সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    ট্রাক-লরি ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী লরি-বালুবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুরা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের রিপন মিয়া (২৭) ও পশ্চিম মাধবপুর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের (৫০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে বেজুরা সেতুর ওপর একটি তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকটি পাশের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা রিপন মিয়া ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী আবুল খায়ের ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    মাধবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক মিয়া জানান, তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি

    জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিতি বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    এর আগে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।

    বৈঠকে অংশ নেয় জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

    সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, ‘আমি ১১ দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক হিসেবে যোগ্য, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নাই। শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’

    এদিকে বৈঠকের আলোচনায় বিএনপি সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থান, গণভোটের রায়, জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে একটি নতুন ফর্মুলার প্রস্তাবও এসেছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংশোধন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গা থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছিলো।

    ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে—প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে—তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে; এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।

    ‘কিন্তু আমরা দেখেছি, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই তারা নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ হয়নি, অধিবেশন ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগও উঠেছে; নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।’

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর চুপুকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে হবে এবং তা জুলাই সনদ অনুযায়ী করতে হবে। কিন্তু তারা তাকে ছয় মাস রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দিয়েছে। এখন তাকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে একটি ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়টিও আমাদের কাছে সন্দেহজনক। এই ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেটিও আমাদের ভাবতে হচ্ছে। কারণ আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে এবং তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জাতির মধ্যে একটি সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীত ইতিহাসেও আমরা দেখেছি, তারা বিভিন্ন সময় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে এবং এর ফলে দেশে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এসব দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ও আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

    অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই ১১ দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

  • যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। জেলার আটটি উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১ হাজার ৩০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৬৯১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬১৫টি পদ খালি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সর্বশেষ উপজেলা ভিত্তিক শূন্যপদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৯টি। বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় সংকট দিন দিন তীব্রতা ধারণ করছে।

    উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে ২৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক । যশোর সদরে ২৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৬টি, শার্শায় ১২৫টির মধ্যে ৮২টি, চৌগাছায় ১৩৯টির মধ্যে ৭৬টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টির মধ্যে ৭২টি, অভয়নগরে ১১৭টির মধ্যে ৭০টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টির মধ্যে ৬১টি এবং কেশবপুরে ১৩৮টির মধ্যে ৩৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

    প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের সংকটও উদ্বেগজনক। প্রাক-প্রাথমিকসহ সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত মোট পদ ৭ হাজার ৯১১টি হলেও বর্তমানে ৬১৫টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরে ১৫৪টি, যশোর সদরে ১০৭টি, কেশবপুরে ৭৪টি, শার্শায় ৭২টি, অভয়নগরে ৫৬টি, বাঘারপাড়ায় ৫৫টি, চৌগাছায় ৫৪টি এবং ঝিকরগাছায় ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছে। ফলে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিরামপুর উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অফিসের সব প্রশাসনিক দায়িত্ব আমাদেরই সামলাতে হয়ে। একই সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে নয়ে।

    সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মাস্টার আনিসুর রহমান বলেন, যশোর সদর উপজেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১৪টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ১৩৬টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, আর প্রায় ৫০টিতে চলতি দায়িত্বে দায়িত্ব পালন করছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই শিক্ষা ও প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা না হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলাজনিত জটিলতা এবং নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।

  • যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে স্বামীর মৃত্যু হয়।

    নিহতরা হলেন যশোর চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)। বর্তমানে নিহত আব্দুর রশিদ চৌগাছা পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত আব্দুর রশিদ দীর্ঘ

    দিন যাবৎ প্রবাসী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রশিদ রোববার সকালে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর শহরের দিকে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

    এরপর স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

    স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা আর হলো না। দুর্ঘটনাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মাছুম খান।

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫

    দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫

    দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জনে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ভোটার বেড়েছে তিন লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন। একই সময়ে স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠান হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। ইসির সিনিয়র এই সচিব জানান, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন।

    তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধন চলেছে। এই তারিখ পরিবর্তন হলে পরবর্তীসময়ে জানানো হবে। আর সেগুলো সম্পূরক তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা হবে। সচিব জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ভোটার বেড়েছে তিন লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।

  • পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি, তবে তার উপস্থিতি যেন অনুভব করল পুরো স্টেডিয়াম। গোল করে জার্সি খুলতেই রদ্রিগো ডি পলের গায়ে দেখা গেল মেসির ১০ নম্বরের জার্সি। শোকাহত অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থনের এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

    ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি (৬৮)। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানায় মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

    মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল। গ্যালারিতেও মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন মায়ামির সমর্থকেরা। সেসব বার্তায় লেখা ছিল, ‘শক্ত থাকো, লিও।’ এরপর ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানান ডি পল। পেনাল্টি বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরালো শটে মন্তেরের গোলরক্ষক লুইস কার্দেনাসকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

    গোলের পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন ডি পল। আর তখনই তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বরের প্রতীক। মেসির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে পরিচিত ডি পলের এই উদযাপনকে শোকাহত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতার কারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেই সময় তার পাশে ছিলেন ডি পল। এবার ক্লাব ফুটবলেও বন্ধুর সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবেগঘন এই শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। তবে ডি পলের গোল শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্তেরে। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দিয়েগো রসি গোল করলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান ক্লাবটি।

  • দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় জেরার মুখোমুখি হতে আদালতে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়েন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে না পারায় রোববার তার জেরা হয়নি। আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    পরে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমণি। এ সময় মামলার শুনানির তারিখগুলোকে নিজের জন্য ‘মেন্টাল টর্চার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পরীমণি বলেন, ‘যার সঙ্গে ঘটে, সেই আসলে জানে কিসের মধ্য দিয়ে যায়। এই ডেটগুলো পড়লে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যাই। আবার সেই ঘটনাগুলো আমাকে রিকল করে। এগুলো আমার জন্য এক ধরনের মেন্টাল টর্চার।’

    মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচটা বছর হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেরা শেষ হোক, একটা সুরাহা হোক। একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, খুব তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যাক।’

    নিজের মানসিক চাপের কথা জানিয়ে পরীমণি আরও বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের সময় দেওয়া, সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতের এই মানসিক চাপ নিতে হয়। আমি আর এই হ্যাসেলটা নিতে চাই না।’

    পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, যানজটের কারণে দুপুর ১২টায় আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে জেরা হয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা জামিনে রয়েছেন। এদিন নাসির ও অমি আদালতে হাজিরা দিলেও শহীদুল আলম সময়ের আবেদন করেন।

    ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে ওই বছরের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার বিচার চলছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রুদ্ধদ্বার কক্ষে।

    ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন পরীমণি। তবে এখনো তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থেকে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    তিনি জানান, তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

    সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়েই জোর আলোচনা চলছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোরারো আলোচনায় থাকা বাকি তিন জন হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের প্রথম দুজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরের জন স্পীকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এই চারজনই বিএনপিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

    নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল, ড. মোশাররফ, ড. মঈন ও হাফিজ উদ্দিন নিজ নিজ গুণে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। শুধু দলের গণ্ডির মধ্যেই সমাদৃত নন; বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, সদাচার, মার্জিত আচরণ, অহিংস, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্রসেনানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তাদের আলাদা কদর আছে।

    বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়ে চলছে মূল্যায়নও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন দলটির নেতারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসাবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে। দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময় তার অবদান অনস্বীকার্র্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

    রাজনীতির বাইরেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসাবেও নেতৃত্ব দেন।

    ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলের প্রবীণ নেতা হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা থাকার কারণে তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক থেকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ও আন্দোলনে তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সর্বস্তরে প্রশংসিত। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি।

    একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসাবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অত্যন্ত পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

    তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। নানা প্রোপাগান্ডায় এক-এগারোর আগে ও পরে বিএনপি কিছুটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসাবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসাবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

    ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলাওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

    ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। হাসিনা সরকার দল ভাঙতে মির্জা ফখরুলকে চাপের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভনও দিয়েছেন বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। কিন্তু তাকে টলাতে পারেননি। অনেকের মতে, নির্লোভ ফখরুল দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় দেশে দল ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    এ দুজনের বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায় বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন।

    ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

    বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার হিসাবে তার নামও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মময় জীবন যেন সাফল্যের এক বিশাল ক্যানভাস। তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী।

    ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সর্বশেষ তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও শেষ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন, পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে সংসদের স্পিকার হিসাবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা যেন দেশে এবং বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন-এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত হবে। এখানে বিএনপিকেই চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির যে চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়েরও একটা সহযোগিতা তারেক রহমানের লাগবে। তাছাড়া যিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা সবারই অবদান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। তাদের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাদীক্ষা-সবদিক থেকেই ভিন্ন। তাই ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, যোগ্য, উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে। আমি যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে তাদের মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে একজনের নাম রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করবেন।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে ডন হককে আটক করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পূর্বের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক সংস্থার তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে এ সিদ্ধান্ত তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও কার্যকর তদন্তের অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে রয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মামলার অগ্রগতি এবং ডন হকের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

    তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান। তারা তদন্ত করছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

  • বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আমিন।

    শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা চেকপোস্টের চলমান কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।

    পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন ও নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন।

    ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নুরুল আমিন বলেন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ স্থল প্রবেশদ্বার। এখান দিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি যাত্রী হয়রানি বন্ধ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

    এসবি প্রধান আরও বলেন, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

    পরিদর্শন শেষে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এসবি প্রধান নুরুল আমিন।

    এ সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর রোববার, প্রস্তুত সাত ভেন্যু

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংগঠনিক সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার চট্টগ্রামের তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এটা তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন। এই দর্শনকে ধারণ করেই তিনি দেশ ও দলকে এগিয়ে নিতে চান।’

    প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সফরের সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড, বাবুনগর মাদ্রাসা, হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।

    মহেশখালী দিয়ে সফর শুরু

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় মহেশখালী পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করবেন। সেখানে জনসভা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ফটিকছড়িতে বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

    হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথের সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রাখতেই এই সফর।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

    হাটহাজারীতে পুনর্বাসন সহায়তা

    ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

    এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

    নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

    প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সন্ধ্যায় বিএনপির সাংগঠনিক সভা

    সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা ও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করা কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠককালে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    তারা হলো মো: মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), মো: নান্নু মিয়া (৩৮), মো: আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও মো: ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।

    আজ শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসান তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার গুলশান থানাধীন গুলশান-১, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমলের পঞ্চমতলার ফুড কোর্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের জন্য সভা করছিলেন।

    তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! নায়িকা বললেন ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল

    শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের দাবি যুবকের! নায়িকা বললেন ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল

    কিছুদিন আগের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে এবার চটলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ নামের একজন দাবি করেন তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন, এমনকি তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। শাবনূরের মতে, প্রেম–বিয়ে নিয়ে এসব তথ্য বানোয়াট। এমনকি মজা করে শাবনূর লিখেছেন, ‘তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসরই” হয়েছিল।’ ঘটনা কী, কেন চটেছেন শাবনূর?

    শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক আইডিতে তাঁর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘অতি সম্প্রতি আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে নাকি কোনো দিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসত যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল এবং এখনো চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে “সময় টিভি”কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স গার্লফ্রেন্ড ছিলাম।’

    তবে ঘটনা শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। এসব ঘটনায় বেশ হতভম্ব হয়েছেন এই নায়িকা। কারণ, সেই সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়েছে, রিজভীর সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছে। এ নিয়ে এই নায়িকা লিখেছেন, ‘সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে!’

    এ তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয় উল্লেখ করেন এই নায়িকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, সে তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। অন্যদিকে আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই–বা কী? আরও মজার বিষয়, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগে থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনো দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর”-ই হয়েছিল!’

    এই অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্টে ভক্তরা মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তাঁর পাশে রয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘সত্যটা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।’ কেউ লিখছেন, ‘সত্য চাপা থাকে না।’ তবে শাবনূরকে ঘিরে অভিযোগ শুধু প্রেম–বিয়েতেই থেমে থাকেনি। সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেলের মতো প্রসঙ্গও রয়েছে।

    এ নিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘রিজভী আহমেদ প্রবল বিদ্বেষের সঙ্গে দাবি করেছে যে আমি নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম এবং তাঁর আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করেছে। অথচ রিজভীর নাম আমি প্রথম শুনেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর, যখন সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় রাজসাক্ষী হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কীভাবে এবং কোন ভিত্তিতে দাবি করছে যে আমি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতাম?’
    শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘রিজভী দাবি করছে, আমি নাকি কূটনামি করতাম বা সালমান ও তাঁর স্ত্রীর একের কথা অন্যের কানে লাগাতাম। এমন ভিত্তিহীন গুজব আরও কিছু অসৎ ব্যক্তি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের আচরণ কখনোই আমার স্বভাবের মধ্যে ছিল না। আমার পরিবারও আমাকে এমন শিক্ষা দেয়নি। আর এসব করার সময়ও আমার ছিল না। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই কোনো দিন বলতে পারবেন না যে আমি কারও সঙ্গে এমন কূটনামি করেছি।’

    শাবনূর লিখেছেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম এই রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরীকে (বিল্টু) অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়।’

    শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে সে দাবি করেছে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তা–ই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি সে প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে।’

  • ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রতি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী।

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক রাখব। আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা আছে, এটিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা, সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয় আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

    তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে, হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আমাদের বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলেছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

  • চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।

    চাকরির নিয়োগপত্র প্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো: সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো: শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো: আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো: মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো: জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত মো: আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো: জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা: আরজু আক্তার।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

    অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

    শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন। একাধিক আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম গোলডটকম।

    আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবায়ে এবং রোসারিও৩ নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

    গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ম্যাচের পর নিজের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কয়েকটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এরপর মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গুজব ও জল্পনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসি ও তার স্বজনদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে এবার এখনও মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

    ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হোর্হে মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ তৈরি করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে মেসি।

  • জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    চৌগাছা (যশোর)

    শতশত ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে মুক্তির জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ আন্দোলন করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ চৌগাছা উপজেলার স্বর্পরাজপুর আরিফা সুলতানা মহিলা মাদ্রাসার সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন এদেশে এগিয়ে নিতে একদল সৎ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। সভায় আরো বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম, ড. মাহবুবুর রহমান, ম্ওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা রওশন জামিল প্রমুখ।

  • অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যত নিয়ে চলছে তুমুল গুঞ্জন। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এই তারকা ফুটবলার। তবে আতলেতিকো তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে নারাজ। এই টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্লাবের কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সফার জটিলতা ও আলভারেজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমিওনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। ক্লাবের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা মিগেল অ্যাঞ্জেল খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, হুলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ক্রমাগত আরও উন্নতি করতে পারে এবং আরও বড় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করব।’

    আলভারেজের বর্তমান দলবদল পরিস্থিতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা অঁতোয়ান গ্রিজমানের দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেন সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা গ্রিজমানের সঙ্গেও এমন একটি সময় পার করেছি, যখন তাকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসার পর নিজের মান এবং ফুটবলে নিজের মর্যাদা কী—তা তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছিল।’

    বার্সেলোনা এই মুহূর্তে আলভারেজকে দলে নিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোও এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকে নজর রাখছে। তবে আতলেতিকোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে প্রস্তাব ও দরকষাকষি বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

    খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিমিওনে সবশেষে মন্তব্য করেছেন, ‘সব বিষয়ই সময়ে সুরাহা হয়ে যাবে এবং সমাধান খুঁজে পাবে।’

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

  • বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যুবদলকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে চোরাই গরু রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় যুবদলকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম।

    আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান একই এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার একজনের গরু চুরি হয়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এরমধ্যে ওই এলাকায় চুরি করা গরু প্রবেশের গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে যুবদলকর্মী শরিফুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, “আমরা চাই, তিনি যেই হোক না কেনো অপরাধীর বিচার হোক। দল অপরাধী তৈরি করে না। অপরাধীরা দলে মিশে থাকে। সেক্ষেত্রে তার দায় দল বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না।”

    যুবদলের নাম ব্যবহার করে তার ছবির ব্যানার সম্পর্কে এই যুবদল নেতা বলেন, “বিভিন্নভাবে তারা নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে সেগুলো নানাভাবে ব্যবহার করে অপরাধ করেন। সবাইকে তো আর আইডেন্টিফাই করা যায় না। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর কেউ তো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

    পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরুচোর শরিফুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার দলীয় কোনো পরিচয় রয়েছে কি না জানা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরিফুলের থেকে এই চক্রে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    তিনি বলেন, “দুটি গরুর একটির মালিকের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তার থেকে মামলা নেওয়া হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • জুলাই স্মৃতি যাদুঘর : প্রতীকী কবরের কাছে থমকে যায় পা

    জুলাই স্মৃতি যাদুঘর : প্রতীকী কবরের কাছে থমকে যায় পা

    জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। মূল ভবনে ঢোকার আগেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে একটি প্রতীকী কবরস্থান। সেখানে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। চারপাশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের নাম খোদাই করা ফলক। দর্শনার্থীরা এখানে থমকে দাঁড়ান।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের উত্তর কোণে অবস্থিত এই স্মৃতি জাদুঘরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি সময় দর্শনার্থীরা থমকে দাঁড়ান প্রবেশমুখের সেই প্রতীকী কবরের সামনে। কেউ শহীদদের নাম পড়ছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আবার কেউ কোনো কথা না বলে কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেন ভেতরে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন একটি বেদনাবিধুর অথচ গৌরবময় ইতিহাসের সামনে দাঁড়ানোর জন্য।

    দর্শনার্থী আশিকুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘সময় গেলে বৃষ্টির জল শুকিয়ে যাবে, এই ফলকও আবার ঝকঝকে হবে। কিন্তু এখানে লেখা ইতিহাস, আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না। একটি জাতির সবচেয়ে বড় স্মৃতিস্তম্ভ ইট-পাথর নয়, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকা স্মৃতি।’

    প্রতীকী কবরের পাশেই গতকাল দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিহত সজল মিয়ার বাবা মো. হাসান। ছেলের নাম লেখা ফলকের দিকে তাকিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন তিনি।

    মো. হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিল। এখানে এসে ছেলের কথাই বারবার মনে পড়ছে। ভেবেছিলাম আন্দোলনের পর দেশ বদলে যাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার অনেকটাই অপূর্ণ।’

    সজল মিয়ার ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ভাইয়ের ব্যবহৃত রক্তমাখা শার্ট-প্যান্টসহ স্মৃতিচিহ্ন এখানে রাখা হয়েছে। সেগুলো দেখতে এসেছি। মনে হচ্ছে, ভাই এখনও আমাদের মধ্যেই আছে।’
    একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গণভবন এখন স্মৃতি জাদুঘর। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উদ্বোধনের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় জাদুঘরটি।

    জাদুঘরের নিচতলায় তুলে ধরা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের নানা ঘটনা, গুম, খুন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক দমনপীড়ন, লগি-বৈঠার হামলায় শহীদদের তালিকা, শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ আওয়ামী বিচারব্যবস্থার ও স্কাইপে কেলেঙ্কারির তথ্য এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার দলিল, আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র। প্রবেশের শুরুতেই থ্রিডি প্রজেকশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ৫ আগস্টের পর গণভবনের বাস্তবচিত্র। রয়েছে আন্দোলনের দিনগুলোর শিল্পকর্ম, বিভিন্ন ঘটনার নথি ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা।

    দ্বিতীয় তলায় স্থান পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, পরিচয়পত্র, রক্তমাখা পোশাক, নারীদের অংশগ্রহণের দলিল, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওভিত্তিক থ্রিডি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ইনস্টলেশন। দেয়ালে দেয়ালে আন্দোলনের স্লোগান, আয়নাঘরের নির্যাতনের প্রতীকী ভাস্কর্য, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ছবি। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ব্যবহৃত খাট ও চেয়ারও স্থান পেয়েছে জাদুঘরে।

    জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে ঘুরে দেখা গেছে, ইতিহাস জানতে যেমন এসেছেন তরুণ-তরুণীরা, তেমনি সন্তান হারানো বাবা-মা, আহত আন্দোলনকারী, কিংবা দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষও নিজেদের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন প্রদর্শিত প্রতিটি ছবি ও নিদর্শন।
    জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব গতকাল সমকালকে বলেন, এই জাদুঘর কেবল একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণাগার হয়ে উঠতে পারে। আর প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বলছে, মানুষ এখানে শুধু দেখতে আসছে না– অনুভব করতেও আসছে। সেই অনুভূতির শুরুটা হচ্ছে প্রবেশমুখে প্রতীকী কবরের সামনে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই।

    গণভবন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
    ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা গণভবনে বসবাস শুরু করেন। তখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে গণভবন এক টাকার টোকেন মূল্যে শেখ হাসিনার নামে ইজারা দেওয়া হয়। ২০০১ সালে লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইজারা বাতিল করে। তখন শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর সেটি আর ব্যবহৃত হতে দেখা যায়নি।
    এর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা প্রথমে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠেছিলেন। গণভবন সংস্কার শেষে ২০১০ সালের মার্চ মাসে শেখ হাসিনা সেখানে বসবাস করা শুরু করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলের বেশির ভাগ কাজ গণভবন থেকে পরিচালিত হতো।

    চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ এই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন জনতার ক্ষোভে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল বাসভবনের দেয়াল ও মেঝে। জাদুঘরে রূপান্তর করার সময় দেয়ালগুলোতে থাকা জনতার ক্ষোভের ভাষাকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনা করে একটি কক্ষ বাদে বাকি কক্ষগুলোর ফ্লোর থেকে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাড়ির নিচতলায় প্রদর্শন করা হয়েছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের ইতিহাস। দোতলায় প্রদর্শিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস।

  • দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তাঁরা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে।

    ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান।

    আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তাঁর একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তাঁর নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তাঁর স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাঁদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তাঁর ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তাঁর নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম।

    তাঁর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তাঁর একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাঁদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’

  • জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় যোদ্ধা রাশেদ খান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (৭ই আগস্ট) তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    একটি সূত্র জানায় গত ৪ আগস্ট সকালে যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে রাশেদ খানের বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

    হাসপাতালে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আহত রাশেদ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে রাশেদ খানের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

    এ সময় অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে যারা সাহসিকতার সঙ্গে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধাসহ সকল অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও খোঁজখবর অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার অন্যতম সমন্বয়ক সুয়াইব হুসাইন, সরোয়ার গাজী, আবু হুরায়রা এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী।

    পরিদর্শন শেষে আহত রাশেদ খানের দ্রুত সুস্থতা, পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সবাই মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করেন।

  • বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বেনাপোলে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরের বেনাপোলে চতুর্থ দিনের মতো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে পৌর বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট ও গাজীপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ব্যক্তিগত অর্থায়নে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।

    আবু তাহের বলেন, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশকে সবুজায়িত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনধারণে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ অক্সিজেন, জ্বালানি কাঠ, ফুল ও ফল দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ তৈরির উপকরণ সরবরাহ করে।

    কর্মসূচিতে বেনাপোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি নাসিরুল গনি বল্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুনাফ, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মিয়া, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দী হন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরে তাকে নির্যাতন করে মাফিয়াচক্র। আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। এরপরও দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের। আদরের সন্তানের খোঁজ না থাকায় দিশেহারা পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মোবাইলে থাকা নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা শিল্পী বেগম। আদরের সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে তা জানেন না পরিবারের সদস্যরাও। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আহাজারি। ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

    স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরাসরি তাকে ইতালি নেয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সাথে। চুক্তি মতে ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিলে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে যুবককে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা। এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

    এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

    নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।’

    প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

  • হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


    ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

    “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।”

    হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


    হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

    জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক – সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার – প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


  • দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়, এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সাদা কে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে। আমার যদি কোন ভুল থাকে সেটাও বলতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার এসব ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও এখনও তারা স্বাধীনভাবে সেগুলো প্রচার করতে পারছেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতটা সফল হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। এ বিষয়ে আমরা বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

    বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ ভুতুড়ে বিলের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রাজনীতি হচ্ছে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান নেই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের আমাদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনও আসেনি। তারা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে। বিনিময়ে তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। পক্ষান্তরে তারা এখনও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সরকারের নিজ দায়িত্বে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ নেতা কর্মীরা যাদের নামে মামলা ও সাজা প্রাপ্ত হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

  • ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    জাতীয় দলের হয়ে ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলার আশা প্রকাশ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নেই। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘তার দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই দেশ ছাড়েন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আমিনুল হকের ভাষ্য, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অবস্থানে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে সরে গিয়ে যখন রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিয়েছেন, তখন আমার মনে হয় না তার দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

    ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সাকিবকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর সেই অবস্থান বদলেছে। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং অন্য সবাই তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। তাই তার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।

    তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের পর সাকিবের সেই বিদায়ী সিরিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

  • মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের স্বল্পমেয়াদি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।’ তবে অধিবেশনটি কবে আহ্বান করা হবে— সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

    ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

    আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তবে যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, সেক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

    এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, একটি প্রাইভেটকার ও একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি জানান।

    গ্রেফতাররা হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মরহুম আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মরহুম মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) ও আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)। তাদেরকে আদালতে সোপর্দের পর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ৪ আগস্ট সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাস (৪৮) যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে তার সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি চেম্বার পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ট্রান্সফরমারগুলোর প্রতিটিতে থাকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের তামার কয়েলসহ মোট ৩০ কেজি তামা এবং ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল চুরি হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দিন অপর সেচ ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামও তার একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও তেল চুরির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাফর জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, অন্য যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা, তেল ও অন্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও চক্রটির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।

    থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) চৌগাছা থানার এসআই আব্দুস ছাত্তার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কমলাপুর মোড় এলাকায় চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কে অভিযান চালান। এ সময় রুমেল ওরফে রুবেল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুমেল ওরফে রুবেল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার টেঙ্গুরপুর মোড় এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ মোল্যা (৩৮) ও জসিম উদ্দীন মন্ডল (৫৫) কে আটক করেন। তাদের নিকট থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ মোল্যা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী (উত্তর গড়ের আবাদ) গ্রামের লিয়াকত মোল্যার ছেলে ও জসিম উদ্দীন মন্ডল চৌগাছা উপজেলার রাজাপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত রওশন আলী মন্ডলের ছেলে।

    এদিকে চৌগাছা থানা পুলিশ উপজেলার টেঙ্গুরপুর-পুড়াপাড়া সড়কের আন্দারকোটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক আব্দুস সামাদ চৌগাছা উপজেলার পান্টিপাড়া গ্রামের মৃত হারেজ গাজীর ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংদ সদস্য ভোট দেবেন। সেখানে নৈতিক স্থলনের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচত সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়ার পর এই ভোটার তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। একই দিন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলও ঘোষণা করেন।

    গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য সংখ্যা ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন।

    এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও ভোটার তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য পদে আছেন। স্পিকারের কাছে জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কাজেই এখন পর্যন্ত যারা সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হবেন।

    সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেয়। তবে চিঠির ভিত্তিতে এখনও তাঁর এমপি পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

    ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল প্যাড জাল করে বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন।

    মামলায় বরগুনা সদরের এসি ল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা শাওন মজুমদার ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর ও সংসদ সচিবালয়ের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এই জাল নথি ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো স্থানে বদলির চেষ্টা চালান।

    নথিপত্রে দেখা যায়, বরগুনা সদর থেকে শাওন মজুমদারকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। জাল করা ওই ডিও চিঠিতে তাঁর সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করার অনুরোধ করা হয়।

    সংসদ সচিবালয় চিঠিটি পরীক্ষা করার পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সংসদ সচিবালয় থেকে এমন কোনো চিঠি কখনোই ইস্যু করা হয়নি।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া চিঠিটিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, লেখার ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের মূল অফিশিয়াল রেকর্ডের সঙ্গে মেলেনি। প্রতারণামূলকভাবে সরকারের পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়।

    মামলার বাদী এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে একটি বিস্তৃত ও গভীর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিটির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    দণ্ডবিধির অধীন জালিয়াতি, ভুয়া নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া চিঠিটির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত লেটারহেড প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। এ কারণে দলটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ‘বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই জামায়াত এ নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না।’

    রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এই যুক্তিই তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তবে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সরকারি দল বিএনপি সংসদের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় বা পরামর্শ করেনি।

    এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।

    একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি যাচাই-বাছাই শেষে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে ওই প্রার্থীকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংবিধান ও আইনের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

    বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

  • মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে আসছে।

    দলীয় রাষ্ট্রপতি মনোয়নে শীর্ষ নেতা ছাড়াও সবচেয়ে সক্রিয়া ভূমিকা রাখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। তবে এই কমিটি এবার রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে রেখেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

    দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।

    তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

    শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

    বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

    মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

    তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।

    একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।

    এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বিএনপি মনোনয়ন দেবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ (Control) নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর (Regulation) মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

    শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

    তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

    মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।

    মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা ও এই শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রর চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।

    স্বপন বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

    তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    তথ্যমন্ত্রী এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

    টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু।

  • বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে ফিরলেন ফাহমিদা নবী

    বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে ফিরলেন ফাহমিদা নবী

    ছোট একটা বিরতির পর নতুন একক গান প্রকাশ করলেন নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী। শিরোনাম ‘অভিমানের শেষে’। ‘শত মানুষের ভিড় এড়িয়ে, নির্জনতায় হারাই আমি; রংধনু রঙ গুনে গুনে, স্মৃতির ঘরে ধুলো জমে’- এমন কথায় সাজানো গানটি লিখেছেন রাজু চৌধুরী।

    সব সময় মেলেডি সুরকে প্রধান্য দিয়ে আসছেন ফাহমিদা নবী। আর সে কথা মাথায় রেখে মেলেডিকে ধরে রেখে ‘অভিমানের শেষে’ গানের সুর করেছেন এহসান রাহি। সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    আমির খসরুর তত্ত্বাবধানে ক্রিয়েটিভ গ্যালেরিয়া থেকে নির্মাণ করা হয়েছে গানের অ্যানিমেশন ভিডিও। প্রযোজনা করেছেন কৌশিক কল্লোল। সম্প্রতি শব্দ কারিগর ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    নতুন এই গান নিয়ে শিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, ‘প্রেম ও বিরহের অনুভূতিতে সাত সুরে বাঁধনে নতুনভাবে তুলে আনা হয়েছে এই গানে। গীতিকার রাজু চৌধুরী তাঁর কাব্যকথায় নান্দনিকতার ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন। এহসান রাহিও গানের সুরে মেলেডিকে প্রধান্য দিয়েছেন। সুমন কল্যাণের সংগীতায়োজনও সমায়োপযোগী। একইভাবে লিরিক্যাল ভিডিওতে আছে ভিন্নতা। সবমিলিয়ে ‘অভিমানের শেষে’ তেমনই একটি গান, যে ধরনের গানের জন্য প্রহর গুনে যান আমার ভক্তরা। আশা করছি, এ আয়োজন অনেকে মনে ছাপ ফেলবে।’

    এদিকে নতুন এই একক গান ছাড়াও আরও বেশ কিছু ভিন্ন ধাঁচের গানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফাহমিদা নবী।

  • সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।

    সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’

    ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’

    প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।

  • বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত  ৭

    বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর বাসটি উঠে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনেরই নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাটের কালাই থানার মো: আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি থানার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো: তাজিমুল (৪৭)।

    এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মনোয়ারুল কাদির বিটু।

    হাসপাতালের পরিচালককে সাথে নিয়ে রোগীদের দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই এক্সিডেন্টের খবরে অনেক উদ্বিগ্ন। আমি খবর পেয়েই দ্রুত এখানে ছুটে এসেছি। আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আইসিইউতে থাকা একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’

    প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আরো জানান, ‘যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, দেয়া হয়েছে। ওষুধপত্র যা লাগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দেখবে এবং রক্তের প্রয়োজন হলেও সেটার জোগান এখান থেকে দেয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথেও কথা হয়েছে, তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’

    বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বাসসকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা দেয় এবং পরে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।’

    ‘এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা যান। এ ঘটনায় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সওজ কর্তৃপক্ষ স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করায় স্থানীয়রা সড়ক ছেড়ে দেন। বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।’

    ওসি আরো জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

    বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো: তৌফিকুর রহমান হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন।

    একইসাথে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

  • হাসিনাকে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের তীব্র নিন্দা জানাল জামায়াত

    হাসিনাকে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের তীব্র নিন্দা জানাল জামায়াত

    ভারতে বসে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় দেশটির সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ভারতের এহেন আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দিল্লিতে বসে হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, খুন ও গুম চালিয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপরও তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হলেও বর্তমান সরকার খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পালিয়ে থেকে দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে খুনি হাসিনা। পলাতক হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম, পুরোনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান, বিকাশ কিংবা আড়ালে-আবডালে কোনো তৎপরতা চালানোর সুযোগ বিপ্লবীরা দেবে না।

    খুনি হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে ছায়া ফেলতে চায়, তা সফল হবে না। আমরা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণকে সদা সজাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে পুরোনো ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঐক্যবদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত এবং সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

  • একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে।
    বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট– দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।

    ২০২২ সাল থেকে কেউ টাকা পাননি
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।

    সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।

    সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।
    সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

    ২০২৩ সালে অবসর, ২০২৬-এও টাকা মেলেনি
    খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শামসুর রহমান ৩৩ বছর ৬ মাস শিক্ষকতা শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। একই মাসে অবসর সুবিধার আবেদন করেন। এরপর প্রায় চার বছর কেটে গেলেও তিনি টাকা পাননি।

    শামসুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘জুতোর তলা ক্ষয় হয়েছে, কিন্তু টাকার দেখা পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ঢাকায় এসেছি। প্রতিবারই বলা হয়েছে, অপেক্ষা করুন।’
    রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি। এখন চিকিৎসার টাকাটুকুও পাচ্ছি না। শুধু জানতে আসি, কবে টাকা পাব।’
    ময়মনসিংহের শফিকুল ইসলাম বলেন, টাকার আশায় বছর পার হয়ে যাচ্ছে। বয়স হয়েছে, কষ্টও বাড়ছে।

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য টাকার খুব প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবার এসে শুনি, ফাইল প্রসেসে আছে।’

    পুরো টাকা পাওয়া নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সংশয়
    সরকার ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, আপাতত সরকারের লক্ষ্য মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল অর্থ ফেরত দেওয়া; কিন্তু বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফা বা প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

    জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষাসচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা পৃথক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, ধাপে ধাপে অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করা, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল টাকা পরিশোধ করা, প্রথমে মূল

    টাকা ও এক বছর পরে বাকি টাকা পরিশোধ করা। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হননি। তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

    তিন বছরে যেভাবে সংকটের তৈরি
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রথমত, চরম অর্থসংকট। দ্বিতীয়ত, তহবিল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ। তৃতীয়ত, পরিচালনা কমিটির অকার্যকারিতা এবং সফটওয়্যার জটিলতা।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিপুল অর্থ সরকারি ব্যাংক থেকে সরিয়ে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় নগদ প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

    আবেদনের ভয়াবহ জট
    অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন সমকালকে জানান, অবসর বোর্ডে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

    কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী সমকালকে বলেন, কল্যাণ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা আছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানান, শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ট্রাস্টের হাতে আছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা।
    অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। এ জন্য চাকরিকালীন তাঁদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এ ছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা (৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য) নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা সরকার ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়।

    অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৬ শতাংশ হারে টাকা কাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায় হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ হয় প্রতি মাসে আরও ৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে গড়ে অবসর সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে প্রতি মাসে দরকার ১১৫ কোটি টাকা। এর মানে হলো প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে; বছরে যা ৫০৪ কোটি টাকা।

    সফটওয়্যার বন্ধ, হাতে-কলমে যাচাই
    অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জটিলতাও পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন প্রতিটি আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে।
    এর ফলে একটি আবেদন নিষ্পত্তিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

    শিক্ষকদের প্রশ্ন, মুনাফার কী হবে
    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় প্রশ্ন, তাদের বেতন থেকে কেটে রাখা অর্থ বহু বছর বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিনিয়োগ থেকে যে মুনাফা হওয়ার কথা, সেটির কী হবে?
    শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতাদের মতে, ১৫ আগস্টের এই অর্থ বিতরণ কর্মসূচি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এতে সামগ্রিক সংকটের একটি অংশের সমাধান হবে মাত্র। কারণ এখনও হাজার হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন। এ জন্য প্রয়োজন কয়েক হাজার কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অবসর তহবিলের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটবে না।

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কারও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কেউ অবসর বা কল্যাণের টাকা পাননি। দ্রুত সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। শুধু মূল টাকা নয়, বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।

  • ঝুলে আছে এনআইডি সংশোধনের দেড় লাখ আবেদন 

    ঝুলে আছে এনআইডি সংশোধনের দেড় লাখ আবেদন 

    বড় অংশই জন্ম তারিখ ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের প্রায় দেড় লাখ আবেদন ঝুলে আছে। বেশিরভাগই জন্ম তারিখ, বয়স ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধন সংক্রান্ত। ‘ঘ’ ক্যাটাগরির এসব সংশোধন আবেদন নিয়ে জটিল পরিস্থিতি এড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অবস্থায় তারা এসব আবেদন নিষ্পিত্তির ক্ষমতা মাঠপযায়ে হস্তান্তরসহ এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে।

    ইসির জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের তৈরি করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ২০২০ সালে ‘কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এর মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করে। ওই বছর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে এনআইডির বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭০টি আবেদন পেয়েছে ইসি। এর মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে তারা। নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বছরে গড়ে ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭টি বা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৮৮টি সংশোধন আবেদন পেয়েছে ইসি। আর বছরে গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংশোধন আবেদনগুলোকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়: ক, ক-১, খ, খ-১, গ এবং ঘ। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে বানান সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো পড়ে। ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও তার বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আর ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্ম তারিখ, বয়স এবং বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো থাকে। এসবের মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা সবচেয়ে জটিল।

    ইসি বলছে, পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বাবা-মায়ের এনআইডির মতো প্রয়োজনীয় প্রমাণক বা নথিসহ অধিকাংশ সংশোধন আবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে কর্মকর্তারা যখন সংশোধনের জন্য আবেদন করা তথ্যের সাথে নথিপত্রগুলো মিলিয়ে দেখেন, তখন প্রায়শই তাতে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। এমনকি অনেক আবেদনকারী পাঁচ-ছয়বার আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরও একই সংশোধনের জন্য অনলাইনে পুনরায় আবেদন করেছেন। যা আবেদনের জট বা ব্যাকলগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর এসব কারণেই এ নিয়ে জটিলতা বেশি হয়।

    এদিকে, এনআইডি সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো তথা জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ করে মাঠপর্যায়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি। এখন থেকে ইসির জেলা বা উপজেলা/থানা কার্যালয় থেকে এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন করা যাবে। এজন্য নাগরিকদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছুটে আসতে হবে না। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও সোমবার প্রকাশ করেছে ইসি।

    এছাড়া ‘ঘ’ ক্যাটাগরিসহ এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজতর করতে ইসি চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ১৬ জুলাই গঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) এবং সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন) দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে আছেন, উপপরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) ও সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট)। এই কমিটিকে অন্যান্য ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি সহজ করাসহ ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হতে প্রমাণক অপর্যাপ্ত থাকায় বাতিল করে নিষ্পত্তিকৃত এবং পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক দাখিল করা হলে সেসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

    এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, এনআইডি সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের দুর্ভোগ ও হয়রানি এড়াতে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। কমিটির সুপারিশ পেলে আরও কীভাবে এটিকে সহজ করা যায়, সেসব ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

    ইসির সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

  • বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার সকাল পর্যন্ত স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ট্যাটাসটি প্রকাশের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে ১ হাজারের বেশি বার শেয়ার, প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মন্তব্য এবং ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাকশন) পেয়েছে।

    স্ট্যাটাসে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে দলের কিছু নেতাকর্মী ব্যক্তিস্বার্থে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহায়তা করে সুবিধা নিয়েছেন।

    তার দেয়া স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন।’

    তিনি আরো লেখেন, মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাতও করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই। খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।’

    স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    জুলাই আন্দোলন ও এর চেতনা বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে অম্লান হয়ে থাকবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসু ভিপি এ কথা বলেন।

    পোস্টে সাদিক কায়েম জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের স্মৃতি ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে লেখেন, ‘আমীরে জামায়াতকে অনেক শুকরিয়া জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা জীবন্ত রাখার জন্য, শহীদের স্বপ্ন ও বার্তা এতো নান্দনিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে।’ বাংলাদেশসংবাদ

    এ সময় একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন সংলগ্ন মাঠে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সবাইকে দাওয়াত রইলো। আজ রাত আটটা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।’

  • কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে?: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

    শুক্রবার (৭ আগষ্ট) ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার অনুমতি কোনোদিনই দেবে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-০১ উদ্বোধন করেন। ওই সময় তিনি কেবল ইট-পাথরের ইমারত ও অবকাঠামো নির্মাণের দিকে মনোযোগ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পুরো একশ কিলোমিটার জুড়েই পর্যটনবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইচ্ছামতো বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকাজ পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজম বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজারের টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা অপহরণের মতো অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপহরণের মতো অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আমরা তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক প্রমুখ।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের পরই স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠকে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের রায় হয়েছে, ফলে তার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশে ফিরলেই তাকে জেলে যেতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রায় কার্যকর করা হবে।

    সিলেট নগরীর সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিলেট সিটি করপোরেশন বেশ ভালো করছে।

    সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের (সিমেন্ট) একটি যৌথ প্রকল্প চালু হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, যা এখন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরের বর্জ্য পরিশোধন করে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জ সুরমা নিয়ে গিয়ে নিজেদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈবসারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সিসিকের রয়েছে।

    পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

    এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

    খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

    এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

    খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।

  • বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

    মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

    আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

    কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

    এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

    যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

  • কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রশীদের ছেলে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে কুমারখালীতে ফিরছিলেন নোমান। পথিমধ্যে চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি আটকের ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।