সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায় মোহাম্মদ সুমন (৪২) নামে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটের এক কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সুমন হবিগঞ্জ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের জমিদার গলিতে আনারস মসজিদ সংলগ্ন একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিস কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    হাসপাতালে সুমনকে নিয়ে আসা তার স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তার স্বামী ইয়াবাসেবী ছিলেন। আগের রাতে তিনি তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে ইয়াবা কিনে আনেন এবং রাতে বাথরুমে বসে তা সেবন করেন।

    তার দাবি, মঙ্গলবার সকালে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি নাসিমার হাতে আঘাত করেন। পরে একই অস্ত্রের আঘাতে সুমনের বুকের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ঢাকা মেডিক্যালে এসে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার অভিযোগ করেন, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় সুমনকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী নাসিমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

  • পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

    এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    প্রসঙ্গত, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন।

    ১৫ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

    হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ খুললেও কিছু জটিলতা থেকে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিলটি করেন। নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়েছে। আপিল তিনটি শুনানির জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।

    আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

    চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’


    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পানির নিচে চলে গেছে রেললাইন। এর ফলে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ আটকে থাকায় ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পানি জমলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এর পর থেকে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

    পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

  • চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    চট্টগ্রাম, রংপুরসহ ৪ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যার আশঙ্কা

    বিডি টািইমস ডেস্ক,

    চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সবশেষ বার্তায় বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতিও জানানো হয়। এই সময়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত, ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

    বন্যা তথ্য কেন্দ্রের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    যার ফলে এসব অঞ্চলের নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    এছাড়া উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

    এসব জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    এছাড়া রংপুরের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘তবে, তিন থেকে চার দিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সাথে সাথে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা কম।’

  • গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাবের বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। জশবন্ত সিং খালরা নামক এক শিখ মানবাধিকারকর্মীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

    ছবিটি আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন স্বয়ং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এই ছবিটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই জশবন্ত সিং খালরা জির আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদানই ছিল এই চলচ্চিত্রে আমার যুক্ত হওয়ার মূল কারণ। আমি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    ছবিটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা দোসাঞ্জ আগেই করেছিলেন। গত শনিবার এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সোমবারের মধ্যে ছবিটি নামিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো চিন্তা নেই, আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

    সোমবার রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির একটি গণপ্রদর্শনীর ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে দোসাঞ্জ পাঞ্জাবিতে লেখেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।’ (অর্থাৎ, এই ছবি আর থামানো যাবে না। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না)।

    কী বলছে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ?

    হানি ত্রেহানের পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটিতে মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের বাইরে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনো দেখা গেলেও, ভারতের ক্যাটালগ থেকে এটি তুলে নেওয়া হয়েছে। জি-ফাইভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা ছবিটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি… তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

    রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

    ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

    শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এক পোস্টে বলেন, ‘এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি, সত্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত। পাঞ্জাবকে তার অতীতের অপ্রীতিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হতে দেওয়া উচিত, তা চাপা দেওয়া কোনো সমাধান নয়।’

    কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ছবিতে প্রদর্শিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    আম আদমি পার্টির (এএপি) সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই ছবিটি ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে। পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ঐতিহাসিক ভয় আবারও স্পষ্ট হলো।’

    শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পাঞ্জাবের চরমপন্থী সময়কালের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখার এবং সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তৈরি করার অধিকার জনগণের রয়েছে।

    তিন বছরের সেন্সরশিপ জটিলতা

    চলচ্চিত্রটির এই ওটিটি মুক্তি সহজ ছিল না। মূলত ‘ঘাল্লুঘারা’ (শিখদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক গণহত্যা নির্দেশক শব্দ) নামে ২০২২ সালে ছবিটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সে সময় বোর্ড ছবিটির ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেয় এবং ছবির নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার কথা বলে।

    প্রযোজকেরা প্রথমে বম্বে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তিন বছর ধরে জটিলতা চলার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকে ছবিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর, অবশেষে গত ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি ভারতের জি-ফাইভে মুক্তি পায়।

    পরিচালক হানি ত্রেহান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বিলম্বের পর, ছবির প্রযোজকেরা সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই সরাসরি ওটিটি মুক্তির পথ বেছে নেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জও দাবি করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

    কেন জশবন্ত সিং খালরা ও এই চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন। তাঁর এই তদন্তের ফলে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

    ১৯৯৫ সালে জশবন্ত সিং খালরাকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পর ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

    চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের বিতর্ক নতুন করে উসকে গেছে।

    সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছবি যেমন—‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রকে কেন সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকে ভারতের দর্শকদের থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

  • মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    লিওনেল স্কালোনি আজ কী করবেন? মিসরের বিপক্ষে কারা থাকবেন শুরুর একাদশে? এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিশ্চিত। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একাদশে ফেরার কথাও জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বাকি দুজন কারা?

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল গ্রাফিকো জানিয়েছে, চোট কাটিয়ে বাঁ দিকের রক্ষণভাগে ফিরছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। গত ম্যাচে ক্র্যাম্প হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। আজকের ম্যাচে মেদিনার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন তাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডে জায়গা হারাচ্ছেন থিয়াগো আলমাদা। পারেদেসকে একাদশে জায়গা করে দিতে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে তাঁকে।

    সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগেও পরিবর্তন আসবে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে শুরুর একাদশে খেলবেন হুলিয়ান আলভারেজ। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে ছিলেন মার্তিনেজ।

    আজ আক্রমণভাগে শুরু থেকে খেলবেন আলভারেজ রয়টার্স

    এ ছাড়া অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়েও পরখ করে দেখেছেন কোচ স্কালোনি। তবে ম্যাচের শুরু থেকে এই পরিবর্তন দেখার সম্ভাবনা কম। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার আরেকটি সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে আজ দেখা যাবে আলভারেজ, তাগলিয়াফিকো ও পারদেস।

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

  • মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরের কালকিনিতে বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কোলচরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত খাদিজা আক্তার একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও জাকির বেপারীর স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে কাঠের লাকড়ি আনতে রান্নাঘর যান গৃহবধূ খাদিজা। এ সময় লাকড়ির ভেতর থাকা একটি বিষধর সাপ খাদিজার হাতে কামড় দেয়। সাপের কামড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে খাদিজা ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে তার স্বামীসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

    পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় খাদিজাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অখিল সরকার বলেন, বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আসার অনেক আগেই তিনি মারা যান।

  • নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মুখ। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আমাগী ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমার মুক্তির আগে নতুন রূপে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী।

    মঙ্গলবার নতুন ফটোশুটের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়া। ছবিটিতে জয়া আহসানকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস লুকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ফেসবুক

    সাদা রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও গলায় একাধিক স্তরের সোনালি-সবুজ পাথর বসানো স্টেটমেন্ট নেকলেস। ডান হাতের অনামিকায় বড় সবুজ রত্নখচিত আংটি, যা নেকলেসের সঙ্গে মানানসই। গয়নাগুলো ছবির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: ফেসবুক

    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন তার ভক্তরা। প্রতিক্রিয়া এসেছে এক হাজারের বেশি। ভক্তদের অনেকে জয়ার পোস্ট করা এসব স্থিরচিত্র নিজের ফেসবুক ওয়ালেও শেয়ার করেছেন।ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারণার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন জয়া। ছবি: ফেসবুক

    ক’দিন আগে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা নিয়ে জয়া বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর বাইরে আমি একজন দর্শকও। তাই আমিও অপেক্ষা করছি সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমার প্রথম পর্বে যে সম্পর্কের সমীকরণ আমরা দেখেছিলাম, এবার সেটি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখবে দর্শক।’ ছবি: ফেসবুক

    ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এগোবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ফলে আগের ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রের সম্পর্ক এবার কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় জয়া আহসান ছাড়াও অভিয়ন করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য প্রমুখ। ছবি: ফেসবুক

    জয়াকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওসিডি’ সিনেমায়। এটি পরিচালনা-রচনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। এই সিনেমাটি শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তৈরি। ছবি: ফেসবুক

    চলতি বছরের শুরুতে সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) বিভাগে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’ আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবি: ফেসবুক

  • ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেই ব্রাজিল।

    ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশটির তারকা ফুটবলার নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস।

    স্কাই জার্মানিতে প্রকাশিত নিজের কলামে ম্যাথাউস লিখেছেন, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি খুশি। তার ভাষায়, ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, এতে আমি আনন্দিত। তাদের এই অবিরাম অভিযোগ আর অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।

    নেইমারের আচরণকে লক্ষ্য করে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস বলেন, শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টির সময় ব্রাজিল তারকার আচরণ দলের বড় একটি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

    ম্যাথাউস লিখেছেন, পেনাল্টিটি দ্রুত নেওয়ার পরিবর্তে নেইমার শট নেওয়ার আগে ও পরে গোলরক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। এই আচরণ থেকেই বোঝা যায়, সে দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকারকেই বড় মনে করে।

    ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করছেন নেইমার। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেও ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

  • শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

    এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।

    ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এই উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

    একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার আওতায় প্রাপ্ত নগদ টাকা ও চেকসহ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পক্ষ থেকে চেক বিতরণ করেন তিনি।

    বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে পাঁচ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    একই সময়ে ১০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে ১০ গ্রাম করে হাইব্রিড মরিচের বীজ, পাঁচ কেজি করে ডিএপি সার, পাঁচ কেজি করে এমওপি সার ও একটি করে কীটনাশকের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া এক হাজার কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে একটি করে মাস্টার প্যাকেট গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, ১৫ কেজি করে ডিএপি সার ও ১৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: শাহদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস আর এম জি কিবরিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান হাজী হাফেজ মো: দ্বীন ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ।

    পরে প্রতিমন্ত্রী কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা টিএনটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং কুলিয়ারচর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

    এর আগে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    এছাড়া সকালে তিনি উপজেলার পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শামসু উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন।

  • রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নওগাঁর রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে সাহানাজ পারভিন শিফা (২) নামে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    শিশু শিফা আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।

    শিশুর চাচা আব্দুল কাদের জানান, শিশুটির মা বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় শিশু শিফা বাড়ির গোসলখানায় গিয়ে বালতিতে রাখা পানি নিয়ে খেলার সময় উপর হয়ে বালতির মধ্যে পড়ে যায়। এতে সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা গোসলখানায় বালতিতে শিশুর লাশ দেখতে পায়।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে শিশুর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম পাশে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে উথলী রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের ধারণা, তিনি রেললাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং এ সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

    তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

    দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানান, লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    উথলী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের

    নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ওই ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরো অনেক যাত্রী হঠাৎ করে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন।

    সূত্র আরো জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

    বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরো কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

    বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। এরপর আরো পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরো ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

    বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাঁচজনকে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় ভিসা সমস্যায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ জনকে ইমিগ্রেশনে আটকায়। ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।

    বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু যাত্রী টুরিস্ট ভিসা নামে মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ঢাকা ত্যাগ করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়টি নজরে এলে তারা অফলোড করে।

    অবৈধভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।

    যেসব যাত্রীকে অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে।

    বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • রাতের আঁধারে ৮০টি কলাগাছ কািটলো দুর্বৃত্তরা

    রাতের আঁধারে ৮০টি কলাগাছ কািটলো দুর্বৃত্তরা

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের অন্তত ৮০টি ছোট-বড় কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগান মালিকের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বাগান মালিক দক্ষিণ গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুজ্জান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবর্ধন বকুলতলা মসজিদসংলগ্ন ২৪ শতক সরকারি জমি লিজ নিয়ে মোহাম্মদ কামরুজ্জান শতাধিক কলাগাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। সম্প্রতি গাছগুলোতে মোচা বের হওয়ার সময় হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ছোট-বড় অন্তত ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    ভুক্তভোগী মোহাম্মদ কামরুজ্জান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও ওই পক্ষ জোরপূর্বক তার পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার কলাবাগানে এ হামলা চালানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হালান সরদার বলেন, “মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে মানুষের এমন শত্রুতা কেমন করে হতে পারে? যারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

    গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    অভিনেত্রী রেখার জীবনের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো তাঁর কৈশোরে শুটিং করা একটি চুম্বনদৃশ্য। প্রায় ছয় দশক পর সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবার সামনে এনেছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মেয়ে পল্লবী চ্যাটার্জি।

    পল্লবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যদি সত্যিই ওই দৃশ্যে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে আগে রেখার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা অবশ্যই ভুল ছিল। যে-ই করুক না কেন, আগে সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।’ এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলিউডের সেই বহুল বিতর্কিত ঘটনাকে, যা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছিল লেখক ইয়াসের উসমানের লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে।

    যে দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না রেখা
    ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রেখা হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরির জন্য সংগ্রাম করছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ থেকে আসা এই কিশোরী তখনো বলিউডের নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতেন না।

    সেই সময় নির্মিত হচ্ছিল ‘আনজানা সফর’ নামের একটি ছবি। ছবিটি পরিচালনা করছিলেন রাজা নওয়াথে। ছবিতে রেখার বিপরীতে ছিলেন বিশ্বজিৎ।

    জীবনীগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। কিন্তু দৃশ্যটির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে নাকি আগে থেকে কিছুই জানতেন না রেখা। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ হঠাৎই তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বইটির দাবি, পরিচালক ‘কাট’ বলেননি আর চুম্বনদৃশ্যটি কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে। সেটে উপস্থিত অনেকেই তখন হাততালি, শিস কিংবা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

    বইয়ে বলা হয়েছে, হতভম্ব হয়ে যান কিশোরী রেখা। তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল জল। এ বর্ণনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল—রেখার সম্মতি আদৌ ছিল কি না।

    রেখা। এএফপি

    ‘যেকোনো মেয়ের জন্যই এটা ট্রমাটিক’
    পল্লবী চ্যাটার্জি মনে করেন, ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকলে তা যেকোনো কিশোরীর জন্যই মানসিকভাবে আঘাতকর হতে পারে।

    পল্লবীর মতে, সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরো দৃশ্য না জানিয়ে অভিনয় করাতেন, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করা ঠিক নয়।

    পল্লবী বলেন, ‘তখন রেখা খুবই ছোট ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? অনেক সময় অস্বস্তিকর কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস হয় না।’

    আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পল্লবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেখা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন এবং দুই পরিবার ছিল ঘনিষ্ঠ। ফলে ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি রেখার কাছে আরও বেশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

    বিশ্বজিতের ব্যাখ্যা
    এ বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিশ্বজিৎ এ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, এটি ছিল পরিচালকের নির্দেশ। পরিচালক নাকি চেয়েছিলেন, রেখার মুখে প্রকৃত বিস্ময়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠুক। সে কারণেই আগে থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
    বিশ্বজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ছিল না। ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছিল। কিন্তু রেখা নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন এবং ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।’

    বিশ্বজিতের এ বক্তব্য বিতর্ক কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, অনেকের মতে, কোনো দৃশ্যের শিল্পগত প্রয়োজন থাকলেও একজন অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া তা করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

    ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে আজকের মতো ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’, লিখিত সম্মতি বা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। অনেক সময় পরিচালক বা প্রযোজকের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিশেষ করে নতুন অভিনেত্রীদের পক্ষে আপত্তি তোলা কঠিন ছিল।

    বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের আগে বিস্তারিত আলোচনা, লিখিত সম্মতি এবং পেশাদার তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ধীরে ধীরে এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

    গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

    নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

    বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

    সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমাটি সম্প্রতি ভিয়েতনামের চতুর্থ ডানাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে এশিয়ার সেরা ছবি হিসেবে ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

    নাজিফা তুষি বলেন, ‘ক্রিটিকস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড কিন্তু সব সময় আলাদা একটি গুরুত্ব বহন করে। সেখানে এশিয়ার সেরা সিনেমা হিসেবে ক্রিটিকস চয়েজ পুরস্কার পেয়েছে “রইদ”। দেশ ও দেশের বাইরে দর্শক সিনেমাটি গ্রহণ করেছে। সেটাই মনে করিয়ে দেয় এই পুরস্কার। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটি আমার জন্য খুবই সম্মানের। একই সঙ্গে টিমের জন্য যেমন অর্জন, তেমনি সম্মানের। সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি।’

    ‘রইদ’–এ মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে

    ২০২৫ সালের শেষ দিকে ‘রইদ’-এর ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। পরে ঈদে মুক্তির পরে দর্শক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা পায় ‘রইদ’। একই সঙ্গে দেশের বাইরেও সিনেমাটি মুক্তি পায়।

    আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার দিয়েই সিনেমাটির যাত্রা শুরু হয়। মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ এটি অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়। ‘রইদ’ নির্মিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রামকে ঘিরে। নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ছাড়াও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

    আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জেলার পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে কাজ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বারের স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর তা টানা ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। গভীর রাতে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে।

    সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মধ্যরাতে পাহাড়ের ঢাল ধসে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটিচাপা পড়েন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) মারা যায়। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ধসের পর আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একই রাতে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত আরও দুজনকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এদিকে আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। এতে আলী আকবর, তার স্ত্রী ও ছেলে মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘রাতের সব ঘটনাই খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দল উদ্ধারকাজে নামে। রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইনচার্জ মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণে ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঢাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    দুর্ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিবছর ক্যাম্পে পাহাড়ধস হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হয়। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছিলাম। এখানে মৃত্যু হলেও কিছু করার নেই। সবকিছু আল্লাহর হাতে। নিজের দেশে ফিরে মৃত্যু হলেও অন্তত সেই কষ্টটা থাকত না।’

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

  • জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

    মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন—মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

    ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ উল্লেখ করেন তিনি।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    র‍্যালি, আলোচনা সভা, উদ্যোক্তা ঋণ, প্রণোদনা চেক ও গাছের চারা বিতরণ

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
    ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্যোক্তা ঋণ, কিশোরীদের প্রণোদনা চেক এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ নুর উল্লাহ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাম থেকে আগত নারী-পুরুষ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুইজন উদ্যোক্তার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়। একজন মাঠ ব্যবস্থাপককে কমিশন প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজন কিশোরীর হাতে ২৯ হাজার ৪০০ টাকা করে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুধীজন এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা’ এই তিন মূল দাবিতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে দলটির বিশেষ কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’। রবিবার (৫ জুলাই) দলটির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়।

    এনসিপির এই কর্মসূচিটি দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল- এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হবে। আজ বিকেল ৩টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর আজই সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা জেলার উত্তর সাভারে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় রাত্রিযাপন করবে। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেটসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে ওই দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

    অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রাটি শুরু হবে আগামীকাল ৭ জুলাই থেকে। প্রথম দিনে কক্সবাজারের উখিয়া এবং কক্সবাজার সদরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া এবং মানিকগঞ্জ জেলায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দল ঢাকার বাংলামোটরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

    এই ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। জুন-জুলাই মাসের এই আন্দোলনটি দেশে ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষ গ্রামের কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ৯০ শতাংশ জমিতে রাজশাহী জাতের এক হাজার পেঁপের চারা রোপণ করে তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ টাকারও বেশি পেঁপে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছে প্রচুর পেঁপে রয়েছে, যা থেকে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিশাল বাগানজুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে অসংখ্য পেঁপে। বাগানের মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী জানান, প্রথমে তিনি লাল তীরের ‘বাবু’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে জাতটির সামঞ্জস্য না থাকায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাবনাতলা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ডাক্তার বাবুলের পরামর্শে রাজশাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন। পুনরায় ৯০ শতাংশ জমিতে এক হাজার চারা রোপণ করলে সেগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং আশানুরূপ ফলন দেয়।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি। গাছে এখনো অনেক পেঁপে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি জমিতে পেঁপে চাষ করতে চাই। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে পেঁপের চারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

    এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ওই কৃষক কখনো কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা দ্রুত তার বাগান পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেব।’

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে খেলবে মিসরের বিপক্ষে। পরশু আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর; যা ডালাস থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশ ডেপুটি চিফের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে ডালাস পুলিশ সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। ডালাস পুলিশ বিভাগ নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল রাতে ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডালাস পুলিশ বিভাগ আমাদের কমিউনিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কথোপকথনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আজ (গতকাল) মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপহার বিনিময় করেন।’

    ডালাস পুলিশ বিভাগের ডেপুটি চিফ ইসমাইলের সঙ্গে মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, কোচ হোসাম হাসানসহ অনেকে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হিউস্টনে মিসরের কনসাল জেনারেল শেরিফ মোখতার , মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এবং মিসর ফুটবল দলের পরিচালক ইবরাহিম হাসান। যাঁদের মধ্যে হানি আবু রিদা ফিফা কাউন্সিলের একজন বিশিষ্ট সদস্য।

    পরশু রাতে ডালাসে টাইব্রেকারে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করে ডালাস পুলিশ। মিসরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ডালাস পুলিশ লিখেছে, ‘গতকাল (গত পরশু) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মিসর দলকে অভিনন্দন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর পরেও তাদের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসর দলের সঙ্গে ঘটেছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হোটেলে নিরাপত্তাকর্মী ও দলটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মিসর দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতিতে পৌঁছেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসর দলের সঙ্গে তো সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করল ডালাস পুলিশ।

  • ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    টানা ৪৭ বছর ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত শেষে অবসরে গেলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ। এ উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, দুটি গরু ও উপহার দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামতি করেছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন ইমাম হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বক্তারা আরো বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের ইমাম ও আলেমদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তার এ খেদমত কবুল করেন এবং সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

    অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    শেষে বিদায়ী খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনা মহানগরীর তিন স্থানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তিনজনেরই পায়ে গুলি লাগায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। গুলির ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মানুষ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে রাতুল শেখ নামে যুবককে গুলি করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা সদর থানার রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এক কিশোরীকে গুলি করা হয়। ওই কিশোরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন।

    রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলির ঘটনায় পরিবারের তরফে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে চাঁদা না দেওয়ায় মানিককে গুলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহায়েলসহ সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

    রাতুলের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় লবণচরা থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। কিশোরীকে গুলির ঘটনায়ও পরিবার গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৩ মাসে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪টি হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত।

  • সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার দুপুরে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।

    এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা-পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সমকালকে বলেন, ‘ভাতসহ বিভিন্ন রান্না করা খাবার ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছিল। তাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর ঢাকাগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গঁজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

    সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’
    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ-এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস

  • লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আর এই পরীক্ষার মধ্যেই চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

    ভোলার লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।

    মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

    মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কিন্তু ঠিকমতোই আসছে। তবে বিলেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

    বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। এই কারণে পরীক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে ফল্ড হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক করার জন্য। একটানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে গাছ পরে যাওয়াও একটি কারণ। তাছাড়া এমনিতে কোনো লোডশেডিং নেই।

  • তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    বলিউড অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আজ মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার পর স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন আমির-গৌরী।

    সকাল থেকেই তাদের বিয়ে ঘিরে উৎসবের আমেজ। একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামছে অভিনেতার বাড়ির গেটে। ঘরোয়া পরিসরে আয়োজিত হলেও আমিরের মতো সুপারস্টারের বিয়ে অন্যতম আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়েছে।

    তবে রিনা দত্তকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। এ সংসারে জুনায়েদ ও ইরা খান নামে দুটো সন্তান রয়েছে। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এ সংসারে আজাদ খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে তার দুটো সংসারই ভেঙে গেছে।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যতদূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।

  • হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

    আজ শনিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এ সমালোচনা করেন। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমান হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।

    গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র/জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।

    আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করলে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।

    মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’

    মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।

    সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’

    এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।

    লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্বের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা গ্রহণ করছে।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও গভীর করতে কাজ করে যাবেন।

    বার্তার শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন তিনি।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।

  • ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এই অর্জন দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন।’

    শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে যদি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, মা গত সতের বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান, আমি তার প্রতিশোধ নিই?।….কারণ সেই প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত আমার মা আমাকে বলতেন—তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, তুমি কি চাও তোমার সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে, তোমাকে মৃত্যুর মুখ ঠেলে দেয়া হয়েছে, যারা এরজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই? কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাকে আমি চিনি, আমি জানি। একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ভাইটিও সেই একই উত্তর দিতো, যে উত্তরটি আমার মা আমাকে দিতেন।’

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় রিপন হোসেন (৫০) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সন্তোষপুর গ্রামের ব্রিজপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে রিপন হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির আলমসাধু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধু ও পাখিভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রিপন ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে রাখা ইটের স্তূপের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।