সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

    অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন।

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে, তা জানা যাবে শেষ মুহূর্তে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র। আর বিএনপির প্রার্থীই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি নিয়ে আর কোনো সংশয় নাই। কারণ সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা বিএনপির।

    বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, যেহেতু দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে, সেজন্য দল কোনো আগাম ঘোষণা দেবে না। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জানা যাবে, প্রার্থী কে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফশিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।

    এদিকে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দিক থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দুদিন আগে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

    এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

    বিএনপির সূত্র বলছে, ১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।

    ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও, থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

    প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।

    মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েও, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় নিজের ব্যক্তিগত ইমেজের রাজনীতি করে যান। তবে তার ঘাড়ে দায়িত্ব পড়ে বিএনপি সামলানোর। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ সময় ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।

    মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ অনেক নিয়োগপ্রত্যাশীকে বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    এদিকে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।

    স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান বলেন, বিক্ষোভের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের সময় তাকে হুমকি ও ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানা বলেন, অনেক প্রার্থী ভালো পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগের সুযোগ পাননি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বিএনপি সরকারকে বিতর্কিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে নিয়োগপ্রত্যাশী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ কারণে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে তারা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ করেছেন। তবে কোনো হামলা বা সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি।

    বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর কয়েকজন সংক্ষুব্ধ হয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইউএনওর কক্ষে হামলা ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই আমি অফিসের ভেতরে ছিলাম। বাইরে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। সেখানে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

    এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

    এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা…..কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

    এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

    শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের ইসলামপুরে এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রায় ৬ লাখ টাকা সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সুপারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর পুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ার চর আশরাফুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও আব্দুল মালেক মন্ডল এতিমখানার ২২ শিক্ষার্থীর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টের অর্থ বরাদ্দ হয়। অভিযোগ, সভাপতি শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টারের স্বাক্ষর জাল করে গত ২১ মাসে তিনটি বিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সুপার আনোয়ার হোসেন।

    বিষয়টি জানতে পেরে সভাপতি স্বাক্ষর জাল করার কারণ জানতে চাইলে সুপার দ্রুত বিল উত্তোলনের প্রয়োজন থাকায় সভাপতির সঙ্গে কথা বলে তার স্বাক্ষর দেওয়ার দাবি করেন। তবে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব চাইলে তিনি টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ।

    পরে গত ১০ আগস্ট সভাপতি ইউএনও ও দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    অভিযোগের বিষয়ে সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে কথা বলেই বিলে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করেছেন।

    উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রহুল আমীন জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, সন্ধ্যা নাগাদ লোডশেডিংও কমে আসবে। তবে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কবে সমাধান হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা যাচ্ছে না। এতে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বললেন, বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী বললেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বর্তমান সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। যেকোনো সময় দেশকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতো।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চেয়েছেন।

    তিনি জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

  • ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী ২ জন রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

    এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল নিয়েও রয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

    গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

    এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদারও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

  • মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।

    এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

  • কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, ইসলামী সংগীত, ফুল ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিকৃবি শাখা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহরের টি.বি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত-এর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেয়া একটি বড় নিয়ামত, তাই এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতার কথাও মনে রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু উপরিভাগে কাজ করলে চলবে না, বরং ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোযোগী হতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ-সম্পদই প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়; আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সফলতা আসে।’

    ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, র‍্যাগিং ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরিং ও অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনীতি করা বা না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়—আমাদের এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

    বক্তব্য শেষে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ টিপু। এছাড়া ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সাবেক নেতারা।

    সবশেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা নকল সিগারেটের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার উপজেলার গড়বাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।

    বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের একটি গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় কারখানায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ এবং বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন ওই খামার ভাড়া নিয়ে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।

    অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা বা ২ হাজার ১০০ কেজি অপ্রক্রিয়াজাত পচা তামাক রয়েছে। জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার সব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

    প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি?
    নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আপনি আত্মগোপনে রয়েছেন। জীবনে কি এটাই প্রথম আত্মগোপন?
    নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া। অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা, সেদিন যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি…তখন থেকে কিন্তু আমাদেরকে আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে। আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি। আবার আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ঘর ছাড়া, দেশের কথা মনে পড়ে? বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
    নানক:
    সত্যি কথা বলতে কী—আমরা কর্মী পাগল মানুষ তো। কখনো কখনো আমার বুকটা ফেটে যায়। ১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি। একটা আদর্শিক যুদ্ধ করেছি। সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন? বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না! তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি। ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে। গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই। এটা মনে পড়ে। আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম। আমি দুই বছর যাবত যেতে পারছি না। মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না। এগুলো নিয়ে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ আমার একটি জায়গায়। ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশটাকে এখনো মানতে পারেনি। ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।

    প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
    নানক:
    ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)। নেত্রী যখন চলে আসলেন। আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়। যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল। বলল যে, স্যার অমুকে ফোন করছে। তখন একটু বোধদয় হয়ে আমি ধরলাম। তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি। এই আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি। ইউজ করার টেলিফোনগুলো ফেলে দিলাম। এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে। ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান। আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত। সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে। কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।

    প্রশ্ন: ১৬ আগস্ট কি কলকাতায় এলেন?
    নানক:
    না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম। শিলং থেকে আমি চলে আসলাম মালদাহতে। বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।

    প্রশ্ন: নেতাকর্মীদের বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আসার কারণে অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?
    নানক:
    ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত। আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।

    প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
    নানক:
    আমরা তো বিশ্বাস করি—যেকোনো চাপ বাংলাদেশের এই কচুপাতার পানির মতো যারা টলটলায়মান, সেই সরকারের কতখানি চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে? এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।

    প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে। মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
    নানক:
    আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।

    প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা। কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
    নানক:
    না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না। আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন। উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’। ড. ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না। দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। দলকে উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। সতর্ক করেছেন। দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে। কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে। কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে। আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন। আমি ফোন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছেন হল ছেড়ে দাও। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও। খবরদার কোনো সংঘাতে যাবা না। আমি চাই না কোনো লাশ পড়ুক। কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন। ৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না! অবশ্যই ছিল। আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত। উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম। আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন। গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ। গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ। আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী। আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম। সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো। সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।

    প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
    নানক:
    অনেক অনেক হয়ে যেত। আমরাও কি ছেড়ে দিতাম? নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না। একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম। উনি রক্তপাত চাননি। আমরা কি না পারতাম! দিস ইজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না। সম্ভব হয় নাই। আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক। একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই…..প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক। এসে নির্বাচন করুক। যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

    প্রশ্ন: কেন ভারত? ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন। তিনি ভারত কেন ?
    নানক:
    ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না। তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে, এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। কাজেই এখানে ভারতের কী করার ছিল।

    প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি খবর আছে?
    নানক:
    আমি এটা এখন বলতে পারছি না।

    প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
    নানক:
    হ্যাঁ

    প্রশ্ন: কেমন আছেন তিনি?
    নানক:
    আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছেন উনি। আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি। যে নিরাপত্তা ওনাকে দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেয়া হচ্ছে। আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি—ইভেন এখনো টেলিফোনে যখন জিজ্ঞাসা করি আপা কেমন আছেন, নেত্রী কেমন আছেন? আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কিনা তাই বলো। আমার নিয়ে তোমরা চিন্তা করবে না। বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেন জানো না, এই দুই বছরে আমার (হাসিনা) শুধু দু’দিন নাকে সর্দি লেগেছিল! এই দু’দিনের সর্দি লাগা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার একটি ঔষধও খেতে হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা সবাই।

    প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে। শীর্ষ নেতারা নাকি সেখানে বৈঠক করেন। খবর বেরিয়েছিল। এটা কি সত্য?
    নানক:
    বিভিন্ন খবর বের হয়। এগুলা মুখরোচক।

    প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর?
    নানক:
    না না এর কোনো ভিত্তি নেই। হ্যাঁ আমাদের যদি কেউ একটু জায়গা দেয় যে, এখানে এসে বসেন আপনারা। মাঝে মাঝে আইসেন। আমরা যাব না? আমরা তো যাবই। আমরা তো একটা জায়গা পেলে আমরা তো একটু সময় কাটানোর জন্য, অক্সিজেন নেয়ার জন্য যেতেই পারি। কিন্তু অফিস বলতে কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নাই এখানে।

    প্রশ্ন: ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংগঠন কীভাবে পরিচালনা করছেন?
    নানক:
    আমি কলকাতায় যে আসলাম—সেদিন থেকেই আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের সুখে-দুঃখে কষ্ট-ক্লেশের আমি ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পুরানো অভ্যাস—সেটা আমি চেষ্টা করেছি। যারা জেলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা, সুখ-দুঃখের ভাগী হওয়া। এ ক্ষেত্রে আমি না বললে ওর প্রতি অবিচার করা হবে—আমার মেয়েটি, যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের মা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক, ও খুব বেশি সময় দেয় আমার নির্বাচনী এলাকায়। জেলে যারা গেল, আমাদের কর্মীদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাদের খোঁজখবর রাখা—এ কাজগুলো করছে। আমি আপনাকে বলতে পারি—আমার নেত্রীর নির্দেশে ইন ঢাকা সিটি, এই ঢাকা-১৩ থেকে উই হ্যাভ স্টার্টেড দ্য পসেশন অ্যান্ড আদার থিংস। অনেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনো মিছিল, কখনো ওটাকে বলে মশাল মিছিল। ইউ নো এগুলো করতে গিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    প্রশ্ন: আমার স্পেসিফিক প্রশ্ন—আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডে আপনি অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি নিজে একজন আইনজীবী। আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি লড়বেন?
    নানক:
    আমি কৌশলগতভাবে লড়ছি, লড়াই করছি আইনগতভাবে।

    প্রশ্ন: এই যে ৯ জনের হত্যার অভিযোগে আপনি অভিযুক্ত এটা কি সত্যি?
    নানক:
    উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপড়ানোর চেষ্টা। যে অভিযোগগুলো আমার কাছে, আমার কাছে আছে—টোটাল মামলার নথি। এর সব জায়গায় বলে গেছে তার নির্দেশে… তার নির্দেশে… তার নির্দেশে…। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তো সপ্তম আসমানে বসে কে নির্দেশ দিল তাকে? কীভাবে মারা গেল, কার গুলিতে মারা গেল—সেটা তো আমার জানার কথা না। আমি কি ওখানে অস্ত্র নিয়ে গুলি করতে গিয়েছি? এরকম কোনো প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবে? বলুক। আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে। কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না।

    প্রশ্ন: আমার দুটো প্রশ্ন খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্ন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন, আপনি ফিরবেন?
    নানক:
    অবশ্যই আমি, আমরা তো ওনার আগে যাব, পৌঁছবো। পৌঁছাবোই।

    প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি আবারও দেখা যাবে জাহাঙ্গীর কবির নানককে?
    নানক:
    বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। আমি যাতে মৃত্যুবরণ না করি, দোয়া করবেন।

  • যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

    প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

    সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

    এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

    আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

    যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

    কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

    সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

    নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।

  • কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক জীবনহানি ঘটছে। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১১ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় দুই শতাধিক এমন প্রতিষ্ঠান থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির।

    জানা যায়, চিকিৎসা সেবার নামে কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় ২ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যার ফলে তারা সরকারি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক দূর্ঘটনা। গত ৫ মাসে এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সিঁড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং লিফটে রোগীর ট্রলি পর্যন্ত ঢোকে না। ফলে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়। সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজনও থাকেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ৭ আগস্ট এই হাসপাতালেই ডাক্তারের অভাবে পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত রোগীর ছেলের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে ভর্তির পর তড়িঘড়ি করে ওইদিন বিকালেই তাঁর মায়ের অপারেশন করা হয়।

    পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরেকটি চক্ষু হাসপাতালেও সম্প্রতি অপারেশন করতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, লোটাস হাসপাতাল মালিকপক্ষের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই সখ্যের সুবাদেই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্নে চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস দাবি করেন, শ্বাসকষ্টের ওই রোগী দুই সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন, যা নিছকই দুর্ঘটনা।

    জেলার অন্যান্য ক্লিনিকের অবস্থাও একই রকম। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও মালিক আলিমুজ্জামান বদর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

    তিনি জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোসাব্বির নামের এক চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের দেখছেন। তবে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

    এসব তুঘলকি কাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হাবিব চৌহান জানান, লাইসেন্স ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াই সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব ব্যবসা চলছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব হাসপাতালে অনেক সময় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করানো হয়, যা সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

    এদিকে, ২৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় একতা ক্লিনিকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক—একতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত এনেস্থিসিয়া সুবিধা ছিল না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ছাড়াই অজ্ঞান করার পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। এরপর শিশুটি মারা যায়।

    সে সময় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক ডাক্তারকে আটক করা হয়। সিলগালা করা হয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা মান, লাইসেন্সিং ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। তারা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।

    সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল জেলার বেহাল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কথা স্বীকার করেছেন।

    তিনি জানান, জেলায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রায়শই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও চাপে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অতি সম্প্রতি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা সুপারিশ নিয়ে তাঁর অফিসেও এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন দাবি করেন।

    এত অনিয়ম ও প্রাণহানির পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

  • কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার সর্বত্র ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় আরো বেশি ভোগান্তিতে জনগণ।

    ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খোঁজখবর নিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মুফতি আমীর হামজা স্থানীয় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান।

    এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। শহরের আড়ুয়াপাড়ার ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়কের সভাকক্ষে এ মতবিনিময়কালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহান-ই-শবনম কুষ্টিয়া এলাকার লোডশেডিং বিষয়ে বলেন, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। দেশে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এই লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    এ সময় এমপি মুফতি আমীর হামজা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়টি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এই বিপর্যয় মুহূর্তে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকতে হবে।’

    ভৌতিক বিলের ব্যাপারে তিনি কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ যেন কোনোভাবেই প্রতারিত এবং হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।’

    তিনি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শোনেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুষ্টিয়ার বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, সেই সাথে শিল্প এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয় তুলে ধরবেন বলে জানান।

    এমপি আমীর হামজা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় অনেক বড় বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। সেই সাথে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনায় এনে এই জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবগত করাব।’

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-১) আমজাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-২) অনুপম চক্রবর্তী, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মোমিনুল ইসলাম।

  • দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকা, আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী এ তদারকি অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সার, বীজ, ওষুধের দোকান, হোটেল ও মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে কার্পাসডাঙ্গার মেসার্স গাউছিয়া স্টোরের মালিক মো: আব্দুল হাই সিদ্দিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার করে খাবার রান্না করায় দামুড়হুদা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: লিটন আলীকে ১০ হাজার টাকা এবং উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না করা, লাইসেন্স ছাড়া দই তৈরি ও নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ করে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স সেলিম মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মো: সেলিম উদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানো, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন বীজ, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের তৌফিকা তারিক জানান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তৌফিকা চুটারহুদা গ্রামের তারিকুল ইসলাম ও তহমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণফোনের যশোর রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দায়িত্বে ছিলেন।

    ছোটবেলা থেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির প্রতি তৌফিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক উদ্যোক্তা হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য।

    তৌফিকার বাবা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তৌফিকা যেন তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা সবসময় পাশে থাকব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

  • রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    রাজশাহীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিষ্কার হলো সড়ক-ড্রেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নগরীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নগরীর অক্ট্রয় মোড় (রুয়েট প্রাচীর) থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নগরজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে সড়কে জমে থাকা কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ড্রেনের মুখে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।

    রাসিক জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সড়ক ও ফুটপাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

    নগরীর পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ দফতর।

    অভিযানকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, মনিটরিং কর্মকর্তা (মশক) এবং পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের সাংবাদিক পরিবারের সন্তানরা কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কেউ জিপিএ-৫, কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং কেউ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জিহান আন নুর রকিব। সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। জিহান প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য, দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার রকিব হোসেন স্বপন এবং ব্যাংকার মনিকা পারভীন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সে সকলের দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী সাদিয়া মেহেজাবিন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য কাজী এ এন এম নুরূজ্জামানের কন্যা। তাঁর মা সেলিনা আক্তার একজন সরকারি চাকরিজীবী।

    সাদিয়া জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিদুর রেজা খান। সে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য আবিদুর রেজা খান ও নাজমুন নাহারের ছেলে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সাবিদুর। উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে সে।

    সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ অর্জন করেছে মোছা. মুসলিমা আমিন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য রুহুল আমিন ও নূরজাহানের কন্যা। মুসলিমা ভবিষ্যতে মানুষের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় এবং সবার দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছে মোস্তানূর রহমান সাক্ষর। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা এবং নূরজাহান আরা নীতির ছেলে। সাক্ষর জানায়, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

    অন্যদিকে, যশোর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সাদিয়া শবনম সরণি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয় ও মরহুমা শামীমা আক্তার স্বপ্নার কন্যা। সরণির পিতা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যু হলেও সেই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরণি পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।

    সাংবাদিক পরিবারের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

  • কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তানিয়া খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    তানিয়া উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের চেয়ারম্যান গেটসংলগ্ন এলাকার প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা দম্পতির মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়া এ বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মুনির উদ্দিন জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর তারা জানতে পারেন। প্রকাশিত ফলাফলে তানিয়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ভেড়ামারা থানায় নেওয়া হয়।

    ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, নারীদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর পৌরসভার দারুস সালাম একাডেমিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী নারীদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মাহফিলের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরো চার-পাঁচজন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নারীদের সাথে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

  • লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তারা পেশাদার চুক্তির অধীন।

    এরপরও অনেকে স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচ খেলতে যান। আর এ নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

    সম্প্রতি জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

    গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে একটু আগে বলছিলাম যে কমিটমেন্টের অভাব, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’

  • ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।

    এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।

    ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।

    এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।

    গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

    বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

    এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

    ৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

    ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।

  • চাঁদপুরে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩

    চাঁদপুরে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদর দক্ষিণের লালমাই এলাকার ড্রাম ট্রাকের চালক আব্দুল ওহাব (৪৫), গাইবান্ধা জেলার আল-আরাফাহ বাসের চালক কামাল হোসেন (৪০) ও বাগেরহাট জেলার বাসের সুপারভাইজার শোভন মিয়া (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী যাত্রীবাহী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস বাস এবং হাজীগঞ্জ থেকে কুমিল্লাগামী একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাস ও ট্রাকের চালকসহ তিনজন নিহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তাদের মধ্যে দুজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকটি জব্দ করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

    শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।

    শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। আহতদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শহরের শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওক্লিপ মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে একজনকে (পুরুষ) বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে- বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু। হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। কামারুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানিনা, কখনও মানবো না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসবো’।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন জানান, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এমন ঘটনা যে ঘটবে তা আগেই তারা জানতে পেরেছিলেন। বিয়টি তারা পুলিশকেও জানিয়েছিলেন।

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

  • সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুই এমপির মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবিরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: আব্দুল খালেক।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময়ে জেলার উন্নয়ন, জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা পরিষদের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নিতেই দুই সংসদ সদস্য জেলা পরিষদে যান বলে জানা গেছে।

    মুহা: ইজ্জতউল্লাহ ও মুহা: আব্দুল খালেক দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ কারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কাজগুলোতে আরও সমন্বয় ও গতিশীলতা আনতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আলোচনায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, চলমান ও সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প এবং জেলার পানি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন দুই সংসদ সদস্য।

    এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম পাবির জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    মতবিনিময়কালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিত উদ্যোগে সাতক্ষীরার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগের তালিকা বাতিল করার দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। এই তালিকা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতাকর্মী এবং চাকরি না পাওয়া লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয় চত্বরে আসেন।

    একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনও অফিসের ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলার একটি অফিস রুমের জানালার কাচ ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে বিএনপির বড় নেতারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নিয়োগ তালিকায় আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে এই তালিকা বাতিলের দাবি জানান তারা।

    অন্যদিকে, ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এক হাজারের বেশি আবেদন থেকে নিয়ম মেনে ও মেধার ভিত্তিতেই ৭৩ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মূলত চাকরি না পাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ তিন জনকে আটক করেছেন পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে চৌগাছা থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করেন।

    আটক আসামীরা হলেন উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিন্টু (৫০) তিনি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রহমত আলী (৭০), তিনি লক্ষীপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। আটক অপর আসামী উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মৃত লাল চাঁদ নেলো মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী। তাকে পুলিশ ঢাকা বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন,মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    চারদিকে শুধু পানি। যেখানে ছিল রাস্তা, সেখানেও এখন বন্যার স্রোত। রাত গভীর হলে সেই পানির ওপরে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎহীন সেই রাতগুলোতে দুর্গত মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক টুকরো আলো। সেই আলো পৌঁছে দিতে এবার বন্যাবিধ্বস্ত আসামের মানুষের কাছে ছুটে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর।

    ‘ভারত ডিজাস্টার রিলিফ ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোর হাতে খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সৌরবাতি তুলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণেই থেমে থাকেননি, কথা বলেছেন দুর্গত মানুষের সঙ্গে, কাছ থেকে দেখেছেন তাদের দুর্ভোগ ও কঠিন বাস্তবতা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ভূমি।

    রাতের অন্ধকারে গাড়িতে করে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। চারপাশে তখন শুধু পানি। গুগল ম্যাপে রাস্তা দেখালেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত ভূমিকে বলতে শোনা যায়, ‘গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে এখানে রাস্তা রয়েছে, কিন্তু চারদিকে শুধু পানি।’ এরপর বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের হাতে তুলে দেন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, পাশাপাশি বিতরণ করেন সৌরবাতি।

    রাত তখন প্রায় ১১টা, অথচ চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে ডুবে। ভূমি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, বিদ্যুতের সংকটও কাটেনি। ফলে অন্ধকারে বসবাস করা পরিবারগুলোর জন্য সৌরবাতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জরুরি। শুধু আলো নয়, এই সৌরবাতি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করেন ভূমি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের ভয় থাকে। তাই ঘরবাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা মানুষদের জন্য সামান্য আলোও হয়ে উঠছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভূমির কথায়, ‘পরিস্থিতি খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে আপনাদের এখানে সশরীরে আসতে হবে, নিজের চোখে দেখতে হবে।’ ভিডিওটি প্রকাশ করে ভূমি লিখেছেন, স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

    এটাই অবশ্য আসামে ভূমির প্রথম ত্রাণকাজ নয়। এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটুজলে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে তাঁকে।

    তারকার ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে ভূমি পেডনেকর যেন মনে করিয়ে দিলেন– দুর্যোগের সময় সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় মানবিকতা। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ, তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের প্রেম, দেড়বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী

    দীর্ঘদিন ধরেই একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী এবার জানালেন, তার জীবনে নতুন একজন মানুষ এসেছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগেই বিয়ে করেছেন তিনি।

    সাবার বর্তমান স্বামীর নাম ফয়সাল। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী।

    সোহানা সাবা গণমাধ্যমকে জানান, ফয়সালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

    সোহানা সাবা ও তার স্বামী ফয়সাল। ছবি: ফেসবুক

    বিয়ের পর কেমন কাটছে জীবন, কথা প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’

    ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’

    একসময় নির্মাতা ও অভিনেতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন সোহানা সাবা। প্রায় এক দশকের সেই সংসারে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন।

    টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে। ভারতে কাজ করেছেন ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার–ওপার’ এবং আরেকটা নাম ঠিক না হওয়া সিনেমার। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন সাবা।

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

    অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

  • সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট থেকে। ওই দিন বেলা ৩টা থেকে অধিবেশন আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছিল।

  • শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও অস্বস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে হাসিনার দেওয়া বক্তব্য দুদেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আগস্টে হওয়া গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ওই গণঅভ্যুত্থানেই হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

    তারা দাবি করেন, একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    প্রত্যাশিতভাবেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারেরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।

    বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার প্রত্যর্পণের দাবি সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    এদিকে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর নয়াদিল্লির জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের নীতিতে এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একদিকে পুরোনো মিত্রকে পরিত্যাগ করা যাবে না, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের ভেটো দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

    এই ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য সহজ হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এমন স্পর্শকাতর সময়ে আরও সতর্ক ও কৌশলী কূটনীতি প্রয়োজন।

    শেখ হাসিনার সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের অনেকেই আবার ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের পেছনে ভারত এবং শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন দায়ী।

    তাই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের অনেকেই তাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বা ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে দেখেন—এ বিষয়টি নয়াদিল্লি ভালোভাবেই জানে। ফলে ভারত তাদের সঙ্গে আপস করতে পারে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের সহজেই ভারতের অংশীদারে পরিণত করা সম্ভব হবে—এমন কোনো ধারণাও ভারতের থাকা উচিত নয়।

    তবে একই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও কোনোভাবেই নষ্ট করার সুযোগ নেই।

    আশার বিষয় হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এরপর উভয় দেশের সরকারই সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।

    তবে এখন সেই অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও ভবিষ্যতমুখী করতে পারে কি না, তার ওপর।

    দুদেশ যদি এভাবে এগোতে পারে, তাহলে সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনাও কমতে পারে। এই মুহূর্তে কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে স্পষ্ট অবস্থান, সংযম এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সবচেয়ে জরুরি।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। সে জীবনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চাই। ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

    ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।আজ সোমবার দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

    ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

    কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম বলছে, ওইদিনের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুস ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করে অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

  • নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ৪৬ হাজার ইয়াবা, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

    নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ৪৬ হাজার ইয়াবা, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ অভিযানে আড়াই লাখের কাছাকাছি পিস ইয়াবা, একটি বিদেশী পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি আভিযানিক দল গোপন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদককারবারী মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার করার পরিকল্পনা করছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৯ আগস্ট) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১২:১৫ টার (০০.১৫ টা) দিকে সীমান্ত পিলার-৩১ এর নিকটবর্তী ‘নয়াপাড়া’ নামক স্থানে কয়েকজন চোরাকারবারীকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।

    বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা সাথে থাকা ১টি বিদেশী পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করেন।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে।

    অভিযান সম্পর্কে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, ‘বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিজিবির এ ধরনের কার্যকর তৎপরতায় সীমান্তবর্তী জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও আস্থা আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

  • ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ছেলেকে ডাক্তার, মেয়েকে নার্স বানিয়ে ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে নিজের অপূর্ণতা পূর্ণ করলেন এক বাবা।

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন আলী আকবর। জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

    ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়ার বাসিন্দা আলী আকবর।

    ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ।

    মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ।

    আলী আকবর জানান, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। কিন্তু লেখাপড়া করার স্বপ্ন ৫৪ বছর তাড়া করেছে তাকে।

    তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান। এখন তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আবার পড়াশোনা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি।

    বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সফল হতে হলে প্রয়োজন মনোবল, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন।

    আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। বাবাকে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করানো হবে।

    স্থানীয়দের মধ্যে, আলী আকবরের এসএসসি পাস নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গ্রামজুড়ে আলোচনায় এখন তিনি।

  • জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক এসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৮) ও ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান ফাতেয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলেক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

    হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন আমিনুল ইসলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকেল ও রাতে তারা দুবার কক্ষের বাইরে বের হন। এরপর রাতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা চিৎকার শোনা যায়নি।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার তাদের কক্ষের দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কক্ষের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এ সময় খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরে ১০ মাস বয়সী শিশুটিও ছিল।

    হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, রোববার দুপুরে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে দুবার বাইরে বের হন। এরপর রাতে আমি নিজের কক্ষে চলে যাই। কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।

    মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তারা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্তানের জন্মনিবন্ধন করানোর কথা বলে স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমিনুল। অথচ বাড়ির পাশের বাজারের একটি হোটেলে গিয়ে কেন তারা রাত কাটালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ।

    ২০২৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।

    ফল প্রকাশের পর দুপুর থেকে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকতারুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও এসএমএসের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।

  • এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

    এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতি’র দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব।

    তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজি’র প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।

    তিনি বলেন, সকল শ্রেণি পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজি’র এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।

    তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

    অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

    ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

    কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।

    তিনি বলেন, আশা করি, তিনদিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

    তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

    তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

    খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

    কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাগ জৈন। তবে এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পরাগ জৈন ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

    বাংলাদেশে আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ও সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম নিয়ামুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুরের জামালের ভাঙা ব্রিজের ওপর অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রবিউল আলমডাঙ্গার বক্সীপুর গ্রামের মরহুম নবীরন বেগম ও কুরবান মিস্ত্রির ছেলে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অপর এক অভিযানে হাপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মোরশেদ আলী গোকুলখালী বাজারের পশুহাটের সামনে থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ মো: শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার শরিফুল দামুড়হুদার গোপিনাথপুর খালপাড়ার মরহুম আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    এছাড়া অন্যান্য অভিযানে মাদক মামলার আসামি কোর্টপাড়ার মো: আবু জাফর বাপ্পা (৩৭) এবং মারামারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি জেহালা দায়পাড়ার মো: ইব্রাহিম হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    একই সময়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামি কুমারী মাস্টারপাড়ার মো: শাকের আলী, নতিডাঙ্গার মো: আমিরুল ইসলাম, আনন্দধামের মো: রনি মালিথা (২১) এবং একই এলাকার পরেশ কুমার দাশকে গ্রেফতার করা হয়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৭ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য উইনসেরেক্স কফ সিরাপ (ফেনসিডিল)সহ মো. সুজন মোড়ল (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের মো. আওয়ালের বাড়ির গেটের সামনে পাকা সড়ক থেকে সুজন মোড়লকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শফি মোড়লের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সবুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে ৯৭ বোতল উইনসেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯ হাজার ৭০০ মিলিলিটার সিরাপ ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ছাড়া সুজনের পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচড় থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ফোনটি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হতো।

    উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ সুজনকে থানায় নিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়েছে। তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় সূত্রে করা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

    ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্রয়লার মুরগির খামারি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

    সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ খামারে অবস্থানকালে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাড়ির পাশের নিজের ব্রয়লার মুরগির খামারে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে এবং আশপাশে কেউ আছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করেন।

    বার্তায় রাজাবুল জানান, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং খামারের আশপাশে লোকজনের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তার স্ত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ওই সময় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

    সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। পরে তিনি দ্রুত খামারে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজাবুলের সন্ধান পাননি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রাজাবুলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    বাবা-মায়ের আদরের ‘লাল মিয়া’ই এস এম সুলতান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।

    অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এসএম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

    চিত্রা নদীর পাড়ের ‘লাল মিয়া’র রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছেন তারা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণি।

    বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তার বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ অনুষ্ঠানের এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    এদিকে, সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।

  • কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। কুষ্টিয়া ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ নাকাল।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    বাংলাদেশের বৃহত্তম চালকল কুষ্টিয়া খাজানগরের ব্যবসায়িকরা বলেন, এখন আমাদের অটো রাইস মিলে ধান ভাঙা চলছে। মিলে একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ ধান সেদ্ধ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে। মানে চাল ভেঙে খুদ হয়। এ জন্য অবশ্য মিলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর যেভাবে চলছে, এতে আমাদের ব্যয় কোন পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পোল্ট্রী খামারী ও চাতাল মালিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

    একজন বিদ্যুতের কর্মকর্তা বলেন, কাগজ-কলমে সময়সূচি থাকলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। কারণ জেলাতে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়াই সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এমন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসী। এর মধ্যে অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সারাদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা যে বরাদ্দ পাচ্ছি সেই বরাদ্দে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন লোডশেডিং চলতে থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

    তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

    হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।

    প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

  • যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট।

    একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। এর আগে ২০২৪ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

    সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতার কারণেও পাসের হার কমেছে। তিনি বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।

    ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

    জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং চলতি বছর ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।

    অপরদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ রাভেজ রাসেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মাদক, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভূমি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং রাস্তাঘাটসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

    সভায় চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া জেলার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বাজার ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

    সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    চুয়াডাঙ্গায় নিম্নমানের চারা সরবরাহে তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিম্নমানের গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে কৃষি বিভাগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দিনে কমিটির সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গিয়ে জেলার চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য নেন। পরে চার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় ও বৃক্ষরোপণ করা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

    তবে একদিনে জেলার চার উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও দামুড়হুদা উপজেলায় সরেজমিন তদন্ত শুরু করে।

    জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ এবং চারা, সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতেই নিম্নমানের চারা ও বাঁশের খুঁটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান ও যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান।

    অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতা ইলাহী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।

  • শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

    সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

    সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

    এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

    ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন তিনি।

    এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।

    ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

    দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেন।

    একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।

    পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী কোল জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তার সামনে তুলে ধরেন।

    দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    মাতারবাড়ী প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য দেশের স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের বন্দর, সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এই বৃহৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অনেকে।

    পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

  • বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও ওই ভাষাতেই কথা বলতেছে’, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    আজ রোববার বেলা দেড়টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’–এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি চা–ঘর হস্তান্তর করা হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, এরাও ওই করতে দেব না, চলতে দেব না…ভাষাতেই কথা বলতেছে।’ এই সরকারের বয়স যে মাত্র চার–পাঁচ মাস এবং এই সময়ে যে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে, সেই কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

    গ্যাস–সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যে বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি কূপ খনন করে, সেটাকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে, সেগুলো আসতেছে।’

    জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে এবং সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে পেমেন্ট করতে গিয়ে। তারপরও কেউ তেল ছাড়া, গ্যাস ছাড়া এক দিনও থাকেনি। কমেছে, তবে পাওয়া তো যাচ্ছে।’

    রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন যে তিনি এই রংপুর বিভাগ, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। যার ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, কাজ পাব, বেকার থাকব না।’ রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে, পত্রিকাগুলো এখন যা খুশি লিখতে পারে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।

  • কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের অফিসে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    আরও বক্তব্য রাখেন খোকসা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ বাঙালি ও কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের রাজী উদ্দিন আহমেদ শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অনেক তরুন শিল্পী জুলাইয়ের উপরে আবেগঘন সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

    রোববার (৯ আগষ্ট) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টা দুপুর থেকে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর একটার দিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকশ ছাত্রদল ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।

    এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপির ফ্যামিলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু জানান, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডে শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানাকে অপসারণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাতে হটাতে পেরেছি। সেখানে আপনি ( ইউএনও) কিছুই না। আপনি (ইউএনও) দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ করেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।

    এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা চলে যান।

    তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করে সংসার চালায় এখানকার ৫শত পরিবার। কিন্তু বাঁশের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ না পাওয়ায় কুটির শিল্পের কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে। তাই অনেকেই পেশা ছাড়ছে।

    জানা যায়, বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে বাঁশ চাষের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখানকার পতিত জমিতে অন্যান্য ফসল ও বাঁশ চাষের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    গত ২ দশক আগে বন সম্পদের অফিসের অধীনে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হয়। ওই সময় বাঁশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে বাঁশ ঝাড় বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বাঁশের আবাদ করা হয়।

    মৃত্তিকা বাঁশ, বরাক, মুলি, তল্লা, মাকলা, বারিয়ানা, নল, ভুদুম, রেঙ্গুন ও কালি বাঁশ বাঁশ ঝাড়গুলোতে উৎপন্ন হয়। এসব বাঁশ ও বেতের উপর নির্ভর করেই পল্লীতে কুটির শিল্প গড়ে ওঠে।

    কুষ্টিয়ার জগতিতে মীরপুর ও খোকসা এবং কুমারখালীতে আদিবাসী সম্প্রদায় বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র তৈরি করা হয়।

    কুষ্টিয়ার এসব এলাকার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের তৈরি ঝুড়ী, চালুনি, ডালা, কুলা, ফুলের টব, শোপিস, আসবাবপত্রসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিক্রি হয়।

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের অন্যতম খাত বাঁশ ও বেত শিল্প। পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারক এই শিল্প এখন নতুন করে সম্ভাবনার আলো দেখছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

    এরই অংশ হিসেবে বিসিক জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী দাসপাড়া, মিরপুর উপজেলার আবুরি দাসপাড়া, মালিহাদ দাসপাড়া এবং খন্দকবাড়িয়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ১০২ জন বাঁশ ও বেত পণ্য উৎপাদনকারী কুটির শিল্প উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়।

    বাঁশ দিয়ে কুটির শিল্পে তৈরি করা হয়- কুলা, চালনা, ডোল, খালই, পলো, চাটাই, ডালি, দোলনা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে কাঁচা ঘরবাড়ী তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলতে গেলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনেক। গ্রাম-গঞ্জ শহরে এর চাহিদা ব্যাপক। এ বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করেই কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করেই এরা সংসার চালায়। তারা বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত। মানুষ এ বাঁশ বেত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বাড়ছে বাঁশের চাহিদা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে না বাঁশের আবাদ। লাগানো হচ্ছে না বাঁশের ঝাড়। বাঁশ কেটে সাবাড় করে নষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশ।

    বাঁশের মুতাও কেটে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বাঁশ ঝাড়। চাহিদার তুলনায় বাঁশ না লাগানোর জন্য বাঁশের ঘাটতি পড়ছে প্রতি বছর। বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এ জেলায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও জনসাধারণকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত না করায় বাঁশ আবাদ বাড়ছে না। তাই ধ্বংস হতে চলেছে বাঁশ বেত শিল্প।

    কুষ্টিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্পীরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক ডিজাইন জানা না থাকায় বাজারে নতুন ধরনের পণ্য আনতে পারছি না। আমাদের যদি মাঠ পর্যায়ে বিনা ফি-তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক মানের শৌখিন ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারব।”

    “শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বা অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় অনেক সময় বড় অর্ডার পেলেও কাজ করা সম্ভব হয় না। সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং তরুণ প্রজন্মও এই শিল্পে আগ্রহী হবে।”

    এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক নকশা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই খাত শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিসিকের লক্ষ্য কুটির শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।”

    জেলা বন বিভাগের অধীনে বাঁশ লাগানো কর্মসূচী নিয়ে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জেলার পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করাতে সক্ষম হয় তাহলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় বাঁশের আবাদ বাড়বে। উৎপাদিত বাঁশ জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠাতে পারবে এবং বাঁশ ভিত্তিক প্রচুর শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

  • যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জাগ্রত করতে যশোরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ ‘বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার ( ৯আগস্ট) বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহমেদ।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কালচারাল শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর শাখার নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল আহমেদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয় বরং নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতোমধ্যে যশোরে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক উদ্যোগ অভিভাবক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।

    আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।