ক্যাটাগরি কক্সবাজার

Cox’s Bazar district

  • মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো: ফয়সাল (২৬) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালেও কয়েক দফা পেটানোর পর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে একদল কিশোর ফয়সালকে ইট দিয়ে পেটাচ্ছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, এভাবে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী এলাকার দুর্গম এলাকায় চকরিয়া থানার পুলিশের অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই নারীসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) চকরিয়া থানার পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রাজিব উরপে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দীন( ৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগার রানা ওরফে শুটার সাগার (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর রানু (৫৫)।

    থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকার এক বসত বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালাতে গেলে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে। তাদের শিকার উক্তি মোতাবেক পুকুর জলাশয় ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

    গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

  • পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করেছে সংস্থাটি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

    আটকরা হলেন- আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান- পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।

    আমির আলী আরও জানান- পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান- অভিযানে প্রাথমিক ভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামী করা হবে।

  • নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির যৌথ আভিযানিক দল নাফ নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কুলালপাড়া গ্রামের মরহুম কবির আহম্মেদের ছেলে জামাল হোসেন (৩৮), নোয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো: এমরান (২৫) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো: ইসমাইল (২৪)।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পার হয়ে সাবরাং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্যে বিজিবির আভিযানিক দল বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। সাড়ে ৪টার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিয়ানমার সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবির নৌ-টহলদল থামার সংকেত দেয়।

    তবে পাচারকারীরা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলে নৌকাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    পরবর্তীতে আটক পাচারকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ-সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় প্লাস্টিকের বস্তাটি উদ্ধার করা হয়। বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, নৌ-টহল এবং সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।’

  • মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কক্সবাজাররের মহেশখালীর ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশের অভিযানে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

    আজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে থানা মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট মো: অহিদুর রহমান এ তথ্য জানান

    আটকরা হলেন— পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরের হরিনখাইন দীঘির পাড় এলাকার মোতাহের হোসেনের চেলে মো: রুবেল মিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ছোটমহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকার পরলোকগত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে।

    পিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সুলতান এবং ওসি (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীলের নেতৃত্বে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে একটি সিএনজিচালিত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগের ভিতর থেকে আটটি অস্ত্র উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এসময় অস্ত্র চালানের সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেন তারা। উদ্ধার ও জব্দকৃত অস্ত্রগুলো হল— দেশীয় তৈরী রাইফেল দুইটি, দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক পাঁচটি ও এলজি একটি।

    ওসি জানান, গত ২১ আগস্ট উপজেলার শাপলাপুর মিঠাছড়ি এলাকার গহীন পাহাড়ের ভিতরে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ একজনকে আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে অস্ত্র উদ্ধারে মহেশখালী বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে ঠাকুরতলা মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

    ওসি আরো জানান, এই অস্ত্র উদ্ধার এবং চালানের সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অনেকদিন যাবত বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছিল। অপরাধীরা পুলিশের গতিবিধি টের পেয়ে সটকে পড়েন। অনেকদিন চোর-পুলিশ চোর-পুলিশ খেলা চলছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই হলো অপরাধীদের।

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএসের স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকারে করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    কক্সবাজারের রামুতে অভিযান চালিয়ে গাড়ি থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবক ও দুই তরুণীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

    বুধবার সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রাবার বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মরহুম শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সিমা ইসলাম এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার উর্মি আক্তার উষা (১৯)।

    ডিএনসি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু রাবার বাগান এলাকায় একটি বিশেষ টিম অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার থামানোর সঙ্কেত দেয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর এর উইন্ডশিল্ডে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ ও ‘মিরপুর ডিওএইচএস’-এর স্টিকার দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিত বলে দাবি করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে ডিএনসি কর্মকর্তারা গাড়িটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্কচটেপ ও টিস্যু পেপারে মোড়ানো তিনটি পোটলা থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, চারটি স্মার্টফোন এবং গাড়ির বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি কিংবা ব্যবহৃত স্টিকারের সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই এসব স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রামু থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানায় ডিএনসি।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।