Uncategorized

  • আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্থার শিকার সাংবাদিক

    আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্থার শিকার সাংবাদিক

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এই হেনস্থার শিকার হন। এ ঘটনা জানাজানি হলে সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান এবং আইনজীবী সমিতির সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।

    জানা গেছে, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন অপু হেনস্থার শিকার হন। আন্দোলনরত নবীন আইনজীবীদের একজন তার হাত থেকে ক্যামেরা এবং বুম (মাইক্রোফোন) কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন।

    ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন জানান, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন আইনজীবী ধাক্কাধাক্কি করেন। ভিডিও করার সময় হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই তার হাত থেকে ক্যামেরা ও বুম কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এ ঘটনায় আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি।

    এদিকে আন্দোলনরত নবীন আইনজীবীরা জানান, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ এবং বাকি ৬৩ জনকে ভোটাধিকারহীন ‘সহযোগী সদস্য’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সাথে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সী আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা কখনও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন। বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন।

    নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি জানান, আগে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে বয়সভেদে তা ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সী আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার দাবি না করেন। এটা নবীন আইনজীবীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, এটা মানার মতো নয়। একারণে আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাব।

    রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, নবীন আইনজীবীদের বিষয়গুলো নিয়ে সমিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে। সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার বিষয়টি নিয়েও তাদের সাথে কথা বলা হবে। যদিও এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে এর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সবার হয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।

    এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক বলেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় সাংবাদিক আলমগীর হোসেনকে হেনস্থা করার ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন আচরণ কারো কাছ থেকে আশা করি না। এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকেও জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    দৈনিক দাবানল এর সম্পাদক খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু বলেন, সাংবাদিকের পেশাগত কাজে বাধা এবং ক্যামেরা-বুম কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আইনজীবীদের কাছ থেকে এমন আচরণ সত্যি কষ্টকর। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

  • ভয়াবহ বন্যার ক্ষতিপূরণে ২ কোটি ডলার চায় নেপাল

    ভয়াবহ বন্যার ক্ষতিপূরণে ২ কোটি ডলার চায় নেপাল

    হিমালয় থেকে নেমে আসা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি। টানা ১২ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চললেও তাঁদের বেঁচে থাকার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জাতিসংঘের কাছে ২ কোটি ডলার চেয়েছে নেপাল। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণকারী দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

    ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ৮ সেপ্টেম্বর এ খবর জানিয়েছে। পত্রিকাটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল বলেছেন, বিপর্যয়ের পর নেপালকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি। তাঁর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনে নেপালের অবদান খুবই সামান্য, অথচ এর ভয়াবহ পরিণতি তাদেরই বেশি ভোগ করতে হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জলবায়ু সংকট এবারের বন্যায় ভূমিকা রেখেছে। আগস্টের শেষ দিকে চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বত ও নেপালের মধ্য দিয়ে একটি হিমবাহ গলে আংশিক ধসে পড়ে। এরপর ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে।

    নেপাল বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.১ শতাংশেরও কম অবদান রাখে। বিপরীতে প্রতিবেশী ভারত ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের ওপর বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে নেপালের পাহাড়গুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। খানাল বলেন, এবারের বিপর্যয় বর্ষাকালের নিয়মিত বন্যার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি পরিস্থিতিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল হিমালয় থেকে সুনামি ধেয়ে আসছে।’ কোথাও ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে এসেছে। মুছে গেছে শহর, গ্রাম ও মহাসড়ক; এখনো কিছু কিছু এলাকা বিচ্ছিন্ন।

    নেপালের অর্থ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাতিসংঘের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলে ২ কোটি ডলার চেয়ে চিঠি দিয়েছে। ২০২২ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় তহবিলটি গঠিত হয়। তবে খানাল স্বীকার করেছেন, এই অর্থ ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ‘স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়’। বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতি ৫০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। পুনর্নির্মাণ করতে হতে পারে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি ও প্রধান মহাসড়ক। নদীর ঝুঁকিপূর্ণ তীরের কিছু গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে; সেগুলো নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে হতে পারে। খানাল প্রথমে ভারত ও চীনের দিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো একটি দেশকে দায়ী করার বিষয় নয়; আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

    জাতিসংঘের তহবিলটিও বড় অর্থসংকটে রয়েছে। প্রায় ১১৯টি দেশ মোট ২৮০ কোটি ডলারের আবেদন করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পর্যন্ত দিয়েছে মাত্র প্রায় ৪০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

    জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকারকারীদের প্রসঙ্গে খানালের মন্তব্যও বেশ কড়া, ‘পৃথিবী গোল—এটাও যারা অস্বীকার করেন, এমন মানুষও আছেন।’ তিনি বলেন, নেপালের এই দাবি শুধু ক্ষতিপূরণের জন্য নয়; বিশ্বের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এটি একটি ‘জেগে ওঠার ডাক’।

  • হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন বোর্ড গঠন

    হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন বোর্ড গঠন

    হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বোর্ডগুলো গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী পদাধিকারবলে তিনটি ট্রাস্টেরই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডে নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্না সিকদারকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং তপন চন্দ্র মজুমদারকে সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া জয়দেব রায় জয়, দুলাল বিশ্বাস, বিপ্লব কুমার দে, রাজীব ধর তমালসহ ২০ জনকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আন্না মিন্জ ও মাধবী মার্মা। বোর্ডে সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন জন গমেজ। এ ছাড়া পিউস কস্তা, কুইনটেন রিবেরো ও রীতা রোজলীন কস্তাসহ সাতজনকে সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাচিং প্রু ও দীপেন দেওয়ান এবং সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াকে মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, মাসাথোয়াই মারমা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরীসহ সাতজন এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনটি ট্রাস্টেই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদাধিকারবলে নিযুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া মনোনীত ট্রাস্টিদের মেয়াদ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে তিন বছর।তবে নতুন ট্রাস্টি মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সরকার চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো ট্রাস্টি পরিবর্তন বা পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে।

    এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে গঠিত তিনটি ট্রাস্টের পূর্ববর্তী বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও মনোনীত সব সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে এই নতুন বোর্ডগুলো পুনর্গঠন করা হলো।

  • নারী সরিয়ে পুরুষ: বিক্ষোভে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

    নারী সরিয়ে পুরুষ: বিক্ষোভে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

    দায়িত্ব পালনের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার অভিযোগে বিক্ষোভের মুখে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সোমবার কর্মীরা বিক্ষোভ করলে দর্শনীয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    শনিবার একটি হিন্দুধর্মীয় প্রতিনিধিদলের ব্যক্তিগত সফরের সময় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আইফেল টাওয়ারের ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা।

    তাদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি টাওয়ার পরিদর্শনে যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের তাদের দায়িত্বস্থল ছেড়ে আড়ালে চলে যেতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়।

    ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রতিনিধিদলটি যাওয়ার সময় নারীদের তাদের কর্মস্থল ছাড়তে বলা হয়েছিল, যাতে পুরুষরা তাদের জায়গা নিতে পারে।’

    ঘটনাটি নিয়ে পরের দুই দিন কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সোমবার তারা বিক্ষোভ করেন। এর জেরে সাময়িকভাবে আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ফ্রান্সের রাজনীতিকদেরও সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

    বিএপিএসের (বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা) প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সফরকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

    আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের অনুরোধে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এ ধরনের শর্ত কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত হয়নি। ঘটনার তদন্তের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

    এ ঘটনায় কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

    ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেছেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের খুশি করতে নারী কর্মীদের সরে দাঁড়াতে বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের পূর্ণাঙ্গ অংশ। তাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা যায় না।

    ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন রোববার প্যারিসের কাছে ফ্রান্সে বিএপিএসের প্রথম বৃহৎ হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন।

  • সুড়ঙ্গেই বেঁচে থাকার আশা, নেপালে ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মীর সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    সুড়ঙ্গেই বেঁচে থাকার আশা, নেপালে ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মীর সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ১৩ দিন পরও নিখোঁজ ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মীর সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁদের মধ্যে ১২১ জন বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে রাশুয়া জেলার ক্ষতিগ্রস্ত চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়জনও রয়েছেন। তাঁদের চারজন এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত আইনপ্রণেতা শ্রী রাম নেউপানে। তিনি বলেন, চিলিমে প্রকল্পে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজের কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা মনে করছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে কেউ কেউ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন। কারণ এসব সুড়ঙ্গে বাতাস জমে থাকার জায়গা রয়েছে। কোথাও কোথাও কর্মীদের থাকার জন্য কক্ষ ও খোলা জায়গাও আছে

    গত কয়েক দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় দুই জলবিদ্যুৎকর্মী। একই দিন মাটিচাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে এক নেপালি নারীকে জীবিত বের করে আনা হয়।

    ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবে নেপাল ও বিদেশে দেশটির সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ১৩তম দিনকে শোক পালনের শেষ দিন হিসেবে ধরা হয়। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহের একটি অংশ ধসে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর নদীতে নেমে এ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের শহর ও গ্রাম ভেসে যায়। নেপাল ও তিব্বতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    জরুরি সহায়তা হিসেবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, বেইলি সেতু, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, সুড়ঙ্গ উদ্ধারের পোশাক ও মহামারি প্রতিরোধের সরঞ্জাম চেয়েছে নেপাল।

  • দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বৃটেনে জ্যামাইকার প্রতিনিধি দল, দাবি ১০০০ কোটি ডলার

    দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বৃটেনে জ্যামাইকার প্রতিনিধি দল, দাবি ১০০০ কোটি ডলার

    আন্তর্জঅতিক ডেস্ক:

    দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে বৃটেনে সফর করছেন জ্যামাইকার একটি প্রতিনিধিদল। আইনি নির্দেশনার জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি পিটিশন জমা দেবেন তারা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তাদের এই সফরে বৃটিশ কমনওয়েলথভুক্ত কোনো রাষ্ট্র হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণমূলক বিচারের জন্য এই আইনি পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছে তারা। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

    জ্যামাইকার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শত শত বছর ধরে দাসত্বের শিকার হওয়া আফ্রিকান পূর্বপুরুষদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সফরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সঙ্গে জ্যামাইকা থেকে লুণ্ঠিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়েও আলোচনা করবেন তারা।

    পিটিশনে জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লসের কাছে ট্রান্সআটলান্টিক দাস ব্যবসা বিষয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপটির সর্বোচ্চ আপিল আদালতে তিনটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হবে। প্রশ্নগুলো হলো—ইংলিশ সাধারণ আইনে আফ্রিকানদের দাস বানানো বৈধ ছিল কি না, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না এবং দাসপ্রথার কারণে হওয়া ক্ষতির প্রতিকার করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বৃটেনের রয়েছে কি না।

    এদিকে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজার সাংবিধানিক ভূমিকা থাকলেও এই দাবির মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার তার নেই। উল্লেখ্য, ১৭ শতক থেকে ১৯ শতকের শুরু পর্যন্ত ব্রিটিশ বণিকরা ৬ থেকে ১০ লাখ আফ্রিকানকে জোরপূর্বক জ্যামাইকায় নিয়ে দাস হিসেবে আটকে রাখে। ১৮৩৩ সালে দাসপ্রথা বাতিলের পর বৃটেন উল্টো দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। জ্যামাইকা সরকারের হিসাব অনুযায়ী তাদের প্রায় এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার পাওনা রয়েছে। তবে বৃটেন বারবার এই ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

  • জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির ঐতিহাসিক জয়

    জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির ঐতিহাসিক জয়

    জার্মানির উগ্র ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ক্ষমতা গ্রহণের ‘খুব, খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন দলটির উপ-সংসদীয় নেতা বিয়াট্রিক্স ফন স্টর্চ। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর তিনি বিবিসিকে এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সময় রোববার প্রকাশিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, রাজ্যটিতে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে এএফডি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে দলটি মাত্র তিনটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। এখন সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এএফডি’র সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিরোধীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন ফন স্টর্চ।

    তিনি বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন না যে জনগণের ভোট আমি গ্রহণ করি না।’
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে কোনো উগ্র ডানপন্থী দল এখনো কোনো রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করেনি। রাজ্য পর্যায়ে সরকার গঠন করতে পারলে পুলিশের কার্যক্রম ও স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষমতা পাবে এএফডি।
    ফন স্টর্চ বলেন, অন্য দলগুলো যদি এএফডি’র সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ‘আমরা চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যেতে পারি এবং হয়তো নতুন করে নির্বাচন দিতে হতে পারে।’

    এএফডি’র স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখার নেতা উলরিখ জিগমুন্ডও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার গঠনের জন্য এএফডি ‘স্পষ্ট ম্যান্ডেট’ পেয়েছে।
    স্যাক্সনি-আনহাল্টের জনসংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। রাজ্যটির এএফডি-কে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডানপন্থী উগ্রপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে ৩৫ বছর বয়সী জিগমুন্ড এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করেছেন।
    জিগমুন্ড জানান, রোববার রাত থেকেই অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব আলোচনা শেষ হতে কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহও সময় লাগতে পারে।
    তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আলোচনা করব, এরপর দেখা যাবে কোনো কোনো সংসদীয় দল বা আইনপ্রণেতা আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী কি না।’
    ৮৩ আসনের স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি বর্তমানে ৩৯টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
    ফন স্টর্চ বিবিসিকে জানান, রক্ষণশীল খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গেও এএফডি আলোচনা করছে।

    জার্মানির ক্ষমতাসীন দলগুলোর অন্যতম সিডিইউ স্যাক্সনি-আনহাল্টের বিদায়ী জোট সরকারেও সবচেয়ে বড় দল। ফন স্টর্চের দাবি, সিডিইউ’র ওই আইনপ্রণেতারা ‘নিজেদের দল নিয়ে খুব, খুব অসন্তুষ্ট।’
    প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, স্যাক্সনি-আনহাল্টে সিডিইউ পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

  • ইন্দোনেশিয়া আগুনে পুড়ে ৬ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়া আগুনে পুড়ে ৬ শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া অঞ্চলে একটি বাজারে আগুন লেগে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশুও রয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র হেনরি জে. মানুরুঙ্গ জানান, মধ্য পাপুয়া প্রদেশের পানিয়াই শহরে রোববার মধ্যরাতের কিছু পর আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা বেশ কয়েকটি দোকানঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

    হেনরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা দগ্ধ অবস্থায় ১১ জনের লাশ উদ্ধার করেন। মৃত ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ও ছয়জন শিশু।’

    তিনি জানান, শিশুদের বয়স দুই থেকে নয় বছরের মধ্যে।

    তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে অন্তত ৪০টি দোকান ও বাড়ি পুড়ে যায়।আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    হেনরি বলেন, ‘আগুনের তীব্রতা এবং বাড়ি ও দোকানগুলো খুব ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজে বেশ সময় লেগেছে।’

    এরআগে, গত ডিসেম্বরে মধ্য জাকার্তার একটি সাততলা অফিস ভবনে আগুন লেগে ২২ জন মারা যায়।

    ২০২৩ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় বিস্ফোরণে মারা যায় অন্তত ১২ জন ।

  • ফক্সভাগেন আরও ৫০ হাজার কর্মী কেন ছাঁটাই করবে

    ফক্সভাগেন আরও ৫০ হাজার কর্মী কেন ছাঁটাই করবে

    জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সভাগেনের পরিচালনা পর্ষদ আরও ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ব্যবসা ঘুরে দাঁড় করানোর ব্যাপক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১ লাখ কর্মী কমানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলো।

    ফক্সভাগেন গ্রুপের অধীনে অডি, পোর্শে, স্কোডাসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এই দশকের শেষ নাগাদ ৫০ হাজার কর্মী কমানো হবে।

    গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফক্সভাগেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অলিভার ব্লুম বলেন, এ সিদ্ধান্ত কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘শক্তিশালী বার্তা’। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পুরো কর্মিবাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। গত জুলাইয়ে ব্লুম জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি আরও কর্মী কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    চীনা গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ফক্সভাগেনের মুনাফা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    ফক্সভাগেন জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা উৎপাদিত গাড়ির মডেলের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমাবে। পাশাপাশি গাড়ির মডেল ও বিভিন্ন সংস্করণের জটিলতা ৭৫ শতাংশ কমানো হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চাহিদাসম্পন্ন গাড়িগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে এবং প্রতিটি মডেলের উৎপাদন বাড়াবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

    ফক্সভাগেনের ভাষ্য, বাজারের চাহিদার পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বিশ্বজুড়ে কর্মী কাঠামোয় ‘মৌলিক সমন্বয়’ প্রয়োজন। এ কারণে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদসহ গ্রুপজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার পদ কমাতে হবে।

    এদিকে জার্মানির এমডেন, জুইকাউ, হ্যানোভার ও নেকারজুলমে ফক্সভাগেনের কারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমান চাহিদার তুলনায় বেশি। তাই কারখানাগুলো বিকল্প কী কাজে ব্যবহার করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ফক্সভাগেনের প্রায় ৯০ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন কর্মসূচি। ২০২৫ সালের হিসাবে বিশ্বজুড়ে ফক্সভাগেন গ্রুপে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি কর্মী ছিল। অডি, পোর্শে ও স্কোডা ছাড়াও সিয়াট, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে গ্রুপটির।

    ইউরোপের বৃহত্তম শিল্প ইউনিয়ন আইজি মেটালের সভাপতি ও ফক্সভাগেনের তদারকি পর্ষদের উপপ্রধান ক্রিস্টিয়ানে বেনার বলেন, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভালো সমাধান বের করতে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কঠোর পরিশ্রম করেছে।

    চীনে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফক্সভাগেনের মুনাফা বেশ কমেছে। একসময় চীন ছিল প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় বাজার। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ফক্সভাগেনের গাড়ি বিক্রি কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা গাড়ি আমদানির শুল্ক।

    অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত বাজারে আনার পাশাপাশি তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চীনা গাড়ি নির্মাতারা দ্রুত বিশ্ববাজার দখল করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিওয়াইডির মতো চীনা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

  • অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর বিষয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ

    অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর বিষয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ

    আগামী মাসগুলোতে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা। এই পরিস্থিতি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে। এর প্রভাবে জলবায়ুতে যে পরিবর্তন ঘটবে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো ঝুঁকিও তৈরি হবে।

    এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় রেখায় অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

    সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর এল নিনো ফিরে আসে। এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটে না।

    বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবী ইতোমধ্যে উষ্ণ হয়ে উঠেছে। এল নিনো সেই তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতিগুলোও তীব্র হবে।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, চোখের সামনে এল নিনো বড় ও শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় আমাদেরকেই জিততে হবে।

    অর্থনীতিতে ‘বড় ধাক্কা’
    এল নিনো সাধারণত বছরের শেষ দিকে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। সমুদ্রের অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে পরের বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

    রেকর্ড অনুযায়ী, সবশেষ এল নিনোর পর উষ্ণতম বছর ছিল ২০২৪ সাল। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। খরা ও বন্যার কারণে ইতোমধ্যে বিপর্যয় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। এল নিনো তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব আরও বাড়বে।

    সেলেস্তে সাউলো কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানির মতো জলবায়ু সংবেদনশীল খাতগুলোর বিষয়ে বেশি সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে সময় নষ্টের সুযোগ নেই।

  • দাবানলের মধ্যে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনায় ইন্দোনেশিয়ার শত শত মানুষ

    দাবানলের মধ্যে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনায় ইন্দোনেশিয়ার শত শত মানুষ

    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ইসতিসকার নামাজে, অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন শত শত মানুষ। খরার সময়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে মুসলিমরা এই বিশেষ নামাজ আদায় করেন।

    মূলত, দেশটিতে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। কিছু দাবানল আবার কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বলছে।

    শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে দেশটির হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার কবলে পড়েছেন সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমান্তানের লাখ লাখ মানুষ।

    এই ধোঁয়া প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া এবং আরো উত্তরে ফিলিপাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৮৭, নিখোঁজ ৫০৮৩

    নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৮৭, নিখোঁজ ৫০৮৩

    হিমবাহ ধসে নেপাল ও তিব্বতে সৃষ্টি হওয়া দুর্যোগে মৃত বেড়ে ১ হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জন।

    শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলেছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩।

    এর আগে দেশটির পুলিশ জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৮০। তখন নিখোঁজ ছিলেন ৪ হাজার ৭৯৮ জন।

    নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগের তথ্যের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৭ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২৮৫ জন বেড়েছে।

    উল্লেখ্য, বন্যার ৯ দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে আজ দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে টানেলের ভেতরে আরো অনেকে জীবিত থাকতে পারেন বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

    শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে। বন্যার পর ২৬ আগস্ট থেকে তিনি উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন।

    নেউপানে জানান, শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে।

    তিনি বলেন, টানেলের ভেতরে আরো কয়েকজন থাকতে পারেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।

    এর আগে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার পর উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেও সক্ষম হন।

    কণ্ঠস্বর শোনার পর নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা আরো জোরদার করে।

    নেউপানে বলেন, ‘উদ্ধারকারী দল ভেতরে থাকা লোকজনকে ডাক দিয়ে বলেছিল, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি। এরপের টানেলের ভেতর থেকে জবাব আসে, ঠিক আছে।’

    পরে তিনি জানান, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকা পড়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা।

    নতুন ঝুঁকি

    হিমবাহধসে প্রথম দিনেই দুটি প্রাকৃতিক হ্রদ সৃষ্টি হয়। সেগুলো থেকে পানি উপচে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা ছিলই। যদিও এই হ্রদের একটির পানি গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে অনেকটাই খালি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার গভীর রাতে ড্রোনের মাধ্যমে এক নতুন বিপদ শনাক্ত করে চীন।

    সিসিটিভির খবরে জানানো হয়, ওই দুটি হ্রদের ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটিতে নতুন করে বড় ভূমিধস হয়েছে। এতে আবার প্রাকৃতিকভাবে আরেকটি নতুন বাঁধ ও পানির হ্রদ তৈরি হয়েছে। এই নতুন হ্রদের কারণে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুরক্ষার স্বার্থে গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি থাকা উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেই হিমালয়ের বরফাবৃত অঞ্চলে এ ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ করেছে। একই সঙ্গে চীন ভারী ড্রোন ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর যন্ত্র ব্যবহার করছে।

  • ইউনিসেফের প্রতিবেদন

    ইউনিসেফের প্রতিবেদন

    ইন্টারনেটে বছরে ২ কোটি শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এআই

    এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি পাঁচ শিশুর একজনের বেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এক বছরে অন্তত একধরনের যৌন নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

    জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয়াবহ এ চিত্র উঠে এসেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে ২১টি দেশের প্রায় ২ কোটি শিশু ইন্টারনেটে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আর এসব যৌন নিপীড়নের বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ শিশু অনলাইনে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যৌন বিষয়বস্তু দেখতে পেয়েছে বা সেগুলো তাদের সামনে চলে এসেছে। ৯০ লাখ শিশুকে যৌন কর্মকাণ্ড–সংক্রান্ত আলাপচারিতায় জড়াতে বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি শেয়ার করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই আরও কয়েক কোটি বেশি বলে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইউনিসেফ তাদের এ গবেষণাকে এ ধরনের গবেষণাগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বলে উল্লেখ করেছে। এতে ২১টি দেশে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। জরিপে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর তথ্য নেওয়া হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ নজর

    ইউনিসেফ বলেছে, যৌন নিপীড়নের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘটেছে। এর মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক ছিল প্রধান প্ল্যাটফর্ম। আর ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমিংয়ের ক্ষেত্রে।

    ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার এক মুখপাত্র বলেছেন, জরিপের তথ্যগুলো বেশ পুরোনো—২০২০ সাল থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ইউনিসেফের সুপারিশ করা বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আগের সময় থেকে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট উন্মুক্ত না রাখা এবং যেসব প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে কিশোরদের আগে থেকে যোগাযোগ নেই, তাদের কিশোরদের বার্তা পাঠাতে না দেওয়া।

    মেটা আরও বলেছে, তারা হোয়াটসঅ্যাপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

    ওই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিবেদনটিতে যৌন নিপীড়নের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এরপরও আমরা আমাদের সব অ্যাপে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ঠেকাতে কঠোরভাবে কাজ করে যাব এবং এর পেছনে থাকা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করব।’

    আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট রয়টার্সের কাছে তাদের প্ল্যাটফর্ম সেফটির গ্লোবাল প্রধান জ্যাকলিন বোশেরের একটি ব্লগ পোস্ট করার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে জ্যাকলিন বলেছেন, আগাম শনাক্তকরণ, অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া, ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থার (ফিচার) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে যৌন হয়রানি করে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

    এদিকে টিকটক কর্তৃপক্ষ বলেছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় তারা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু ফিচার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা, ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট উন্মুক্ত না রাখা এবং সম্ভাব্য শিশু যৌন নিপীড়নকারী আচরণ শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা।

    —ক্যাথরিন রাসেল, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক

    ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু যৌন নিপীড়নের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনায় শিশুটি আগে থেকে নিপীড়নকারী ব্যক্তিকে চিনত। তাদের মধ্যে ছিল বন্ধু, আত্মীয় বা প্রেমের সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ শিশু প্রথমবার অনলাইনে অপরাধীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল।

    শিশু যৌন নিপীড়নের এসব ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে পুলিশ, সমাজকর্মী বা কোনো হেল্পলাইনে জানানো হয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    প্রতীকী ছবি।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। যে ৯টি দেশ থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেসব দেশের প্রায় ১১ লাখ শিশু জানিয়েছে, তাদের ছবি ব্যবহার করে এআই দিয়ে যৌনধর্মী ছবি বা ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুরা অন্য শিশুদের তুলনায় আত্মহত্যার চিন্তা বা নিজের শরীরে আঘাত করার কথা প্রায় চার গুণ বেশিবার ভেবেছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া, তাদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রাও অন্য শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এসব অভিজ্ঞতা শিশুদের গভীর মানসিক ও আবেগগত সংকটের মধ্যে ফেলে। অনেক শিশু নীরবে কষ্ট ভোগ করে, সাহায্যের জন্য কোথায় যাবে, তা বুঝতে পারে না।’

    ইউনিসেফ সরকার ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার, এআই-নির্মিত যৌনধর্মী কনটেন্টসহ (আধেয়) যৌন নিপীড়নের পরিবর্তিত ধরনগুলো মোকাবিলায় আইন হালনাগাদ করা এবং শিশু সুরক্ষা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ফিলিপাইনে, ৪২ দশমিক ৫১ শতাংশ।

  • নেপালে বন্যায় টিকে থাকা সবুজ বাড়ি: অলৌকিক, ভাইরাল ও বন্যা-প্রতিরোধী!

    নেপালে বন্যায় টিকে থাকা সবুজ বাড়ি: অলৌকিক, ভাইরাল ও বন্যা-প্রতিরোধী!

    নেপালে বন্যার স্রোতে যখন সবকিছু ভেসে যাচ্ছে তখনও ১৯৯৫ সালে নির্মিত সবুজ রঙের একটি বাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল অক্ষত। বিভিন্নজনের দেয়া বাড়িটির নামের মধ্যে রয়েছে- ‘অলৌকিক বাড়ি’, ‘ভাইরাল বাড়ি’ ও ‘বন্যা-প্রতিরোধী বাড়ি’। এর মালিক ৬৭ বছর বয়সী ছত্র বাহাদুর পিয়াকুরেল নিচতলায় মুদি দোকান চালাতেন।

    পিয়াকুরেল জানান, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছেন। প্রথমে বারান্দা থেকে, পরে পানির স্রোত আরও উঁচু ও ভয়ংকর হয়ে উঠলে বাড়ির ছাদে উঠে পরিস্থিতি দেখেন। পরে পানি কিছুটা কমলে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করতে আসেন। ধাতব পাইপ ব্যবহার করে অস্থায়ী সিঁড়ি বানিয়ে তাদের ওই বাড়ি থেকে বের করা হয়।

    নুয়াকোটের ধুঙ্গে বাজারে ত্রিশূলী নদী তীরের সবুজ রঙের বাড়িটি ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে টিকে গেছে। অনেকেই ভিড় করেছেন সবুজ বাড়িটি দেখতে। বিস্ময় নিয়ে সেলফি তুলছেন কেউ কেউ। বাড়িটির স্তম্ভগুলো পাথরের অনেক গভীরে গেঁথে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পিয়াকুরেল।

  • কোম্পানি নিবন্ধনে আসছে ‘ইবিআরএস’, কয়েক ঘণ্টায় মিলবে নিবন্ধন

    কোম্পানি নিবন্ধনে আসছে ‘ইবিআরএস’, কয়েক ঘণ্টায় মিলবে নিবন্ধন

    কোম্পানি নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক নির্ভরতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (ইবিআরএস)।

    নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাই সাপেক্ষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় নতুন ব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য গ্রাহককে আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি অটোমেটেড করা হবে।

    নতুন EBRS ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা যেকোনো সময় অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত ও জালিয়াতি প্রতিরোধে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ই-টিন (ETIN) এবং মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইমে প্রাক-যাচাইয়ের (Pre-verification) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ফলে আবেদনে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

    কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংঘস্মারক (MOA) ও সংঘবিধির (AOA) ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের জন্য তিনটি বিকল্প রাখা হচ্ছে। এগুলো হলো—স্ট্যান্ডার্ড ‘মডেল MOA ও AOA’, ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব ধারা সংযোজনের সুযোগসহ ‘কাস্টমাইজড MOA ও AOA’ এবং পূর্বানুমোদিত মানসম্মত ‘প্রি-অ্যাপ্রুভড MOA ও AOA’। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিশেষ করে মডেল ও প্রি-অ্যাপ্রুভড ডকুমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে যাচাই ও অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

    EBRS-এর কারিগরি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও মান নিশ্চিতে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল সফটওয়্যার উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

    ইতোমধ্যে সফটওয়্যারটির নিবন্ধন মডিউলের ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (UAT) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের সঙ্গে EBRS-এর ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে। ভোটার ও এনআইডি তথ্য যাচাইয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC), উদ্যোক্তার মোবাইল সিম যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এবং তথ্যের ক্লাউড নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (BDCCL) সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড (DSI) আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর সম্পন্ন করবে। প্রথম ছয় মাস কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধনের লক্ষ্য

    শতভাগ স্বয়ংক্রিয় নাম ছাড়পত্র বা ‘অটো নেম ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা আরো নির্ভুল করতে ব্যাক-এন্ড অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কারণে পুরো অটোমেশন চালুর অপেক্ষায় উদ্যোক্তাদের সেবা যেন আটকে না থাকে, সেজন্য অন্তর্বর্তী কৌশল নিয়েছে আরজেএসসি।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ছয় মাস আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে নাম ছাড়পত্র পুনঃযাচাই করবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে মডেল MOA ও AOA ব্যবহারে উৎসাহ সৃষ্টি এবং অটো নেম ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আপডেট চলবে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানি গঠনে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে। সরকারি দপ্তরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি আবেদনের বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ায় সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।

    বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। সরকার মনে করছে, আরজেএসসির এ ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ও যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এর নিবন্ধক (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • নেপালে সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ জন, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

    নেপালে সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ জন, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

    ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।

    নেপালি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ৯৩৩ জন নিখোঁজ ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
    উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটি কাটার ভারী যন্ত্র দিয়ে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট বলেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে। সুড়ঙ্গগুলো খুলে উদ্ধার অভিযান চালাতে এটিই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    সাধারণত গাইড হিসেবে কাজ করা আশিষ গুরুংও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ান’কে বলেন, চারদিকে শুধু কাদা। সুড়ঙ্গের ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। কাদা এত গভীর যে চলাচল করা অত্যন্ত কঠিন।
    রোববার তার দল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।
    গুরুং জানান, পর্বতারোহীরা কাদার গভীরতা বোঝার জন্য কাঠের তক্তা ব্যবহার করেন। পরে সেগুলো দিয়েই অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, কাদার মধ্যে হাঁটা খুবই কঠিন। একপর্যায়ে কাদা আমাদের বুক পর্যন্ত উঠে এসেছিল। আমরা প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে যেতে পেরেছিলাম। আরও ভেতরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সেখানে শুধু মরদেহই পড়ে আছে।
    ওই জলবিদ্যুৎ কোম্পানিটি উদ্ধারকারী দলকে প্রকল্পের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেই মানচিত্র দেখে উদ্ধারকারীদের ধারণা হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের অবকাঠামোর কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ হয়তো বেঁচে থাকতে পারেন।

    গুরুং বলেন, ভেতরে একটি নিরাপদ এলাকা রয়েছে। সেখানে থাকা কয়েকজন হয়তো এখনো জীবিত থাকতে পারেন। আমি আশা করছি, তারা বেঁচে আছেন।
    গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে এখন ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০০।
    হিমালয় অঞ্চলজুড়ে পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে আসা শত শত মরদেহ সমতল এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহের বেশিরভাগ পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
    রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে “নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা এখনও অত্যন্ত কঠিন।
    রোববার রাতে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূখণ্ড এবং চলমান ঝুঁকি সত্ত্বেও নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
    নেপাল জানিয়েছে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে তাদের বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সহযোগিতা নিচ্ছে দেশটি।

  • গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে কমছে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন

    গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে কমছে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন

    এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটের কারণে রড, সিমেন্ট, সিরামিক টাইলস ও ইট, কাচসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কিছু কোম্পানি বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।

    নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে নির্মাণ খাতের ব্যবসায় একধরনের মন্দা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস–বিদ্যুতের তীব্র সংকট। এতে অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। কিছু কারখানার উৎপাদন বন্ধও রাখতে হয়েছে। সংকট দীর্ঘ হওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

    গত ২১ জুলাই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নিয়োজিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল অগ্নিদুর্ঘটনায় বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকে দেশের শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। মাঝে গ্যাস–সংকটে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট আংশিকভাবে ও সামিট পুরোদমে চালু হয়। তবে সংকট পুরোপুরি কাটার আগেই আবার পরিস্থিতি খারাপ হয়। কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার বন্ধ হয়। তিন দিন বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট টার্মিনালটি চালু হয়। তার পর থেকে কিছু এলাকার শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।

    জানা যায়, গ্যাস–সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টাইলস ও কাচশিল্প। তারপরেই রয়েছে রড ও সিমেন্ট। অন্যান্য নির্মাণ খাতেও কমবেশি প্রভাব পড়েছে মূলত লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণে।

    বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) হিসাবে, দেশে ইস্পাত খাতে স্বয়ংক্রিয় কারখানা প্রায় ৪০টি। তার মধ্যে বড় ৪-৫টি। কারখানাগুলোয় বছরে এক কোটি টনের বেশি রড উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। যদিও বার্ষিক চাহিদা ৬৫ থেকে ৭৫ লাখ টন। ফলে কারখানাগুলোর সক্ষমতার একটা অংশই এখনো অব্যবহৃত।

    ঢাকার কোনাপাড়া এলাকার শাহরিয়ার স্টিল মিলসে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টন রড উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। তবে গ্যাস–সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নেমে গেছে।

    জানতে চাইলে শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম গত শুক্রবার বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই বছর ধরে সরকারি উন্নয়ন কাজ থেমে যাওয়ায় রডের চাহিদা অর্ধেকে নেমেছিল। পরে সেটি আরও কমে যায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটের পর শুল্ক–কর পরিবর্তন করায় রডের দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে বিক্রি কমে যাওয়ায় মালিকেরা দাম বাড়াননি। সামনে নির্মাণের মৌসুম আসছে। তখন চাহিদা কিছুটা বাড়বে। তার আগে কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না হলে দাম বাড়তে পারে।

    দেশের সিরামিক কারখানাগুলো গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ভোলায় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ভোলা ও হবিগঞ্জের ৭–৮টি ছাড়া অন্য এলাকার কমবেশি সব সিরামিক কারখানা গ্যাস–সংকটে ভুগছে।

    আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, জ্বালানিসংকটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানির চাপ কমে গেলে তখন পণ্যের মান ধরে রাখা কঠিন হয়। উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় থাকা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

    গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত মীর সিরামিকসের কারখানার ৪টির মধ্যে ৩টি ইউনিটের উৎপাদন ১৭ দিন বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে একটি ইউনিট চালু হয়েছে। কারখানাটিতে দিনে তিন লাখ বর্গফুট টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

    জানতে চাইলে মীর সিরামিকসের কারখানার কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান গত রোববার বলেন, গ্যাসের যে চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে একটির বেশি ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। এতে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী টাইলস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাতে তিনি জানালেন, ‘গ্যাসের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আরেকটি ইউনিট চালু করেছি। এতে উৎপাদন বেড়েছে।’

    সিরামিক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা জানালেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় কারখানার সব ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কারখানাগুলো ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে। আমদানিও বাড়তে পারে। তখন বাড়তি দামে টাইলস কিনতে হবে। সেটি হলে বাড়ি নির্মাণে খরচ বাড়বে।

    রড ও সিরামিকের মতো সিমেন্ট উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট। বর্তমানে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে রয়েছে ৩৫ থেকে ৪০টি কোম্পানি। বছরে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে চার কোটি টনের। তবে উৎপাদনে থাকা সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে আট কোটি টনের, অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় দেশে সিমেন্টের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি। দেশে সিমেন্টের বাজার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন এখন বেশ ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা চালু রাখতে বিকল্প উপায়ে বাড়তি ব্যয়ে জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সিমেন্ট কারখানায় গ্যাসের চাপ হঠাৎ কমায় যন্ত্রপাতি ক্ষতি হচ্ছে। বারবার জেনারেটর ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সরকারের উন্নয়নকাজ কম হওয়ায় আগের চেয়ে সিমেন্ট, রড, সিরামিক গ্লাসসহ নির্মাণ উপকরণের চাহিদা কমেছে। এ কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো। কেবল প্রবাসী আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিবাচক অবস্থার কারণে বেচাকেনা কিছুটা হওয়ায় টিকে আছে নির্মাণ খাত—এমন তথ্য দিয়ে আমিরুল হক বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়ে আলোচনা করছেন। অথচ প্রশাসনের দায়িত্বে যাঁরা, তাঁরা কথা বলছেন না। গ্যাস–বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রেশনিং পদ্ধিতে দিলে সব পর্যায়ে উৎপাদন সম্ভব হবে।

  • নেপালে আবারও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা

    নেপালে আবারও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা

    হিমবাহধসে গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতের কিছু এলাকায় কাদামাটির প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢল নেমে আসার দুই দিন পর ওই এলাকায় নতুন করে আবার ভয়াবহ ঢল নামার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    হিমবাহধসের পর ওই এলাকায় নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। ওই হ্রদের পানি গত শুক্রবার থেকে উপচে পড়তে শুরু করেছে। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নতুন করে আবার প্রাণঘাতী বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

    হিমবাহধসের কারণে সৃষ্ট ওই পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

    কী ঘটেছে

    গত শুক্রবার নেপালের রসুয়া জেলার কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা খবর পেয়েছেন, ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।

    রাসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে।’

    পারিয়ার আরও বলেন, ‘বর্তমানে পানির উচ্চতা ঠিক কতটা বেড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আমরা জানি না, এটি কতটা বড় হয়েছে এবং এর পানির উচ্চতা কত। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে।’

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দুর্যোগের কারণে একটি নয়, বরং দুটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। একটি হিমবাহের কাছাকাছি উঁচু এলাকায় তৈরি হয়েছে, যেখানে হিমবাহ গলা পানি এখন আটকে আছে।

    অন্যটি আকারে অনেক বড় ও বেশি বিপজ্জনক। এই হ্রদ নেপালের একটি নদীর ওপর তৈরি হয়েছে। সেখানে বড় আকারের ভূমিধসে উপত্যকার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে নদীর পানি আটকে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।

    আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক বাঁধের মতো হ্রদের স্যাটেলাইট দৃশ্য।

    কী ঝুঁকি

    নেপালি ও চীনা কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ জমে নিচের দিকের হ্রদটি সৃষ্টি হয়েছে।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, হ্রদটির পানির উচ্চতা বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় সেটির পানি উপচে পড়ে বা বাঁধ ভেঙে ব্যাপক পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

    গত শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়, চীনা কর্তৃপক্ষ আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল মোতায়েন করেছে। দলটি ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া হ্রদটি আকাশপথে জরিপ করে সেটির একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল তৈরির কাজ করবে।

    হ্রদটি যেখানে সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে পৌঁছাতে গেলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।

    চীনের প্রকৌশলী দলের সদস্য চেন হানসিয়াও আগের দিন, বৃহস্পতিবার সিসিটিভিকে বলেন, হিমবাহধসে হ্রদটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর চারপাশে অনেক বিচ্ছিন্ন খাড়া পাহাড় ও দুর্গম ঢাল তৈরি হয়েছে।

    হ্রদ কোথায় সৃষ্টি হয়েছে

    বড় ও বেশি বিপজ্জনক হ্রদটি নেপালের লেন্দে নদী ব্যবস্থার অন্তর্গত ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলের কাছে তৈরি হয়েছে।

    দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, হ্রদটি ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর উজানে অবস্থিত। এই দুই নদীর পানি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে কাঠমান্ডুর দিকে যায়।

    কীভাবে হ্রদের সৃষ্টি হলো

    গত বুধবার হিমবাহধসের কারণে আকস্মিক বন্যার পাশাপাশি ভূমিধসও হয়েছে। এ কারণে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথে গিয়ে জমা হয়েছে।

    নেপালের কাঠমান্ডুভিত্তিক ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পবন ভট্টরাই আল-জাজিরাকে বলেন, নতুন হ্রদটি সম্ভবত তুষারধসের কারণে সৃষ্ট একটি বাঁধ হ্রদ। বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নদীর উপত্যকায় গিয়ে জমা হয়েছে। এতে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে বা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে।

    পবন আরও বলেন, ফলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ওই বাঁধের পেছনে পানি জমতে থাকে এবং সেখান থেকেই হ্রদটির সৃষ্টি হয়। স্যাটেলাইটের ছবি এবং চীনের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই হ্রদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

    হিমবাহ–সংক্রান্ত বন্যা নিয়ে গবেষণা করা নেপালি গবেষক ও ভৌত ভূগোলবিদ নীতেশ খাডকা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ওই দুর্যোগের পর স্যাটেলাইটের ছবি ও ড্রোন দিয়ে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দুটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। একটি উজানের দিকে এবং অন্যটি লেন্দে নদীতে।’

    নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে আকস্মিক বন্যার পর ঘরবাড়ি ও জমি কাদায় ঢেকে গেছে। ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।

    নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খাডকা আরও বলেন, উজানে চীনের ভূখণ্ডে যে হ্রদটি তৈরি হয়েছে, সেটি হিমবাহের বরফ গলা পানি জমে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। ওই হ্রদের কারণে পানির স্বাভাবিক নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

    খাডকা আরও বলেন, লেন্দে নদীতে ভূমিধস বা কাদাধসের কারণে নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পানি আটকে পড়ার ফলে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে যদি এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তাহলে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বাঁধ ভেঙে পানি বের করে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুর্গম ও জটিল ভূপ্রকৃতির কারণে এখানে সেটিও সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।

    নেপাল-চীন সীমান্তে কাদামাটিধসের ফলে বাঁধের মতো হয়ে যে হ্রদের সৃষ্টি, সেটির অবস্থানও দুর্গম ও খাড়া ভূখণ্ডে। সেখানে উদ্ধারকর্মী বা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন।

    পবন ব্যাখ্যা করেন, হিমবাহধস এবং এ কারণে প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি—কোনোটিই সম্ভবত প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না।

    তবে উন্নত স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, নদীর প্রবাহপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও হ্রদ সৃষ্টি দ্রুত শনাক্ত করা, বারবার নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ, সময়মতো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং নেপাল-চীন সীমান্তজুড়ে শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকলে এর ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারত বলে মনে করেন এই প্রকৌশলী।

    এটি এত বড় ঝুঁকি কেন

    হঠাৎ হ্রদ সৃষ্টি হলে আশপাশের ভূখণ্ড সাধারণত সেই বিপুল পরিমাণ পানি ধরে রাখার মতো অবস্থায় থাকে না। পাশাপাশি যখন কোনো হ্রদের পানি আলগাভাবে জমে থাকা পাথর ও কাদার তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে আটকে থাকে, তখন মাঝারি মাত্রায় পানি উপচে পড়লেও সেই বাঁধ ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। ফলে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে ভাটির দিকে ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক ঢলের সৃষ্টি হতে পারে।

    সীমান্তের চীনা অংশের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কয়েক তলা উঁচু একটি ভবনের ওপর কাদা-পানি আর ধ্বংসাবশেষের প্রবল ঢল আছড়ে পড়ছে। মুহূর্তে ভবনটি তলিয়ে যায়। বাস-গাড়িগুলো খেলনার মতো ঢলে ভেসে যায়

    পবন বলেন, বিপদটা শুধু হ্রদটিকে ঘিরে নয়, বরং হঠাৎ প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাতেও। এ ধরনের খাড়া উপত্যকায় বাঁধ সাময়িকভাবে ভেঙে গেলেও তা দ্রুতগতির, ধ্বংসাবশেষবাহী ঢল বা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ভাটির দিকের জনপদগুলোর বাসিন্দারা সতর্ক হওয়ার জন্য খুব সামান্য সময়ই পায়।

    চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার হিসাব করে জানিয়েছে, হ্রদটিতে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পানির পরিমাণ অলিম্পিক আকারের প্রায় ১ হাজার ২০০টি সুইমিংপুলের সমান।

    খাডকা বলেন, এটি বড় এক হুমকি। কারণ, নতুন তৈরি হওয়া হ্রদটির বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে আবারও বড় আকারে ঢল নামতে পারে। এতে নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি ও ধ্বংসাবশেষ স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে থাকা জীবিত ব্যক্তিদেরও বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে।

    এর অর্থ হলো, হ্রদটির পানি উপচে বন্যা হলে সেই বন্যার স্রোত কাদা ও পাথর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এতে পানির ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করা উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য কাজটি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

    আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটি ধসের দুই দিন পর হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি বের হচ্ছে, এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উঁচুতে উঠে পাহাড়ে বসে আছেন আতঙ্কিত মানুষ,।

    খাডকা আরও বলেন, ভাটির দিকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোয় থাকা শ্রমিক ও প্রকৌশলী এবং আশপাশে আশ্রয় নেওয়া বন্যায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্যও এটি হুমকি তৈরি করছে। হঠাৎ বড় আকারে ঢল নেমে এলে তা এসব টানেল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সজোরে আঘাত করতে পারে এবং সেখানে থাকা যেকোনো মানুষকে আটকে ফেলতে বা আহত করতে পারে।

    উদ্ধার তৎপরতার অবস্থা কী

    বুধবারের ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া জেলা। নতুন করে সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে পড়ার কারণে রাসুয়া জেলায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে অল্প সময়ের বিরতির পর উদ্ধার তৎপরতা আবার শুরু করা হয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শুক্রবার বলেছে, নতুন হ্রদের পানি উপচে পড়ার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য’।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, বন্যায় তাদের ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিখোঁজ।

  • হিমালয়ের হিমবাহ পুরো গলে যাওয়ার শঙ্কা, নতুন বিপদের ঝুঁকি

    হিমালয়ের হিমবাহ পুরো গলে যাওয়ার শঙ্কা, নতুন বিপদের ঝুঁকি

    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর হিমালয়ের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে হিমালয়ে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং পাহাড়ের মাটির নিচে জমে থাকা বরফ বা পারমাফ্রস্টও গলতে শুরু করেছে। এতে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে হিমবাহ ও পাথরের বড় অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় এখন শুধু বরফ গলার কারণে নয়, বরফ গলে পাহাড়ের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার কারণেও ঝুঁকির মুখে। হিমবাহের নিচের ও আশপাশের বরফ এবং পারমাফ্রস্ট একসময় পাহাড়ের শিলাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করত। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। এর ফলে ভূমিধস থেকে শুরু করে আকস্মিক বন্যা পর্যন্ত একাধিক বিপর্যয় পরপর ঘটতে পারে।

    বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ ও পাহাড়ের বরফ-শিলা কাঠামো ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এতে হঠাৎ হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের বিপদের আরেকটি কারণ হলো হিমালয়ের নদী উপত্যকায় মানুষের বসতি ও অবকাঠামো দ্রুত বাড়ছে। সড়ক, হোটেল, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে নদীর কাছাকাছি এলাকায়। ফলে পাহাড়ে কোনো বড় ধস বা বন্যা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।

    ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প মনে করা হলেও পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, সেখানে ৫ দশমিক ২ মাত্রার যে কম্পন রেকর্ড হয়েছিল, সেটি কোনো ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ ধস ও বিপুল পরিমাণ বরফ-পাথর নিচে নেমে আসার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল।

    বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ের ওপরের বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ভেঙে নিচে পড়ার পর তা নদীতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথরের প্রবাহ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে নদীর পানির উচ্চতা মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে নদীতীরবর্তী বসতি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনা মুহূর্তের মধ্যে পানির নিচে চলে যায়।

    ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। তবে নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের আগে ওই নদী ব্যবস্থায় গত বছরও হিমবাহ সম্পর্কিত বন্যা হয়েছিল। এতে ৯ জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, একই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বতমালা হিমালয়। এই অঞ্চলের হিমবাহ ও নদীগুলো এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানি, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর প্রায় ২১০ কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নির্ভরশীল। ফলে পাহাড়ি এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু নেপাল বা তিব্বতের সমস্যা নয়; এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা তাই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে নেপাল, চীন ও নদীর নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন।

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েক দশকে হিমবাহের পরিবর্তন থামানো কঠিন হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় বিশেষজ্ঞদের কাছে সেই প্রস্তুতি জোরদারের জন্য নতুন করে একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।

  • সবজির দাম কমলেও চিনি-তেল-আটা-ডিমে বাড়ছে বাজারের চাপ

    সবজির দাম কমলেও চিনি-তেল-আটা-ডিমে বাড়ছে বাজারের চাপ

    রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের। চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে চিনি ও বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমে গেছে। ফলে বাড়তি দামের পাশাপাশি পণ্য পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে একই ময়দার দাম ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

    চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। প্যাকেটজাত চিনির গায়েও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

    মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা ফজলু জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিলাররা ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পরও অনেক দোকানে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।

    বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। পাশাপাশি মিলগেট থেকে চিনির সরবরাহও আগের তুলনায় কমেছে।

    ভোজ্যতেলের বাজারেও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা হয়েছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা লিটার। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

    খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

    অন্যদিকে, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ সংকটে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

    কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী খন্দকার আজিজুল বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কমেছে।

    পেঁয়াজের দামে গত কয়েক সপ্তাহে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুও ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

    তবে ডিমের দাম এখনো বেশি। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো পাড়া-মহল্লার দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

    এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কয়েকটি সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

  • কর ফাঁকি রোধে স্বয়ংক্রিয় ইন্টিগ্রেটেড প্রোফাইল চালু করবে এনবিআর

    কর ফাঁকি রোধে স্বয়ংক্রিয় ইন্টিগ্রেটেড প্রোফাইল চালু করবে এনবিআর

    করদাতার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়-ব্যয় এবং অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্যহীনতা খুঁজে বের করতে এক ডেটাভিত্তিক বা উপাত্তনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এনবিআর। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি করদাতার একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড’ বা সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় ও ব্যয়ের গরমিল চিহ্নিত করবে।

    এই ব্যবস্থার অধীনে, প্রতিটি করদাতার একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড’ বা সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এতে করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে খরচ, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক লেনদেন, গাড়ি ক্রয়, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ এবং অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয় বা ব্যবহারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে।

    করফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম, মীর শাহে আলম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, আবুল হাসনাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই প্রযুক্তি করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে সংগতি রয়েছে কি না—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করবে। যদি এতে বড় ধরনের কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (হাই-রিস্ক) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    এনবিআর আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে করদাতাদের এই সমন্বিত প্রোফাইল সম্পন্ন করা এবং একটি শক্তিশালী ‘ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ সম্পদসম্পন্ন ব্যক্তির (হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজুয়াল) অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে তাদের কর প্রদানের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তাদের পৃথক প্রোফাইল তৈরি করা হবে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত খুবই কম। সেটি বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। সেখান থেকে স্বল্পমেয়াদে আরো ২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো, মধ্যমেয়াদে এটি ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এছাড়া বাণিজ্যিক জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি এবং বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার (ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং) রুখতে প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ‘কাস্টমস অ্যাটাশে’ পদ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর।

    এনবিআর জানিয়েছে, কেবল দেশীয় উপাত্ত দিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে প্রস্তাবিত কাস্টমস অ্যাটাশেরা আমদানিকৃত পণ্যের উৎস, রপ্তানিকারকের বিস্তারিত পরিচয়, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ভূমিকা রাখবেন।

    করপোরেট আয়কর ফাঁকি বন্ধ করতে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক সূচক সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি সিস্টেমভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে কোম্পানির টার্নওভার বনাম ঘোষিত মুনাফা, গ্রস প্রফিট রেশিও, রিলেটেড-পার্টি ট্রান্সজেকশনস, সুদের খরচ, ব্যবস্থাপক ফি, রয়্যালটি, কমিশন, অবচয়, মন্দঋণ, রিলেটেড-পার্টি লোন, পরিচালকদের সম্মানী, আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের বিপরীতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি, ভ্যাট টার্নওভার বনাম আয়কর টার্নওভার। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোয় সম্পত্তিভিত্তিক আয়কর কমপ্ল্যায়েন্স প্রোগ্রাম চালু করবে এনবিআর। ফলে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

    বকেয়া কর আদায়ে ইনকাম ট্যাক্স ডেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে এনবিআর জানিয়েছে। এছাড়া করদাতার সঙ্গে কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনতে, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট ও ফেসলেস অডিট কার্যক্রম ধাপে ধাপে গ্রহণ করবে এনবিআর। কর কর্মকর্তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অ্যাসেসমেন্ট বা পর্যালোচনা সম্পন্ন করবেন।

    জানা গেছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এনবিআর তাদের টিআইএন ডেটাবেস পরিচ্ছন্ন ও শ্রেণিবদ্ধ করবে, শীর্ষ বকেয়া আয়কর তালিকা তৈরি এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি ও উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তিবর্গকে শনাক্ত করবে।

    আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে, ‘হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজুয়াল ইউনিট’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে এবং কেন্দ্রীয় ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা পাইলটিং বা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে করদাতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি, যানবাহন ও কোম্পানির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করা হবে এবং স্বয়ংক্রিয় আয়-সম্পদ প্রোফাইলিংয়ের পাইলটিং শুরু করা হবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক অডিট সিলেকশন ও অটোমেটেড উইথহোল্ডিং লেজার ব্যবস্থাও এই সময়ে প্রস্তুত করা হবে।

    এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রি-ফিল্ড (পূর্বেই পূরণকৃত) আয়কর রিটার্ন, দেশব্যাপী ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত বা রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে মাঝারি স্তরের করদাতাদের বিভাগ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক কর নির্ধারণ ব্যবস্থার (ট্রান্সফার প্রাইসিং) সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

    এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, এ ধরনের যুগোপযোগী প্রস্তাব ও কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজস্ব সংস্কার কমিটির সুপারিশগুলো এবার বাস্তবে রূপ নিলে রাজস্ব খাতে নিশ্চিতভাবেই একটি ইতিবাচক ও দূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে।

  • নবীজীবনচর্চায় নতুন আলো

    নবীজীবনচর্চায় নতুন আলো

    মানবসভ্যতার ইতিহাসে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে যত বেশি চর্চা, গবেষণা এবং লেখালেখি হয়েছে, অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন নজির দেখা যায় না। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে যত বিস্তৃত গবেষণা, আলোচনা এবং জীবনী রচিত হয়েছে, ইতিহাসে তার কোনো তুলনা নেই। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই তার সিরাত (জীবনচরিত) ও সুন্নাহ (আদেশ-নিষেধ ও জীবননির্দেশনা) সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন যুগে, নানা পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সিরাত এবং সুন্নাহচর্চা ক্রমেই বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হয়েছে।

    মুসলিম সভ্যতার প্রতিটি যুগেই মহানবী (সা.)-এর জীবন নিয়ে গবেষণা ও রচনাকর্ম হয়েছে। কখনো তার সমগ্র জীবনকে ধারাবাহিক ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে; কখনো বিভিন্ন বর্ণনার সত্যতা যাচাই, সনদ পরীক্ষা এবং ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে; আবার কখনো তার জীবনের কোনো বিশেষ ঘটনা, বৈশিষ্ট্য বা দিককে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হয়েছে। তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিরা যেমন তার জীবনচরিত রচনা করেছেন, তেমনি বিদ্বেষী এবং বিরোধীরাও তাকে নিয়ে লিখেছে। এমনকি নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ গবেষকরাও তার জীবন এবং কর্মকে তাদের গবেষণার বিষয় করেছেন। ফলে মহানবী (সা.)-এর সিরাত যুগে যুগে ভালোবাসা, বিরোধিতা ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান—তিন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষেরই আগ্রহের বিষয় হয়ে থেকেছে।সিরাতচর্চার দুটি ধারা

    মহানবী (সা.)-এর সিরাত নিয়ে প্রচলিত চর্চাকে মূলগতভাবে দুটি প্রধান ধারায় ভাগ করা যায়। প্রথম ধারা হলো ‘ঐতিহাসিক বর্ণনাভিত্তিক সিরাতচর্চা’। এ ধারায় মহানবী (সা.)-এর জন্ম, জন্মের পূর্ববর্তী সময় ও তৎকালীন পরিবেশ থেকে শুরু করে তার ইন্তেকাল এবং ইন্তেকাল-পরবর্তী ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়।

    এই ধারার মধ্যেও রয়েছে একাধিক গবেষণাপদ্ধতি। সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করেই কেউ আলোচিত সব তথ্য একত্র করেছেন। আবার কেউ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সনদ নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করেছেন; যেসব বর্ণনা বিশুদ্ধ, সেগুলো গ্রহণ করেছেন এবং যেগুলো প্রমাণিত নয় বা দুর্বল, সেগুলোর ব্যাপারেও পাঠককে সতর্ক করেছেন। এই ধারার আরেকটি প্রবণতা হলো, সিরাতের ঘটনাবলি আলোচনা করে সেখান থেকে শিক্ষা, উপদেশ ও জীবনের নানা দিকনির্দেশনা আহরণ করা। কারো আলোচনায় সাধারণ শিক্ষাগুলো গুরুত্ব পেয়েছে, আবার কেউ বিশেষ কোনো শিক্ষা বা তাৎপর্যের ওপর জোর দিয়েছেন।

    সিরাতচর্চার দ্বিতীয় ধারাটিও প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। এ ধারায় মহানবী (সা.)-এর জীবনের কোনো একটি বিশেষ দিককে বেছে নিয়ে সেটিকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা হয়। মুসলিম ঐতিহ্যে এর প্রাথমিক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় মহানবী (সা.)-এর শামায়েল (বাহ্যিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য) এবং খাসায়েস (বিশেষ বৈশিষ্ট্য) নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোয়। কাজী ইয়াজ, মাকরিজি প্রমুখের রচনায় এ ধরনের চর্চার উদাহরণ রয়েছে।

    আধুনিক যুগে মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিশেষ কোনো দিক নিয়ে গবেষণার এই ধারা আরো বিকশিত হয়েছে। সিরাতের নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে অনেক বইপত্র। আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ, খালিদ মুহাম্মদ খালিদ, ইউসুফ আল-কারজাবি, মাহমুদ শিত খাত্তাব ও অন্যরা এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

    পাশাপাশি পাশ্চাত্য লেখকদের মধ্যেও মহানবী (সা.)-এর জীবন নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব রচনার মধ্যে যেমন ন্যায়নিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনি পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থিতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়।

    সিরাতচর্চার তৃতীয় ও নতুন আরেকটি ধারা

    সিরাতচর্চায় তৃতীয় একটি ধারা রয়েছে, যে ধারায় তেমন বিস্তৃত চর্চা হয়নি। বরং অল্প কয়েকজন লেখক এ পদ্ধতিতে কাজ করেছেন। এই ধারার বিষয় শুধু মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিত নয়; বরং যারা লেখক ও গ্রন্থকার হিসেবে নবীজির সিরাত নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের নানা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সিরাতকে নতুন করে পাঠ করা।

    এ পদ্ধতিকে আমরা বলতে পারি ‘তুলনামূলক সিরাতচর্চা’—অর্থাৎ সিরাতের কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন লেখক কীভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা পাশাপাশি রেখে তুলনামূলক আলোচনা করা। কারণ প্রত্যেক লেখক তার নিজস্ব সংস্কৃতি, সাহিত্যিক পরিমণ্ডল, ভাষাশৈলী এবং মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার আলোকে সিরাতের ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। ফলে একই ঘটনা নিয়ে তাদের লেখায় বৈচিত্র্যময় চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অন্তর্দৃষ্টির প্রকাশ ঘটে।

    ফিকহের ক্ষেত্রে যেমন তুলনামূলক ফিকহ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ফকিহের মতামত ও ফিকহি সিদ্ধান্তের তুলনা করা হয়; এসব মতের পেছনের প্রেরণা, কারণ ও যুক্তি বিশ্লেষণ করা হয়; কোনো একটি মতের পেছনে থাকা ফিকহি দর্শন এবং তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিধানগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। তাফসির শাস্ত্রেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়।

    তাই সিরাতের ক্ষেত্রেও যদি এ ধরনের তুলনামূলক পদ্ধতিতে গবেষণা করা হয়, তাহলে মহানবী (সা.)-এর সিরাতচর্চায় নতুন ও স্বতন্ত্র একটি ধারা সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে সিরাতের অনেক দিক ও তাৎপর্য সামনে আসবে, বিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করলে যা হয়তো আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়বে না। ফলে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে বোঝার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সিরাতচর্চাকে আরো সমৃদ্ধ এবং গভীর করে তুলতে পারে।

    বিয়ুমির দৃষ্টান্ত

    ড. মুহাম্মদ রজব আল-বায়ুমি ছাড়া এ ধরনের প্রচেষ্টা আর কারো মধ্যে আমার চোখে পড়েনি। তবে তিনি তুলনামূলক সিরাতচর্চার কোনো স্বতন্ত্র পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতিতে লেখেননি; বরং সিরাত রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন মাত্র। তার প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিল من روائع السيرة النبوية: الرسول يبكي ولده إبراهيم (সিরাতের অনুপম সৌন্দর্য : সন্তান ইব্রাহিমের জন্য রাসুলের কান্না)। প্রবন্ধটি ‘ফি মিজানিল ইসলাম’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এতে তিনি মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে জন্ম নেওয়া নবীজি (সা.)-এর ছেলে ইব্রাহিমের অল্প বয়সে ইন্তেকালের ঘটনা আলোচনা করেছেন।

    বায়ুমি সমকালীন সাহিত্যিক ও চিন্তক আব্বাস আল-আক্কাদ, তাহা হুসাইন, আহমদ হাসান আল-জাইয়াত ও মুহাম্মদ হুসাইন হাইকলের সিরাতগ্রন্থে এ ঘটনাটির উপস্থাপন নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।

    সিরাতের গ্রন্থগুলোতে ঘটনাটি বড়জোর আধা থেকে এক পৃষ্ঠার হলেও, এই চার সাহিত্যিকের কলমে তা অসাধারণ মূল্যবান হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল ভিন্ন। আক্কাদ প্রথমে যুক্তি ও বুদ্ধির মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন, এরপর আবেগের দিকে গেছেন; তাহা হুসাইন ঠিক বিপরীতভাবে আবেগ দিয়ে শুরু করে যুক্তিতে পৌঁছেছেন। যাইয়াত নিজের সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে এ ঘটনায় সান্ত্বনা ও শিক্ষা খুঁজে পেয়েছেন। আর হাইকল ঘটনাটিকে প্রবহমান সাহিত্যিক ভাষায় বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করেছেন।

    এই ধারণার পক্ষে আরো কিছু দৃষ্টান্ত

    বায়ুমি যে আঙ্গিকে আলোচনা করেছেন, সেটি ছাড়াও এ ধারার গবেষণা পদ্ধতির পক্ষে অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। দেখা যায়, প্রত্যেক ফকিহ বা সাহিত্যিক মহানবী (সা.)-এর জীবনের কোনো ঘটনা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছেন। এসব দৃষ্টিভঙ্গিকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে নবুয়তের আরো পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট চিত্র আমাদের সামনে বিকশিত হবে।

    এর একটি দৃষ্টান্ত ইউসুফ আল-কারজাবি ও খালিদ মুহাম্মদ খালিদের রচনায় পাওয়া যায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতে একটি কাকলাস (টিকটিকি জাতীয় একধরনের সরীসৃপ) হত্যা করবে, তার জন্য একশ নেকি লেখা হবে। দ্বিতীয় আঘাতে এর চেয়ে কম এবং তৃতীয় আঘাতেও এর চেয়ে কম (নেকি পাবে)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৫৭৪০)

    প্রথম আঘাতের জন্য ১০০ নেকি এবং পরবর্তী আঘাতের জন্য ক্রমহ্রাসমান নেকি কেন, এর ব্যাখ্যায় ইউসুফ কারজাবি একজন আইনজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেছেন, এটা মূলত সঠিকভাবে লক্ষ্যভেদ করার দক্ষতার পুরস্কার। শত্রুর মোকাবিলায় কাজে লাগাতে মুসলমানের এ ধরনের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে খালিদ মুহাম্মদ খালিদের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তার মতে, এখানে নেকির পুরস্কারের মধ্য দিয়ে মূলত দয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। যদি কাকলাসকে হত্যা করতেই হয়, তবে যেন দ্রুত হত্যা করা হয়; কারণ বারবার আঘাত করলে প্রাণীটি অযথা কষ্ট পাবে।

    আমরা যে পদ্ধতিকে ‘তুলনামূলক সিরাতচর্চা’ নামে অভিহিত করছি, তা সিরাতের বিস্তৃত ভান্ডারে ছড়িয়ে থাকা অমূল্য রত্নগুলোকে পাঠকের সামনে তুলে আনার একটি কার্যকর পথ হতে পারে। বিশেষত সিরাতের এমন সব পার্শ্বঘটনা ও অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত বিষয় রয়েছে, যেগুলোর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও শিক্ষা অনেক সময় বৃহৎ বর্ণনার আড়ালে পড়ে যায়।

    সিরাতের লেখক ও কবিরা সাধারণত মহানবী (সা.)-এর জীবনের বড় ঘটনাগুলোর প্রতিই বেশি মনোযোগ দেন। নবীজির জন্ম, নবুয়তপ্রাপ্তি, হিজরত ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের মতো ঘটনাগুলো তাদের রচনায় প্রাধান্য পায়। অথচ তার জীবনের অনেক ছোট ও আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ঘটনার মধ্যেও নিহিত রয়েছে গভীর তাৎপর্য, মূল্যবান শিক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ঈমানি ও জাগতিক দিকনির্দেশনা। সেই বিস্মৃত বা আড়ালে থাকা রত্নগুলো খুঁজে বের করে বিভিন্ন লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে একত্র করা গেলে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে আরো গভীর, পূর্ণাঙ্গ ও বহুমাত্রিকভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।

  • ‘চোখের পলকে ভেসে গেল স্ত্রী-সন্তান,’ নেপালি ব্যবসায়ীর লোমহর্ষক বর্ণনা

    ‘চোখের পলকে ভেসে গেল স্ত্রী-সন্তান,’ নেপালি ব্যবসায়ীর লোমহর্ষক বর্ণনা

    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই ধেয়ে আসে প্রলয়ংকরী বন্যা। এতে নিজের চোখের সামনে পরিবার হারানোর লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক অভাগা পিতা ও স্বামী। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন জানাল, তিব্বত সীমান্তে নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। আমাদের দ্রুত উঁচু স্থানে যেতে হবে। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধেয়ে আসা জলের তোড়ে চোখের পলকে ভেসে গেল আমার স্ত্রী ও ছেলে।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের ওই কাপড় ব্যবসায়ী জানান, সেদিন এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত ছিল না। সবাই যার যার দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই প্রশাসনের সতর্কবার্তা আসে। কিন্তু সেই বার্তা পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তারা ।

    সতর্কবার্তা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। বাঁচার জন্য অনেকে দৌড় দিলেও জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যান ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও তরুণ ছেলে। তাদের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মূলত ভোতে কোশি নদীর উপনদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। রাসুয়া জেলার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

    রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং নেপালের এই তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কয়েক মিটার গভীর কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়ে আছে। চোখের সামনে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও হাজারো মানুষের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। প্রিয়জন হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ওই ব্যবসায়ীর মতো শত শত মানুষ এখন কেবল কাদার স্তূপের দিকে তাকিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

  • গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে খরচ

    গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে খরচ

    এক যুগের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের পানির কল (ট্যাপ) তৈরি করছে ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানা। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পণ্যের চাহিদা কমাসহ নানা কারণে কয়েক মাস ধরেই কোম্পানিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছিল না। সেই পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে সাম্প্রতিক গ্যাস–সংকট। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সোলায়মান পারসী প্রথম আলোকে জানান, পানির কল বানানোর জন্য পিতল গলাতে তাঁদের কারখানায় সার্বক্ষণিক গ্যাসের ফার্নেস (চুলা) চালাতে হয়। এ জন্য গ্যাস লাগে। কিন্তু সর্বশেষ চার-পাঁচ মাস ধরেই গ্যাসের চাপ কম ছিল; এখন তা প্রায় বন্ধ। বর্তমানে দিনে তিন-চার ঘণ্টার বেশি কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না।

    সোলায়মান পারসী বলেন, ‘কারখানা চালু রাখতে আমার দৈনিক ১৮ হাজার টাকা খরচ করতেই হয়। এই টাকা তুলতে হলে দিনে ৭–৮ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু বর্তমান গ্যাস–সংকটে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৩-৪ লাখ টাকায়। উৎপাদনের ঘাটতির কারণে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।’ উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও। এক বছর আগেও ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজে ৩০ জন কর্মী কাজ করতেন। এখন সেখানে কাজ করছেন মাত্র ১২ জন।

    যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের মতো পানির ট্যাপ তৈরির আরও প্রায় সাড়ে তিন শ ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। বড় কারখানার নিজস্ব পিতল গলানোর (কাস্টিং বা মেল্টিং) ব্যবস্থা আছে। আর ছোট উদ্যোক্তারা অন্য কাস্টিং কারখানা থেকে তাদের মোল্ড ব্যবহার করে পিতলের কলের প্রাথমিক আকার তৈরি করিয়ে নেয়। ফলে বর্তমান গ্যাসের সংকটে এই এলাকার প্রায় সব কারখানার উৎপাদনেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    চলমান গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে সারা দেশেই হালকা প্রকৌশল খাতের ছোট ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। হালকা প্রকৌশল পণ্য খাতের সংগঠন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির তথ্য অনুসারে, সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০ হাজার হালকা প্রকৌশল কারখানা রয়েছে। আর এই খাতে যুক্ত রয়েছেন প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ।

    রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনাসহ দেশের প্রধান কয়েকটি হালকা প্রকৌশল ক্লাস্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক স্থানে দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। আর যেখানে উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় গ্যাসের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, সেখানে লাইনে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় কাস্টিং ও হিট ট্রিটমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমনিতেই বাজারে হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এ অবস্থায় কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়া এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।

    ঢাকার বাইরেও সমস্যা প্রকট

    ঢাকার আশপাশের জেলার এসএমই উদ্যোক্তারাও তাঁদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। যেমন লোডশেডিংয়ের কারণে গাজীপুরের শালনায় অবস্থিত কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

    অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. শেখ সাদী জানান, দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ যায়। প্রতিবার বিদ্যুৎ গেলে এক ঘণ্টার আগে আসে না। যে কাজ আধা ঘণ্টায় করা যেত, এখন সে কাজ করতে অর্ধেক দিন লেগে যাচ্ছে।

    শেখ সাদী বলেন, ‘আমার বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে কত দিন চলতে পারব, জানি না। তাই শালনা থেকে কারখানা সরিয়ে অন্য কোথাও নেওয়ার কথাও মাঝেমধ্যে ভাবি। আমরা তো ছোট প্রতিষ্ঠান; ব্যাংকও আমাদের টাকা দেয় না। নিজেদের পকেটের টাকায় আর ধারদেনা করে ব্যবসা চালাতে হয়। আমার মনে হয় না এভাবে বেশি দিন আমরা টিকে থাকতে পারব।’

    বেশি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বেশি আসছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক উদ্যোক্তা। যেমন রাজধানীর কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক ডাইস (ছাঁচ) তৈরির প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, গত মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    লোডশেডিং কতটা হয়, তা জানতে চাইলে ব্রাদার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এমডি মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন জেনারেটর চালাতে দিনে ২০০ লিটার করে তেল খরচ লাগছে। গত এক মাসে জেনারেটর খরচ ৪০ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিল ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আর উৎপাদন কমেছে ৩০ শতাংশ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যেকোনো সময় কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।’

    এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ১‘উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে তাঁদের অসুবিধার কথা জানাচ্ছেন। সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অর্ডার পেয়েও যথাসময়ে ডেলিভারি দিতে পারছে না। ফলে তারা নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা উদ্যোক্তাদের এই সমস্যাগুলোর কথা সরকারকে জানাচ্ছি।

  • বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়ে ধেয়ে আসে পানি, বললেন বেঁচে ফেরা বাহাদুর

    বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়ে ধেয়ে আসে পানি, বললেন বেঁচে ফেরা বাহাদুর

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ও দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

    বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জনক বাহাদুর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বন্যার পানি হঠাৎ করে এসে বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়েছিল।’ তিনি বলেন, দূর থেকে নদীটিকে ছোট মনে হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে এবং স্রোত পুরো এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

    আরেকজন বন্যাদুর্গত বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কতজন মানুষ সেখানে আটকা পড়ে আছেন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

    বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়ে উদ্ধারকারীদের নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

    উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত সচল করা এবং দুর্গত এলাকায় খাবার, পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে থাকলে তাদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

  • টিকটককে ৩০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করল ব্রাজিল

    টিকটককে ৩০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করল ব্রাজিল

    শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ব্যক্তিগত তথ্য যথাযথভাবে সুরক্ষিত না রাখার অভিযোগে টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে ব্রাজিলের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ জরিমানা করা হয়েছে।

    ব্রাজিলের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, টিকটক অ্যাকাউন্টে লগইন করা ব্যবহারকারী এবং অতিথি হিসেবে প্ল্যাটফর্ম ব্রাউজ করা—দুই ক্ষেত্রেই তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা বা বৈধ আইনি ভিত্তি ছাড়াই শিশু ও কিশোরদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে, টিকটক অন্তত ৮০ লাখ শিশু-কিশোরের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে থাকতে পারে। প্ল্যাটফর্মটির বয়স যাচাই ব্যবস্থায়ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ১০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ

    ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে বাইটড্যান্স। এ জন্য কোম্পানিটিকে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

    জরিমানার পাশাপাশি অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সব তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের তথ্য সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত কাঠামো তৈরির জন্যও টিকটককে নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    বিশেষ করে টিকটকের ‘লগড-আউট ফিড’ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সুবিধার মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন না করেই ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্ট দেখতে পারেন।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজেই টিকটক ব্যবহার করতে পারছেন। ব্রাজিলে এই সুবিধা চালু রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এটি নেই। এসব অঞ্চলে টিকটকের কনটেন্ট দেখতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী হতে হয়।

    ডিসকর্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

    শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে ব্রাজিলের উদ্বেগ অবশ্য শুধু টিকটককে ঘিরে নয়। চলতি মাসের শুরুতে একই অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডকে দেশজুড়ে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা স্থগিতের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

    কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিসকর্ডের একটি লাইভস্ট্রিমে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আত্মহানি করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে বলে জানানো হয়। গেমারদের মধ্যে জনপ্রিয় ভয়েস ও টেক্সট চ্যাটভিত্তিক অ্যাপ ডিসকর্ড চালু হয় ২০১৫ সালে।

    অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট ব্যবহারে আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব উদ্যোগের ফল মিশ্র।

    শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নেই। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ফলে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, বয়স যাচাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে চাপ বাড়ছে।

  • ফুটপাতে শিশুর দুধ গরম :সরগরম কলকাতা

    ফুটপাতে শিশুর দুধ গরম :সরগরম কলকাতা

    কলকাতার ব্যস্ততম পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ফুটপাত। সেখানেই গত ৫০ বছর ধরে সংসার পেতেছেন পাঞ্জাব থেকে আসা সীতা। শনিবারের এক পড়ন্ত বেলায় ফুটপাতের ধারে স্টোভ জ্বালিয়ে শিশুর জন্য একটু দুধ গরম করছিলেন তিনি। আর ঠিক তখনই সেখানে ফুটপাত জবরদখলমুক্ত করার অভিযানে উপস্থিত হন রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    ফুটপাতে স্টোভ জ্বলতে দেখেই রীতিমতো মেজাজ হারান মন্ত্রী। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি সীতাকে প্রশ্ন করেন, ফুটপাতে বাচ্চার দুধ গরম কেন হবে? আর কে-ই বা তাদের সেখানে সংসার পাতার অধিকার দিয়েছে? এই চরম তিরস্কারের পর থেকে ভয়ে ওই ফুটপাতে আর বাচ্চার জন্য দুধ জ্বাল দেওয়ার সাহসটুকুও পাননি সীতা। মন্ত্রীর এই ‘ধমক’ ঘিরেই এখন তোলপাড় কলকাতার রাজনীতি, আর সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে জোরালো হয়ে উঠেছে এক অমোঘ প্রশ্ন— শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের এই পদক্ষেপ কি আদৌ মানবিক?

    সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্রই এখন এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলো এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে দাবি জানিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে অমানবিক হলে চলবে না; বরং এই ছিন্নমূল মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য একটি সঠিক রূপরেখা বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা প্রয়োজন।

    তবে সমালোচনার মুখে পড়েও নিজেদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় সরকার। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তার দাবি, বাচ্চার দুধ ফোটানো বা পকোড়া ভাজা—কোনো কারণেই পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করা বরদাশত করা হবে না। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ফুটপাতে স্টোভ জ্বালানো ওই পরিবার ও পথচারী উভয়ের জন্যই অগ্নিকাণ্ডের মতো মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিরোধীদের পাল্টা তোপ দেগে তিনি বলেছেন, যারা এখন রাজনীতি করছেন, তারা তো কেউ ওই শিশুর জন্য এক বাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে আসেননি।

    উন্নয়ন বনাম মানবিকতার এই দ্বন্দ্ব কলকাতা শহরের জন্য নতুন কিছু নয়। প্রগতিশীল শহরের দিকে পা বাড়াতে গিয়ে নগরোন্নয়নের কঠোর নীতির জাঁতাকলে বারবার পিষ্ট হচ্ছেন সীতার মতো প্রান্তিক মানুষগুলো। ফুটপাত যে পথচারীদের অধিকারের জায়গা—এ কথা যেমন সত্য, তেমনই শহরের মানচিত্রে বহু দশক ধরে জড়িয়ে থাকা এই নিম্নবিত্ত জনবসতির জীবনযুদ্ধও সমানভাবে বাস্তব।

    ক্ষমতা বদলায়, সরকারের রং বদলায়, কিন্তু এই মানুষগুলোর অবস্থার কোনো বদল হয় না। ‘উঠে কোথায় যাব?—সীতাদের এই অসহায় আর্তনাদ তাই বারবার হারিয়ে যায় রাজনীতির গোলকধাঁধায়। বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে কেবল ধমক দিয়ে বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে কি একটি শহরের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব? এ ঘটনার পর শহরের তথাকথিত মানবিক মুখটাই যেন আজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।

  • বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল

    বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল

    দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর গত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

    রোববার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, ‘এক দেশ, এক কিউআর’ উদ্যোগের আওতায় গত ১ জুলাই থেকে দেশে বিভিন্ন ধরনের নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে একটি একক বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়।

    তবে গত এক সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

    বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থাকলেও তা বেড়ে এখন ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।

    বাংলা কিউআর সেবা সম্প্রসারণে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও কাজ করছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ার ফলে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার আরও দ্রুত হবে। এর মাধ্যমে সহজ, কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

  • ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    ড্রেজিংয়ে  তোলা হচ্ছে শত শত মণ শামুক

    সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রার নদ-নদীতে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নদী ও চরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদ, শাকবাড়িয়া নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পাচার হচ্ছে এসব শামুক। ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য, প্রজনন ব্যবস্থা ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

    সরেজমিনে কয়রা সদরের কপোতাক্ষ নদের গোবরা ও মদিনাবাদ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বোটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে তোলা হচ্ছে শামুক। আহরণকারীরা জানান, মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার ব্যবধানে এক একটি বোট থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার শামুক তোলা সম্ভব। সংগ্রহ করা এই শামুক সন্ধ্যায় গোবরা-মদিনাবাদ সড়ক দিয়ে গোপন আড়তের মাধ্যমে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়।
    স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুধু কয়রা নয়, পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার পশুরতলা, কৈখালী, জয়াখালী ও শাকবাড়িয়া নদীর মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ শামুক শিকার। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলেও চক্রটির দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।
    এতে শামুক নদীর পানি পরিষ্কার ও চুন-ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে। অনিয়ন্ত্রিত আহরণে নদীর স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশের মাটির উর্বরতা ও জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। সংকট নিরসনে কেবল মাইকিং বা সাময়িক অভিযানে কাজ হচ্ছে না; পরিবহন ও বাজারজাতকরণের পুরো পথ বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর।
    বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নদী থেকে শামুক আহরণ আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি বন বিভাগের অভিযানে বেশ কিছু শামুক উদ্ধার ও জব্দ করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং শামুকবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে।
    বন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও নির্মল কুমার পাল জানান, জলজ পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শিগগিরই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান জোরদার করা হবে।

  • পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এখনো নিম্নমুখী

    পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এখনো নিম্নমুখী

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১৩ মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মোট ৪ হাজার ৭০৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ৬৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হলেও মে মাসে তা নেমে আসে মাত্র ৭৪ কোটি টাকায়।

    পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাসভিত্তিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিদেশীদের লেনদেন ছিল ৪৯১ কোটি টাকা। আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে কিছুটা বেড়ে ৪৪০ কোটি টাকা হলেও অক্টোবরে আবার কমে হয় ৩৬৮ কোটি টাকা। এরপর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাজার কার্যক্রম আরো কমে যায়। নভেম্বরে তারা ২৬৭ কোটি ও ডিসেম্বরে মাত্র ১৪৬ কোটি টাকার লেনদেন করেন।

    ২০২৬ সালের শুরুতে অবশ্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে কিছুটা গতি ফেরে। জানুয়ারিতে তাদের লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭৭ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে এক লাফে তা বেড়ে ৬৬৩ কোটি টাকায় ওঠে, যা আলোচ্য ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে মার্চে আবার কমে ২৭২ কোটি ও এপ্রিলে ১৭৫ কোটি টাকায় নেমে আসে।

    মে মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সবচেয়ে বড় ধস দেখা যায়। এ মাসে তাদের মোট লেনদেন ছিল মাত্র ৭৪ কোটি টাকা। তবে পরের দুই মাসে বাজারে তাদের কার্যক্রম আবার বাড়ে। জুনে বিদেশীদের লেনদেন বেড়ে ৫৪০ কোটি ও জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

    শুধু মাসভিত্তিক লেনদেনেই নয়, দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের নিট অবস্থানও কয়েক বছর ধরে নেতিবাচক। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে দেশীয় ঋণ সিকিউরিটিজে বিদেশী বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই অর্থবছরে নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ হাজার ৬০ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪০ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকায় পৌঁছে।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট পোর্টফোলিও বহিঃপ্রবাহ কিছুটা কমে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় নেমে এলেও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে কয়েক বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিট অবস্থান ধারাবাহিকভাবেই বহিঃপ্রবাহের দিকে রয়েছে।

    এদিকে দীর্ঘমেয়াদেও দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৬ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা ওই বছর এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে বিদেশীদের লেনদেন বেড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা হলেও মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

    ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ডিএসইতে যথাক্রমে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেন। এ দুই বছরে মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    কভিডের বছর ২০২০ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর থেকেই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ২০২১ সালে মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার নেমে আসে ১ দশমিক ১০ শতাংশে এবং টাকার অংকে লেনদেন দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকায়।

    ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিদেশীদের লেনদেন আরো তলানিতে নেমে যায়। এ দুই বছরে ডিএসইর মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৮৯ ও দশমিক ৭৭ শতাংশ। টাকার অংকে তাদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বিদেশীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়ালেও মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

    বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে এমন ওঠানামার পেছনে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি, শেয়ারদরের প্রবণতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশী বিনিয়োগের নিট বহিঃপ্রবাহ এবং ডিএসইর মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এখনো আগের অবস্থানে ফেরেনি।

  • শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

    শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

    এক রাতের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য থেমে যায় ঘেরের এয়ারেটর। আর তাতেই কমতে থাকে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা। ভোরে ঘেরে গিয়ে খামারিরা দেখেন, পানির ওপর ভেসে উঠেছে হাজার হাজার মরা মাছ। শার্শার রায়পুর-বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখো বিলে এই ঘটনায় খামার মালিকদের দাবি, তাঁদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার পর থেকে ঘের এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় যান্ত্রিক এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রাও দ্রুত কমতে থাকে। রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার আগেই মাছ মরতে শুরু করে।


    সোনামুখো বিলের ‘এ এফ মৎস্য খামার’ যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাঁদের দাবি, খামারে উৎপাদিত পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সেই মাছের বড় অংশ মারা যাওয়ায় এক রাতেই তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


    আলফাজুল হক জানান, বাজারে বিক্রির উপযোগী মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। মাছ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিপর্যয়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।


    তিনি বলেন, ‘বাজারে বিক্রির উপযোগী এসব মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। এখন এক রাতের ঘটনায় এত বড় ক্ষতি হয়েছে। এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে আমরা দিশেহারা।’
    আরেক খামারি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই খামারের আয়ের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেনের সংকট তৈরি হয়। এক রাতেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’


    খামার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ খামারে উৎপাদিত মানসম্মত পাবদা মাছের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ভারতে রপ্তানি করা হতো। ফলে খামারের উৎপাদনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিষয়টিও জড়িত ছিল।


    কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


    ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মাছ মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।
    খামারিদের দাবি, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা এবং সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

  • গাদ্দাফি পতনের ১৫ বছর পরও লিবিয়া ছাড়ছে মেধাবীরা

    গাদ্দাফি পতনের ১৫ বছর পরও লিবিয়া ছাড়ছে মেধাবীরা

    ২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পতনের মধ্য দিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসানের পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ১৫ বছর পরও দেশটির তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে শুধু দক্ষ জনশক্তিই হারাচ্ছে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের মানুষের আশাবাদও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    শনিবার (২২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

    ৩২ বছর বয়সী স্থপতি সারাহ মিজরান ত্রিপোলির পতনের সময় কিশোরী ছিলেন। আট বছর আগে তিনি শহরটি ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি তিনি টেকসই স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন। ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থাপনা নিয়েও গবেষণা করছেন তিনি।

    মিজরান বলেন, তরুণ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়লে লিবিয়া শুধু দক্ষতাই হারায় না, সম্ভাবনার ভিত্তিও হারায়। একটি প্রজন্ম যদি মনে করে ভবিষ্যৎ গড়তে হলে দেশ ছাড়তেই হবে, তাহলে নিজের দেশ নিয়েও তাদের আশা কমে যায়।

    ২৪ বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান মিজরান। সেখানে তাকে ভিন্ন পেশাগত সংস্কৃতি ও কাজের ধরন সম্পর্কে নতুন করে শিখতে হয়েছে।

    তবে মিজরান একা নন। লিবিয়ার আরও বহু তরুণ পেশাজীবী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন।

    ৩৬ বছর বয়সী নাদের এলগাদি ২০১৪ সালের শেষ দিকে ত্রিপোলিতে নিজের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় লিবিয়ার দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনিও স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে যান।

    পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও অধিকারকর্মীদের ওপর হুমকি বাড়তে থাকায় তিনি যুক্তরাজ্যেই থেকে যান। এলগাদি বলেন, লিবিয়ায় নিজের ব্যবসা চালিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করা থেকে যুক্তরাজ্যে এসে তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথম দুই বছর তার জন্য খুব কঠিন ছিল।

    ২০১৮ সালে এলগাদি ‘লিবিয়া ইন দ্য ইউকে’ নামে একটি সাংস্কৃতিক দাতব্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। লিবীয় প্রবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লিবিয়া সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

    ত্রিপোলির পতনের ১৫ বছর পর মিজরান ও এলগাদি দুজনই যুক্তরাজ্যকে নিজেদের ঘর হিসেবে দেখছেন। তবে লিবিয়ার প্রতি তাদের টান এখনো রয়েছে।

    মিজরান বলেন, ঘর এমন কিছু নয়, যা একবার খুঁজে পেলেই চিরদিনের জন্য পাওয়া যায়। বরং এটি বারবার নতুন করে তৈরি করতে হয়।

    এলগাদি নিজেকে এখন একজন ‘যাযাবর’ হিসেবে দেখেন। স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাও আর করেন না। তবে তার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।

    দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ায় লিবিয়ার শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ রয়েছে।

    ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো তারেক মেগেরিসি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এখনো কয়েক হাজার দক্ষ ও কারিগরিভাবে যোগ্য মানুষ কাজ করছেন। তবে তাদের অনেকেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারণে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

    তার মতে, ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লিবীয় দেশে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেক দক্ষ তরুণ পেশাজীবীও ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পদে থাকা অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তুলনায় বেশি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকে গাদ্দাফি সরকারের মতোই আচরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    মেগেরিসির মতে, দুর্নীতিও দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০১১ সালের পর বেড়ে ওঠা উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দেশ ছাড়তে চাইছে।

    তিনি বলেন, লিবিয়ায় যদি সত্যিকারের, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিদেশে থাকা এই দক্ষ জনশক্তি খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসবে।

    তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিআরআই মেনাসের সহযোগী টবি চিতায়াত মনে করেন, লিবিয়ার মেধাপাচারের প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তার মতে, পূর্ব ও পশ্চিমে দেশটির বিভক্তি, অস্থিতিশীল তেল রাজস্ব এবং ব্যাপক দুর্নীতির তুলনায় দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ার প্রভাব দেশটির শাসনব্যবস্থা বা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর তুলনামূলকভাবে কম।

    তবে তিনিও মনে করেন, লিবিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের পুনঃসম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।

  • ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি

    ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি

    এসময় সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির অন্যান্য সূচকেও নিম্নমুখীতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচকের নিম্নমুখীতা দেখা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহ ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্ট।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ৩১৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আর লেনদেন হয়নি ২৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ, ইসলামী ব্যাংক ও এলএইচবির শেয়ার।

    খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া কাগজ খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, সিরামিক খা‌তে ৩ দশ‌মিক ৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে একমাত্র ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে, দশমিক ২ শতাংশ।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৮০৩ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশ‌মিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৪৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৬২৮ পয়েন্ট।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ২৪১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির শেয়ারদর।

  • কসোভোয় গণকবরের সন্ধান, মিলল ২৩ জনের দেহাবশেষ

    কসোভোয় গণকবরের সন্ধান, মিলল ২৩ জনের দেহাবশেষ

    কসোভোয় নতুন করে গণকবরের সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দশকের জাতিগত সংঘাতের সময় নিহতদের লাশ সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এমন তিনটি স্থান খুঁড়ে অন্তত ২৩ জনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্থানীয় সময় বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির প্রসিকিউটর, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানান, ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের দলগুলো অন্তত ২৩ ব্যক্তির কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কসোভো যুদ্ধে স্বাধীনতাকামী জাতিগত আলবেনীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সার্বীয় বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিহত এবং ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি।

    দেশটির উত্তরাঞ্চলের জুবিন পোটোক এলাকায় দুই সপ্তাহ আগে খননকাজ শুরু হয়। নিখোঁজ জাতিগত আলবেনীয়দের সন্ধানে চালানো এ অভিযানে পাওয়া দেহাবশেষগুলো ১৯৯৯ সালের বসন্তে মিত্রোভিৎসা শহর থেকে অপহরণ করে হত্যা করা ২৩ আলবেনীয়ের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি খননকাজ চলাকালে এ দাবি করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে সব দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

    এ ঘটনায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্থানীয় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের সন্দেহে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটররা।

  • জাপানে বিদেশি পর্যটকের ওপর ভালুকের হামলা

    জাপানে বিদেশি পর্যটকের ওপর ভালুকের হামলা

    জাপানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লেক তোওয়াদার কাছে বিদেশি পর্যটকের ওপর ভালুকের হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আওমোরি প্রিফেকচার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লেক তোওয়াদা উপকূলের একটি পর্যবেক্ষণ ডেকের কাছে ওই পর্যটককে আক্রমণ করে ভালুকটি। হামলায় তার ডান হাতে কামড় লাগে।

    আহত পর্যটককে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তোওয়াদা সিটি সরকার ও স্থানীয় দমকল বিভাগের তথ্য বলছে, হামলার পরও ওই ব্যক্তি সচেতন ছিলেন এবং কথা বলতে পারছিলেন।

    জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে ভালুকের সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। জাপানের সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে দেশটির ১৭টি প্রিফেকচারে ভালুকের হামলায় ছয়জন নিহত এবং অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। ২০০৮ সালে তুলনামূলক হিসাব সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর একই সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটেছে পাহাড়ি বনাঞ্চলে। অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি একা ছিলেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই বনে বুনো উদ্ভিদ সংগ্রহের সময় ভালুকের হামলার শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ভালুকের হামলায় দেশটিতে ২৩৮ জন আহত এবং ১৩ জন নিহত হন।

  • অন্য দেশে আক্রমণে ইরাক তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না

    অন্য দেশে আক্রমণে ইরাক তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না

    ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি বলেছেন, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাগদাদ ডায়ালগ সম্মেলনের অষ্টম আসরের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি তিনি এ কথা বলেন।

    আমিদি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ অঞ্চলের কোনো দেশের বিরুদ্ধে চালানো হামলার ‘কোনো যৌক্তিকতা নেই’। তিনি জানান, দেশটির মাত্র ‘দুই বা তিনটি’ সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি। তাদের অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

    ইরাকি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সংবিধানে বলা হয়েছে, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে। নাজাফের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও এ আহ্বান জানিয়েছে।’

    চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব ইরাকের ওপর ‘ব্যাপকভাবে পড়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আমিদি বলেন, এর প্রভাব শুধু ইরাকের ওপর নয়, পুরো বিশ্বের ওপর পড়েছে। হরমুজকে ঘিরে জটিল সমস্যাগুলো সমাধানে ইরাক ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

    ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’

    এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

    মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নারিন্দা বাজারের ক্রেতা মাক্কী বলেন, ‘বাজারে মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে কোনও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।’

    মাছ বিক্রেতা শফিক মিয়া বলেন, ‘মাছের দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।’

    ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

  • নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

    ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’

    এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

    মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নারিন্দা বাজারের ক্রেতা মাক্কী বলেন, ‘বাজারে মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে কোনও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।’

    মাছ বিক্রেতা শফিক মিয়া বলেন, ‘মাছের দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।’

    ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

  • জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে যারা

    জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে যারা

    নজিরবিহীন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ ও ভয়াবহ বাজেট সংকটে থাকা জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন পাঁচ নারী ও তিন পুরুষ।

    বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এ বিষয়ে বিভক্ত থাকায় কে এগিয়ে আছেন, তা বলা কঠিন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তবে প্রার্থীদের সমর্থন যাচাইয়ে প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন।

    অন্য প্রার্থীরা হলেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রসি, যিনি বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান, চিলির মিশেল বাচেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি, উগান্ডার ওলার ওতুন্নু ও সেনেগালের ম্যাকি সাল।

    জাতিসঙ্ঘের ভবিষ্যৎ মহাসচিব নির্বাচনে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে বেছে নেবে। পরে তার নাম সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে কোনো প্রার্থীকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় নয়টি ভোট পাওয়ার পাশাপাশি ভেটোও এড়াতে হবে।

    তাই জাতিসঙ্ঘের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার হাতে।

    প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :

    রেবেকা গ্রিনস্প্যান

    কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রিনস্প্যান জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রধান। তবে জাতিসঙ্ঘের শীর্ষ পদে প্রচারণা চালাতে তিনি দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়েছেন।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শস্য রফতানি চালু রাখতে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে তিনি কূটনৈতিক সাফল্য দেখান।

    ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান নিজের পারিবারিক ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন। তিনি ইহুদি বাবা-মায়ের সন্তান। তার ভাষায়, তারা হলোকাস্টে ‘কোনোভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন’ এবং পরে কোস্টারিকায় অভিবাসী হন।

    মিশেল বাচেলেত

    চিলির সমাজতন্ত্রী বাচেলেতকে অগাস্তো পিনোশের শাসনামলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। ২০০৬ সালে তিনি চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হন।

    পরে তিনি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনকালে কিছু দেশের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে চীনের সাথে। দেশটির উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর বেইজিংয়ের নির্যাতন নিয়ে তার প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই দূরত্ব আরো বাড়ে।

    ৭৪ বছর বয়সী বাচেলেত বলেছেন, বড় শক্তিগুলোর চাপের মধ্যেও জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ‘নৈতিক কণ্ঠস্বর’ থাকা উচিত।

    মেক্সিকো ও ব্রাজিল তাকে সমর্থন করছে। তবে কট্টর-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত দায়িত্ব নেয়ার পর চিলি তার সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। বিশেষ করে গর্ভপাতের অধিকারের প্রতি তার সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও বাচেলেতের সমালোচনা করেছে।

    মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা

    ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপিনোসা জাতিসঙ্ঘকে মানবজাতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার একমাত্র সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি জাতিসঙ্ঘে আরো ব্যাপক সংস্কার চান।

    ৬১ বছর বয়সী এসপিনোসা জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি। সম্ভাব্য সংঘাতের লক্ষণ শনাক্ত ও সতর্ক করতে তিনি একটি ‘আগাম সতর্কতা’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।

    অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছে। তবে নিজ দেশ ইকুয়েডর তাকে সমর্থন করেনি।

    রাফায়েল গ্রসি

    ৬৫ বছর বয়সী গ্রসি আর্জেন্টিনার পেশাদার কূটনীতিক। ২০১৯ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান। এ দায়িত্ব তাকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    একইসাথে ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    মহাসচিব পদে প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি বর্তমান দায়িত্ব ছাড়েননি। তার মতে, তা করা হবে ‘দায়িত্বে অবহেলা।’

    কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, জাতিসঙ্ঘে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গ্রসি আরো জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তারা মনে করেন, জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের আরো সক্রিয় ভূমিকা নেয়া উচিত বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট

    ৫২ বছর বয়সী রড্রিগেস-বির্কেট গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জাতিসঙ্ঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত।

    তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অঙ্গনে জাতিসঙ্ঘকে তার ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ ফিরিয়ে আনতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘শান্তি ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে জাতিসঙ্ঘকে বিচার করা হয়। কিন্তু জাতিসঙ্ঘ এর চেয়ে অনেক বড়। উন্নয়ন, মানবাধিকারসহ অনেক ক্ষেত্রে সংস্থাটি কাজ করছে।’

    ইভোনে এ-বাকি

    ৭৫ বছর বয়সী ইভোনে এ-বাকি ইকুয়েডরের কূটনীতিক ও রাজনীতিক। তিনি ওয়াশিংটনে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলে মনে করা হয়।

    টোঙ্গার মনোনীত প্রার্থী এ-বাকির উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তিনি কাতারে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    লেবানিজ বাবা-মায়ের সন্তান এ-বাকি ১৯৯৫ সালের সংক্ষিপ্ত সীমান্তযুদ্ধের পর ইকুয়েডর ও পেরুর মধ্যে সংলাপের ব্যবস্থা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমি যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বেঁচে এসেছি। জাতিসঙ্ঘ সনদের মৌলিক অঙ্গীকার পরবর্তী প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা নতুন করে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে আমি প্রস্তুত।’

    ম্যাকি সাল

    ৬৪ বছর বয়সী ম্যাকি সাল একমাত্র প্রার্থী, যিনি ল্যাটিন আমেরিকার নন। রীতি অনুযায়ী পরবর্তী জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব ল্যাটিন আমেরিকা থেকে আসার কথা।

    সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাল শান্তি ও উন্নয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আফ্রিকান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বুরুন্ডির প্রস্তাবিত প্রার্থী সাল এ সপ্তাহে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশের সমর্থনও পেয়েছেন।

    সেনেগালের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সহিংস রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এসব বিক্ষোভে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন।

    ওলার ওতুন্নু

    ৭৫ বছর বয়সী ওতুন্নু ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব কফি আনানের অধীনে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল এবং বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি জাতিসঙ্ঘে উগান্ডার দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অল্প সময়ের জন্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

    ২০১১ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল উগান্ডা পিপলস কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন ওতুন্নু। তবে ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘদিনের নেতা ইয়োওয়েরি মুসেভেনির কাছে তিনি পরাজিত হন।

  • মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

    মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

    নবীজি (সা.)-এর আগমন পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। কেননা তিনি এসেছিলেন বিশ্বজগতের জন্য করুণা হয়ে। হাদিসের আলোকে হাতির বছর, অর্থাৎ যে বছর আবরাহা হাতি নিয়ে কাবাঘর ধ্বংসের জন্য মক্কা আক্রমণ করেছিল, সে বছর নবীজি (সা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সাহাবি কায়েস ইবনে মাখরামা (রা.) বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) দুজনেই ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেছি। (তিরমিজি : ৩৬১৯)

    আর তাঁর জন্মবারটি ছিল সোমবার। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন, সোমবারে নবুয়ত লাভ করেন, সোমবারে ইন্তেকাল করেন, সোমবারে মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনার পথে রওনা করেন, সোমবারে মদিনায় পৌঁছান এবং সোমবারেই তিনি হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৫০৬)নবুয়ত প্রাপ্তির পর এই দিন তিনি রোজা রাখতেন। সাহাবি আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন, এ রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমি নবুয়ত লাভ করেছি।’ (মুসলিম ১১৬২)

    তিনি এসেছিলেন আমাদের জন্য রহমত বা করুণাস্বরূপ। আর আমাদের জন্য করুণা হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন আল্লাহর শরিয়ত বা ইসলামি জীবনবিধান। তাই আমাদের কর্তব্য, তাঁর আগমনের শুকরিয়া হিসেবে জীবনব্যাপী তাঁর আনীত শরিয়ত প্রতিপালন করা। ওপরের হাদিসটিতে আমরা দেখেছি, তিনি তাঁর জন্মের দিন, অর্থাৎ সোমবারে রোজা রাখতেন। উম্মত তাঁর অনুসরণে সাপ্তাহিকভাবে সোমবারে রোজা রেখে তাঁর আগমনে শুকরিয়া আদায় ও আনন্দ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু এ দিনটিকে বার্ষিক ঈদ বানানোর কোনো শিক্ষা তাঁর আনীত শরিয়তে নেই, বরং এর বিপরীত শিক্ষাই হাদিসে রয়েছে।

    প্রথমত, তিনি তাঁর জন্মদিন হিসেবে সাপ্তাহিক সোমবারকে চিহ্নিত করেছেন, বার্ষিক কোনো তারিখকে নয়। দ্বিতীয়ত, জন্মদিনে তিনি রোজা রাখতেন। আর তাঁর শিক্ষায় রোজা ঈদের বিপরীত বিষয়। হাদিস শরিফে এসেছে, উম্মে সালমা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) শনিবার ও রোববারে সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলতেন, এ দুটি দিন মুশরিকদের ঈদ-আনন্দের দিন। তাই এভাবে আমি তাদের বিরোধিতা করতে চাই। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৬১৬)

    আমাদের কর্তব্য তাঁর নির্দেশনার আলোকে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজ-প্রচলনের ওপর তাঁর শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া। এটাই তাঁকে ভালোবাসার দাবি।

  • সিরাতচর্চায় পরিশীলিত জীবন

    সিরাতচর্চায় পরিশীলিত জীবন

    একটি জীবন কতদূর বিস্তৃত হতে পারে, কতটুকু দীপ্তি ছড়াতে পারে এবং সমাজ সংস্কারে কতখানি প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরোলেও অদ্যাবধি গতিশীল? যাপিত জীবনের প্রতিটি পর্যায় কতটুকু পরিশীলিত হতে পারে এবং কতখানি আদর্শিক হতে পারে? এমন জীবনের অনুকরণ করা কি আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক নয়, যে জীবনের প্রতিটি ধাপে আছে মহান রবের আনুগত্য আর পরম দয়া? সেই জীবন আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর। জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে অনুসরণের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ তাঁর জীবনী তথা সিরাত। পরিশীলিত জীবন গঠনের সূতিকাগার হিসেবে সিরাতচর্চা এক অদ্বিতীয় মাধ্যম।

    পরিশীলিত জীবন বলতে কী বোঝায়, সিরাত কী, সিরাতচর্চার উদ্দেশ্য কী, কেন সিরাতচর্চা অপরিহার্য, জীবনের প্রতিটি স্তরে সিরাত কেন প্রাসঙ্গিক এবং সিরাত অনুসরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে আমরা জানার চেষ্টা করব, বি-ইজনিল্লাহ।সময়ের সদ্ব্যবহার, কথাবার্তায় সংযম, আচার-আচরণে সৌন্দর্য, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও মানুষের প্রতি উত্তম ব্যবহারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মার্জিত ও আদর্শিক জীবনই পরিশীলিত জীবন।

    সিরাত আরবি ‘সিরাহ’ শব্দ থেকে এসেছে। আভিধানিক অর্থ জীবনচরিত, জীবনপদ্ধতি বা জীবনবৃত্তান্ত। ইসলামি পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত তাঁর সামগ্রিক জীবন, কর্ম, চরিত্র, আচরণ, দাওয়াত, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ধারাবাহিক বিবরণকে সিরাতুন্নবী বলা হয়। অর্থাৎ মহানবী (সা.)-এর সার্বিক জীবনচরিতকে বোঝানো হয়েছে, যা মহান রব মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম আদর্শ হিসেবে মনোনীত করেছেন। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আল-আহজাব: ২১)

    নবীজির জীবনী আমাদের চলার পথকে মহান রবের সন্তুষ্টির সেই সরল পথে পরিচালিত করে, যার চূড়ান্ত গন্তব্য জান্নাত। সিরাতচর্চা কেবল সাহিত্যের আকারে রাসুলের জীবনী পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। নবীজির বাণীর মশাল দিয়ে আবারও সমগ্র বিশ্ববাসীকে আলোকিত করতে হবে, যাতে মানবসমাজ বর্তমান যুগের অন্ধকারের মাঝে ঠিক তেমনই মুক্তির পথের সন্ধান পায়, যেমনটি পেয়েছিল খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর সংকট উত্তরণের সময়ে। সুতরাং সিরাতচর্চার উদ্দেশ্য শুধু রাসুলের জীবনেতিহাস জানা নয়; বরং তাঁর জীবনী থেকে পরিশীলিত জীবনযাপনের আদর্শ গ্রহণ করে তদনুসারে নিজেদের জীবনকে গড়ে তোলা।

    ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, কিংবা রাষ্ট্রীয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন এক অনন্য আদর্শ ও বাস্তব দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে। সিরাতের চর্চা আমাদের সেই আদর্শের বাস্তব রূপ তুলে ধরে। তিনি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনা করতেন, তাঁর সময় ব্যবস্থাপনা ও সদ্ব্যবহার করতেন, পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও আত্মসংযমে কেমন ছিলেন, ইবাদত, পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্যাভ্যাস কেমন ছিল—এসবের পাশাপাশি সামাজিক জীবনে আচরণ কিংবা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপেরও বাস্তব প্রতিফলন সিরাতে পাওয়া যায়। ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র পরিশীলিত ও আদর্শমণ্ডিতভাবে গড়ে তুলতে রাসুলের সিরাতচর্চার অপরিহার্যতা আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    মহান আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা পেতে হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে—‘(হে নবী!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)। ইবাদত কবুলের জন্য ইখলাসের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণও অপরিহার্য। অর্থাৎ নিয়তের একনিষ্ঠতা ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশিত পদ্ধতি।

    মহানবী (সা.) ছিলেন পবিত্র কোরআনের বাস্তব ও জীবন্ত রূপ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তাঁর চরিত্র ছিল আল-কোরআন।’ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।’ (সুরা আল-কলম: ৪)। পবিত্র কোরআনকে নিখুঁতভাবে ধারণ ও হৃদয়ঙ্গম করতে হলে রাসুলের সিরাতচর্চার পাশাপাশি সেটির অনুসরণের বিকল্প নেই।

    রাসুলের সিরাত আমাদের সরল পথ চলতে সহায়তা করে, জীবনকে আলোকিত করে, রবের প্রিয়ভাজন বান্দা করে তোলে। তাই আমাদের প্রত্যয় হোক—সিরাতচর্চার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে পরিশীলিত ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমিন।

  • পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

    পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

    দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এতে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত এক সেমিনারে এই সমীক্ষার তথ্য জানানো হয়। ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অংশীজনেরা অংশ নেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের পোশাক কারখানায় চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে। এটি ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

    খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ৫০০ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে। নানা সুবিধা দিয়ে আরও শিগগিরই ১ হাজার ৩০০ কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাকি ১ হাজার ৫০০–এর মতো কারখানায় নীতিসহায়তাসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উপযোগী করা যাবে। তিনি মনে করেন, সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানো প্রয়োজন।

    শুল্কায়নে জটিলতার অভিযোগ

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্কসুবিধা দেওয়া হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও প্রতি কেজিতে তিন ডলার করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে শুল্ক ভার ২৭ শতাংশের বেশি পড়ে। এতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর খরচের বোঝা বাড়ে।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বললেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি কম।

  • ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

    ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

    ফেডারেল ইনস্যুরেন্স পিএলসির ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাব ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।

    কোম্পানির চেয়ারম্যান এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস সিদ্দিকী; নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল; অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন; বিনিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান আবেদা আক্তার; মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি এবং গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ প্রতিকার কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান; সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালক মোরশেদুল শফি, খাদিজাতুল আনোয়ার, তাহরির নাওয়াজ, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তৌহিদুল আলম, মমতাজ বেগম, রাকিবুল হক, হাসিনা বানু, আবরারুল হক ও জিয়া উদ্দিন; বিকল্প পরিচালক সৈয়দ আমজাদ হোসেন ও রাশেদা বেগম; মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সিএফও মাসুদ হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ক্রেডিট রেটিং ‘এএএ’ অর্জনে শেয়ারহোল্ডাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া ও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব সত্ত্বেও কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • ১০০ অভিবাসীবোঝাই বোট মাঝ নদীতে ইঞ্জিন বিকল

    ১০০ অভিবাসীবোঝাই বোট মাঝ নদীতে ইঞ্জিন বিকল

    ফ্রান্সের উপকূলের কাছে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়া প্রায় ১০০ অভিবাসীবোঝাই একটি ছোট বোটকে শেষ পর্যন্ত জেটস্কি দিয়ে টেনে নিরাপদে নেয়া হয়েছে। বোটটি সমুদ্রে বাসস্টপের মতো অপেক্ষা করা অভিবাসীদের একে একে তুলে নিচ্ছিল।

    এ সময় ইঞ্জিন খুলে পড়ে যায়। অভিবাসীরা বোটে ওঠার সময় পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছিল। বোটটি বিকল হয়ে যাওয়ার পরই তারা জেটস্কি ডেকে এনে তা টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালে থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ফ্রান্সের ল্য তুকে এলাক

    ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন বিকল না হলে কর্তৃপক্ষ বোটটিকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে বৃটিশ জলসীমায় পৌঁছানো পর্যন্ত পাহারা দিয়ে নিয়ে যেত। এ ঘটনায় ফরাসি পুলিশের ওপর ছোট বোটে করে অভিবাসীদের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া ঠেকাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চাপ বাড়ল। বিশেষ করে যখন কোনো বোট সফলভাবে বৃটেনে পৌঁছানোর মতো অবস্থায় থাকে, তখন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠছে।

    ঘটনার সময় বোটটি বিপজ্জনকভাবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছিল। এরপরও আরও কয়েকজন অভিবাসী বুক সমান পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে বোটটিতে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে এর মধ্যে কোন কোন দেশের অভিবাসী আছেন তা পরিষ্কার জানা যায়নি।

  • নিজ এলাকা ছেড়ে পানামা যাচ্ছে সামুদ্রিক পাখিরা

    নিজ এলাকা ছেড়ে পানামা যাচ্ছে সামুদ্রিক পাখিরা

    মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। রাজধানী পানামা সিটির আকাশে চক্কর দিচ্ছে শত শত সামুদ্রিক পাখি। এটি শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিরল এক দৃশ্য। কারণ, পাখিগুলো সে দেশের উপকূলে খুব একটা দেখা যায় না। সেগুলো এসেছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি ও পেরু থেকে। পাখিদের এই স্থানবদলকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।

    পাখিদের এই জায়গা বদলের কারণ কী? গবেষকদের উত্তর একটাই—শক্তিশালী এল নিনো। এই এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের পানি উষ্ণ করে তুলেছে। ফলে সেখানকার মাছগুলো খাবার সংগ্রহের জন্য সাগরের অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। এই মাছগুলো যেহেতু ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পাখিদের খাবার, তাই সেগুলোরও এলাকা বদলাতে হচ্ছে।

    এল নিনো আসলে প্রাকৃতিক একটি ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সময় পরপর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াকে এল নিনো বলে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং আবহাওয়ার ধরনে বদল আসে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে এল নিনো শক্তিশালী হতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল জাতিসংঘ।

    পাখি দেখার তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের তথ্য সংগ্রহকারী প্ল্যাটফর্ম ই–বার্ডের হিসাব বলছে, চলতি বছরের জুন থেকে পানামা সিটির কাছে পেনন সে সান হোসে ও এর আশপাশের এলাকায় ৬০ থেকে ৪০০টি ‘ব্লু ফুটেড বুবি’ পাখি দেখা গেছে। ২০১৪–১৬ সালের এল নিনোর সময় সেখানে এই পাখি দেখা গিয়েছিল ২১ থেকে ২০০টি। আর ২০২৩–২৪ সালের এল নিনোর সময় দেখা গিয়েছিল ৩ থেকে ৬২টি।

    যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবাদী সংগঠন অডুবন সোসাইটির পরিচালক রোসাবেল মিরো বলেন, জুন মাস থেকে এসব অতিথি পাখির দেখা মিলছে। এগুলো পরিযায়ী পাখি নয়। খাবারের অভাবেই বাধ্য হয়ে সেগুলোকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে হচ্ছে। এই পাখিগুলোর উপস্থিতি তখনই জানান দিচ্ছিল যে প্রশান্ত মহাসাগরে এবার খুব শক্তিশালী এল নিনো হতে চলেছে।

    এল নিনোর প্রভাব শুধু পাখিদের স্থান বদলের মধ্যে আটকে থাকছে না বলে জানান রোসাবেল মিরো। তিনি বলেন, অতীতের এল নিনোগুলো দেখিয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা এসব পাখির প্রজননচক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তাদের প্রজননে সফলতার হারও কমে। এবার এল নিনো যেহেতু বেশ শক্তিশালী, পাখিগুলোর প্রজননে এর বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

  • একনজরে খলিফা আলী (রা.)

    একনজরে খলিফা আলী (রা.)

    পূর্ণ নাম : আলী ইবন আবি তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব আল-হাশিমী

    • কুনিয়াত : আবুল হাসান

    • প্রসিদ্ধ নাম : আবু তুরাব

    • গোত্র : বনু হাশিম, কুরাইশ

    • পিতা : আবু তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব

    • মাতা : ফাতিমা বিনতে আসাদ (রা.)

    • সম্পর্ক : নবী (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা

    • স্ত্রী : ফাতিমা (রা.)—নবী (সা.)-এর কন্যা

    • সন্তান : হাসান ও হোসাইন (রা.)-সহ অন্যান্য সন্তান

    • শাহাদত : ৪০ হিজরি, কুফা

    বিশেষ মর্যাদা

    ১. নবী (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাহাবি।

    ২. খায়বারের দিন বিশেষ মর্যাদা ও ভূমিকা। সহিহ মুসলিম : ২৪০৫

    ৩. ‘আবু তুরাব’ নামটি নবী (সা.)-এর দেওয়া। সহিহ বুখারি : ৩৭০৩

    ৪. আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ মুসলিম : ২৪০৪

    ৫. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। জামে আত-তিরমিজি : ৩৭৪৮

    ৬. খোলাফায়ে রাশেদিনের একজন এবং মুসলিম উম্মাহর চতুর্থ খলিফা।

    আলী (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)

    • তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার সঙ্গে তোমার মর্যাদা এমন, যেমন মুসার সঙ্গে হারুনের মর্যাদা ছিল? তবে আমার পরে কোনো নবী নেই। (মুসলিম : ২৪০৪)

    আলী (রা.) সম্পর্কে আহলে সুন্নাহর অবস্থান

    • আলী (রা.) ছিলেন একজন সাহসী মুজাহিদ এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় প্রসিদ্ধ একজন মহান সাহাবি।

    • আমরা আলী (রা.)-কে গভীরভাবে ভালোবাসি ও সম্মান করি এবং তাকে খোলাফায়ে রাশেদিনের চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিশ্বাস করি। তার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে যা প্রমাণিত, আমরা তা গ্রহণ করি; তবে তার ব্যাপারে অতিরঞ্জন বা নবী (সা.)-এর পর নির্ধারিত উত্তরসূরি মনে করা—সহিহ দলিল ছাড়া গ্রহণ করি না।

    • একইভাবে কোনো সাহাবির অবমাননা বা গালাগালকেও সমর্থন করি না।

    প্রধান সূত্র : সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, জামে আত-তিরমিজি এবং সাহাবিদের জীবনী গ্রন্থগুলো

  • কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা ২৩২৫

    কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা ২৩২৫

    ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাব। রোববার নাগাদ এতে দেশটিতে কমপক্ষে ২৩২৫ জন মানুষ মারা গেছেন এই সংক্রমণে। এ তথ্য সেখানকার সরকারের। এর আগে ২০১৮-২০২০ সময়কালে সেখানে একবার এই প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।

    কিন্তু এবার সেই সময়ের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে দেশটিতে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা দিয়েছে ইবোলা সংক্রমণ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরও বলা হয়, সেখানে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৪৯৪৫। ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ১০১ জনের সংক্রমণ।

    ২০১৮-২০২০ সময়কালে ইবোলা সংক্রমণে সেখানে নিহত হন ২২৯৯ জন মানুষ। এটা ছিল কঙ্গোতে দ্বিতীয় সবচেয়ে ভয়াবহ সংক্রমণ। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার তিন মাস পর এটি শুধু পশ্চিম আফ্রিকার ২০১৪-২০১৬ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পরেই সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রাদুর্ভাবে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে মোট ২৮ হাজার ৬১৬টি সংক্রমণ এবং ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর ১ হাজার মানুষের মৃত্যুতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। বিপরীতে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতি। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। ১৫ই মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে আক্রান্তদের শনাক্ত করা এবং তাদের চিকিৎসার আওতায় আনার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস প্যারিশ সম্প্রতি ডিআরসিতে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণত কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ অনুসরণ বা কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং উন্নত হয় এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়।

    ফলে মৃত্যুর হার কমে আসার কথা। কিন্তুএর পরিবর্তে আমরা এখনো অনেক রোগীকে অত্যন্ত দেরিতে শনাক্ত হতে দেখছি। তখন চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কিছু পরীক্ষামূলক টীকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখছে, বর্তমানে বিদ্যমান ইবোলার চিকিৎসা বান্দিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা দিতে পারে কি না। তবে এ পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রমাণ মূলত প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

  • ব্রিটেনে সাইক্লিংয়েরও গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হলো

    ব্রিটেনে সাইক্লিংয়েরও গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হলো

    বেপরোয়া গতিতে সাইকেল চালানোর কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে প্রথমবারের মতো সাইকেল চালকদের জন্য ঘণ্টায় ১৫ মাইল বা প্রায় ২৪ কিলোমিটার গতিসীমা চালু করা হয়েছে। দেশটির ‘সাইক্লিং ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত শহরটির জনপ্রিয় একটি পথে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।

    ক্যামব্রিজশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা—বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের পরিবার—দীর্ঘদিন ধরে সাইকেল চালকদের অতিরিক্ত গতির বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নতুন এই উদ্যোগ।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, নতুন গতিসীমা শহরের ১৬ মাইল দীর্ঘ ‘গাইডেড বাসওয়ে’-র পাশে থাকা দুটি যৌথ ব্যবহারের পথে কার্যকর হয়েছে। পথগুলোতে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও ঘোড়সওয়ার সবাই একই জায়গা ব্যবহার করেন। নির্দিষ্ট স্থানে গতিসীমা শনাক্তকারী যন্ত্র ও সতর্কবার্তা স্থাপন করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতিতে চলা সাইকেল আরোহীদের ধীর গতিতে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ ও বাসওয়ে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা স্পিড মনিটরিং যন্ত্র ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করবেন। প্রথমবার ধরা পড়লে সতর্ক করা হতে পারে; পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয়দের কেউ কেউ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কয়েকজন সাইকেল আরোহী বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। এক আরোহী ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি ঘণ্টায় ১৬ মাইল গতিতে চলছেন। অন্য একজন সীমাটিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।

    অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতেও দেখা যায়, কিছু সাইকেল আরোহী বাসওয়ের পথে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে চলছেন এবং কুকুর নিয়ে হাঁটা মানুষ, বয়স্ক পথচারী ও ছোট শিশুদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ই-বাইক পরিবর্তন করে নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চালানোর বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্যামব্রিজের বাসওয়ে ২০১১ সালে চালুর পর থেকেই নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত। গত বছর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউন্সিলকে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা দিতে হয়। বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জেনিফার টেলর, স্টিভেন মোয়ার ও ক্যাথলিন পিটস নামে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনাও এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    কাউন্সিল বলেছে, নতুন গতিসীমার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এলাকাটিতে অতিরিক্ত গতিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় নিয়মিত টহল ও আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় নভেম্বর থেকে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি

    অস্ট্রেলিয়ায় নভেম্বর থেকে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি

    আন্তর্জাতি ডেস্ক:

    সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে এই কর্মসূচি চালু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

    ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কা উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেয় সরকার।

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষ তাদের রাইফেল ও হ্যান্ডগান সরকারের কাছে জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি অস্ত্র ফেরত দেওয়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

    অস্ট্রেলিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪১ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ১১ লাখের বেশি ছিল দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে।

    প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অস্ত্র আইন নিয়ে দেশবাসীর গর্ব করার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে বাস্তবতা হলো, ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার হত্যাকাণ্ডের পর যে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তার সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে অস্ত্রের সংখ্যা আরও বেশি।

    ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে বন্দুক হামলায় ৩৫ জন নিহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। নতুন এই উদ্যোগটিকে সেই সময়ের পর দেশটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বন্ডি বিচ হামলার পর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একজন ব্যক্তির কাছে সর্বোচ্চ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া সরকার আশা করছে, নতুন অস্ত্র ফেরত কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ বা অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রের সংখ্যা কমবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

  • ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ

    ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ

    এক্সচেঞ্জটিতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৯৯৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমলেও এ সময়ে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৯২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮১ পয়েন্ট।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২টির, কমেছে ২০৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও এনআরবিসির শেয়ার।

    খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১ শতাংশ করে দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ শতাংশ।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া সেবা খাতে ৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, বিবিধ খা‌তে ২ দশ‌মিক ৯ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশ‌মিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৮০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৭২৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশ‌মিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৫৮১ পয়েন্ট।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে ২০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৬২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির শেয়ারদর।

  • তালেবানের পাঁচ বছর: রাষ্ট্র টিকেছে, তবে মূল্য দিতে হচ্ছে আফগানদের

    তালেবানের পাঁচ বছর: রাষ্ট্র টিকেছে, তবে মূল্য দিতে হচ্ছে আফগানদের

    ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর পাঁচ বছর পার করেছে তালেবান। এই সময়ে দেশটিতে বিদেশি সেনা নেই, বড় ধরনের সশস্ত্র বিরোধিতাও গড়ে উঠতে পারেনি। তালেবান সরকার দেশটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। তবে এর বিনিময়ে আফগানিস্তান আরও দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন ও দমনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের ওপর নানা বিধিনিষেধ তালেবান শাসনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

    কাবুলে প্রশাসন, ক্ষমতার কেন্দ্র কান্দাহার
    তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কান্দাহার থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন। গত পাঁচ বছরে তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী থেকে তালেবানকে একটি কঠোর কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থায় রূপান্তর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও কান্দাহারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে।

    কাবুলে মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, মাওলভি ইয়াকুব ও আমির খান মুত্তাকির মতো নেতারা দৈনন্দিন প্রশাসন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছেন। তবে বড় রাজনৈতিক, বিচারিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কান্দাহারের নেতৃত্বের প্রভাবই বেশি।

    তালেবান তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সুবিধা, আদর্শগত আনুগত্য এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে অনুগতদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে। প্রায় ১৫ হাজার নিবন্ধিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভাতা ও বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও এই নেটওয়ার্কের অংশ।

    অর্থনীতিতে গভীর সংকট
    ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাচ্ছে। তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে আসত। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়।

    তালেবান সরকার শুল্ক ও খনিজ রয়্যালটি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে সক্ষম হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার বড় সুফল দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

    জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মে মাসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আফগান অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়লেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ২০২৩ সালের পর ৫০ লাখের বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানোয় জনসংখ্যার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

    নারীদের ওপর বিধিনিষেধ
    তালেবান শাসনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দিক নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ। মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের পড়াশোনা ও শিক্ষকতা নিষিদ্ধ। চলাফেরা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নারীরা নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নিপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার অর্থনৈতিক প্রভাবও বড়। জাতিসংঘের হিসাবে, নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ সীমিত করার কারণে আফগানিস্তানের বছরে ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ।

    পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি
    একসময় তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে পাকিস্তান নিজেদের জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক এখন গভীর সংকটে। তালেবান পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে।

    পাকিস্তান ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে প্রায় ২৬ লাখ আফগানকে ফেরত পাঠিয়েছে, সীমান্তপথ একাধিকবার বন্ধ করেছে এবং আফগান ভূখণ্ডে পাল্টা বিমান হামলাও চালিয়েছে। অন্যদিকে তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    এই পরিস্থিতি তালেবানের জন্য বড় একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যাও তৈরি করেছে। কারণ, গোষ্ঠীটির কট্টরপন্থী অংশ টিটিপির সদস্যদের ঐতিহাসিক মিত্র হিসেবে দেখে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া তালেবানের ভেতরেও রাজনৈতিকভাবে কঠিন।

    সংখ্যালঘুরাও চাপে
    তালেবান শাসনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপরও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিয়া ও হাজারা জনগোষ্ঠী, যারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ, নানা ধরনের বঞ্চনার মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শিয়া মতবাদের শিক্ষা ও আইনি স্বীকৃতি সংকুচিত হয়েছে। কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শিয়া আলেমদের নতুন প্রাদেশিক উলামা পরিষদ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সালাফি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে।

    সামনে কী
    পাঁচ বছর পর সামরিক ও প্রশাসনিকভাবে তালেবান এখনো শক্ত অবস্থানে। সংগঠিত কোনো বিরোধী গোষ্ঠীর হাতে এমন বিদেশি সমর্থন, ভূখণ্ড বা ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব নেই, যা কাবুলের নিয়ন্ত্রণকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

    তবে তালেবানের জন্য বড় ঝুঁকি রয়েছে ভেতরেই। নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জীবিকার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠছে। বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি এই চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

    রাশিয়া, চীন ও মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক তালেবানকে কিছুটা অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের স্বীকৃতি না থাকা এবং কঠোর আদর্শিক শাসনব্যবস্থা দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।

  • মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

    মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

    দীর্ঘদিনের গ্যাস সঙ্কটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দু’টিই একসাথে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। সেই সাথে ভাসমান টার্মিনাল দু’টি থেকে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    আজ শনিবার ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। ফলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।

    পরে গত ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

    বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

    অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

    সূত্র বলছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

    স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

    আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • দুই কোরীয় যুদ্ধ শেষ চান-লি জে–মিউং

    দুই কোরীয় যুদ্ধ শেষ চান-লি জে–মিউং

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিউং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার তিনি বলেন, সংঘাত ঠেকাতে সিউল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি ‘শান্তিব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতালাভের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দুই কোরিয়ার আলোচনায় বসা উচিত। তিনি ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ওই যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।

    লি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সিউল আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

    লির এ আহ্বান মূলত গত বছর দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানানো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

    তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক এখনো অচলাবস্থার মধ্যে আছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে আবার এক করতে পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের নীতি বাদ দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এদিকে লির দেওয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি সংক্রান্ত পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে তারা।

    দ্য হিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ থেকে ৭৬ বছর আগে ১৯৫০ সালের ২৫ জুন ভোরে কমিউনিস্ট কোরিয়ান পিপলস আর্মির সেনারা সমন্বিত হামলা চালিয়ে দক্ষিণে রিপাবলিক অব কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন।

    কামান থেকে গোলা ছোড়ার পাশাপাশি সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোরিয়ান পিপলস আর্মি দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তখন একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। এ অবস্থায় তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে উত্তর কোরীয় বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও স্বৈরশাসক সিংম্যান রি উপকূলীয় শহর বুসানে অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।

    কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি আজও হয়নি। ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও সংঘাতটি আইনগতভাবে এখনো স্থগিত অবস্থায় আছে। দুই পক্ষের মধ্যে কখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (উত্তর কোরিয়া) ও রিপাবলিক অব কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া) এখনো উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত। তাদের মধ্যে ১৬০ মাইল দীর্ঘ একটি ডিমিলিটারাইজড জোন আছে। দুই দেশের এ সীমান্ত এলাকায় প্রায় ২০ লাখ সেনা টহল দিয়ে থাকেন।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

    ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

    ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শনিবার আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সির প্রধান সুহারিয়ান্তো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “৩৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুইজন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।”

    তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ২ হাজার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

    এর আগে নিহতের সংখ্যা কম ছিল। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • দিন গোনা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    দিন গোনা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মেরামত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত দিন গোনা ও লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এফএসআরইউর ত্রুটি সারানোর জন্য কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া, আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু (করার) নাই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যেন কম লোডশেডিং হয়, আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা। এছাড়া আপনিই বলেন আমার হাতে আর কী থাকতে পারে।’

    এসময় তিনি আরও জানান, ২০২৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশে তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

  • শিশু সিটবেল্ট না বাঁধায় ফ্লাইট বাতিল

    শিশু সিটবেল্ট না বাঁধায় ফ্লাইট বাতিল

    কানাডায় এক শিশু উড়োজাহাজে সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ঘটনা উড়োজাহাজে শিশুদের ভ্রমণসংক্রান্ত শিষ্টাচার ও নিরাপত্তা বিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

    ৬ আগস্ট কানাডার পোর্টার এয়ারলাইনসের ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু উড়াল দেওয়া বাতিল করে সেটিকে আবার টার্মিনালে ফিরে যেতে হয়। এয়ারলাইনসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট একটি শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং উড্ডয়নের প্রস্তুতি হিসেবে সিটবেল্ট বাঁধতে রাজি হচ্ছিল না। তাই তারা টার্মিনালে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

    এই বিলম্বের ফলে মধ্যরাতের পর রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ফ্লাইটটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। যাত্রীদের পরদিনের একটি ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানো হয়।

    এ ঘটনার পর এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত এবং এয়ারলাইনসগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে জনমতে বিভক্তি উঠে এসেছে।

    শিশুটির আচরণ সম্পর্কে পোর্টার এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির সঙ্গে থাকা অভিভাবক এবং ক্রুদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ‘অনিরাপদ অবস্থায় উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সম্ভব ছিল না। তাই ক্রুরা সেটিকে টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ওই দুই যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।’

    শিশুদের উড়োজাহাজে চলাচলে নিরাপত্তা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিয়া তুসো বিবিসিকে বলেন, ফ্লাইটটি থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পোর্টার এয়ারলাইনসের ক্রুরা শুধু ওই শিশুটির নয়, বরং উড়োজাহাজে থাকা অন্যান্য সব যাত্রীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

    লিয়া তুসো আরও বলেন, সিটবেল্ট না বাঁধলে শিশুদের আসন থেকে ছিটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি সিটবেল্টবিহীন লাগেজের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ টার্বুলেন্সের সময়—বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়—ছিটকে গিয়ে যাত্রীদের আঘাত করতে পারে।

    ঘটনাটি অনলাইনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উড়োজাহাজে ভ্রমণরত পরিবারগুলোর প্রতি এয়ারলাইনসগুলোর কতটা সহনশীল হওয়া উচিত এবং অভিভাবকদের উড়োজাহাজযাত্রার নিয়মকানুন কতটা কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত, তা নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

    কেউ কেউ বলেছেন, এটি এমন একটি উদাহরণ, যেখানে অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত ‘নরম’ আচরণ করার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

  • দাঁতের সুরক্ষায় নববী সুন্নত: মেসওয়াকের গুরুত্ব

    দাঁতের সুরক্ষায় নববী সুন্নত: মেসওয়াকের গুরুত্ব

    বর্তমানে সবচেয়ে অবহেলিত একটি সুন্নাত হলো মেসওয়াক। কিছু কিছু মুমিন পুরুষ মেসওয়াক ব্যবহার করলেও নারীরা এক্ষেত্রে উদাসীন। অথচ নারী-পুরুষ সবার জন্য মেসওয়াক করা আবশ্যক।

    মেসওয়াকের গুরুত্ব:

    মেসওয়াকের গুরুত্ব অনেক। ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) এর অভিমতে এটা অজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (বুখারি, হাদিস: ৮৪৩ )

    আল্লাহর আদেশে মেসওয়াক :

    আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহকে (সা.) মেসওয়াক করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এই আমল থেকে খুব সহজেই গুরুত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিব্রাইল (আ.) যখনই আমার নিকট আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। তাতে আমার ভয় হতে লাগলো যে, আমি আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস:৩৫৬)

    ইন্তেকালের পূর্বে মেসওয়াক :

    অসুস্থ অবস্থায় ইন্তেকালের পূর্বে রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে মেসওয়াকের বন্দোবস্ত করেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) একটি মেসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে প্রবেশ করলেন। রাসুল (সা.) তার দিকে তাকালেন। আমি তাকে বললাম, হে আব্দুর রহমান ! মেসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিলো। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে রাসুলকে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় তা দিয়ে মেসওয়াক করলেন। (বুখারি, হাদিস: ৮৪৬)

    নারীদের মেসওয়াক জরুরি :

    নবীর সুন্নাত সবাইকে মেনে চলতে হয়। মেসওয়াক বিষয়ে নারী পুরুষের কোন পার্থক্য নেই। সবার জন্য একই বিধান। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) মেসওয়াক করার পর তার মেসওয়াক আমাকে ধৌত করতে দিতেন। অতঃপর আমি উক্ত মেসওয়াক দ্বারা নিজে মেসওয়াক করতাম। পরে আমি তা ধৌত করে (সংরক্ষণ জন্য) তার নিকট প্রদান করতাম। (আবু দাউদ, হাদিস:৫২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস:৩৫৪)

    মেসওয়াকের দুটি পুরস্কার :

    ইসলামের প্রত্যেকটি বিধান ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণে পরিপূর্ণ। মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁতের ময়লা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। অর্জিত হয় আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি।

    রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা মেসওয়াক কর। কেননা তা মুখের পবিত্রতার উপায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস:৫ ,ইবনে মাজাহ, হাদিস:২৮৯)

    মেসওয়াকের উপকারিতা :

    মেসওয়াকের অনেক উপকারিতা বিজ্ঞানের গবেষণার প্রমাণিত। মূলত মেসওয়াকের সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার কারণেই মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ডেন্টাল সার্জনদের উৎপত্তি হয়েছে। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারে দাঁত জীবাণুমুক্ত হয়, দাঁতের গোড়া মজবুত হয়, দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরণ হয় , পাকস্থলী রোগ মুক্ত হয়, মস্তিষ্ক সজীব থাকে , স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদাতে বিশেষ এক স্বাদ তৈরি হয়। ( সুন্নাতে রাসুল ও আধুনিক বিজ্ঞান )

    ব্রাশ ও মেসওয়াকের পার্থক্য :

    ব্রাশ ও মেসওয়াকের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ব্রাশ ব্যবহার করার জন্য এ্যান্টিসেপটিক সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে অধিকাংশ টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

    অথচ মেসওয়াকে উন্নত মানের এ্যান্টিসেপটিক উপাদান আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। একই ব্রাশ জীবাণুর স্তর জমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু মেসওয়াক সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতরের রোগ জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ছত্রাক নিঃশেষ হয়ে যায়। ব্যবহারকারী আরও অসংখ্য রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাই সকলের নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করা উচিত।

  • জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে নিহত অন্তত ১৫, নিখোঁজ ২৭

    জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে নিহত অন্তত ১৫, নিখোঁজ ২৭

    জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্তত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

    কারিবা শহর থেকে লেকের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রী পরিবহন করত ফেরিটি। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ছিলেন।

    সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী ফেরিটিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে টিকিট কাটার বয়স হয়নি—এমন কতজন শিশু ফেরিটিতে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হ্রদের উল্টে যাওয়া ফেরিটির দিকে কয়েকটি স্পিডবোট এগিয়ে যাচ্ছে এবং ওপর দিয়ে একটি হেলিকপ্টার উড়ছে। উদ্ধার অভিযানে হ্রদের পানির নিচে অনুসন্ধানকারী একটি দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে বলেন, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল। একপর্যায়ে একটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করলে এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন পানির মধ্যে ছিলাম, তখন বিপদের সংকেত দেখতে পাই। কাছাকাছি থাকা নৌকাগুলো সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে।’

    কানহেমা জানান, উদ্ধার অভিযানে মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের একটি হেলিকপ্টার, স্থানীয় বড় নৌযান, ডুবুরি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

    তিনি বলেন, ‘মানুষজন বিপদে পড়েছিল। পানিতে লাশ ভাসতে দেখা গেছে। দৃশ্যটি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল। যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।’

    খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘ফেরিটির কাছে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর মধ্যে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে।’

    জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবা রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে জাম্বেজি নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হ্রদটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে হ্রদটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং কিছু এলাকায় এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস! 

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস! 

    রাজধানীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস সংকট। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় উন্মুক্ত থাকা দু-একটি স্টেশনে কিলোমিটারজুড়ে দেখা দিয়েছে গাড়ি ও সিএনজি অটোরিক্শার দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস। ফলে সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার চালক কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়ার আশায় চালকদের দৌড়াঝাঁপ ও চরম ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা যায়।

    সরেজমিনে জানা যায়, মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশন এবং মধ্য বাড্ডার সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের পাম্পগুলোর মধ্যে কেবল খিলক্ষেতের পাম্পটি চালু রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকার আকিজ সিএনজিসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

    তবে মালিবাগ, কারওয়ান বাজার এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের পাম্পগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে হাজিপাড়া ও মগবাজার পাম্পে গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত গাড়ির লাইন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশের মূল সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। পরিবাগ পাম্পে তুলনামূলক কিছুটা কম ভিড় দেখা গেছে।

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস

    চালকরা অভিযোগ করেন, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রেশার না থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ১৫০০ সিসির প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং সিএনজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না। এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও অনেক সিএনজিতে মাত্র ২০ টাকার গ্যাস ঢুকছে।

    সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন, “অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। কোথায় গ্যাস দিচ্ছে তা জানতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়াদৌড়ি করছি। মেরুল বাড্ডায় গ্যাস নাই শুনে হাজিপাড়া পাম্পে আসছি, কিন্তু এখানে এক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। বাধ্য হয়ে এই লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।”

    আনোয়ার নামের এক চালক জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসি গেটের পাম্প থেকে মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৬০ টাকার গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে? শুনছি সামনে নাকি আরও কঠিন পরিস্থিতি আসছে, পাম্পে গ্যাসই পাওয়া যাবে না। সরকারই বলে দিক আমাদের এখন কী করার আছে।”

    প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ১০০ টাকার গ্যাস পেলাম। ১০০ টাকার গ্যাসে ১৫০০ সিসির গাড়ি কতক্ষণ চলবে?”

    অন্য এক চালক ইউনুস বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে চুক্তি বা দৈনিক জমার ভিত্তিতে যারা গাড়ি চালাই, তাদের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর হাহাকার চলছে।”

    লাইনে প্রেশার নেই, নিরুপায় পাম্প কর্মীরা

    পাম্পের কর্মীরা জানান, মূল লাইনেই তীব্র প্রেশার সংকট থাকায় তারা চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।

    তেজগাঁওয়ের আকিজ পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, “জাতীয় লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা কীভাবে দেবো? হঠাৎ হঠাৎ সামান্য প্রেশার এলে আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের তো করার কিছু নেই, আমরা নিরুপায়।”

    জামান পাম্পের বিক্রয়কর্মী আরমান ইসলাম জানান, লাইনে গ্যাস এলেই কেবল তারা বিক্রি চালু রাখেন, নতুবা পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।

    দ্রুত এই সংকটের নিরসন না হলে চালকদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা থেকে ভুক্তভগীদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করে।

  • ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে জ্বলে না চুলা

    ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে জ্বলে না চুলা

    রাজধানীর মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশন। গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন দাঁড়িয়ে গাড়ি। লাইন হাতিরঝিলের ভেতরে প্রায় কিলোমিটার ছড়িয়ে গেছে। রাস্তার একপাশে গাড়ির লাইনে তৈরি করেছে দীর্ঘ জ্যাম। কিন্তু তখনও গ্যাস নেই।

    রবিবার রাতে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস আসার অপেক্ষাতেই গাড়ির এই দীর্ঘ সারি। সারাদিন গ্যাস ছিল না। রাতে আসবে দেখে গাড়ির এই সিরিয়াল।

    কথা হয় গ্যাস বিক্রয়কর্মী আসাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখনো গ্যাস আসেনি। গ্যাস আসলে তারপর দেওয়া শুরু করবো। কখন আসবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, শুনেছি ১২টার দিকে আসবে।

    শুক্রবার বিকাল ও শনিবার গ্যাস সরবরাহ ঠিক হলেও রবিবার আগের মতোই যথারিতি গ্যাস নেই। গ্যাস নেওয়ার জন্য সেই দীর্ঘ সারি।

    রবিবার রাতে সিএনজিচালক আব্দুল মালেক বলেন, শনিবার ভালো গ্যাস পেলেও এখন আবারও সংকট শুরু হয়েছে। রবিবার সারাদিনই এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এখন রাত ১০টা পার হয়ে গেছে তারপরও গ্যাসের কোনও খবর নেই। কখন গ্যাস পাবো বলতেও পারি না।

    সেখানে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, রবিবার সকালে ডেমরাতে ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এখন গ্যাসের লালবাতি। এখানে গ্যাস নেওয়ার জন্য এসেছি। দেখি কখন গ্যাস পাই। তিনি বলেন, শনিবার একটু গ্যাস পেয়েছিলাম। আমার সিলিন্ডারে গ্যাসের প্রেসার ভালো থাকলে ৬০০ টাকার ওপরে গ্যাস ঢোকে। কিন্তু এখন অবস্থা ভালো না। দেখি কত টাকার গ্যাস পাই। সেই অপেক্ষায় আছি।

    খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু জামান ফিলিং স্টেশন নয়, রাজধানীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা। মালিবাগের সিএনজি স্টেশনের গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন রামপুরা বাজার পর্যন্ত চলে এসেছে। তেজগাঁওয়ের আকিজের অবস্থাও একই রকম। খিলক্ষেত ও বিমানবন্দরের সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া যায়।

    আকিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, রাত ১২টার পর গ্যাস আসে। তবে প্রেসার ভালো ছিল না। আমরা যতদূর পেরেছি দিয়েছি। আজ সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ নেই।

    এদিকে গ্যাসের সরবরাহের এমন অবস্থায় সিএনজিচালিত প্রাইভেটকার ও অটো চালকদের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

    অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে গ্যাসের আবারও সংকট শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার গ্যাসের সরবরাহ থাকলেও রবিবার সকাল থেকে গ্যাস নেই। গ্যাসের চুলা জ্বললেও তা দিয়ে রান্না সম্ভব না।

    বনশ্রী এলাকার গৃহিনী কানিজ ফাতেমা বলেন, এই দুই দিন গ্যাসের অবস্থা টেস্ট করা হলো। এখন আবারও আগের মতো অবস্থা। চুলায় যে গ্যাস আছে তা দিয়ে রান্না সম্ভব না। তিনি বলেন, ইনডাকশন চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

    বাসা বাড়ির গ্যাসের সংকটে রাজধানীর হাজার হাজার পরিবার এখন বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন।

    মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে সংকট তৈরি হয়েছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিকের গ্রাহক, সিএনজিচালক ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।