সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটি একদিকে নিষিদ্ধঘোষিত (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), আবার মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে। এর বেশি কিছু দেখা যায় না।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তিও এই দলটির এখন আর নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনের খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত ল ফার্মকে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত বেনজীরের জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করার জন্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখনই তিনি বলতে পারছেন না। বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সম্প্রতি মেট্রোস্টেশনে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর পেছনে কারা আছে, সেটি খুঁজতে তদন্ত চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের তুলনায় উগ্রবাদী তৎপরতা বর্তমানে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই যেন উগ্রবাদী ও মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি নিজেই বলে গেছেন, তারেক রহমান সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৩১ জুলাই সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে ইমরানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক রানা রায়। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

    ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ইমরান হোসেন এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতবস্থায় আসামিকে এ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

    শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা ব্রিজ, বছিলা চেকপোস্ট ও সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় ভিকটিম মো. ছালেমানের পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হন।

    ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম মো. ছালেমান।

    উল্লেখ্য, সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরানকে ২০২৫ সালে ৩ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে কারাগারে আটক আছেন আলোচিত এ ব্যবসায়ী।

  • রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

    গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

    হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

  • পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

    তিনি বলেন, এবারও একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন আসছে না। গতবারের মতো ফল বা নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম রেখে আমরা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন।

    উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে।

  • অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

    তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

    এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

    সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

  • চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চিলিতে পৌঁছেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কোলোতে যোগ দিতে সান্তিয়াগোয় পা রাখতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

    সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। ব্যানার, পতাকা, ড্রাম আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন সমর্থকেরা।

    সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    গত ২৪ জুলাই কলো-কোলো ভোজিনহাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয়। যদিও চিলিতে তার আগমন কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণেও সফরের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এ সময় মরক্কোর ক্লাব আরএস বারকানসহ অন্য কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সান্তিয়াগোয় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে কলো-কোলোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং সাবেক তারকা ড্যানিয়েল মোরন ভোজিনহাকে স্বাগত জানান।

    পর্তুগিজ ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন ভোজিনহা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টে ১৮টি সেভের পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ক্লিন শিট রেখে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও।

    ভোজিনহার আগমনকে সামনে রেখে চিলির ফুটবলেও ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দিয়ে কলো-কোলোর জার্সির পেছনে তার পারিবারিক নামের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডাকনাম ভোজিনহা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

    কোচ ফার্নান্দো অর্টিজের অধীনে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে খেলবেন ভোজিনহা। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

  • হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    প্রায় ৪ মাস পর বার্সেলোনা অবশেষে একটা নৈতিক জয় পেয়েছে। উয়েফা এখন রেফারিদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। পেনাল্টির জন্য এই নির্দেশনাটি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থা।

    মাঠের কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের বক্সের ভেতরে ইচ্ছা করে হাত দিয়ে বল ধরে, আর তখন বল খেলার মধ্যেই থাকে, তাহলে রেফারিকে অবশ্যই পেনাল্টি দিতে হবে। উয়েফা বলেছে, এই ধরনের ঘটনায় আর কোনো ব্যাখ্যা বা তথাকথিত ‘কমন সেন্স’ খাটানো যাবে না।

    এই নতুন নির্দেশনা মূলত এল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের একটা বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিত। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে সেই ম্যাচ হয়েছিল।

    গোলকিক থেকে আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বল বাড়ান মার্ক পিউবিলের কাছে। পিউবিল তখন নিজের বক্সের ভেতরে হাত দিয়ে বলটা থামিয়ে দেন, যদিও তখন বল খেলার মধ্যেই ছিল। কিন্তু প্রধান রেফারি ইস্তভান কোভাচ পেনাল্টি দেননি, আর ভিএআরও তাকে ঘটনাটা আবার দেখার জন্য ডাকেনি।

    বার্সেলোনা এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে। তারা দাবি করে, রেফারির এই ভুল স্বীকার করতে হবে। কিন্তু উয়েফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয়। এখন নতুন নির্দেশনা দিয়ে উয়েফা ঘুরিয়ে হলেও বার্সেলোনার কথাকেই সঠিক বলে মেনে নিল।

    উল্লেখ্য, সেই বিতর্কিত ঘটনার সময় বার্সেলোনা আতলেতিকোর কাছে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা তারা ০-২ গোলে হারে। দুই লেগ মিলিয়ে মাদ্রিদের দলের কাছে হেরে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি।

  • থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। ঘোষিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে থানার সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে শ্রীপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব।

    বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি আমার একটি ছবির সঙ্গে টেবিলে রাখা কয়েকটি মদের বোতল এবং আরও দুই ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করে সম্পাদিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমি শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করতে না পারলে আমি থানার সামনে এসে আত্মহত্যা করব।

    তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন পৌর বিএনপি নেতার অভিযোগেরও যদি কার্যকর প্রতিকার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের সেবা পাবে?

    শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর এমন বক্তব্যে আমি সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বস্ত করেছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে যেভাবে থাকে তার পাশেও সেভাবে থাকবে এবং ন্যায়বিচার পাবেন বলে নিশ্চিত করেছি।

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও,  সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও, সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের ওপর ধানগাছ রোপণ করেছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এই প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। অধিকাংশ যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানি। বৃষ্টি হলেই পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শ্রীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

    পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়।’

    কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়েই কাজে যাই। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী আর গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

    অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আর গাড়ি চালানো যায় না। আয়-রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও এখন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

    শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় চার কোটি নয় লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

    এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।’

  • বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনা।

    সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেব না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে শুধু নেতিবাচক প্রচারণা চালালে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। দেশের স্বার্থে সংঘাত নয়, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আজমপুরে পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আমানত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালায়। এখান থেকে ইয়াবাসহ মো: জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

    জিয়া ঈশ্বরচন্দ্রপুর স্কুলপাড়ার মরহুম শুকুর আলীর ছেলে।

    এরপর রাত ১০টার দিকে পরিচালিত অন্য এক অভিযানে আজমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে মো: আকাশ হোসেন (২২) নামের আরেক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আকাশ একই গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জিয়াউর রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অন্যদিকে আসামি আকাশ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেফতার আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করেছে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাঙ্গাশীয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন।

    অভিযান চলাকালে কঁচা নদী থেকে দুটি অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৭ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেহুন্দি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঙ্গাশীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    স্থানীয়রা জানান, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার কমবে এবং নদীর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মরদেহের খণ্ডিত অংশগেুলো একটি বড় ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে আলাদা তিনটি পলিব্যাগে রাখা ছিল।

    নিহত আবু রায়হান তালুকদার একই গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার ও রাহেলা খাতুনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আবু রায়হান নিজ বাড়িতে আসেন। রাতে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুও ওই বাড়িতে ছিল। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে রাজু তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে পৌঁছাননি।

    দুই দিন পর আবু রায়হানের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, তিনি অফিসে যোগ দেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

    খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা দু’জনই মাদকাসক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, পুকুর থেকে ট্রাভেল ব্যাগবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

  • সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভিমরুলের কামড়ে রাফসান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু রাফসান ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের উঠানে খেলার সময় রাফসান একটি পাতাযুক্ত ডাল টান দেয়। এতে ঝোপের ভেতরে থাকা ভিমরুলের চাক থেকে অসংখ্য ভিমরুল বের হয়ে তাকে একযোগে আক্রমণ করে। এতে শিশুটির চোখ-মুখ ফুলে লাল হয়ে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। পরে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: সাবিনা জানান, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিমরুলের কামড়ে রাফসান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।

  • আজ বন্ধু দিবস

    আজ বন্ধু দিবস

    জন্মের পর থেকেই মানুষ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও রক্তের সম্পর্কের এক চিরচেনা ভূগোলে বেড়ে ওঠে। কিন্তু জীবনযাত্রার কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই এমন একজন মানুষের আগমন ঘটে, যার সঙ্গে রক্তের কোনো টান নেই। অথচ জীবনের সবচেয়ে গোপন কথা, আনন্দ আর বেদনার মুহূর্তগুলো তার কাছেই অবলীলায় প্রকাশ করা যায়।

    সামাজিক কোনো বাধ্যবাধকতা বা জন্মসনদ ছাড়াই গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের নামই বন্ধুত্ব। মানুষের তৈরি যাবতীয় সম্পর্কের মধ্যে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীন এবং গভীর।

    আজ আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে। যদিও এমন একটি সম্পর্ককে নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখে বেঁধে রাখা যায় না। তারপরও এই দিনটি পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া, স্মৃতি রোমন্থন কিংবা সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    কীভাবে এলো বন্ধু দিবস?

    বন্ধু দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩০ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বন্ধু দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা হাওয়ার্ড হল ২ আগস্টকে বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বন্ধুদের শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল ও উপহার বিনিময়ের প্রচার চালান। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় সেই উদ্যোগ খুব বেশি সফল হয়নি।

    পরবর্তীকালে ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আগস্ট মাসের প্রথম রবিবারকে ‘জাতীয় বন্ধু দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

    আরেকটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি ঘটনার প্রতিবাদে এক ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পরদিন আত্মহত্যা করেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েও বন্ধু দিবস জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫৮ সালে সেখানে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাবও আসে প্যারাগুয়ে থেকেই।

    ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখনও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে আগস্টের প্রথম রবিবারই বন্ধু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    বদলে গেছে উদযাপনের ধরন

    একসময় বন্ধু দিবসে শুভেচ্ছা কার্ড, চকলেট কিংবা ছোট উপহার বিনিময়ের প্রচলন ছিল। এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পুরোনো ছবির কোলাজ, স্মৃতিচারণ, বন্ধুদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা কিংবা আড্ডার ছবি শেয়ার করেই দিনটি উদযাপন করেন অনেকেই।

    কেন প্রয়োজন বন্ধুত্ব?

    মনোবিশ্লেষকদের মতে, বন্ধুত্ব শুধু বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জীবনের প্রায় সব সম্পর্কেই বন্ধুত্বের প্রয়োজন রয়েছে। বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কেও বন্ধুত্ব থাকলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বলেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে ধীরে ধীরে একাকী করে তুলছে। এই বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে আন্তরিক বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তিনি বলেন, বন্ধুহীন মানুষ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। মানুষের জীবনে এমন একজন প্রয়োজন, যার কাছে নিজের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখবে। এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানুষকে একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

    জীবনে মানুষের আনাগোনা চলতেই থাকে। সময়ের নিয়মে অনেক সম্পর্ক ফিকে হয়ে যায়, অনেকে হারিয়ে যায় স্মৃতির অতলে। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুরা রয়ে যায় জীবনের শেষ অবধি- কখনো পাশাপাশি থেকে, কখনো দূরে অবস্থান করে আবার কখনো নিছক একবুক মিষ্টি স্মৃতি হয়ে। জীবনে নিজের সত্তাকে উন্মুক্ত করার এবং পৃথিবীকে নতুন আলোয় দেখার অনুপ্রেরণা যোগায় এই বন্ধন। আগস্টের প্রথম রবিবার বা জাতিসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস যাই হোক না কেন, বন্ধুত্ব প্রতিদিনের, বন্ধুত্ব চিরকালের।

    বিশ্ব বন্ধু দিবস শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি দিন নয়, বরং প্রিয় বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক, ছোট ছোট কোন উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই সুন্দর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় রাখা যায়।

    মন খুলে কথা বলুন, যোগাযোগ রাখুন

    বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত যোগাযোগ। ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে খোঁজ নেয়া, বন্ধুর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। অনেক সময় একটি ছোট্ট বার্তা বা হঠাৎ করা একটি ফোনকলও বন্ধুকে বুঝিয়ে দেয় যে আপনি তাকে এখনও আগের মতোই গুরুত্ব দেন।

    বিশেষ দিন ও মুহূর্ত মনে রাখুন

    বন্ধুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো মনে রাখা সম্পর্ককে আরও গভীর করে। জন্মদিন, নতুন কোনো অর্জন কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো দিনে শুভেচ্ছা জানানো বন্ধুত্বে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে। পুরোনো ছবি, স্মৃতি কিংবা একসঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প ভাগ করে নেওয়াও বন্ধুত্বকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    সুখ-দুঃখে পাশে থাকুন

    সত্যিকারের বন্ধুত্ব শুধু আনন্দের সময় একসঙ্গে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের কঠিন সময়ে একজন বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বন্ধুর সমস্যা সমাধান করতে না পারলেও তার কথা মন দিয়ে শোনা, সাহস দেয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাই অনেক বড় সমর্থন হয়ে ওঠে।

    ছোট ছোট যত্নে প্রকাশ করুন ভালোবাসা

    বন্ধুত্ব ধরে রাখতে সব সময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। হঠাৎ বন্ধুর খোঁজ নেয়া, তার পছন্দের কোনো জিনিস মনে রাখা, ছোট কোনো উপহার দেয়া কিংবা একসঙ্গে কিছু সময় কাটানো এসব ছোট ছোট উদ্যোগই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখে।

    একে অপরের পার্থক্যকে সম্মান করুন

    প্রত্যেক মানুষের চিন্তা, পছন্দ, মতামত ও জীবনযাপনের ধরন আলাদা। বন্ধুত্বের সৌন্দর্য হলো এই ভিন্নতাকে গ্রহণ করা। মতের অমিল হলেও বন্ধুর প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করাই একটি পরিণত বন্ধুত্বের পরিচয়।

    শুধু অনলাইনে নয়, বাস্তবেও সময় দিন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দূরে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এখন সহজ হয়েছে। তবে শুধু লাইক, কমেন্ট বা মেসেজের মধ্যেই বন্ধুত্ব সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সুযোগ পেলেই একসঙ্গে সময় কাটানো, সরাসরি কথা বলা এবং বাস্তব মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

    বিশ্বাস ও গোপনীয়তা বজায় রাখুন

    একজন ভালো বন্ধুর সবচেয়ে বড় গুণ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বন্ধুর ব্যক্তিগত কথা গোপন রাখা, তার দুর্বলতাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।

    বন্ধুত্ব কোনো একদিনের উদ্‌যাপন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নে তৈরি হওয়া এক সুন্দর সম্পর্ক। বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই বন্ধন আজীবন ধরে রাখা সম্ভব।

  • চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহারন খাতুন ওই গ্রামের মাসুদ হোসেনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের জন্য রাইস কুকারে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহারন খাতুন। রাইস কুকারের সুইচ বোর্ডে প্লাগ যুক্ত করার সময় হঠাৎ বোর্ডটি ভেঙে তার হাতের ওপর খুলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তার হাতে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর গাংনী মডেল প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ও গাংনী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ আহসানুল হক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

  • ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন আগামী ১১ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর, আর শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জানানো হয়, এবারও ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান’, ‘বিজ্ঞান’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা’, ‘চারুকলা’ ও ‘আইবিএ’-এই পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    আইবিএ ইউনিট ছাড়া সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।

    চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সভায় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা।

    এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়াংসানে। টানা পঞ্চম দিনের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। অনেক শহরেই তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

    এর ফলে রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকায় ‘জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ দিন।

    দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে ‘তাপপ্রবাহের দিন’ হিসেবে ধরা হয়। আর রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ‘ক্রান্তীয় রাত’ বলা হয়।

    বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

  • নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনস্বার্থে ইতিবাচক এক্টিভিজমের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পক্ষপাত সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত সত্যের মুখোমুখি সবাইকেই দাঁড়াতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম। যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা অনুপস্থিত, সেখানে গণতান্ত্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সংবাদ পরিবেশনে সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, জনমত গঠনে কল্যাণকামী এক্টিভিজম ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই ভূমিকা যেন কখনোই সংবাদ পরিবেশনের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে ক্ষুণ্ন না করে।

    রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয় ভোটে নির্বাচিত অনেক সরকার পরবর্তীতে ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে ভিন্নমত ও বহুমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। আবার যারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও একাংশের সাংবাদিক অবস্থান নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা, কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং পেশাগত নৈতিকতা মেনে চলার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

    তিনি জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তার আশা, এই কমিশন গণমাধ্যম খাতকে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

  • অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিয়ে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় তাদেরই নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দুটি সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র সংস্কার ও মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে উভয় সরকারকেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়ন করে এবি পার্টি আরেকটি সংলাপের আয়োজন করবে। তখন দেশের অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা ও জনজীবনের বাস্তব চিত্র পরিসংখ্যানসহ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শত শত আন্দোলন হলেও বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসে দাবি-দাওয়া নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন হয়নি। শক্তি প্রয়োগ করে সমালোচনার কণ্ঠরোধের চেষ্টাকে খুবই দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

  • ফ্যাসিস্ট যা করেছে, আপনাদের কর্মকাণ্ড হুবহু এর ফটোকপি, বললেন জামায়াত আমির

    ফ্যাসিস্ট যা করেছে, আপনাদের কর্মকাণ্ড হুবহু এর ফটোকপি, বললেন জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১৭ বছরের নির্যাতনের কথা যেন সরকার ভুলে না যায়।’

    তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো নতুন কিছুই দেখছি না। আগের ফ্যাসিস্ট যা করে গেছে, এখন হুবহু ফটোকপি আপনারা করছেন। বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন আপনারাও আগের মতোই করছেন।রোববার প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে কেন অগ্রাহ্য করছেন? ’৭০-এর নির্বাচন অগ্রাহ্য করার জন্যই তো ৭১ সংঘটিত হয়েছিল।’

    তিনি বলেন, ‘৯৬-এর নির্বাচন নিয়ে মাঝেমধ্যে বিএনপি আমাদের খোঁচা দেয়। অথচ ’৯১-এ নিঃস্বার্থ সমর্থনের কারণেই বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল।’

    নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ জায়গায় দলীয় লোক বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • ‘আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা’, সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ‘আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা’, সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ব্যাগ ঘিরে তৈরি হওয়া ‘বোমা আতঙ্ক’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল যেসব পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া গেছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত জননিরাপত্তার স্বার্থে কোথাও কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে সেগুলো পরীক্ষা করে থাকে।’

    তবে আশুলিয়ায় প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুর বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত বা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গত ৫-৬ মাসের অপরাধপ্রবণতার পরিসংখ্যান টেনে মন্ত্রী বলেন, আনুপাতিক হারে ও তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে এ ধরনের অপরাধ বা নাশকতার পরিমাণ অনেকটাই কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট’ ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পাশাপাশি নাশকতার যেকোনো পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা।

    রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে।

    প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সেখানে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে এই দুই বিষয় অপরিহার্য। অতীতে দেশ এ ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের জন্যই বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধপ্রায় সুগার মিলের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই বিকল্প শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উপাচার্য নিয়োগ ও জমি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী বছর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান এবং যানজট নিরসনে রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনামূল্যের চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।

  • সত্য যদি আমার বিরুদ্ধেও যায়, অকপটে প্রকাশ করুন: জামায়াত আমির

    সত্য যদি আমার বিরুদ্ধেও যায়, অকপটে প্রকাশ করুন: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, ‘মিডিয়াকে সমাজের আয়না বলা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।’

    শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব। আমাদের অঙ্গীকার ছিল— জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না; এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তাআলার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায় কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।’

    বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো আস্থার সংকট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।’

    বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদ পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হোক— সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সুধী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।

  • মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়,  জরিমানা

    মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়, জরিমানা

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক দোকানদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানদার বোতলজাত পেট্রোল প্রতি লিটার ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেনসহ যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জ্বালানি পণ্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’

    উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

  • ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও ও নান্দাইল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চর মহিশকুড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে রাতুল (১৯) ও চর মহিশকুড়া গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে বাদল মিয়া (৪৯)।

    গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগড়া গ্রামের রাতুল একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে তিনি একটি ফিশারিতে মাছের খাদ্য দিতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ফিশারিতে বিদ্যুতায়িত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা রাতুলকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে চর মহিশকুড়া গ্রামের বাদল মিয়া সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের সুইচ চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় বিষয়ে নিহত রাতুলের চাচা আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ফিশারিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান ও পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক দু’টি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্দি নিজের কাছে থাকা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অফিসিয়াল প্রতিকৃতি বিক্রি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া এই স্মারক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন’-এর ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট ২’-এ ট্রফিটির রেপ্লিকা বিক্রির জন্য তোলেন মেন্দি। নিলামে এটি ৬২ হাজার মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়।

    বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্মারক বিক্রি করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। তবে সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে স্ন্যাপচ্যাটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

    মেন্দির ভাষ্য, ট্রফিটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সেটি রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

    পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, ট্রফিটি এতদিন আলমারিতে অযথাই জায়গা দখল করে ছিল। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে ও কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণ মামলা করলেও দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, জসিম নিয়মিত কাজ করতেন না এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সুমাইয়া তার ছেলেকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

    সুমাইয়ার মেজ বোন শাহিনুর বলেন, ভাগনেকে একা দেখে সন্দেহ হয়। তিনি জসিমকে ফোন করলে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার আগে ফোন করে জানান, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

    নিহতের বড় বোন সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে ওইভাবে গলায় ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

    স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ঘর তল্লাশি করতে চাইলে জসিম বাধা দেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

    অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে জানতে পারে পুত্রবধূ গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০)। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা পিকআপের চালক, হেলপার ও মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপে করে মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী নওগাঁয় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে শনিবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় নওগাঁগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    তিনি জানান, সংঘর্ষে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কাহালু থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নেয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ভ্রমণ সতর্কতা (টুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    আজ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সার্জিও গর এসব কথা জানান।

    উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ আস্থা রাখছে।

    সার্জিও গরউল্লেখ করেন, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ যে এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আরও বড় আকারের মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ওয়্যার হাউজিং বা সংরক্ষণ সুবিধা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ গড়ে উঠলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সার্জিও গর জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা (PAX Silica) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারে।

    দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে ওষুধ ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষাগার চালুর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আগের দিনই সার্জিও গর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন।

    সংকটটি মোকাবিলায় এবং বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সার্জিও গর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে পরিমাণ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য আসে, তার অর্ধেকেরও বেশি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।

  • কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরিবার ও পুলিশ জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি কারও ফোন রিসিভ করছিলেন না।

    নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সবাই ধারণা করছিল কিছু একটা পচে গেছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, বুধবার থেকে স্বামীকে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার সকালেও ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে হাবিবুল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।

    তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।

    এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো। কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।

    পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

  • দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রাতের আধারে বন্য প্রাণীর আক্রমণে একটি পোল্ট্রি ফার্মের প্রায় এক হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার দর্শনা হল্ট স্টেশনের ওপারে হাসান পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।

    খামারের মালিক মো: হাসান জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার বিভিন্ন জাতের মুরগি রয়েছে। শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় বন্য প্রাণী খামারের ভেতরে প্রবেশ করে মুরগির ওপর আক্রমণ চালায়। সকালে খামারে গিয়ে তিনি শত শত মৃত মুরগি দেখতে পান। পরে গণনা করে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার মুরগি মারা গেছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির পর খামারটি পরিচালনা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাঝে মধ্যেই বন্য প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। খামার ও গবাদিপশু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

  • টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    আবারও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানে হয়ে গেল সাফের কনগ্রেস। সেখানে বিভিন্ন এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনও। সবগুলো পদের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। সবার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বস হলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক এ সভাপতি।

    সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন।

    কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন।

    ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।

    নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।

  • সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেট অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা কর্মসূচির মধ্যেই আবারও হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেট জেলা সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে সিলেটে ফেরার পথে তার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এই হামলার ভিডিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। হামলায় যাত্রীবাহী গাড়িটির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভাঙা কাঁচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত দুজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

    একই তথ্য নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

    তিনি লিখেছেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন।

    এদিকে বহরের গাড়িতে থাকা এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছার আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নারীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হন।

    উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগে এনসিপির রাজনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েকদিন ধরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর আগে হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরবর্তীতে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপি নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। জৈন্তাপুরের এই সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে টানা তিনবার এনসিপির বহরে হামলার ঘটনা ঘটল।

  • দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    সাগরদিঘী-ভরাডোবা এবং সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়ক দু’টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে মূল সড়কের দুইপাশ। কোথাও কোথাও সড়কের উভয় পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর লতাগুল্ম যেনো সড়কটিকে বেদখলে রেখেছে। এ কারণে সড়ক কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সড়কটিতে ঘন ঘন বাঁক থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্য নৈমিত্তি ব্যাপার।

    এ পরিস্থিতিতে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সাধারণের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে উদ্যোগ নেন ঘাটাইল উপজেলার শহরগোপীনপুর এলাকার চার তরুণ। তারা হলেন আবু রায়হান, মো: কবির হোসেন, মো: আছাদুল ও মো: জসিম।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছাশ্রমে সাগরদিঘী-ভরাডোবা রাস্তার দু’পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পরিষ্কার করেছেন এই তরুণরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে তারা আশপাশের সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন।

    রায়হান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘাটাইল-সাগরদিঘী, সাগরদিঘী-ভরাডোবা, সখিপুর-কালিহাতি, ঘাটাইল-মধুপুর সড়ক এবং সাগরদিঘী-গারোবাজার সড়কের বিপদজনক সব মোড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই আমাদের দলের নাম রাখা হয় রোড কেয়ার বাংলাদেশ (আরসিবি)। আমাদের ভিডিও ও কার্যক্রম দেখে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে আমাদের জানান। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই স্থানগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করি, যাতে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমে এবং সবাই নিরাপদে ও সঠিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দলে ৪ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কে অসংখ্য বাঁক রয়েছে। তাছাড়া সড়কের দুইপাশের ঝোপঝাড় সড়কটিকে আরো সংকীর্ণ করে ফেলেছে। ফলে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হতো। বিষয়টি আমলে নিয়ে আরসিবি টিমের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’ধার পরিষ্কার করেন। এতে সড়কের চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে।

    আরসিবি টিমকে সাধুবাদ জানিয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইসলাম বলেন, ‘যদিও কাজটি আমাদের করার কথা কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ আকারে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না। তরুণদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়।’

  • গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

    সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

    দেশের সড়কে প্রতিদিনই গণপরিবহনের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল।

    এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে আগামী ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

    বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  • ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দাবি, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা রেখেছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি।

    ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি আছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারকা ফুটবলারের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয়তো চুক্তি নবায়ন করে থেকে যেতে হবে, অন্যথায় চলতি গ্রীষ্মেই তাঁকে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোবে রিয়াল।

    গত কয়েক মাস ধরে ভিনিসিয়ুস-রিয়াল চুক্তির আলোচনা আলোর মুখ দেখছে না। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় কেবল অনিশ্চয়তাই বেড়েছে। এর মধ্যে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে আর্সেনালের আগ্রহ রিয়ালকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা যোগ দেওয়ায় তারকা উইঙ্গারের দলবদল নিয়ে আর সময়ক্ষেপন করতে চাইছে না রিয়াল।

    মার্কার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের রিয়াল জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবের বাইরে আর কোনো বেতন বৃদ্ধি বা নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই। ক্লাবের বার্তা পরিষ্কার—ভিনিসিয়ুস প্রস্তাব গ্রহণ করলে চুক্তি নবায়ন হবে। সেটা না হলে ভিনিসিয়ুসকে ধরে রাখতে আগ্রহী নয় রিয়াল। ভবিষ্যতে বিনা ট্রান্সফার ফিতে হারানোর ঝুঁকি এড়াতেই এই পথে হাঁটতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড শিরোপাজয়ীরা।

    কড়া অবস্থান নিলেও রিয়াল এখনো ভিনিসিয়ুসকে নিজেদের প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচনা করছে। গত কয়েক মৌসুমে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয় রিয়াল। ক্লাবের অবস্থান, কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই দলের নির্ধারিত বেতন কাঠামো ভাঙা হবে না, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন।

    রিয়ালের ডাগআউটে ফেরার পর দলবদলে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছেন জোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুস থেকে গেলেও তাই একাদশে আগের মতো নিয়মিত হতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দুই উইংয়েই খেলতে সক্ষম দিয়োমান্দের সম্ভাব্য আগমন মরিনিয়োর জন্য ভালো বিকল্প হবেন। যেটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে দেবে। এসব বিবেচনায় ভবিষ্যত নিয়ে এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে।

  • আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’

    আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’

    জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। আগামী ১ থেকে ৪ আগস্ট ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন।

    উৎসবে জুলাই বিপ্লবে নিহত শিশুদের স্মরণ, তাদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, আবৃত্তি, বিশেষ প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের জন্য নানা আয়োজন থাকবে।

    শনিবার (৩১ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও

    সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ শিশুদের আত্মত্যাগকে জাতির সামনে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য থেকেই ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, শিশুদের স্বপ্ন, ভয়, সাহস ও আত্মত্যাগকে শিল্প-সংস্কৃতির ভাষায় উপস্থাপন করা হবে।

    বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ২০২৫ সালে অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট- জুলাই জাগরণ’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’।

    চার দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে জুলাই আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও ডকুফিল্ম প্রদর্শনী, মঞ্চনাটক, আবৃত্তি, ‘আয়নাঘর’ বিশেষ প্রদর্শনী, শিশুদের জন্য কিডস জোন, প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থান নিয়ে মিনিয়েচার জোন, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার কবরস্থান কর্নার, জুলাই বায়স্কোপ, ধ্বংসযজ্ঞ প্রদর্শনী, ‘বখতিয়ার থেকে জুলাই’ প্রদর্শনী, আইকনিক কর্নার, ক্যারিকেচার, ‘রাজা হবে খান খান’ প্রদর্শনী, জুলাই প্রকাশনা স্টল এবং ১৩৩ শহীদ শিশুর স্মরণে বিশেষ প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আয়োজন।

    উৎসব প্রতিদিন তিনটি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রথম অধিবেশনে চলচ্চিত্র, ডকুফিল্ম ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দ্বিতীয় অধিবেশনে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্মৃতিচারণ এবং জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হবে। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিশুদের পরিবেশনার পাশাপাশি মঞ্চনাটক অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, অভিনেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, আলেম, সামাজিক কর্মী, পরিচালক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’—কার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রভা?

    ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’—কার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রভা?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিজীবন কিংবা মনের কথা খুব একটা প্রকাশ করেন না অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে মাঝেমধ্যে তার দেওয়া রহস্যময় কিংবা আবেগঘন পোস্ট ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। এবারও তেমনই এক বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রভা। ছবিগুলোতে হালকা রঙের পোশাক, সাদামাটা সাজ ও নান্দনিক উপস্থিতিতে দেখা গেছে তাকে। খোলা চুলে গোলাপি ও সাদা রঙের সালোয়ার-কামিজে অভিনেত্রীর সাজও নজর কেড়েছে।

    ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনেই অবশ্য তৈরি হয়েছে রহস্য। প্রভা লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি। আবার দেখা হবে—সেই দিনটির অপেক্ষায় প্রতিটি দিন গুনছি।’

    তবে এই বার্তা কার উদ্দেশে, তা স্পষ্ট করেননি এই অভিনেত্রী। ফলে পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রিয় কোনো মানুষকে উদ্দেশ্য করেই হয়তো এমন আবেগঘন কথা লিখেছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে প্রভার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    প্রকাশিত ছবিগুলোতেও ছিল ভিন্ন আবহ। কোনো ছবিতে পার্কের পাশে বেঞ্চিতে বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে। আবার কোথাও ফুল ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। অন্য একটি ছবিতে রাস্তার পাশে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে প্রভার স্বাভাবিক ও নান্দনিক উপস্থিতিই ফুটে উঠেছে।

    এদিকে অভিনয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রভা। ফয়েজ আহমেদ রেজার পরিচালনায় ‘লুক আ লাইক’ নামের একটি ফিকশনে অভিনয় করেছেন তিনি। ফিকশনটি বঙ্গতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

  • সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেই দাবি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল ১ আগস্ট। আর তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে ৫ আগস্ট।’

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক সমাজ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রাণ এই সমাজই হারিয়েছে। এরা কোটার বিরুদ্ধে নয় বরং বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছিল।’

    বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার চেষ্টা করছে সবাইকে চাকরি দিতে। চাকরি তিনি দিয়েছেন ঠিকই, তবে টেম্পু স্টেশনে৷ এই চাকরি বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করে।’

    দুর্নীতি ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নব নির্বাচিত সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখি তারেক রহমানের ইশারায় সব চলে, তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?’

    নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ চালাতে ব্যার্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কাছে বিভিন্নভাবে পরিবহন শ্রমিকরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। সরকারি দল থেকে এগুলো করা হচ্ছে।

    জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গনভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয় তবে তাদের এই রায় মানতে হবে।’

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ইসমাইল বড়খাল পাড় এলাকার শাজাহানের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, রাতে ইসমাইল দক্ষিণ টুটপাড়া বড়খাল পাড় এলাকায় অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমানে বিএনপি যেভাবে আমাদেরকে বাধা দেওয়ার, প্রতিরোধ করার, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে, এটা হচ্ছে ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো। মানে তাদের তো ওইটুকু ছিল, এরা ওইটুকুও শো করতে পারছে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক মামলা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিএনপি এমন আচরণ করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আমরা শুনলাম আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আসলে ছিনতাই একটা হয়েছে, তারেক রহমান ও বিএনপির মান-সম্মানের ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ছিনতাই তারা করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে ছিনতাই করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। এইজন্য মানে তাদের এখন অবস্থা।

    তিনি বলেন, যারা ছাত্রদলের হয়ে এটা করেছে, তারা কতটা অথর্ব হলে এত মান-সম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।

    সারজিস আলম আরও বলেন, এখন আমি তো শুধু এটাই চিন্তা করি যে যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে। সেও হয়তো যারা মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে মনে মনে তাদেরকে গালি দিচ্ছিল।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশি দিন সরকার চালাতে পারবেন না- এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) ক্ষমতা পরিচালনায় বরাবরই ব্যর্থ এবং দিন দিন এই ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে।’

    শুক্রবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই এনসিপি নেতা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। সরকারের নানা জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ যেমন কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।’

    আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশিতভাবে উন্মুক্ত না হওয়া এবং চীন সফরে আশানুরূপ চুক্তি না পাওয়া বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতারই প্রমাণ।’

    জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ‘নির্বাচনে রাত ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নজিরবিহীন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় খোদ তারেক রহমান প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।’

    পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের দলের প্রধান তিনটি এজেন্ডা ছিল একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ আমলের অপরাধের বিচার।

    জনগণের রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের সেই রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিএনপির পতন নিশ্চিত।’

    আওয়ামী লীগ আমলের বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে সম্প্রতি ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রকাশ্য মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ উসমান হাদী, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর হত্যাকারীরা এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাঁদের পরিবার বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাটওয়ারী জানান, তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ অথবা একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, বিএনপি শেখ হাসিনা আমলের সংবিধান বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সেই সংবিধানের অধীনেই তাদের শপথ নিতে হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘চুপ্পু’র কাছে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই সেই পথ তৈরি হয়েছিল।

    এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তারেক রহমানকে ‘গ্যাংস্টার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারেক রহমান যা বাংলাদেশে করতেছেন তা দেশের রাজনীতির জন্য লজ্জা এবং রাজনীতির যে সংস্কৃতি- সেটাকে অপসংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। উনার রাজনীতি করার ইচ্ছা নাই।’

    হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “এত বড় ‘গ্যাংস্টার’ বাংলাদেশে আসছে। জিকে গৌছ, আব্বাস, বুলু, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র‌্যাংকিংয়ে কম? কারও কাছে মাদক, কারও কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের ছেলেরা এক জায়গায় বসে, খসরু সাহেব আছে। র‌্যাংকিং করলে তারা ইতালির মাফিয়াকে হার মানাবে। আমরা টেরর রাজ্যে আছি, আমরা ভয় পাচ্ছি।’

  • ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ভারতে দলে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী ক্রিকেটার। ভারতের নাগপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দলে সুযোগ না পেয়ে ১৭ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেয়েটির নাম অদিতি চৌখান্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। ভালো মানের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে নাগপুরে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর ভাইও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাগপুরের লক্ষ্মীনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’। চিঠি থেকে পুলিশের ধারণা, দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশাই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বিদর্ভের দলে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই ক্রিকেটার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত তদন্তের পর জানা যাবে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুস্তাকিম (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নির্মাণশ্রমিক মুস্তাকিম একই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর গ্রামে তিওরবিলা গ্রামের ফুরকানের ছেলে সোহাগ মিয়ার একতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সকাল থেকেই মুস্তাকিমসহ একদল শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া প্রধান বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে মুস্তাকিম। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

    পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে নিহতের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুস্তাকিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম চর্চাকে পূঁজি করে কোনো মহল কাউকে পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের চিহ্নিত করবে। বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে, এ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী। যখনই ধর্ম বিশ্বাসকে, চর্চাকে কোনো মহল একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তা কল্যাণকর মনে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাদা মনের মানুষখ্যাত বিজয় কৃষ্ণ দেসহ পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানিক লাল মুখার্জি।

  • ভুল করছি আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ছি: আইশা খান

    ভুল করছি আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ছি: আইশা খান

    অভিনয়ের জগতে জনপ্রিয়তা অনেকটা জোয়ারের মতো। কেউ সেই জোয়ারে ভেসে যান, কেউ আবার দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের তীরে। আইশা খান যেন দ্বিতীয় দলের মানুষ। আলোচনায় থাকার চেয়ে তিনি বেশি বিশ্বাস করেন নিজেকে প্রস্তুত করে তোলায়। চরিত্রের ভেতর ডুবে যাওয়াকে তিনি মনে করেন অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুশীলন। তাই কাজের সংখ্যা নয়, প্রতিটি কাজের গভীরতাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    উপস্থাপনা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও খুব অল্প সময়েই অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন আইশা। ছোট পর্দার নাটক, ওয়েব কনটেন্ট কিংবা বিশেষ প্রযোজনা—প্রতিটি মাধ্যমেই তিনি রেখেছেন সংযত অথচ স্বতন্ত্র উপস্থিতির ছাপ। তাই এখন নাটকের অন্যতম ভরসার নাম আইশা।

    অভিনয়ে কখনও অতিনাটকীয়তা নেই, নেই অকারণ চমক; বরং স্বাভাবিকতা আর পাশের বাড়ির মেয়ের সহজসরল আবহই তাঁকে দর্শকের কাছে আলাদা করে তুলেছে। এবার তাঁর অভিষেক হচ্ছে বড় পর্দায়। যুক্ত হচ্ছে চিত্রনায়িকার পরিচয়। সিনেমার নাম ‘শেকড়’।

    শেকড়ে ফেরার গল্প

    আইশার এই যাত্রায় নতুন সংযোজন প্রসূন রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘শেকড়’। সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন এফ এস নাঈম। আরও অভিনয় করেছেন একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। তবে মধ্যমণি যে আইশা খানই, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ এটি তাঁর প্রথম সিনেমা, প্রথম বড় পর্দা, প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার অভিজ্ঞতা। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, শেকড়ের সন্ধান এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘শেকড়’। নির্মাতা প্রসূন রহমানের ভাষায়, এটি মানুষ, মাটি ও স্মৃতির অদৃশ্য বন্ধনের এক আবেগঘন ভাষ্য।

    আজ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল ‘শেকড়’। এরপর ২ আগস্ট কানাডায় মুক্তি পাবে ছবিটি। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশের দর্শকদের জন্য তৈরি হচ্ছে স্প্যানিশ সংস্করণও। তাই প্রথম সিনেমা দিয়েই যেন বিশ্বভ্রমণে বের হচ্ছে আইশার অভিনয়।

    অভিনেত্রী বলেন, শেকড় আমার ক্যারিয়ারের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অবশেষে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। শেষ হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার। দর্শক ছবিটি হলে গিয়ে দেখবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি বিশ্বাস করি, গল্প আর চরিত্র— দুটিই তাদের ভালো লাগবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই একটি নিজস্ব যাত্রা থাকে। নির্মাতার হাত ধরে সেই যাত্রা শুরু হলেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই তা পূর্ণতা পায়। একজন শিল্পী হিসেবে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছি। সেই গল্প দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারছে কিনা, সেটি এবার দর্শকদের কাছ থেকেই জানতে চাই।”

    যেন পরিণত হওয়ার পথ

    অনেক সময় একটি সফল কাজ শিল্পীকে আরও ব্যস্ত করে তোলে। আইশা যেন উল্টো পথে হাঁটছেন। তাঁর কাছে সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়; বরং আরও ভালো হওয়ার দায়। তিনি বলেন, শেকড়-এর পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও শিখছি, ভুল করছি, আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ে তুলছি। যখন আবার পর্দায় ফিরব, চাই আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরব।”

    এই কথার মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর শিল্পদর্শন। দ্রুত আলোয় আসার চেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতিতেই তিনি বেশি বিশ্বাসী। শেকড়-কে আপাতত শেখার যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন তিনি। তাই আপাতত নতুন সিনেমা নয়, নিজের প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিতে চান।

    আইশা বলেন, আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি। তাই প্রতিদিনই শিখছি। প্রতিটি চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এই শেখার পথটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।