গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের মহাসিন গার্ডের দুই ছেলে সেন্টু গার্ড ও তুহিন গার্ড। পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করে তারা এ সফলতা পেয়েছেন।
তাদের এ চাষাবাদ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। দুই ভাইয়ের সাফল্য দেখে বাঁধাকপি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।বাঁধাকপি চাষি তুহিন গার্ড বলেন, গ্রীষ্মের বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তার। পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তুহিন গার্ড আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে বাঁধাকপি চাষ করে ফলন পাওয়া নিয়ে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন হয়েছে। সেচ ও সার কম লাগায় শীতের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাঁধাকপি চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। আগামী বছর অন্য ফসলের আবাদ কমিয়ে বাঁধাকপি চাষের পরিমাণ বাড়াবেন বলেও জানান তিনি।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় এবার নভেম্বরের আগেই, অর্থাৎ অক্টোবরেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ডসহ খাঁড়ারা ব্লকের অনেক কৃষক এ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম রাজীব বলেন, সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ড এবার পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভালো ফলন হওয়ায় গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বাঁধাকপি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
