মাদারীপুর

Madaripur district

  • কালকিনিতে বাড়ীর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্নহত্যা

    কালকিনিতে বাড়ীর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্নহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরের কালকিনিতে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি ছাদ থেকে লাফ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিম আক্তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুদিন ধরে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মূধার বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন। রোববার ভোরে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

    তবে কালকিনি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি এখনই বলতে পারছেন না।

    কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    কী কারণে মিম ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তার অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছিল এবং স্বামী প্রবাসে থাকেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ,আর

  • ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপর বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অপর বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে পালকী পরিবহনের একটি বাস। মাঝপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এলে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখা হয় বাসটি। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের ওই বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন।

    খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। পালকী পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে পার্কিং করে রাখে। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এ,আর

  • মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    সুমি ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।

    মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটির ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সাথে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সুমিকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমিকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই সূত্র ধরে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

    পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে নেয়া হবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা।

  • পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে মারামারি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের পিকআপ উল্টে আব্দুস সালাম (৫১) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুস সালাম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যায়।

    শিশুটিকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক পিকআপটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে পিকআপে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), কনস্টেবল শামীম মিয়া (৩৪), কনস্টেবল হাসান হোসেন (২৫) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (৩২)।

    আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর আড়াই শ’ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, আসামি নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

    এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দী হন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরে তাকে নির্যাতন করে মাফিয়াচক্র। আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। এরপরও দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের। আদরের সন্তানের খোঁজ না থাকায় দিশেহারা পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মোবাইলে থাকা নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা শিল্পী বেগম। আদরের সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে তা জানেন না পরিবারের সদস্যরাও। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আহাজারি। ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

    স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরাসরি তাকে ইতালি নেয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সাথে। চুক্তি মতে ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিলে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে যুবককে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা। এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

    এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

    নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।’

    প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

  • পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

  • মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরের কালকিনিতে বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কোলচরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত খাদিজা আক্তার একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও জাকির বেপারীর স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে কাঠের লাকড়ি আনতে রান্নাঘর যান গৃহবধূ খাদিজা। এ সময় লাকড়ির ভেতর থাকা একটি বিষধর সাপ খাদিজার হাতে কামড় দেয়। সাপের কামড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে খাদিজা ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে তার স্বামীসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

    পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় খাদিজাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অখিল সরকার বলেন, বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আসার অনেক আগেই তিনি মারা যান।

  • শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    মাদারীপুরের শিবচরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সকালে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক সিদ্দিক শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকার আব্দুল কাদির বেপারীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল সিদ্দিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সিদ্দিক মাদককারবারের সাথে জড়িত। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি এ পথ থেকে সরে আসেননি। আজ তার বাড়িতে ইয়াবার চালান এসেছে এমন তথ্য পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে মাদারীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ, ইমদাদ মাতুব্বরের সাথে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল, লাভলু মোড়লের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন নিজেদের আধিপত্য দেখাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে খরব পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২০ জুন) রাত ও রোববার ভোররাতে তাদের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্রাফিল ফরাজী, ঘটমাঝি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর জমাদ্দারও রয়েছে।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা করতে পারে এমন অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

    এমন কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

  • শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে সালমান রনি মৃধা (২৪) শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ৯ দিন পেরিয়ে গেলো কিন্তু এখনো তার সন্ধান মেলেনি। উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে সালমান রনি মৃধা নামের এক যুবক গত নয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধছে। নি‌খোঁজের ঘটনায় স্ত্রী, বাবা-মাসহ পরিবারটিতে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

    নিখোঁজ সালমান রনি মৃধা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের রাজারচর মৌলভীকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান সালমান রনি মৃধা। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পর গত বুধবার (১০ জুন) তিনি নিজ বাড়ি দ্বিতীয়খন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

    ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিখোঁজের বাবা আলমগীর হোসেন মৃধা।

    তবে নিখোঁজের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সালমান রনির কোনো খোঁজ না মেলায় বুকফাঁটা আকুতি জানাচ্ছে তার পরিবার। ছেলের অক্ষত প্রত্যাবর্তন চেয়ে প্রশাসনের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    (01609-939332) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হইলো। সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজ যুবককের প‌রিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি‌ডি) ক‌রে‌ছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    যিডিডেস্ক নিউজ,

    মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ কেজি গাঁজা, ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শনিবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হাট মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মো. শাহাদাৎ হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাসনগাছা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মোড়ল কান্দা এলাকায় বসবাস করেন।

    ওইদিন বিকেল ৪টায় উপজেলার চাঁনপট্টি এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি গাঁজা ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ মো. রুবেল খান (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

    পুলিশ আরও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত বাংলাদেশী যুবক সোবাহান খাঁর (২৯) লাশ ২০ দিন পর দেশে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। নিহত সোবাহান পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের ইউসুফ খাঁর ছেলে।

    এর আগে, একইদিন ভোরে নিহতের লাশ রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নেয়া হয় গ্রামের বাড়ি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী।

    স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ঋণ করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে ডাসার উপজেলার দালাল নান্নুর মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান সোবাহান। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সৌদি যান। এরপর গত ৭ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন সোবাহান। কাজ চলাকালীন সময় অসাবধানবশত নির্মাণাধীন লিফটের মধ্যে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

    এ সময় অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের নাছিম ব্র্যাঞ্চ আল-জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে, সোবাহানের পরিবার তার মৃত্যুর খবর পায় পরদিন ১২ এপ্রিল রাতে। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

    নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

    মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।’

  • অপহরণের ১৪ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, আটক ৩

    অপহরণের ১৪ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, আটক ৩

    মাদারীপুরে অপহরণের ১৪ দিন পর কিশোরী তামান্না আক্তারকে (১৪) উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি সুব্রত হালদারসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর জেলার কালকিনি উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোরী একই উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মিরাকান্দি গ্রামের আলী আজগরের কন্যা।

    আটককৃতরা হলেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চলবল গ্রামের সঞ্জিত হালদারের ছেলে সুব্রত হালদার, গোবিন্দ হালদারের ছেলে প্রশান্ত হালদার এবং লক্ষণ মধুর ছেলে নয়ন মধু। শুক্রবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালকিনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

    মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর কালীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে জোরপূর্বক ১৪ বছর বয়সী তামান্না আক্তারকে অপহরণ করে সুব্রত হালদারসহ তিন যুবক। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার বাদী হয়ে কালকিনি থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর কালকিনি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ১১ ডিসেম্বর ঢাকার সাভার থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় মামলার মূল আসামি সুব্রত হালদারসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

    কালকিনি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন বলেন, কিশোরীকে উদ্ধার করার পর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক ৩ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • মাদারীপুরে ব্যাংক কর্মীর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    মাদারীপুরে ব্যাংক কর্মীর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    মাদারীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখার সুস্ময় চক্রবর্তী (২৫) নামে এক কর্মীর কাছ থেকে নগদ ২৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার কামালদি ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সুস্ময় বর্তমানে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সুস্ময় চক্রবর্তী টেকেরহাট ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাস্টার এজেন্ট শাখায় ডিএসআর হিসেবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (গতকাল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন এজেন্ট শাখা থেকে মোট ২৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে পাইকপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা শাখা থেকে ৭ লাখ, আমগ্রাম বাজার থেকে ৭ লাখ এবং টেকেরহাট মাস্টার এজেন্ট থেকে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে মজুমদার বাজার এজেন্ট শাখার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

    পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কামালদি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত সুস্ময়ের গতিরোধ করে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে তার কাছে থাকা ২৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ডাচ্-বাংলা ব্যাংক টেকেরহাট শাখার ম্যানেজার মনতোশ সরকার জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

    রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘তার নাকের সামনে শয়তানের নিঃশ্বাস ধরায় ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়ে টাকার ব্যাগটি তাদের হাতে দিয়ে দেয়। ছেলেটি ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে ছিল, কাউকে কিছু বলার মতো জ্ঞানও ছিল না তার।’

    তিনি আরও জানান, পরে একজনের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুস্ময়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগ পেলে ৩২৮ ধারায় মামলা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

  • শিবচরে ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

    শিবচরে ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

    মাদারীপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে শিবচর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিহত কিশোরীর নাম হালিমা খাতুন (১২)। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। হালিমা তার মা কাকলি বেগমের সঙ্গে শিবচর পৌর এলাকার লিটন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার সাড়ে এগারো রশি এলাকায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমার বাবা হানিফ খান প্রায় পাঁচ বছর আগে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকেই হালিমার মা কাকলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। তিন বোনের মধ্যে হালিমা ছিল সবার বড়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন শিশু হালিমা ঘরের বাইরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।এ বিষয়ে মাদারীপুরের শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • মাদারীপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    মাদারীপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    মাদারীপুরের যাত্রীবাহী বাসে ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার উপজেলার পাথুরিয়ারপাড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো. রণি (২৫) ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

    আহতরা হলেন, পান্তাপাড়া এলাকার সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রফিকুল ফকির (২৪) ও ভাঙ্গাব্রীজ এলাকার মো. এনামুলের ছেলে মাহফুজ (২৭)। পেশায় হতাহতরা রাজমিস্ত্রি।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কালকিনি উপজেলার গোপালপুর থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রনি ও তার দুই সহযোগী। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার উপজেলার পাথুরিয়াপাড় এলাকায় আসলে পেছন থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক রনির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রফিকুল ও মাহফুজকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করে চিকিৎসক।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অখিল সরকার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দুজন। আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, নিয়তের লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

  • মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে রবিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশসহ বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি শুরু করেন।অবরোধকারীরা মহাসড়কের উপর গাছ ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। দূরপাল্লার যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

    অন্যদিকে, সড়ক থেকে গাছ অপসারণ ও নাশকতামূলক কার্যক্রম মোকাবিলায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, “ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যায়। এখন আমরা সড়ক স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।”ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এহতেশামুল ইসলাম জানান, ডাসার ও কালকিনি থানার অংশে সাত–আটটি স্থানে সড়কের পাশের গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।তিনি আরও বলেন, সড়ক থেকে গাছ অপসারণের কাজ চলমান।

  • কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত

    কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সোমবার গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, ঘোষণার একদিন পরই একটি আসনের মনোনয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানালো দলটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাদারীপুর-০১ (শিবচর উপজেলা) আসনেও মনোনয়নপ্রাপ্ত কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। অনিবার্য কারণবশত: ঘোষিত মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসন ও দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্থগিত রাখা হলো।

    আমার দেশ

  • মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

    মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

    মাহিদা বেগম (৪০)। স্বামী মৃত আবু বকর হাওলাদার । ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাস আগে মারা গেছেন আবুবকর। স্বামীকে হারিয়ে এখন তিন সন্তান নিয়ে অভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে সন্তানদের স্বপ্ন বাঁচাতে ও সংসারের অভাব দূর করতে ভাড়ায় নেওয়া একটি চায়ের দোকানই একমাত্র সম্বল। সন্তানের স্বপ্ন বুনছেন চায়ের কাপে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের শিমুল তলা এলাকার মো.আবু বকর হাওলাদারের সঙ্গে বরিশালের ইব্রাহিম হাওলাদের মেয়ে মাহিদা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ২৪ বছর আগে। তাদের ঘরে ২ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে আফসান আক্তার মিম মাদারীপুর সরকারী কলেজে অর্নাসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে মোসা. আফরিন কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলে আরিয়ান আহম্মেদ মাহিমের বয়স আড়াই বছর।

    সংসারের অভাব দূর করতে স্বামী-স্ত্রী মিলে ৯ বছর আগে বাড়ির কাছেই শিমুল তলা বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান দেন। ভালোই চলছিলো দোকান। হঠাৎ পাঁচ বছর আগে আবু বকর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। শেষের দুই বছর বেশি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান তিনি। এরপর তার চিকিৎসার জন্য ঋণ করে ও অন্যের সহযোগিতায় কোনভাবে চলছিলো দিন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মারা যান আবু বকর হাওলাদার। এরপর একাই সংসার আর দোকানের হাল ধরেছেন মাহিদা বেগম।

    ভাড়া নেয়া দোকানে চা বিক্রির পাশাপাশি পান ও সামন্য কিছু বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। দোকানটি বেশ বড় হলেও সেলসগুলো ফাকা পড়ে আছে। টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলতে পারেন না তিনি। শুধু চা বিক্রির টাকায় দুই মেয়ের পড়াশুনাসহ সংসারের সব খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। তাছাড়া প্রায় তিন লাখ টাকার মতো দেনা থাকায় মাহিদা বেগম এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

    মাহিদা বেগমের মেয়ে আফরিন বলেন, আমার আর আমার বোনের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে মায়ের খুব কষ্ট হয়। এই চায়ের দোকান থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়ে আমাদের সংসারের পুরো খরচ জোগাড় করতে হয়। বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য অনেক দেনা করতে হয়েছে।

    মাহিদা বেগম বলেন, এই চায়ের দোকান দিয়েই আমার সব খরচ জোগাড় করতে হয়। প্রতিদিন এক হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে অল্প কিছু আয় থাকে। তা দিয়েই পুরো সংসার চালাতে হয়। দুই মেয়ের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে হয়। ছেলে ছোট। আমাকে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। যদি কেউ আমার দোকানের বিক্রির জন্য কিছু মালামাল কিনে দেয় তাহলে আমি তা বিক্রি করে একটু আয় করতে পারতাম। এতে আমার অনেক উপকার হতো। আমার দুই মেয়ের পড়াশুনাটা ঠিকমতো চালাতে পারতাম।

    মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজনীন আফরোজ বলেন, মাহিদা বেগম চাইলে ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং হয়। ট্রেনিং নিয়েও তিনি কাজ করে আয় করতে পারবেন। কয়েকদিন আগেই ইউনিয়নগুলোতে ভিজিডি’র কার্ড দেয়া হয়ে। এরপর দিলে তিনি চাইলে তাকেও দেয়া হবে।