যুদ্ধের কারনে আত্মহত্যায় ঝুকছে ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

Study finds 33.8% of Israeli university students considering suicide amid war

ইসরাইলের ভেতরেই এখন ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে এদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন আত্মহত্যার কথা ভাবছে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের এই অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইসরাইল হাইয়োম’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ ডিউটি বা সংরক্ষিত সেনাদের দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনকে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। যুদ্ধের ময়দানে ভয়াবহ সব দৃশ্য দেখা, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং সরকার তাদের ‘ভুলে গেছে’- এমন বোধ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা তৈরি হয়েছে। ফলে তারা বিষণ্ণতা ও একাকীত্বে ভুগছেন। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, তাদের স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে।

ইসরাইলে আত্মহত্যার ওপর আয়োজিত বার্ষিক এক বিজ্ঞান সম্মেলনে এই গবেষণার তথ্যগুলো উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছেন। এই হার সারা বিশ্বের গড় হারের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্ণতা এবং ১৮ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা দেখা যায়। কিন্তু ইসরাইলি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগুলো আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা শিক্ষার্থীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন ও উসকানি, যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে এবং পরোক্ষভাবে এই তরুণ প্রজন্মের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৭ অক্টোবরের আগে ও পরের পরিস্থিতি তুলনা করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কয়েক গুণ বেড়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের বলি হয়ে ইসরাইলের শিক্ষিত সমাজ এখন এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ