ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

প্রতিবেদন:

·

, , , , , ,

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দী হন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরে তাকে নির্যাতন করে মাফিয়াচক্র। আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। এরপরও দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের। আদরের সন্তানের খোঁজ না থাকায় দিশেহারা পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোবাইলে থাকা নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা শিল্পী বেগম। আদরের সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে তা জানেন না পরিবারের সদস্যরাও। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আহাজারি। ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরাসরি তাকে ইতালি নেয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সাথে। চুক্তি মতে ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিলে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে যুবককে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা। এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।’

প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ