আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

প্রতিবেদন:

·

,

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি পালিত হচ্ছে।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্তন্যদানে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ প্রথমবার পালন করে ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ)। ১৯৯২ সালে এ উদ্যোগ শুরু হলেও এর ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যখন বিশ্বজুড়ে স্তন্যদানকে উৎসাহিত করতে ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশ ও সহযোগী সংস্থার অংশগ্রহণে বিশ্বব্যাপী এ সপ্তাহ পালন করা হয়।

বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবারও সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, মেধা বিকাশে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়মিত স্তন্যদান মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দিলে সংক্রমণজনিত রোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ