সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সরকারি খাস (হালট) জমিতে নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে, সরকারি খাস জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণকাজে বাধা, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে আনোয়ার হোসেন বাধা দেন।

    এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ওসি সজল সরকার বলেন, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ,আর

  • ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    চ্যানেল আইয়ের লাইভ টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর একটি পুরোনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। আর উপস্থাপক ছিলেন সোমা ইসলাম। তিনি শাহজাহান ওমরকে প্রশ্ন করেন, ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এবং আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে সোমা ইসলামকে এই প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

    চব্বিশের পট পরিবর্তনের আগে অনুষ্ঠিত এই টকশোতে সোমা ইসলাম তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে জানতে চান, ‘তিনি কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’

    এছাড়াও তিনি সেই সময়ের বিএনপির অবস্থাকে একটি ‘নেতৃত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, তার দৃষ্টিতে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা হতাশ এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইড করার মতো কেউ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘দলের প্রধান দেশের বাইরে অবস্থান করে ভার্চুয়াল মিটিং করছেন এবং প্রতিদিন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন, যা দলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।’এছাড়া তিনি বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কোনো দাবি উঠেছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান।

    এম আবদুল্লাহ ও জুলকারনাইন সায়েরের শেয়ার করা এই ভিডিও প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভিউ হয়েছে।

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য খাতের কাজসহ এই যে প্রতিশ্রুতিগুলো, এগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি বা ঘাটতি নেই; প্রতিনিয়ত তিনি এগুলো মনিটরিং করছেন, সবকিছু দেখছেন।

    তিনি বলেন, যার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা, এবারের বাজেটে বলা হয়েছে তাঁর কোনো আয়কর দিতে হবে না। প্রস্তাব করা হয়েছিল মুদির দোকানগুলোতে কর বসানোর; আমরাও বলেছি , ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই দোকানগুলোতে ভ্যাট বা কর বসানো যাবে না। বাজেট যখন পাস হয়েছে, তখন মুদির দোকানের ওপর যে করের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা এও দেখছি, ১২ কেজির যে গ্যাস সিলিন্ডার, সেটার মূল্য ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে, জনগণের কষ্ট লাঘব করাকে বড় করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আজকে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় সবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যার মনে যা আছে, সেই কথা বলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর এসেছে। একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে পরিবেশ পেয়েছি, সেই পরিবেশে এই কথা বলা নিশ্চিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

    সকল ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসাথে লড়াই করা ও আত্মত্যাগ করা মানুষ আমরা। এদের মধ্যে যেমন মুসলমান ছিল, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ছিল। সবাই মিলে এই জাতি ও গোষ্ঠী নির্মাণ করেছেন। অথচ বারবার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—’ওরা’ আর ‘আমরা’। এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বারবার করা হয়েছে, অথচ তারা জানত না যে এই দেশের মাটিতে এটা কখনো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, কৃত্রিমভাবে সংকট ও বিভাজন তৈরি করা যায়, কিন্তু আমাদের মনের উদারতা ও গভীরতা অনেক বেশি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসাথে লড়াই করেছে। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ভেতরের এই নিবিড় সম্পর্ককে তারা আগেও বিনষ্ট করতে পারেনি, এখনও পারেনি; যদিও নানাভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চলে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না; তার কাছে বড় ছিল ; তার পরিবার এবং দল । এর বাইরে উনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যদি অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তপন মিত্রের চাকরি কেন চলে গেল? উনার তো সচিব হওয়ার কথা ছিল, অথবা ডেপুটি সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আপনাদের চাকরি নাই, কারণ উনারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে সম্পর্কিত। বেগম খালেদা জিয়া বিজন দাদার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন—এইটাই হচ্ছে তার অপরাধ। এই কারণে সে আর বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, তপনদা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এটা শুধু আপনাদের একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে

    রিজভী বলেন, ৫ই আগস্টে একসাথে দাঁড়িয়েছি। সেদিন পিছনে বুলেটের মুখে হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকে একসাথে কাজ করে যাব। একসাথে লড়াই করব, একসাথে বিনির্মাণ করব, একসাথে সৃষ্টি করব আর প্রয়োজনে একসাথে প্রতিরোধ করব।

    এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু সহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতৃবৃদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির , ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল।বৃহস্পতিবার সকালের একটি ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সূত্রমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।১১ দলের প্রতিনিধিদলটি ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেছন সংশ্লিষ্টরা।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সঠিক পথ দেখানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা উদ্বেগজনক।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

    সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) নেত্রকোণা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে সংসদে সব দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ পেলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিত। বর্তমান সংসদের ৩৪৮ সদস্যই দেশের জনগণের প্রতিনিধি। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করছে। প্রয়োজন হলে জনগণও দেশপ্রেমের শক্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। অতীতেও বিভিন্ন স্থানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও অনুদান দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উচিত দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ব পালন করা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের কল্যাণেই সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ যুবক আনোয়ার হোসনকে (৩২) চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দ্রুত বিচার আইনে তার মামলাটি বিচারের দাবি করছি। আনোয়ার সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে। আনোয়ারকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ প্রায়। কথা বলতে পারছেন না তার মা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

  • বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি বড় ধরনের সমন্বিত হামলা প্রতিহত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

    সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল মুসা দিয়ালো।
    বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়

    এতে বলা হয়, গত ৩০ জুন সিরবা অঞ্চলের গায়েরি ও লিপতাকো অঞ্চলের সোলহান এবং সেব্বায় জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী (এফএএন) ও স্বদেশ প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর (ভিডিপি) অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিমানবাহিনীর সহায়তায় স্থলবাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা অভিযান চালায়। লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৪০০ জনের বেশি হামলাকারী নিহত হন।

    এ সময় ২৫০টির বেশি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ধরনের ৩৫৩টি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সোলহানে ও একজন গায়েরিতে নিহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করা, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে সমন্বিত হামলার ঘটনাকে বুরকিনা ফাসোর ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্রান্স সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সূত্র: আনাদোলু, টিআরটি ওয়ার্ল্ড

  • কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইএনএসপি) সবশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ১৫ মে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর কিসাঙ্গানিতেও সম্প্রতি প্রথম একজন ইবোলা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। আইএনএসপি বলেছে, ২৪ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীর মরদেহের নমুনা পরীক্ষার ফল ইবোলা পজিটিভ এসেছে।

    দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত ওই নারীর মরদেহ ইতুরি প্রদেশের নিয়া নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চল থেকে মোটরসাইকেলে করে গোপনে কিসাঙ্গানিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দার শহর এবং শোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানি।

    ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির শরীর অত্যন্ত সংক্রামক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে। ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের কারণে এই প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি হয়েছে। ইবোলার অত্যন্ত সংক্রামক এই ধরনের কোনও টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

    তবে এ বিষয়ে কিছু প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটিতে চলমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। দেশটিতে ইবোলায় মোট মৃত্যুর ৮৩ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে এই প্রদেশে। তবে ইবোলার প্রকৃত ব্যাপকতা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কঙ্গোর এই প্রদেশটির সঙ্গে উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত রয়েছে। ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি বুন্দিবুগিও প্রজাতি।

    ইবোলার প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রাণী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনও রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

    ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না; শুধু ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।

    বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না বলে অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক ইবোলা। তবে এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। ইবোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

    গড় হিসেবে ইবোলায় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই রোগে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের স্ত্রী লাভজনক একটি রেডিও স্টেশনের মালিক ছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশের বাবা যখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন, তখন বুশ নিজে একটি তেল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। আর জো বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনীয় একটি প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি থেকে অর্থ নিতেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মতো এমন উদাহরণ আগে কখনো দেখা যায়নি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার আয় করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা থেকে লাভবান হয়েছেন।

    সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় বেড়ে অন্তত ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ ক্ষমতায় ফেরার আগে ২০২৪ সালে তাঁর ন্যূনতম আয় ছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

    কর আইনজীবী ও ‘অল দ্য প্রেসিডেন্টস মানি’ বইয়ের লেখক মেগান গোরম্যান বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫০ বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সম্পদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন।

    গোরম্যান ও অন্যান্য ইতিহাসবিদ বলেন, সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজেদের করপোরেট সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে রাখতেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁরা সব সময় সচেতন থাকতেন।

    ইতিহাসবিদ লিন্ডসে এম চারভিনস্কি বলেন, ‘সরকারি পদ ছিল ঋণের উৎস, আয়ের নয়।’ তিনি মাউন্ট ভার্ননের জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নির্বাহী পরিচালক।

    ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার ঠিক তার উল্টোটা করেছেন। তাঁরা নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এসব ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত অক্টোবরে ট্রাম্প ক্রিপ্টোজগতের শীর্ষ ধনী চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমা করে দেন। ঝাও হলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা। ট্রাম্প পরিবারের নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসার অন্যতম প্রধান অংশীদার এই বাইন্যান্স।

    এ ছাড়া গত জুলাইয়ে ট্রাম্প ‘স্ট্যাবলকয়েন’ নামে একধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে উৎসাহিত করতে একটি আইনে সই করেন। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ‘স্ট্যাবলকয়েন’ বাজারে আনার মাত্র চার মাস পরই তিনি এই আইনে সই করলেন।

    মেগান গোরম্যান মনে করেন, ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক চুক্তির সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকেই নীতিটি প্রচলিত যে—দেশের নেতারা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশকেই বড় করে দেখবেন।

    হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প পরিবার বারবার প্রেসিডেন্টের আয়সংক্রান্ত সব প্রশ্ন নাকচ করে দিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে, ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ফলে এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি মে মাসের শেষে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই কাজ করেন।’ ডেল টেকনোলজিসের মতো কোম্পানিতে ট্রাম্পের পক্ষে শেয়ার কেনা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি এই মন্তব্য করেন।

    কেলি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তাঁর ব্যবসার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। এসব অভিযোগ সত্য নয় বলেই জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে আবার নির্বাচিত করেছেন।

    ট্রাম্পের নতুন আয়ের সিংহভাগই এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রাশিল্প থেকে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে, তখন তাঁর পরিবার এই খাতে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ শুরু করে।

    ট্রাম্প তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্স’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ব্যবসা থেকে প্রেসিডেন্টের ৭৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এই আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে। আমিরাত সরকার ওই কোম্পানির শেয়ার কিনেছে।

    ট্রাম্পের অভিষেকের তিন দিন আগে তিনি ‘$TRUMP’ নামে একটি মিমকয়েন চালুর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। এটি এক বিশেষ ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন। প্রকাশিত তথ্যমতে, এই ব্যবসা থেকে তিনি নতুন করে আরও ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এই আয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালে সারা বিশ্বে তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সব ব্যবসার মোট আয়ের চেয়েও সামান্য বেশি।

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের টোকেনগুলো আর কমিশনের নজরদারির আওতায় থাকবে না। বাইডেন প্রশাসনের সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান যে অবস্থান নিয়েছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ছিল তার ঠিক উল্টো। এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের মিমকয়েন ব্যবসা সরাসরি লাভবান হয়।

    সৌদি আরবের এক আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট চুক্তি থেকেও ট্রাম্প ও তাঁর ছেলেরা কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন। এই চুক্তির সঙ্গে সৌদি সরকারও জড়িত। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও রোমানিয়াতেও তাঁদের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে।মার্কিন ডলার

    তবে ট্রাম্পের এই আয়ের হিসাবে তাঁর ছেলেদের কিছু ব্যবসার মুনাফা ধরা হয়নি। তাঁর ছেলেরা সম্প্রতি সামরিক ঠিকাদারি ও ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া খনিজ সম্পদ উত্তোলনের খনি তৈরির জন্য তাঁরা কোটি কোটি ডলারের সরকারি সহায়তারও চেষ্টা করছেন। এসব খাত থেকে ট্রাম্প সরাসরি টাকা না পেলেও তাঁর পরিবার বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জন করছে।

    ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনে আসেন, তখন তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন—এমন অভিযোগ এড়াতেই এই চুক্তি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদের সফর এবং ট্রাম্পের হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় লবিস্টদের খরচ করা নিয়ে এসব বিতর্ক তৈরি হয়।

    দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প পরিবার মুনাফা অর্জনের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক রাখছে না। তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এরিক ট্রাম্প দাবি করেন, ‘প্রথম মেয়াদে কোনো ধরনের অনৈতিকতা এড়াতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্সির কারণে তাঁর বাবাকে বিশাল অঙ্কের সম্পদ হারাতে হয়েছে।

    এরিক আরও যোগ করেন, ‘আমরা চিরকাল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না, আর আমি তা করবও না।’

    ট্রাম্পের ছেলেরাই মূলত ব্যবসা পরিচালনা করেন। ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। আইনিভাবে তাঁরাই সেসব ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ব্যবসার আয় সংগ্রহ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এসব ট্রাস্টের সুবিধাভোগী। ফলে এই ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো থেকে পরোক্ষভাবে তিনিই লাভবান হচ্ছেন।

    বিপরীতে আধুনিক সময়ের অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্টই তাঁদের মালিকানাধীন ব্যবসা বা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জর্জ ডব্লিউ বুশ নির্বাচনের আগেই টেক্সাস রেঞ্জার্স বেসবল দলের শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। অন্যদিকে জিমি কার্টার তাঁর চীনাবাদাম খামারের দায়িত্ব একজন স্বতন্ত্র ট্রাস্টির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কোনো প্রেসিডেন্টের নজির নেই। হোয়াইট হাউসে যাওয়ার ঠিক আগে নতুন ব্যবসায় নামা এবং মেয়াদে থাকাকালে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদাহরণ আগে আর দেখা যায়নি। বরং ইতিহাসবিদেরা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিভিন্ন চেষ্টার উদাহরণ দিয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন জি হার্ডিং ক্ষমতায় থাকাকালে ওহাইওর একটি সংবাদপত্রের মালিক ছিলেন। এটি প্রায় চার দশক ধরে তাঁদের পারিবারিক মালিকানায় ছিল। তবে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ১৯২৩ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি পত্রিকাটি বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন।

    এলবিজে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও ইতিহাসবিদ মার্ক কে আপডেগ্রোভ বলেন, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর যখন জনসন হোয়াইট হাউসে আসেন, তখন তাঁর স্ত্রী লেডি বার্ড জনসন নিজেদের রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশনগুলো একটি ট্রাস্টের হাতে ছেড়ে দেন। বাইরের একজন আইনজীবী ও স্টেশন নির্বাহী সেই ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল হিস্ট্রির পরিচালক জেফরি এ অ্যাঙ্গেল বলেন, ‘প্রেসিডেন্টরা সব সময় তাঁদের সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিষয় থেকে দূরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। তাঁরা মনে করেন, তাঁরা এত বেশি ব্যবসা করবেন যে মানুষ বিষয়টিকে আর অস্বাভাবিক ভাববে না।’

    প্রেসিডেন্টদের সন্তান বা ভাইবোনেরা যখন ব্যবসায়িক চুক্তি করেছেন, তখন তা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। গত বছর ট্রাম্প সরাসরি যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, সেই তুলনায় আগের প্রেসিডেন্টদের স্বজনদের ব্যবসা ছিল খুবই ছোট। তা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমে এসব নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হয়েছিল।

    উদাহরণ হিসেবে জিমি কার্টারের ভাইয়ের প্রবর্তিত ‘বিলি বিয়ার’ ব্র্যান্ডের কথা বলা যায়। এ ছাড়া ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের ছেলে জেমস রুজভেল্টের নামও আসে। জেমস একটি বিমা কোম্পানির আংশিক মালিক ছিলেন। তাঁর কোম্পানি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছে বিমা পলিসি বিক্রি করত। অথচ তখন তিনি তাঁর বাবার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    দ্য স্যাটারডে ইভিনিং পোস্ট এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জেমস রুজভেল্টের বিমা ব্যবসা নিয়ে বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এটি ‘জিমিস গট ইট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ছেলেকে তাঁর সরকারি পদ ছাড়তে হয়েছিল।

    ইতিহাসবিদেরা বলছেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বর্তমান কর্মকাণ্ড এই ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। স্বার্থের সংঘাত নিয়ে আগে যেমন সতর্কতা দেখা যেত, এখন তা আর নেই।

    এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হলো জ্যারেড কুশনার। তিনি তাঁর শ্বশুর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সার্বভৌম তহবিল থেকে কয়েক শ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

    ইতিহাসবিদ আপডেগ্রোভ বলেন, তাঁরা যা করছেন তা অত্যন্ত খোলামেলা এবং বেপরোয়া। প্রায় গর্বের সঙ্গেই তাঁরা সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন। এটাই বর্তমান পরিস্থিতিকে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও নাটকীয় করে তুলেছে।

  • রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে নাতি।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র (৪০) ও ১০ বছর বয়সী নাতি বন্ধনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেতগাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন উপজেলার চেংমারি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র (৬০)। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে একটি ট্রাকে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মল চন্দ্র ও প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

    এ ঘটনায় ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।

    এদিকে, এ ঘটনায় চেংমারি গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বইছে। স্বজনহারাদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হবে।’

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘প্রজনন গণহত্যা’ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস, নারী ও শিশুদের হত্যা এবং পরিবেশকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার পরিণতিতে দেখা দিচ্ছে বন্ধ্যত্ব। নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ‘ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ’-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলি নিধনযজ্ঞ শুরু হলে এই চর্চা আরও ত্বরান্বিত হয়। ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভব করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    গত সপ্তাহে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল বিষয়ক জাতিসংঘের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গাজায় হামলার প্রধান অংশ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

    জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর হওয়া ক্ষতির পুরো চিত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্নাইপার ও ড্রোনের মাধ্যমে নিখুঁত গুলি, আটক অবস্থায় নির্যাতন, প্রজননগত সহিংসতা এবং স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংসের মতো বিষয়গুলো।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ৫ হাজার ১৬০ জন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে।

    জাতিসংঘের নথিবদ্ধ করা একটি ঘটনায় দেখা যায়, আল-নাসর শিশু হাসপাতালে ইসরাইলি বাহিনী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে বিকল হয়ে যাওয়া লাইফ সাপোর্ট মেশিনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় তাদের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

    গণহত্যার শুরুতে জাতিসংঘের হিসাবে গাজায় ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার ৫০০ শিশু জন্ম নিচ্ছিল। অনেকেরই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল, যা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কারণে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

    সে সময় গর্ভপাতের হার ৩০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। ব্যাপক অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং প্রসবপূর্ব প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অকাল জন্ম, কম ওজনের শিশু এবং প্রসবের সময় মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ‘একটি শিকারি রাষ্ট্র’

    প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় প্রস্তুত করা ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘এ প্রিডেটরি স্টেট: ইসরাইলি সিস্টেমিক সেক্সুয়ালাইজড অ্যান্ড জেন্ডারড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট প্যালেস্টাইনস’ (একটি শিকারি রাষ্ট্র: ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা)। এতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল গাজায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটারি প্যাড ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক ফিলিস্তিনি নারী ‘মাসিক বন্ধ করতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ঘরে তৈরি প্যাড ব্যবহার করতে বাধ্য হন’।

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ইসরাইলের প্রকাশ করা গোপন নথি, ফিলিস্তিনিদের মৌখিক ইতিহাস, একাডেমিক গবেষণা, প্রামাণ্য দলিল, গণমাধ্যমের খবর, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নথি এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও বিবৃতি যুক্ত করা হয়েছে।

    গাজার বোমা বিধ্বস্ত হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অ্যানেসথেসিয়া বা জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম নেই। ফলে ফিলিস্তিনি নারীরা ভিড়ভাট্টাপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি বা ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রাস্তায় সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

    গাজায় কাজ করা আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা অ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজারিয়ানসহ নানা অস্ত্রোপচার করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সদ্য মা হওয়া নারীরা ডায়াপার, খাবার, পানি ও শিশুর গুঁড়ো দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাচ্ছেন না, যা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় খুব সাধারণ বিষয়।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজার ওপর ইসরাইলের এই হামলা আংশিকভাবে ‘প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অন্যান্য দৈনন্দিন অবকাঠামোর পদ্ধতিগত ধ্বংসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, অসম্ভব করে তুলেছে।’

    ইসরাইল গাজার প্রসূতি ওয়ার্ড ও আইভিএফ ক্লিনিকগুলো ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সাদা ফসফরাস এবং অন্যান্য বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহার ‘প্রজননক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বংশানুক্রমিক প্রভাব ফেলবে’।

    হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মা বিধবা বা রাজবন্দিদের স্ত্রী হিসেবে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও রক্ষাকর্তা হিসেবে বেঁচে আছেন। অন্যদিকে পদ্ধতিগত উচ্ছেদ ও কারাবাসের কারণে আরও হাজার হাজার নারী তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাপক অনাহার, বাস্তুচ্যুতি এবং রোগের প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও গাজার ফিলিস্তিনি মায়েদের ওপর নতুন জীবনের জন্ম দেওয়া এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়ার মতো অসম্ভব দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ গাজার দুই নারী রানিয়া আবু আনজা এবং জোমানা আরাফার ঘটনা বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

    আবু আনজা ১০ বছর ধরে আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে নাঈম ও উইসাম নামে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে এক ইসরাইলি বিমান হামলায় স্বামীসহ তার ওই দুই শিশু প্রাণ হারায়।

    জোমানা আরাফা যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার দুদিনের মাথায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ঘোষিত ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চলে’ আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় তার দুই শিশু এবং নিজ মাসহ নিহত হন। তার স্বামী নবজাতকদের জন্মনিবন্ধন আনতে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

    প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ বা বিশাল ঘটনার সামান্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ওপর গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। প্রসূতি ওয়ার্ড, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা কেন্দ্র, ফার্টিলিটি ক্লিনিক এবং নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

    গাজার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেখানে ইসরাইলের কঠোর খাদ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

    ফিলিস্তিনিদের বংশবৃদ্ধি নিয়ে ইসরাইলের ঐতিহাসিক ভয়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালে ইসরায়েলি ভূগোলবিদ আরনন সোফার সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল সবচেয়ে বড় যে হুমকির সম্মুখীন, তা হলো আরব নারীদের গর্ভ।’ তিনি দাবি করেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্মহার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

    ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৯-১৯৭৪) গোল্ডা মেয়ার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘আরও একটি ফিলিস্তিনি শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে’—এই ভাবনা থেকেই তার দুঃস্বপ্ন শুরু হতো।

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভের এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, ‘এটি এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা ফিলিস্তিনিদের জীবন—দেহ, বসতবাড়ি, পরিবার, প্রজননগত অস্তিত্ব এবং এমনকি মৃতদেরও নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো—যার মধ্যে এই প্রতিবেদনে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও অন্তর্ভুক্ত—কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো নির্যাতনের সমষ্টি নয়; বরং এটি আধিপত্য বিস্তার, নিপীড়ন এবং নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা।’

  • কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রিপন কাজী (২৫) নামে এক মুদি দোকানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকায় সড়কের পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম কাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয়রা রিপনকে তার দোকানের সামনে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তিন হাজার ৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রায়হানুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে জনপ্রতি পাঁচ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেয়া হয়।

    এছাড়া এক হাজার ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, ১০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও ৯০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের বীজ দেয়া হয়। এসব কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে এমওপি ও ১৫ কেজি করে ডিএপি সারও প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান। এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই আমার বাবা-মা আমাদের মানুষ করেছেন। কৃষির সাথে আমাদের সবার জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সময়োপযোগী বীজ ও সারের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষির সার্বিক অবস্থা, চলমান কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি।

    বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো: আজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে, গত সোমবার দুপুরে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় নথিভুক্ত করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে সারারাত বেঁধে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

    এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রসেনজিত আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা দাবি করেন, আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন। ‘চোর, চোর’ বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা তিনি জানেন না।

    তার দাবি, প্রসেনজিতই আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।

    অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার চাই।’

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা, ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    এছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো: সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।

    রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো: আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম খান।

    আদালত সূত্র জানায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল হকের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা গোপন রাখতে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।

    আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় আকাশের লাশ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

    ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) লাশ দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ একদল পুলিশ সদস্য।

    মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ২ মে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছিল।

    পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আজ তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু বলেন, সাদ্দাম হোসেন একজন উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    লাশ উত্তোলনের বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আজ কবর থেকে সাদ্দাম হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    দিনাজপুরের হিলিতে সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলি উপজেলার সাতকুড়ি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হিলির সাতকুড়ি এলাকায় বেশ কিছু চোরাই মাল বস্তায় ভর্তি করে কে বা কারা রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বস্তাগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় সেখানে মালামালের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো মালিক না পাওয়ায় মালামালগুলো মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করতে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। মালিক না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, উদ্ধার পণ্যের মাধ্যে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো বস্তা ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

  • পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে, এমন খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার ফোরডো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট, নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি এবং ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশ বা পরিদর্শনের কোনো অধিকার নেই।

    তিনি জানান, বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার কেবল দুটি স্থাপনায় সীমাবদ্ধ, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেহরান গবেষণা চুল্লি।

    গালিবাফ আরও বলেন, এসব স্থাপনায় আইএইএ-র প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে একটি আইন পাস করেছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও এ বিষয়ে একটি সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

    এর আগে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছিলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আওতায় সংস্থাটির পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির তারা সেখানে যেতে পারবেন।

  • নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  • হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোরভাবে দেবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আগ্রাসী আমেরিকার খেলার মাঠ নয়; এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্বের অংশ।

    সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি রেড লাইন।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেল আবিবে থাকা পোষ্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।

    আরাগচির এক্স পোস্টটি ছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া। কাটজ দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

  • রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মুরগিবাহী একটি পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জোহান (৩৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রযেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক জোহানের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার্ড করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার পর তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ পাশেই পানিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দু’জন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

    পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের আগে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নিতে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের বরাতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা আগ্রাসন হলে সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

    সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জান জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। পরে কুম ও ইরাকে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত। প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জানাজায় ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। একইসঙ্গে এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার শক্ত ভিত্তিকেও প্রতিফলিত করে।’ খবর আল জাজিরার।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৪ জুলাই তেহরানে আলী খামেনির দাফন ও জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

    এরা আগে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আলি খামেনির বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

    ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির দাফন ও জানাজা আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

  • ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    ছারছীনার পীর হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনার পাথরঘাটার সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত উপজেলার কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে দুই শতাধিক অসহায় ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন পাথরঘাটা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: বেল্লাল হোসেন জুয়েল।

    কালমেঘা খানকায়ে ছালেহীয়া দিনিয়া কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ছারছীনার মরহুম পীরসাহেব হযরত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ রহ.-এর জীবন ছিল মানবকল্যাণ, দ্বীনি খেদমত ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ ও কর্মধারাকে অনুসরণ করেই আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

    এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, খানকাহর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জোহরের নামাজের পর ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীরসহ এলাকার মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা সেতুর পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে বৌদ্ধ ধর্মীয় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সন্ন্যাসীদের ওপর ১১ বছর বয়সী এক শিশুর চালানো একটি পিকআপ ট্রাক উঠে গেলে অন্তত আটজন সন্ন্যাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি।

    বৃহস্পতিবার পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ৩৫ জন সন্ন্যাসী এবং পাঁচজন সাধারণ অনুসারী ধর্মীয় তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে সড়কের পাশে হেঁটে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সন্ন্যাসী ফ্রা সোমপং জানান, তিনি একটি পিকআপ ট্রাককে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেছিলেন। তখন তিনি ‘বুদ্ধো, বুদ্ধো’ মন্ত্র জপ করছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে শোভাযাত্রার ওপর উঠে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি ও আরেকজন সন্ন্যাসী সময়মতো লাফ দিয়ে সরে যেতে পেরেছিলাম। তবে সামনের কয়েকজন বেঁচে গেলেও পেছনের অনেককে ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয় এবং তারা ছিটকে পড়ে।’

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন সন্ন্যাসীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পিকআপটি চালাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী এক শিশু, যে তার বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

    সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। রিয়াদ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল না হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব খুবই সীমিত।

    যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।

    বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।

    যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি- কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় ঘোলদাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে বাজারের চালের আড়ত, মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, সার ও বীজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: শুকুর আলীর ‘মিষ্টি বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটছে। খবর আরব নিউজের।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

    গাজায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত, যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরাইলি বাহিনী এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু ইসরাইল সরকার তা আরও বাড়িয়েছে এবং বলেছে যে তারা ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

    খুব কম লোকই সেখানে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের বিশাল কাজসহ যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো থমকে গেছে।

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স এই সপ্তাহে বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনের সামান্য আভাস ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেই অবস্থার এখনও অনেক দূরে।

    অন্যদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  • ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। শিল্প খাতের দুইটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাশিয়াজুড়েই জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। কোথাও রেশনিং চালু হয়েছে, কোথাও আবার পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পেট্রোলের দামও রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
    ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রহণযোগ্য দামে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে রাশিয়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ভারতের তেল মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
    শিল্প খাতের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে ভারত থেকে রওনা হয়েছে।

    তৃতীয় একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি মাসে মোট চার লাখ টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী বেলারুশও রয়েছে, যেখান থেকে ইতোমধ্যে রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
    গ্রীষ্মকালে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ায় প্রতিদিন অন্তত এক লাখ ১০ হাজার টন পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। ভারতের কোন তেল শোধনাগার রাশিয়ায় এই পেট্রোল সরবরাহ করছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত রোববার সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

    এদিকে রয়টার্সের হিসাব ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথমার্ধে বেলারুশ থেকে রেলপথে রাশিয়ায় পেট্রোল সরবরাহ ৭০ হাজার টনের বেশি হয়েছে, যা মে মাসের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্ট কর আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ইউক্রেনের হামলার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকিও দেয়া হবে। এই ভর্তুকির হিসাব নির্ধারণে ভারত থেকে সরবরাহের খরচ ও মূল্যকে ভিত্তি ধরা হবে।

  • আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফের ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছে ইহুদি সেটেলাররা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
    খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি পুলিশের তত্ত্বাবধানে ইহুদিরা আল-আকসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে। ফিলিস্তিনের সরকারি ওয়াফা নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইহুদি সেটেলাররা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে এবং তালমুদীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বুধবার কয়েক ডজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী কম্পাউন্ডের প্রাঙ্গণে উস্কানিমূলক পদযাত্রা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।
    আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে ইহুদিরা এই এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট বলে। তাদের দাবি, এটি দুটি প্রাচীন ইহুদি টেম্পলের স্থান ছিল।

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    পানছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩ বিজিবি)।

    বুধবার দুপুরে লোগাং জোনের জোন কমান্ডার মো: রবিউল ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লোগাং জোনের দায়িত্বপূর্ণ বিওপি, ক্যাম্প ও এলাকায় মোট আড়াই লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি চারা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল মতিন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সুবেদার মেজর নাজমুলসহ সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

    নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের মো: মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, বাবা ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিপন কাজী দুই বছর আগে বাবাকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে বাবা ভুট্টো কাজী গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও প্রতিশোধের নেশা কাটেনি বাবা ভুট্টো কাজীর। এরপর বাবা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই নিহত ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী ও চাচাত ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিফাত কাজীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে ছেলে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাত ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবা মিজানুর কাজী, তার ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

    এ সময় রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ রিপন কাজী ও তার আরেক চাচাত ভাই রাজিব কাজী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা রিপন কাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সাথে থাকা রাজিব কাজী।

    স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজিব কাজী গুরুতর আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে পালানোর সময় আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের ওই থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান ওসি মো: মনিরুজ্জামান।

    এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মা আমেনা বেগম মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা মিজানুর কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপর দিকে আমার চাচাত ভাই ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরিরত সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাত ভাই রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই।

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দু’জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দু’জন পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল নিহত রিপন কাজীর বাবা মিজানুর কাজীর। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

    অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

    তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

    তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

    পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

    গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

  • কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মো: ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে।

    বুধবার (১ জুলাই) গ্রেফতার ডালিম মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানসহ তাকে আটক করা হয়।

    কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে পুলিশ পিকআপ ভ্যানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

    এরপর পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং মো: ডালিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তার সাথে মাদক কারবারে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করা হচ্ছে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    ডস্কে,

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় মানসুরা (২৫) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মানসুরা মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সেলিম মাদবরের মেয়ে। তিনি ফতুল্লার ভুঁইগড়ের মাহমুদপুর এলাকায় স্বামী ইমন ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী পেশায় একজন চায়ের দোকানদার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানসুরা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    রোগাক্রান্ত ফেরিওয়ালা রশিদের আকুতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ছোট শিশুদের বই কাঁধে করে কখনো ট্রেনে, কখনো বাজারে, কখনো লঞ্চে, কখনো-বা রাস্তায় চলতে চলতে বয়সের ভার আর নানা রোগের বাসা বেঁধেছে শরীরে। বেঁচে থাকার তাগিদে এভাবেই ৪৮ বছর পার করেছেন আব্দুর রশিদ প্রামাণিক।

    এক সময়‌ যৌবন, শক্তি-সামর্থ্য, স্ত্রী-সন্তান, বাড়ি-ঘর সব ছিল। এখন কিছু নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ। ওষুধ কেনার পয়সা জোটে না। পরনে ময়লা লুঙ্গি আর শার্ট।

    সারাদিন ট্রেনে বা রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে বই বিক্রি করে। পুঁজি বাদে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। না খেয়েই পড়ে থাকতে হয় যত্রতত্র।

    কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে ক্লান্ত অসুস্থ দেহ, হাতের বাম পাশে একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর কয়েকটি বই নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন ভিটে-মাটি, স্ত্রী-সন্তানহারা রশিদ। চোখে পড়তেই তার কাছে ছুটে গিয়ে সালাম দিয়ে তার জীবনের গল্প জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। কথাই বলতে পারছেন না তিনি। এক পর্যায়ে ডুকরে কেঁদে উঠে শুরু করেন অনেক কথা!

    আব্দুর রশিদ প্রামাণিক বলেন, ‘আমার জীবনে সাজানো সংসার ছিল। দারিদ্র্যতার কারণে পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। সংসারের হাল ধরতে আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে শিশুদের বই ক্রয় করে ট্রেনে, হাটে বাজারে, স্টেশনে, পথে ঘাটে, লঞ্চে বিক্রি করে যা আয় করতাম বেশ ভালো চলে যেত। কিন্তু দিন যত যায় ততই কষ্ট আর দুঃখ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। দশ বছর হলো স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এক ছেলে এক মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারাও দুর্দিনে একটা পয়সা দিয়ে সহায়তা করে না। বসবাস করার মতো ঘর নেই। তিন মাস থেকে থাকি কাঁকনহাটের বাজারে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে থাকতাম রাজশাহীতে। মানুষের দেয়া টাকায় কয়েকটি বই কিনে বিক্রি করি। বই বিক্রি করে সারা দিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা আয় হয়। এতেই খেয়ে না খেয়ে চলে যায়। রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছি। ওষুধ কেনার টাকা জুটাতে পারি না।’

    যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার চাইলে তিনি জানান তার ফোন নেই।

    বই বিক্রি ছাড়া অন্য পেশায় কেনো যাননি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের খুব ভালোবাসি। তারা ছোট থেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বই পড়ে বেড়ে উঠবে এমন আনন্দ থেকে এবং ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার আলো দেখাতেই আমি এ পেশায় এসেছিলাম। এখন দেখি শিশুদের জন্য অনেক আধুনিক মানের বই বের হওয়াতে আগের মতো আর বই কেউ নিতে চায় না। সব মিলিয়ে আমি এখন জীবন্ত লাশ হয়ে গেছি। আমাকে দেখার মতো পৃথিবীতে কেউ নেই।’

  • গ্রেপ্তার শ্যালক-দুলাভাই

    গ্রেপ্তার শ্যালক-দুলাভাই

    রামমন্দিরে ‘রামচুরি’, তদন্তে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অযোধ্যা পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত কুম্ভ মেলার সময়ই রামমন্দিরে

    পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজন কুম্ভ মেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে কুম্ভ মেলার সময় মন্দিরে ভক্তদের দান ও অনুদানের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা যোগসাজশ করে বড় পরিসরে অর্থ আত্মসাৎ করে।

    এখন পর্যন্ত এসআইটি আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

    ভারতীয় সংবাদবাদ এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ষড়যন্ত্রে আটজনই জড়িত ছিলেন।
    তদন্তে জানা গেছে, দুলাভাই-শ্যালক জুটি লাভ কুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পুলিশের দাবি, চুরি করা অর্থ দিয়ে তারা একাধিক সম্পত্তিও কিনেছে। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্ধডজনেরও বেশি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

    অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তদন্তে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের (এসবিআই) কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও সন্দেহের মধ্যে এসেছে। অর্থের উৎস, লেনদেন ও অর্থ পাচারের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছেও তদন্তের আবেদন জানাবে অযোধ্যা পুলিশ।

    দান গণনার দায়িত্বে ছিল ব্যাংক
    রাম মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার অনুমোদিত সংস্থা হলো ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (এসবিআই)। ব্যাংকটি এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ দিয়েছে

    ।মন্দিরের চারটি দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ১৪ সদস্যের একটি দল গণনা করে। তাদের মধ্যে ১১ জন ব্যাংকের কর্মী এবং তিনজন মন্দির ট্রাস্টের প্রতিনিধি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কৌশলপুরী এলাকার একটি আস্তানা থেকে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই জায়গাটি অবিনাশের ভাই অভিষেক শুক্লার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সীমা তিওয়ারি জানান, গত ৫ জুন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করে।

    তিনি বলেন, অভিষেকের চারটি বাক্স ওই যোগকেন্দ্রে রাখা ছিল। বাক্সগুলোর ভেতরে কম্বলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নগদ অর্থ। একটি বাক্সের গায়ে ‘রাম রাজ্য কোষ’ লেখা ছিল।
    সীমা তিওয়ারির দাবি, অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিষেক তাকে বলেন, তার ভাই অবিনাশ শুক্লা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

    অভিযুক্তদের বাড়ি থেকেও উদ্ধার নগদ অর্থ

    তিন দিন আগে তদন্তের অংশ হিসেবে অযোধ্যা পুলিশ সব অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় টিন্নু যাদবের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

    টিন্নু যাদব একসময় রাম মন্দির ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের গাড়িচালক ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দান গণনার কক্ষের একটি চাবি টিন্নু যাদবের কাছে ছিল, আর অন্যটি ছিল ব্যাংকের কর্মীদের কাছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই দানের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। পরে চুরি করা অর্থ টিন্নু যাদব ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হতো।
    পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নথিও জব্দ করেছে।

    তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি অর্থের লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় এমন সব লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ তাদের পরিচিত আয় বা বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮৯ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অর্থ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ এফআইআর দায়েরের আগেই নিজস্ব উদ্যোগে উদ্ধার করেছিল।

  • নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

    নিহত বৃদ্ধ শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মরহুম জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে অর্ধগলিত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহতের চাচাত ভাই মো: আয়নাল মোল্লা (৪৩) জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে রয়েছে।

    নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।

    নিখোঁজরা হলেন উপজেলার চাডোল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    নিখোঁজের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফিরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

    একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা জিডির ভিত্তিতে চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

  • সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    নাটোরের সিংড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় এই সহায়তা বিতরণের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

    এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম বুলবুল, সিংড়া ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি ও তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বিএনপি নেতা খাইরুজ্জামান ছিটু প্রমুখ।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ৫৮ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

  • তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

    একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরো অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

  • সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

    এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মনজু, সরকার হাসেমুজ্জামান প্রমুখ।

    দুস্থ, গরিব ও অসহায় কয়েকশ’ মানুষের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

  • ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে চন্দন ভগত (৫৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    পরিবারের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত চন্দন ভগত (৫৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা বন্দর (মুড়িহাট) এলাকার পরলোকগত বৈদ্যনাথ (দেবনাথ) ভগতের ছেলে।

    পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের কোনো এক সময় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন চন্দন ভগত।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহতের স্ত্রী নুপুর রবি দাস জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির ঋণ পরিশোধ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তার স্বামী। মঙ্গলবার কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে এলে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি সারাদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাতে পরিবারের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রাও জানান, ঋণের কিস্তি নিয়ে চন্দন ভগতকে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা যেত। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ।

    ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের চাপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজা গাছ জব্দ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগান থেকে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুরের মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মোল্লাপাড়া এলাকার মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু তার সুপারি বাগানে গোপনে গাঁজা গাছ রোপণ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। মঞ্জুর দু’টি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দু’টি ও দুই ফুট উচ্চতার দু’টি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এ সময় মঞ্জু এলাকায় না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু একজন মাদকসেবী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ভূরুঙ্গামারী ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে প্রচুর সুপারি বাগান তৈরি হয়েছে। মাদক কারবারিরা এসব বাগানে গাঁজা চাষ করা শুরু করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • রাশিয়ান সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন

    রাশিয়ান সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন

    রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। গত বছর চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনেই এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এ প্রশিক্ষণে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা।

    রয়টার্সের হাতে আসা নথিতেও এ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধসংশ্লিষ্ট এই প্রশিক্ষণে এত উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বই তুলে ধরে। বিষয়টি ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যদিও বেইজিং এমন কোনো প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের দেখা একটি গোপন রুশ নথিতে ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভ জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে, বেলৌসভের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনে গিয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।
    তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি অংশ ছিল বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু (আরবিসি) প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ। রয়টার্সের দেখা দুটি প্রতিবেদনে এমন ছবিও রয়েছে, যেখানে চীনা একজন প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের পাঠ দিচ্ছেন। সেখানে তাদের একটি পারমাণবিক চুল্লির মডেল পর্যবেক্ষণ করতে এবং রাসায়নিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ ও দূষণ থেকে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষার কৌশল শেখানো হচ্ছে।

    ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একজন বলেন- তেজস্ক্রিয়, জীবাণু ও রাসায়নিক যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, বিশ্বের সামরিক বাহিনীগুলোর কাছে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান সব সময় একই রয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, ইউক্রেন যুদ্ধে তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়। গত মাসে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের কয়েকজন পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় ক্রেমলিন ওই প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তোলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ১৫ জুন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের উৎসের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে এই প্রশিক্ষণ হয়েছে। এখন এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চীন তার এ মন্তব্যকে নিরেট অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করে।
    চীনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ভাবনা
    ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে তাদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সময়ে মস্কো ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ইউরোপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই সামরিক প্রশিক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের বিরুদ্ধে আরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন কি না। কারণ, এতদিন বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ব্রাসেলসের আরেক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত চীনকে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা বন্ধ করা। বরং কাজা কালাস যে ভাষায় বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধের নির্ণায়ক সহায়ক হিসেবে চীনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


    সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে ২রা জুলাই স্বাক্ষরিত চুক্তিতে রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তাম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দাইউন স্বাক্ষর করেছিলেন। অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই কার্তাপোলভ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে বলেন, এই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ অর্থহীন। তার দাবি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর চীনের কাছ থেকে শেখার মতো কিছুই নে

  • ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ফেনীর দাগনভূঞায় দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী আবুল মনছুর আহাদ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছরের কষ্টার্জিত দুই কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা তার মেজো ভাই আত্মসাৎ করেছেন।

    বুধবার ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

    মনছুর আহাদ উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের বাসিন্দা খায়েজ আহমদের ছেলে।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে উপার্জিত সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। তার মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। দেশে ফিরে তার জন্য ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য হাইস গাড়ি কিনে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দেখেন তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা টাকার হিসাব দেয়া হয়নি। বারবার হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

    আবুল মনছুর আহাদের দাবি, তিনি তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এনএ কনস্ট্রাকশনের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকাসহ মোট ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা পাঠিয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, দেশে ফেরার আগে তার হাতে লেখা টাকার হিসাবের একটি চিরকুট ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে রেখে আসেন। দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেয়া হয়নি। বরং পাওনা টাকা ও হিসাব চাইতে গেলে তাকে পৈত্রিক বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।

    আবুল মনছুর আহাদ বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অর্থহীন, অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবুল মনছুর আহাদ বলেন, ‘প্রবাসে জীবনের সোনালী সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।’

  • দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জঙ্গল মুকুন্দপুর গ্রামের মরহুম মজলিশ শেখের ছেলে মো: সোহানুল ইসলাম, একই জেলার কোটালীপাড়ার মুসুরিয়া গ্রামের মরহুম মহানন্দ বালার ছেলে বরুন বালা, ভোলা সদরের রাজাপুর (পশ্চিম ইলিশা) এলাকার মরহুম আব্দুল গনির ছেলে মো: খলিল এবং রংপুরের মিঠাপুকুর থানার মুরাদপুর গ্রামের মো: আবুল কালামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজের তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে কয়েকজন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে— এমন সংবাদ পায় ডিবি পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ওই কক্ষ থেকে চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৫৫২৩ নম্বরের একটি নিসান ডাবল কেবিন ক্যারি বয় পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ,আর