দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি হাইস্কুলে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত আরও আটজন।
বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট প্যালেনসিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুজনই ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শুক্রবার দুপুরের পর বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।চলতি বছরের জুনের পর ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।’ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তদন্ত চলার সময় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়াতে নিষেধ করেছে তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মেয়র প্যালেনসিয়া জানান, দুপুরের খাবারের সময় বন্ধুদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল হামলাকারী কিশোর। সে বলেছিল, ‘দুপুরের খাবারের পরই আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’
মেয়র বলেন, ‘বন্ধুরা ওই কিশোরের কথা শুনে হেসেছিল। কারণ, সে সব সময়ই সবার সঙ্গে মজা করত।’ ‘খাবার শেষ করেই সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে।’
ঘটনার পর পুরো বাঙ্গা পৌর এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিপাইন রেডক্রস জানায়, স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তারা খবর পায়। এরপরই জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য চারজন প্যারামেডিকসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফিলিপাইনে বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ বেশ নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে ফিলিপাইন শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বন্দুক হামলা খুব বেশি দেখা যায় না। তা সত্ত্বেও গত চার মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী হামলা ঘটল।
এর আগে গত জুনে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে সহপাঠীদের গুলিতে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভ থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
এরপর আগস্টে দক্ষিণ ফিলিপাইনের একটি ক্যাথলিক জুনিয়র হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে তার সহপাঠী। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় হামলাকারী প্রথমে এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

মন্তব্য করুন