সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    একটি ভুল একটি স্বপ্নের মৃত্যু

    খুদে বিস্ময় লামিন ইয়ামালের কপাল মন্দ। শত চেষ্টা করেও গোল পেলেন না। তবে তার স্পেন জয়ের মালা পরেছে। বেলজিয়াম হেরে গেছে। অথচ ফুটবল ইতিহাস বলছে, ম্যাচটা ছিল বদলা নেয়ার। ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে স্পেন হেরেছিল শেষ আটের লড়াইয়ে। সে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে। একদিকে ইয়ামাল। অন্যদিকে জেরেমি ডকু। এক অনবদ্য ফুটবল লড়াই। মাঠ জুড়েই ইয়ামাল। ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইঙ্গার, বেলজিয়ামের গোলশক্তি ডকুও গোল পাননি। অথচ তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে স্পেন একটা চমকই দেখায় বটে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে বদলি নামা মিকেল মেরিনো গোল করে বসেন। ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করেন। এই মেরিনোই বদলি নেমে রোনালদোকে গুডবাই জানান । তিনিই হলেন এই ম্যাচের স্প্যানিশ তারকা। বিজয়ের নায়ক। পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে দক্ষ। একইসঙ্গে রক্ষণ ও আক্রমণেও বেশ পারদর্শী। জানিয়ে রাখা ভালো- তার বাবা আনহেল মেরিনোও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই ম্যাচের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের কপাল পুড়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে। পরিবর্তে নামেন সেনে লামেন্স। কিন্তু তিনি আর কোনো দেয়াল তৈরি করতে পারেননি। কোর্তোয়া অনেকগুলো বল রুখে দিলেও লামেন্স তেমন সুযোগ আর পেলেন না। তার হাতছাড়া হয়ে ফিরে আসা বলেই স্পেনের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন আর্সেনালের মেরিনো। এর মধ্য দিয়েই বেলজিয়ামের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররাই বেলজিয়ামকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়াম যে একটি শক্তি তা প্রমাণের। কিন্তু সে স্বপ্নের মৃত্যু হয় লামেন্সের হাতেই। ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটে। তবে রূপকথার মতো বিদায় সাধারণতো হয় না। যেটা হয়েছে সোফি স্টেডিয়ামে। যাইহোক, দুই খেলায় দুই গোল করেই স্পেনের ভাগ্য নির্ধারণ করেন মেরিনো। লামিন ইয়ামাল শুরু থেকেই বেলজিয়ামের দুর্গে আঘাত হানতে থাকেন। কিন্তু চমৎকারভাবে বেলজিয়াম তার সাজানো ছক ভেঙে দেয়। অনেকগুলো শট নিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাভূত করতে পারেননি। শুধু শটই নয়, ফ্রি কিক থেকেও ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সুযোগ আসে আরেকটি। কিন্তু সেটাও তিনি কাজে লাগাতে পারলেননা। ইয়ামালের কপাল এমনই খারাপ গোল্ডেন বুটের কাফেলায় তিনি নাম লেখাতে পারেননি। তবে স্পেন যেভাবে খেলছে এবং ভাগ্য যেভাবে তাদেরকে সাহায্য করছে- তাতে মনে হয়, তারা অনেকদূর যাবে। এর প্রমাণ পূর্বেই দেখিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে গোল হজম করার পর টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেননি। যদিও এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে তাদের দীর্ঘসময় গোল না খাওয়ার অবস্থান ভেঙে দেয় বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার দর্শক এই জমজমাট ফুটবল লড়াই উপভোগ করেন। এখন কী হবে? এমবাপ্পের মুখোমুখি হতে হবে স্পেনকে। এমবাপ্পে আর ইয়ামালের লড়াইটা কেমন হবে- তা দেখার জন্য মুখিয়ে রইলো ফুটবল দুনিয়া।

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনালের চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ভবনে এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মহাসিন এমদাদুল্লাহ জামেনের উপস্থাপনায় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ শ্রমিক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান , চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রুহুল আমিন এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি ও মেহেরপুর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল ।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম লিটনসহ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের জন্য শ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। এই দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা আমাদের সেই শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন; এটা আমরা কখনো দেখিনি। যার জন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

    শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিন্ম মজুরী সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে।শ্রমিকদের অসম্মান করা যাবে না তাদের সম্মান করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরী, চিকিৎসা সেবা,শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ সরকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নাটোরের নলডাঙ্গায় পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা: ফাতেমা খাতুন (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটরি পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু ফাতেমা খাতুন নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটিরপাড়া এলাকার মো: ফিরোজ হোসেনের মেয়ে।

    পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় ফাতেমা। পরে বাড়িতে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নলডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ নলডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত রয়েছে। নিহত শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের  মৃতদেহ উদ্ধার 

    শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার 

    পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিন খান (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার মসজিদের পাশে থেকে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

    নিহত তুহিন খান সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খানের ছেলে। শ্বশুরের নাম আবতার হোসেন। তিনি নলদহ লালগোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী। স্ত্রীর নাম আফসানা খাতুন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। স্থানীয়রা সকালে পুকুরের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে পুলিশের দাবি, তিনি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের নেশায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শ্বশুর বাড়ি এসে নেশাদ্রব্য খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তুহিন মসজিদের বারান্দায় রাতে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ২টার দিকে আমরা খবর পাই। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সকালে মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করা হবে। এরপরই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পিকআপের ধাক্কায় আমির হোসেন (৪২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার ভোরে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ পেছন দিক থেকে এসে ওই বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ভেতরে থাকা চালক আমির হোসেন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের ভেতর থেকে নিহত চালককে উদ্ধার করেন।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সেইসাথে বাস ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

  • জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে দুই নারীসহ তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ।

    তবে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিজিবি’র কঠোর তৎপরতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    আজ শনিবার ভোর ৪টার দিকে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮ এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে একজন বৃদ্ধ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

    স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ভোররাতে সীমান্তের লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তের পাহারায় থাকা স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান জোরালো করে।

    আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক বৃদ্ধের নাম হাফিজুর রহমান (৬৫)। তার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তার সাথে থাকা দুই নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয় ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে বিএসএফ তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে তা প্রতিহত করে। পরে বিজিবিকে বিষয়টি জানানো হয়।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা ওই তিন ব্যক্তিসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান করছেন।

    পত্নীতলা ১৪ বিজিবির সহকারী পরিচালক হাসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ও তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

  • চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ  গ্রেফতার -১

    চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার -১

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামাল হোসেন ভুঁইয়া নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আকাশ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার কামাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমানগন্ডা গ্রামে কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

    এসআই তারেক আকাশ বলেন, ‘মাদকসহ কামাল ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

  • পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ সামারি ট্রায়াল আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হযরত আলী মণ্ডলের ছেলে আকের আলী মণ্ডল (৬৫) এবং তার স্ত্রী ফেরুজা খাতুন (৪০)। ফেরুজা একই গ্রামের ইন্তাজ আলীর মেয়ে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই হাফিজুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরে দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গার সামারি ট্রায়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরের সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সন্দেহভাজন এক সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক তরুণের নাম তাহসীন ইসলাম (১৯)। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চাপাতি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তাহসীন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানিয়েছে, তাহসীনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে তাকে আটক করা হয়েছে। আগের একটি ডাকাতি মামলায়ও তিনি তৃতীয় নম্বর আসামি।

    তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। তবে যশোরে সংগঠনটির সক্রিয় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    সম্প্রতি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শাহ আমানত সাবির প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ছয় যুবককে আটক করা হয়। সিটিটিসির দাবি, সংগঠনটির নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত এবং আফগানিস্তানফেরত উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পুলিশের দাবি, একটি বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পের আড়ালে চক্রটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে টিটিপির আদলে দেশে তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

  • আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যেই সিঁদুর পরিয়ে দেন এক যুবক। তবে এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তরুণী। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে যশোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোর্ট ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জানা গেছে, তরুণীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এবং যুবকের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া গ্রামে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নয় বছরের প্রেম। বিকেলে দুজন যশোরের পুরাতন পরিত্যক্ত জজ আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

    একপর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে রাখা একটি পলিথিনে থাকা সিঁদুর বের করে যুবক হঠাৎ করে তরুণীর কপালে পরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী প্রতিবাদ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি দেখে এক আইনজীবী কোর্ট ইন্সপেক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নেওয়া হয়। পরে তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুজনকেই থানায় আনা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী বলেন, রাতভর বৃষ্টির পর সকালে উঠে দেখেন সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু শেখ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

  • খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী রয়েছেন আটজন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

    মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে মারা যান চারজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। মার্চে মারা যান তিনজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী।

    এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের এক পুরুষ রোগী। এছাড়া জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট সাত হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

    তিনি জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এআরটি ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, পতিতা পল্লি, ভাসমান যৌনকর্মী এবং হোটেলকেন্দ্রিক অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িতদের নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে, তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে এবং সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে।

    খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

  • চুয়াডাঙ্গা  প্লাবিত নিচু এলাকা

    চুয়াডাঙ্গা প্লাবিত নিচু এলাকা

    প্রবল বর্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ।

    স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জামিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং শুরু হয় টানা মুষলধারে বৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন মহল্লার অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের এক কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। এমনকি আড়তের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    রাস্তায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    অন্যদিকে কৃষি খাতেও এর মিশ্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি আমন চাষের প্রস্তুতি ও পাট জাগ দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও নিচু এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

    পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা

    এ বিশ্বকাপেই মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা ছিল ক্লোসার দখলে। এ বিশ্বকাপে ক্লোসার ১৬ গোল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি, এখন তাঁর গোল ২১টি।

    সর্বোচ্চ গোলের এ রেকর্ড ভিনদেশি কারও কাছে হাতছাড়া হলে একটু খারাপ লাগা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই আফসোস ক্লোসার নেই। এমনকি রেকর্ড ভাঙার পর নাকি আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেছেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা!’ এরপর মেসির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন জার্মানির সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
    ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন ক্লোসা। ওই বন্ধুত্বটা তাঁদের রয়ে গেছে এখনো। স্কালোনি এখন আর্জেন্টিনার কোচ। তাঁর সূত্রেই ক্লোসার কথা হয়েছে মেসির সঙ্গে।

    পুরো গল্পটা ক্লোসার মুখেই শুনুন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপের গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনিই আমাদের মধ্যে এই ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল এটা।’

    এখানেই শেষ নয়, কথোপকথনের সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাঁকে একটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। হাসিমুখে ক্লোসা জানান, ‘সে (মেসি) আমাকে বলেছে যে সে আমাকে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্লোসা। ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া একাধিকবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন।

    বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্বে থাকা ক্লোসা জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে নাকি কখনো এত লম্বা আলাপ হয়নি তাঁর, ‘মেসির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়েছে, যা সব সময়ই খুব আনন্দদায়ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ফুটবলের বাইরে এবারই প্রথম আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললাম।’

    মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার পর প্রকাশ্যেই আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ক্লোসা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ১৮তম গোল করে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তখন জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

    এবার তো কথা হয়ে গেল খোদ মেসির সঙ্গেই।

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও জাদু দেখানো শেষ হয়নি লিওনেল মেসির। প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সেও তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে পুলকিত লামিনে ইয়ামাল। মেসিকে নিয়ে তাই ভীষণ আনন্দিত ইয়ামাল।

    আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম এল মুন্দো দের্পোতিভোয়। স্পেনের প্লেমেকার বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য। মেসি কে সবাই জানে। কিন্তু এই বয়সে এসেও তার কাছে এমন দুর্দান্ত পারফম্যান্স, হয়তো কেউ আশাই করেনি। এ জন্যই তাকে নিয়ে আমি সত্যি আনন্দিত।’ ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি।

    স্বপ্নের বিশ্বকাপ জেতায় মনে করা হচ্ছিল তার আর কিছুই চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু এই বিশ্বকাপে যা করছেন তাতে মনে হচ্ছে ক্ষুধা যেন তার শেষ হয়নি। কাতার বিশ্বকাপের মতোই এবারও আর্জেন্টিনাকে একাই টানছেন ইন্টার মিয়ামির স্ট্রাইকার। দলের ১৪ গোলের ৮টি তার করা।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল।

    এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছে এমনটা জানিয়ে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘নেইমার-রোনালদোকে নিয়েও আমি আনন্দিত। যদিও তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙানোর নায়ক তারা।’

  • মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মেসি পেনাল্টিতে ভালো নাকি খারাপ

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় না।

    তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!

    পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?

    এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলকিপার রয়টার্স

    তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।

    মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।

    কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।

    এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।

    ২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।

    তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।

    পেনাল্টি মিসের পর হতাশ মেসি রয়টার্স

    বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।

    বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।

    বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!

  • বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে কোন দল কতটি হলুদ কার্ড দেখেছে

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৯৬টি খেলা হয়েছে। ৪৮ দল লড়াই করেছে। এখন রয়েছে ৮ দল। আজ বৃহস্পদতবার রাতে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ। দলগুলো চিন্তায় আছে হলুদ কার্ড নিয়ে। এ জায়গায় অন্যদের চেয়ে বেশি স্বস্তিতে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার আগে দলটি শুধু গনসালো মন্তিয়েলের নামের পাশেই হলুদ কার্ড আছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখলে তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।

    কোয়ার্টার ফাইনাল টিকে থাকা দলগুলোর ফাউল ও হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান হলো—

    আর্জেন্টিনা মোট ফাউল করেছে ৫৯টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৯.৭ শতাংশ। বেলজিয়াম মোট ফাউল করেছে ৬০টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৫.০ শতাংশ। ইংল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৫৪টি, এজন্য ৭টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ৭.৭ শতাংশ। ফ্রান্স মোট ফাউল করেছে ৪৯টি, এজন্য ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছে।ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১২.৩ শতাংশ।

    মরক্কো মোট ফাউল করেছে ৬১টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১০.২ শতাংশ। নরওয়ে মোট ফাউল করেছে ৪৮টি, এজন্য ২টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ২৪.০ শতাংশ। স্পেন মোট ফাউল করেছে ৫৫টি, এজন্য ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১৮.৩ শতাংশ। সুইজারল্যান্ড মোট ফাউল করেছে ৬৯টি, এজন্য ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে। ফাউল প্রতি হলুদ কার্ড ১১.৫ শতাংশ।

  • ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    সুমাইয়া দশম শ্রেণীতে পড়ে। উজিরপুর হাই স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে সে। বেশ চঞ্চল ও স্পষ্টভাষী। তবে পড়াশোনায় মনোযোগ কম। কত ছেলে যে তার প্রেমে হাবুডুবু খায় তার হিসেব নেই। প্রতিদিনই প্রেমের প্রস্তাব আসে তার কাছে। কিন্তু সুমাইয়া এখনও পর্যন্ত কোন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    এরমধ্যে স্কুলে অয়ন নামে নতুন একজন অংকের শিক্ষক এসেছে। ক্লাসে সুমাইয়া পুরো সময় তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মনে মনে যেরকম ছেলে পছন্দ তার, এই শিক্ষক ঠিক সেরকম। প্রথম দেখাতেই সুমাইয়া তার প্রেমে পড়ে যায়। তরুণ শিক্ষক অয়ন শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বন্ধুর মতো করে নেয়। সুমাইয়া ক্লাস শেষে তার সঙ্গে দেখা করে। ক্লাসে ঠিকমতো অংক বুঝতে পারেনি বলে তাকে আবার বুঝিয়ে দিতে বলে।

    প্রায়ই কাজটি করে সে। আসল উদ্দেশ্য অয়নের কাছে যাওয়া। মনের কথাটা বেশিদিন চেপে রাখতে না পেরে একদিন সুমাইয়া সরাসরি অয়নকে বলে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে। অয়ন কিছুটা অবাক হয় এবং সুমাইয়াকে জানিয়ে দেয়- এরকম কিছু যেন না ভাবে। সুমাইয়া কোন কিছুই মানতে রাজি না। অগত্যা তার পাগলামি থামানোর জন্য অয়ন বলে যদি সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে এবং ভালো রেজাল্ট করে তাহলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

    এর আগে, অয়ন তার সাথে কথা বলবে না। সুমাইয়া এতে রাজি হয় এবং মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর খুশির খবর জানাতে ছুটে যায় অয়নের কাছে। কিন্তু অয়নকে খুঁজে পায় না। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প। নাটক নাম ‘শালিক বালিকা’।

    মাহমুদ মাহিনের রচনা ও পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও তটিনী। আগামীকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় নাটকটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।

  • ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তাঁর কথাতেই ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্য করেন।

    নিজের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দেখুন আজকে আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটা নিয়ে বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলামের সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে, আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে, আমি তাঁকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা এটা নিয়ে নানান কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে…পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজ তো আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী নির্বাচিত তাঁর সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে আনছে।’

    এর আগে গত ২০ জুন বগুড়ার দুটি নবগঠিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১১ জুন জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ রাখা হয়।

    পরে অভিযোগ ওঠে, মীরবাড়ী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম এবং সীমান্ত ও দিগন্ত তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

    সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে একটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় অন্যটির নাম ‘দিগন্ত’ রাখা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকাকে তিনি ‘কাকতালীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টেও জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাবেক শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে হাউস আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে এসব কারণে আম্বিয়া খাতুন তাকে তালাক দেন।

    তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে হাউস আলী গাংনী উপজেলার শহড়াবাড়িয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সাবেক স্ত্রীকে না পেয়ে তার মা ফুলসুরাতন (৬৬)-এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গাংনীতে অবস্থান করছিলেন।

    ফুলসুরাতনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাউস আলীকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজতে এক মাদকের আসামি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শহরমূল গ্রামের রাজা হাওলাদারের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)।

    নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওমি) মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রুবেল মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বাবার দায়ের করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় গায়ের শার্ট খুলে হাজতের কার্নিশের সঙ্গে গলায় ফাঁসি নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রুবেল এর আগেও মাদকের মামলায় প্রায় তিন মাস কারাবাস করেছেন বলে ওসি জানান।

    তিনি জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মরদেহের ময়নাতদন্ত করানো হবে কি না।

    বাবা রাজা হাওলাদার জানান, রুবেল বাড়িতে সবাইকে খুব অত্যাচার করতেন। বাড়িঘরে কুপিয়েছেন। অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি থানায় মামলা করেছিলেন। রুবেলকে আজ থানায় আনার পর বাবা এসে তাকে নাস্তা খাইয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় ওসি মাহবুবুর রহমান তাকে ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানান।

  • কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফুরফুরে মেজাজে আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জিতলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে ঘিরে অস্বস্তি ভর করেছিল আর্জেন্টিনা দলে। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে সেই অস্বস্তি দূর হতেও বেশি সময় লাগল না। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩ গোল করে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৩ গোলের প্রথমটা করেন রোমেরো। চরম বিপদে থাকা দলকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের কাফে অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো।

    প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যায়, এটা কোনো চোট নয়; কেবল পেশিতে টান লাগায় অস্বস্তি অনুভব করেন রোমেরো। আর্জেন্টিনা দলের একটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াসি স্পোর্টস। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে দলীয় অনুশীলনে দেখে গেছে রক্ষণভাগের এই ফুটবলারকে। এমনকি অনুশীলনে কোনো ধরনের অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায়নি তাঁকে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া সে ম্যাচে শুরুর একাদশেই রোমেরোর মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি মিসর ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

    গতকালের অনুশীলনে রিকভারি করতেই লম্বা সময় পার করেছে ফুটবলাররা। যেসব ফুটবলার মিসরের বিপক্ষে বেশি সময় মাঠে ছিলেন, তাঁরা জিমে ব্যায়ামসহ অন্যান্য রিকভারি সেশনে অংশ নেন। অন্যদিকে যাঁরা শুরুর একাদশে ছিলেন না বা অল্প সময় খেলেছেন, তাঁরা মাঠে স্বাভাবিক অনুশীলন করেন। অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। টিওয়াসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামীকালের অনুশীলনের পর শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করবে কোচিং স্টাফ। শেষ অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন স্কালোনি।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস,    যান চলাচল বন্ধ

    কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস, যান চলাচল বন্ধ

    কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ও উজানের ঢলে ক্রমাগত পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নিতাই ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার একমাত্র সড়কের ওপর নির্মিত বেলতলী ব্রীজের সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়েছে। এতে ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    উপজেলা প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর বেলতলী ঘাঁটে চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর ২০১৪ সালে প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ব্রীজটি নির্মানের পর গত কয়েক বছর প্রতি বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রীজের দক্ষিণে দিকে ধসে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব ও সহিদার রহমান জানান, ব্রীজটি নির্মানের পর প্রায় প্রতি বছর একই জায়গায় ধসে যাওয়ার কারণে জনগণ দুর্ভোগের স্বীকার হয়। উপজেলা প্রকৌশল দফতর ও প্রশাশনের লোকজন পরিদর্শনে এসে নামমাত্র কাজ করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে চলে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু জানান, ব্রীজটির দক্ষিণ দিকের সংযোগ সড়কটি প্রতি বছর ভাঙে, প্রতি বছর সংস্কার হয়। প্রকৌশল দফতরের উচিত সংযোগ সড়কটির ভাঙন রোধে বড় ধরনের বরাদ্দ নিয়ে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করা। তা না করে প্রতিবছর দায়সারা কাজ করার কারণে বারবার সড়কটির একই জায়গায় ধসে পরে জনগণের চলাচলে ভোগান্তি হয়।

    উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘ব্রীজের দক্ষিণ দিকে সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়ে যান চলাচল বন্ধের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, দ্রুত ধসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া করছি। পরে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ এনে স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।’

  • মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে মিশর। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এবারের আসরে একাধিক কীর্তি গড়েছে ‘ফারাও’রা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় তারা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে মিশর।

    গোল করার দিক থেকেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে মোট আটবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা মিশর শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে।

    ফিফার পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য মিশর পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ফেডারেশনের তহবিলে এসেছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি, যা ভবিষ্যতে মিশরের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দক্ষিণ কান্দী গ্রামের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পাশে লাশটি দেখতে পান। পরে তারা নগরকান্দা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, লাশটি একজন পুরুষের হতে পারে। তবে পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ।

    নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

    ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, লাশটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে সিআইডির ফরেনসিক টিম কাজ করছে। পরিচয় শনাক্ত হলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাসের চাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সলঙ্গা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নীলা বেগম তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটিকুমরুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা ও তার তিন বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা আরো অন্তত তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাসটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালক-সহকারীকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

    তিনি বলেন, ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে—‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মো: জাহিদুল ইসলাম অমি নামে আশ্রয়হীন এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাকে উপজেলার মাধনগর আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের মো: আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    তারা জানান, বিএনপির দলীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তারা আরো জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তার ঘর-বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলা শ্রমিকের কাজ করে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজে রান্না করে খাবার খান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন।

    ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকেছি। আর কত দিন এভাবে থাকব, কত বছর থাকা যায়?

    তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক আমার পাশে দাঁড়াননি। কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেননি। দলের নেতা ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, তারা যেন জীবন চলার মতো আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

    মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা ও বাঁশিলা আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই দলের নেতারা তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    কিছু দল আছে, যারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে নয়, বরং সুযোগের অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে আঘাত হানার। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনও এমনই ছিল। ১৬ বছর পর সেই পুরোনো চেহারার আরেকটি ঝলক দেখা গেল ডালাসে। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসে ভর করে শেষ হাসিটা হাসল স্পেন। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়ল নতুন রেকর্ড।

    ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল। ঠিক তখনই নিজের বেঞ্চের শক্তির পরিচয় দিল স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস যোগ করা সময়ে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন আরেক বদলি মিকেল মেরিনো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার পর বিশ্বকাপেও স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে মেরিনোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘মিকেল মেরিনো কখনোই আমাদের হতাশ করে না। সে নিশ্চিত ভরসা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সে হাজির থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা অন্য যেকোনো জাতীয় দলে শুরুর একাদশে খেলত।’

    কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন মেরিনো। তাই জয়সূচক গোলের পর তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর, ‘কয়েক মাস আগেও এখানে থাকা কল্পনাতীত ছিল। আর এখন আমি বিশ্বের শীর্ষে আছি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি উপভোগ করছি। প্রতিটি পরিশ্রম আর প্রতিটি সন্দেহের মুহূর্ত আজ সার্থক।’

    ডালাসের রাতটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, রেকর্ডের রাতও। পর্তুগালকে গোল করতে না দিয়ে স্পেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে। এর আগে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ড (২০০৬-১০) টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এখন স্পেনের একার।

    এই কীর্তির কেন্দ্রে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমোনও। পর্তুগালের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই অর্জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয় বলেই মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই রেকর্ড শুধু উনাইয়ের নয়, তার সতীর্থদেরও। তাদের সংহতি, উদারতা, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের ফল এটি। সবাই একে অপরের জন্য দৌড়ায়।’

    এটি ছিল রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। পরাজয়ের হতাশা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি, যাদের আমি মনে করি ফাইনালে উঠবে, কিংবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে। আমি খুবই দুঃখ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি, দুই দলই জিততে পারত। ফুটবল এমনই। এভাবে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক, কিন্তু আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

    রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির রাতে স্পেন পেল নতুন এক নায়ক। আর টানা ছয় ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দে লা ফুয়েন্তের দল জানিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে তাদের নামটি এখন আর শুধু সম্ভাবনার নয়, প্রধান দাবিদারেরও। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বকালীন বিরতিতে আছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। গত ১১ মে কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন তিনি। লোকচক্ষুর আড়ালে আছেন তারও কয়েক মাস আগে থেকে। রোজার ঈদে বুবলী অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ মুক্তির সময়ও পাওয়া যায়নি তাঁর দেখা। অবশেষে বুবলীর কাজে ফেরার খবর পাওয়া গেল। আগামী সেপ্টেম্বরে জাহিদ হোসেনের ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমা দিয়ে আবার লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনে ফিরছেন তিনি।

    বিরতি কাটিয়ে বুবলীর কাজে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার পরিচালক জাহিদ হোসেন। আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাসের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বুবলী।

    জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বুবলীর সঙ্গে শুটিং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে এখন নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবে।’

    পুরান ঢাকার মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে ঢাকাইয়া দেবদাস। গত জানুয়ারিতে সাকরাইন উৎসবের সময় শুরু হয় সিনেমার শুটিং। বুবলীর বিরতিতে শুটিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না জানতে চাইলে নির্মাতা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস একটি ঢাকাইয়া শিল্প-সংস্কৃতির চলচ্চিত্র। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য উৎসবের সময়ে রিয়েল লোকেশনে শুটিং করছি আমরা। তাই প্রথম থেকেই পরিকল্পনা ছিল সময় নিয়ে চলবে শুটিং। বছরব্যাপী ঢাকাইয়াদের যেসব রিচুয়াল কালচার রয়েছে, তা তুলে ধরা হবে। সেপ্টেম্বরে বুবলী শুটিং করবেন, এটা আগে থেকে ঠিক করা ছিল। মাঝে বুবলী না থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। সবশেষ আশুরার সময়েও রিয়েল লোকেশনে আমরা দৃশ্যধারণের কাজ করেছি। আশা করছি সেপ্টেম্বর থেকে আবার ক্যামেরা ওপেন হবে।’

    ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে আছেন আদর আজাদ। নির্মাতা জানান, ঢাকাইয়া দেবদাস মূলত প্রেমের গল্পের সিনেমা। দুজন মানুষের গল্পের মধ্যেই তুলে ধরা হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। এতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, রোজী সিদ্দিকী প্রমুখ।

    নির্মাতা আরও জানান, আগামী বছর রোজার ঈদের মিছিলের দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিং। এরপর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষে কোরবানির ঈদের পর মুক্তি পাবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। সিনেমাটির প্রযোজনা ও পরিবেশনায় রয়েছে এক্সেল ফিল্মস ও রেভল্যুশন মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল।

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা বা এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার মন্ত্রণালয় এক জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। পাশাপাশি কোনো কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ বা লেনদেন থেকেও বিরত থাকতে হবে।

    মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া গমন-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ জানাতে দেশের ভেতর থেকে ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া-সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে টেলিফোন, ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করলেই তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও সরকারি মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত গুজব বা অননুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।

    বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।

    গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান,

    একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।

    তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • জীবননগর  বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    জীবননগর বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বুধবার রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মাধবখালী সীমান্তের একটি বাঁশবাগান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি আজ বুধবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক।

    বিজিবি জানায়, মাধবখালী বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্তের ৭০/৬-এস সীমান্ত পিলারের কাছে অভিযান চালায়। এ সময় এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তিনি পালানোর সময় সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে দেন। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি বিদেশি (ইউএসএ) পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবননগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। হিউমান রিসোর্সের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

    কৃষির অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা আবার চালু করা হবে। সনাতনী পদ্ধতির বদলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনে সরকার কাঁঠাল রপ্তানি কর‌বে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরছে বলেও জানান তিনি।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর মোল্লাপাড়ায় মো. রাজ্জাক মোল্লা ওরফে নাজো (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গাবগাছে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে রাজ্জাক মোল্লার সঙ্গে তার ভাতিজা রিপন মোল্লার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের হাতে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন মোল্লার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    এ,আ র

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানী কাকরাইলের আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শিরোনামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যেই আন্দোলন করেছিলাম এর ২টি উদ্দেশ্য ছিল; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আওয়ামী কায়দা বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ।’

    আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই গড়িমসি করে আসছে, সেই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকেই। ভোটের পিআর অনুযায়ী উচ্চকক্ষ তারা মানবে না, নতুন বিচারিক প্রক্রিয়া, পিএসসি, দুদক নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কার মানতে নারাজ তারা।’

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে জুলাইকে কটূক্তি করছে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলের সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, আপনার কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে যারা বিদেশি গুপ্তচর তাদেরকে বের করা। তাদের দ্বারা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে সংস্কারের বিষয়ে আপনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, চতুর্দিকে শত্রু রেখে আপনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা হলাম আপনার প্রকাশ্য শত্রু। যারা আপনার পাশে আছেন, তারা হচ্ছেন আপনার আসল শত্রু।

    অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শত্রু দ্বারা আবর্তিত। বিদেশি গুপ্তচররা সরকারে ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিদেশি গুপ্তচর যেকোনো সময় তারেক রহমানের বড় ক্ষতি করতে পারে। তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি (তারেক রহমান) ভালো অবস্থানে নেই।

    অলি আহমেদ বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়, আপনার বন্ধু। যার কারণে আপনাকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ইতিহাসে একজন নেতা হয়ে থাকেন।

  • টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৩ সালের ২২ জুন বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে অপর দুই আসামি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অন্য দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে একই আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের শেখপাড়া সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই ইউনিয়নের হরিদাস কাঠি গ্রামের বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা তাপস হোর ওরফে সুনু হোর (৬০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সয়াবিন তেল বোঝাই একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছনে থাকা অপর একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পতিত ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী নিচে পড়ে যান। এ সময় পিকআপ ভ্যানে থাকা তেলের ড্রাম ইজিবাইকচালক দিদারুল হক ও যাত্রী তাপস হোরের মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    নগরীর হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পাইকগাছা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে খুলনার দিকে আসছিল। ট্রাকটি তেল নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    এ,আর


  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সংস্কারের দাবি

    ফেনীর পরশুরামে বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্দমাক্ত সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের প্রধান সড়কে এ ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। পাশাপাশি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ জরুরি সেবার যানবাহনও এই সড়কে যেতে অনীহা দেখায়।

    বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাস্তার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মজুমদার বলেন, বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

    আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বহু বছর ধরে তারা এই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় এটি যেন চাষের জমি।

    মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম জানায়, বৃষ্টি হলে কাদা এড়িয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয় এবং পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে টেকসই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

    পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।