শিশু স্বাস্থ্য

  • স্মার্টফোন ও শৈশব: ঘুম, মনোযোগ ও বন্ধুত্বে কী প্রভাব পড়ছে

    স্মার্টফোন ও শৈশব: ঘুম, মনোযোগ ও বন্ধুত্বে কী প্রভাব পড়ছে

    রাত ক্রমেই গভীর হচ্ছে। চারদিকে নীরবতা, কিন্তু স্মার্টফোনের স্ক্রিন তখনো জ্বলছে। একটি ভিডিও শেষ হতে না হতেই শুরু হচ্ছে আরেকটি। রিলের ফাঁকে আসছে মেসেজ ও নোটিফিকেশন। ‘আরেকটু দেখেই ঘুমাব’—ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত গড়িয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না।

    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়। ক্লাসে মন বসে না, সারাদিন ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ থাকে। পড়াশোনা বা অন্য কাজে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন অভিজ্ঞতা অনেক পরিবারের কাছেই পরিচিত।

    স্মার্টফোন এখন শিশু-কিশোরদের পড়াশোনা, বিনোদন ও বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি শেখা, সৃজনশীলতা প্রকাশ এবং দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঘুম, মনোযোগ ও সামাজিক সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আইসিটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন সময়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের ৫৯.২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান শিশুদের আলাদাভাবে দেখায় না, তবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার সম্পর্কে ধারণা দেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে উৎপাদনশীলতায় এবং ২২ শতাংশ পড়াশোনার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলেছেন। তবে এগুলো অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব মূল্যায়ন; এসব তথ্য একা প্রমাণ করে না যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সমস্যাগুলোর কারণ।

    সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব

    স্মার্টফোনের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নিজেদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সহজ হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই জরিপে ৭৪ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাঁদের বন্ধুদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে তাঁরা কখনো কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে বাদ পড়ার অনুভূতি পান। অর্থাৎ, অনলাইন যোগাযোগে সংযোগ ও চাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই থাকতে পারে।

    বাংলাদেশেও অনলাইনে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৫ সালের ইউ-রিপোর্ট জরিপে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যকে মানসিক চাপের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রায় এক-সপ্তমাংশ বুলিং ও নেতিবাচক মন্তব্যের কথা বলেন। আরও ১৪ শতাংশ ক্ষতিকর বা মন খারাপ করা কনটেন্টকে মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    শিশু মনোবিজ্ঞানী ও প্লে থেরাপিস্ট মোস্তাক আহমেদ ইমরান দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনে বলেন, ছোট শিশুদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিন যদি মানুষের সঙ্গে সাড়া-প্রতিক্রিয়ামূলক যোগাযোগের জায়গা নিয়ে নেয়, তাহলে কথা বলার বিকাশে বিলম্ব ও সামাজিকভাবে গুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে সব স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুর এমন সমস্যা হয় না। ঝুঁকি বাড়তে পারে যখন ডিভাইস সরাসরি যোগাযোগ, খেলাধুলা ও পারিবারিক মেলামেশার বিকল্প হয়ে ওঠে।

    অভিভাবকদের অভিজ্ঞতাতেও বিষয়টি উঠে এসেছে। দুই সন্তানের মা ফাতেমা আক্তার সুইটি একই প্রতিবেদনে জানান, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের পর তাঁর বড় ছেলের বাইরে খেলতে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তিনি বলেন, বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে ছেলে নানা অজুহাত দেখায়। অন্যদিকে, ভিডিও দেখে সে রঙের নামও শিখেছে। তাই তিনি স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ও কনটেন্টের ওপর নজর রাখেন। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই থাকতে পারে।

    ঘুম

    ঘুমের সময় স্মার্টফোন ব্যবহার দৈনন্দিন রুটিনকে প্রভাবিত করতে পারে। শোয়ার আগে ভিডিও দেখা বা মেসেজের উত্তর দিতে গিয়ে ঘুমানোর সময় পিছিয়ে গেলে পরদিন ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাতের নোটিফিকেশন এবং একের পর এক ভিডিও দেখার অভ্যাসও সময়মতো ঘুমাতে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে ৪৫ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিজেদের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ৯–১২ ঘণ্টা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শেখা, মনোযোগ, আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে সিডিসি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার মতো অভ্যাসের পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের পরামর্শে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা এবং রাতে ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

    ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, রাতে ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখা এবং পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের নিয়ম চালু করা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

    মনোযোগ

    পড়াশোনার মাঝখানে বারবার নোটিফিকেশন দেখা বা নতুন ভিডিও খুলে ফেলা মনোযোগের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিছুক্ষণ ফোন দেখার পর বইয়ে ফিরে এলেও আগের কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগতে পারে। ফলে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজে সময় ভাগ করে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস অব সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনের ২০২৪ সালের Social Media and Adolescent Health প্রতিবেদন বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর বৈশিষ্ট্য কিশোরদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা, তা নির্ধারণ করা কঠিন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের ধরন এবং ব্যক্তিভেদে অভিজ্ঞতার পার্থক্যও বিবেচনায় নিতে হয়।

    তাই স্মার্টফোন ব্যবহার মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং দেখতে হবে, ফোন ব্যবহারের কারণে শিশু নিয়মিত পড়াশোনা, ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না।

    বয়স অনুযায়ী ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ, পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি নেওয়া মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি বই পড়া, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও হাতে-কলমে কাজের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

    অতিরিক্ত ব্যবহার

    কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, শুধু তা দিয়ে সমস্যার মাত্রা বোঝা যায় না। ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, এর কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া এবং অন্য কার্যক্রমের জায়গা ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসাও বিবেচনায় নিতে হয়।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে ৪৫ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী বলেছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। একই জরিপে ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমিয়েছেন। সমান সংখ্যক কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোনের ব্যবহার কমানোর কথাও বলেছেন। অর্থাৎ, অনেকে নিজেদের ব্যবহারের ধরন নিয়ে ভাবছেন এবং পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও কানাডার ৪৪টি দেশ ও অঞ্চলের ১১, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সমস্যাজনক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের লক্ষণ থাকা কিশোর-কিশোরীর হার ২০১৮ সালের ৭ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১১ শতাংশে ওঠে।

    প্রতিবেদনে সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, অন্য কাজের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। এটি ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও কানাডার তথ্য।

    সামাজিক মনোবিজ্ঞানী জোনাথন হাইট তাঁর The Anxious Generation বইয়ে স্বাধীনভাবে খেলাধুলা ও সরাসরি মেলামেশার সুযোগ কমে যাওয়া এবং ফোনকেন্দ্রিক শৈশবের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা, ঘুমের ঘাটতি ও মনোযোগে বারবার ব্যাঘাত শিশু-কিশোরদের সুস্থতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

    তবে গবেষকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিসের ২০২৪ সালের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান গবেষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কিশোরদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের একক কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। কিছু কিশোর অনলাইনে ক্ষতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেও অন্যরা বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

    অভিভাবকেরা কী করতে পারেন?

    বিডি গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে (McMaster University) স্বাস্থ্য গবেষণা পদ্ধতিবিদ্যায় (Health Research Methodology) পিএইচডি গবেষণারত তাসলিমা চৌধুরী সুন্না বলেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে শিশুদের খেলাধুলা ও বাইরের পরিবেশে সময় কাটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

    তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সন্তান কী ধরনের গেম খেলছে, ইন্টারনেটে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের অনলাইন অভিজ্ঞতা বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মার্টফোনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, তথ্য সংগ্রহ, সৃজনশীল কাজ এবং দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগে প্রযুক্তি কাজে আসে। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

    অভিভাবকেরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন:

    • শিশুর বয়স, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করুন।
    • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
    • পড়াশোনা, পারিবারিক খাবার ও একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন দূরে রাখুন।
    • বাইরে খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার সুযোগ বাড়ান।
    • অনলাইনে শিশু কী দেখছে ও কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তা নিয়ে দোষারোপ না করে খোলামেলা আলোচনা করুন।
    • কোনো ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা বা অনলাইন হয়রানির শিকার হলে যেন শিশু নির্ভয়ে জানাতে পারে, এমন পরিবেশ তৈরি করুন।
    • পরিবারের বড়রাও নিজেদের ফোন ব্যবহারের অভ্যাসে ভারসাম্য রাখুন।

    পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসেও যদি যার যার ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে শিশুদের কাছে ভিন্ন আচরণ আশা করা কঠিন। তাই পরিবারের খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা, নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানো এবং শিশুদের অনলাইন অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা ছোট হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। বয়সোপযোগী ডিজিটাল শিক্ষা, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ এবং হয়রানি বা ক্ষতিকর কনটেন্টের ক্ষেত্রে সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    স্মার্টফোন এখন জীবনের অংশ, আর ভবিষ্যতে প্রযুক্তির সঙ্গে শিশু-কিশোরদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তিকে বাদ দেওয়া নয়, বরং এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুত্ব ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের ভারসাম্য বজায় থাকে।

    —

  • খাবারের তালিকায় পুষ্টির সংকট : আলু-পেঁপেতেই চলছে সংসার

    খাবারের তালিকায় পুষ্টির সংকট : আলু-পেঁপেতেই চলছে সংসার

    রাজধানীর রামপুরায় তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন গৃহকর্মী খালেদা বেগম ও নিরাপত্তাকর্মী আলফাজ। দুজনের মাসিক আয় সবমিলিয়ে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দুই সন্তান স্কুলে পড়াশোনা করে, যার পেছনে মাসে খরচ হয় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। জুলাই পর্যন্ত বাসাভাড়া ছিল সাত হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে তা বেড়ে হয়েছে আট হাজার টাকা। এছাড়া, হাঁপানিতে আক্রান্ত আলফাজের ওষুধের পেছনে মাসে খরচ হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। সব খরচ মেটানোর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হাতে থাকে সামান্য কিছু টাকা।

    বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি। ফলে খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার। বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ সময় আলু, পেঁপে ও ডাল দিয়েই দিন পার করছে পরিবারটি।

    আলাপকালে খালেদা বেগম বলেন, ‘বাজারের জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, আয় সেভাবে বাড়েনি। এর মধ্যে গত দুই মাস ধরে বাড়িভাড়া এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু ভালো-মন্দ খাওয়ার সামর্থ্যও আর নেই। গত কোরবানির ঈদের পর আর মাংস কেনার সুযোগ হয়নি। মাছের দাম এতটাই চড়া যে তা কিনতে গেলে চাল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামি সবজি কিনতে হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আলু আর পেঁপের সঙ্গে একটু ডাল দিয়ে আমাদের সংসারের খাবার চলে। ছোট ছেলে-মেয়েরা খেতে চায় না, তারপরও পেটে ক্ষুধা লাগলে ঠিকই খায়। মাসের শেষ সপ্তাহে চলতে খুব কষ্ট হয়। তখন প্রতি বেলাতেই ভাতের সঙ্গে আলু বা পেঁপের ভর্তা দিয়েই সংসার চলে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আলু আর পেঁপের সঙ্গে একটু ডাল দিয়ে আমাদের সংসারের খাবার চলে। ছোট ছেলে-মেয়েরা খেতে চায় না, তারপরও পেটে ক্ষুধা লাগলে ঠিকই খায়। মাসের শেষ সপ্তাহে চলতে খুব কষ্ট হয়। তখন প্রতি বেলাতেই ভাতের সঙ্গে আলু বা পেঁপের ভর্তা দিয়েই সংসার চলে।’সরকারি কোনো সহায়তা পান কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা বলেন, আগে তার একটি টিসিবির কার্ড থাকলেও গত ছয় মাস ধরে সেটিও বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে চলতে থাকলে একসময় দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    খালেদা বেগমের পরিবারের মতো সীমিত আয়ের বহু মানুষকে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে খাদ্যের মান ও বৈচিত্র্য কমাতে হচ্ছে। এতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বাজারের জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, আয় সেভাবে বাড়েনি। এর মধ্যে গত দুই মাস ধরে বাড়িভাড়া এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটু ভালো-মন্দ খাওয়ার সামর্থ্যও আর নেই। গত কোরবানির ঈদের পর আর মাংস কেনার সুযোগ হয়নি। মাছের দাম এতটাই চড়া যে তা কিনতে গেলে চাল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামি সবজি কিনতে হয়।— খালেদা বেগম, গৃহকর্মী

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। অথচ জাতীয় মজুরি হার সূচক বেড়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় না বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমছে।

    জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও এই চাপকে আরও তীব্র করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন ব্যয় ও ধানের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চালের বাজারেও।

    এদিকে, গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে প্রকাশিত ২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের (জিএইচআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুধা দূরীকরণে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি আগের তুলনায় কিছুটা মন্থর হয়েছে। ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং দেশের ক্ষুধার মাত্রা এখনও ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২০ থাকলেও সর্বশেষ মূল্যায়নে তা কমে হয়েছে ১৯ দশমিক ২। অর্থাৎ আট বছরে স্কোর কমেছে শূন্য দশমিক ৮ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। যেখানে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্কোর ৪২ শতাংশের বেশি কমেছিল।

    শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির কিছু সূচকও বেশ উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় ওজন কম থাকার হার ২০১৮ সালের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে, দীর্ঘ মেয়াদে খর্বকায়তার হার কিছুটা কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ দেশের প্রতি চার শিশুর প্রায় একজনের বয়স অনুপাতে উচ্চতা কম।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সার্বিক জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও তা কমে বর্তমানে ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।

    তবে, ২০২২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ‘নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক পারিবারিক নির্দেশিকা’য় দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। নির্দেশিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার থেকে বঞ্চিত এবং প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত সমস্যায় ভুগছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতার শিকার, যা কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    ওই নির্দেশিকায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক খাদ্যতালিকায় চাল বা গম, শ্বেতসারসমৃদ্ধ মূল ও কন্দজাতীয় খাবার, মাছ-মাংস, ডাল, দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্য, মৌসুমি ফল, শাকসবজি এবং ডিম রাখার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ২৭০ থেকে ৪২০ গ্রাম চাল বা গম, ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম শ্বেতসারসমৃদ্ধ মূল, কন্দ ও কলা, মাঝারি আকারের এক থেকে চার টুকরো মাছ বা মাংস, এক থেকে দুই কাপ ডাল, অন্তত এক কাপ দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য, ন্যূনতম দুটি মৌসুমি ফল, ১০০ গ্রাম সবজি বা ২০০ গ্রাম শাক এবং অন্তত একটি ডিম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।

    এদিকে, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) ২০২২’-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বকায় (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা), ২২ শতাংশ কম ওজনের এবং ১১ শতাংশ কৃশকায় (উচ্চতার তুলনায় কম ওজন) সমস্যায় ভুগছে।

    খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘব ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সরকার জনকল্যাণমূলক সহায়তা দিতে গেলে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয় কিংবা কর বাড়াতে হয়। আবার সাধারণ মানুষের হাতে হঠাৎ অতিরিক্ত অর্থ তুলে দিলে তা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, এই পরিস্থিতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে বৈশ্বিক সংকটও যুক্ত।’খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা জরুরি। যাদের পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।—সাইকা সিরাজ, বাংলাদেশ প্রতিনিধি, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের সবাইকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে কেবল সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পরিবর্তন আনতে হবে। ফাস্টফুড, চিপস ও চকলেটের মতো অপ্রয়োজনীয় খাবারের বাড়তি খরচ কমিয়ে কম খরচে পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

    অধ্যাপক আব্দুল হামিদ আরও উল্লেখ করেন, সরকারের আকার ছোট করার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে অপচয় রোধ করা জরুরি। বিশেষ করে প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অপচয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে, এই ধরনের পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এছাড়া, বিকল্প খাদ্যের নামে বাজারে আসা কৃত্রিম বা ফোর্টিফায়েড ফুড-এর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাঁটি খাবার ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক বা সহজ সমাধান নেই।

    এমন পরিস্থিতিতে মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে সয়াবিন, পেয়ারা, কলা, শাকসবজি, ডাল ও ছোট মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সম্ভব হলে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখার তাগিদ দেন।

    সাইকা সিরাজ আরও বলেন, ‘পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা জরুরি। যাদের পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের ট্রাকে পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্কুল মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

  • ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ‘মিডওয়াইফারি ত্বরান্বিতকরণ ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব: সংকট থেকে সহনশীলতার পথে’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মা ও নবজাতকের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মাধ্যমে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জরুরি চিকিৎসা রেফারেল ও প্রসব-পরবর্তী সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব। মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মা ও নবজাতকের মৃত্যু হ্রাস এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যয় কমানোর কার্যকর জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, মিডওয়াইফারি শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশনভিত্তিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়, শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করছে।

    তিনি মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগীদের, বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অবদানের প্রশংসা করেন।

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকটকালেও জীবনরক্ষাকারী মাতৃস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে তারা সম্মুখসারিতে কাজ করছেন। নারী, শিশু ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সুরক্ষায় মিডওয়াইফদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাদের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯০

    হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১০২ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১ হাজার ৩৯৩ শিশু ।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজন ও নিশ্চিত হামে দুইজন, চট্টগ্রামে একজন, সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০ জনে।

    এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ১ হাজার ১৪০ শিশু। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ শিশু।

  • হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৪২

    হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৪২

    হাম উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪২ জন।

    শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু মারা গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই নিশ্চিত হামে আরও এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

  • হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৮ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫২০ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।

  • শিশুদের রোদে রাখা কতটা বিজ্ঞানসম্মত

    শিশুদের রোদে রাখা কতটা বিজ্ঞানসম্মত

    শিশুদের রোদে রাখা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। নবজাতককে কি প্রতিদিন রোদে দিতে হবে? রোদে না দিলে কি জন্ডিস হয়? জন্ডিস হলে কি রোদে দেওয়া জরুরি? বড় শিশুরা দিনের কোন সময় এবং কতক্ষণ রোদে থাকবে?-এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রায়ই দ্বিধা দেখা যায়। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে শিশুদের রোদে রাখাকে ঘিরে নানা পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণার চেয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনাই হওয়া উচিত আমাদের পথনির্দেশক।

    নবজাতককে কি রোদে দেওয়া উচিত

    নবজাতকসহ ৬ মাসের কম বয়সি শিশুকে সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখা উচিত নয়। নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তুলনায় তাদের ত্বক অনেক বেশি পাতলা এবং অপরিণত। ফলে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।

    সূর্যের আলোতে অতিবেগুনি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থাকে। খালি গায়ে বা সরাসরি সূর্যের আলোতে নবজাতককে রাখলে এ রশ্মির কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত গরমে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং সানবার্নও হতে পারে।

    তাহলে ভিটামিন ডি-এর কি হবে ভিটামিন ডি তৈরিতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ জন্য নবজাতককে সরাসরি রোদে রাখার প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রথম বছর শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।

    বড় শিশুরা কতক্ষণ রোদে থাকবে

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ত্বকের সহনশীলতাও বাড়ে। ভিটামিন ডি তৈরির জন্য শিশুদের কিছু সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকা প্রয়োজন হতে পারে। বয়স, ত্বকের রং, ভৌগোলিক অবস্থান, ঋতু, দিনের সময় এবং শরীরের কতটুকু অংশ সূর্যের আলো পাচ্ছে-এসব বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে।

    সাধারণভাবে বলা হয়, ১ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন প্রায় ১৭ থেকে ৩০ মিনিট এবং ১ বছরের বেশি বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সূর্যালোকের সংস্পর্শ উপকারী হতে পারে।

    ভিটামিন ডি তৈরির জন্য দিনের কোন সময় সূর্যালোক বেশি কার্যকর, তা ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে রোদে দেওয়াটা বেশি ফলদায়ক।

    শিশুকে রোদে নেওয়ার জন্য তাকে সম্পূর্ণ কাপড় খুলে দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। শরীরের কিছু অংশ-যেমন মুখমণ্ডল, হাত বা পায়ের অংশ-সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলেই ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    শরীরের কতটুকু অংশ সূর্যের আলো পাবে? আনুমানিক ১৫-৪০% Body Surface Area (BSA)।

    ১৫-৪০% BSA কীভাবে বুঝবেন, আনুমানিকভাবে-

    • মুখ : ৭-১০%
    • হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত : ৮%
    • হাতের তালু : ৪%
    • পায়ের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত : ৮-১২%
    • পায়ের গোড়ালি থেকে বাকি অংশ : ৮%

    সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে কি

    শিশুদের ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিছু গাইডলাইনে ৬ মাসের কম বয়সি শিশুকে সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার বড় শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    রোদ এবং জন্ডিস : প্রচলিত ধারণা কতটা সঠিক

    নবজাতককে রোদে না দিলে জন্ডিস হয়-এটি একটি ভুল ধারণা। একইভাবে, জন্ডিস হলে অবশ্যই রোদে দিতে হবে-এ কথাটিও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। নবজাতকের জন্ডিসের কারণ এবং চিকিৎসা আলাদা বিষয়। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ আলোর সাহায্যে ফটোথেরাপির প্রয়োজন হয়। ফটোথেরাপি আর সূর্যের আলো এক জিনিস নয়। তাই জন্ডিসের চিকিৎসা হিসাবে শিশুকে সরাসরি রোদে রাখা উচিত নয়।

    প্রকৃতির সঙ্গেই বেড়ে উঠুক শিশু

    শিশুকে জন্মের পর থেকেই খালি গায়ে রোদে রেখে দেওয়া যেমন সমীচীন নয়, তেমনি বড় শিশুকে সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে আটকে রাখাও ঠিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর প্রয়োজন হয় খেলাধুলা, খোলা পরিবেশ এবং প্রকৃতির সংস্পর্শ।

    তাই শিশুকে বাইরে যেতে দিন। মাঠে খেলতে দিন। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে দিন। তবে সবকিছুই হোক বয়স, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে।

    রোদ শিশুদের জন্য শত্রু নয়, আবার অন্ধভাবে ব্যবহার করার মতো কোনো ওষুধও নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ অভ্যাস।

  • ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    ত্রিপল টানিয়ে চলছে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা

    রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে চলছে শিশুদের টিকাদান। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার পেতে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সেন্টারের সামনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া শুরু হয়।

    আজ দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সামনে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলতে দেখা যায়। সেন্টারের গেটে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে মায়েরা আসছেন এবং টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।
    দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা এক মা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার কাছে হওয়ায় আগেও এখান থেকে টিকা দিয়েছি। ’

    ইসরাত নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। আগের টিকাটিও রাড্ডা থেকে দিয়েছি। তাই জানতে এসেছিলাম, আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়া হবে। ’

    তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে আসা আরেক মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে। ’

    রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বেলা সাড়ে ১টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। ’

    নাসরিন আখতার আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ’

  • ৩৪ লাখ শিশুকে হামের বিশেষ টিকা শনিবার থেকে

    ৩৪ লাখ শিশুকে হামের বিশেষ টিকা শনিবার থেকে

    শিশুদের কান্না থামছে না, কেননা শরীরে লালচে দাগে মৃত্যুর সংখ্যাটাও যে এখনও কমছে না। প্রতিদিনই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের এই সংক্রমণ। নিয়ন্ত্রণে তাই টিকাদানেই জোর দিচ্ছে সরকার। টিকাদানের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দ্বিতীয় দফায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আর নিয়মিত টিকাদানে যেসব শিশু বাদ পড়েছে, তাদেরও আনা হচ্ছে টিকার আওতায়।

    হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা জানান, টিকা দেয়ার আগে থেকেই অসুস্থ। টিকা দেয়ার সময় আসছিল। যেদিন টিকা দেব, সেদিন থেকেই জ্বর-ঠান্ডা হচ্ছে। এরপর আমরা অসুস্থতার জন্য আর টিকা দিইনি। আমরা তো ওইভাবে বুঝতে পারতেছি না যে, জ্বরের কারণে হচ্ছে, নাকি ঠান্ডার কারণে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য টিকা নেয়া জরুরি। এজন্য এই ক্যাম্পেইনে বাবা-মাকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

    টিকা নেয়ার বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা জানান, ৯ থেকে ১৫ মাসে যে দুটি টিকা আমরা যেটিকে এমআর ভ্যাকসিন বলি, অবশ্যই সেটা নিতে হবে। যথারীতি, সরকারের ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী টিকা নেবে এবং অতিরিক্ত ডোজটিও নিয়ে রাখবে। মা-বাবাদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন এবং হাম-রুবেলার যে ভ্যাকসিনটা, অবশ্যই আপনারা সবাই দেবেন।

    এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যেটা শুরু হবে, এটাকে বলে মপআপ প্রোগ্রাম। মপআপ মানে হচ্ছে, যারা বাদ পড়ে গিয়েছে, বা যারা জানত না, বা কোনো কারণে তাদের লজিস্টিক প্রবলেমে আসতে পারেনি, তাদেরকে ক্যাচ করা। সুতরাং, এটাও একটা বিরাট ফ্যাক্টর।

    আগের কর্মসূচির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য স্বাস্থ্য বিভাগের। তবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানান, যেকোনো রোগের প্রিভেনশন এবং কন্ট্রোলের জন্য আপনার এক ধরনের ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাপ্রোচ দরকার হয়। কারণ, প্রিভেনশনের কাজটা হবে সমাজে, কমিউনিটিতে এবং সেটার সঙ্গে দরকার অ্যাওয়ারনেস, সচেতনতা।

    এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে চলে হামের টিকাদান কর্মসূচি। সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

  • মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে আরো খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা করতে হবে বলে মত দিয়েছেন পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন এফ. মরগান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ সহিংস নন এবং তাদের কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তবে কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই বাস্তবতাও অস্বীকার করা ঠিক নয়।

    মরগানের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক ছিল। এর একটি কারণ ছিল—মানসিক রোগ ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বললে পুরো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও কলঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াও শেষ পর্যন্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি বিশেষভাবে দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথমত, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নন। তাই কোনো ব্যক্তির মানসিক রোগের পরিচয়কে তার সম্ভাব্য সহিংসতার সমার্থক হিসেবে দেখানো উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাস্তবেই বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার, চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিংবা অতীতে সহিংস আচরণের ইতিহাস যুক্ত থাকে।

    মরগানের যুক্তি হলো, দ্বিতীয় সত্যটি স্বীকার করা প্রথম সত্যটির বিরোধী নয়। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক কলঙ্কের বিরোধিতা করা এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা—দুটি কাজই একসঙ্গে করা সম্ভব। বরং একটি দায়িত্বশীল মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এই ভারসাম্য অপরিহার্য।

    তিনি মনে করেন, ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা না করে শুধু কলঙ্কের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে রোগীর খোঁজ নেওয়া এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি মূল্যায়ন—এসব ব্যবস্থা রোগী নিজে, তার পরিবার এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।

    মানসিক স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা মাইন্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ হিউজ সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত সংখ্যালঘু মানুষের সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাত যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না। মরগানের মতে, এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দীর্ঘদিনের একটি অস্বস্তিকর বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নটিংহাম হামলার তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের জুনে নটিংহামে বার্নাবি ওয়েবার, গ্রেস ও’ম্যালি-কুমার ও ইয়ান কোটস নিহত হন। হামলাকারী ভ্যালদো কালোকেনের আগে থেকেই প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগ নির্ণয় হয়েছিল। তদন্তে তার আগের সহিংস আচরণ, ওষুধ গ্রহণে বারবার অস্বীকৃতি এবং দুই বছরের মধ্যে চারবার মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় হাসপাতালে নেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে।

    তবে মরগানের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনোভাবেই মানসিক রোগীদের ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি পরিণত অবস্থান প্রয়োজন, যেখানে একদিকে রোগীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও কলঙ্কের বিরোধিতা থাকবে, অন্যদিকে যেসব ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসক, রোগী, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সৎ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করতে পারবে।

    তার মতে, মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ককে মনোরোগ চিকিৎসার সমর্থক ও সমালোচকদের পারস্পরিক বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোগীর নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং বৃহত্তর জননিরাপত্তার জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

  • নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    শহুরে জীবনে মাটি কিংবা প্রকৃতির ছোয়া পাওয়া দুর্লভ বিষয় হয়ে গেছে। বাচ্চারা শহরের চার দেয়ালে বন্দি জীবনযাপন করছে। তবে আপনি জেনে অবাক হবেন, মাটি কিংবা গাছের সংস্পর্শে এলে ত্বকে বসবাসকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করার সময় হাত মাটিমাখা হওয়া, গাছের ছাল স্পর্শ করা কিংবা ঘাসের ওপর খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বাইরেও আরও কিছু লাভ হতে পারে। কারণ নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে বসবাসকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    মাটি, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শ ত্বকের অণুজীবের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো সহায়তা পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।

    ফিনল্যান্ডের গবেষকদের পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ২০ সেকেন্ড ধরে তাদের হাতে মাটি, পিট ও শ্যাওলা ঘষেছিলেন। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে, অংশগ্রহণকারীদের ত্বকে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও সেই পরিবর্তনের কিছু রেশ থেকে গিয়েছিল।

    ত্বকে জীবাণু কেন গুরুত্বপূর্ণ

    অনেকেই মনে করেন ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মানেই তা ক্ষতিকর। তবে বিষয়টি এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অনুজীবের বৈচিত্র্য থাকলে বিভিন্ন জীবাণুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার ত্বকে আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতে পারে।

    ফিনল্যান্ডের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রোনরুস বলেছেন, অংশগ্রহণকারীদের হাত দেখতে পরিষ্কার থাকলেও ত্বকে থাকা জীবাণুর গঠনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে তা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে গবেষকরা দেখতে পান মাত্র ২০ সেকেন্ডের সংস্পর্শে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, অল্প সময়ের জন্য প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার চেয়ে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতির সংস্পর্শে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    মাটিতে খেলাধুলা করা শিশুদের নিয়ে গবেষণা

    প্রকৃতির সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শিশুদের ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়েও গবেষকরা অনুসন্ধান চালিয়েছেন। মধ্য ফিনল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুরা দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা বন-জঙ্গলের মতো পরিবেশের একটি খেলার মাঠে কাটায়। সেখানে তারা গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং গাছপালার সংস্পর্শে আসার মতো নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে।

    দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের অণুজীব সমষ্টি (মাইক্রোবায়োম) ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা খতিয়ে দেখার জন্য গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা ও মল এবং সেই সঙ্গে রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহ করছেন।

    ফিনল্যান্ডের অ্যাডেল গবেষণা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বহু কেন্দ্রের মধ্যে এই ডে কেয়ার সেন্টারটিও অন্যতম। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের অণুজীবের সংস্পর্শে আসার বিষয়টির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আগে যেসব গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।

    বনে খেলার মাঠ ও অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সংযোগ

    ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরিচালিত একটি পূর্ববর্তী গবেষণায়, গবেষকরা একটি ডে কেয়ার সেন্টারের খেলার মাঠে পিট ও গাছ লাগানোর বাক্সের মতো বন সদৃশ উপাদান যুক্ত করে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়েছিলেন।

    শিশুরা ২৮ দিন ধরে নিয়মিতভাবে সেই পরিবেশে খেলাধুলা করার পর, গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা এবং অন্ত্রে অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করেন। পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠ ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তাদের মধ্যে এই পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এক বছর পর পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্য সংক্রান্ত কিছু পার্থক্য তখনও বজায় ছিল।এছাড়া, বনের মাটিতে খেলা করা শিশুদের ত্বকে রোগ সৃষ্টিকারী হতে পারে এমন অণুজীবের উপস্থিতি কম পাওয়া গিয়েছিল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকের অণুজীবের সমষ্টির ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কম পায়।

  • হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।

    হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।

    এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৪, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনের। একই সময়ে ৫৭ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের সন্দেহে ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯৬ জনে পৌঁছেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬১ জনে।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

  • ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫৫ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৫৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মারা যাওয়া ১০ নবজাতকের মধ্যে আটজনকে বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই আট শিশুর কেউ অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে, আবার কেউ নার্সিংহোমে জন্মেছিল।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আনা এসব নবজাতকের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও জন্ডিস এবং কারও হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা ছিল। এসব কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা মেডিক্যালে এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র দুজনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যালে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠানো হবে।

  • হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১টি শিশু।বুধবা

    র বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৫০টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮। এই সময়ে ১ হাজার ১৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৫৪টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরইমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৭ শিশু।

    মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৬। এ সময়ে নতুন করে ৮৯০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯০ শিশু।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৯ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪১ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৯, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জনের। একই সময়ে ৮৩ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৪০ শিশু।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং একজন খুলনার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৪০ শিশুর মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৮৭৬ শিশু।

  • হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৭২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮২৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৮ হাজার ১৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    কলেরা ভ্যাকসিন এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন একবছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে। দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বিরতি দিতে হবে। এ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর কলেরা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এ ক্যাম্পেইনে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গুসহ কয়েকটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টায় এবার এখন পর্যন্ত ঢাকায় মশা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে আছে।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। আগামী ২২ আগস্ট নির্ধারিত এলাকায় প্রথম ও ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।

  • হাম উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১।

    এ সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের শরীরে। আর ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৩।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, বাস্তবতার বাইরে গিয়ে কোনো আশ্বাস দিতে চান না তিনি। তবে চলমান টিকাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত এক যৌথ গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গবেষণাটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে।

    এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা এক দিনে কিংবা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ম্যাজিকের মতো দূর করা সম্ভব নয়। টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে চান না। তবে সরকারি উদ্যোগগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে আসবে।

    হাম মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠকর্মীরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার মাঠকর্মীর বিপরীতে শুরুতে মাঠে ছিলেন মাত্র ২৫ হাজার। এর পরও এক মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও বড় ধরনের কার্যক্রম।

    হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় শিশুদের অ্যান্টিবডি, বুকের দুধ পানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে শুধু হাসপাতাল, আইসিইউ কিংবা হাজার হাজার ভেন্টিলেটর বাড়িয়ে হামে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বর্তমানে সেই কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন হাসপাতাল বা আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের মূল লক্ষ্য সুস্থ শিশু নিশ্চিত করা।

    শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত পাঁচ হাজার চিকিৎসক, এক হাজার নার্স এবং এক লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এদিকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ সময়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

    অনুষ্ঠানে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

    গবেষণার ফলাফলের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • হাম উপসর্গে  আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৮৯০

    হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৮৯০

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯০ জনে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী ১ হাজার ২৫ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৯১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৫১। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৪৩।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর  মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৭ হাজার ৪৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮০ জনে। যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই শিশু।

    আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮২ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন রোগী ৯৭৯

  • সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে এ বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো মো. এহসানুল ও আয়ান। এছাড়া নিহত নারী বর্ণা রাণী। এর মধ্যে এহসানুলের বয়স ৩ বছর ৪ মাস, আয়ানের বয়স ৮ মাস ও বর্ণা রাণীর বয়স ১৮ বছর।

    এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন এবং এই সময়ে ৯১ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত এ বিভাগে মোট ৮২৭ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। বাকিরা সন্দেহভাজন।

  • হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিত হামে দুইজন এবং হাম উপসর্গে দুইজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৭৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪০ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৭৬৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ২১৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময় নতুন করে আরও ১ হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৩৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন।গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৬৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হামে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৫ আগষ্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৩ জন। এই হিসাব মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯ শিশু।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৫ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আরও ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৪৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত শিশুর সংখ্যা ৮৯৬। এই সময়ে ৮৬ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৯৯৮ শিশু।গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৩১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৩ শিশু, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ১৮৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৮৪৭

    হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৮৪৭

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮০ জন রোগীর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আজ সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একদিনে হাম ও হামের উপসর্গের নতুন রোগী ১ হাজার ৮০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৫১ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪০৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৩৭ শিশু। রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম–সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৪৮ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৬ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২২। এই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৮৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৬ হাজার ২৯৫ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ রোগী, যার মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন বাড়ি ফিরেছে।

  • আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

    আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

    শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি পালিত হচ্ছে।

    মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্তন্যদানে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

    বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ প্রথমবার পালন করে ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ)। ১৯৯২ সালে এ উদ্যোগ শুরু হলেও এর ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যখন বিশ্বজুড়ে স্তন্যদানকে উৎসাহিত করতে ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশ ও সহযোগী সংস্থার অংশগ্রহণে বিশ্বব্যাপী এ সপ্তাহ পালন করা হয়।

    বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবারও সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

    আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, মেধা বিকাশে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    একই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়মিত স্তন্যদান মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দিলে সংক্রমণজনিত রোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

    বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২ জন শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮৬। এদিকে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীদের ভিড় রয়েছে।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৫টি শিশু।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৩৭টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৮৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯০০। এই সময়ে ৮০৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০৬টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫টি শিশু।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে মোট ৭৩৯ শিশু। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৬ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৮৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গজনিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৭০ জন। এ সময়ে ৮১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৫৫ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের।

    এ সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫ জন।

    বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

    সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে।

    এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৭৯৯ শিশু। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গে ৭৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৫৬ জন।

    এ ছাড়া, চলতি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের সংক্রমণ রোধে শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    যুক্তরাষ্ট্রে বেবি পাউডারসহ অন্যান্য ট্যালকমযুক্ত পণ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে সাড়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় সাড় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক হেলথকেয়ার জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)।

    দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই বহুল আলোচিত আইনি লড়াই চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতেই মার্কিন ভিত্তিক নিউ জার্সির এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিক এ সমঝোতার প্রস্তাব এনেছে।

    তবে সংস্থাটি শুরু থেকেই তাদের ট্যালকম-ভিত্তিক পণ্যের কারণে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ইতিমধ্যে তাদের জনপ্রিয় বেবি পাউডারের ফর্মুলায় পরিবর্তন এনেছে।

    গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’। তবে বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই তারা এই সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক।

    প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছর ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করবে জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কিত অন্তত ৯৫ শতাংশ মামলাকারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনি ফার্মগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে বলে জানায় জে অ্যান্ড জে।

    এরিক হাস বলেন, ‘আদালতে চূড়ান্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিই জয়ী হতো, ঠিক যেভাবে অতীতের বেশিরভাগ মামলায় জয়ী হয়েছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতার ফলে কোম্পানিটি আইনি জটিলতা পেছনে ফেলে মানবজীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে তাদের মনোযোগ বজায় রাখতে পারবে।

    জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার সংক্রান্ত প্রথম মামলা করা হয়েছিল ২০০৯ সালে।

    সম্প্রতি চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি ফেডারেল আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানায়, স্বতন্ত্র মামলাকারীরা ট্যালকম পাউডারের কারণে সরাসরি তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন প্রমাণ দিতে পারছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    ট্যালকম হলো প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান, যা ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত। মসৃণ অনুভূতির জন্য এটি সাধারণত বেবি পাউডারে ব্যবহার করা হয়।

    তবে মামলাকারী ভোক্তা ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ট্যালকম উত্তোলনের সময় ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস বা অভ্রের সংস্পর্শে আসায় এর থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হয়। ট্যালকম এবং অ্যাসবেস্টস মাটির একই স্তরে পাশাপাশি পাওয়া যায়। অ্যাসবেস্টস ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।

    অবশ্য জে অ্যান্ড জে এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যালকম নিরাপদ, এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসারের কারণ নয়।

    এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকম-ভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় জে অ্যান্ড জে।

    সে সময় বৈশ্বিক পোর্টফোলিও পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা সম্পূর্ণ ভুট্টার স্টার্চভিত্তিক বেবি পাউডারে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনস বেবি পাউডারে উদ্ভূত যেকোনো আইনি দায়ভার এখন ‘কেনভিউ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যাস্ত। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘ব্যান্ড-এইড’, ‘লিস্টারিন’ ও ‘ক্যালপল’-এর মালিক কেনভিউ ২০২২ সালে মূল প্রতিষ্ঠান জে অ্যান্ড জে থেকে আলাদা হয়ে যায়।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৫

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৫ শিশু।

    সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ জন শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৯২। এই সময়ে ১ হাজার ৪১৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

    হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭১ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৯৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৭৪ জনের শরীরে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ১৪ হাজার ১০৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯৭ হাজার ৯১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ২৭৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ঢাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ছয়জন। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন ও সিলেটে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৭১ জন মারা গেছে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত ১২২ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭৩৫ জন।

    একই সময়ে নতুন করে ৮৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন।

  • হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও ১ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও ১ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে এক হাজার নয় শিশুর শরীরে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো মোট ৬৬৫। আর হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৪ শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৫৯ শিশু মারা গেছে।

    এ ছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৯৬। এই সময়ে ৮৫৬ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৮ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ৩৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬১৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৫ হাজার ১৯৬ রোগী, তাদের মধ্যে ৯১ হাজার ৪৮৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি শিশু হাসপাতালকে ‘বিশেষায়িত হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত হাসপাতালগুলো হলো—রংপুর শিশু হাসপাতাল, খুলনা শিশু হাসপাতাল, কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ও বরিশাল শিশু হাসপাতাল।

    জানা যায়, বিশেষায়িত হাসপাতালের মর্যাদা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গতি আসবে। এতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ৩০০ শিশু মৃত্যুতে মন্ত্রীর পদত্যাগ কই, প্রশ্ন শফিকুল ইসলাম মাসুদের

    ৩০০ শিশু মৃত্যুতে মন্ত্রীর পদত্যাগ কই, প্রশ্ন শফিকুল ইসলাম মাসুদের

    প্রস্তাবিত বাজেটের সাফল্য কেবল সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ওপর নির্ভর করে না; বরং সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ এর কোনো সুফল পায় না।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি এলাকায় বাজেটের আগে ‘নাগরিক ভাবনা’ নামে মতবিনিময় করেছি। সেখানকার মানুষ ও সাংবাদিকরা বলেছেন, সংসদে আপনাদের আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

    কিন্তু বাস্তবে বাজারে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সমস্যাগুলো আপনাদের বক্তৃতায় নেই।
    বাজেটের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষ, এমনকি সংসদ সদস্যদেরও তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।
    বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে বাজেট উপস্থাপনায় ইনফোগ্রাফিক, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজ টেবিল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।

    স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি মানবিক হাসপাতালে, যেখানে ৭০০ শয্যার মধ্যে ১৮০টি বিনামূল্যে, প্রতিদিন ২৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয় এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়, সেখানে মাত্র ৬টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে লাইসেন্স বাতিল করা হলো। অথচ দেশে হামে ৩০০ শিশু মারা গেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন?

    তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সচিবের দেখা পাচ্ছেন না। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষায় অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও ৫১১ কোটি টাকার জায়গায় মাত্র ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এমপিওভুক্ত ২ লাখ শিক্ষক মে মাসের বেতনও এখন পর্যন্ত পাননি। পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।

    মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই। ১৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৪৫ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়। এই মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি।

    তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলা হলেও ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক সিঙ্গাপুরের মতো মনে হয়, কিন্তু এরপর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের মতো।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, সেখানে গিয়ে সড়কের অবস্থা দেখে আসুন। মেগা প্রকল্পের অর্থ তখনই সার্থক হবে, যখন তৃণমূলের মানুষ এর সুফল পাবে।

  • হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭

    হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭

    দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭টি শিশু।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৮৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৭৭টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮০৭। এই সময়ে ৭৪৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৭৪টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৫ হাজার ৯০২ রোগী, যাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৯৭০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

    শনিবার (২০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।