ক্যাটাগরি শিশু স্বাস্থ্য

  • মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে আরো খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা করতে হবে বলে মত দিয়েছেন পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন এফ. মরগান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ সহিংস নন এবং তাদের কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তবে কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই বাস্তবতাও অস্বীকার করা ঠিক নয়।

    মরগানের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক ছিল। এর একটি কারণ ছিল—মানসিক রোগ ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বললে পুরো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও কলঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াও শেষ পর্যন্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি বিশেষভাবে দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথমত, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নন। তাই কোনো ব্যক্তির মানসিক রোগের পরিচয়কে তার সম্ভাব্য সহিংসতার সমার্থক হিসেবে দেখানো উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাস্তবেই বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার, চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিংবা অতীতে সহিংস আচরণের ইতিহাস যুক্ত থাকে।

    মরগানের যুক্তি হলো, দ্বিতীয় সত্যটি স্বীকার করা প্রথম সত্যটির বিরোধী নয়। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক কলঙ্কের বিরোধিতা করা এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা—দুটি কাজই একসঙ্গে করা সম্ভব। বরং একটি দায়িত্বশীল মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এই ভারসাম্য অপরিহার্য।

    তিনি মনে করেন, ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা না করে শুধু কলঙ্কের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে রোগীর খোঁজ নেওয়া এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি মূল্যায়ন—এসব ব্যবস্থা রোগী নিজে, তার পরিবার এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।

    মানসিক স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা মাইন্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ হিউজ সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত সংখ্যালঘু মানুষের সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাত যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না। মরগানের মতে, এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দীর্ঘদিনের একটি অস্বস্তিকর বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নটিংহাম হামলার তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের জুনে নটিংহামে বার্নাবি ওয়েবার, গ্রেস ও’ম্যালি-কুমার ও ইয়ান কোটস নিহত হন। হামলাকারী ভ্যালদো কালোকেনের আগে থেকেই প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগ নির্ণয় হয়েছিল। তদন্তে তার আগের সহিংস আচরণ, ওষুধ গ্রহণে বারবার অস্বীকৃতি এবং দুই বছরের মধ্যে চারবার মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় হাসপাতালে নেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে।

    তবে মরগানের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনোভাবেই মানসিক রোগীদের ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি পরিণত অবস্থান প্রয়োজন, যেখানে একদিকে রোগীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও কলঙ্কের বিরোধিতা থাকবে, অন্যদিকে যেসব ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসক, রোগী, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সৎ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করতে পারবে।

    তার মতে, মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ককে মনোরোগ চিকিৎসার সমর্থক ও সমালোচকদের পারস্পরিক বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোগীর নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং বৃহত্তর জননিরাপত্তার জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

  • নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    শহুরে জীবনে মাটি কিংবা প্রকৃতির ছোয়া পাওয়া দুর্লভ বিষয় হয়ে গেছে। বাচ্চারা শহরের চার দেয়ালে বন্দি জীবনযাপন করছে। তবে আপনি জেনে অবাক হবেন, মাটি কিংবা গাছের সংস্পর্শে এলে ত্বকে বসবাসকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করার সময় হাত মাটিমাখা হওয়া, গাছের ছাল স্পর্শ করা কিংবা ঘাসের ওপর খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বাইরেও আরও কিছু লাভ হতে পারে। কারণ নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে বসবাসকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    মাটি, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শ ত্বকের অণুজীবের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো সহায়তা পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।

    ফিনল্যান্ডের গবেষকদের পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ২০ সেকেন্ড ধরে তাদের হাতে মাটি, পিট ও শ্যাওলা ঘষেছিলেন। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে, অংশগ্রহণকারীদের ত্বকে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও সেই পরিবর্তনের কিছু রেশ থেকে গিয়েছিল।

    ত্বকে জীবাণু কেন গুরুত্বপূর্ণ

    অনেকেই মনে করেন ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মানেই তা ক্ষতিকর। তবে বিষয়টি এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অনুজীবের বৈচিত্র্য থাকলে বিভিন্ন জীবাণুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার ত্বকে আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতে পারে।

    ফিনল্যান্ডের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রোনরুস বলেছেন, অংশগ্রহণকারীদের হাত দেখতে পরিষ্কার থাকলেও ত্বকে থাকা জীবাণুর গঠনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে তা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে গবেষকরা দেখতে পান মাত্র ২০ সেকেন্ডের সংস্পর্শে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, অল্প সময়ের জন্য প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার চেয়ে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতির সংস্পর্শে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    মাটিতে খেলাধুলা করা শিশুদের নিয়ে গবেষণা

    প্রকৃতির সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শিশুদের ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়েও গবেষকরা অনুসন্ধান চালিয়েছেন। মধ্য ফিনল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুরা দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা বন-জঙ্গলের মতো পরিবেশের একটি খেলার মাঠে কাটায়। সেখানে তারা গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং গাছপালার সংস্পর্শে আসার মতো নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে।

    দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের অণুজীব সমষ্টি (মাইক্রোবায়োম) ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা খতিয়ে দেখার জন্য গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা ও মল এবং সেই সঙ্গে রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহ করছেন।

    ফিনল্যান্ডের অ্যাডেল গবেষণা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বহু কেন্দ্রের মধ্যে এই ডে কেয়ার সেন্টারটিও অন্যতম। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের অণুজীবের সংস্পর্শে আসার বিষয়টির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আগে যেসব গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।

    বনে খেলার মাঠ ও অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সংযোগ

    ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরিচালিত একটি পূর্ববর্তী গবেষণায়, গবেষকরা একটি ডে কেয়ার সেন্টারের খেলার মাঠে পিট ও গাছ লাগানোর বাক্সের মতো বন সদৃশ উপাদান যুক্ত করে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়েছিলেন।

    শিশুরা ২৮ দিন ধরে নিয়মিতভাবে সেই পরিবেশে খেলাধুলা করার পর, গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা এবং অন্ত্রে অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করেন। পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠ ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তাদের মধ্যে এই পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এক বছর পর পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্য সংক্রান্ত কিছু পার্থক্য তখনও বজায় ছিল।এছাড়া, বনের মাটিতে খেলা করা শিশুদের ত্বকে রোগ সৃষ্টিকারী হতে পারে এমন অণুজীবের উপস্থিতি কম পাওয়া গিয়েছিল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকের অণুজীবের সমষ্টির ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কম পায়।

  • হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।

    হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।

    এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৪, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনের। একই সময়ে ৫৭ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের সন্দেহে ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯৬ জনে পৌঁছেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬১ জনে।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

  • ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫৫ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৫৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মারা যাওয়া ১০ নবজাতকের মধ্যে আটজনকে বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই আট শিশুর কেউ অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে, আবার কেউ নার্সিংহোমে জন্মেছিল।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আনা এসব নবজাতকের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও জন্ডিস এবং কারও হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা ছিল। এসব কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা মেডিক্যালে এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র দুজনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যালে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠানো হবে।

  • হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১টি শিশু।বুধবা

    র বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৫০টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮। এই সময়ে ১ হাজার ১৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৫৪টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরইমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৭ শিশু।

    মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৬। এ সময়ে নতুন করে ৮৯০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯০ শিশু।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৯ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪১ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৯, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জনের। একই সময়ে ৮৩ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।