কক্সবাজার

Cox’s Bazar district

  • কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নবনির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে শহরের শহীদ স্মরণি এলাকার কোরাল রিফের নবনির্মিত পূর্বিতা ভবনে এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন শরীয়তপুরের আবদুল কাদেরের ছেলে মো: আরমান, বরিশালের শামীম ও ভোলার কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, নারায়ণগঞ্জের রাহাত নামে এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে সেখানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ করা হতো। এর আগে ওই ফ্ল্যাট থেকে ২০ লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। রাহাতসহ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ,আর

  • কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী  মৃত্যু

    কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

    কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাবিধুর। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

    নিহত শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. জেয়াদুল কবির এবং মায়ের নাম কাজল রেখা।

  • কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানি বেড়ে ১০

    শনিবার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।

    এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

    স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

    পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে গড়ে উঠেছে বসতি ও স্থাপনা। সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি। দিন-রাতে বিপুল পরিমাণ অংশ একের পার এক দখল করে নিচ্ছে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল। তাদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদানের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

    সংরক্ষিত বনভূমি দখল নিয়ে এ দখলবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকে দখল বেচা—বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেট হাওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সরকারি বিধি নিষেধের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পাকা ঘর- বাড়ি ও খামার বাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি।

    স্থানীয়রা জানায়, ডুলাহাজারা বনবিটের পশ্চিম পাশে বিটের লাগোয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সংরক্ষিত এ বনভূমি দিবারাত্রি দখল বাজ এ সিন্ডিকেট দখল করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে করে সংরক্ষিত বনের অনেক পুরানো মাদার ট্রি গর্জন সহ সামাজিক নবায়নের মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি দখলদারিত্বে কারণে সংকোচিত হয়ে আসছে সংরক্ষিত বনভূমি এবং হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

    সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল। গত এক মাস ধরে এসব বনভূমি দখল নিয়ে অবৈধ বসতি, মুরগির খামার ঘরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

    স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলে হবে না, উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ-সব চিহ্নিত দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের বন কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতার সুযোগে এ প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট সংরক্ষিত বনভূমি একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

    ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দখল বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা করে আসছি এবং প্রতিবাদ করছি কিন্তু দখলবাজ চক্রকর্তৃক প্রাণে হত্যার হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।’

    চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিকরা বলেন, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

    চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ‘ডুলাহাজারা বনবিটের ওই জায়গায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা, মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়।’অভিযানের পর জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ,আর

  • ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    ১০ কেজি সারের জন্য ৬ ঘণ্টার অপেক্ষা, কৃষকের ক্ষোভ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাত্র ১০ কেজি সার পেতে সকাল থেকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে কৃষকদের। টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

    কারো জমি পাঁচ কানি, কারো সাত কানি, আবার কারো আমন ধানের আবাদ ১৪ কানি পর্যন্ত। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ১০ কেজি সার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোর থেকেই সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

    কৃষক নুরুল আলম বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো সার পাইনি। যারা পেয়েছেন, তারা ১০ কেজি করে পেয়েছেন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বলা মুশকিল।

    কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় জমিতে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

    উখিয়া উপজেলা সার ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ কবির বলেন, এই মৌসুমে পুরো উখিয়ায় নয় হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে প্রচুর পরিমাণ পিএফ জায়গাতেও ধান চাষ হয়। সোনারপাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিশাল সুপারি বাগান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করেন। এসব আবাদে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, তার পুরোটা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

    তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সার মিয়ানমারে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, কৃষিজমি, বাগান ও আঙিনার চাষাবাদসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি চাহিদা এবং সার পাচারের অভিযোগ, সব মিলিয়ে উখিয়ায় বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার। তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষকরা ডিলারদের দোকান থেকে সার নিচ্ছেন। সার সঙ্কট নিরসনে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের মধ্যে যারা একেবারেই সার পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেয়া হবে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

    কৃষকদের প্রশ্ন, আমন ধানের মৌসুমে যেখানে সময়মতো সার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ১০ কেজি সার পেতেই যদি ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে বড় আকারের আবাদ করা কৃষকের প্রয়োজন মিটবে কিভাবে?

    উখিয়ার কৃষকদের দাবি, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বরাদ্দের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সার পাচার ও অবৈধ মজুতের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ,আর

  • বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    মাঠে বীজ বুনে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন দিশেহারা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত কৃষক। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের বীজধান কিনে ৪৫ থেকে ৫০ কানি জমিতে চাষ করার পর এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, ধান রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই গাছে ছড়া দেখা দিয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ধানের গোছা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। অনেক গাছের পাতা ও কাণ্ড লালচে হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন তো দূরের কথা, শেষ পর্যন্ত খড়ও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাইশারী ইউনিয়নের যৌথখামার এলাকার বিভিন্ন ধানখেত এবং পাশের কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের ধান চাষ করা কয়েকটি জমিতে অস্বাভাবিকভাবে ছোট অবস্থায়ই গাছে ছড়া এসেছে। অনেক গাছের গোছা স্বাভাবিক আকার ধারণ করেনি। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ও কাণ্ডে লালচে ভাব দেখা গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. আনিসুর রহমান, অলি আহমদ, আকবর আহমদ, আব্দুল জব্বার, আবু তাহের, মো. ইউসুফ, মোতালেব, ওবায়দুর রহমান, মো. হেলাল উদ্দিন, আব্দুল হাকিম ও হামিদুল হকসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন।কৃষকেরা জানান, বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডুর দোকান থেকে উন্নত ও উফশী জাতের বীজধান হিসেবে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ কিনে জমিতে রোপণ করেন তারা। বীজ বিক্রির সময় যে পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

    কৃষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের বীজ মনে করেই টাকা দিয়ে বীজ কিনেছি। ধারদেনা করে জমিতে চাষ করেছি। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে এসেছে। এখন ফলন পাব কি না জানি না। আমাদের সব টাকা-পয়সা পানিতে গেছে।’

    মো. অলি আহমদ ও মো. আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতি কানি জমিতে তাদের প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। ফলন না হলে ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

    তাদের ভাষায়, ‘আমরা কৃষক। ধার করে চাষ করি, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করি এবং সংসার চালাই। এবার যদি ধানই না হয়, তাহলে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে?’

    কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডু বলেন, তিনি কৃষকদের কাছে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ ধানের বীজের প্যাকেট বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বেশির ভাগ কৃষকের ধান ভালো হয়েছে বলে আমি জেনেছি। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন কৃষকের ধান খারাপ হয়েছে বলে শুনেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। কোম্পানির প্রতিনিধি এসে সরেজমিনে জমি দেখেও গেছেন। তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    অভিযোগের বিষয়ে সোনালী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। কৃষকেরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেননি বলেই এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। যারা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেছেন, তাদের ধান এখন পর্যন্ত ভালো আছে।’

    তিনি দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সার, কীটনাশক ও উন্নতমানের স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি অংশ সেসব পরামর্শ মানছেন না।মো. শোয়াইব বলেন, ‘তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি দেখছি।’

    তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তারা বীজ বিক্রেতা ও কোম্পানির দেওয়া নির্দেশনা মেনেই চাষাবাদ করেছেন। এরপরও রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে ধানগাছে ছড়া আসায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

    সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাইশারী ব্লকের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।’

    নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, ‘রঞ্জিত পাইজাম নামে যে বীজধানের কথা বলা হচ্ছে, এ নাম আমি আগে শুনিনি। ওই বীজধানের চাষ ভালো হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে বলেছি। পাশাপাশি বীজধানের প্রতিনিধিকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।’

    কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বীজের গুণগত মান পরীক্ষা ও কৃষি বিভাগের কারিগরি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের বা অনুপযোগী বীজের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে কোম্পানির প্রতিনিধি দাবি করছেন, কৃষকেরা কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী চাষ না করায় এ সমস্যা হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে ছড়া আসার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

  • পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নেতাকর্মীর উপস্থিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীরা ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ এলাকায়।

    শনিবার বিকেলে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার ঝাউবাগানে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। ফুলের ডেইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পিকনিকটির আয়োজন করেন হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল। এতে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভে ওঠেন। সেখানে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন।

    ওই সময় সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

    তবে মিছিল দেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হাসান সিদ্দিকী।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আসার পর তারা অন্য জায়গায় সরে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে। আমি তখন সেখানে ছিলাম না।’

    হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘মূলত আমি প্রধান অতিথি ছিলাম না। হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিয়ে গেছেন। এটি তার এলাকার পিকনিক।’

    এ বিষয়ে আয়োজক বিএনপি নেতা নুরুল আজিম সোহেল বলেন, ‘হাসান ভাই (অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী) টেকনাফ থেকে আসার সময় আমরা তাকে সেখানে নামিয়েছি। আমি ও হাসান ভাই চলে আসার পর হয়তো এক-দুটি গাড়ির লোকজন এসব স্লোগান দিয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পিকনিকটা আমার নিজের এলাকার। আমিও এলাকার মানুষ, দল (বিএনপি) করি। এমন পরিস্থিতির কারণে দায় এড়াতে পারি না।’

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পিকনিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত শত শত নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পিকনিক শেষে মেরিন ড্রাইভে স্লোগানেও অংশ নিয়েছেন।

  • মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মহেশখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো: ফয়সাল (২৬) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে চোর সন্দেহে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালেও কয়েক দফা পেটানোর পর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে একদল কিশোর ফয়সালকে ইট দিয়ে পেটাচ্ছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

    বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, এভাবে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    চকরিয়ায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী এলাকার দুর্গম এলাকায় চকরিয়া থানার পুলিশের অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই নারীসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৪ আগস্ট) চকরিয়া থানার পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রাজিব উরপে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দীন( ৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগার রানা ওরফে শুটার সাগার (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর রানু (৫৫)।

    থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতামুহুরি উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকার এক বসত বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালাতে গেলে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে। তাদের শিকার উক্তি মোতাবেক পুকুর জলাশয় ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

    গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

  • পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ইয়াবার আড়ৎ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করেছে সংস্থাটি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

    আটকরা হলেন- আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান- পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।

    আমির আলী আরও জানান- পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান- অভিযানে প্রাথমিক ভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামী করা হবে।

  • নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির যৌথ আভিযানিক দল নাফ নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কুলালপাড়া গ্রামের মরহুম কবির আহম্মেদের ছেলে জামাল হোসেন (৩৮), নোয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো: এমরান (২৫) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো: ইসমাইল (২৪)।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পার হয়ে সাবরাং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্যে বিজিবির আভিযানিক দল বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। সাড়ে ৪টার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিয়ানমার সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবির নৌ-টহলদল থামার সংকেত দেয়।

    তবে পাচারকারীরা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলে নৌকাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    পরবর্তীতে আটক পাচারকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ-সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় প্লাস্টিকের বস্তাটি উদ্ধার করা হয়। বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, নৌ-টহল এবং সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।’

  • মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কক্সবাজাররের মহেশখালীর ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশের অভিযানে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

    আজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে থানা মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট মো: অহিদুর রহমান এ তথ্য জানান

    আটকরা হলেন— পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরের হরিনখাইন দীঘির পাড় এলাকার মোতাহের হোসেনের চেলে মো: রুবেল মিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ছোটমহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকার পরলোকগত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে।

    পিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সুলতান এবং ওসি (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীলের নেতৃত্বে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে একটি সিএনজিচালিত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগের ভিতর থেকে আটটি অস্ত্র উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এসময় অস্ত্র চালানের সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেন তারা। উদ্ধার ও জব্দকৃত অস্ত্রগুলো হল— দেশীয় তৈরী রাইফেল দুইটি, দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক পাঁচটি ও এলজি একটি।

    ওসি জানান, গত ২১ আগস্ট উপজেলার শাপলাপুর মিঠাছড়ি এলাকার গহীন পাহাড়ের ভিতরে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ একজনকে আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে অস্ত্র উদ্ধারে মহেশখালী বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে ঠাকুরতলা মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

    ওসি আরো জানান, এই অস্ত্র উদ্ধার এবং চালানের সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অনেকদিন যাবত বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছিল। অপরাধীরা পুলিশের গতিবিধি টের পেয়ে সটকে পড়েন। অনেকদিন চোর-পুলিশ চোর-পুলিশ খেলা চলছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই হলো অপরাধীদের।

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএসের স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকারে করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    কক্সবাজারের রামুতে অভিযান চালিয়ে গাড়ি থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবক ও দুই তরুণীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

    বুধবার সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রাবার বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মরহুম শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সিমা ইসলাম এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার উর্মি আক্তার উষা (১৯)।

    ডিএনসি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু রাবার বাগান এলাকায় একটি বিশেষ টিম অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার থামানোর সঙ্কেত দেয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর এর উইন্ডশিল্ডে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ ও ‘মিরপুর ডিওএইচএস’-এর স্টিকার দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিত বলে দাবি করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে ডিএনসি কর্মকর্তারা গাড়িটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্কচটেপ ও টিস্যু পেপারে মোড়ানো তিনটি পোটলা থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, চারটি স্মার্টফোন এবং গাড়ির বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি কিংবা ব্যবহৃত স্টিকারের সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই এসব স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রামু থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানায় ডিএনসি।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    পাহাড় ধ্বসে ক্যাম্পে একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ৯

    টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে এক রাতেই পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

    আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জেলার পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে কাজ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বারের স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর তা টানা ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। গভীর রাতে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে।

    সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মধ্যরাতে পাহাড়ের ঢাল ধসে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটিচাপা পড়েন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) মারা যায়। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ধসের পর আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একই রাতে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত আরও দুজনকে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এদিকে আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। এতে আলী আকবর, তার স্ত্রী ও ছেলে মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘রাতের সব ঘটনাই খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দল উদ্ধারকাজে নামে। রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইনচার্জ মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণে ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঢাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    দুর্ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিবছর ক্যাম্পে পাহাড়ধস হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হয়। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছিলাম। এখানে মৃত্যু হলেও কিছু করার নেই। সবকিছু আল্লাহর হাতে। নিজের দেশে ফিরে মৃত্যু হলেও অন্তত সেই কষ্টটা থাকত না।’

    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

  • শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কবর জিয়ারতের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জুলাই (২০২৪) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক চুতর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম শহীদ হন। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

    ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। ৫ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিলো দ্বিতীয়।

  • কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

    ডেস্ক নি উজ:

    কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ, মোহাম্মদ তারেক। তারা একই উপজেলার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে তারা।

    পরে গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ওই গৃহবধূর ছোট ভাই বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার ভাগ্নিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

  • কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    কুয়াকাটায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

    প্রকৃতির থেকে অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

    মিশ্রিপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    কারিতাস বরিশাল অঞ্চল পরিচালিত ‘প্রয়াস প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের মাঠকর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা ডেপুটি টিম লিডার শফিকুল আলম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিশ্রিপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এবং উপকূলীয় মানব উন্নয়ন সংস্থার (সিকোডা) নির্বাহী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান।

    এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশ বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন কারিতাসের হাসান মাহমুদ।

  • টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযান চালিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বাড়িতে তল্লাশি করে একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, দুটি বুলেট প্রুফ হেলমেট, এক রাউন্ড তাজা গোলা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

    উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।‘

  • আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ও একজন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা।টেকনাফে দায়িত্বরত বিজিবির-২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শনিবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটি ঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিজিবি বলছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের পানিসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের পানিসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। এরপরে জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।

    এ বিষয়ে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মহেশখালী থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফজল কাদের বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসছে বন্য হাতি। এরা কখনো দলবেঁধে আবার কখনো দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

    শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট হয়ে ডুলহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একটি বন্য হাতি। তবে ধানের কোনো ধরনের ক্ষতি করার আগেই হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া, সুরাজপুর, মানিকপুর, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় থেকে বন্য হাতি নেমে আসে। হাতিগুলো পাকা ধান পায়ে পিষ্ট করে ও খেয়ে নষ্ট করে। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

    আবার কৃষকরাও বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ফসলি জমির চারদিকে কাঁটাতারে ঘেরা, বিদ্যুতায়িত করে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে অনেক বন্য হাতিরও মৃত্যু হয়। আবার সেই বিদ্যুতায়িত তারে আটকা পড়ে অনেক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় এক শ্রেণির অবৈধ ব্যবসায়ী বনের গাছপালা কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা বনবিভাগের কর্মীদের সহায়তায় অবাধে বন ধ্বংস করছেন। ফলে বন্য হাতির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। আর এ কারণেই বন্য হাতি বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।

    ডুলাহাজারার স্থানীয় সংবাদকর্মী মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ডুলাহাজারার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট একটি বন্য হাতি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন কৌশলে হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয়। এ সময় হাতিটি এলাকায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি করেনি।

  • আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল ভয়াবহ সেই জলোচ্ছ্বাসে উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি

    আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল ভয়াবহ সেই জলোচ্ছ্বাসে উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি

    আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে ‘৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ইতিহাসের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা লাণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে ‘৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ইতিহাসের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা লাণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সে সময় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গবাদি পশু সহ কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আজও সে দুঃসহ স্মৃতি ও স্বজন হারানোর বেদনা এখনো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলবাসী তাদের স্মরণে মসজিদে দোয়া মাহফিল, খতমে কোরআন সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তাদের স্মরণ করছে স্বজনেরা।

    ইতিহাসের এ ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল। সে সময়ে নর-নারী, শিশুসহ অসংখ্য গবাদী পশু এ দুর্যোগে প্রাণ হারান। মানুষের লাশের সাথে পশুর মৃতদেহ একাকার হয়ে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। এ সময় উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ, চিংড়ীঘের সহ বসতবাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।

    ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রয়লঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মধ্যে রাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে আঘাত আনে। সে সময়ে সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও উপরে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের ঢেউ উঠেছিল।

    আজ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকার স্মৃতি কক্সবাজার জেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। সে দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছর স্বজন হারানোর কান্নার আওয়াজে এখনো ভারী হয়ে উঠে চারদিকের পরিবেশ ।

    কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, হাতিয়া ও কক্সবাজার জেলার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, রামুসহ পুরো উপূলজুড়ে নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়ীবাঁধ গুলো। এ সময় অধিকাংশ বেড়ীবাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। এ উপকূলীয় এলাকা বেড়ীবাঁধগুলো স্থানীয়ভাবে নির্মাণ না করায় এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার ফলে সমন্বয় ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে রামু থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায় বৃহঃস্পতিবার দিবাগত রাতে রামু থানার এসআই অনুপ কুমার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানের সময় রামু থানার চাকমারকুল ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমুরা পূর্বপাড়া এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান (৩৬) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভিং সিটের নিচ থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিয়াউর রহমান (৩৬) চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুরার বাসিন্দা আবদুল হাসিমের ছেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া।

  • টেকনাফে সুখবর পেলেন মহিলাদল নেত্রী

    টেকনাফে সুখবর পেলেন মহিলাদল নেত্রী

    কক্সবাজারের টেকনাফে এক মহিলাদল নেত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া মরজিনা আক্তার সিদ্দিকী কক্সবাজার জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

    সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে মর্জিনা আক্তার সিদ্দিকী বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ আমলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করি, তখন দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করে। সে সময় থেকেই দলের কার্যক্রমের বাহিরে ছিলাম। তবে বেশ কিছুদিন দিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। একপর্যায়ে আমি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুল স্বীকার করলে দল ক্ষমা করে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি বেশ খুশি। এখন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব।

  • চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে গিয়েছেন একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফারুকের পিতা নুরুল কবিরে (৭০) মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে তার চকরিয়ার হারবাংস্থ বাড়িতে যান তিনি।

    গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তার স্ত্রী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সাংসদ এডভোকেট হাসিনা আহমেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে উপস্থিত হন।

    এর আগে এদিন তিনি কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ধানের শীষের পক্ষে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    উল্লেখ্য, সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পিতা নুরুল কবির মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বাদে মাগরিব হারবাং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

  • নতুন শহরের জন্ম হবে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীতে

    নতুন শহরের জন্ম হবে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীতে

    প্রধান উপদেষ্টাকে মিডা

    নতুন শহরের জন্ম হবে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীতে

    সিঙ্গাপুর ও সাংহাইয়ের মতো বন্দরকেন্দ্রিক টাউনশিপে রূপান্তরের পরিকল্পনা।

    প্রকল্প সম্পন্ন হবে তিন ধাপে, ২০২৫ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে।

    প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের।

    বিডিটাইম ডেস্কঃ

    কক্সবাজারের মহেশখালী-মাতারবাড়ীকে সিঙ্গাপুর ও সাংহাইয়ের মতো উন্নত আধুনিক বন্দরকেন্দ্রিক টাউনশিপে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) নামে আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত মিডা মহেশখালী-মাতারবাড়ীর সমন্বিত উন্নয়ন নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) মিডার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মহেশখালী- মাতারবাড়ী প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন দেন। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক আরও উপস্থিত ছিলেন মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক ও মো. সারোয়ার আলম এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না।

    আশিক চৌধুরী তাঁর প্রেজেন্টেশনে মিডার চার মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি তিন ধাপে সম্পন্ন হবে—প্রথম ধাপ ২০২৫ থেকে ২০৩০, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০ থেকে ২০৪৫ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪৫ থেকে ২০৫৫ পর্যন্ত। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে এবং জিডিপিতে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু গভীর সমুদ্রবন্দর নয়, আমাদের একটা ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার ভিশন নিয়ে কাজ করতে হবে। ওই এলাকা শুধু একটা ফ্যাসিলেটিং জোন হিসেবে না, বরং সেখানে একটা নতুন শহরের জন্ম হবে। সেখান থেকে আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে কানেক্টিভিটি তৈরি হবে। সমুদ্রই হবে বিশ্বের পথে আমাদের মহাসড়ক।’

    গভীর সমুদ্র নিয়ে গবেষণার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। মহেশখালী অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলার ওপরেও জোর দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বিশ্বে যাঁরা বিশেষজ্ঞ আছেন, প্রয়োজনে তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সমুদ্র জগতে কখনো প্রবেশ করিনি। ওটা নিয়ে চিন্তাও করিনি। এ বিষয়ে গবেষণা, ফাইন্ডিংস নেই। এ সম্পর্কিত কী কী গবেষণা রয়েছে, অন্য দেশের গবেষণাপত্র, যেটা আমাদের সাথেও মিলবে ভালো, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং নিজস্বভাবে গবেষণা করতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান দরকার। একাডেমিয়া গড়ে তুলতে হবে, ওশান ইকোনমি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স আয়োজন করতে হবে।’

    এর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে ইকো ট্যুরিজম পার্ক করার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সেখানের বনভূমি এখন কী অবস্থায় আছে, ভবিষ্যতে আমরা বনভূমিগুলোকে কী অবস্থায় দেখতে চাই, সেই পরিকল্পনাও করতে হবে।’

    সম্প্রতি আশিক চৌধুরী রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাতারবাড়ী ও মহেশখালীকে নিয়ে মিডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এটাকে টাউনশিপ হিসেবে দেখতে চাই। পৃথিবীর সবচেয়ে সাকসেসফুল ডিপ সি পোর্টসহ টাউনশিপ হচ্ছে সিঙ্গাপুর। আরেকটা পোর্টের কথা প্রায়ই উঠে আসে, সেটা হচ্ছে সাংহাই। মনে করেন, আমরা বাংলাদেশের একটা সিঙ্গাপুর করতে চাই বা বাংলাদেশের ভেতরে একটা সাংহাই পোর্ট করতে চাই।’

    মিডার চেয়ারম্যান বলেন, ‘৩০ বছর পরে আমরা এই মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকাটাকে সিঙ্গাপুর বা সাংহাইয়ের মতো করে দেখতে চাই। এটা কোনো নৌযানের শহর না, এটা একটা স্যাটেলাইট শহর না। এটা হবে শহরতলি, চট্টগ্রামের মতো আরেকটা সম্প্রসারিত শহর; যেটা সংস্কারকৃত এবং নতুন ধরনের।’

    চারটি পিলারের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানান আশিক চৌধুরী। পিলারগুলো হলো—গভীর সমুদ্রবন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা; সুবিধা প্রদান কেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সামুদ্রিক মাছ ধরার কেন্দ্র। এ প্রকল্প ৩টি ধাপে ২০২৫ থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত কাজ করবে বলে জানান তিনি।

    আশিক চৌধুরী বলেন, ‘তিনটা পিরিয়ডে এই প্রকল্পকে ২০২৫ থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত সাজাতে পারেন। প্রথম পাঁচ বছরকে আমরা বলছি বিকাশকাল; এই সময়ে ফাউন্ডেশনের কাজ, সড়ক সংযোগের কাজ করা হবে। এরপরের সময়টা হচ্ছে পরিবেশ উন্নয়নকাল; সেখানে আমরা বন্দর উন্নয়নের কাজগুলো শেষ করব। সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিল্পকারখানা দাঁড়িয়ে যাবে। এটা ২০৪৩-৪৪ সাল পর্যন্ত হবে বলে আমরা আশা করছি। চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা শেষ ১০ বছর একটি পর্যটনের কথা চিন্তা করতে পারি।’

    আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে এমন বহুমাত্রিক প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক কারণে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া (ড্রাফট); বিদ্যুৎ, জ্বালানি, উৎপাদন ও ভারী শিল্প এবং সামুদ্রিক ও মৎস্যশিল্পের জন্য সমন্বিত একটি পরিবেশ গড়ে তোলার উপযোগী নিকটবর্তী ভূমি।

    আশিক চৌধুরী বলেন, এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। জাইকার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে এ প্রকল্পে ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ হতে পারে। সূত্রঃ দৈনিক আজকের পত্রিকা

  • কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা

    কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা

    কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগে মোট আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মোট মৃত্যুর ৯০ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠেছে।

    প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় ৭ হাজার ৭১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭২০ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। আক্রান্তের হার ৭৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ১০ জন রোহিঙ্গা ও একজন স্থানীয় বাংলাদেশি। ফলে মৃত্যু হারে রোহিঙ্গার হার ৯০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদুল হক জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফিল্ড হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহর, রোহিঙ্গা শিবির ও আশপাশের এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক পণ্য, নালা-নর্দমা, খাল-বিল পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ঘনবসতি, বর্জ্য, জমে থাকা আবর্জনা এবং বিভিন্ন নালায় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বাড়াতে সাহায্য করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ তাপমাত্রা মশা এবং অন্যান্য রোগ বহনকারী জীবের প্রজনন ও বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যা মশার উপদ্রব বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার উভয়ই বেশি। সূত্রঃকালবেলা

  • কুতুবদিয়ায় জেলা পরিষদের জায়গায় আ.লীগ নেতার দোকান

    কুতুবদিয়ায় জেলা পরিষদের জায়গায় আ.লীগ নেতার দোকান

    কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় জেলা পরিষদের কোটি টাকা মূল্যের জায়গা জবরদখল করে দোকান নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে কুতবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আহমদ উল্লাহ এবং তার ছেলে আজিজুল হক সাগরের বিরুদ্ধে।

    আ. লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ সরকারি সম্পত্তি জবর দখল করেন তারা। পরে ওই জায়গায় দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। এ কারণে গত ১৮ বছর ধরে ওই সরকারি সম্পত্তি থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারেননি কক্সবাজার জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

    ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ জায়গা জবরদখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও উল্টো জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

    কক্সবাজার জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং মৌজার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বি.এস ৮ নম্বর খতিয়ানের বি.এস ৭১১০,৭২১১,৭২১২ এবং ৭২১৪ দাগাদিতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ৩ একর ৮০ শতক জায়গা রয়েছে। সম্পূর্ণ জায়গা থেকে কিছু অংশ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইজারা দিয়ে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে।

    অধিকাংশ জায়গা গত ১৮ বছর দখলে রেখেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা আ. লীগের সাবেক সভাপতি আহমদ উল্লাহ। বর্তমানে ওই জায়গা দেখাশোনা করছেন তার ছেলে আজিজুল হক সাগর।

    সরজমিনে দেখা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলা থেকে চার কিলোমিটার দূরে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন সড়কের পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গায় টিনসেটের ছয়টি পাকা দেয়ালের দোকান নির্মাণ করেছেন। দোকানগুলো মোটা অংকের সেলামী নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় করেন আহমদ উল্লাহর ছেলে আজিজুল হক সাগর। এছাড়া জবরদখলকৃত জায়গার পেছনে রয়েছে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড় একটি পুকুর। ওই পুকুরটিও তাদের দখল করে রেখেছেন তারা।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি জায়গা ক্ষমতার জোরে জবর দখল করে রেখেছেন উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি আহমদ উল্লাহ এবং তার ছেলে আজিজুল হক সাগর। আ. লীগ সরকার পতনের পর পুকুরটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও তাদের ক্ষমতার প্রভাবে ইজারাদার ওই পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছেন না। ইজারাদারকেও তারা মারধরের হুমকি প্রদান করেন।

    কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ যুগান্তরকে বলেন, জেলা পরিষদের এ জায়গা জবরদখল মুক্ত করতে আমরা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ে জেলা প্রশাসন ও কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ জায়গা উচ্ছেদপূর্বক জবরদখল মুক্ত করা হবে।

    এআর/নিই

  • ‘হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন খুশি হবো’- জুলাই শহীদ ওয়াসিমের পিতা

    ‘হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন খুশি হবো’- জুলাই শহীদ ওয়াসিমের পিতা

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবার।

    শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম সরকারের প্রতি এই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, যেদিন রায় কার্যকর হবে সেদিন আনন্দিত হবেন। শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা বলেন, ‘আমি সকাল থেকে এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে ট্রাইব্যুনাল কাঙ্ক্ষিত রায় দিয়েছে। সকল নাগরিকের মতো আমিও আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওই দিনই খুশি হবো যেদিন এ রায় কার্যকর হবে। আমার ছেলে রাস্তায় নেমেছিল বৈষম্য দূর করতে। সুতরাং এ রায়ে কার্যকর করে বৈষম্য দূর করে।’ তিনি চিহ্নিত সকল খুনি, হামলাকারী এবং যারা নির্দেশ দিয়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

    তিনি বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিমের আত্মা শান্তি পেতে হলে এ বিচারের রায় কার্যকর নিশ্চিত করতে হবে। রায় দিয়ে আমরা কি করবো, রায় যদি রায়ের জায়গায় আদালতে পড়ে থাকে তাহলে হবে না।’

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীদের হামলায় নিহত হন ওয়াসিম। শহীদ ওয়াসিম আকরাম পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকার শফিউল আলম ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন।

    এআর/নিই

  • মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দুটি ট্রলারসহ আটক ২২

    মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দুটি ট্রলারসহ আটক ২২

    সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই ২টি ট্রলারসহ ২২ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী। বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন অংশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নৌবাহিনী।

    নৌবাহিনী জানায়, পাচারকারী চক্র ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারের সিমেন্ট পাচার করছে এমন তথ্য পায় নৌবাহিনী। যার প্রেক্ষিতে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন ও তার আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করে। এ সময় নৌবাহিনী টহলে নিয়োজিত জাহাজ প্রত্যাশা সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ মাইল পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিনচালিত দুটি ট্রলার দেখতে পায়। দ্রুত নৌবাহিনীর জাহাজ ট্রলার দুটিকে সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধাওয়া দিয়ে ট্রলার দুটিকে থামানো হয়।

    খাজা গরিব-ই-নেওয়াজ-৬ এবং মা-বাবার দোয়া-১০ নামক ট্রলার দুটি তল্লাশি করে ১ হাজার ৫০০ বস্তা বাংলাদেশি সিমেন্ট জব্দ করা হয়। আর চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ২২ জনকে আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়। সূত্রঃকালবেলা

  • আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার ১০ মাস পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবশেষে রাতযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। আজ সোমবার চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অনুমতি বহাল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রতিদিন সকাল ৭টায় উত্তর নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজগুলো ছেড়ে যাবে। তবে, পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি থাকলেও পর্যটকবাহী জাহাজগুলো একই দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে। সেক্ষেত্রে পর্যটকরা পরেরদিন বেলা ৩টায় ফিরতে পারবেন।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপন করতে পারবেন। তবে, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের যাত্রার জন্য এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।এর আগে, দীর্ঘ ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর গত ১ নভেম্বর সীমিত পরিসরে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু, রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় গত এক মাসে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটিতে যাত্রা করেনি। এছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথও বছর খানেক সময় ধরে বন্ধ ছিল।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই পর্যটনে সহায়তার জন্য পর্যটকদের সহযোগিতা করতে হবে।জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। এছাড়া সেন্টমার্টিনে রাতযাপন করতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকদের কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

  • কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজারের উন্নয়ন কেবল জাতীয় ইস্যু নয়, এটি এখন বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতের অংশ, বঙ্গোপসাগরের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

    কক্সবাজারের পর্যটন, নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো—এই পাঁচ স্তম্ভেই টেকসই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজারের উন্নয়নযাত্রার জোয়ার ভাটা: সমস্যা, সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত তুলে ধরেন।

    কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স (সিসিএডি) এ সংলাপের আয়োজন করে। রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।

    বক্তারা বলেন, কক্সবাজার এখন একটি গ্লোবাল হাব। এটি এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন, নীল অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। কক্সবাজারের উন্নয়ন এখন আর সম্ভাবনার প্রশ্ন নয়; বরং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

    আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার-২ (পেকুয়া-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. সহিদুজ্জামান, কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম, এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক এম এম সুজা উদ্দিন প্রমুখ।

    হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাষ্ট্রকে দেওয়ার মতো কক্সবাজারের অনেক কিছু আছে—অসীম প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্র অর্থনীতি ও সম্ভাবনাময় মানুষ। এই উন্নয়নকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এনে জনগণ ও স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আগামীর কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির মূল কেন্দ্র হবে কক্সবাজার। কক্সবাজারের খনিজ নিয়ে প্রযুক্তিবান্ধব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো শিক্ষকদের সড়ক অবরোধ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো শিক্ষকদের সড়ক অবরোধ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিক্ষা প্রকল্প থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেছে

    সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে সড়কের উখিয়ার কোটবাজার এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।এতে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, বিনা কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়।

    জানাগেছে সকাল ৭টায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার এলাকায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি হারানো স্থানীয় শিক্ষকরা। সড়ক অবরোধ করে দিতে থাকেন স্লোগান, আটকে দেওয়া হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

    চাকরি হারানো স্থানীয় শিক্ষকদের দাবি, অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে তালবাহানা করছে এনজিওগুলো। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন তারা।