ইউরোপে নিশানায় মুসলিমরা

ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) মুসলিমদের নাগরিক কর্মকাণ্ড ও সম্মিলিত ধর্মীয় চর্চাকে সন্দেহের চোখে দেখার পথ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত দলটির রাজনৈতিক সমাবেশে ‘ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পলিটিক্যাল ইসলামের হস্তক্ষেপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

প্রস্তাবে ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ ও ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে মুসলিম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে বিদেশি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণ এবং কথিত ‘উগ্রপন্থী আন্দোলনে’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার নীতির প্রতিফলন। সেখানে কোনো সহিংস কর্মকাণ্ড না ঘটালেও কথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নাগরিক সমাজে সক্রিয় এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার মুসলিমদেরও সন্দেহের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে।

ইপিপি অবশ্য প্রস্তাবটিকে গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

দলটির প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’-কে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে ধীরে ধীরে ঢুকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিয়েনায় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ইসলাম ম্যাপ’ প্রকল্পে অস্ট্রিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর তথ্য ডিজিটাল মানচিত্রে প্রকাশের নজিরও রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ‘অপারেশন লুক্সর’ অভিযান নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন প্রস্তাবের ফলে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রমও চাপে পড়তে পারে।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।