চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে গড়ে উঠেছে বসতি ও স্থাপনা। সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি। দিন-রাতে বিপুল পরিমাণ অংশ একের পার এক দখল করে নিচ্ছে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল। তাদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদানের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

সংরক্ষিত বনভূমি দখল নিয়ে এ দখলবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকে দখল বেচা—বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেট হাওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সরকারি বিধি নিষেধের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পাকা ঘর- বাড়ি ও খামার বাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি।

স্থানীয়রা জানায়, ডুলাহাজারা বনবিটের পশ্চিম পাশে বিটের লাগোয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সংরক্ষিত এ বনভূমি দিবারাত্রি দখল বাজ এ সিন্ডিকেট দখল করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে করে সংরক্ষিত বনের অনেক পুরানো মাদার ট্রি গর্জন সহ সামাজিক নবায়নের মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি দখলদারিত্বে কারণে সংকোচিত হয়ে আসছে সংরক্ষিত বনভূমি এবং হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল। গত এক মাস ধরে এসব বনভূমি দখল নিয়ে অবৈধ বসতি, মুরগির খামার ঘরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলে হবে না, উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ-সব চিহ্নিত দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের বন কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতার সুযোগে এ প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট সংরক্ষিত বনভূমি একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দখল বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা করে আসছি এবং প্রতিবাদ করছি কিন্তু দখলবাজ চক্রকর্তৃক প্রাণে হত্যার হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।’

চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিকরা বলেন, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ‘ডুলাহাজারা বনবিটের ওই জায়গায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা, মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়।’অভিযানের পর জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ,আর

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ