বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন আজ

Written by

in

বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যেগুলো সময় পেরিয়ে গেলেও মুছে যায় না। নবাব সিরাজউদ্দৌলা তেমনই এক নাম। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব হিসেবে পরিচিত এই শাসকের জীবন ছিল ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ ও বিয়োগান্ত পরিণতির এক নাটকীয় অধ্যায়। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৭ সালে সিরাজউদ্দৌলার জন্ম বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের নাতি। শৈশব থেকেই দাদার স্নেহে বেড়ে ওঠেন এবং অল্প বয়সেই রাজদরবার ও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলার মসনদে বসেন সিরাজউদ্দৌলা। তখন বাংলা ছিল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল।

ইউরোপীয় বণিকদের পাশাপাশি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও বাংলায় তাদের বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াচ্ছিল। নবাব হিসেবে সিরাজ কোম্পানির বাড়তে থাকা সামরিক শক্তি ও দুর্গ নির্মাণের বিরোধিতা করেন। এতে নবাবের সঙ্গে ইংরেজদের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন।

পরে ইংরেজরা রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে পাল্টা অভিযান চালিয়ে কলকাতা পুনর্দখল করে। এরপর পরিস্থিতি ক্রমেই বড় সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ। নবাবের বাহিনী সংখ্যায় বড় হলেও সেনাপতি মীর জাফরসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন সিরাজউদ্দৌলা।

পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধরা পড়ার পর ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়। মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় নবাবের দায়িত্বে থাকা সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি ছিল অত্যন্ত করুণ। পলাশীর যুদ্ধ শুধু একজন নবাবের পতন নয়; এর মধ্য দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে যায় এবং বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

ইতিহাসে সিরাজউদ্দৌলা তাই শুধু একজন পরাজিত শাসক নন তিনি বাংলার স্বাধীনতার অবসান ও ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনাপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্র।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।