দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বৃটেনে জ্যামাইকার প্রতিনিধি দল, দাবি ১০০০ কোটি ডলার

Written by

in

আন্তর্জঅতিক ডেস্ক:

দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে বৃটেনে সফর করছেন জ্যামাইকার একটি প্রতিনিধিদল। আইনি নির্দেশনার জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি পিটিশন জমা দেবেন তারা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তাদের এই সফরে বৃটিশ কমনওয়েলথভুক্ত কোনো রাষ্ট্র হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণমূলক বিচারের জন্য এই আইনি পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছে তারা। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

জ্যামাইকার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শত শত বছর ধরে দাসত্বের শিকার হওয়া আফ্রিকান পূর্বপুরুষদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সফরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সঙ্গে জ্যামাইকা থেকে লুণ্ঠিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়েও আলোচনা করবেন তারা।

পিটিশনে জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লসের কাছে ট্রান্সআটলান্টিক দাস ব্যবসা বিষয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপটির সর্বোচ্চ আপিল আদালতে তিনটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হবে। প্রশ্নগুলো হলো—ইংলিশ সাধারণ আইনে আফ্রিকানদের দাস বানানো বৈধ ছিল কি না, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না এবং দাসপ্রথার কারণে হওয়া ক্ষতির প্রতিকার করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বৃটেনের রয়েছে কি না।

এদিকে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজার সাংবিধানিক ভূমিকা থাকলেও এই দাবির মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার তার নেই। উল্লেখ্য, ১৭ শতক থেকে ১৯ শতকের শুরু পর্যন্ত ব্রিটিশ বণিকরা ৬ থেকে ১০ লাখ আফ্রিকানকে জোরপূর্বক জ্যামাইকায় নিয়ে দাস হিসেবে আটকে রাখে। ১৮৩৩ সালে দাসপ্রথা বাতিলের পর বৃটেন উল্টো দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। জ্যামাইকা সরকারের হিসাব অনুযায়ী তাদের প্রায় এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার পাওনা রয়েছে। তবে বৃটেন বারবার এই ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।