বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে এমন একটি অংশ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থাকলেও এখন আর উপেক্ষা করার মতো ছোট নয়। ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ স্ট্রেইটস টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য শ্যাডো ইকোনমি: মালয়েশিয়া ক্যান নো লঙ্গার ইগনোর’-এ মালয়েশিয়ার অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক বা ‘ছায়া অর্থনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

এর একটি কারণ হিসেবে এমন কিছু কাজের প্রতি স্থানীয় কর্মীদের অনাগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোকে সাধারণত ‘ডার্টি, ডেঞ্জারাস অ্যান্ড ডিগ্রেডিং’—অর্থাৎ নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ—হিসেবে দেখা হয়। ফলে এসব খাতে শ্রমের চাহিদা পূরণে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের ছায়া অর্থনীতির বিস্তারের ফলে শ্রমিক সুরক্ষা, কর আদায়, কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কারণ অর্থনীতির একটি অংশ যদি যথাযথভাবে নিবন্ধিত, নিয়ন্ত্রিত ও করব্যবস্থার আওতায় না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

ছায়া অর্থনীতিকে শুধু শ্রমবাজারের একটি পার্শ্ববর্তী সমস্যা হিসেবে না দেখে, এর পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।