সক্ষমতার মধ্যে ‘তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা ও সাহায্য দেবে’। এ ছাড়া দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করবেন এবং সমুদ্র ও সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে।

    পানি কূটনীতি ও মেঘনা নদী ব্যবস্থাপনা

    তিস্তা প্রকল্প ছাড়াও বাংলাদেশ ও চীন সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, জলবায়ু ও বন্যা পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ প্রশমন এবং নদী ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

    এই নদীভিত্তিক সহযোগিতা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী মেঘনা (যা ব্রহ্মপুত্র বা ইয়ারলুং সাংপো নামেও পরিচিত) ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিবছর বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আশ্বাস দেন, চীন বাংলাদেশের একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে থাকবে এবং বিএনপি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। চীনা প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তাঁরা উভয়েই চীনের অত্যন্ত ভালো বন্ধু ছিলেন।’

    পাল্টা সৌজন্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বিশ্বে কেবল একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী সরকার।’ বাংলাদেশ তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ভারত-ভিসা জটিলতার বিকল্প: ইউনানে চিকিৎসা পর্যটন

    স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীন বাংলাদেশ থেকে ইউনান প্রদেশে চিকিৎসা পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনের ইউনান প্রদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়াও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় দুই দেশ উচ্চমানের সহযোগিতা এবং যৌথ আধুনিকায়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থায় বাংলাদেশের বড় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং।

    বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। দুই দেশ মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকট ও কূটনৈতিক শব্দচয়ন

    ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইন রাজ্যের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে চীন। সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার’ মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সমর্থনের কথা জানায় বেইজিং।

    তবে কূটনৈতিক সতর্কতার অংশ হিসেবে যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে সেখানে ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ’ হিসেবে তাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    প্রচণ্ড গরমে খাঁ খাঁ করছে রাস্তাঘাট, শপিং মল ও শহরের কেন্দ্রগুলো। অনেক জায়গা দেখে মনে হবে পরিত্যক্ত এলাকা। গত এক সপ্তাহের মধ্য ইউরোপজুড়ে চলেছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহ।

    গত শুক্রবার দুপুর থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জার্মানির ছোট-বড় শহরগুলো যেন ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছিল। জরুরি প্রয়োজন বা কর্মস্থলে যাওয়া ছাড়া অধিকাংশ মানুষই ঘরের বাইরে পা রাখেননি।

    গতকাল জার্মানিতে নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দেশটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের ইয়েরিখোয়ার লান্ড জেলার ড্রেভিৎস এলাকায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    মাঠে ফসল পাকার আগেই প্রচণ্ড গরমে শুকিয়ে যাচ্ছেছবি: সরাফ আহমেদ

    আবহাওয়াবিদেরা এক গবেষণায় বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ তীব্র হয়ে উঠছে।

    জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই নিঃসন্দেহে দায়ী। গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছর আগেও এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিরল ছিল।

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সেখানে বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা স্বাস্থ্য, কৃষি ও শ্রম খাতে এ তাপপ্রবাহের বড় ধরনের প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ক্রমেই এ ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

    চলতি বছরের তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপে এ পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি হিটস্ট্রোক, অতিরিক্ত তাপজনিত শারীরিক চাপ, তাপপ্রবাহ বা ডুবে যাওয়া ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    শুক্রবার থেকে মধ্য ইউরোপের দেশ জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে জুন মাসে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে গত দুই দিনে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসেই রেকর্ড তাপমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের সরকারও বহু প্রশাসনিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটিতে অনেকে গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন।

    তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ব্রাসেলস থেকে জার্মানির কোলোন হয়ে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়ে। ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে তিন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় সপ্তাহান্তে প্যারিসের দুটি বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।

    লোকশূন্য, গাড়িবিহীন ফাঁকা হ্যানোভার শহরের একটি রাস্তাছবি: সরাফ আহমেদ

    এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নেদারল্যান্ডসের জনপ্রিয় সংগীত উৎসব ‘ডেফকন’-এ যোগ দিতে হাজারো মানুষ জড়ো হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করে। আয়োজকেরা শেষ মুহূর্তে উৎসবটি বাতিল করতে বাধ্য হন। এ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    জার্মানিতেও গতকাল হামবুর্গ হাফ ম্যারাথনসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বার্লিনসহ বিভিন্ন শহরের উন্মুক্ত সুইমিংপুলে নতুন টিকিট বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।

    বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, শনি ও রোববার শহরের কেন্দ্র এবং শার্লোটেনবুর্গ এলাকায় মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে জলকামান ব্যবহার করা হবে। বিশেষ যান থেকে পানির ফোয়ারা ছিটিয়ে মানুষকে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আজও একই ধরনের গরম অব্যাহত থাকতে পারে।

  • এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পে রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলও কেঁপে ওঠে।

    ইউরোপিয়ান-মেডিটারেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, গতকাল শনিবারের এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০০ কিলোমিটার গভীরে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    ভূমিকম্পে পাকিস্তানের মুসাখাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জেলার ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১২৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে তাঁবু, খাদ্যসামগ্রী, সৌর প্যানেল, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।

    ভূমিকম্পের সময় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা দানিয়াল আহমদ।

    দানিয়াল আরও বলেন, ‘সোয়াতে ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল। অনেকক্ষণ ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে।’

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা

    খালি হাত আর কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। আকাশে উড়ছে ড্রোন। সেটা ওপর থেকে জীবিত মানুষের চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জীবিতদের উদ্ধারের লড়াই। ভেনেজুয়েলায় নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে চলছে এমনই পদক্ষেপ। উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন সীমানায় অবস্থিত। সেখানে যতদূর চোখ যায়, দেখা যায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। বুধবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার পর এই রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি

    বাসিন্দা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জন ও নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজছেন। কংক্রিট ও লোহার রডের নিচে কেউ জীবিত আছে কি না, সেই আশায় তারা কান পেতে শুনছেন সামান্যতম শব্দও পাওয়া যায় কিনা। এ পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মাত্রা ৭.২ ও ৭.৫-এর দুটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত এক শতকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শত শত ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে মৃত ও আহতের সংখ্যা। জাতিসংঘেরঅনুমান, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশীয় উদ্ধারকারী দল সংখ্যায় খুবই কম। তবে মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয়।
    মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তির কাছে খাবার ও পানি থাকলে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা। এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা কিছুই গোপন করব না।

    লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে এখন হতাশার ছায়া। খুব কম ভবনই অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সরকারি বাহিনী বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিতদের উদ্ধারের এই সংকটময় সময়ে সরকার সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। যেসব স্থানে স্বজনরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেসব জায়গার আশপাশে উদ্বিগ্ন মানুষ অপেক্ষা করছেন। তাদের একজন হেসুস সুয়ারেজ। তিনি তার ছেলে জিন সুয়ারেজকে খুঁজতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। যারা তাকে চেনে, তারা বলছে, তাকে বের হতে দেখেনি। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, সে ওখানেই আছে।
    সুয়ারেজ এমন এক সংকটের মুখোমুখি, যার সম্মুখীন এখানকার অনেক মানুষই। তিনি বলেন, তাকে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। এখানে কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি নেই। একজন মানুষ একা এটা করতে পারে না। এটা খুবই বিপজ্জনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদুয়ার্দো কোথায় আছেন, তা অন্তত তার স্বজনরা জানেন। মাঝে মাঝে তারা তার কথা বলা বা গোঙানির শব্দ শুনতে পান।

    তার এক চাচাতো ভাই বিবিসি নিউজ মুন্ডো’কে বলেন, আমরা ডাকতে শুরু করি- ‘কার্লোস, কার্লোস, বাবা…’। এরপর সে একটা শব্দ করে, গোঙায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে এমনটা হয়েছিল। তিনি বলেন, এরপর থেকে আর কোনো শব্দ শুনিনি। সে আর কথা বলেনি, জীবিত থাকারও কোনো লক্ষণ দেয়নি। তবে এর আগেও এমন করেছে। শনিবার বিকেলেও সে গোঙানোর পর চুপ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা এখনো সাহায্যের অপেক্ষায় আছি, এই আশায় যে তাকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে।

    যানজট ও মানুষের ভিড় অনেক সময় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সৈন্যরা ও মেক্সিকোর স্বেচ্ছাসেবকেরা বারবার সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের কোনো শব্দ শোনা যায়। যার যেভাবে সম্ভব, সবাই সাহায্য করছেন। যাদের কাছে ড্রোন আছে, তারা দুর্গম এলাকায় জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা ড্রোনের ভিডিওর দিকে তাকিয়ে থাকেন- হয়তো পরিচিত কোনো কাপড়, চুলের গোছা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো জিনিস চোখে পড়বে। এমন কিছু, যা তাদের প্রিয়জনের কোনো খবর এনে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এর ভয়াবহ পরিণতিও।

    গ্লেনদিস দেলগাদো বলেন, একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মৃতদেহের গন্ধ। এতে আমরা আর আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। তিনি জানান, তার বাড়ির কাছের দুটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, সরকার থেকে কেউ এখানে আসেনি। তবে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে কারাকাস থেকে মানুষ এসে আমাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছে।

    ২৭ বছর বয়সী দেইয়ের গাব্রিয়েল বলেন, মাকুতো, কারিবে- সব জায়গাই ক্ষতিগ্রস্ত। আর আমরা সবাই সেই দুর্গন্ধ অনুভব করছি। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানায়, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৬১ জন স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। আরও অনেকে আসছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    এক নারী তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পা এখনো কাঁপছে। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, আমরা মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছি। আমাদের সাহায্য করতে তাদের আসতেই হবে। তিনি নিজের ওয়াশিং মেশিনটি উদ্ধার করার জন্য বাড়িতে ফিরেছিলেন। তিনি বলেন, এটা খুব কঠিন পরিস্থিতি। আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কত ত্যাগ আর পরিশ্রম করে মানুষ কিছু অর্জন করে, আর চোখের পলকেই সব ধসে পড়ে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবন। ২৮ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা গাবিনো’র অবস্থাও একই রকম। তার দুই সন্তান- একজনের বয়স সাত বছর, অন্যজনের দুই বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। তিনি বলেন, শিশুরা চিৎকার শুরু করেছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। হঠাৎ পাশের ভবনটি ধসে পড়ে, তখন আমার স্বামী দ্রুত গাড়িটি পিছিয়ে নেন।

    এখন চারজনই মাইকেতিয়া’র সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। তবে ভবন থেকে দূরে খোলা ও সমতল জায়গা হওয়ায় সেখানে আশ্রয় নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। আলেক্সান্দ্রা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তার স্বামী অস্থিতিশীল ভবনের ১৫ তলায় থাকা তাদের ফ্ল্যাটে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা যায়। তিনি বলেন, শুধু সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো। কারণ ভেতরে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। বেশি কিছু উদ্ধারের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সবকিছু হারিয়ে ফেলা খুব কষ্টের। আমার মা তার বাড়ি হারিয়েছেন, আমরাও আমাদের বাড়ি হারিয়েছি। আমাদের আর কিছুই নেই। সন্তানদের জন্য নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি এমন একটি কথা বলেন, যা এখন অনেক মানুষের মনের কথাই প্রকাশ করে। ‘সবাই বলে, বেঁচে আছেন- এটাই সবচেয়ে বড় কথা। হ্যাঁ, সেটাই ঠিক। কিন্তু যা সহ্য করতে হচ্ছে, তা ভীষণ কষ্টের। মানুষের কষ্ট দেখা, তাদের চিৎকার শোনা, শিশুদের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকতে দেখা, আর নিজের সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে কিছুই করতে না পারার অসহায়ত্ব- এসব খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’ শেষে তিনি বলেন, নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট হয়।

  • চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫শে জুন) ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা প্রচার করে। তারা জানায়, আমাদের অনুমতি ছাড়া অথবা নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে, তার সব পরিণতির দায় সেই জাহাজকেই বহন করতে হবে।
    এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এভার লাভলিতে’তে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে এটিই ছিল প্রথম হামলা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। তেহরানের এই হামলার জেরে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই হামলার অর্থ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া নয়। অন্তত আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো ইঙ্গিত নেই।
    পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    এদিকে শনিবার ভোরে বাহরাইন জানায়, তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু এখনো স্পষ্ট নয়।
    যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
    নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অন্যতম বড় অঙ্গীকার। তবে ইরানের দৃষ্টিতে প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।

    চুক্তির একটি অস্পষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। এর ফলে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় তেহরানের একটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকলেও সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কোন জাহাজ কখন এবং কোন পথে চলবে- সেই সিদ্ধান্ত নিজেদের হাতে রাখতে চায়

    আইআরজিসি ইতিমধ্যে তেহরানের অনুমোদনবিহীন রুটকে ‘অগ্রহণযোগ্য’, ‘চরম বিপজ্জনক’ এবং ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। তারা সব জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের জন্য শুধু তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছে।
    এদিকে সদ্য গঠিত পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি (পিজিএসএ) নতুন নিয়ম জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমোদনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পেলে তারা একটি ‘নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা’ পাবে, যার সঙ্গে বীমা সুবিধাও থাকবে।

    তবে সিএনএন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পিজিএসএর ই-মেইল কার্যকর ছিল না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত জলপথে তিনটি আলাদা রুট কার্যকর হয়েছে।
    দক্ষিণের একটি পথ ওমানের জলসীমা ঘেঁষে গেছে। মাঝের পথটি যুদ্ধের আগে ব্যবহৃত হতো। উত্তর দিকের পথটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের দ্বিধায় পড়েছে যে, কোন পথ ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
    সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মারিস্কস-এর প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, নিরাপদভাবে নৌ-চলাচলের জন্য পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বর্তমান পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    একদিকে হামলার ঝুঁকি, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
    শিপিং কোম্পানিগুলোর সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত। যদি তারা ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট এড়িয়ে অন্য পথ ব্যবহার করে, তাহলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আবার যদি তারা আইআরজিসির নির্দেশনা মেনে ইরানের রুট ব্যবহার করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেÑএমন আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন অতীতে সতর্ক করেছিল যে, ইরানকে কোনো ধরনের টোল ফি পরিশোধ করাও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে।
    প্রথমদিকে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের কথা বলেছিল। পরে তারা জানায়, আপাতত সরাসরি টোল নেয়া হবে না। পরিবর্তে সামুদ্রিক সেবা বাবদ ফি এবং নতুন পরিবেশগত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    উদ্ধার অভিযানও স্থগিত
    এভার লাভলিতে হামলার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) উপসাগরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিক বহনকারী ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সমন্বিত মানবিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
    সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পর অন্তত চারটি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। যেসব জাহাজ ওমানের রুট ব্যবহার করছে, সেগুলো খুব কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করছে। এতে সংঘর্ষ ও সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

    যুদ্ধ চলাকালে একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারের (ভিএলসিসি) জন্য হামলার ঝুঁকির বীমা করতে মালিকদের ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতে হয়েছে।
    যদিও এখন হামলার ঘটনা তুলনামূলক কম, তবুও বীমা প্রিমিয়াম এখনও অনেক বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, বীমা পেতে হলে প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই জানাতে হচ্ছে তারা কোন রুট ব্যবহার করবে।
    তার ভাষায়, এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নয়। বরং এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা এখনও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আছি। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে খুলে গেছে- এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
    তিনি সতর্ক করে বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত যদি রুট নিয়ে বিরোধের সমাধান না হয়, তাহলে তিনটি পথই বিশৃঙ্খলভাবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং নৌচলাচল আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে।

    আস্থার সংকট এখনো কাটেনি
    ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিছু জাহাজ ধীরে ধীরে আবার হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অপেক্ষা করছে- একটি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো হামলা ছাড়াই নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চায়।
    ম্যাথিউ রাইট বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস রয়েছে। তাই এই চুক্তি অবশ্যই একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ।”
    তবে তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে এবং ইরান যা বলছে- দুইয়ের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তার মতে, আমরা এখনো একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি।

  • কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন’কে ঘিরে অসংখ্য রহস্য। তবে তার মাকে ঘিরে গোপনীয়তা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি। ক্ষমতায় আসার ১৫ বছরে তিনি প্রকাশ্যে একবারও তার মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি। কিমের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বৈধতা অনেকটাই নির্ভর করে তার তথাকথিত ‘মাউন্ট পায়েকতু রক্তধারা’র ওপর। এ বংশপরিচয়কে কোরীয় জাতির পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার উত্তরাধিকার বলে প্রচার করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    আর এমন একটি দেশে, যেখানে এই বংশগত বিশুদ্ধতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গৌরবের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেখানে কিমের মায়ের পরিচয় শুধু একটি গোপন তথ্যই নয়, বরং সেটি শাসনব্যবস্থার জন্য সম্ভাব্য হুমকিও। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরীয় জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছিল মাউন্ট পায়েকতু থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতকে ডানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডানগুনকে কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। হাজার হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এই পাহাড়কে নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রচার করা হয়। পরে তার ছেলে কিম জং ইল-এরও জন্ম এই পবিত্র পাহাড়ের ঢালেই হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি করা হয়। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে তার জন্ম সম্ভবত রাশিয়ায় হয়েছিল। এরপর থেকে কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পায়েকতু’কে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার বই ‘কিম জং উনের সিক্রেট ভল্ট’-এ লিখেছেন, বিশের কোঠায় থাকা কিম জং উন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন ছাড়াই কেবল পায়েকতু রক্তধারার কারণেই উত্তরসূরি হয়েছেন। কিন্তু কিমের মাতৃসূত্রের বংশপরিচয়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প বলে। মাউন্ট পায়েকতু থেকে কয়েক শ মাইল দূরে রয়েছে জাপানের ঐতিহাসিক শহর ওসাকা। ধারণা করা হয়, সেখানেই ১৯৫২ সালে কিমের মা কো ইয়ং হুই জন্মগ্রহণ করেন। জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং হুইয়ের বাবা-মা মূলত বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত জেজু দ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন।

    জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবার ছিল জাইনিচি কোরিয়ান। অর্থাৎ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাপানে চলে যাওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে যায়। তারা ছিলেন প্রায় ৯৩ হাজার কোরীয়ের মধ্যে, যারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উত্তর কোরিয়ায় পাড়ি জমান। তখন তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে, সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ এক আদর্শ জীবন অপেক্ষা করছে। প্রথমদিকে জাপান থেকে আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখতেন। কারণ তারা সঙ্গে করে নগদ অর্থ, পোশাক ও গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

    তবে একই সঙ্গে তাদের জ্জায়েপো নামে অবজ্ঞাসূচক একটি পরিচয়ে ডাকা হতো। রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিতে তারা এমন একটি গোষ্ঠী, যারা বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শে প্রভাবিত বলে বিবেচিত হতো। উত্তর কোরিয়ার সমাজ অত্যন্ত কঠোরভাবে স্তরবিন্যস্ত। অনেক বিশ্লেষক এই সামাজিক কাঠামোর তুলনা বর্ণব্যবস্থার সঙ্গে করেন। এই সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসকে বলা হয় সংবুন। এই ব্যবস্থায় জ্জায়েপো’রা ছিল তথাকথিত দোদুল্যমান শ্রেণির অন্তর্ভুক্তদ- যা মূল বা অনুগত শ্রেণি এবং শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। তাদের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারি চালানো হতো। এ ছাড়া তাদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগও প্রায় থাকত না। এটি কিম পরিবারের বহুদিন ধরে প্রচারিত পায়েকতু রক্তধারার কাহিনির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

    নর্দার্ন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষক কিম হিউং-সু বলেন, শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণায়

  • রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রাম মন্দিরে ভক্তদের দেয়া দান এবং গয়না চুরির ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি বিজেপি এবং আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুললেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’দের আড়াল করতে কেবল নিচুতলার ছোট কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) অযোধ্যা সফরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় কেজরিওয়াল বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং ভক্তদের দেয়া মূল্যবান গয়না চুরির এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

    কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, এই চুরির ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর আসলে একটি লোকদেখানো প্রক্রিয়া মাত্র।

    তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং অমূল্য অলঙ্কার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। শোনা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসের সিসিটিভি ফুটেজও নাকি পাওয়া যাচ্ছে না! যে ঘটনার সাথে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও বিশ্বাস জড়িত, তার আসল সত্য দেশের সামনে আসা উচিত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া দরকার।

    আটজন ছোট কর্মচারীকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, আটজন সামান্য কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এত বড় একটা কেলেঙ্কারি শুধু ওই সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষে করা অসম্ভব। এর শিকড় অনেক উঁচুতে ছড়ানো। জুনিয়র কর্মীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বড় বড় মাথাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

    রাম মন্দিরের এই চুরিকে ‘মহাপাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে উদ্দেশ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘যোগী জি, রাম মন্দিরের দান চুরির সাথে যারা জড়িত, তারা আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। এর জন্য একটা বড় ষড়যন্ত্র বোনা হচ্ছে। এই মানুষেরা আপনার চেয়ারের পেছনে পড়েছে। যারা এমন মহাপাপের অভিযোগে অভিযুক্ত, আপনি কেন তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।

    তিনি আরো বলেন, ‘রাম মন্দির দান চুরির পেছনে অনেক বড় বড় মানুষ জড়িয়ে আছেন। যারা ভগবান রামের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, খোদ শ্রী রামই এবার তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবেন।’

  • সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদি আরবে এক সপ্তাহে যৌথ অভিযানে ১৫ হাজার ২৩১ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ওই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সৌদি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৮৯ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘন করেছে, ৪ হাজার ৪৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছে এবং ৩ হাজার ১৯৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে ১১ হাজার ২৯৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    পাশাপাশি ১৫ হাজার ১০৯ জনকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে পাঠানো হয় এবং ৩ হাজার ৬১৮ জনকে দেশে ফেরার ভ্রমণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় ১ হাজার ৭৬৩ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

    এছাড়া ৫৩ জনকে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে আরও ২২ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৬৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৯৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারী। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তিকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করেন, তাদের পরিবহন করেন, আশ্রয় দেন বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সেবা প্রদান করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

    পাশাপাশি এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িঘরও জব্দ করা হবে। দেশটির মন্ত্রণালয় জনগণকে অবৈধ অভিবাসন বা আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

  • আগামী একমাস হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে

    আগামী একমাস হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ইরানের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। রোববার (২৮ জুন) ইরাক সফরকালে তিনি এ কথা জানান।

    আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আমি আমার ইরাকি সমকক্ষকে অবহিত করেছি।

    তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সব প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পর প্রণালিটির পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই দায়িত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করবে।

  • ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে ১১ জনের মৃত্যু

    ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে ১১ জনের মৃত্যু

    ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) সকালে ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দরের কাছে টম্বলেন পৌর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তবে বিমানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    এর আগে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা একটি বেসামরিক বিমান এ দুর্ঘটনায় পড়ে।

    মিউরথ-এ-মোসেল প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, টম্বলেন পৌরসভায় একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছ।

    গভর্নর ইউভ সেগি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের অপারেশনাল সেবা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • বাড়িভাড়ার জন্য এক পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা

    বাড়িভাড়ার জন্য এক পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা

    ভারতের কেরালায় বাড়িভাড়া দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে একই পরিবারে চারজন। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার পিরাভমের কাছে একটি নদী থেকে সাত বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের লাশ উদ্ধারের কাজ শেষ হলো।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় নদী থেকে শিশুটির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা ভিজি ও তার দুই বছর বয়সি ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার উদ্ধার হয় শিশুটির বাবার লাশ। আর নিখোঁজ সাত বছরের মেয়েটির খোঁজ চলছিল রোববার সকাল পর্যন্ত। পরে পিরাভোমের কাছে নদী থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার থেকেই পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা মেয়েটির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে আবার অভিযান শুরু হলে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তের পর, পুলিশ ভিজি ও তার ছেলেকে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ নিখোঁজ থাকা নারায়ণন ও দম্পতির মেয়ের সন্ধান শুরু করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, পালাক্কাড়ের বাসিন্দা নারায়ণন তার পরিবারের সঙ্গে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি নারায়ণন ও তার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে কোট্টামঙ্গলম থানার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। পুলিশ তাদের জন্য বিকল্প একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিল এবং রোববার সেখানে ওঠার কথা ছিল।

    তদন্তে পিরাভোমের একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন।

    পুলিশ পরিবারের স্বজন ও পরিচিতদের বক্তব্য নিয়েছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

    পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

    সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।

    স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

    এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

    তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীতে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ফেনী-পরশুরাম সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মুরগিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন।

    শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— উপজেলার পাঠানগড়ের কাজী আজাদের স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০) ও ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সিএনজিচালক মোহাম্মদ কাউসার (২৫)।

    ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। তবে পথে সিএনজিচালক কাউসার ও যাত্রী জুহা মারা যান। আহত অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

    শনিবার (২৭ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।

    একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রক্তাক্ত লাশের ছবি সংবলিত বিকৃত ছবি দিয়ে সয়লাব করতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ অনেকে। অনেকের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।

  • নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পার্কিং থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের পাশাপাশি আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া গাড়িসহ মোট দু’টি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

    পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) নতুন জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা মোহাম্মদ আরিফের ব্যবহৃত ২০০৬ মডেলের টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার চুরি হয়। পরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মামলার তদন্তে এসআই মো: রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে।

    গ্রেফতাররা হলেন— মুক্তার হোসেন (৪৮), মো: মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) ও আলাউদ্দিন (৩৬)। এর মধ্যে মুক্তারকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ফতুল্লার দেলপাড়া চিতাশাল এলাকা থেকে এবং অপর দু’জনকে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলাসহ আরো একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল, সেক্রেটারি আকিব

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখার ২০২৬ সেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহ।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে মহানগর শিবির কার্যালয় মিলনায়তনে কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সদস্য সমাবেশে এ নির্বাচন ও মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আবদুল মোহাইমেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

    শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত নাজমুল হাসানকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি শাখা সেক্রেটারি হিসেবে ডা: কাজী আকিব আব্দুল্লাহকে মনোনীত করেন।

    পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সদস্য সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

    ফেনীর ফুলগাজীতে ঘরের চালের টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৬ ‍জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর নাম কাজল আক্তার (২৬)। তিনি দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা আধাপাকা ঘরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রবাসীর স্ত্রী কাজল আক্তারের হাত-পা বেঁধে মাথায় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় ঘরে তার তিন সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।

    নিহতের ভাসুর মাস্টার ইসমাঈল ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে গোঙ্গানির শব্দ শুনে চিৎকার করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

    ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মিজানুর রহমান জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ

    আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব- মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার শুধু এই কথাটিই বলছেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তার পৃথিবী। যে ঘরে ছিল মায়ের স্নেহ, তিন বোনের হাসি আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ঘরে এখন একা।

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় ঘরে ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন প্রধান সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার (২৫)। একদিনে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো রায়পুরকে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের (৩৮) স্বামী কামাল ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তারপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

    কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, সায়মা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার।

    ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসে একসঙ্গে মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিফাত।

    শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রায়পুরে তাদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মরদেহ নেওয়ার কথা তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

    অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বজনের খবর দেওয়া হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি।

    ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে বলছেন, একই সময়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা, একজনের পক্ষে একই সঙ্গে চারজনকে হত্যা করা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্তে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ তদন্ত দলও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।

    নিহতদের স্বজন রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

  • মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মাগুরায় মানববন্ধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১ টায় ‘অধিকার’-এর মাগুরা জেলা সমন্বয়ক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মো: হোসাইন, জুলাই যোদ্ধা সবুজ হোসেন শাওন, সাংবাদিক শাহীন আলম তুহিন, খায়রুজ্জামান সবুজ, পলাশ মাহমুদ প্রমুখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ধরনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মানববন্ধন শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শহরে একটি শান্তিপূর্ণ র‍্যালি বের হয়।

  • রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

    রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ১৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

    অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত মুরাদ পারভেজের ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

    হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাকিব ও তামিম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হামলায় তাদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কর্মী আশিকের সঙ্গে তার ভাই রাসেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মো. পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ

    গ্রেপ্তার শ্রাবণের তথ্যে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    কুমিল্লা নগরীতে মাদক চোরাকারবারীদের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের শরীর থেকে গুলি এখনও বের করা যায়নি। মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে মাদক চোরাকারবারীদের হামলা ও গুলির ঘটনায় ব্যবহার করা ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

    তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে কাটাবিল এলাকার শ্রাবণকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্য অনুসারে একটি বাড়ির পরিত্যক্ত স্থান থেকে ওই পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এই পিস্তলটি গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

    এর আগে হামলা ও গুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ইথান আহমেদ প্রেম (১২) এর বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় হামলায় জড়িত মাদক কারবারী সাব্বির ও অপুসহ ৬ জনের নামে এবং ৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শ্রাবণ নামের একজনকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার শ্রাবণের নাম না থাকলেও ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    এদিকে ঢামেকে ভর্তি গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র প্রেমের গুলি এখনও বের করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা ইউনুস মিয়া। তিনি আজ বিকাল ৫টার দিকে মুঠোফোনে সমকালকে বলেন, কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় সন্ধ্যায় ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা হয়নি। গুলির ক্ষত স্থান থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। আজ বিকেলের দিকে বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছে। জানি না কখন গুলি বের করা হবে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, মাদক বাড়ছে, মাদকসেবী ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে প্রতিরোধ কোথায়? এ সময় তিনি ডিসি এসপির উদ্দেশ্য বলেন, কুমিল্লায় মাদক নির্মূল করতে না পারলে আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব। আমি সরকারে থেকে তা না পারলে পদত্যাগ করবো।

    এর আগে আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় গুলির এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক বেচাকেনা নিয়ে কাঁটাবিল এলাকায় বুধবার রাত থেকে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করা হয়। পরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলি চালালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলার সময় ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ প্রেম কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে প্রেম বাসায় যাচ্ছিল। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডের কর্মচারী।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অভিভাবকের বিরুদ্ধে

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষিকারা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাকে শাসন করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে চলে যান। এরপর শিক্ষার্থীর কয়েকজন স্বজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীকে শাসনের কিছুক্ষণ পর তিনি জরুরি কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক বা তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

    বাংলাদেশ সংবাদ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।

  • মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যালীটি মিরসরাই পৌর সদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির নুরুল কবিরসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    আয়োজক উপজেলা যুব বিভাগ জানায়, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় যুবকরা মাদকবিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা।

    র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা আজ সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের টাকার জন্য পরিবারে সঙ্ঘাত, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সরকার যদি মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের সচেতন যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

  • খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ নেতা আটক

    খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের সাথে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ) সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফের উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমাকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে গুইমারার দুর্গম হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনং পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ঝিমিত চাকমাকে উদ্ধারের পর মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাইনং পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষ পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা ঝিমিত চাকমাকে আটক করা হয়।

    গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঝিমিত চাকমা ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের সংগঠক। তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

    এদিকে, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ঝিমিত চাকমাকে সংগঠনটির গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটির জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় দুটি সামরিক বিমান পাঠাচ্ছে তুরস্ক

    ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় দুটি সামরিক বিমান পাঠাচ্ছে তুরস্ক

    তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফডিএ) ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তা জোরদারে দুটি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

    এএফডিএ জানিয়েছে, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান উদ্ধারকারী ও মানবিক সহায়তা দল বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইস্তাম্বুল, ইজমির ও দেনিজলি থেকে ৩৮ সদস্যের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা দল অংশ নেবে।

    এছাড়া বিমানটিতে পাঁচ সদস্যের জাতীয় মেডিকেল রেসকিউ টিম, তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের দুই সদস্যের মানবিক সহায়তা দল, দুটি অনুসন্ধানী কুকুর এবং তিনটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও উদ্ধার যানবাহনও পাঠানো হবে।

    অন্যদিকে, তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিমানে ২২ সদস্যের হিউম্যানিটারিয়ান এইড ব্রিগেড দল এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে।

    এএফডিএ জানিয়েছে, দুটি বিমানই শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বহু মানুষ।

  • ইস্তাম্বুলের একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার

    ইস্তাম্বুলের একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার

    তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইস্তাম্বুলের পুলিশপ্রধান সেলামি ইলদিজ বলেন, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    বেসরকারি তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডিএইচএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৩৬৬টি প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলোতে প্রাচীন হিট-আইট, গ্রিক, রোমান, বাইজেনটাইন ও উসমানীয় যুগের মানুষের সামাজিক জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা প্রতিফলন রয়েছে।

    প্রত্নসম্পদ চোরাচালানের বিরুদ্ধে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। গত বছর বিদেশে পাচার হওয়া ১৮০টি শিল্পকর্ম দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় দেশটি।

  • পশ্চিমারা লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া কিছুই আনেনি: খামেনির উপদেষ্টা

    পশ্চিমারা লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া কিছুই আনেনি: খামেনির উপদেষ্টা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেছেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর স্থিতিশীলতা হলো হরমুজ প্রণালি। আর এই জলপথ শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া আর কিছুই আনেনি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভেলায়াতি বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের কাছে ঋণী। কারণ হরমুজ প্রণালিতে শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। কিন্তু পশ্চিমারা আসার পর এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতাই শুধু বেড়েছে।

    তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই রাজনৈতিক অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাড়াটে বিবৃতিতে আশ্বস্ত হওয়া উচিত নয়। জেনে রাখুন, আপনাদের টিকে থাকা এই টেবিলের উচ্ছিষ্টের ওপর নির্ভরশীল।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থার এই বড় পুনর্বিন্যাসে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খেলোয়াড়দের কোনো আসন নেই। তারা বাদ পড়ে যাবে এবং তাদের কৌশলগত টিকে থাকা তেহরানের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করবে।

    এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাহিনীটি বলছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক রুট ব্যবহার করেই কেবল নিরাপদে এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করা সম্ভব।

  • পনেরতলা ভবনের নিচে ছেলেকে খুজছেন এক মা

    পনেরতলা ভবনের নিচে ছেলেকে খুজছেন এক মা

    ১৯০০ সালের পর ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ছেলেকে খুঁজে পেতে খালি হাতে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ খুঁড়ে চলেছেন আম্পারো দেল জিউদিসে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসব ভয়াবহ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে অসংখ্য পরিবারের মতো দেল জিউদিসের পরিবারেও নেমে এসেছে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

    ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন।

    সময়ের সাথে সাথে সরকারি সহায়করা না পৌঁছনোয় হতাশ দেল জিউদিসে। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টারত এই মা বলেন, ‘এখানে অনেক পাথর। খালি হাতে এগুলো সরানো অসম্ভব।’

    তিনি যেখানে মনে করছেন তার ছেলে আটকে আছেন, সেখান থেকে অল্প দূরে বসে এ কথা বলেন। তার ২৩ বছর বয়সী নাতি আলেসান্দ্রো স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মীর হেলমেট পরে নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

    তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘উনি ভেতরেই আছেন।’ প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জনপদ লা গুয়াইরা একসময় ছিল রাজধানী কারাকাসের মানুষের ক্যারিবীয় সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের জনপ্রিয় গন্তব্য। সুইমিংপুল-সমৃদ্ধ বহু উঁচু ভবন ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে।

    অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার অঞ্চলটি পরিদর্শন করে এটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেন। এএফপির প্রতিনিধিরা সেখানে লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কে স্তব্ধ মানুষের মুখ।

    বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী আবাসিক ভবনগুলো এখন ধাতু, কাচ ও কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সেগুলোর চারপাশে তখনো ধুলার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল।

    উপকূলীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। উপকূলজুড়ে অনেক ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে গেছে। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসময় ১৫ তলা পর্যন্ত উঁচু ছিল এমন ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন।

    ভেনিজুয়েলায় একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবন প্রতিটি কম্পনেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠছিল।

  • ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহরে লুটপাটের ঘটনা

    ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহরে লুটপাটের ঘটনা

    ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে ওঠে উপকূলীয় এই শহর।

    বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। ধসে পড়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় মহাসড়ক এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বহু আবাসিক ভবন। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও সম্পূর্ণ ধসে গেছে।

    এএফপির প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ এবং নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফেরার হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মধ্যেই কিছু দুর্বৃত্ত লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।

    উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একই সময়ে একের পর এক আফটারশকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে লা গুয়াইরাকে দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে চলছে।

  • অপরারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ

    অপরারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ

    আর্ন্তজাতিক যেস্ক:

    ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট।

    সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।

    নিহতরা হলেন— সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুরালি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।

    ২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম।

    জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।

    গত বছরের ৭ মে, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। ওই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।

    এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং সীমান্তজুড়ে ব্যাপক গোলাবিনিময় শুরু হয়। চার দিন ধরে চলা এই সংঘাত ১০ মে শেষ হয়।

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে: আইএইএ প্রধান

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে: আইএইএ প্রধান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইএইএকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দিয়ে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আইএইএকে অবশ্যই প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে যেতে পারব।’

    তবে গ্রোসির এই বক্তব্যের আগে ইরান জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।

    রাফায়েল গ্রোসি বলেন, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ইরান সরকার বারবার দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    গ্রোসি বলেন, ‘উদ্দেশ্যের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যত দ্রুত সম্ভব এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত।

    আইএইএ প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।

    তিনি বলেন, ইরান সফরের প্রথম লক্ষ্য হবে আগে পরিদর্শন করা পারমাণবিক উপকরণে আইএইএর লাগানো সিল অক্ষত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা। পাশাপাশি কোনো পারমাণবিক উপাদান নিখোঁজ হয়েছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।

    এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে আইএইএকে কোনো তথ্য দেয়নি ইরান।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে আগামী ৬০ দিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালানোর পথ তৈরি হয়েছে।

    তবে বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

    আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। সংস্থাটির মানদণ্ড অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

    রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • এক রাতে ৬৬০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের

    এক রাতে ৬৬০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় হামলা ইউক্রেনের

    রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ইউক্রেন ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। এটি ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

    শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোনই ভূপাতিত করেছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মস্কো, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগরসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এ তথ্য রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্স-এ প্রকাশ করা হয়েছে।

    মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেখানে পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে তুলা অঞ্চলেও ব্যাপক ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ। তিনি বলেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎসে চাপ সৃষ্টি করা যায়।

    ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

  • ইসরাইলকে ‘শর্তহীনভাবে’ লেবানন ছাড়তে বললেন হিজবুল্লাহ প্রধান

    ইসরাইলকে ‘শর্তহীনভাবে’ লেবানন ছাড়তে বললেন হিজবুল্লাহ প্রধান

    ইসরাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন।

    নাঈম কাসেম বলেন, ইসরাইল কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না। বরং তারা লেবাননকে গ্রাস করতে এবং দেশটি দখল করতে চায় বলেই সেখানে ঢুকেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের সংযম প্রদর্শন কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।’

    দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের একমাত্র পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যই ভবিষ্যৎ গঠন করে, সমীকরণ ওলটপালট করে দেয় এবং অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে।’

    তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, লিটানি নদীর উত্তর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ এবং শর্তহীন প্রত্যাহারের পর অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।

    তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের এই আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। তবে তারা এই আগ্রাসন সফলভাবে রুখে দিয়েছেন।

    নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন, ইসরাইলি দখলের ফলেই এই প্রতিরোধ বা রেজিস্ট্যান্সের জন্ম হয়েছে।

    তিনি জানান, তাদের যোদ্ধারা বর্তমানে আলী তাহের পাহাড়ে অবস্থান করছেন

    হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সাথে তিনি বাইরের শক্তির খবরদারি এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করার দাবি জানান।

    তিনি বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সাথে শত্রুতা বা বৈরিতা করার ঝুঁকি নিতে পারে না।

    তিনি দাবি করেন, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট নসাৎ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন।

    নাঈম কাসেম আরো উল্লেখ করেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যায়, তবে এই প্রতিরোধ যোদ্ধা বা হিজবুল্লাহ সরকারের পাশে থাকবে।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ নিয়ে মন্তব্য করেছেন কাসেম। তিনি এই সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলে অভিহিত করেছেন।

    নাঈম কাসেম বলেন, ইরান নিজের অবস্থানে দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পেরেছে। এর ফলেই দেশটি এই সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করে।

  • ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের

    ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিনেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে পাঠানো এক বার্তায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ কমাতে ও চলমান উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য জরুরি ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সাহায্য প্রদানে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।

    পেজেশকিয়ান এই ভূমিকম্পকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। ভেনিজুয়েলার জনগণ এই দুর্যোগ শিগগিরই কাটিয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • ইরান-লেবানন ও পশ্চিম তীরে দেড়শ কোটি  ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান

    ইরান-লেবানন ও পশ্চিম তীরে দেড়শ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান

    মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইরান, লেবানন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান।

    জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইএফআরসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)।

    এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য, আশ্রয়, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার মতো জরুরি মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

    এ ছাড়া, লেবাননে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে জাপান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে টোকিও।

    জাপান সরকার বলেছে, যুদ্ধ ও অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে বদলে দিচ্ছে ফিলিস্তিন

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে বদলে দিচ্ছে ফিলিস্তিন

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রায় কোনো বিরোধিতা ছাড়াই প্রতি বছর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে শত শত কোটি ডলার অর্থায়ন করে আসছে। এই দেশে জাতীয় পদে আসীন হতে চাইলে, যেকোনো মূল্যে ইসরাইলকে সমর্থন করাটা প্রায় অপরিহার্য—দীর্ঘদিন ধরেই এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য ছিল। অথচ সেই সমর্থনের কারণে যারা ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ আমেরিকান, তাদের আত্মীয়স্বজনসহ লাখ লাখ মানুষ ক্রমাগত হত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

    কিন্তু ইসরাইলের জন্য অবাধ অর্থায়ন ও দায়মুক্তির দিন শেষ। তা আর কখনো ফিরে আসবে না। এই অকাট্য বাস্তবতা নিয়ে যার সন্দেহ আছে, তার নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনের দিকে তাকানো প্রয়োজন। নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থি প্রার্থীরা পাঁচটি বরোতে বিপুল বিজয় লাভ করেছেন। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পেছনে অনেক কারণ ছিল। কিন্তু একটি বিষয় তারা নিঃসন্দেহে নিশ্চিত করেছেন যে, ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সমর্থন অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিবর্তন আনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আর কিছুই আগের মতো থাকবে না।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় সাথে সাথেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, নিউইয়র্ক সিটির ওপর দিয়ে ফিলিস্তিনপন্থি একটি ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এই অপ্রতিরোধ্য স্রোতের ব্যাপকতা প্রথম অনুভব করেন বিদায়ী প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যান, যিনি তার বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছিলেন। গোল্ডম্যান তার পুরো রাজনৈতিক জীবনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিপীড়নের একজন সোচ্চার সমর্থক ছিলেন এবং এই প্রচারণার শেষ পর্যন্ত তিনি এই অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। তিনি ইসরাইল যে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করেছে তা মেনে নিতে রাজি নন। তিনি গাজায় সংঘটিত গণহত্যাকে অস্বীকার করেন এবং এমনকি স্বীকার করেন যে গত বছরের সিটি নির্বাচনে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের ডেমোক্র্যাটিক মনোনীত প্রার্থী জোহরান মামদানিকে ভোট দেননি। আর ভোট না দেওয়ার কারণ ছিল, মামদানি ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে সোচ্চার।

    যখন গোল্ডম্যানের ভোটাররা ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন ওয়াশিংটনে তাদের প্রতিনিধি নির্লজ্জভাবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে অর্থায়নের জন্য শত শত কোটি ডলার পাঠাচ্ছিলেন। এমনকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন আইনের পক্ষে ভোটও দিয়েছিলেন।

    বিগত বছরগুলোতে, এই ভোটগুলো হয়তো তার পুনঃনির্বাচনকে সুনিশ্চিত করত। এ বছর সেগুলোই তার বিরুদ্ধে কাল হয়ে দাঁড়ায়-যা কোনো বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েও মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না।

    ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। গোল্ডম্যান ল্যান্ডারের কাছে ৩০ পয়েন্টে হেরে যান। তিনি কংগ্রেসের ইতিহাসে প্রথম সদস্য হিসেবে ইসরাইলের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের কারণে সুস্পষ্টভাবে পরাজিত হন।

    এক ঘণ্টা পর, একই ঘটনা আবার ঘটল। কয়েক মাস আগে, খুব কম লোকই বিশ্বাস করত যে, ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সোচ্চার কণ্ঠ দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার তার প্রতিদ্বন্দ্বী আদ্রিয়ানো এস্পাইলাটের মতো পাঁচবারের ক্ষমতাসীন একজনকে পরাজিত করতে পারবেন। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও তার মিত্ররা এই প্রতিযোগিতায় লাখ লাখ ডলার ঢেলেছিল, আভিলা শেভালিয়ারের ওপর অবিরাম আক্রমণ চালিয়েছিল এবং এস্পাইলাটকে জেতানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তা কাজে আসেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর অঘটনে আভিলা শেভালিয়ার এস্পাইলাটকে পরাজিত করেন। তার বিজয় সমাবেশের জনতা ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো!’ ধ্বনিতে গগনভেদী স্লোগান দিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে।

    এখন এটা স্পষ্ট যে, ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আভিলা শেভালিয়ারের স্বচ্ছ নৈতিক অবস্থান তার প্রচারণার জন্য একটি হাতিয়ার ছিল—ঠিক যেমনটা ছিল ল্যান্ডার ও ক্লেয়ার ভালদেজের জন্য।

    এক রাতের মধ্যেই কংগ্রেসের দুজন সদস্য হেরে গেলেন, যাদের দুজনেরই সবচেয়ে বড় দাতা হলো এআইপিএসি। এর একটি বড় কারণ হলো, তারা সেই সমর্থন পেয়েছিলেন শর্ত সাপেক্ষে: ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের গণহত্যা অস্বীকার করা এবং আমেরিকানরা যখন জীবনধারণের জন্য সংগ্রাম করছে, তখন ইসরাইলকে দেওয়া শত শত কোটি ডলারের পক্ষে ভোট দেওয়া। এই ঘটনা আমাদের দেশের রাজধানীতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে উভয় দলের কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য এখনো সেই একই অনুদান গ্রহণ করেন এবং সেই একই ভোট দেন। একইভাবে, এই ঘটনাটিও আলোড়ন সৃষ্টি করছে যে, ফিলিস্তিনপন্থি মেয়র মামদানি ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও দ্ব্যর্থহীনভাবে ল্যান্ডার, আভিলা শেভালিয়ার ও ভালদেজকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।

    এরপরও নিশ্চয়ই এমন কিছু মানুষ থাকবেন যারা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজেদের বোঝাবেন যে শহরগুলো এবং ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত রাজ্যগুলো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু জনমত জরিপ ভিন্ন কথা বলছে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনের মার্চ মাসের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ভোটারদের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন যে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটের ৭৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাটও একই মত পোষণ করেন। এই পরিসংখ্যানটি, এই মাসে প্রকাশিত আমাদের জরিপে নিউইয়র্ক স্টেটজুড়ে ৭০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটের মতামতের চেয়েও বেশি, যারা বলেছিলেন যে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে।

    তবে এটি কেবল জনমতের বিষয় নয় বরং ভোটারদের সংগঠিত করারও বিষয়। ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করা আজকের রাজনীতিতে অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে বেশি শক্তি জোগায়। এই পরিবর্তনটি ঘটার জন্য একটি ‘লাইভস্ট্রিম’ করা গণহত্যার প্রয়োজন হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিপীড়ন ও নৃশংসতার মাত্রা একে লাখ লাখ ভোটারের জন্য একটি রেড-লাইন ইস্যুতে পরিণত করেছে, যারা এই ধরনের ভয়াবহতায় জড়িত কাউকেই সমর্থন করবে না।

    যদিও ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব তা অস্বীকার করে যেতে পারেন, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার এই মনোভাবের কারণেই কমলা হ্যারিস ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ভোট হারিয়েছেন। একই মনোভাব বজায় রাখলে ২০২৮ সালেও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি রয়েছে। আগামীতে ভোটারদের দাবি স্পষ্ট: জাতীয়ভাবে, ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভোট দিতে ইচ্ছুক ভোটারদের মধ্যে ৭১ শতাংশ চান যে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টিকে সমর্থন করবে। সেইসঙ্গে তারা ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকেও সমর্থন করেন।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইসরাইলি সরকারের সাথে প্রকাশ্য বিরোধ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা থেকে মনে হচ্ছে যে রক্ষণশীল ভোটাররাও ইসরাইলকে সমর্থন করা থেকে সরে এসেছেন। মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ বছরের কম বয়সী ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে। এখনই কিছু বলাটা বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত যে সুযোগটি হাতছাড়া করেছেন, রিপাবলিকানরা তা গ্রহণ করে ‘ইসরাইলের প্রতি কঠোর’ দলের তকমা দাবি করবেন—এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকে আছেন, সেদিকে সরে আসা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বের জন্য কঠিন হওয়া ঠিক হবে না। ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের কাছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়া সমকামী বিবাহ নিষিদ্ধ করার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় নয়। যদি নিজেদের অবস্থান দ্রুত সংশোধন করা না হয়, তবে ডেমোক্র্যাটরা দেখতে পাবে যে সরকার গঠনের জন্য তারা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় বাধা।

    সঠিক ও নৈতিক অবস্থান রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের সাথে মিলে যাবে-রাজনীতিতে এটা সবসময় নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি অধিকার কর্মীরা, যারা কয়েক দশক ধরে এই কাজ করে আসছেন, তারা জানেন যে অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ফলেই তারা আজ এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। ডেমোক্র্যাটদের কাছে এখন সুযোগ রয়েছে তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর এবং সেই মূল্যবোধগুলোকে সমুন্নত রাখার, যেগুলোকে দলটি সবচেয়ে গভীরভাবে গুরুত্ব দেয় বলে দাবি করে। যা সঠিক এবং যা চিরকাল সঠিক ছিল, তা করে দেখানোর এখনই সময়। তা না করার আর কোনো অজুহাত বাকি নেই।

  • সাংবাদিকতায় আরো সোচ্চার থাকতে হবে: বারবারা মাসিং

    সাংবাদিকতায় আরো সোচ্চার থাকতে হবে: বারবারা মাসিং

    দুই দিনের এ আয়োজন সম্পর্কে সেখানে ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।”

    তিনি আরো বলেন, ‘‘সুসংবাদ এটাই, যে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)-এ যুগেও যে মাধ্যমগুলো তথ্য পাওয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলো তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ঠিকই টিকে আছে। বিষয়টি আমাদের শক্তিশালী একটা ভিত্তি দেয়। এতে করে বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সাংবাদিকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের সুফল পাওয়া যায়।”

    ‘‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও এআই-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতাভিত্তিক কনটেন্ট বিপুলভাবে উপকৃত হয়, যেগুলো মূলত অন্যদের তৈরি, অথচ অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমরা এসব কখনোই মেনে নিতাম না” উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘‘এ কারণে এমন টেকসই ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োজন, যা মানসম্মত সাংবাদিকতাকে সহায়তা করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, কনটেন্ট-ক্রিয়েটররা তাদের কাজের বিনিময়-অর্জনের ন্যায্য অংশ পাবেন। এভাবে আমরা গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার সেবায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংবাদিকতার দক্ষতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পারি।

    ”ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।’

    বুধবার জিএমএফ-এর দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য ভ্যালু অব জার্নালিজম’, অর্থাৎ ‘সাংবাদিকতার গুরুত্ব’ শীর্ষক সামগ্রিক গবেষণা প্রতিবেদন (মেটা-স্টাডি) প্রকাশ করে ডিডাব্লিউ অ্যাকাডেমি৷ প্রতিবেদনে স্বাধীন সাংবাদিকতা যে সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য জনমূল্য সৃষ্টি করে- এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়৷ বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলার উন্নত জনসেবা এবং দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে একশ ডলারেরও বেশি মূল্যের জনমূল্য সৃষ্টি করতে পারে। অথচ এর বিপরীতে ভুল তথ্যের কারণে সারা বিশ্বে সমাজকে প্রতি বছর ৩৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়।”

    এর আগে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের উদ্বোধনপর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন এ কারণে সাংবাদিকতাসংক্রান্ত কাজের গুরুত্ব আমাদের স্বীকার করে যেতে হবে এবং গণমাধ্যম-প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।নইলে গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে এবং সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি ভিত্তিকে আমরা দুর্বল করে ফেলবো।

    ”নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ফেডারেল, ইউরোপীয় ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নাথানায়েল লিমিনস্কি বলেন, ‘‘যারা তথ্য ও মতামতের বৈচিত্র্য আনেন, তাদের জন্য কেবল বিশ্বের অন্যান্য স্থানেই নয়, খোদ এখানে, অর্থাৎ জার্মানিসহ পুরো ইউরোপেও নিজেদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছে

    জার্মানির বন শহরের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সেন্টার, বন (ডাব্লিউসিসিবি)-এ ১৯তম গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন একশ’টিরও বেশি দেশের ১৪০০-রও বেশি মানুষ।

    দুই দিনের এ আয়োজনে সমকালীন গণমাধ্যমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক চাপ ও সেন্সরশিপের মুখে গণমাধ্যমের টিকে থাকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবের মধ্যেও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা, নির্ভরযোগ্য তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আরো নতুন দর্শককে সম্পৃক্ত করা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরো শক্তিশালী করা।

    এবারের আয়োজনে হংকংয়ের গণমাধ্যমে-উদ্যোক্তা ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিমি লাইকে ডিডাব্লিউ ফ্রিডম অফ স্পিচ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। জিমি লাই এখন কারাবন্দি৷ তাই তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার মেয়ে৷

    প্রথম আলো, দ্য হিন্দুসহ ভারত এবং বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ভারত থেকে উপস্থিত ছিলেন ভিকাটান মিডিয়া গোষ্ঠীর প্রধান শ্রীনিবাসন বালসুব্রহ্মণ্যম।

  • মিনাব স্কুলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের জন্য ইরানের আহ্বান

    মিনাব স্কুলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের জন্য ইরানের আহ্বান

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ ইরানের মিনাব স্কুলের “ভয়াবহ অপরাধ”-এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং এ নৃশংসতার সাথে জড়িত সকল অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও কমান্ডারদের পূর্ণ জবাবদিহিতার দাবি করেছেন।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের “শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত” বিষয়ক বার্ষিক সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, “জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসনের ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি, বিশেষ করে শিশুদের উপর এর প্রভাব, যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যেখানে ১২ দিনের ওই আগ্রাসনের সময় ৪৭ জন ইরানি শিশু শহীদ হয়েছে।”

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি সমাধান না করে আমরা শিশু সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারি না।

    ইরাভানি বলেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই আগ্রাসনের সময়, অন্যান্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি অসংখ্য স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৭ জন শিশুসহ ২২০ জন শিশু শহীদ হয়েছে।

    তিনি বলেন: সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধটি ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুল চলাকালীন সময়ে, যখন ২৬৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে ছিল, তখন স্কুলটিতে দুটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৮ জন ছাত্রী, তাদের শিক্ষক ও অভিভাবক শহীদ হন এবং আরও ৯৬ জনেরও বেশি আহত হন। অনেক ভুক্তভোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকটি মৃতদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    ইরভানি বলেন: “ইরান দ্ব্যর্থহীনভাবে এই জঘন্য যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানায় এবং সকল অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও কমান্ডারদের পূর্ণ জবাবদিহিতা দাবি করে।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন: “মিনাবের শিশুদের স্মৃতির জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখানে নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের সুরক্ষা বেছে বেছে হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইন অবশ্যই সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।”#

  • কুমিল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, আহত ৫

    কুমিল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, আহত ৫

    কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ইথান আহমেদ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    রাতের ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনের পর দুপুরে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ করা হলে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    ইথানের মা সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের বিরতিতে টিফিন খেতে বের হয়েছিল। এ সময় তার পিঠে গুলি লাগে। কুমিল্লা মেডিক্যালে রাখেনি, তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    সংবাদ সংগ্রহ

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার সহায়তা পাঠাচ্ছে ইউরোপের চার দেশ

    ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার সহায়তা পাঠাচ্ছে ইউরোপের চার দেশ

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার সহায়তা জোরদার করতে ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড উদ্ধারকারী দল, অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে দক্ষ ৮৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল অবিলম্বে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলে দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, ফ্রান্স ও তার অংশীদার দেশগুলো প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

    স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর জরুরি ইউনিটের ৫৪ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ দলে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী কুকুরের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বিশেষ ক্যামেরা, জিওফোনসহ আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসও একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী, অনুসন্ধানী কুকুর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য প্রায় ২০ লাখ ইউরো বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

    অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ‘সুইস রেসকিউ চেইন’-এর আওতায় ৮০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল, আটটি অনুসন্ধানী কুকুর এবং ১৮ টন উদ্ধার সরঞ্জাম যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হবে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসে আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুতায়িত হয়ে জুবায়ের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত জুবায়ের আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ফলপ্রার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে বাড়ির গ্রিল বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘নিথর অবস্থায় ওই কিশোরকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল।’

    অপর ঘটনায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২টার দিকে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। এ সময় মা‌ঠে কাজ কর‌ছি‌লেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরের সঙ্গে ট্রাম্পের তুমুল বাগবিতণ্ডা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরের সঙ্গে ট্রাম্পের তুমুল বাগবিতণ্ডা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এই বৈঠকের পরপরই যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে তার প্রশাসন।

    রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ওয়াশিংটনে এই উত্তপ্ত বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে।

    বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য জানান, সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র চেঁচামেচি ও বাগবিতণ্ডা হয়।

    ক্যাসিডি বলেন, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প যে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই চুক্তিতে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

    ক্যাসিডি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যা জানানো হচ্ছে, মার্কিন জনগণের তার চেয়ে বেশি কিছু জানা দরকার। আমাদের যা বলা হয়েছিল, যুদ্ধ যেভাবে চলার কথা, পরিস্থিতি সেভাবে চলছে বলে মনে হচ্ছে না।

    পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকান সেনেট নেতারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব আটকে দিতে গভীর রাতে ভোটাভুটির আয়োজন করেন। মে মাসে পাস হওয়া যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ওই প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ভোটে আটকে দেয় সেনেট।

    ভোটের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘এই ভোট ইরানকে সতর্ক বার্তা দিল।’ তবে এই ভোট আগের সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

    আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

    এই উত্তপ্ত বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ডলার দাবি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেটকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

    বুধবার রাতের ভোটাভুটিতে ক্যাসিডি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল ভোটদানে বিরত থাকেন।

    মেইন প্রদেশের সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার লিসা মুরকোভস্কি নামের দুই রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। মিচ ম্যাককনেল এবং মাইকেল বেনেট ভোট দেননি।

    পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ক্যাসিডি জানান, বিকেলে ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের এই দ্রুত সাড়া দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।

  • খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ৩ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ৩ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপ) তিন সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রেখুং পাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের লক্ষ্যসিপাড়া গ্রামের থোয়াইগ্য মারমার ছেলে হ্লাপ্রুসাই মারমা (৩০), গুইমারা সদর ইউনিয়নের কলাপাড়ার সুমইল্লা চাকমার ছেলে তেজেন্দ্র চাকমা (২৭) এবং মানসিপাড়ার দূর্গ মোহন ত্রিপুরার ছেলে বিশ্ব ত্রিপুরা (২৮)।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজ শেষে তারা মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি এলাকার রেখুং পাড়ায় এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছে এমন ‌গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা ক‌রে তাদের আটক করা হয়।

    এ সময় আটকদের কাছ থেকে একটি দেশী একনলা বন্দুক,‌ দুই রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশী পিস্তল, এক‌টি গুলি, এক‌টি চাকু, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, তিনটি ব্যাগ, এক জোড়া জুতা এবং ১১ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হ‌য়।

    মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ট্রলিচালকের নাম আমিনুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়-সংলগ্ন দীঘলডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত ট্রলির হেলপার সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত সাজু রহমান জানান, ট্রেন আসার কোনো শব্দ তারা পাননি এবং ইঞ্জিন থেকেও কোনো হুইসল বা হর্ন দেয়া হয়নি। এছাড়া রেললাইনের পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ায় তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে যান। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম দাবি করেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল ট্রেনের হুইসিল না দেয়া এবং রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ির কারণে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়া। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মোটরসাইকেলে রেললাইন পার হন। পরে ট্রলি চালককে হাতের ইশারায় সতর্ক করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

    সংঘর্ষের ফলে ট্রলির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ট্রলির দুটি চাকা ছিটকে পড়ে এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হেলপারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রলির কিছু অংশ ট্রেনের চাকার সাথে আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এদিকে ইটবোঝাই ট্রলির বডি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেট স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দৃশ্যমানতার অভাবের কারণে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রলির মালিকের সাথে যোগাযোগের পর নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত প্রেম (১২) নামের এক স্কুলছাত্রকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়া।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে কাঁটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া দেয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে দাবির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নাম প্রকাশে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র প্রেমসহ অন্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। যারা গুলি চালিয়েছে তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা এদের আটক করার দাবি জানাচ্ছি।
    বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে ঘটনার পরই সন্ত্রাসীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশের অভিযান চলমান আছে।