চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহ অভিযানে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম এবং জটিল নিয়মকানুনের কারণে কৃষকেরা সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে আগ্রহ দেখাননি। গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে থেকে ৫২ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়।

এবার প্রতি কেজি গমের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

চৌগাছায় এবার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ২৮৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। এত উৎপাদনের পরও সরকারি গুদামে কোনো কৃষক গম বিক্রি করেননি।

কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দরের তুলনায় খোলাবাজারে মণপ্রতি অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকেরা গুদামে গম দিতে আগ্রহী নন।

এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রির ক্ষেত্রে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ রাখার শর্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, খোলাবাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতার গমও ব্যবসায়ীরা কিনছেন।

চাষিদের অভিযোগ, গুদামে গম নিতে গেলে পরিবহন, কুলি ও পরিমাপ বাবদ মণপ্রতি আরও ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। এসব কারণে লোকসান ও ঝামেলা এড়াতে তারা খোলাবাজারেই গম বিক্রি করছেন।

রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গমচাষি লাবলু রহমান বলেন, খোলাবাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সরকারি গুদামে বাজারের তুলনায় মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম দেওয়া হলে কৃষকেরা সেখানে গম বিক্রি করতেন।

খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা কম। এ কারণে কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।

উপজেলা গম, ধান ও চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, বাজারের প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।