সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা আর নেই। হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২২ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত জুয়েল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে জুয়েল রানার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাতে নতুন কনেকে সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে বাড়ি পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা আর দেরি না করে তাকে তাৎক্ষণিক ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করেন।

    সাবেক ছাত্রনেতা আনারুল ইসলাম জানান, ‘কী দুর্ভাগ্য! ১৯ তারিখ রাতে বিয়ে করে আসে। ওই রাতেই আসার পর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। আজ সকাল আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।’

    রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক এই শীর্ষ নেতার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহযোদ্ধা ও পরিচিতরা শোক প্রকাশ করছেন।

  • কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লা নগরীতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে ড্রেনে পড়ে স্মৃতি (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু স্মৃতি কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে শিশুটির নানার বাড়ি। সেখানে তার মামার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান শেষে মায়ের সাথে বাসায় ফিরছিল স্মৃতি। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা না পেয়ে তারা হেঁটেই রওয়ানা দেন। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়।

    এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর কিছুটা সামনে ড্রেনের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা স্ল্যাব পানির নিচে ঢেকে যায়। ফলে পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

    নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় স্ল্যাব ভাঙা কিংবা ফাঁকা থাকায় এসব ড্রেন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনগুলো সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নগরীর অরক্ষিত সবগুলো স্ল্যাব ঢেকে দেয়া হবে। শিশুটির পরিবারের সাথে দেখা করে সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

    কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা।

  • উলিপুরে ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘ফুল’ শিক্ষাবৃত্তি

    উলিপুরে ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘ফুল’ শিক্ষাবৃত্তি

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ‘ফুল শিক্ষাবৃত্তি-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও এককালীন বৃত্তির অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ।

    আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিনটি মাধ্যমিক ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৮ জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

    ‘ফাইট আনটিল লাইট (ফুল)’ সংগঠনের পরিচালক আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উলিপুর-কুড়িগ্রাম অ্যাকাডেমি রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার এবং উলিপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু যোবায়ের আল মুকুল।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে শিক্ষার প্রসারে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফুল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উলিপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৪৯ মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

  • রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়ুয়া ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাবির সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে রাকিবুল তার মায়ের পক্ষ নেন। এ নিয়ে বাবার সাথে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রাকিবুল একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুল মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

    পরিবারের সদস্যরা রেজাউলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। পারিবারিক কলহের জেরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • বেনাপোল থেকে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্যসহ আটক ৩

    বেনাপোল থেকে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্যসহ আটক ৩

    যশোরের বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে কাগজপত্র বিহীন কোটি টাকা মূল্যের ট্রাক ভর্তি ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিচ ও কসমেটিকসের চালান জব্দ করেছে বিজিবি।

    রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে বেনাপোল বাজারের দূর্গাপুর মোড় থেকে চালানটি জব্দ করা হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি- একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিচ ও কসমেটিকসের চালান নিয়ে বন্দর এলাকা থেকে বেনাপোল বাজার পার হচ্ছে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সিও স্যারের নির্দেশে দূর্গাপুর মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে একটি ট্রাক আটক করে ক্যাম্পে আনি।

    এ সময় ট্রাকে থাকা চালক, হেলপার ও ইন্দ্রজিৎ নামে ব্যাক্তির কাছে মালের বৈধ কাগজপত্র চাইলে তারা দেখাতে পারেননি। পরে ট্রাক খুলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিচ ও কসমেটিকসের চালান জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ট্রাক চালক মহসিন আলী, হেলপার জাহিদ হাসান ও ইন্দ্রজিত নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আর জব্দ পণ্যের মূল্য কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

  • নাসিরনগরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    নাসিরনগরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পান্না সরকার (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পান্না উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের মৃণাল সরকারের ছেলে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে।

    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলাকপুর গ্রামে শিশুটি বাড়ির পাশের অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা শেষে শনি পূজা দেখতে পাশের একটি বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় পান্না শিশুটিকে নির্জন রাস্তা থেকে কোলে তুলে নিয়ে আলাকপুর লালমোহন সরকার প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণ পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অস্বাভাবিক ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় থাকতে দেখে বিস্তারিত জানতে চাইলে সে ঘটনার কথা জানায়। পরে স্বজনরা রাতেই তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা নাসিরনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পান্নাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগীর বাবার মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা, চলছে চিরুনি অভিযান

    পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা, চলছে চিরুনি অভিযান

    পর্তুগালে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অনেক অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    দেশটির ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (এনআরজি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩০০ জনের বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫০ জনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি এলাকা, স্ট্রবেরি খামার, রেলস্টেশন, প্রধান সড়ক ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকনির্ভর কৃষি খাতে এই অভিযান বেশি চালানো হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারত, নেপাল ও গিনি-বিসাউয়ের শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।

    অনেক অভিবাসী উন্নত জীবনের আশায় পর্তুগালে এলেও সেখানে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। আইনি কাগজপত্র না থাকায় অনেকেই কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হন। এছাড়া উচ্চ বাড়িভাড়া, অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোর চাপ তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

    মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ভাষাগত সমস্যা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন নন। ফলে তারা সহজেই শোষণের শিকার হচ্ছেন।

    তবে এনআরজির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়। মানবপাচার বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ কমিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

    তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ কর্মসংস্থান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বর্তমানে আটক অভিবাসীদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যাদের দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

  • কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

    তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।

    তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন।

    গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।

    নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

    তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

    একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।

  • পাঁচগুন বাড়লো জাপানের ভিসা ফি

    পাঁচগুন বাড়লো জাপানের ভিসা ফি

    বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

    জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

    ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’

    তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

    ২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

    কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।

    এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

    জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।

  • রৌমারী সীমান্তে ৯ দিন ধরে পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক

    রৌমারী সীমান্তে ৯ দিন ধরে পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সীমান্তের শূন্যরেখায় দু’টি স্থানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক টানা ৯ দিন ধরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চতায় রয়েছেন তারা।

    প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র রোদের মধ্যে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা।
    এ ব্যাপারে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
    এদিকে সীমান্তের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উভয় বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
    গত ১৪ জুন সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
    পরে গত বুধবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এখনও গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন আটকে রয়েছেন।

  • তারেক রহমানের চীন সফরে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে, আশা বেইজিংয়ের

    তারেক রহমানের চীন সফরে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে, আশা বেইজিংয়ের

    বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বহুপক্ষীয় বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে চীন। একই সঙ্গে চীন-বাংলাদেশের সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় দেশটি।

    চীন সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফর নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়, স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন।

    গুও জিয়াকুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতা তাঁর সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সফরকালে তারেক রহমান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত সামার দাভোস ফোরামেও অংশ নেবেন। এ আয়োজনটি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা হিসেবে পরিচিত।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় ফলপ্রসূ অর্জন এসেছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে।

    তিনি বলেন, চীন এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সব খাতে বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে বেইজিং।

  • বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া

    বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া

    বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

    পাশাপাশি আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সাথে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া।

    আজ সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় এটি তার প্রথম সফরও।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দলিল বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    বাংলাদেশের জন্য এটিকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার বিষয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও অভিহিত করেন তিনি। প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

    উভয় নেতা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী বাংলাদেশ। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে  আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরো বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

    দু’দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’

    তিনি বলেন, ‘তার (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করেছিল। একইসাথে শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরো গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

    মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘আরো একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।’

    দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

    উল্লেখ্য, বৈঠকের পর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দু’টি বিনিময় করেন।

  • ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

    সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে বলে মনে হলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

    এই মন্তব্য এসেছে দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে। কয়েক দিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল একটি বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তার সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহাল করা হবে না।

    বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানির বড় অংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, পানিপ্রবাহে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে নদীনির্ভর কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় পানি ইস্যু দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

  • কাতারের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

    কাতারের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

    কাতারের একটি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি কারখানায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এতে ৫৪ জন আহত হয়েছেন ও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করবেন। এর ফলে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম নেতা বা প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।

    ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিশৃঙ্খল রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। কিন্তু এর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন নাকি নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নামবেন, তা নিয়ে গত সপ্তাহে চিন্তাভাবনা করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত কয়েক মাস ধরেই চাপের মধ্যে ছিলেন। গত শুক্রবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম একটি সংসদীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর এই চাপ আরো তীব্র হয়। তিনি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের প্রার্থীকে পরাজিত করেন, যে দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

    অ্যান্ডি বার্নহামের এই বিজয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচিত বার্নহাম স্টারমারের অধীনে পিছিয়ে পড়া লেবার পার্টির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন বলে দলটির সদস্যরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, স্টারমারের জনপ্রিয়তার রেটিং বর্তমানে যেকোনো ব্রিটিশ নেতার চেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    তবে বহুল প্রত্যাশিত এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকির বাইরে নয়। দেশের মৌলিক পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কথা বললেও বার্নহাম এখনও পররাষ্ট্র, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেননি। স্টারমারের মতো তিনিও বন্ড মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের চাপে পড়তে পারেন, যারা অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ঘোর বিরোধী। একই সাথে জনসেবার মান ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

    উচ্চ ঋণ ও সুদের হার, বছরের পর বছর ধরে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-সেভেন ভুক্ত ধনী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ঋণ নেওয়ার খরচ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে আলাপকালে বিনিয়োগকারীরা বার্নহামের বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত মত দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে বার্নহাম বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের বন্ড মার্কেটের অধীনতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

    তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার সিটিব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে বার্নহাম একটি ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাবেন, যেখানে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো খুব বেশি হাতিয়ার থাকবে না।’

    গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, দলের ভেতর নেতৃত্ব পরিবর্তনের যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় তিনি লড়াই করবেন। কিন্তু সপ্তাহান্তে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘কিয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন।’ দলের ভেতরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ছাড়া এভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। কারণ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে কে দেশ চালাবেন, তা নির্ধারণে সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন তার রয়েছে।

    তবে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, স্ট্রিটিং হয়তো বার্নহামের সাথে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি করতে পারেন, যার বিনিময়ে তিনি বার্নহামের অধীনে কোনো জ্যেষ্ঠ পদের প্রতিশ্রুতি পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

    স্টারমারের দল মনে করে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেট বা অধিকার দেয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল গতকাল বোরবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বিবেচনা করছেন।

    আজ সোমবার ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্টারমার যদি তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করেন, তবে ব্রেক্সিট ভোটের পর গত ১০ বছরের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে এটাই সর্বোচ্চ ঘন ঘন নেতা পরিবর্তনের রেকর্ড। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, গণসেবার মান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক সরকারের ব্যর্থতায় ভোটারদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইউরেশিয়া’ জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে যদি স্টারমার আগামী সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। এতে তিনি আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন এবং বার্নহামও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

  • ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ৬০ দিনের রোডম্যাপ: আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন: রাজনৈতিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি ও দেখভালের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত আলোচনা: চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তারিত প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সব সময়ই তার সৎ ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠককে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

    প্রায় দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নীতিগত অবস্থান থেকে একাধিকবার সরে আসা ও জনসমর্থনে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তার এ সিদ্ধান্ত এলো।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবই ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাইয়ে শুরু হবে। উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।

    গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশনে ফেরার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন। স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকব। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

    স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটায়।

    তবে পরে তার সরকার নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণ ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা- এ ধরনে বিভিন্ন কারণে তার মেয়াদ সঙ্কটে পড়ে।

    মার্চ মাসে পরলোকগত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের পরিচিত সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাকে প্রায় ক্ষমতাচ্যুতির মুখে ঠেলে দেয়।

    পদত্যাগের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরিকেও আমি পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবো। কারণ আমি জানি, তিনি এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা দু’বছর আগে আমি যে ব্রিটেনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত।’

  • ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার

    ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন স্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ও প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও একই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আকস্মিক উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনায় অনেক এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

    মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা দেখানো হয়নি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, এসব পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দেড় মাসে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    এসব ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষ প্রশাসনের আইন প্রয়োগ ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

  • সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

    সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে আরও বেগবান ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে শুরুতেই এই শান্তি প্রক্রিয়া বেশ কিছু জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উপস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নে উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকটি সফলভাবে শুরু হয়েছে।’

    এই মেগা বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

    এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে আছেন। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চার দেশের প্রতিনিধি দলই বর্তমানে লেক লুসার্নের একটি লাক্সারি রিসোর্টে অবস্থান করছেন এবং বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

    এদিকে আলোচনা শুরু হলেও ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই মূলত তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান এই জলপথ বন্ধ রাখাকে আলোচনার টেবিলের একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    বৈঠকের মূল এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচিতে শুরুতে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল—প্রথমত, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তৃতীয়ত, বহির্বিশ্বে আটকে থাকা বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা।

    তবে বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মূল এজেন্ডার সঙ্গে তারা এখন লেবানন সংকট বা লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে যোগ করেছেন।

    ইরানের প্রতিনিধি দলে স্পিকার গালিবাফের পাশাপাশি দেশটির উপ-তেলমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। ইরানি প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, তেহরান এই বৈঠক থেকে যেকোনো মূল্যে তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের শর্ত ও আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে চাচ্ছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই মহাযজ্ঞে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • শৈলকূপায় বাসচাপায় ট্রাকচালক নিহত

    শৈলকূপায় বাসচাপায় ট্রাকচালক নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় দ্রুতগতির বাসের চাপায় আব্বাস হোসেন (৪০) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বড়দাহ ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্বাস হোসেন যশোরের চুরামনকাটি এলাকার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বড়দাহ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক রাস্তার পাশে থামিয়ে একটি স্থানীয় দোকানে চা খেতে যান আব্বাস। চা খাওয়া শেষে পুনরায় গাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় খুলনা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখী ‘রূপসা পরিবহন’ নামে একটি দ্রুতগতির বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে শৈলকূপা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    আরাপপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাহানুর আলী জানান, দুর্ঘটনার পর পরই ঘাতক বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালকসহ বাসটি শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • শিবির নেতা জিসানের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    শিবির নেতা জিসানের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

    রোববার (২১ জুন) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এ আদেশ দেন।

    বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ জুন শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওইদিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    একই দিন রাতে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৬ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে।

    অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের শামছুল আলম শাহ। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ বলেন, ‘জিসানকে রিমান্ডে এনে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। আমরা আশা করছি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

  • টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩০ নম্বর পাটগাতি মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎকান্তি রায়ের (৫৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২১ জুন) ভোরে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের দাড়িয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত বিদ্যুৎকান্তি রায় দাড়িয়ারকুল গ্রামের মৃত গঙ্গাপ্রসাদ রায়ের ছেলে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ৬টার দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসলিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    এসআই মুসলিম উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদ্যুৎকান্তি রায় বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয় উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঋণের চাপে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সজ্জন ব্যক্তি এবং শিক্ষাবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনা হবে এবং নিজ বাড়িতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

  • আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে, আরেকজন পলাতক রয়েছে।

    রোববার সকালে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন সিফাতের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতাররা হলেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সিফাত (১৮), ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মমিন শেখ (১৮) এবং সিরাজগঞ্জের সুমন শেখ (১৮)। ঘটনার সাথে জড়িত আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগও রয়েছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে মমিন কিশোরীকে সিফাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সিফাত, মমিন ও সুমন মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেন।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

    উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের লালারটেক এলাকায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

  • কলকাতার রেড রোডে মোদির যোগব্যায়াম ঘিরে সমতার বিতর্ক

    কলকাতার রেড রোডে মোদির যোগব্যায়াম ঘিরে সমতার বিতর্ক

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি ঘিরে যেমন উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও।

    রোববার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয় যোগ দিবসের বিশেষ কর্মসূচি। মোদির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের জন্য কয়েকদিন ধরে রেড রোডে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং তৈরি করা হয় বড় মঞ্চ।

    তবে আয়োজনকে ঘিরে মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, এর আগে মুসলিমদের ঈদের নামাজের জন্য একই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া হলেও এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নীতিতে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না।

    সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জনসাধারণের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি যোগকে মানবজীবনের সামগ্রিক উন্নয়ন, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে কলকাতার রেড রোডের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কই এদিনের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • লিবিয়ার উপকূলে ভেসে উঠল ১৫ অভিবাসীর মৃতদেহ

    লিবিয়ার উপকূলে ভেসে উঠল ১৫ অভিবাসীর মৃতদেহ

    লিবিয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে কমপক্ষে ১৫ জন অভিবাসীর মৃতদেহ ভেসে উঠেছে। নিহতদের মধ্যে একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা, নৌবাহিনী ও চিকিৎসা সূত্র। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বহনকারী বোট ডুবে যাওয়ার পর এই মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দেয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। নৌবাহিনীর এক সূত্র জানায়, বোটটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন বলে ১০ জন জীবিত বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানিয়েছেন। তারা কোন দেশের নাগরিক তা জানা যায়নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মৃতদেহগুলো তোবরুক শহরের বিভিন্ন স্থানে উপকূলে পাওয়া যায়। শহরটি মিশর সীমান্তে কাছাকাছি অবস্থিত।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলো পচে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল এবং আরও মৃতদেহ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে তোবরুক রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীদের সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরে পাথুরে উপকূল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে সাদা ব্যাগে রাখতে দেখা যায়। ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।

    সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষরা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তেলনির্ভর লিবিয়ার অর্থনীতি কাজের সন্ধানে আসা দরিদ্র অভিবাসীদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এদিকে ত্রিপোলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা খুমাস শহরের ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, উপকূলে নৌকাডুবির পর ১৩ জন অভিবাসীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

  • বরিশালে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

    বরিশালে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নামাজরত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বড় ভাই।

    রোববার (২১ জুন) দুপুরে থানার আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ছোট ভাই মো: নজরুল সরদার (৪৫) ও অভিযুক্ত বড় ভাই হারুন সরদার আন্দারমানিক ইউনিয়নের কাঞ্চন সরদার বাড়ির কাঞ্চন সরদারের ছেলে।

    পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চন সরদারের বড় ছেলে হারুন সরদার ও চতুর্থ ছেলে মজিবুর সরদারের মধ্যে জমিজমার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তৃতীয় ভাই সৌদি প্রবাসী মো: নজরুল সরদার চতুর্থ ভাই মজিবুর সরদারের পক্ষে কথা বলেছেন।

    এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই হারুন সরদার জোহরের নামাজ পড়া অবস্থায় মো: নজরুল সরদারকে এলোপাথারি পেটে ও শরীরে কুপিয়ে জখম করেন। ভুক্তভোগীর ডাকচিৎকার শুনে আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গতকাল শনিবার (২০ জুন) নিহত প্রবাসী মো: নজরুল সরদারের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। বউয়ের অনুরোধে তিনি থেকে যান। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।

    কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, হত্যার কথা শুনেছি। কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। আসামি ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

  • ভারতে মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস বন্ধের আহ্বান পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের

    ভারতে মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস বন্ধের আহ্বান পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের

    ভারতে প্রায় ১০০০ বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই।

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ‘ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক।’ তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর এক হাজার বছর পুরোনো মসজিদ-ই গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

    জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ‘যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই।’

    জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’

    ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।

    মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এই পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • বাঁশখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

    বাঁশখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসায় আয়াতুল ইসলাম নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে।

    রোববার (২১ ‍জুন) এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সৈয়দ আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    নিহত শিশু আয়াতুল ইসলাম সরল ইউনিয়নের পূর্ব কাহারঘোনার সৈয়দ আহমদের ছেলে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আহমদ শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী শিশু আয়াতুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরদিন রোববার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রোগী সুস্থ থাকলেও ডাক্তারের অনুমতি ব্যতীত অজ্ঞাত পরিচয় নার্স একটি ইনজেকশন পুশ করার ১৫ মিনিটের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়।

    এরপর থেকে অভিযুক্ত নার্সের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান নিহত শিশুটির বাবা সৈয়দ আহমদ। ঘটনার পর হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

    বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: মুমিনুল হক জানান, এক দিন চিকিৎসাধীন থেকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

    বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

  • ভারতে তদন্তের মুখে টাটার আইফোন কারখানা

    ভারতে তদন্তের মুখে টাটার আইফোন কারখানা

    অ্যাপলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ভারতের টাটা গ্রুপ। সম্প্রতি টাটার আইফোন যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে ফসলি জমিতে দূষণ ও কৃষকদের মধ্যে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় একটি রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

    তিনজন সরকারি কর্মকর্তা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি দাপ্তরিক নথি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রমতে, গত ২৫ মে তামিলনাড়ু রাজ্যের হোসুরে অবস্থিত টাটা ইলেকট্রনিকসের এই প্ল্যান্টটিতে পার্শ্ববর্তী খামারের ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করার অভিযোগে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড একটি সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠিয়েছিল।

    ২০২১ সালে চালু হওয়া এই প্ল্যান্টটিতে আইফোনের ব্যাক কাভার বা পেছনের অংশসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। কৃষকদের ধারাবাহিক অভিযোগের পর গত মে মাসের শেষ দিক থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই কারখানাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।

    প্ল্যান্টটি যে গ্রামে অবস্থিত, সেই উল্লুগুরুক্কাই গ্রামের সরকারি চিকিৎসা কর্মকর্তা অনিশ পারভিন হোসুরের ভেক্টর কন্ট্রোল অ্যান্ড জুনোসেস ইনস্টিটিউটে গত ২৭ মে একটি চিঠি পাঠান। রয়টার্সের হাতে আসা সেই চিঠিতে বলা হয়, টাটার কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে এলাকায় ‘তীব্র দুর্গন্ধ’ ছড়াচ্ছে এবং পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে তা ‘পশুদের পানের অযোগ্য’ হয়ে পড়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, টাটা ইলেকট্রনিকস থেকে নির্গত বর্জ্য পানি কাছের কৃষি জমিতে জমেছে এবং আশপাশের কুয়োর পরিষ্কার পানিকে দূষিত করছে। এই দূষণের কারণে মানুষজন চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানা গেছে। যদিও চিকিৎসাগতভাবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট কেস প্রমাণিত হয়নি, তবে কৃষকদের কাছ থেকে চর্মরোগের বিস্তর অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন অনিশ পারভিন।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কৃষিজমি থেকে পানির দুটি নমুনা সংগ্রহ করে রাজ্য সরকারের গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। গত ৩০ মে জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরির রিপোর্ট অনুযায়ী, সংগৃহীত দুটি নমুনায় ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির পাওয়া গেছে, যা মূলত পয়োবর্জ্য বা মলমূত্রজনিত দূষণকে নির্দেশ করে।

    ওই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য তদারককারী জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রাজেশ কুমার সি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের এই তদন্ত এখনো চলছে এবং দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    এর আগে এপ্রিল মাসে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড কারখানার কাছের দুটি খোলা কুয়ো থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সেখানে ‘টোটাল ডিজলভড সলিডস’ বা টিডিএসের (পানিতে দ্রবীভূত খনিজ, লবণ ও ধাতুর পরিমাণ) মাত্রা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ১,০৮৪ এবং ১,২৮৬ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। অথচ ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) অনুযায়ী, পানের পানির জন্য এই মাত্রা সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার হওয়া গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ, কারখানার আশপাশের কুয়োর পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।

    চলতি সপ্তাহে টাটা ইলেকট্রনিকস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তাদের তদন্ত কার্যক্রম তুলে নিয়েছে কারণ কারখানা প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে সংগৃহীত সাম্প্রতিক পানির নমুনা পরীক্ষায় কোনো দূষণ মেলেনি। তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, তামিলনাড়ু সরকার কিংবা মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাপল—কেউই এই বিষয়ে রয়টার্সের ইমেইল বা ফোনের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

    কারখানা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে কারখানার বর্জ্য শোধন কেন্দ্রে একটি পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু পয়োবর্জ্য তাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পুকুরে চলে যায় এবং পরবর্তীতে তা উপচে বাইরের একটি হ্রদে গিয়ে মেশে। টাটা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে সেই ওভারফ্লো বন্ধ করে পাম্পটি মেরামত করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    রয়টার্সের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে কারখানা এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছেন, খোলা কুয়োর পানি সম্পূর্ণ কালো রং ধারণ করেছে এবং কারখানার দেয়াল ঘেঁষে জমে থাকা পানি সবুজ ও শেওলাযুক্ত হয়ে আছে। ৪০ বছর বয়সী স্থানীয় কৃষক গুরুমূর্তি ভি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই পানি দিয়ে বীজ বপন করলে চারা তো গজায়, কিন্তু কিছুদিন পরেই তা শুকিয়ে মরে যায়।’

    এদিকে গত সোমবার স্থানীয় কৃষক দলের একজন সদস্য দূষিত পানি জমে থাকার ছবি তুলতে টাটার সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কারখানার একজন নিরাপত্তা কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে বাধা দেন। তখন উত্তেজিত কৃষকেরা ‘আমাদের গুলি করো’ বলে চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    প্রসঙ্গত, চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে অ্যাপল এখন ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট আইফোনের ২৬ শতাংশই ভারতে উৎপাদিত হচ্ছে। এমন একটি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প জায়ান্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের জমি ও স্বাস্থ্য ধ্বংসের এই অভিযোগ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালার কার্যকারিতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

  • নিজের দিকে নজর দিন: ট্রাম্পকে মেলোনি

    নিজের দিকে নজর দিন: ট্রাম্পকে মেলোনি

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা নড়বড়ে অবস্থায় আছে। জি–৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যে তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে মেলোনি যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ ও ‘অকারণ আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার বিষয়ে বলতে গেলে, আপনার সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি অবশ্যই এতে ভূমিকা রাখেনি। এটা আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না।’ মেলোনি আরও বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে। আমি বলব, আপনি নিজের দিকে মনোযোগ দিন।’

    এর আগে গতকাল শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, মেলোনি ইতালিতে রাজনৈতিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সরঞ্জামগত গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    জবাবে মেলোনি বলেছেন, ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত এবং চুক্তির প্রতি সব সময় সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এ নীতি ভঙ্গ করা সম্ভব নয়।

    এর আগে গত শুক্রবার মেলোনি বলেছেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ বৈঠকের সময় ছবি তোলার জন্য তিনি কাকুতি–মিনতি করেছিলেন বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা তাঁকে (মেলোনি) বিস্মিত করেছে।

    দুই নেতার মধ্যে চলা এ পাল্টাপাল্টি কথাবার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকে এমন পরিস্থিতি চলছে।

    ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল করেছেন।

    জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। পরে মেলোনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের সম্পর্ক আগের মতোই আছে এবং কোনো ধরনের বিরোধ হয়নি। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প ইতালির এলএ সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেলোনি নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করেছিলেন। এতে মেলোনির জন্য তাঁর মায়া হয়েছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলায় তিনি সম্ভবত খুশি হয়েছেন।’

    এলএ সেভেন টেলিভিশন চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য সরাসরি প্রকাশ না করে ইতালির ভাষায় ডাবিং করে প্রচার করেছে। জবাবে মেলোনি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, তিনি ট্রাম্পের এ মন্তব্যে অত্যন্ত হতবাক হয়েছেন।

    মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের প্রতি এভাবে আচরণ করেন। এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কিন্তু তাঁকে (ট্রাম্প) একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি বা ইতালি কেউই কখনো মিনতি করি না।’

    মেলোনির এ মন্তব্য ইতালির রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থন পেয়েছে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরে। সে সময় পোপ চতুর্দশ লিওর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ট্রাম্পের সে সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন মেলোনি।

    একসময় দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো

    মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন । ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে গাস ফ্রিং চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা বর্তমানে সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।

    সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির প্রধান তুর্কি আল-শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামে দীক্ষিত হন। শুটিং চলাকালে তিনি একটি মসজিদে সহকর্মীদের সঙ্গে নামাজেও অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে মুসল্লিদের সঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

    তুর্কি আল-শেখ জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে স্থানীয় মুসলিম সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়, তাদের জীবনযাপন ও ইতিবাচক আচরণ এস্পোসিতোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মানুষের আন্তরিকতা, অতিথিপরায়ণতা এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রশংসা করেছেন এই হলিউড অভিনেতা।

    দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তাকে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছে। এছাড়া ‘বেটার কল সল’ ও ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের সমানভাবে মুগ্ধ করেছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো বর্তমানে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি উচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে সৌদি আরবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তারকাদের আকৃষ্ট করে দেশটির বিনোদন খাতকে আরও বিকশিত করার যে পরিকল্পনা সৌদি আরব বাস্তবায়ন করছে, এই প্রকল্পকে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, সেনা মোতায়েন

    বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, সেনা মোতায়েন

    সরকারবিরোধী টানা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ গতকাল শনিবার জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। দেশজুড়ে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের বসানো প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করতে সেনা ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে।

    রক্ষণশীল সরকারের বিরুদ্ধে চলা এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে ছয় সপ্তাহ পেরিয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকোচাষিরা বলিভিয়ার বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন। বিভিন্ন জায়গায় সড়কে অবরোধ দেওয়া হয়েছে।

    টানা বিক্ষোভের জেরে বলিভিয়ার প্রধান শহরগুলোয় খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতির ধাক্কা লেগেছে। বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ার গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ–সমাজতান্ত্রিক সরকার পতনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

    চলমান সংকটের অবসান ঘটাতে উদ্যোগী হয়ে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ‘আইনের পূর্ণ কঠোরতা’ প্রয়োগ করা হবে।

    টেলিভিশন ভাষণে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। তিনি জানান, জরুরি অবস্থার সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ আইনত নিষিদ্ধ এবং দেশের ভেতরে সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

    প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির এল আল্টো শহরে সেনা উপস্থিতির খবর দিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। তাঁরা বলেন, সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের বহর শহরে টহল দেয়। আর সড়কে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে বুলডোজারগুলো কাজ শুরু করেছে।

    সেনা ও পুলিশের টহল দলকে অনেক বাসিন্দা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে এএফপি। এ সময় এল আল্টো শহরে পিকআপে করে টহল দেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে রুটি তুলে দেন স্থানীয় একজন। পরে পেশায় দোকানদার কারলা বুটরন (৩৯) নামের ওই ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, ‘আমি এতে খুবই খুশি।’ কারলা বলেন, ‘এল আল্টোতে ৫০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে কাজ, অবাধ চলাচল—সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

    রাজধানী লাপাজের পাশেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পাহারা দিতে দেখা গেছে। শহরের প্রধান চত্বরগুলোয় পুলিশের কৌশলগত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, ‘বলিভিয়ার মানুষ এমন কোনো অবরোধের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না, যেটা তাঁদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ, এমনকি বাড়িতে খাবার নিয়ে আসার পথও বন্ধ করে দিয়েছে।’

    প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জরুরি অবস্থার উদ্দেশ্য মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম কেড়ে নেওয়া নয়, বরং তা পুনরুদ্ধার করা।’ নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন রদ্রিগো পাজ। এখন বিক্ষোভকারীদের দাবি, রদ্রিগো পাজ যেন উদার অর্থনৈতিক সংস্কার ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    ৫৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ‘আলোচনায় প্রস্তুত থাকার’ ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এমনকি সপ্তাহের শুরুতে তিনি সংকট নিরসনে দেশের অন্যতম প্রধান একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতেও সম্মতি দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দেওয়া এবং আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ইউনিয়ন বিক্ষোভ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।

    তবে আদিবাসী কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এখনো ৪০টির বেশি জায়গায় সড়কে কড়া অবরোধ রয়ে গেছে। ৪২ বছর বয়সী আইমারা নেত্রী লিদিয়া ক্যালিসায়া এএফপিকে বলেন, ‘আমরা চাই তিনি (প্রেসিডেন্ট) ক্ষমতা ছেড়ে দিক।’

  • মাদক খুঁজতে গিয়ে উদ্ধার পিকাসোর চিত্রকর্ম

    মাদক খুঁজতে গিয়ে উদ্ধার পিকাসোর চিত্রকর্ম

    প্যারিসের শহরতলির একটি বাড়িতে মাদক খুঁজতে গিয়ে অভিযান চালানোর সময় ফরাসি পুলিশ স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর একটি চিত্রকর্ম উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। শনিবার দেশটির প্রসিকিউটররা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ক্রেতেইলের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানায়, ‘মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত তল্লাশির সময় এই চিত্রকর্মটি পাওয়া যায়।’

    তারা আরও জানায়, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার এই মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে তাৎক্ষণিক শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়।

    ফরাসি সংবাদপত্র লে প্যারিসিয়েন-এর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্যারিসের পূর্বে অবস্থিত শহর শাম্পিনি-সুর-মার্নে সোমবার তদন্তকারীরা এই তল্লাশি অভিযান চালায়।

    সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, পিকাসোর চিত্রকর্মটির পাশাপাশি গাঁজা, দামি পোশাক ও কয়েক হাজার ইউরো জব্দ করেছে পুলিশ ।

    ক্রেতেইলের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, চিত্রকর্মটি স্প্যানিশ চিত্রশিল্পীর একটি আসল কাজ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে এটি কোন নির্দিষ্ট চিত্রকর্ম, তা তারা উল্লেখ করেনি।

  • ৯২ শতাংশ ইসরাইলি মনে করে যুদ্ধে ইরান জয়ী

    ৯২ শতাংশ ইসরাইলি মনে করে যুদ্ধে ইরান জয়ী

    সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলের সিংহভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

    জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি এবং আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে গত ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৩,৬৪৪ জন উত্তরদাতার ওপর এই জরিপটি চালানো হয়। রোববার প্রকাশিত এই জরিপের ফলাফল মার্কিন-ইরান চুক্তির পর ইসরাইলি জনসাধারণের তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯২.১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এই দ্বন্দ্বে ইরান জয়ী হয়েছে বা বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, ৮২.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন এর ফলে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান নির্বাচনী ভিত্তি—ডানপন্থী ব্লকের ভোটারদের মধ্যেও ৯৩.১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানই এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইলি জনগণের ব্যাপক বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.২ শতাংশ মানুষ এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন, যেখানে মাত্র ১২.১ শতাংশ উত্তরদাতা এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

  • দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে আটকে থাকা ছয় বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান। আজ রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডন এই খবর জানিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত তাদের পক্ষেই গেছে। এই আলোচনা ও সমঝোতার বড় সাফল্য খুব দ্রুতই সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতায় ইরানকে যে বিষয়গুলো করতে নিষেধ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, কাতারে থাকা তাদের ছয় বিলিয়ন ডলার অবশ্যই ফেরত আসছে। এই চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।

    পেজেশকিয়ান বলেন, এই আলোচনায় যদি কেউ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে। এই প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট তাদের শহীদ নেতার দেয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শহীদ নেতাই বারবার বলে গেছেন যে আমরা পারমাণবিক বোমা চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বলেছিল এটি লিখে দিয়ে সই করতে, আর আমরা তাতে সই করেছি।

  • চৌগাছায় নবীন বরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় নবীন বরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা যশোর,

    যশোরের চৌগাছায় নবীন বরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকালে তরিকুল ইসলাম পৌর ডিগ্রি কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী দফাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তরিকুল ইসলাম পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম লিটু।

    এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক তুহিন আক্তার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ মান্নান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, যুবদল নেতা অবাইদুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভকামনা এবং ২০২৬ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন আসিফ খান, জান্নাতুল নাঈম, ফেরদৌস আল-কাইফ, মৌমিতা, নিশাত তাসনিম, শেখ তানজীর রহমান, আয়েশা রহমান, শাহরিয়ার নাফিজ, রিজওয়ান ইস্তিকা রাফিদ, চাঁদ মিয়া, রোকনুজ্জামান, তালহা জুবায়ের, নাহিদ হাসান, সাদিয়া আক্তার ইভা, পারভিনা খাতুন, সৌরভ আহমেদ, মুহিন জামান সূর্য, লিমা খাতুন, পারভেজ হোসেন, শ্রী চিরঞ্জিত কুমার পাল, প্রেমী খাতুন, রুমন মিয়া, আলিফ হোসাইন, জাহিদ হাসান, সামিউল ইসলাম এবং নাফিজা তাবাচ্ছুম মাহিন।

    বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

  • মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২০ জুন) রাত ও রোববার ভোররাতে তাদের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্রাফিল ফরাজী, ঘটমাঝি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর জমাদ্দারও রয়েছে।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা করতে পারে এমন অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

    এমন কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

  • সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি

    টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। এতে করে তাহিরপুর থেকে যাওয়া ও সুনামগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

    রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। তবে এর মধ্যেই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়াও উপজেলার যাদুকাটা নদীসহ সীমান্ত নদীর পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে নামছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

    বিএনপি নেতা জুবায়ের জয়নাল জানান, পাহাড়ি ঢল এলেই সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষজনের চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে যে পরিমাণে পানি বাড়ছে আর বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আনোয়ারপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি রতি মিয়া জানান, যাদুকাটা নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল রক্তি ও বৌলাই নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে যায়। আর পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এবং অন্য কোনো দিকে পানি নামতে না পারায় সড়কটি ডুবে যান চলাচলে সমস্যা হয়।

    সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, পানি বাড়ছে, তবে সুনামগঞ্জের সবগুলো পয়েন্ট দিয়েই বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

    ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

    ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর, এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।এদিকে মাত্র দু’দিন আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে কেন্দ্র করে গঠিত শান্তি প্রক্রিয়ায় আবারো চাপ সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ প্রাণহানির ঘটনা।

    শান্তি চুক্তিটিকে আরো এগিয়ে নিতে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

    তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন টেলিফোনে কথা বলেছেন।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট দফতর জানায়, আউন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য রুবিওকে ধন্যবাদ জানান ও জোর দিয়ে বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে জানানো হয়, এ সময় রুবিও লেবাননের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

    এক মুখপাত্র বলেন, তারা পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বৈঠকটি ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দু’টি সার্বভৌম সরকার দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।

    তিনি আরো বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারো জোর দিয়ে বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র ও পুরো লেবাননের ভূখণ্ডে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করতে হবে।

    এই সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হয়।

    এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়।

    এই চুক্তির আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরান সব সময় জোর দিয়ে বলে এসেছে যে এই সঙ্ঘাতকে যে কোনো চুক্তির আওতাভুক্ত করতে হবে।

    সেখানে ইসরাইলের চলমান অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য জটিল ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ও সংগঠনটির বহু সদস্যকে হত্যা করেছে।

  • নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস, বিদায় চান অধিকাংশ ইসরাইলি

    নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস, বিদায় চান অধিকাংশ ইসরাইলি

    ইসরাইলের বেশির ভাগ মানুষের চাওয়া, নেতানিয়াহু এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২–এর এক জরিপে এমন মনোভাবের কথা উঠে এসেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া ইসরাইলিদের ৫৯ শতাংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। আসছে শরতে হতে যাওয়া ইসরাইলের পরবর্তী নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া উচিত হবে না।

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোয় চাপে পড়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশে–বিদেশে ইসরাইল ও দেশটির সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া ইসরাইলিদের মাত্র ৩৩ শতাংশ দেশটির পরবর্তী নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুর অংশ নেওয়াকে সমর্থন করেছেন। ৮ শতাংশ ইসরাইলি বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।

    ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহু, যিনি বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি, এখন ভোটারদের বোঝানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে কেবল তিনিই ইসরাইলিদের নিরাপদ রাখতে পারেন।

    আগামী অক্টোবরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিরোধী দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে। এটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বাড়িয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।’

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ওপর সমর্থকদের আস্থা গভীরভাবে কেঁপে ওঠে।

    এরপর গাজায় ইসরাইলের নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৭৩,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়ে।

    গাজায় যুদ্ধাপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে আলোচনায় বসছে।

    সমঝোতার অন্যতম শর্ত, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ইসরাইল শুরুতে তা মানতে চায়নি। অবশেষে গতকাল শুক্রবার ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির কথা জানায়।

    এরপরও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। দেশটিতে গতকাল এক দিনেই অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করে তারা। শনিবার ইসরাইলি হামলায় আরও অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ইসরাইলের শাসনক্ষমতায় রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এ পদে ছিলেন ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০০৯ সালে আবারও ইসরাইলের সরকারপ্রধান হন নেতানিয়াহু। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে আবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই থেকে দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিতে মোটেই খুশি হতে পারছে না ইসরায়েলিরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তিকে বহু ইসরাইলি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।

    স্থানীয় বিশ্লেষকরা একে একটি ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ‘লজ্জাজনক চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা ইসরাইলের চরম আশঙ্কার চেয়েও খারাপ।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তির ফলে ইরান যুদ্ধের আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।

  • মার্কিনিদের নাগরিকত্ব ছাড়ের হিড়িক, নেপথ্যে কী?

    মার্কিনিদের নাগরিকত্ব ছাড়ের হিড়িক, নেপথ্যে কী?

    ১০ বছর আগে যখন এরিন ক্ল্যাট ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তার ছয় মাসের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন এই দেশকেই তিনি নিজের স্থায়ী ঠিকানা বানাতে চান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা কারণে ২০১৬ সালেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছিলেন ‘ভিন্ন কোনো পরিবেশে’ বাঁচার আশায়।

    এক দশক পর, ৩৪ বছর বয়সি এরিন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর ঠিক আগমুহূর্তে, এরিন ২,৩৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেন। ২০১৫ সালের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক গতিপথ এবং বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর করের বোঝা—এই দুই কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করাকে তার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।

    এরিনের মতো এমন হাজারো আমেরিকান প্রতি বছর তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এর সঠিক বার্ষিক পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ কঠিন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আইআরএস এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্ষিক সংকলন প্রকাশ করে না।

    ‘আমেরিকানস ওভারসিজ’ নামক একটি সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ৪,৮৮৯ জন আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। সংস্থাটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৪০,০০০ দ্বৈত নাগরিকত্বধারী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া বা এই সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংস্থাটির পরামর্শ নিচ্ছেন।

    আমেরিকানদের নাগরিকত্ব ত্যাগের এই হিড়িকের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে মার্কিন কর আইন। ‘ফ্যাক্টকা’ নামক এই আইনের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট তার নাগরিকদের বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপ এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেয়। বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের মধ্যে এই নিয়ম রয়েছে, যার একটি যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যটি পূর্ব আফ্রিকার ইরিত্রিয়া। এই আইনের কারণে ইউরোপের ব্যাংকগুলো অনেক সময় মার্কিন নাগরিকদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা প্রবাসীদের সাধারণ জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। বিশেষ করে যারা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকান’ বা দুর্ঘটনাবশত আমেরিকান (যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও কখনো সেখানে থাকেননি বা কাজ করেননি), তাদের জন্য এই করের বোঝা মেটানো এক দুঃস্বপ্নের মতো।

    আর্থিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচয়ের দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। ইতালিতে বসবাসরত ক্যারোলিন চিরিচেলার কথাই ধরা যাক। তিনি নিজেকে একজন গর্বিত আমেরিকান মনে করলেও বর্তমানে তার মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তার সন্তান ও স্বামী ইতালীয় এবং তার পুরো জীবন এখন ইতালিতেই আবর্তিত।

    ক্যারোলিনের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তিনি নিজেকে পুরোপুরি ইতালীয় বা পুরোপুরি আমেরিকান কোনোটিই ভাবতে পারেন না। এই দোলাচল থেকে মুক্তি পেতেই তিনি কেবল ইতালির পাসপোর্টটি রাখার কথা ভাবছে।

  • যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

    যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

    পশ্চিমবঙ্গে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনি ফল প্রকাশের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস করলেও এত দ্রুত এমন বিপর্যয় ঘটবে তা কেউ ধারণা করতে পারেননি। ২৮ বছরেরও বেশি পুরোনো এই দলটি মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে তিন টুকরো হয়ে গেছে।

    বর্তমানে দলটির বেশির ভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা ব্লক গঠন করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তারা কলকাতায় রাজ্য বিধানসভায় মূল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন।

    অন্যদিকে, দিল্লিতে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভা এমপি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে পুরোনো দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ‘এনসিপিআই’ নামের একটি দলে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএকে সমর্থন করছেন।

    আর মূল দল কাগজে-কলমে মমতা ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

    তৃণমূল কংগ্রেস এত দ্রুত ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল তিনটি কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো

    ১. নির্বাচন-সর্বস্ব ও আদর্শহীন রাজনীতি

    তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দর্শন বা মতাদর্শ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি মূলত জনমোহিনী নীতি বা ‘পপুলিজম’-এর ওপর ভিত্তি করে চলত। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সিপিআইএমকে হঠানো। ফলে শুধু নির্বাচন জেতার ওপর নির্ভরশীল এই রাজনীতি দলটির জন্য চড়া মূল্য ডেকে এনেছে।

    ৪ মে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতারা বুঝতে পারেন যে ভোটে হারার পর তাদের আঁকড়ে ধরার মতো কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। ভারতে কংগ্রেস, বিজেপি বা বামপন্থিদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠন থাকায় তারা ভোটে হারলেও টিকে থাকে। এমনকি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী যখন নিষিদ্ধ ছিল, তখনো তারা আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েও নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে দলটিকে বিস্তৃত করতে না পারায় এটি সহজে ভেঙে গেছে।

    ২. ক্যাটালিস্টের ভূমিকায় বিজেপি

    নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতম মুহূর্তে তাকে আঘাত করার কোনো সুযোগ ছাড়েনি বিজেপি। এই দল ভাঙার পেছনে বিজেপির সক্রিয় মদত ছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভাঙার আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বিদ্রোহী এমপিরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আড়াল থেকে তদারক করেছেন বলে জানা গেছে।

    বিজেপি চেয়েছে রাজপথের আন্দোলনকারী মমতার বদলে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বিরোধী দল আসুক, যারা শুধু গঠনমূলক সমালোচনা করবে।

    অন্যদিকে, দিল্লিতে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৪০ আসন) না পাওয়ায় শরিকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ এমপিকে ভাঙিয়ে এনডিএর শক্তি ৩০০ পার করাই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। তবে বিজেপি বিদ্রোহীদের নিজেদের দলে সরাসরি ঠাঁই দেয়নি।

    ৩. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যাক্টর

    তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা প্রায় প্রত্যেকেই দলের ভেতর দমবন্ধ পরিস্থিতির জন্য মমতার ভাইপো ও অঘোষিত উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। অভিষেক ‘কর্পোরেট কায়দায়’ দল পরিচালনা করতেন এবং নিজের একটি ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করে রাখতেন। এর ফলে তৃণমূলের নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বড় দূরত্ব তৈরি হয়।

    অভিষেক দলের ভেতর করপোরেট শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে আমজনতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান। কয়েক বছর আগে তিনি ‘আই-প্যাক’ নামের একটি নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থাকে যুক্ত করেন। আই-প্যাকের বেতনভুক কর্মীরা কার্যত দলটিকে হাইজ্যাক করে নিয়েছিল এবং কে টিকিট পাবেন বা কে কী ভাষণ দেবেন তা তারাই ঠিক করত। এর পাশাপাশি অভিষেকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ক্ষুব্ধ নেতারা এখন অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেই নিজেদের দলবদলকে জাস্টিফাই বা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

  • ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। শনিবার তেহরান সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের চলমান প্রচেষ্টার অংশ নাকভির এই সফর। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান।

    এর আগে গত ৭ জুন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নাকভি।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের জন্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সফর করছেন।

    বুধবার, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

    সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইই) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দেশটির বার্গেনস্টক রিসোর্টে এখনো একটি ‘নির্ভরযোগ্য ও গোপন’ পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

    শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় কারা অংশ নিচ্ছেন বা কী বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে—গোপনীয়তার স্বার্থে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

    মন্ত্রণালয় বলেছে, সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

    রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নতুন উসকানি বা হামলার কারণে সহজেই ভেঙে যেতে পারে। তাই এখনই স্থায়ী শান্তির আশা করা ‘তাড়াহুড়ো’ হবে।

    রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘লেবাননে নতুন হামলা বা অন্যান্য উস্কানির কারণে এই অস্থিতিশীল চুক্তি সহজেই ভেস্তে যেতে পারে। আর নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার, যারা যুদ্ধের মাধ্যমেই টিকে আছে তাদের জন্য ঠিক এটিই প্রয়োজন। সুতরাং, শান্তির আশা।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতে মস্কো মূলত কূটনৈতিক ও মৌখিক সমর্থনেই সীমাবদ্ধ থাকায় দুই দেশের অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • চট্টগ্রামে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-শ্রমিক-জনতার অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে

    চট্টগ্রামে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-শ্রমিক-জনতার অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত শ্রমিক জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের রায়কে সম্মান না করলে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।

    তিনি শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও মুহাম্মদ ইসহাক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার।

    অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানব রচিত মতবাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠিত শক্তি গড়ে তুলতে হবে। ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটকে আরও জনবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব করা প্রয়োজন। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা—দুটিই জামায়াতে ইসলামীর নীতিগত অবস্থান। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান শ্রমিক সমাজকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ, দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের কল্যাণ এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিক ময়দানে কর্মরত সকল নেতাকর্মীকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের ধারাবাহিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং শতাধিক শ্রমিকের আত্মত্যাগের পরও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা হয়নি। একই সঙ্গে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ০.০৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

    মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ভোটের পূর্বে দেশে মদিনার শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। আমরা সেই কথা তাদেরকে স্মরণ করে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারী আপনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাদের কথায় চললে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। ভুলভাল বলবেন। নিজের মর্যাদা হানি করবেন। দেশ ও জনগণকে লজ্জিত করবেন। আমরা এইরকম অবস্থা চাই না। আপনি ১৮ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সীমার প্রধানমন্ত্রী। কাজেই বাংলাদেশের সকল মানুষের মর্যাদা, দেশের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে আপনার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে সর্বত্র আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে প্রতিষ্ঠা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সেই বিষয়েও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন নগর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া।

  • ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যু : আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

    ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যু : আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যুকে ঘিরে দিন দিন রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। প্রথমে ঘটনাটি কেবলই একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে, ঘটনাস্থলের আলামত, সন্দেহভাজনদের আচরণ ও গতিবিধি এবং নিহত সোহেলের সাথে থাকা মোটা অঙ্কের টাকার ব্যাগ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এটি এখন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি উঠেছে।

    নিহতের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়, সোহেল রানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।

    নিহত সোহেল রানা (৩৫) ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার মরহুম সিরাজ মিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ছেলে। তিনি স্থানীয় পানাউল্লাহরচর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘মোহাম্মদ অ্যাডহেসিভ কোং’ নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শাখা ‘মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। ওই দু’টি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা রয়েছে।

    শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজিতপুর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তাগাদা আদায় শেষে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ভৈরবে ফিরছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর কুলিয়ারচর পৌরসভার বড়খারচর মহল্লায় কাশ্মিরী আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন সড়কের পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

    তার একটু দূরে একটি মোটরসাইকেলও পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের দাবি, ব্যবসার পাওনা টাকা সংগ্রহ শেষে রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেল রানা। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে এমন খবরে কোনো মামলা না করে হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যান স্বজনরা। পরে সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন রোববার (১৭ মে) বাদ জোহর স্থানীয় শম্ভুপুর পাক্কার মাথা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা যায়, সড়কের ওপর ড্রেজার পাইপ পারাপারের জন্য তৈরি করা উঁচু আইল্যান্ডসদৃশ বাধায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহেল রানা দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে ঘটনার পর পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এখন সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উঁচু বাধা যেখানে রয়েছে, সেখান থেকে নিহত ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল বেশ দূরে পড়েছিল। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, মোটরসাইকেলটিতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সাধারণত উচ্চগতির দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে যাওয়া বা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সোহেল রানার মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    অন্যদিকে নিহতের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে মাথার পেছনে এমন মারাত্মক আঘাত কিভাবে এলো, অথচ মোটরসাইকেলের ক্ষতি হলো না?

    ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হচ্ছে, সোহেল রানার সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। পরিবারের দাবি, তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তার কাছে থাকা ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থল সংলগ্ন থেকে ব্যাগের কাটা ফিতার অংশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয়দের ধারণা, সড়কে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মাথার পেছনে আঘাত করে থাকতে পারে। আঘাত পাওয়ার পর তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কিছু দূরে গিয়ে পড়ে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা তার টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, আঘাত করার কাজে ভারী কোনো বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

    সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সোহেল রানার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে নিহতের বড় ভাই শাহীন আহম্মেদ মামলা দায়ের করেন। মামলায় হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে উপজেলার বড়খারচর গ্রামের মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে ইলিয়াছ (৫০), কাঞ্চন মেম্বারের ছেলে মজিবুর মিয়া (৪৮), টুটুল মিয়া (৩৫) ও অজ্ঞাত পরিচয় চার-পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগ লিপিতে শাহীন আহম্মেদ উল্লেখ করেন, ঘটনার পরদিন ১৭ মে সোহেল রানার লাশ গোসল করানোর সময় তারা দেখতে পান, লাশের মাথার পেছনের মধ্যভাগে ভারী কোনো বস্তুর আঘাতের ফলে ফোলা ও আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্রযুক্ত জখম রয়েছে।

  • গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ড্রাম ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাফওয়ান হোসেন (আড়াই বছর) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা জুয়েল রানা (৩৬) ও মা সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জুয়েল রানা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বাংড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, জুয়েল রানা মোটরসাইকেলযোগে বগুড়ার শেরপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেনকে নিয়ে কর্মস্থল চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সাথে একটি ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন এবং তাদের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত শিশুর বাবা-মাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া নিহত শিশুর লাশ হস্তান্তরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার পর চালক ড্রাম ট্রাক নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

  • রাজধানীতে সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

    রাজধানীতে সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

    রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইন এলাকায় মো: কুদ্দুস (৫০) নামে এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জুরাইনের নবারণ গলির পপি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সবজি ব্যবসায়ী কুদ্দুস পূর্ব জুরাইনের দারোগাবাড়ী রোডের ৯১/এ নম্বর বাসার বাসিন্দা। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় বৌ বাজারে সবজির ব্যবসা করতেন।

    কুদ্দুসকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কামাল শিকদার জানান, রাতে ব্যবসা শেষে কুদ্দুস পূর্ব জুরাইনের নবারণ গলির পপি স্কুলের সামনের সড়ক দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফারুক জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

    ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

    ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছালে তার লাশ সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুর রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশের ঘাড়ে ছোট একটি আঘাতের চিহ্ন, পিঠে ঘর্ষণজনিত ক্ষত এবং নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

  • যশোরে খুলে দেয়া হলো তিনটি সেতু

    যশোরে খুলে দেয়া হলো তিনটি সেতু

    যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ও দেয়াড়া ইউনিয়নে নির্মিত তিনটি সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেতুগুলোর উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    উদ্বোধন করা সেতুগুলোর মধ্যে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া শান্তির মোড়-মধ্যপাড়া খালের ওপর একটি, তরফদারপাড়া থেকে আড়পাড়া সড়কের ওপর একটি এবং দেয়াড়া ইউনিয়নের নারাঙ্গালী-ফুলবাড়িয়া সড়কে গোডাঙ্গা খালের ওপর একটি সেতু রয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত তিনটি সেতুর মোট ব্যয় হয়েছে ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সেতু চালুর ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

  • হাটহাজারীতে ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    হাটহাজারীতে ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    চট্টগ্রাম হাটহাজারীতে সড়ক পারাপারের সময় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মো: সামির (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী পৌরসভার ডায়মন্ড টাচ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সামির হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড শায়েস্তা খাঁ পাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী জসিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। সে হাটহাজারী পর্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বোনের বিয়েতে অংশ নিতে সে সেখানে এসেছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ডাম্প ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

  • রাজশাহীতে চোর সন্দেহে যুবককে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    রাজশাহীতে চোর সন্দেহে যুবককে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    রাজশাহীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) চারু মামার ক্যান্টিনের সামনে এই খুনের ঘটনা ঘটে।

    নিহত যুবকের নাম রাকিবুল হাসান রকি (৩২)। তিনি নগরীর হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    গ্রেফতার তিন শিক্ষার্থী হলেন রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী আতিক, সৈয়ব ও ফাহিম।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুরির সন্দেহে রাকিবুল হাসানকে আটক করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে তাকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার দুই হাত, দুই পা ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত শুরু করে।

    শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাকিবুলের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

    রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হবে বলে জানান ওসি।

  • গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।

    জেলা জামায়াতের আমির ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি শফি উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি মানুষকে খেলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তারা এককভাবে নয়; বরং দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সেই নীতিকে সামনে রেখে এ দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের কর্মীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাতের প্রত্যাশায় কাজ করেন। রুকনরা এ সংগঠনের চালিকাশক্তি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সৎ মানুষের নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

    শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, ড. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • মোদির যোগব্যায়ামে  সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    মোদির যোগব্যায়ামে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিত থাকতে হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।

    ভারতের প্রাচীন যোগব্যায়ামকে দেশের ভেতরে ও বাইরে জনপ্রিয় করতে ক্ষমতায় আসার পরেই বড় ভূমিকা নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী রোববার (২১ জুন) বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস। প্রতিবারই এই দিনে প্রকাশ্যে যোগ চর্চা করেন মোদি। ভারতের প্রচারমাধ্যম বড় করে তা প্রচার করে।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার কলকাতার প্রধান সড়ক রেড রোড সাত দিন বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়ামের পরিকল্পনা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই যোগব্যায়ামের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এ কারণেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।

    বিজ্ঞপ্তিটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় বামফ্রন্টের সরকারি কর্মচারী সমিতি। আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিপিআইএম দলের সাবেক সংসদ সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণের জন্য সরকার নির্দেশ দিতে পারে না।

    বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘আমি যা করতে পছন্দ করি না, সরকার আমাকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে না। এটি ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।’ আদালত যখন মন্তব্য করেন, যোগব্যায়াম যেকোনো জায়গায় করা যেতে পারে।। তখন প্রবীণ আইনজীবী উত্তর দেন, ‘আমি মোটেও এটি করতে চাই না।’

    রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মচারীদের কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রেড রোডের যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানে বৃহত্তম অংশগ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়া।

    বিল্বদল বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি কেবলই একটি আবেদন ছিল এবং যাঁরা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

    রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি নির্দেশটি যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মচারীদের প্রতি একটি সাধারণ আবেদন মাত্র, এটি বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত কারণে কেউ উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি।

    আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের এখন যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠানে না গেলেও চলবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে বিজেপির জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

  • ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত মেলোনি, দিলেন কড়া জবাব

    ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত মেলোনি, দিলেন কড়া জবাব

    জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন।

    ট্রাম্প বলেন, সে (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিল। সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য খুবই মরিয়া ছিল। আমি আসলে ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য খারাপ লাগায় রাজি হয়েছিলাম।

    ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ‘ভিক্ষা’ চায় না।

    মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন আচরণ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    এক বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। এটি প্রথমবার নয়। হতাশাজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের নেতাদের প্রতি অনেক বেশি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন।’

    এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে করা গুরুতর ও অপমানজনক মন্তব্য পুরো ইতালিকেই অপমান করেছে। এজন্য আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত আমার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

  • ইরাকে আইআরজিসি’র গোপন সেল, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা

    ইরাকে আইআরজিসি’র গোপন সেল, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা

    ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব সেল উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আটটি ইরাকি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকে আইআরজিসি সমর্থিত নতুন গোপন সেলগুলোর সংখ্যা তিন থেকে চারটি। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে অভিজ্ঞ ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছে। এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়া শহরের নিকটবর্তী মরুভূমি অঞ্চল থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা।

    নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গোপন সেলগুলোর কিছু সদস্য ইরাকভিত্তিক ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জোট থেকে নেয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি কট্টরপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি ছাতাসংগঠন হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসি-এর কাছে জবাবদিহি করছে। দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারসহ একাধিক সূত্র এই তথ্য দিয়েছে।

    কৌশল বদলাচ্ছে তেহরান?
    পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং ইরানের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ছোট, অধিক আদর্শিক এবং সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সেল গঠন করা হচ্ছে, যাতে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখা যায়।
    ইরাক দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই জোটের আওতায় গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের চাপের মুখে দুটি গোষ্ঠী: আসাইব আহল আল-হক এবং ইমাম আলী ব্রিগেড- এই মাসে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।

    অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি সেনা কর্মকর্তা জাসিম আল-বাহাদলির ভাষায়, আইআরজিসির নতুন গোষ্ঠীগুলো ছোট, বেশি মতাদর্শিকভাবে অনুগত এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন। অর্থনৈতিক চাপে থাকা ইরানের জন্য এটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল কৌশল।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতেও প্রক্সি ইস্যু অমীমাংসিত
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে ইরাকি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, ইরানে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং আইআরজিসির কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

    অন্যদিকে, ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম ব্যারাক সম্প্রতি বৈঠক করে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ এবং ইরাকের ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য ব্যবহার না হতে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ
    ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গোষ্ঠীগুলো কুয়েতে তিনটি, সৌদি আরবে দুটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
    লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক স্থাপনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া, ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরাকভিত্তিক কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।

    একই দিনে সৌদি আরবও ইরাকের আকাশসীমা থেকে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি এসব হামলাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কুয়েত ও আমিরাতের সঙ্গে যৌথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
    তবে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, উল্লিখিত হামলা, নতুন সেলগুলোর কাঠামো কিংবা আইআরজিসির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ইরাকের নতুন সরকারের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং বাগদাদ-ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

  • সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে  বিক্ষোভে শুভেন্দু

    সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে বিক্ষোভে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জন্য বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুন এপিডিআর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সদস্যরা ডোমকল ব্লকের ঘোষপাড়া সর্বপল্লী ভুতগাড়ির মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন। এই মাঠে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই জমির ওপর নির্ভরশীল পাঁচ গ্রামের কৃষক। এই পাঁচটি গ্রাম হলো দক্ষিণ ঘোষপাড়া, সর্বপল্লী, ফরাজীপাড়া, মুরাদপুর এবং উত্তর ঘোষপাড়া। এই জমিতে পাট, গম, কলাই, মুশুরি, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির চাষ এই জমিতে হয়।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলা কমিটির ৯ জন সদস্য। কৃষকেরা এপিডিআরের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জমির পরিমাণ একেবারেই বেশি নয়। কৃষকদের পরিবার পিছু জমি এক, দেড় বা দুই বিঘা। অর্থাৎ তাঁরা ক্ষুদ্র কৃষক।

    এপিডিআরের প্রতিবেদন বলছে, ‘বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এখানকার কৃষকেরা এই জমিতে চাষাবাদ করছেন। জলঙ্গী নদীর ব্যাপক ভাঙনে অনেক উর্বর জমি তলিয়ে গিয়েছে। ফলে এই জমির ওপর এলাকার কৃষকদের বেঁচে থাকা নির্ভর করছে। মাঠে যেসব কৃষি জমি আছে, তা সবই সরকারি খাতায় নথিভুক্ত। জমিও যথেষ্টই উর্বর…এই জমির ওপর নির্ভরশীল পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি। সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে শুভেন্দু সরকার বিএসএফকে জমি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২১ মে ২০২৬, মুর্শিদাবাদANIছবি: এএনআই

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এই জমি চলে গেলে প্রায় তিন হাজার মানুষ পথে বসবে। এই জমি তারা কিছুতেই বিক্রি করবে না। কৃষকেরা মনে করছেন, ক্ষতিপূরণের সামান্য অর্থ জমির তুলনায় কিছুই নয়। জমি বছরের পর বছর ধরে তাদের পরিবারকে খাবার জোগাচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সামান্য টাকা গরিবের পরিবারে আর্থিক টানাটানিতে কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

    এপিডিআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৩১ মে মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ডোমকল মহকুমার এই অঞ্চলে ‘বিএসএফ লাল পতাকার সীমানা লাগিয়ে অধিগ্রহণ করতে যায় এবং কৃষকেরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। ভুতগাড়ির মাঠসংলগ্ন সড়কে বিপুলসংখ্যক কৃষক অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জলঙ্গি থানার পুলিশ ও বিএসএফ এক সঙ্গে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে এলে কৃষকদের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায়।

    এই প্রতিবেদন আরও বলছে, কৃষকেরা এপিডিআরের প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছে, বিএসএফ কৃষকদের চাষের জমি ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় নিজেদের শিবির বানালে তাদের আপত্তি নেই। ডোমকল মহাকুমার এই অঞ্চলের জমিতে হিন্দু-মুসলিম এক সঙ্গে চাষ করেন। পাশের গ্রামে হিন্দু এলাকার কৃষকেরাও এই জমি কিছুতেই দেবে না।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশের হিন্দু গ্রামের অনেকেই এপিডিআরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছে, গত সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা নতুন সরকার এনেছেন। অথচ নতুন সরকার আসার পর সীমান্ত এলাকার চাষিদের জমি বিএসএফ দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁরা এটা কিছুতেই মানবেন না। বিএসএফ, পুলিশ ক্রমশ এলাকার চাষিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। জমি রক্ষার জন্য তারা লড়াই করবেন।

    কৃষকেরা এপিডিআরকে আরও বলেন, গত দুই বছরে বিএসএফ দুবার জমির মাপজোখ করে গেছে। কিন্তু সেই সময়ও কৃষকদের প্রতিরোধের কারণে তারা জমি নিতে আসেনি। এখন আবার জমি নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার বা বিএসএফের তরফে কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

  • ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

    হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত।’

    ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে হামলা চালাতাম না।’

    ইসরায়েলের সামরিক নীতির সমালোচনা করে ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ‘৯ বা ১০ মিলিয়নের (জনসংখ্যা) একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

    তবে এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

    এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এই প্রসঙ্গে জে ডি ভ্যান্স কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি, বরং তারা বুঝে গেল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে কাজ হয়।’

    এই সমালোচনার জবাবে জে ডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে ইরান কোনো ছাড় পাবে না যদি না তারা শর্ত পূরণ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।