সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ফের ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

    ফের ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

    ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শুরু করার পর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী।

    ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আবারও সাধারণ ভ্রমণ ভিসা চালুর ঘোষণা দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ২৮ জুন থেকে ভিসা আবেদন জমা দেওয়া যাবে। মানবিক কারণে জরুরি মেডিকেল ভিসা প্রদানও চলতে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা থেকে এই ভিসা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

    ভারতের এই হাইকমিশনার বলেন, ‘আশা করি, এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। হাইকমিশনার হিসেবে আমি প্রথম কাজটি করলাম। আমি অনেক খুশি। আশা করি, এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবে।’

    এ সময় হাইকমিশনার জানান, তিনি মাঝেমধ্যে ভিসা সেন্টারে এসে সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ নেবেন।

  • খামেনির জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ

    খামেনির জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহর এবং ইরাকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।

    কোয়মের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে বিখ্যাত ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তেহরানের এই আমন্ত্রণ নয়াদিল্লিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।

    কেন এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য কৌশলগত পরীক্ষা

    ভারত ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জ্বালানি, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতের জন্য ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের একমাত্র পথ হচ্ছে ইরানের চাবাহার বন্দর—যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। খামেনি যেহেতু সরাসরি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে (অপারেশন এপিক ফিউরি) নিহত হয়েছেন, তাই এই জানাজায় মোদি বা ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি বলেছেন, ‘খামেনির জানাজা নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের নীরবতা তেহরানের চোখে এক ধরনের কূটনৈতিক ঋণ তৈরি করেছে। তবে জানাজায় ভারতের বেশি হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি আবার ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’

    ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ দিক হলো শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। ইরানের পর বিশ্বজুড়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি শিয়া ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। আয়াতুল্লাহ খামেনি বিশ্বব্যাপী শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ায় ভারতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর আবেগ তাঁর জানাজার সঙ্গে যুক্ত। খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের বহু জায়গায় বড় ধরনের শোক মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুই দিক থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য জরুরি।

    মোদি কি ইরান যাবেন

    কূটনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই জানাজায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়া ওই সময়ে মোদির আগে থেকে নির্ধারিত বহুপক্ষীয় বিদেশ সফর রয়েছে।

    তবে এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ভারত একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল। এবারও খামেনির জানাজায় কোনো সিনিয়র মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

    ভারত বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটে নিজস্ব ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, কোনো পক্ষকে অসন্তুষ্ট না করে নয়াদিল্লি এই কূটনৈতিক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলায় কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখে।

  • ভবনধসের ভয়ে বাইরে রাত কাটাচ্ছেন ভেনেজুয়েলাবাসী

    ভবনধসের ভয়ে বাইরে রাত কাটাচ্ছেন ভেনেজুয়েলাবাসী

    ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ৫ এবং ৭ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইতোমধ্যে এতে প্রাণহানির হয়েছে ১৬৪ জনের। তবে এ সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস। কাঁপিয়ে দেওয়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সম্ভাব্য আফটারশক বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই রাস্তায় তাঁবু স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

    অন্যরা বাগানে বা ফুটপাথে গদি, মাদুর বা চাদর পেতে রাত কাটাচ্ছেন—তারা অপেক্ষা করছেন কখন নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ হবে তা জানতে।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বড় ধরনের আফটারশকের শঙ্কা এখনো রয়েছে।

  • জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসাথে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যাকার খেলা দেখার সময় সঙ্ঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হলো।

    অফিস আদেশ অনুযায়ী, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: আসাদুজ্জামানকে জাবির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

    এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

    উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাটাশে এমিলি পালাউয়ান।

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের টেকসইকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

    সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দুর্নীতি নিরসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

    আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়

    বৃহস্পতিবার ২৫ জুন এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া বউবাজারের দুলালের দুই মেয়ে দুলালী বেগম (২২), তার ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরভী খাতুন (১৪) ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম (১৯)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুলালী বেগম, তার ছোট বোন সুরভী খাতুন ও তাদের ভাবি আকলিমা বেগম বাড়ির পাশে মরা কাল নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় আকস্মিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায় তারা।

    পরে ঘণ্টাখানেক পরও তাদের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন নদীর ধারে গিয়ে দেখতে পায়, তাদের জামা-কাপড় নদীর ধারে পড়ে আছে অথচ তারা তিনজন নিখোঁজ। এ সময় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একটি মুঠ জাল (ঝাকি জাল) নদীতে ফেললে ওই তিন নারীর লাশ জালে উঠে আসে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, মরা কাল নদীর বউবাজার ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারী-পুরুষ গোসল করে আসছে। কিন্তু চলতি বছর আকস্মিকভাবে নদীর তলদেশ গভীর হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে

  • প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের‘সালামি স্লাইসিং’

    প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের‘সালামি স্লাইসিং’

    প্রশান্ত মহাসাগরে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চীন দীর্ঘদিন ধরে ‘সালামি-স্লাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ‘সালামি স্লাইসিং’ হলো একটি ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল, যেখানে কোনো বড় লক্ষ্য বা বিশাল ভূখণ্ড একবারে দখল না করে, অত্যন্ত চতুরতার সাথে ধীরে ধীরে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। সহজ কথায়, একটি আস্ত সালামি সসেজ (মাংসের তৈরি রোল) যেমন একবারে না খেয়ে পাতলা পাতলা টুকরো করে কেটে খাওয়া হয়, এই কৌশলটিও ঠিক সেরকম। আন্তর্জাতিক আইনকে পাস কাটিয়ে করে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না করেই বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

    সম্প্রতি মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনের জাহাজগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে রেকর্ড দূরত্বে গিয়ে ‘আইন প্রয়োগকারী’ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। নিজেদের উপকূল থেকে পাঁচশো মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি বিতর্কিত লেগুনের ভেতরে ‘গবেষণা’ চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের কাছে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবে পরিচিত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’-এর বাইরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর একটি বড় চেষ্টা এটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরপরই চীনের এই সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সেই সফরটি বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। তবে চীনের নেতা শি জিনপিং স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, মার্কিন-চীন সম্পর্কের অবনতির সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান।

    চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে তাইওয়ানকে সামরিক সহয়তা করার ক্ষেত্রে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের মেরিটাইম সেফটি এজেন্সির (এমএসএ) তিনটি বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী জাহাজ ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী চ্যানেল দিয়ে গিয়ে তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় টহল ও মানচিত্র তৈরির কাজ শুরু করে। পর্যবেক্ষকদের মতে এটিই প্রথম কোনো এমএসএ জাহাজের এই সীমানা অতিক্রমের ঘটনা। এই পদক্ষেপ তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ ও সতর্কবার্তা।

    চীনের আধা-সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তারা প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব সমুদ্র সৈকতের তলদেশের মানচিত্র তৈরি করেছে এবং এই জলসীমা এখন থেকে চীনের ‘নিকটবর্তী জলসীমা’ হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে তাদের পূর্ণ শাসনভার চলবে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং’তে এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বেইজিংয়ের আসল উদ্দেশ্য হলো সাম্রাজ্য বিস্তার করা এবং তাইওয়ান তথা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি চীনের হুমকি। একজন তাইওয়ানিজ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন এই বেসামরিক জাহাজ ব্যবহার করে দেখাতে চাইছে যে তাইওয়ানের ওপর তাদের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক বাহিনীর চেয়ে এই বেসামরিক ও অ-সামরিক জাহাজগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্ট্যাটাস কো বা স্থিতাবস্থার জন্য বেশি বিপজ্জনক। কারণ এগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে কম হুমকিস্বরূপ মনে হয়।

    প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে রেডিওর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হলেও পরবর্তী ধাপে চীন তাইওয়ানে আসা জাহাজগুলোকে আটকে দিতে পারে বা চীনের বন্দরে যেতে বাধ্য করতে পারে। এটি তাইওয়ানে আসা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী জাহাজগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট চীনের এই আচরণকে ‘গভীরভাবে অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে এই অঞ্চলের নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সাথে দক্ষিণ চীন সাগরের স্কারবোরো শোল অঞ্চলেও চীন তাদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে।

    ফিলিপাইনের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে থাকা সত্ত্বেও চীন সেখানে কৃত্রিম ভাসমান কাঠামো তৈরি করেছে, যা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্ট তেওদোরো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে চীন আগেও দ্বীপ তৈরি করে সামরিক ঘাঁটি বানানোর বিষয়ে মিথ্যা বলেছিল এবং এবারও তারা গবেষণার নামে জালিয়াতি করছে। ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিপাইনকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের চারটি সামুদ্রিক ড্রোন সরবরাহ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর ও জোরালো প্রতিরোধ না থাকলে চীন এভাবেই একটু একটু করে পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবে।

  • বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে এই ১৩টি সমঝোতা স্মারখ স্বাক্ষর হয় বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক।

    ওদিকে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকাল ৫টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপল এই বৈঠক বসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।

  • ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামত চীন-রাশিয়া-তুরস্ক

    ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামত চীন-রাশিয়া-তুরস্ক

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন। তবে তাঁর অনুরোধে এরদোয়ান সংঘাতে জড়াননি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁর আহ্বানে সংঘাতে জড়াননি।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁর সম্ভাব্য আঙ্কারা সফর এবং তাঁর ভাষায় ‘ভালো বন্ধু’ এরদোয়ান ও তুরস্কের জনগণের উদ্দেশে বার্তা জানতে চাইলে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে পছন্দ করি, তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাতে জড়াননি। তিনি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন—এমনকি হয়তো ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। কারণ, তিনি ইসরায়েলের খুব বড় ভক্ত নন। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি বাইরে ছিলেন।’

    নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প কূটনৈতিক যোগাযোগকে বড় আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যত দিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন তত দিন ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কোনো সংঘাত হবে না। এবারও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, এরদোয়ানকে তিনি সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তা মেনে চলেছেন।

    এরদোয়ান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি বাইরে ছিলেন। এরদোয়ান একজন দুর্দান্ত নেতা, খুব শক্তিশালী মানুষ এবং তাঁর একটি খুব ভালো সামরিক বাহিনী আছে। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি সেটিই করেছেন।’

    তবে শুধু তুরস্ক নয়, আরও কয়েকটি বড় শক্তিকেও তিনি সংঘাতের বাইরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আর জানেন কে অসাধারণ ছিলেন? চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনিও এতে জড়াতে পারতেন। ওই অঞ্চল থেকে তিনি তাঁর তেলের অর্ধেক পান। বুঝতেই পারছেন কেন তিনি এতে জড়াতে চাইতে পারেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে এতে জড়াবেন না। আর তিনি জড়াননি। আমরা ভালো কাজ করেছি।’

    পরে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এবং সি চিন পিংও তা-ই করেছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালো করে দেখেন, পুতিনও তা-ই করেছেন। যদিও বলা যায়, ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্য বিষয়ও আছে। কিন্তু তাঁরা সবাই বাইরে ছিলেন। বিষয়টা বেশ বিস্ময়কর ছিল। মানুষ অবাক হয়েছিল।’

    তবে তুরস্ক ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে পারত বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়। সংঘাত চলাকালে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এরদোয়ান আবারও ইসরায়েলের সমালোচনা করার পর ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জেরুজালেম ও আঙ্কারার মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না। সে সময়ও ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘দেখুন, তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি। আমার হয়তো এটা বলা উচিত নয়। কারণ, মিডিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলবে, “ওহ, তিনি এরদোয়ানকে ভালোবাসেন।’ কিন্তু তিনি একজন দুর্দান্ত নেতা। খুব শক্তিশালী নেতা। খুব শক্তিশালী মানুষ।”’

    তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যা বলছেন, সে ধরনের কিছু আমি একেবারেই শুনিনি। যদি শুনতাম, আমি তাঁকে ফোন করতাম। আর আমি মনে করি, সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলতাম। আমি মনে করি না, তুরস্কের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে। অন্তত আমি প্রেসিডেন্ট থাকা পর্যন্ত নয়। কারণ, তিনি আমাকে সম্মান করেন এবং আমিও তাঁকে সম্মান করি। এর বাইরে আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বও আছে। তাই দেখা যাক।’

  • সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের সালথায় একটি সড়কের উপর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমারকান্দা এলাকার একটি সড়কের উপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    সংবাদ বিশ্লেষণ

    নিহত পান্নু ফকির কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে জামু ফকির একটি জমিজমা সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা লাশটি সড়কের উপর ফেলে রেখে যায়।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • কলকাতার গুদাম ধসে নিহত ১০

    কলকাতার গুদাম ধসে নিহত ১০

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন গুদাম ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে আরও একজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ে। এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।

    বুধবার বিকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও উদ্ধারকাজ চলছিল। উদ্ধারকারীরা সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক ভূগর্ভ অনুসন্ধান প্রযুক্তির সহায়তায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, পাপ্পু রজক, আজগার হোসেন, সাহিল সরদার ও ঘি কুমার। আরও দুইজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সারা রাত ধরে উদ্ধার অভিযান তদারকি করেছেন রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভার কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না তা শনাক্ত করতে সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে মানুষের নড়াচড়া কিংবা হৃদস্পন্দনের মতো সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে শুরু থেকেই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতভর স্বজনদের অপেক্ষায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করতে দেখা যায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর সদস্যদের।

    গুদাম ভবনটি কী কারণে ধসে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না কিংবা নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কলকাতার সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম

    ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম

    ইরান যুদ্ধ ঘিরে কয়েক মাসের অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় তেলের দাম দ্রুত কমছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে এসেছে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রেই তেলের এই দাম গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।

    বাংলাদেশের হিসাব অনুয়ায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল (১ ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৭০২ টাকা (১ ডলার সমান ১২০ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা ৭৩ পয়সা।

    এর মাধ্যমে দুই ধরনের তেলের দামই ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্স বলছে, আগস্টের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় কম ছিল।

    সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য চুক্তিতে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় আগস্টে সরবরাহযোগ্য তেলের দাম কমে যাওয়াটা স্বল্পমেয়াদে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বুধবার (২৪ জুন) এক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন ইরান যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ব্যারেল তেল এই প্রণালি পার হয়েছে। তবে প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা দেরি হবে।

  • মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে মাদারীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ, ইমদাদ মাতুব্বরের সাথে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল, লাভলু মোড়লের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন নিজেদের আধিপত্য দেখাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে খরব পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

    জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

    ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    রদ্রিগেজ বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ডোমিনিকান রিপাবলিক, মেক্সিকো ও এল সালভাদরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করবে।

    তিনি আরো জানান, যারা তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের জন্য হোটেল ও আশ্রয়স্থল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনসেবার জন্য অপরিহার্য নয় এমন সব শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

    সুইজারল্যান্ডের পথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান

    ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ।

    সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে জানিয়ে তিনি একে ‘দুর্যোগ এলাকা’ এবং ‘একটি প্রকৃত ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ভূমিকম্পে ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে লা গুয়ারা রাজ্য থেকে আসতে পারে এমন কোনো সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত নয়।

    এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেছেন যে টার্মিনালে গুরুতর ক্ষতি হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে

  • সুইজারল্যান্ডে আসিম মুনিরকে হত্যার ছক একেছিল মোসাদ

    সুইজারল্যান্ডে আসিম মুনিরকে হত্যার ছক একেছিল মোসাদ

    সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি সম্মেলন চলাকালীন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের একটি পরিকল্পিত হামলা পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মারিও নাওফালের সঙ্গে এক আলোচনায় এসকোবার এই দাবি করেন। তার মতে, এই কথিত ষড়যন্ত্রে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলেন আসিম মুনির এবং সম্ভবত ওই সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা।

    এসকোবার দাবি করেন, এই কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর পাকিস্তানি গোয়েন্দারা পদক্ষেপ নেয়। এরপর পাকিস্তান কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে ইসরাইলকে সরাসরি একটি সতর্কবার্তা পাঠায়।

    এসকোবার বলেন, “মূলত সংক্ষিপ্ত বিষয়টি হলো-পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ সুইজারল্যান্ডে যাওয়া অসিম মুনির এবং সম্ভবত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যদের ওপর একটি গুপ্তহত্যা চেষ্টার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই পাকিস্তানিরা তাদের নিয়মিত মধ্যস্থতাকারী ওমানকে দিয়ে ইসরাইলিদের কাছে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় বলা হয়, ‘যদি আপনারা আমাদের প্রতিনিধি দলকে স্পর্শ করেন, তবে আমরা আপনাদের মানচিত্র থেকে মুছে দেব’, ব্যস। আমি আমাদের সূত্রের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে এটি বলছি।’

    ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি প্রকাশ্যে যেভাবে চিত্রায়িত হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা।

    এই কথিত গুপ্তহত্যার হুমকির বিষয়টি ইসরাইল বা পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও এই সম্মেলন চলাকালীন এমন কোনো হুমকি নিয়ে কোনো সতর্কতা জারি করেনি বা প্রকাশ্যে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

    এদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি প্রচেষ্টার আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক গিয়েছিলেন।

  • ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার হুমকি পাকিস্তানের

    ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার হুমকি পাকিস্তানের

    ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল করতে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এর জবাবে ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আইএসএনএর বরাতে ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম হামশাহরি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

    মূলত ইরান-মার্কিন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আবারো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতেই ইসরাইল এই বিপজ্জনক পরিকল্পনা করেছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এই গুপ্তহত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে আগেই পুরোপুরি জানতে পারে। তবে ভয় পেয়ে বা সতর্কতা হিসেবে আসিম মুনিরের সফরসূচি বা বৈঠকের সময়সূচিতে ইসলামাবাদ কোনো পরিবর্তন আনেনি। এর বদলে চরম সাহসিকতার সাথে ইসলামাবাদ ইসরাইলের কাছে একটি স্পষ্ট ও জরুরি বার্তা পাঠায়।

    বার্তায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের গায়ে হাত দিলে আমরা ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবো। পাকিস্তানের এই পাল্টা হুমকি এতটাই স্পষ্ট ও জোরালো ছিল যে এর ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ ইসরাইলের ছিল না। মুসলিম দেশগুলোর এই অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত মোসাদ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর ফলে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একধাপ এগিয়ে গেল।

  • ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিল ভারত

    ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিল ভারত

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চতর প্রটোকল সুবিধা পাবেন।

    বুধবার (২৪ জুন) ভারত সরকারের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এ কারণে ভারতের বিদ্যমান টেবিল অব প্রিসিডেন্স বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

    ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভারতের প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না।

    টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের একটি সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।

  • ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ ভূমিকম্প

    ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ ভূমিকম্প

    ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।

    সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।

    এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

    ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী হলেও, এগুলো বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে পড়ে না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সেগুলোর আনুমানিক প্রাণহানির সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো—

    ১. ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও’তে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২. যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ১৯৬৪ সালে ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়।

    ৩. ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। ২০০৪ সালে আঘাত হানা ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়।

    ৪. জাপানের তোহোকুতে ২০১১ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

    ৫. ১৯৫২ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ৯ মাত্রার ভূমকম্পে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

    ৬. দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ২০২৫ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। তবে এতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    ৭. চিলির বিওবিও’তে ২০১০ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৫২৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ৮. ইকুয়েডরের এসমেরালদাসে ১৯০৬ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু ‍হয়।

    ৯. ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    ১০. ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।

  • ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহত শতশত, আহত হাজার হাজার, জরুরি অবস্থা জারি

    ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহত শতশত, আহত হাজার হাজার, জরুরি অবস্থা জারি

    ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই দফা ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

    বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়ায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে ধুলোমাখা অবস্থায় জীবিত তিন শিশুকে উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

    দেলসি রদ্রিগেজ লা গুয়াইরাকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় রাজ্যটি ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

  • নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্র। এসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। এ দুই জয়ে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট তুলে নকআউটে উঠেছে মেক্সিকো। তাই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ভার হয়ে খেলবে তারা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ম্যাচটি জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে দলটি।
    অপরদিকে এখনো নকআউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করে তারা। নকআউট পর্বে খেলতে হলে মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। এর আগে ২০০০ মেক্সিকো এবং চেক প্রজাতন্ত্র একটি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। এবার জয়ের ছন্দ ধরে রাখবে চেক প্রজাতন্ত্র, নাকি প্রতিশোধ নেবে মেক্সিকোÑসেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ‘ঘুষ নেওয়ার’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

    এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর ‘ঘুষ নেওয়ার’ ঘটনা তদন্ত করতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে একজন ইউপি সদস্যের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পৃথক আরেকটি দল ঘটনা তদন্তে দেবীগঞ্জে আসছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন এবং কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বদলির আদেশে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

    দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই ওই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

  • অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় যুবক আটক

    অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় যুবক আটক

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরের আঁধারমানিক সীমান্ত এলাকা থেকে পুটন মোল্ল (১৯) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে রামগড় ৪৩ বিজিবির একটি টহল দল। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাকে স্থানীয় ভুজপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভুজপুরের আঁধারমানিক সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসীর সহায়তায় আঁধারমানিক বিওপির (সীমান্ত ফাঁড়ি) একটি বিশেষ টহল দল পুটন মোল্লকে আটক করে।

    জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার বাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার সীমান্তবর্তী রামেন্দ্রনগর এলাকায়। তার বাবার নাম বাদল মোল্ল বলেও তিনি জানান। তবে সীমান্ত পেরিয়ে ঠিক কী কারণে তিনি বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

    রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কড়া নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনির হোসেন (২১) ট্রাকের হেলপার মারা গেছেন। তিনি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাটি বাহিরচর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় সংঘটিত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া অভিমুখে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লালন শাহ সেতুগামী পাটের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দশমাইল নামক স্থানে এলে তার সামনের চাকার টায়ার ফেটে যায়। ট্রাকটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুই পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার মনির হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এরপর যানজট নিরসন করি এবং হাইওয়ে থানাকে বিষয়টি অবগত করি।

    কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, সকালে পাবনা-কুষ্টিয়া হাইওয়ের ১০ মাইলে শ্যামলী পরিবহন ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রায় ২৭০ বছর আগের পলাশীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি আজও আমাদের দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পলাশী কেবল ভাগীরথী নদীর তীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমান বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বুড়িগঙ্গার তীরেও একই ধরনের চক্রান্ত সচল রয়েছে। নব্য সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের রূপ এখন বদলেছে—এখন তারা সরাসরি ভূখণ্ড দখল করে না, বরং দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতিকে পর্দার আড়াল থেকে নিজেদের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আজকের স্বাধীন বাংলাদেশেও মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমদের মতো চরিত্রের অভাব নেই, যারা বিদেশী প্রভুর সেবাদাসত্ব করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দিল্লির আধিপত্যের চরণে সমর্পণ করতে ব্যস্ত।’

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের উক্তি টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’। দেশের মানচিত্র ও পতাকা আলাদা হলেও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজ অরক্ষিত ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের ভেতরের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আদর্শিক দীনতা। ক্ষমতার লোভে এবং নব্য আধিপত্যবাদীদের খুশি করতে দেশের প্রথম সারির দলের জনপ্রতিনিধিরাও সংসদে দাঁড়িয়ে ১৯৪৭ সালের ভূখণ্ডগত সীমানা ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে দেয়ার বা অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-এর পৃথক জাতিসত্তার সীমানা সৃষ্টি না হলে ১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করা সম্ভব হতো না। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং গোলামীর মানসিকতা রুখে দিতে প্রতিটি নাগরিকের মাঝে প্রকৃত স্বাধীনতা ও স্বকীয় মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’

    বিশেষ অতিথির আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘১৭৫৭ সালের পরে প্রায় ১৫০ বছর পরে এসে মুসলমানরা একটি রাজনৈতিক সংগঠন পেয়েছে। যে সংগঠনের উপর দাঁড়িয়ে তাদের দাবি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। রাষ্ট্র, রাষ্ট্র পরিচালনা, শাসন এগুলো সামাজিক বিষয় না। এটা রাজনৈতিক বিষয়। সে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়ে আবার মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এবং যেই মুসলিম লীগের হাত ধরে আমরা দেখি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দীর্ঘ প্রায় ১৫০০ বছরে মুসলমানরা সবচাইতে ভালনারেবল টাইম পার করেছে গত ১০০ বছর। সবচাইতে কষ্টকর, বেদনাদায়ক সময় পার করেছে। উসমানী খেলাফতের পতনের পর এবং এই কঠিন সময়ের মধ্যে মুসলমানদের যদি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য থেকে থাকে, সেটি হচ্ছে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য, মুসলমানদের জন্য, যেখানে ভারতবর্ষে হিন্দু মেজরিটি, সেখানে মুসলিম লিডারশিপ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেগোসিয়েশনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছে। এটি মুসলমানদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল পুরো ১০০ বছরের মধ্যে।’

    ‘আর সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানাটা আজকে দুটি রাষ্ট্র, একটি বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তান। আমি বিশ্বাস করি, এই দুই দেশের মানুষ যদি তাদের হারানো ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং মুসলমানদের যে গ্লোরিয়াস পিরিয়ড, যে গোল্ডেন এইজ মুসলমানদের ছিল, সেগুলোকে যদি আবার ধারণ করে, তাহলে আবারো পৃথিবীর বুকে মুসলমানরা শ্রেষ্ঠত্ব অধিকার করবে এবং তাদের অবস্থান তারা নিশ্চিত করতে পারবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সুভ্যেনিরটা দেখতেছিলাম, যে সুভ্যেনিরে দেখেছি ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে কন্টিনিউ এই পলাশী দিবসের প্রোগ্রামটি করে যাচ্ছে। এই পলাশী দিবস আমাদেরকে বার্তা দেয়, আমরা আমাদের সম্পদ, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সেই গৌরব আমরা হারিয়েছি। আমাদেরকে আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে পরে এই সকল আলোচনা সভা সফল হবে এবং আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রশিবির এমন একটি জেনারেশন তৈরি করবে, যারা তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখবে এবং দেশের উন্নতি এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। এটা এমনভাবেই তার জায়গা দখল করে নেয় এবং বারবার ঘসেটি বেগম ও রায় দুর্লভদের আবির্ভাব হয়, যারা এই দেশে খেয়ে, এই দেশে বড় হয়ে, এ দেশের জনগণের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্য করে আবার এই জনগণের উপরই তাদের বিরোধী সন্ধি চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে শত শত বছরের জন্য বারবার পরাধীন করে রেখেছে।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৮-৪৯ সালের ঠিক এই দিনে (২৩ জুন) একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল—আওয়ামী লীগ। এর জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা না, এর জন্মটাই হয়েছে এই বাংলাদেশকে পরাধীন করে রাখার জন্য এবং যার নজরানা তারা দিয়েছে যখন এদেশের জনগণ পূর্ববর্তী সময়ের মতো তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা যাদের আধিপত্যকে এই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করেছিল, সে আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়েই আবার তারা আশ্রয় গ্রহণ করেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নেচার ও ফিচার যদি হাজার বছরের ইতিহাস আপনারা দেখেন, আপনারা দেখবেন এই অঞ্চলে মৌর্যরা যখন শাসন করত, এরপরে এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে গুপ্তদের শাসন এসেছিল, পালদের শাসন এসেছিল, সেনদের শাসন এসেছিল। মুসলিম সালতানাত এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীন সুলতানি আমল ছিল প্রায় ৬০০ বছর ধরে। মুসলমানরা যখন এখানে শাসন করেছিল—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে এই অঞ্চলে বসবাস করেছিল। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কারণে এই অঞ্চলে মুসলমানরা শত শত বছর শাসন করার পরেও হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা হতো না।’

    শিবির সভাপতি বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন তাদের বাণিজ্য প্রসার করার জন্য এসেছিল, ১৬৩৪ সালে এখানে এসে প্রথম কুঠি স্থাপন করল কাসিম বাজারে। এরপর থেকেই শুরু। কাসিম বাজারে তারা যে কয়জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল, তার সকল কর্মচারী তারা হিন্দু নিয়োগ দিয়েছিল। যার ফলে এখানে একটি হিন্দু আঁতাত তারা গড়ে তুলেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে তলে তলে একটি বিভাজনের রাজনীতি এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৭৫৭ সালে এই অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে যে কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরাধীন করা হয়েছিল, তারা নবাবের একেবারেই কাছের ছিলেন। কেউ ছিলেন নবাবের সেনাপতি, কেউ ছিলেন তার অর্থমন্ত্রী, কেউ ছিলেন তার চাচি, কেউ ছিলেন তার পার্শ্ববর্তী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। এই মানুষগুলোই—মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ—পরবর্তী সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং বিপদের মুখে তাকে ফেলে দিয়ে ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করেছিল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষেরা বারবার পরাধীন হয়েছে, জীবন দিয়েছে। এরপরে বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা চেয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষে বিদ্রোহ করে বারবার, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সে বিদ্রোহ করে বসে এবং শাসকগোষ্ঠী পালাতে বাধ্য হয়। মাঝে মাঝে তারা তাদের আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ইতিহাস বলে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এর পরবর্তী আমাদের জুলাই বিপ্লব শত শত হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে মানুষেরা এই বিপ্লব এনে দেয়।’

    ‘আর শাসক গোষ্ঠীর যারা বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলিশান জীবনযাপন করে, বিপ্লব-বিদ্রোহের পরেই তারা এসে আবার ক্ষমতা দখল করে। তারা চায় না এই রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার হোক, তারা চায় না খুন প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হোক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ১০০ দিনের শাসনে ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে অফিস খুলছে, মিছিল-মিটিং করছে।’

    ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পলাশীর এই আলোচনাগুলো ইসলামী ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাগুলোকে জাতির সামনে, যুবকদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ দেশপ্রেমিক নাগরিক আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা এদেশে এমন কোনো মানুষ তৈরি করব না যারা এদেশে জন্ম নিয়ে এদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাই—ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। নতুন বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের কাছে আমরা আহ্বান জানাই।’

    তিনি সকল খুন ও হত্যাযজ্ঞের বিচার অনতিবিলম্বে এ বাংলার মাটিতে কার্যকর করার অনুরোধ জানান।

    অনুষ্ঠানে এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিব মুসা প্রমুখ।

  • সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

    সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

    খুলনার মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী ইসমাইল শিকদারকে অমানবিক মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে তার বাবা ওমর ফারুক শিকদার সোনাডাঙ্গা থানায় এই মামলা করেন। ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় হওয়া মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ আবদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ডাক্তারপাড়ায় অবস্থিত নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে ওই মাদ্রাসায় পড়া না পারায় গত ১৭ জুন রাতে ইসমাইলকে বেদম মারধর করেন শিক্ষক আবদুর রহমান। এতে শিশুটির মস্তিষ্ক, চোখসহ বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। বিষয়টি নিয়ে গত ২১ জুন সমকাল অনলাইন ও পরদিন ছাপা সংস্করণে ‘মস্তিষ্কে জমাট বেঁধেছে রক্ত, ঘুমের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠছে শিশুটি’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। শিশুটির ছবি ও নির্যাতনের মাত্রা দেখে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

    ওমর ফারুক শিকদারের ভাষ্য, তাঁর ছেলেকে মারধরের ২৪ ঘণ্টা পরও বিষয়টি জানানো হয়নি। দুই দিন পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর দুদিন ইসমাইল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওষুধ খেয়ে মস্তিষ্কের রক্ত না সরলে অপারেশন করতে হবে। তিনি এই নির্মম নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

    সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসাশিক্ষক পলাতক। মাদ্রাসা থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই তিনি গ্রেপ্তার হবেন।

    এ,আর

  • হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    ফরিদপুরে ডিবির ওসি প্রত্যাহার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর পর ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    ওই আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে একই দিন বেলা একটার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবারের দাবি, গত শনিবার বিকেলে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে এবং তার মায়ের সামনেই মারধর করে। পরদিন রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে মৃত্যু হয় তার।

  • বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    নলকূপে কীটনাশক জাতীয় বিষ ঢালার অভিযোগ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে– মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

    মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এরপর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর দাবি, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

    মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেছে। যে কারণে নলকূপের পানি পান করে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটি কোনো নাশকতা কিনা, তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

    নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের ভাষ্য, ৩৭ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর শুনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

    এর আগে সোমবার দুপুরে পৌর বিএনপি ও সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। এসব মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের নেতাকর্মীরা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কায় আমরা রাজপথে সোচ্চার আছি। শান্তিপূর্ণ ঝালকাঠিতে আমরা কোনো নৈরাজ্য হতে দেব না।

    উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২৩ জুন মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের বিষয়ে বেশকিছু দিন ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাতে থাকে। এ বিষয়ে কেউ যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেই কারণে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়।

  • মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক হোটেল নর্থভিউয়ের ছাদ থেকে পরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর সাথে প্রেম ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    বিকেল সাড়ে ৫টায় মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপ পুলিশ কমিশনার ডিবি সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম শাহরিয়ার সাকিন।

    তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর ধাপ চিকলি ভাটা এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণের আলোকে শাহারিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির সাথে শাহরিয়ারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করত। মোবাইলে কথাবার্তা হতো। আত্মহত্যার আগে রিসেট দেয়ায় ওই তরুণীর মোবাইলে কোনো অ্যাপস পাওয়া যায়নি। যথেষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তার বাবা নজরুল ইসলাম।

    তবে গ্রেফতার শাহরিয়ার কোতোয়ালি থানায় জানিয়েছেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমার স্টুডেন্ট ছিল। ওরা চারজন একসাথে আমার ব্যাচ এ পড়তো। পড়ানোর সময় আমি যখন টের পাই মেয়েটি আমাকে পছন্দ করে, তখন আমি ওই ব্যাচটি পড়া বন্ধ করে দেই। পরে ওর মায়ের অনেক রিকোয়েস্টে আর একটা ব্যাচের সাথে পড়িয়েছিলাম। কিন্তু তখন সে আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে নক করে এবং আমাকে পছন্দের কথা জানালে। আমি তিন মাস আগে পড়ানোটা বন্ধ করে দেই এবং তার সাথে সব যোগাযোগও বন্ধ করি। আর ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ায় আমি বিষয়গুলো জানানোর জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে ডিবি অফিসে যাই। তখন ডিবির উপ পুলিশ কমিশনার আমাকে আটক করে ওর অভিভাবকদের দিয়ে মামলা করায়। ওই মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনোভাবেই আমি যুক্ত নই। যদি যুক্ত থাকতাম তাহলে কি নিজেই ডিবি অফিসে যাই।’

    মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমি কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়েছি। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম শাকিন। এক সময় আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো একটা ব্যাচে। আমার একটাই জানার ইচ্ছা আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল ধাপে, কিন্তু কেন গেল নর্থ ভিউ রেস্টুরেন্টে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর নর্থ ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্টের রুফটফের রেলিং থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন সাবেক সেনা সদস্য।

    এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তিনি। এ ঘটনার পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায় এক তরুণী বিকেল ৪টা ৫৪মিনিটে হোটেলটির ছাদে রুফটফ রেস্টুরেন্টে যায়। সেখানে ঘণ্টাব্যাপি মোবাইল অপারেট করতে দেখা যায় তাকে। ৫টা ৪২মিনিটে ছাদের রেলিংয়ে উঠে এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, গোয়েন্দা পুলিশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে আটক করার পর কোতোয়ালি থানায় দিয়েছে। মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

  • লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ভুমি অফিস মাঠে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: মিলন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসন এ কে এম মমিনুল হক, বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো: আফজাল হোসেন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী সহ সংস্থার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় দু’শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বাধা ট্রাম্প, ব্যর্থ হচ্ছেন ড্যান্স ?

    ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বাধা ট্রাম্প, ব্যর্থ হচ্ছেন ড্যান্স ?

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন আলোচনা করছিলেন, ঠিক সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অযাচিত মন্তব্য করে বসেছেন।

    ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক সাংবাদিককে বলেন, ইরানিরা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেন, তাহলে ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে আসা আলোচকেরা আর কখনো নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে তখন ফিরে যাওয়ার মতো কোনো দেশই তাঁদের থাকবে না।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভ্যান্সকে যে কতটা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, ট্রাম্পের বারবার এ ধরনের বাধা তৈরি তারই সবশেষ উদাহরণ।

    গতকাল সোমবার ভ্যান্স বলেন, প্রথম দফার আলোচনা শান্তির জন্য একটি ‘সফল ভিত্তি’ তৈরি করেছে। কিন্তু এখন ভ্যান্সকে এমন একটি যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে, যে যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিজেই বিরোধী ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে তাঁর বসের খামখেয়ালিপনা ও এমন এক শত্রুপক্ষকে সামলাতে হবে, যাঁরা ট্রাম্পের হুমকিতে মোটেও ভয় পাচ্ছেন না।

    গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘গত (রোববার) আমরা ইরানিদের বলেছি, আপনারা যখন এমন কথাবার্তা বলেন, যাকে আমাদের এই প্রজন্মের তরুণেরা ‘ফালতু কথা’ বলে ভাবেন। সুতরাং আপনারা আশা করতে পারেন না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার জবাব দেবেন না এবং সত্যটা তুলে ধরবেন না। তাই তাঁরা যখন অসত্য কিছু বলবেন, প্রেসিডেন্ট অবশ্যই তার জবাব দেবেন।’

    উভয় পক্ষই শত্রুতা বন্ধ করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং এখন ৬০ দিনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী একটি পরমাণু চুক্তি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়নের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণই রয়ে গেছে।

    শান্তি চুক্তিটি নিয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যদি এটি সফল হয়, তবে এর কৃতিত্ব আমি নেব। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে আমি জেডিকে দোষ দেব।’

    ভ্যান্স অবশ্য বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এটি মজা করে বলেছেন। তবে ট্রাম্প কখনোই অন্যের ওপর দোষ চাপাতে দ্বিধা করেন না। আর ভ্যান্স ভবিষ্যতের এই আলোচনাকে কীভাবে সামলান, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফল ও ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ।

    কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো করিম সাদজাদপুর বলেন, ভ্যান্স ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন। একটি অপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করতে পারলে তিনি হয়তো বাহবা পেতে পারেন। আবার এমনও হতে পারে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ‘মার্কিনদের জন্য এক অপমানজনক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক চরম শত্রুকে শত শত কোটি ডলার দিয়ে দেওয়ার চুক্তির মূল কারিগর’ হিসেবে দেখা হবে।

    আরেকটি বিষয় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সেটা হচ্ছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

    সাদজাদপুর বলেন, ‘যেকোনো মার্কিন রাজনীতিক, বিশেষ করে যিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁর জন্য এটি কোনো অনুকূল পরিস্থিতি নয়।’

    মার্কিন নাগরিকেরা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে যুদ্ধ বন্ধ ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য দাবি জানাচ্ছেন। তবে সাদজাদপুর যুক্তি দিয়ে বলেন, মার্কিন নাগরিকেরা আসলে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হচ্ছে, তার ওপর বেশি নজর রাখছে।

    সাদজাদপুর বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনপ্রিয়তার গ্রাফ দ্রুত নেমে গিয়েছিল। কারণ, সেই সময় ১৩ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন।

    ইরানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে করমর্দন করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মাঝখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২১ জুন ২০২৬, সুইজারল্যান্ডছবি: রয়টার্স

    এই গবেষক বলেন, ‘মার্কিনরা যুদ্ধ পছন্দ করেন না। কিন্তু পরাজয় তাঁরা আরও বেশি অপছন্দ করেন।’

    ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড ত্যাগের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, তাতে ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরান তাদের দেশে জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইরানিরা বলেছেন, তাঁরা ‘নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি’ দেননি।

    ভ্যান্স ইরানকে সম্ভাব্য অর্থায়নের ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, কাতার ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছেড়ে দেবে এবং সেই অর্থ দিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম কিনবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সেই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের জনগণের জন্য খাদ্যপণ্য ‘একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আমাদের কৃষকদের কাছ থেকেই কেনা হবে।’

    তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতীতে তাঁরা বলেছেন, এই অর্থ তাঁদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে।

  • কুনাল শাহ ডেলিভারি বয় থেকে হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান

    কুনাল শাহ ডেলিভারি বয় থেকে হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান

    শৈশবে ডেলিভারি বয় ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু করে ভারতের অন্যতম সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তা কুনাল শাহের জীবন কাহিনী যেন কোনো সিনেমার গল্প। এবার তিনি হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

    এ ছাড়া এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, কুনাল শাহকে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি তার নিজের হাতে গড়ে তোলা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেড-এ ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। সংস্থাটি কুনাল শাহকে একজন ‘বিল্ডার মাইন্ডসেট’ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
    মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, কুনাল তার ক্রেডকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসেজিং অ্যাপের প্রধান হিসেবে যে ধরনের উদ্যমী মানসিকতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, সেটা কুনালের মধ্যে আছে।

    কুনাল শাহ এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি খুব অল্প বয়সেই জীবনের সংগ্রাম শুরু করেন। পরিবারের ব্যবসা ব্যর্থ হয়ে আর্থিক সংকটে পড়ার পর মাত্র ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন কাজ শুরু করেন।
    ১৬ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ডেলিভারি বয়, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, মেহেদি কন বিক্রেতা, সাইবার ক্যাফে অপারেটর, পাইরেটেড সিডি বিক্রেতা এবং কম্পিউটার টিউটর হিসেবে কাজ করে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করেন।

    ২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে কুনাল বলেন, বড় কিছু তৈরি করতে হলে সহানুভূতি কোনো বিকল্প নয়, এটি বাধ্যতামূলক। কুনাল বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে হলে তাদের অনুভূতি বোঝা জরুরি।

    তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে সফল প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে নেতৃত্বকে অবশ্যই মানুষের আবেগ ও প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীল হতে হয়। তিনি আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সহানুভূতিহীন নেতৃত্বেও সাময়িকভাবে সফল হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা টিকে না থাকার ঝুঁকি থাকে।

    অন্যান্য ভারতীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মতো আইআইটি বা আইআইএম ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও কুনাল শাহ পড়েছেন মুম্বাইয়ের উইলসন কলেজে দর্শন বিষয়ে। পরবর্তীতে তিনি এনএমআইএমএস থেকে এমবিএ শুরু করলেও তা শেষ করেননি।

    তার মতে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবতার চেয়ে পরীক্ষার নম্বরের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, তাই তিনি নিজে শিখে এগোনোকেই বেছে নেন। কুনাল শাহ বরাবরই বিশ্বাস করেন, সফল হওয়ার জন্য ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতা ও বহুমুখী চিন্তাভাবনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি জানান, ক্রেড-এ এমনও সিনিয়র লিডার আছেন যিনি শুধুমাত্র দশম শ্রেণি পাস। কুনাল নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিগ্রির চেয়ে মানুষের বৈচিত্র ও সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

    ২০১৮ সালে কুনাল নিজের প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে ক্রেড প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত একটি মেম্বারশিপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা সময়মতো ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে ব্যবহারকারীদের পুরস্কৃত করে। এর আগে তিনি তৈরি করেছিলেন ফ্রি চার্জ, যা পরে ২০১৭ সালে এক্সিস ব্যাংকের কাছে বিক্রি হয়।
    বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩ বিলিয়নেরও বেশি, যার মধ্যে ভারতে ব্যবহারকারী ৫০ কোটির বেশি, যা অ্যাপটির সবচেয়ে বড় বাজার।

    বিশ্লেষকদের মতে, কুনাল শাহের এই নিয়োগ ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি বড় অর্জন। হোয়াটসঅ্যাপের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের বাজার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মকর্তারা উচ্চপদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এক অর্থে এখন ভারতীয়দের হাতেই ‘সিলিকন ভ্যালির’ দখল।
    সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, অরবিন্দ কৃষ্ণ, নিকেশ অরোরা, সাজিথ পাই- এসব বড় বড় নামের তালিকায় এবার যোগ দিলেন কুনাল শাহ।

  • ভারতে চোখের জলে ভাসছে ভিটেছাড়া ১৯ পরিবার

    ভারতে চোখের জলে ভাসছে ভিটেছাড়া ১৯ পরিবার

    একদিনে ভেঙে গেল ৩৫ বছরের বসতি। যে মাটিতে ঘর তুলেছিলেন, সন্তানদের বড় করেছেন, যে জমিতে চাষ করে সংসার চালিয়েছেন, সেই মাটি ছেড়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন ১৯টি পরিবার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের নির্দেশে বসতভিটা ছেড়ে যেতে হয়েছে এসব পরিবারকে।

    স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা কোনো অপরাধ করেনি। বছরের পর বছর সরকারি নথিভুক্ত জমিতে বসবাস করার পরও আজ তাদের ঘর ছাড়তে হয়েছে। রানিনগরের চর সরন্দাজপুরের পেঙ্গুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও ভাঙা ঘরের বাঁশ পড়ে আছে, কোথাও উঠোন ফাঁকা। কয়েকদিন আগেও যেখানে শিশুদের কোলাহল ছিল, সেখানে এখন নীরবতা।

    উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আজবার আলি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। চাষাবাদ করেছি, সংসার চালিয়েছি। হঠাৎ করে উঠে যেতে হবে, কখনও ভাবিনি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে জীবন চলবে, বুঝতে পারছি না।‌

    স্থানীয়দের দাবি, ১৯টি পরিবারের মধ্যে অধিকাংশের অন্যত্র ছোটখাটো আশ্রয় থাকলেও মিলন শেখ ও রাইহান শেখের পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের স্থায়ীভাবে থাকার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্তের জীবন এমনিতেই কঠিন। তার ওপর হঠাৎ করে বসতি ছেড়ে চলে যেতে হওয়ায় অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

    সুজান শেখ জানান, এতদিন বাড়ির পাশেই জমিতে কাজ করেছি। গরু-ছাগল পালন করেছি। এখন দূর থেকে সবকিছু দেখাশোনা করা খুব কঠিন হবে। সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, সেই চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড়।

    আজবার আলি, তুফান শেখ, ইউনুস আলি ও মতি শেখসহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের চাষের জমি এখনও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। কিন্তু বসতবাড়ি সরে যাওয়ার পর প্রতিদিন সেখানে গিয়ে কাজ করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বসতিগুলো সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সেখানে নজরদারিতে সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালানের ঝুঁকিও ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।

    স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মাফরোজা বিবি বলেন, এলাকাটি সীমান্তের সংবেদনশীল অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভবিষ্যতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে সীমান্তবাসীর কষ্টের ছবিটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। যেসব মানুষ বছরের পর বছর সীমান্ত পাহারা দেওয়া রাষ্ট্রের ছায়াতেই জীবন কাটিয়েছেন, তারাই আজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

    কাঁটাতারের বেড়া হয়তো সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করবে। কিন্তু সেই বেড়ার ছায়ায় যে বহু মানুষের স্মৃতি, শেকড় আর জীবনসংগ্রামের গল্প চাপা পড়ে যাচ্ছে, রানিনগরের এই ১৯টি পরিবার তারই এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ।

  • ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ: আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের

    ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ: আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান।

    শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের নেতৃত্বকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সমঝোতার ঘোষণার পর তেলের দাম কমেছে এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

    এদিকে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সফলতা ভারতের জন্যও একটি নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল গ্রহণ করলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সহজ নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম বিশ্বে এর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানকে একটি বিশেষ অবস্থান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি প্রবাসীও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    সামরিক শক্তির দিক থেকেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ স্থায়ী সেনাবাহিনীগুলোর একটি পাকিস্তানের রয়েছে। দেশটি চীন ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।

    পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশটির হাতে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়েছে।

    ভৌগোলিক অবস্থানও পাকিস্তানের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত, আফগানিস্তান, ইরান ও চীনের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এবং আরব সাগরের তীরবর্তী অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পাকিস্তান।

    তবে এসব শক্তির পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং মিত্র দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও দেশটির দুর্বলতার অন্যতম দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার দাবিও সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা বা বিচ্ছিন্ন করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • বেন গাভির একজন যুদ্ধাপরাধী, ইসরাইলকে কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া উচিত নয়: বার্নি স্যান্ডার্স

    বেন গাভির একজন যুদ্ধাপরাধী, ইসরাইলকে কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া উচিত নয়: বার্নি স্যান্ডার্স

    লেবানন প্রসঙ্গে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের একটি চরম উগ্র ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বেন গাভিরকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্যান্ডার্স সাফ জানিয়েছেন, জেরুজালেমের (ইসরাইল) বর্তমান উগ্রপন্থী প্রশাসনকে আমেরিকার কোনো ধরনের সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।

    দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চার সেনা নিহতের খবর প্রকাশের পর গত শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেন গাভির দাবি করেন— ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে হবে।’ তার এই উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবেই ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

    এক বিবৃতিতে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “কোনো সভ্য বা বড় রাষ্ট্রের একজন স্বাভাবিক ক্যাবিনেট সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য আসতে পারে না। ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গাভিরের এই মন্তব্যটি মূলত একজন প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীর বক্তব্য।” তিনি স্পষ্ট করেন, যারা একটি পুরো দেশকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাদের পেছনে মার্কিন করদাতাদের ডলার খরচ করা বন্ধ করতে হবে।

    তবে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন চাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার এই উগ্র অবস্থানের পক্ষে পুনরায় সাফাই গেয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “আমেরিকানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বের কাছে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো ফেলনা জিনিস নয়।” একই সঙ্গে তিনি নিজের আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে আবারও জোর দিয়ে বলেন, “পুরো লেবাননকে অবশ্যই পুড়তে হবে।”

    এদিকে লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির (মনিটরিং) জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে ওয়াশিংটন। গত সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে এই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    ওয়াশিংটনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা শেষ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো, বিশেষ করে সব ফ্রন্টে বৈরিতা ও যুদ্ধ বন্ধের (যুদ্ধবিরতি) বিষয়গুলো নিয়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে লেবানন সীমান্তে শুরু হওয়া ইসরাইলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি বোমাবর্ষণের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাসিন্দা। এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিশেষ বর্ধিত আলোচনা সম্পন্ন হলো।

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কায় সেনা মোতায়েন, বিশেষ ইউনিট গঠন

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কায় সেনা মোতায়েন, বিশেষ ইউনিট গঠন

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে শ্রীলঙ্কায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। এই ইউনিট মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজ করবে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শ্রীলঙ্কা-এ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা সতর্ক করে বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র হুমকি দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা বর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে চাইনি।’ মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে ইরান কেবল পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল।

    গালিবাফ বলেন যে, ‘আলোচনার মাঝপথে আমি জানতে পারি যে ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।’ এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

    ইরানি স্পিকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে ট্রাম্পের এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।

    তিনি জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষে বলেন যে, ‘আমি ভ্যান্সকে বলেছিলাম যে আমরা এখানে আলোচনার টেবিলে বসে আছি এবং আমাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষকে হুমকি দেওয়া বা সামরিক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আজকেই নতুন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরান কখনোই কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা পরিচালনা করে না।’

    এই ঘটনার পরপরই ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকটি সমাপ্ত ঘোষণা করে আলোচনার টেবিল থেকে একযোগে উঠে দাঁড়ায় এবং সভাকক্ষ ত্যাগ করে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ‘আমরা আলোচনা শেষ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি এবং সেখানে আর কখনোই ফিরে যাইনি।’ পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি জরুরি বৈঠক বসার জন্য জোরালো আকুতি জানালেও তেহরান ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়।

    আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আবাসে এসে দেখা করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাদের বলেছি যে আমরা কেবল আপনাদের সঙ্গেই কথা বলব, তবে আমেরিকানদের সঙ্গে আমরা আর কোনো ধরনের সংলাপে বসব না।’

    পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দীর্ঘ ৮০ মিনিট যাবত ইরানের সঙ্গে এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করেন এবং সবশেষে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

    এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যরাতে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে এক চরম হুমকি দিয়ে বসেন। তিনি বলেন যে ইরান যদি নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা চালায় তবে পৃথিবীর বুকে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

    তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বলেন যে, ‘আপনারা আর নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাবেন না এবং প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই পুরো হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে তুলে নেব।’ ওই একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কথা বলা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ‘তার নিজের মুখ সামলে কথা বলা উচিত এবং তিনি যদি সোজা না হন তবে আমরা পুরো দেশের বাকি অংশও আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।’

    উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ-টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।

    এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া।

  • দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে হেনস্তার ব্যাখ্যা দিল ভারত

    দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে হেনস্তার ব্যাখ্যা দিল ভারত

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তা করা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের পর এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছেন, জাহেদ উর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত পাসপোর্টে ভারত সফর করছিলেন।

    সম্প্রতি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে যান জাহেদ উর রহমান। সেখানে তাঁকে ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এ ঘটনার পরই তৈরি হয় সমালোচনা। ভারতীয় দূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা।

    এই ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে।

    রণধীর জয়সোয়াল জানান, জাহেদ উর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত বেসরকারি পাসপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন এবং তাঁর সার্ক ভিসা ছিল। ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের পর যখন জানা যায় তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন, তখন তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

  • এক বছরে ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল

    এক বছরে ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো ওরাকল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে গত এক বছরে প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল। কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওরাকলের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার। এক বছর আগে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    ওরাকল জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে জনবল প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ভবিষ্যতেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে ওরাকলের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে বর্তমানে এআই অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। ওরাকলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    শুধু ওরাকলই নয়, এআই খাতে বড় বিনিয়োগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামাজন ও মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রযুক্তি খাতে এক লাখের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

    এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ওরাকলে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের খবর বিভিন্ন কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে উঠে এলেও তখন এর প্রকৃত পরিসর জানা যায়নি। বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাই, বিদায়ী ভাতা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনায় গত এক বছরে তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে একই খাতে ব্যয় ছিল ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।

    তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে ওরাকল। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কিছু পদে দক্ষ জনবলের ঘাটতি তৈরি হলে উৎপাদনশীলতা কমতে পারে এবং এর প্রভাব ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর পড়তে পারে।

    বর্তমানে ওপেনএআই ও মেটার মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের জন্য ডেটা সেন্টার স্থাপনের বাজারে শক্ত প্রতিযোগিতার মধ্যেই রয়েছে ওরাকল। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কোম্পানিটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • পাকিস্তান পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    পাকিস্তান পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সফরের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু।

    সফরকালে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া দুই দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নের মতো বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করবে।

    এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।

    পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করলে তাঁকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা।

    এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তান সফর করছেন।

    সফরকালে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সিনেটের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকারও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মাসউদ পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীরা

    কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীরা

    সোমবার (২২ জুন) সকালে ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সহকর্মী ও স্ত্রীকে পাশে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। তিনি স্বীকার করেন যে, বৃটেনকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি আর সঠিক ব্যক্তি নন। বৃটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নির্বাচনী জয় অর্জন করেও দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে স্টারমারকে।

    গত ১০ বছরে দেশটিতে স্টারমারসহ ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    পূর্বসূরিদের মতো স্টারমারও দেশটির নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্যর্থ হন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর থেকে বৃটিশদের জীবনমান কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক ধাক্কা- বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারি- জাতীয় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে সরকারি ব্যয় সীমিত করে ফেলেছে।
    এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাও বৃটিশ সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

    বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডল বলেন, স্টারমার এবং তার পূর্বসূরি লিজ ট্রুজ ও বরিস জনসন জনগণের কাছে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়ায় বৃটেন এখন গভীর সংকটে পড়েছে।
    স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রসঙ্গে সেলডন বলেন, যদি বার্নহ্যামও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ হন, তাহলে বৃটেনের ভবিষ্যৎ খুবই অন্ধকার।

    একসময় স্থিতিশীলতার প্রতীক ছিল বৃটেন
    একসময় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো বৃটেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা মার্গারেট থ্যাচার এবং টনি ব্লেয়ার আধুনিক বৃটেনের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
    কিন্তু ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট বৃটিশ অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অতিরিক্তভাবে আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা দেশটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতি বৃটেনকে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দুর্বল করে দেয়।
    সর্বশেষ কোনো বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছিলেন, তিনি ছিলেন টনি ব্লেয়ার। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।

    একসময় ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের জন্য বৃটেন ইতালিকে বিদ্রূপ করত। এখন অনেকেই ঈর্ষার চোখে তাকাচ্ছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দিকে। টানা প্রায় চার বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী সরকারপ্রধান হওয়ার পথে রয়েছেন।
    অনেক বিশ্লেষক বৃটেনের বর্তমান অস্থিরতার জন্য ২০১৬ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের গণভোটকে দায়ী করলেও, সরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
    ইন্সটিটিউট ফর গভর্মেন্টের (আইএফজি) জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং সাবেক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জিল রাটার মনে করেন, সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট থেকেই।

    তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে তাদের জীবন উন্নত হচ্ছে না, এমনকি তাদের সন্তানদের জীবনও আগের চেয়ে ভালো হবে বলে তারা মনে করছেন না। আর এরপর আসা প্রতিটি সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে।
    ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়ে বৃটেন তার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি আমূল পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে পুনরায় জোরদার হয় স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলন, কারণ স্কটল্যান্ডের অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
    অন্যদিকে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যাপক সরকারি ব্যয় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের প্রভাব মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপের ফলে বৃটেনের সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    যদিও জাপান, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ফ্রান্সের ঋণের অনুপাত আরও বেশি, তবুও বৃটেনে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ঋণ গ্রহণের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
    ২০২৫ সালে সুপারমার্কেট চেইন আসডা এবং সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বৃটেনে গড় প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য আয় বাড়লেও নিম্ন আয়ের ৪০ শতাংশ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা ২০২১ সালের তুলনায় কমে গেছে।

    ‘কেন কিছুই কাজ করছে না’
    বৃটেনের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা স্যাম ফ্রিডম্যান তার বই ফেইল্ড স্টেট: হোয়াই নাথিং ওয়ার্কস অ্যান্ড হাউ উই ফিক্স ইট-এ যুক্তি দিয়েছেন যে বৃটেনের শাসনব্যবস্থা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সক্ষম নয়।
    এদিকে, দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য রজার গেল মনে করেন, বৃটিশ রাজনীতির সংস্কৃতিও অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ রাজনীতিবিদদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
    তিনি বলেন, সরকারকে ধীরগতিতে চলতে হবে। খুব বেশি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর অনেকগুলোই খারাপ এবং অনেকগুলোর খসড়াও দুর্বল। আমাদের আরও পরিণত সরকার প্রয়োজন।

    স্টারমার সরকারে এসে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেননি বলে সমালোচিত হন।
    অন্যদিকে, বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে তাকে দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন করে দেশের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে হবে।
    স্টারমারের কাছে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক মন্তব্য করেছেন, বার্নহ্যামের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা জরুরি।
    তিনি লিখেছেন, তা নাহলে তিনিও আরেকজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠবেন, যিনি রাত জেগে ভাববেন- কেন কিছুই কাজ করছে না।

  • তুলসি গ্যাবার্ড হিন্দু গুরু থেকে রাজনৈতিক পরামর্শ নিতেন

    তুলসি গ্যাবার্ড হিন্দু গুরু থেকে রাজনৈতিক পরামর্শ নিতেন

    সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড তাঁর শৈশব থেকে পরিচিত একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়েন্স অব আইডেন্টিটি ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য রেবেকা সল্টজবার্গের দেওয়া ২৫ হাজারের বেশি পৃষ্ঠার নথির ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    গ্যাবার্ড, যিনি একসময় ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ছিলেন এবং পরে রিপাবলিকান দলে যোগ দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ২২ মে তিনি স্বামীর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাবার্ড ছোটবেলা থেকেই সায়েন্স অব আইডেন্টিটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির নেতা ক্রিস বাটলারকে তিনি আগে তাঁর “গুরু” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গ্যাবার্ডের বাবা-মাও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    সাবেক সদস্যদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বাটলার অনুসারীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতেন এবং রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তবে সংগঠনটি নিজেদের “কাল্ট” বা বিতর্কিত ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাটলারের কার্যালয়ের ব্যবহৃত একটি ই-মেইল ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত নথিতে কংগ্রেসে গ্যাবার্ডের কাজ, নীতি অবস্থান, টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পরামর্শমূলক মেমো পাওয়া গেছে।

    নথিগুলোর মধ্যে সিরিয়া ইস্যু নিয়েও কয়েকটি মেমো ছিল। ২০১৬ সালের আগস্টের একটি নথিতে তৎকালীন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কৌশল নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, কিছু নথির পরামর্শের সঙ্গে গ্যাবার্ডের পরবর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া গেছে।

    তবে তুলসি গ্যাবার্ড এর আগে অস্বীকার করেছেন যে ক্রিস বাটলার তাঁকে রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করেছেন। তাঁর প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট নথি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে অভিযোগ করেছেন, সংবাদপত্রটি তাঁর হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিরূপ প্রচার চালাচ্ছে।

  • ইরানের ৫০ বিলিয়ন ডলার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের ৫০ বিলিয়ন ডলার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

    দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতার আওতায় ইরান সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা পেতে পারে বলে জানা গেছে। চুক্তির ফলে আগে থেকে অবরুদ্ধ থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

    আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রথমে দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়। ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তহবিল ছাড় করা হবে। এরপর ৬০ দিনের আলোচনাকালে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার উন্মুক্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অবমুক্ত তহবিলের মোট মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    তবে এই অর্থ ইরানের হাতে সম্পূর্ণ অবাধ নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে, এমন অর্থ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    চুক্তির আওতায় মুক্ত হওয়া অর্থ প্রধানত খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মতো খাতে ব্যয়ের অনুমতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, অনুমোদিত মার্কিন-সংযুক্ত বাজার ও আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব পণ্য ক্রয় করতে হবে।

    এই শর্তগুলো নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এখন পর্যন্ত ইরান প্রকাশ্যে কোনো আপত্তি জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

  • চলতি মাসেই প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    চলতি মাসেই প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) চলতি মাসেই তাদের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন সেবা চালু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইউএইর যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আবুধাবির নতুন রেলস্টেশন উদ্বোধন করার পর এ ঘোষণা আসে।

    ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ জুন আবুধাবি ও ফুজাইরাহর মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। পরবর্তীতে এই যাত্রীবাহী রেলসেবা দেশটির সাতটি আমিরাতের মধ্যে চারটিকে সংযুক্ত করবে।

    আবুধাবি থেকে ফুজাইরাহ রুটে স্ট্যান্ডার্ড শ্রেণির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ দিরহাম (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার) এবং প্রিমিয়াম শ্রেণির ভাড়া ১২০ দিরহাম (প্রায় ৩২ মার্কিন ডলার)।

    দুবাইয়ের রেলস্টেশন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চালু হবে। আর প্রতিবেশী আমিরাত শারজাহর প্রধান স্টেশন ২০২৭ সালের ৩০ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য আমিরাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষাও শুরু করা হবে।

    স্টেশন উদ্বোধনকালে শেখ খালেদ বলেন, “এই প্রকল্প একটি সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইউএইর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এটি বিভিন্ন আমিরাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে, মানুষ ও পণ্য পরিবহনকে আরও দক্ষ করবে এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও নগর উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।” নতুন রেলবহরে মোট ১৩টি ট্রেন থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ৪০০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।

    মঙ্গলবার থেকেই যাত্রীরা টিকিট বুক করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দুবাই ও আবুধাবির মধ্যে হাইপারলুপ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।

    এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও অগ্রগতি সীমিত। গত ডিসেম্বরে সৌদি আরব ও কাতার উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীগুলোকে সংযুক্ত করতে একটি উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

    এ ছাড়া ২০২২ সালে ওমানের সোহার বন্দর ও আবুধাবিকে সংযুক্ত করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি রেল প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

  • ইউরোপজুড়ে ভয়ানক তাপপ্রবাহ

    ইউরোপজুড়ে ভয়ানক তাপপ্রবাহ

    ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হলো। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বারবার ফিরে আসা তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি স্পষ্ট লক্ষণ। তারা সতর্কবার্তা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরণের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হবে। প্যারিস থেকে বার্তা সর্ংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি মঙ্গলবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে জানান, সপ্তাহের শেষে দেশটিতে প্রায় ২০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

    তিনি তাপ থেকে বাঁচতে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রসৈকতে ভিড় করা মানুষকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

    সোমবার দেশটির সিভিল সিকিউরিটির এক মুখপাত্র সপ্তাহের শেষে পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিলেন।

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও একটি সংকটজনক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, শীতলীকরণের জন্য কাছের নদী থেকে নেওয়া পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে পড়েছিল।

    বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, তুলুজের কাছে অবস্থিত গলফেশ পারমাণবিক কেন্দ্র গ্যারন নদীর পানি ব্যবহার করে শীতল করা হয়। তবে নদীর পানির তাপমাত্রা নিরাপদ সীমা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

    চরম গরমের কারণে ফ্রান্সে এক হাজার ৩৫০টির বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির গড় তাপমাত্রা জুন মাসের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    মেতেও ফ্রান্সের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দিন ও রাত মিলিয়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল।

    মঙ্গলবারের জন্য ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬ বিভাগের মধ্যে ৫৪টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রভাবিত হবে।

    -বেলজিয়ামে রেকর্ড তাপপ্রবাহের আশঙ্কা-

    বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহ এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আইআরএমের পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান ডেভিড ডেহেনাউ সতর্ক করে বলেছেন, এটি হতে পারে ‘এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া’ সবচেয়ে উষ্ণ সময়।দেশটির কয়েকটি স্কুলে পাঠদান অর্ধদিবসে সীমিত করা হয়েছে।

    জার্মানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের শেষে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাভারিয়ার দুটি হ্রদে ২০ ও ২২ বছর বয়সী দুই যুবক ডুবে মারা গেছেন। বাল্টিক সাগরে মারা গেছেন ৭৯ বছর বয়সী এক নারী।

    এ ছাড়া ব্রান্ডেনবুর্গ ও নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার হ্রদগুলোতেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ সোমবার জানায়, আগের দিন ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগে একটি বিমান রানওয়ের পাশে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকায় গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন যাত্রীকে জরুরি সেবা দিতে হয়েছে।

    ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সোমবার একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    স্থানীয় প্রসিকিউটর এলেন মুরজেস বলেন, তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

    প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘চরম গরমের সময়ে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। রেলপথ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।’

    তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছি। যারা বাসা থেকে কাজ করতে পারেন, তাদেরও তা করতে বলা হয়েছে।’

    -যুক্তরাজ্যে বিরল সর্বোচ্চ সতর্কতা-

    যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের তাপ সতর্কতা জারি করেছে।

    ছায়াযুক্ত স্থানেও কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার মেট অফিস জানায়, লন্ডন, বার্মিংহাম ও বাথসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ‘ব্যতিক্রমধর্মী গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া’ বিরাজ করবে।

    গত মাসেই মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছিল যুক্তরাজ্য।

    আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, জুন মাসের বিদ্যমান সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও এবার ভাঙতে পারে। বর্তমানে এ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৭৬ সালের জুনে সাউদাম্পটন এবং ১৯৫৭ সালের জুনে ক্যামডেন স্কয়ারে রেকর্ড করা হয়েছিল।

  • ইলন মাস্ক শেয়ারবাজারে ৩ দিনে হারালেন ৬০০ বিলিয়ন ডলার

    ইলন মাস্ক শেয়ারবাজারে ৩ দিনে হারালেন ৬০০ বিলিয়ন ডলার

    শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত অভিষেকের পর টানা তিন দিন ধরে কমছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড (বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড) বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই ধস নামে। মূলত নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় ধরনের ঋণ নেওয়ার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে কোম্পানিটি।

    গতকাল সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪.৬০ ডলারে নেমে বন্ধ হয়েছে। এটি কোম্পানিটি লেনদেন শুরু করার পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। এর ফলে গত তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে মোট ২৩ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে স্পেসএক্স ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে।

    জোন্সট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও’রুরকে বলেন, ‘বিক্রেতারা আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছেন। বিশ্বের যারা এটি কিনতে চেয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যে তা কিনে ফেলেছেন।’

    রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার পর স্পেসএক্সের প্রথম দিনগুলোর লেনদেনে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সাধারণত কম ফ্লোট (লেনদেনের জন্য থাকা শেয়ারের স্বল্পতা) এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহ থাকা নতুন আইপিওগুলোর ক্ষেত্রে এমন অস্থিরতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দিনে মোট শেয়ারের মাত্র ৪.২ শতাংশ বাজারে লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে সোমবারের এই বড় লোকসানের পরও স্পেসএক্স বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে এর শেয়ারের দাম আইপিও মূল্য ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি রয়েছে।

    রকেট, স্যাটেলাইট এবং এআই খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম বন্ড ইস্যু থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। এ ছাড়া স্পেসএক্স গত সোমবার রিফ্লেকশন এআই নামের একটি এআই স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার জন্য কোটি কোটি (মাল্টিবিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইলন মাস্কের এক্সএআই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণে তাদের এই লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল ছিল। কারণ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিক পিবিসি এবং ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই চলতি বছরের মধ্যে বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে। বাজারে আসার সময় তাদের সম্ভাব্য বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো আইপিও-র তুলনায় স্পেসএক্সের (যার আনুষ্ঠানিক নাম স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পোরেশন) খুচরা বা রিটেইল লেনদেন ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে নেট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছেন।

  • মার্কিন অস্ত্রনির্ভরতা থেকে ইসরাইলকে বের হতে হবে: নেতানিয়াহু

    মার্কিন অস্ত্রনির্ভরতা থেকে ইসরাইলকে বের হতে হবে: নেতানিয়াহু

    মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা বন্ধ করে ইসরাইলকে নিজস্ব অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিও অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা যে সমর্থন পেয়েছি, আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’

    এমন এক সময়ে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এলো, যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ ইসরাইল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

    তবে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন দখল করে রাখা অব্যাহত রাখবে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ‘ধূলিসাৎ’ করবে।

  • গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৩০৩৯

    গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৩০৩৯

    ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় দু’জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।

    মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আগের হামলায় নিহত আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৩৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ জন।

    মন্ত্রণালয় আরো জানায়, অক্টোবরে গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও তিন হাজার ২৮০ জন আহত হয়েছেন।

  • কলকাতায় ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’ এখন ‘গোপাল মুখার্জী রোড’, তীব্র বিতর্ক

    কলকাতায় ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’ এখন ‘গোপাল মুখার্জী রোড’, তীব্র বিতর্ক

    কলকাতার একটি পরিচিত রাস্তা ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পাল্টে গোপাল মুখার্জী রোড করার ঘোষণা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কলকাতা পৌর সংস্থার পক্ষ থেকে নেয়া নাম বদলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি পোস্ট ওই বিতর্কে জুগিয়েছে আরো ইন্ধন।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের শেষ প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময়ে সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দাঙ্গা থামাতে না পারা নিয়ে ইতিহাসবিদদের একাংশ তাকে দোষারোপ করেন।

    রাস্তাটি অবশ্য তার নামে ছিলই না। কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলের ওই রাস্তাটি আসলে ছিল হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে। কলকাতা শহরের ইতিহাসবিদ হিসেবে যার গবেষণা উল্লেখযোগ্যভাবে স্বীকৃত, সেই পি থাঙ্কাপ্পন নায়ার তার বইতে তথ্যসূত্র দিয়ে সেকথা লিখে গেছেন।

    হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অধ্যাপক, কূটনৈতিক, শিল্প সমালোচক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ভিসি। যে রাস্তার নাম বদলানো হয়েছে, সেখানেই শিক্ষাবিদ হাসান সোহরাওয়ার্দীর বাড়ি। সেখানে এখন রয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্র।

    তবে হাসান সোহরাওয়ার্দী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দুজনেই অবশ্য সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। কিন্তু দুই সোহরাওয়ার্দীর নাম গুলিয়ে ফেলেছেন অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী, এমনকি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এই নাম বিভ্রাটে ভুল শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। বিতর্কের শুরু অবশ্য হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর দেয়া পোস্টকে ঘিরে।

    ‘এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হয়েছে, যার ভূমিকা বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সাথে জড়িত। আজ সেই অধ্যায়ের সংশোধন করে সাহস, আত্মত্যাগ ও রক্ষকের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জীকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো,’ লেখা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর ভেরিয়ায়েড ফেসবুক পেজে।

    তিনি যে রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট। আবার যার নামে রাস্তার নতুন নামকরণ হলো, সেই গোপাল মুখার্জীও সেই ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’র কারণেই পরিচিত। হিন্দুত্ববাদীরা গোপাল মুখার্জী, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে সুপরিচিত, তাকে ১৯৪৬-এর দাঙ্গার সময়ে ‘হিন্দুদের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরেন, আবার একজন ‘মুসলিম-বিদ্বেষী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টাও করেন কেউ কেউ।

    তবে গোপাল মুখার্জী বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, হিন্দুদের রক্ষা করতে তিনি অস্ত্র হাতে নেমেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অনেক মুসলমানেরও প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তখন।

    কেন এ রাস্তাটির নাম বদলাতে চায় সরকার
    এক বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক ভিভেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। ওই ছবিটি মুক্তির সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন যে, কলকাতায় গোপাল মুখার্জী ওরফে গোপাল পাঁঠার নামে একটি রাস্তা থাকা উচিত।পরিচালক অগ্নিহোত্রী দাবি করেছিলেন, ‘কলকাতার কসাইয়ের নামে রাস্তা থাকলেও গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা নেই।’ এই গোপাল মুখার্জীকে তিনি কলকাতার দাঙ্গা থেকে ‘হিন্দুদের বাঁচানোর নেতা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।মুখার্জীর একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল, যার থেকে তার নামকরণ হয় ‘গোপাল পাঁঠা’।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পৌর সংস্থার নাম বদলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গতকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সোহরাওয়ার্দী এভিনিউর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জীর নামে “গোপাল মুখার্জী রোড” নামকরণ করার জন্য কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের গৃহীত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধু একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।’

    তবে গোপাল মুখার্জী হিন্দু মহাসভা বা অন্য কোনো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না, বরং কংগ্রেস নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই জানা যায়।

    যদিও গোপাল মুখার্জী বিবিসির সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ‘আমি ডাক্তার বিসি রায়ের (বিধান চন্দ্র রায়) ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি কোনো পার্টির নই। আমি মানুষকে সাহায্য করি। আমি কোনো পার্টি করি না।’

  • মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের জেরে ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

    মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের জেরে ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

    ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ-মাদরাসা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাজ্যের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের লক্ষ্য করে গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, বাড়িঘরে বুলডোজার অভিযান এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পরিস্থিতি দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করা হয়।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বোর্ডের নেতারা বলেন, বিষয়টি শুধু একটি সম্প্রদায়ের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক ঐক্যের সঙ্গেও জড়িত।

    মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ-ভোজশালা সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বোর্ড। তাদের মতে, ওই রায় ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথিপত্র এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলায় সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের সমালোচনাও করা হয়। বোর্ডের বক্তব্য, কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থীর ওপর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোতে এ নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। বোর্ডের নেতাদের মতে, গানটির কিছু অংশ মুসলমানদের একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বোর্ডের দাবি, এমন উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার পরিপন্থী। উত্তরাখণ্ডে এ সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের মতো অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। এ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

    বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দেদি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম, আইনজীবী, সমাজনেতা এবং বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

  • মমতার বিদায়, তৃণমূলের চেয়ারম্যান হলেন অরূপ রায়

    মমতার বিদায়, তৃণমূলের চেয়ারম্যান হলেন অরূপ রায়

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক সময় যা কল্পনাতেও ভাবা কঠিন ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তবে দেখা গেল। যে দলটি প্রায় তিন দশক আগে গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই সরিয়ে দেওয়া হল তাকে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।

    সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর। বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে এত বড় পরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখ এবং প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। সর্বশেষ ২০২২ সালে সেই কমিটি গঠিত হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি তৈরি হয়নি। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।এরপর দ্রুত গতিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে ওঠারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠককে তারই প্রকাশ্য রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। অরূপ রায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন রাজ্য নেতৃত্বেরও ঘোষণা করা হয়। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। একই সঙ্গে অতীতের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির স্পষ্ট বার্তা দিল যে তারা পুরনো নেতৃত্বের ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়তে চায়। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের কাছে ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। এক সময় যার নামেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় তৈরি হয়েছিল, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের দলেই নেতৃত্ব হারাতে হল।

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এখন দেখার বিষয়, এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে কি না এবং আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

  • বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন নিহতের বাবা উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান।

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বোনারপাড়া সরকারি কাজি আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় অংশ নেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, গাইবান্ধা জেলার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, সাঘাটা উপজেলার আমির ইব্রাহিম, সেক্রেটারি আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা প্রমুখ।

    উলেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় সাইফুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

    রোববার রাতে জেলা যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    এ ঘটনায় রাতেই যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। এছাড়া রাতে রাজধানীতে ও আজ (সোমবার) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

  • ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪

    ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থীকে প্রথম তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। আগুন থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টার সময় এক ব্যক্তিকে নিচে পড়ে যেতেও দেখা যায়।

    ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ওই বহুতল ভবনটিতে কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকান (পেট শপ) এবং বেশ কিছু অন্যান্য দোকানপাট ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলা এই বিধ্বংসী আগুন শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন।

    এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশাসন এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

  • সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে খুন

    সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে খুন

    সাইপ্রাসের লারনাকায় ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সে দেশে চলমান তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ৯ দিন ধরে অনুসন্ধানের পর মামলাটি এখন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রূপ নিয়েছে।

    লারনাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা এ ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা একজন ২২ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শাহরিয়ারকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনাউ অভিবাসী অভ্যর্থনাকেন্দ্র এবং স্থানীয় কসাইখানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাঁকে লারনাকা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করার কথা আছে।

    ফরেনসিক দল মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার স্থানটি ঘিরে রেখেছে। ঘটনার বিস্তারিত আলামত সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কয়েক মাস আগে লারনাকা শহরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ওরোকলিনি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ১২ জুন শাহরিয়ার তাঁর ফ্ল্যাটমেটদের বলেছিলেন, তিনি কোফিনাউতে একটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সেটি ছিল তাঁর কাজের প্রথম দিন।

    ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহরিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সর্বশেষ ১২ জুন রাতের দিকে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে একটি ডিজিটাল লোকেশন পিন পাঠিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁর ফোনের সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।

    নো হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) পণ্য খালাসের কাজে ব্যবহৃত একটি আরটিজি (রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি) ক্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর যৌথ ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থ এলাকায় থাকা ‘আরটিজি-৪০১৪’ নম্বর ক্রেনটিতে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে টার্মিনালের ভেতরে আগুন লাগার খবর পান তারা। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চটজলদি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরের দিকে এনসিটির দক্ষিণ প্রান্তের ৪ নম্বর বার্থে অবস্থানরত একটি আরটিজি ক্রেনে আকস্মিক আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেয়।

    তিনি জানান, আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এই তিন বাহিনীর সমন্বিত ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    বন্দর সচিব আশ্বস্ত করে বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আগুনের ধাক্কা সামলে বর্তমানে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম যথানিয়মে চলছে।

  • বাড়ি বাচাতে বিজেপিতে গেলেন ইউসুফ পাঠান

    বাড়ি বাচাতে বিজেপিতে গেলেন ইউসুফ পাঠান

    ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য (এমপি) ইউসুফ পাঠান একটি জমি নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। গুজরাটের ভদোদরা শহরে ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ওই জমি প্রকাশ্যে নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় পৌরসভা।

    একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল ও কাদা-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

    ঘটনাটি গুজরাটের ভদোদরা শহরের তানদালজা এলাকার। ২০১২ সালে সাবেক এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ওই এলাকার ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি সরকারি প্লট ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেওয়ার আবেদন করেন। ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি) সে সময় কোনো প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই প্রতি বর্গমিটার ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি দরে জমিটি পাঠানের নামে বরাদ্দ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

    প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য গুজরাট রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো হলে বাধে বিপত্তি। ২০১৪ সালের জুনে দপ্তরটি এই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রকাশ্য নিলাম বা দরপত্র ছাড়া সরকারি জমি এভাবে দেওয়া যাবে না। জমি বরাদ্দ বাতিল হলেও ইউসুফ পাঠান জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে নিজের দখলেই রেখে দেন।

    দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এর পরপরই বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত ভদোদরার পৌরসভা তাঁকে সরকারি জমি অবৈধ দখলের নোটিশ পাঠায়। পাঠান এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান।

    তবে গত বছরের আগস্টে গুজরাট হাইকোর্ট সরকারের আগের বাতিল আদেশই বহাল রাখেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জুন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পাঠানকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ কোটায় জমি পাওয়ার আবেদনের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে আদালত কড়া প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পরও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তিনি কীভাবে ১২ বছর ধরে এই মূল্যবান সরকারি জমি দখলে রাখলেন।

    আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, অবৈধ দখলের জন্য পাঠানকে বর্তমান বাজারদরে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ওই জমির মূল্য প্রায় ৩ গুণ বেড়ে ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা এখন জমিটি নিলামে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) ভোরে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো: ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো: সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো: সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো: জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত আটটি গেঞ্জি এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বহনকারী দু’টি বাস ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে  পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পৌর বিএনপি।

    সোমবার (২২ জুন) সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপুর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিস মোড়ে শেষ হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    সমাবেশে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপু বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদেই আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা করলে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা যেখানেই থাকুন, ভারতে বসে উস্কানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ও বিকেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’