গভীর রাতে বাথরুমে পাওয়া গেল ৭ ফুট কুমির

প্রতিবেদন:

·

ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলায় গত সপ্তাহের শুরুর দিকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। গভীর রাতে নিজেদের বাড়ির বাথরুমের ভেতর সাত ফুট লম্বা একটি জলজ্যান্ত কুমির দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

বাড়ির মালিক বলভাই চৌহান জানান, গভীর রাতে বাড়ির বাইরে একনাগাড়ে কুকুরের ডাক শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। কী ঘটেছে তা দেখতে ঘর থেকে বের হন। পরে বাথরুমের দরজা খুলতেই বিশালাকার ওই কুমিরের মুখোমুখি হন।

এ ঘটনায় পুরো পরিবার আতঙ্কে জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবিলম্বে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। এরপর বন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর কুমিরটিকে নিরাপদে বন্দী করতে সক্ষম হন তাঁরা। পরে সেটিকে কাছের একটি পুকুরে অবমুক্ত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য গৃহস্থালি জিনিসপত্রে ঠাসা একটি ঘিঞ্জি বাথরুম। সেখানে কুমিরটির শরীরে দড়ির ফাঁস লাগিয়ে এবং একটি লম্বা লাঠির সাহায্যে এক ব্যক্তি সেটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারের পর প্রাণীটিকে নিরাপদ জলাশয়ে ফিরিয়ে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।

বন কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ভারী বৃষ্টিতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে কুমিরগুলো এদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে চলে আসে। মূলত খাবারের সন্ধানে অথবা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রায়ই কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে এরা।

কর্মকর্তারা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী মালাতাজ গ্রামের একটি পুকুরে ১০০টির বেশি কুমির রয়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সময় প্রাণীগুলোর রাস্তাঘাটে বা মানুষের বাড়িঘরে চলে আসার আশঙ্কা অনেক বেশি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ