জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, আর্দ্র আবহাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এ বছর বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
কীভাবে ছড়ায়
এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা আবার সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ
হঠাৎ বা অনিয়মিত জ্বর, শরীরব্যথা, বমি, তীব্র পেটব্যথা, চোখে ব্যথা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্লাটিলেট হ্রাস ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় র্যাশ বা তীব্র শরীরব্যথা না থাকায় রোগীরা সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসায় দেরি করেন, যা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসা
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, অতিরিক্ত বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
পরীক্ষা
জ্বরের প্রথম ১-২ দিনের মধ্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং ৪-৬ দিন পর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যায়। সিবিসি ও প্লাটিলেট কাউন্ট সাধারণত যথেষ্ট। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার প্লাটিলেট পরীক্ষা করার দরকার নেই।
প্লাটিলেট ও রক্ত
শুধু প্লাটিলেট কমলেই প্লাটিলেট বা রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তক্ষরণ বা চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরামর্শ থাকলেই এগুলোর প্রয়োজন হয়।
প্রতিরোধই সেরা উপায়
ডেঙ্গুর কার্যকর প্রতিরোধ হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশারি ব্যবহার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনে রাখুন
ডেঙ্গু ছোঁয়াচে নয়; আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায় না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
