সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মহেশপুরে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এ সংবর্ধনা পেলেন জুলাই যোদ্ধারা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , মহেশপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই,উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি,উপজেলা সাবেক ,মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান ,সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস,সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর ছাত্রদলের নেতা আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান বাপ্পি,শফিকুল ইসলাম,অমিত,নুর আলম,মোঃ হাসান,কাজী বিল্লাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দেশ গঠনে তাদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনা ও উপহার দেওয়া হয়।

  • মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

    সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শহরের নোমানী ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে কলেজ রোড হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

    সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, সহ-সেক্রেটারি মারুফ কারখি, পৌর আমির আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট আজমত হোসাইন প্রমুখ।

    এ সময় বক্তারা অবিলম্বে সরকারের কাছে গ্যাস সঙ্কট নিরসন, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোসহ সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

  • সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় ৬ কোটি টাকার ‘কুশ’ মাদক জব্দ, আটক ১

    সাতক্ষীরায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন ধরনের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। জব্দ করা মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনসহ উদ্ধারকৃত মালামালের মোট মূল্য ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি বাজার এলাকায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা শহর থেকে ঝাউডাঙ্গা বাজার এলাকায় ‘কুশ’ নামের মাদক নিয়ে যাওয়া হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাধবকাঠি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী মো. তারিকুজ্জামানকে (২৪) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ১২ কেজি ‘কুশ’ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১২ কেজি ‘কুশ’-এর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এছাড়া জব্দ মোটরসাইকেলের মূল্য ২ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ মালামালের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

    আটক তারিকুজ্জামান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবির কাছে দাবি করেন, তিনি জানতেন না ব্যাগে কী ছিল। তাঁর ভাষ্য, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পাশ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় একটি ব্যাগ পৌঁছে দিতে বলেন। কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। ব্যাগটি পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথেই তিনি বিজিবির হাতে আটক হন। পরে জানতে পারেন, ব্যাগে ‘কুশ’ নামের মাদক ছিল। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    বিজিবি জানায়, ‘কুশ’ মূলত মারিজুয়ানা গাছের ফুল বা কুঁড়ি থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এতে অতিরিক্ত টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে তরল, গুঁড়া কিংবা ট্যাবলেট আকারেও বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

    সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি বলেন, ভারতের সঙ্গে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

  • ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    মানববন্ধনে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, সন্ত্রাস ও লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    টাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার বালিকা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, হল দখল, ফ্রি খাওয়া, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম রুখে দিতে হবে। অধ্যাপক ওবায়দুল হকের ওপর হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে টাকসুর ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন হলো দেশ গড়ার ও মানুষ তৈরির কারখানা। কোনো সন্ত্রাসী, মাস্তানি বা চাঁদাবাজির স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আজহারী, ফকিহ ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল হক, প্রভাষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক। এছাড়াও টাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

  • শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

    এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

    তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

    সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

    তাঁদের মধ্যে কেবল শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে ততটা পরিচিত ছিলেন না। ব্যবসা করতেন। সেভাবে আত্মগোপনও করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার পরিবার বা স্বজনদের বাকি সদস্যরা তাঁর সরকারের পতনের আগে ও পরে দেশ ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশের বর্তমান অবস্থান ভারতে। অনেকেই কলকাতার দামি আবাসিক ভবনে থাকছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বের হয়েছে।

    হাসিনা পরিবারের সবাই আগেই নিরাপদে ছিলেন

    দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হেলিকপ্টার থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নামছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ছবি: সংগৃহীত

    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে যান ছোট বোন শেখ রেহানা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ রেহানাকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা।

    তবে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ রেহানাকে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে পাশে দেখা গেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার পর শেখ রেহানা লন্ডন ও ভারতে থাকছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও ছিলেন। তিনি শেখ রেহানার দেবরও।

    শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সরকার পতনের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও আলোচনা আছে।

    শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জয় নিয়মিত দেশে আসতেন এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তিনি শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় সায়মা ওয়াজেদ দিল্লিতেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। তবে বেতন পান। তিনি কখনো দিল্লি, কখনো দুবাইয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) দেখাশোনা করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি দেশে ও বিদেশে থাকতেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক।

    ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কাজ করেছেন।

    শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সে দেশের পার্লামেন্টের সদস্য। টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে খুব একটা আসতেন না। রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।

    নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই ভারতে

    ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর স্বজনদের আটজন সংসদ সদস্য হন। শেখ হাসিনার আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন তাঁর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় এবং ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। এ ছাড়া অন্য আত্মীয়রা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশেই ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে কলকাতায় আছেন।

    শেখ সেলিমের ছেলে ও যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় গেছেন। তিনি নিয়মিত দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

    শেখ সেলিমের আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের আগেই তিনি দেশ ছাড়েন।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। সরকার পতনের আগের সপ্তাহে তিনি কানাডা থেকে দেশে এসেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে নানা কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন। সরকার পতনের দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন পর পরশ ভারত হয়ে কানাডায় চলে যান। এরপর তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন।

    শেখ ফজলুর রহমান মারুফ শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই। রাজনীতিতে তিনি ততটা আলোচনায় ছিলেন না। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই তিনি ভারতে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি প্রায়ই ভারতের রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগায় যাতায়াত করতেন। সেখানে তাঁর এক মেয়ে থাকেন। তাঁর মেয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

    ভারতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রেস্তোরাঁসহ নানা সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তাঁর ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বাবা ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজন মিলে পুরো বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বরিশালে সক্রিয় ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। পরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আছে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে আগুন দেয়।

    শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    আবুল খায়ের আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান বলে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার দুই প্রভাবশালী চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাঁরা দেশেই ছিলেন। পরে তাঁরা ভারতে চলে যান। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি দামি আবাসিক কমপ্লেক্সে তাঁরা বসবাস করছেন বলে খবর বের হয়েছে।

    শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে আছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শম্পাকে গণভবনে শেখ হাসিনার পাশে প্রায়ই দেখা যেত।

    শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেল ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলেন। খুলনার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে কোথায় আছেন, তা আওয়ামী লীগের নেতারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

    শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। তাঁর ভাই নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের নেতা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। দুজনই শেখ হাসিনার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাঁদের ভারতে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন।

    মহিউদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক

    গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা

    মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, দীপু মনি, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকসহ অনেকে কারাগারে আছেন কোলাজ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন ডজনের মতো সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং ৫০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মারা যান। সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দিনাজপুর জেলা কারাগারে এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা যান।

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহ, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, দীপু মনি, আহমদ হোসেন ও আবদুস সোবহান গোলাপ কারাগারে আছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকও কারাগারে আছেন।

    রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসন পারিবারিক শাসনে পরিণত হয়েছিল। এ সময় জ্ঞাতি–গোষ্ঠী, কিছু ব্যবসায়ী এবং পদধারীরা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ কর্মী–সমর্থকেরা কামানের গোলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।’

    সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।’

    জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের ডাকা এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

  • মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী ‍উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।

    বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

  • দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যে কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত জারি করা এক রুল আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয় নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

    রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন দায়ের করে।

  • চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় সাংবাদিক এম এ রহিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রেসক্লাব চৌগাছার নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব চৌগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এম এ রহিমের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নেই। একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম ও বাবুল আক্তার, সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর, অর্থ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্ত, ক্রিড়া সম্পাদক এম এ মান্নান, পত্রিকা বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দপ্তর সম্পাদক রায়হান হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক লাভলুর রহমান ও সাংবাদিক আজিজুর রহমান, আজম আশরাফ, জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য সদস্যরা।

    প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারে এক ঘটনায় এম এ রহিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের উপস্থিতিতে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সাংবাদিক এম এ রহিমের সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ করে। পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষিয়টি নিষ্পত্তি হয়।

    একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্রেতাদের সঙ্গে শালীন আচরণের বিষয়ে দোকান মালিক লিখিত মুচলেকাও দেন। এবং সাংবাদিক এম এ রহিমও বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অভিযোগ নেই এই মর্মে অঙ্গিকার নামা দেন।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৪০), সাজিদ হাসান (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৪)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে মো: মিজানুর রহমান হাজারীকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    তবে একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান হাজারীর ছেলে মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মরহুম আলী হোসেনের ছেলে।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সাথে মিজানুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

    সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

    এ,আর

  • ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ট্রাকচাপায় মো: বজলুর রশীদ নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুডাংগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: বজলুর রশীদের বাড়ি ধামরাই উপজেলার কাঁঠালিয়া এলাকায়। তিনি পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মধুডাংগা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাকের সাথে বজলুর রশীদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বজলুর রশীদ মারা যান। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের হেলপারও আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

  • দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দুশ্চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকরা দাপট দেখালেন স্পিনে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি একাই ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। প্রথম দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারের ওপর ভর করে ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান। তাতে অতিথিরা পেয়েছে সম্মানজনক স্কোর। মিরাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

    অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ দুর্দান্ত বোলিং করে। আক্রমণের মুখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে চাপে পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা।

    তার আগে ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাজঘরে ফেরান হান্নো জ্যাকবস। ওপেনার তানজিদ বিদায় শূন্য রানে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও রানের গতি ছিল বেশ মন্থর।

    অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাদমান করেন ৪৭ বলে ৩১ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (১৬) ও টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান (১৫) উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। যথারীতি শুরুর ছয় ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হন এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন।

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোরি রকিচিওলি ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬৩/১০, ৭৫.৫ ওভার

    (মিরাজ ১০৯*, শান্ত ৩৭, সাদমান ৩১, মুমিনুল ১৬, সৌম্য ১৬; রকিচিওলি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, ক্যাম্পবেল ১/২৬ ক্রোন ১/৪৮ ও ওয়াদিয়া ১/২৬)।

  • ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

    বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এসময় নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।’

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো, থাকছেন ফিফার শীর্ষ পদে

    ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো, থাকছেন ফিফার শীর্ষ পদে

    ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাবের কারণে যে ‘ভুল’ তৈরি হয়েছে সেটির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

    তবে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ায় ফিফা সভাপতির পদেই বহাল থাকছেন তিনি।

    তার এই প্রস্তাবগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবার মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তলব করেন ইনফান্তিনো।

    ওই বৈঠকটি শেষ হওয়ার চার ঘণ্টা পর ফিফা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

    এর আগে, গত সপ্তাহের শেষে ইউরোপীয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছিল, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

    উয়েফা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাবটিকে একটি “নিম্নমানের, গোপন ও অস্পষ্ট চুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ফিফার ভেতর থেকেও বেশ কিছু সমালোচনা এসেছে। যার মধ্যে ছিলেন সংস্থাটির মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম, যিনি বুধবারের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন।

    মঙ্গলবার ফিফার কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি স্মারকে তিনি লেখেন, এই পরিস্থিতিটি একটি “দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনাপ্রবাহ”।

    যদিও বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের “পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত” করেছেন গ্রাফস্ট্রোম এবং ফিফার পরিচালনা পর্ষদ।

    ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য সংস্থাকে ইনফান্তিনো এবং গ্রাফস্ট্রোমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিবিসি এই চিঠিটি দেখেছে।

    চিঠিতে তারা তাদের ভুলের জন্য “আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান” এবং “ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি” দেন।

    ওই বৈঠকের পরে ইনফান্তিনো এবং গ্রাফস্ট্রোমকে রাবাতে উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করতে দেখা গেছে।

    এফএফই নামের একটি নতুন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাবটি সমর্থন করলে প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার অথবা চার কোটি ডলার (৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।

    ফিফা জানিয়েছে, বুধবারের বৈঠকে এফএফই সংক্রান্ত “ভুলগুলো স্বীকার করা হয়েছে।”

    এই সংস্থাটির দাবি, ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য সংগঠনগুলো যেন “এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে বলে মনে না করে”। এই প্রক্রিয়াটি “ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল” বলেও তারা উল্লেখ করে।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, “গণমাধ্যমে প্রস্তাবটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেও যে ভুল হয়েছে” সেটি তারা স্বীকার করেছে।

    ২৮শে জুলাই দ্য টাইমসে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার খবরটি প্রথম ব্রেকিং হিসেবে প্রকাশ করে।

    তবে, বিবৃতিতে ফিফা এটিও বলেছে, “সততা, সুশাসন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আঘাত আর সহ্য করা হবে না এবং সংস্থার সুনাম রক্ষা ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে”। সূত্র-বিবিসি বাংলা

  • মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বৃষ্টিস্নাত রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে লিগ কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।

    ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে ওই এলাকায় বজ্রপাতের কারণে খেলা ৩০ মিনিট বিলম্বিত হয়।

    মেসি ম্যাচের ১১ ও ৪৪তম মিনিটে গোল করেন। ১২টি লিগ কাপ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৪টি—যা টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বোয়াঙ্গার চেয়ে এক গোল বেশি এবং এর মাধ্যমে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেসি বাদেও তেলাস্কো সেগোভিয়া এবং ডিফেন্ডার মাইকায়েল একটি করে গোল করেছেন এবং নোয়াহ অ্যালেন তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর সুবাদে টানা ৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো ইন্টার মায়ামি।

    এদিন বিশ্বকাপের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন, তবে লা আলবিসেলেস্তেরা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা শনিবার কলম্বাস ক্রুর সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

    কলম্বাসের বিপক্ষে গোলবঞ্চিত থাকার পর, বুধবার প্রভাব বিস্তার করতে মেসির বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় ডেভিড রদ্রিগেজ হেডে গোল করে সান লুইসকে এগিয়ে নেওয়ার পর, অ্যালেনের বাড়ানো একটি লম্বা ক্রস থেকে আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ফিনিশ করে আরও একটি গোল করেন এবং স্টপেজ টাইমে মাইকায়েলের হেডে করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।

    ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই মেসি মায়ামিকে লিগ কাপের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামি গত বছরও ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায়।

  • সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন জাময়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। সেখানে আসার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পর কিছুটা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

    জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হন।

    মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

    প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অতিবাহিত হওয়ার পর অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের দাবি জানাতে এসেছি। তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিলেন না। সচিবালয় থেকে আসতে তাদের পাঁচ মিনিটও সময় লাগে না, কিন্তু তারা এলেন না।

    এসময় তিনি আরও পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন এবং এসময়ের মধ্যে না এলে সরকারের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানান।

    কর্মসূচিতে ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য।

  • ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিনদিনের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এখনো ফ্রিজিং চলছে এবং এটা শেষ হয়ে গেলে বিকাল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে।’

    ‘সঞ্চালন শুরু হয়ে গেলে আস্তে আস্তে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, সেটা উন্নত হবে। মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সেই মতো উত্তোলন করতে পারবো।’—উল্লেখ করেন তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন দিন লাগবে। এটা বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিলো, তেমনই হবে।’

  • ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদেরই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    সমাজকল্যামন্ত্রী জানান, ৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে কিংবা আবার দারিদ্র্যে নেমে এলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি কাজে লাগবে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল।

    জানানো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি থাকবে, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা নিতে না পারেন। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নও করা হবে, যাতে কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রকৃত প্রভাব পরিমাপ করা যায়।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।

  • জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

    স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব

    আলমগীর হোসেন খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন,সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক,আইন বিষযক সম্পাদক দারুস সালাম,চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাড. হাসিবুল ইসলামস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    এই সময় বক্তারা অভিযোগ করে আর ও বলেন, এসব কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুতের মূল্য ও বিলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    অনলাইন একিক্টভিস্ট সাদিকুর রহমান খান বলেছেন,বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারেক রহমানের ডাকে সরকার পড়লে হাসিনা সরকার পড়ার কথা ছিল ২৮ অক্টোবর। তারেক রহমানের ডাকে ১০ লাখ লোক ঢাকা আসলো। পুলিশ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে ১০ মিনিটে ১০ লাখ পালাইয়া গেল। নেতা নাকি কর্মীরা আগে পালাইসিল, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন, ১০ লাখ লোক কেমনে ১০ মিনিটে পালাইয়া যায়? এরা এসেছিল ক্ষমতার জন্য।

    একজন মানুষও তারেক রহমানের ডাকে মরতে রাজি হয় নাই। একজনও না। নেতাও না। কর্মীও না। জুলাই আগস্টে মির্জা ফখরুলকে বারবার বলতে হইছে এই আন্দোলন আমাদের আন্দোলন না। আমরা এর সাথে জড়িত না। কারণ জুলাই বিএনপির আন্দোলন হইলে কোটি কোটি মানুষ এই আন্দোলনে আসতই না।

    ১৭ বছরে এক দফা কি কম দিসে?

    একটা মানুষ পাত্তা দিসে?

    দেয় নাই।

    মানুষ যাইয়া শুনলো নাহিদ ইসলাম নামের অপরিচিত, অরাজনৈতিক একটা ছেলের কথা। ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলামের এক দফাতেই সরকারের নৈতিক পতন হয়ে যায়। হাসিনা পরিবারের সবাই পালাতে শুরু করে ৩ তারিখ থেকেই। আর ৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ ঢাকা দখলের ডাক দেন। ৫ আগস্ট মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নেয়। শহীদ হয় দুইশরও বেশি মানুষ। বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনদিন পালাইতে হয় নাই। কারণ হাসিনা জানত, পুলিশের বাঁশি শুনলেই এরা পালাবে। ১৭ বছর তো তাই পালাইসে।

    জুলাইয়ে কারা রাজপথে ছিল, সেটা ডকুমেন্টারিতে দেখানোর কিছু নাই। মানুষ দেখেছে জুলাইয়ে কে লন্ডনে ছিল, কে শিলং এ ছিল আর কে ঢাকায় ছিল। এই জেনারেশনের সাথে তামাশা করে লাভ নাই। জুলাইয়ের নেতা কারা, জুলাইয়ের ইমাম কে, বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় যাইয়া ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন, যান, ১০ সেকেন্ডে এই দেশের বাচ্চারা সাক্ষ্য দেবে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত আর আখতারদের নাম।

    জুলাইয়ের ইতিহাসে এই প্রজন্মের অন্তরে লেখা আছে। দুই পয়সার ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই লেখা মুছতে পারবেন না। আপনাদের কর্মীরা হইলো ১০ মিনিটে সব রাইখা পালাইয়া যাওয়া বিড়ালের দল,

    আর নাহিদের ডাকে যারা আসছিল, তাদের ব্যাপারে হাসিনার শুনতে হয়েছিল, একটা গুলি করি। একটা মরে, ঐ একটাই যায় স্যার। বাকিডি যায় না।

    গুলি করে যেই জেনারেশনের সাথে হাসিনা পারে নাই, মিথ্যা ইতিহাস আর মিথ্যা ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই জেনারেশনকে মুছে ফেলতে চাওয়ার দু:সাহস কেমনে হয় আপনাদের?’

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    যশোরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রায় ১৬ শ তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর অতিক্রম হলেও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।

    সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    এম এ রহিম , চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ (পিপিএম), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, প্রেস ক্লাব চৌগাছার যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. রহিম, ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক এম এ মান্নান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হাসানুজ্জামান, শহিদ আল আমিনের পিতা আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, সম্রাট হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অদীপ ফারহান, ছাত্রশক্তি নেতা জুবায়ের ও এনসিপি নেতা সিনবাদ।

    অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় মিছিল করা হয়।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।

    বুধবার ৫ আগষ্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?… একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

    ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের, সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

    সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।… সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি…তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।…সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’

    জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান এক দিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’

    জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।…আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’

    জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি।…ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।…ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’

  • সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত

    রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ‘সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাটের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ‘রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    দৈনিক গণকণ্ঠের রাজশাহীর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট এবং ক্যামেরাম্যান আবিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, দখলবাজি ও নানা অপরাধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর হুমকি। হামলা, ভয়ভীতি কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পথ কখনোই রুদ্ধ করা যাবে না। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজশাহীসহ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, হামলায় জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে এ ধরনের অপরাধ আরো উৎসাহিত হবে, তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।’

    সাংবাদিক নেতা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।’

    এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস এম আব্দুল মুগনী নীরো, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

    এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের গড়ে তোলা হবে।

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ছয়জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছেন। এ মামলার অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার জেলা ও দায়রা অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের জজ মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন। তারা দু’জন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোশাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।

    এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।

    তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

    মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে পর্যালোচনা চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যেসব মন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ২৪ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন চলছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

    সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্রেট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ-সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন করে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

    সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ১২ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এজন্য দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক অনেক ভালো ‘পারফরম্যান্স’ করছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তারা পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। এছাড়া সংসদ-সদস্য এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ভেবেচিন্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনের সমালোচনাা করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানান।

    তার মতে, খসড়া আইনের প্রস্তাবিত বিধানগুলো গুমের শিকার পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করবে এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি হয়রানি ও শাস্তির মুখে ফেলবে।

    নাবিলা ইদ্রিসের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মূলত আইনের দুটি বিশেষ ধারার কার্যকারিতা ও এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।

    খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পরিবার যদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করে, তবে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই করবে। এই বিধানের কঠোর সমালোচনা করে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এর ফলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেদের দায়মুক্ত দেখানোর সুযোগ পাবে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

    প্রস্তাবিত আইনের ধারা ২১-এ বলা হয়েছে, তদন্তের পর যদি আদালতে গুমের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী পরিবারের ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সাবেক এই কমিশন সদস্য মনে করেন, এই ধরনের শাস্তির বিধান থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয়ে মুখ খুলতেই সাহস পাবে না।

    সোমবার মন্ত্রিসভায় গুম সংক্রান্ত নতুন এই আইনের খসড়া অনুমোদন পায়। রাষ্ট্রীয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আসার পর তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিনের।

    তবে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত বাহিনী নিজেই যদি তদন্তের দায়িত্ব পায়, তবে তা থেকে ন্যায়বিচার আশা করা কঠিন। তাছাড়া, মিথ্যা অভিযোগের জিগির তুলে ৫ বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর এক ধরনের চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আইনি হুমকি তৈরি করবে।

    সাবেক কমিশন সদস্যের এই বক্তব্য প্রকাশের পর আইনটির কার্যকারিতা ও এর খসড়া সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    আগামীকাল ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত থাকবে।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে বুধবার সকাল ৯টায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত সব অতিথি, জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ভারতের উজান এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছিল। কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

    তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাই সবাইকে আদালতের আদেশ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত সেটি মেনে চলতে হবে।

    শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে চলবে।

    শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।

    সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দেরিতে জানার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রশাসনে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রশাসনিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনও রয়েছেন। তাদের পরিবর্তে নতুন জনবল গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

    কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের কমবেশি দুই কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস. এম. আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালরি ডেকেরেশনের কাজ করছিলেন। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।’

  • পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    ফিচার

    চা বানানোর সময় সামান্য চিনির দানা নিচে পড়ে যাওয়া কিংবা মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের কোণে জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন হাজির হয় সারি সারি পিঁপড়ার দল। কোনো জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা একদম পৌছে যায় নির্দিষ্ট সেই খাবারের উৎসে। কিন্তু মেঝের অদৃশ্য সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়—তা নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতুহল রয়েছে।

    গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে।

    অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি ও জিনগত ক্ষমতা

    রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে।

    ভারতে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে ৮০০-র বেশি প্রজাতির ও উপপ্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে, যার মধ্যে মানববসতিতে অন্তত ৩৪ প্রজাতির পিঁপড়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    পিঁপড়ার খাদ্য অনুসন্ধানের মূল কারিগর তাদের ‘অ্যান্টেনা’। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে।

    ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা সায়েন্স জার্নাল পিএলওএস জেনেটিক্স-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।

    বিশেষ ‘টেস্ট রিসেপ্টর’ ও সার্চ ইঞ্জিন

    ২০২১ সালে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ফায়ার অ্যান্টের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, পিঁপড়ার খাবারের তালিকায় থাকা মিষ্টি উপাদানের সঙ্গে তাদের অ্যান্টেনায় থাকা স্বাদগ্রাহক (টেস্ট রিসেপ্টর) এবং সামনের পায়ের এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে।

    পিঁপড়াদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে সুগার বা মিষ্টিজাতীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু মিষ্টির গন্ধ বাতাসে খুব বেশি ছড়ায় না। এ জন্য পিঁপড়ার শরীরে থাকা বিশেষ অ্যাটোমিক ব্যবস্থা কাজ শুরু করে। তাদের শুঁড়ে থাকা টেস্ট রিসেপ্টর খাবারে স্পর্শ করা মাত্রই চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও সনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পিঁপড়ার এই টেস্ট রিসেপ্টরকে একটি প্রাকৃতিক ‘সার্চ ইঞ্জিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ‘জিপিএস’ ও ফেরোমোন সংকেত

    খাবারের খোঁজ মেলার পর সেখানে কীভাবে পিঁপড়ার পুরো কলোনি হাজির হয়—তার উত্তর লুকিয়ে আছে ‘ফেরোমোন’ নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে।

    মার্কিন কৃষি গবেষণা পরিসেবা এবং ২০০৯ সালে ফিজিওলজিকাল অনটোলজি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যখন কোনো দূরদর্শী স্কাউট পিঁপড়া খাবারের সন্ধান পায়, তখন সে কলোনিতে ফিরে যাওয়ার সময় মেঝেতে একটি রাসায়নিক পথের রেখা বা ‘ট্রেইল’ এঁকে দিয়ে যায়।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এই ফেরোমোন অনেকটা আধুনিক যুগের ‘জিপিএস’ বা গুগল ম্যাপসের মতো কাজ করে। রাসায়নিকের এই নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেই সারি বেঁধে অন্যান্য পিঁপড়ারা সঠিক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়।

    গোয়ার ‘ফরেস্ট ইকোলজি রিসার্চ সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা জানান, পিঁপড়ার সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর করে এই রাসায়নিক সংকেত ও স্পর্শের ওপর। অ্যান্টেনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পিঁপড়ার পক্ষে বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত অসাধারণ ঘ্রাণভিত্তিক জিনগত বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সার্চ ইঞ্জিনসম শুঁড় এবং নিখুঁত রাসায়নিক জিপিএস ব্যবস্থার যৌথ সক্ষমতা ব্যবহার করেই পিঁপড়ারা ঘরের যেকোনো কোণে থাকা মিষ্টির কণা সহজে শনাক্ত করতে পারে।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, তবে সেই তথ্যের কতটা সত্য আর কতটা গুজব, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলো নারীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্তন ক্যানসারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যা বছরের পর বছর ধরে নারীরা বিশ্বাস করে আসছেন।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ড. ক্রিস্টিন লাই স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন কিছু বহুল প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভয় কখনো ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে না, বরং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞানই পারে সচেতনতা বাড়াতে। ড. লাইয়ের মতে, ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ওপর নির্ভর করা উচিত।

    নিচে স্তন ক্যানসার নিয়ে ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের আলোচিত ৮টি ভুল ধারণা ও সেগুলোর প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলো:

    ১. অন্তর্বাস বা ব্রা পরলে কি ক্যানসার হয়?

    অনেক নারীই মনে করেন দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকা, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার ব্রা বা ব্রা পরে ঘুমানো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ড. লাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের সাথে ক্যানসারের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। ক্যানসার অস্ট্রেলিয়ার তালিকাতেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. কফি পান ও স্তনের ব্যথা

    অনেকে মনে করেন কফি খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যাফেইন পানের ফলে কিছু নারীর স্তন কিছুটা নরম বা পিণ্ডাকৃতির মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়, ক্যানসারের জন্য নয়। তাই ক্যানসারের ভয়ে প্রিয় পানীয়টি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

    ৩. চিনি কি ক্যানসারের খাবার?

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় মিথ হলো, চিনি ক্যানসারকে পুষ্ট করে। ড. লাইয়ের মতে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ বা চিনির ওপর নির্ভর করে চলে। কেবল চিনি বর্জন করলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সুস্থ কোষগুলোকেও প্রভাবিত করবে। কার্বোহাইড্রেট বা চিনি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

    ৪. সয়াবিন জাতীয় খাবারের প্রভাব

    সয়াবিন, টফু বা সয়া মিল্ক স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সয়াবিনে থাকা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন শরীরের প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে না এবং কিছু গবেষণায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবেও দেখা গেছে।

    ৫. স্তনের আকার ও ক্যানসার ঝুঁকি

    অনেকে বিশ্বাস করেন স্তনের আকার বড় হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ড. লাই জানিয়েছেন, স্তন ছোট বা বড় হওয়ার ওপর ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ভর করে না। এটি একটি শারীরিক গঠনগত বিষয় মাত্র।

    ৬. আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্যানসার

    হঠাৎ কোথাও পড়ে যাওয়া বা গাড়ির সিটবেল্ট থেকে স্তনে কোনো আঘাত পেলে অনেকেই ক্যানসারের ভয় পান। ড. লাই জানান, আঘাতের ফলে স্তনে সাময়িকভাবে কোনো পিণ্ড বা দলা তৈরি হতে পারে যা নিরাময়যোগ্য, তবে এটি ক্যানসারে রূপান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

    ৭. গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ

    ১৬টি দেশের প্রায় ৮৩ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের সাথে স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যা কেবল মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে।

    ৮. আইভিএফ বা প্রজনন চিকিৎসা

    অনেকের ধারণা আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোনগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ড. লাইয়ের মতে, এই চিকিৎসার সাথে ক্যানসারের ঝুঁকির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি, তাই যারা আইভিএফ করার কথা ভাবছেন তাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    শেষ কথা

    ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য হলো নারীদের মন থেকে ভয় দূর করা, ভয় বাড়িয়ে দেওয়া নয়’। স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত চেকআপ করানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। ভুল তথ্যের মায়াজাল ছিন্ন করে সঠিক জ্ঞানে সচেতন হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

  • আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনালে দলবদলের গুঞ্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ফিরেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশ্বকাপ মিশন শেষে ছুটি কাটিয়ে গতকাল স্থানীয় সময় সকালে মাদ্রিদের ভালদেবেবাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নতুন কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে দলের সঙ্গে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিনিকে দলে ভেড়াতে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা। গানারদের এই কোচ ভিনিকে পুরো আর্সেনাল প্রজেক্টের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ক্লাবটিকে ইউরোপের পরবর্তী আধিপত্যশীল দল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রস্তুত করেছেন। রিয়ালের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র ১২ মাস বাকি রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতা হয়নি।

    রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির ফেরার বিষয়ে ক্লাবটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর ভিনি জুনিয়র এবং ব্রাহিম দিয়াজ রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এসেছে। কোচের নতুন অধীনে প্রথম প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করার আগে দুই খেলোয়াড় আজ সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভালদেবেবাস হাসপাতালে উপস্থিত হন।’

    দ্বিতীয় দফায় অল হোয়াইটদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়া হোসে মরিনহো তার এই তারকা ফরোয়ার্ডকে হারাতে নারাজ। লস ব্লাঙ্কোস শিবিরও তাদের আক্রমণভাগের অন্যতম এই অস্ত্রকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। যদিও চুক্তি নবায়ন নিয়ে এখনো ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

    তবে আর্সেনালের গভীর আগ্রহ এবং ভিনির বর্তমান পরিস্থিতি গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোকে বেশ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। প্রি-সিজনের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মরিনহোর অধীনে ভিনির পারফরম্যান্স এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

  • এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সফল করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠন না করলে তাদের এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

  • সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ। আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’

    ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’

    নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’

    সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

    দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’

  • কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিবুল।

    মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

    জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও মহিষ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে একটি খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

    Islam

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হতে চাচ্ছেন।

    খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন-পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দিই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

    তিনি আরও বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

    তাঁর সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতিবিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।”

    সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে প্রাণীটি দেখার জন্য অনেকে রাকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।”

    দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন-পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের।”

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন-পালন সম্ভব; যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

  • জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের জালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোসহ তিন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎসংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এসব নির্দেশনা আসার কথা জানান তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল।

    তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে; সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।

    এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের দংশনে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজের কাছে ভুল চিকিৎসা ও সময় অপচয় করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আল আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং স্থানীয় ঘোলদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। তবে অন্ধকার থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ওই কবিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাপে কাটেনি বলে দাবি করেন।

    যন্ত্রণা আরো বাড়লে তাকে দ্বিতীয় আরেক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে সময়মতো হাসপাতালে না নেয়াতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

  • সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির মর্মানুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজিনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।

    আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, এত রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অপপ্রচার, অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্ত জড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংসদকে আরও কার্যকর করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে যেভাবে বিএনপি সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে, এখন ক্ষমতায় থেকেও সরকার একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।