স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

  • ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    ‘মৃত নারীদের বিকৃত যৌনাচার’, সংবাদ প্রচার করায় জীবননাশের হুমকি

    রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মৃত নারীদের মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার ও ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন ‘আলাপ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি দিপু সিকদার। এই হুমকির ঘটনার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ওই সাংবাদিক।

    জিডিতে সাংবাদিক দিপু সিকদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে মর্গের ভেতরে চলা নারকীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার পর থেকেই তাকে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, বরং মর্গের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

    হুমকির মূল হোতা হিসেবে মর্গের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী নূরে আলম শান্তর নাম উল্লেখ করেছেন দিপু সিকদার। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সাবেক মর্গ সহকারী শান্ত ফোন করে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন। এমনকি একপর্যায়ে ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে দিপুর ফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠান শান্ত।

    এর আগে গত ১৮ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘আলাপ’-এর মূল ওয়েবসাইট ও অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে ‘ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?’ শিরোনামে ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ওপর চালানো চরম বিকৃত যৌনাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদনটির বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি অভিযুক্ত দুজনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লাল এবং অন্যজন চাকরিচ্যুত মর্গ সহকারী নূরে আলম শান্ত। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তৎপরতা শুরু হয়।

    এদিকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক দিপু সিকদারকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা, গোপন অনিয়ম উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য হাতিয়ার। পেশাগত দায়িত্ব পালনের দায়ে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি বা হয়রানির শিকার হতে হওয়া মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    সংগঠনটির সদস্য দিপু সিকদারের তোলা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ক্র্যাব। পাশাপাশি অভিযোগকারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

  • অনুমতি না নিয়ে গুদাম পরিদর্শন, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি

    অনুমতি না নিয়ে গুদাম পরিদর্শন, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি

    অনুমতি না নিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি করে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ায় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আবদুল আউয়ালকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। খাদ্যমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন আবদুল আউয়াল। এ সফরের জন্য ৮ অক্টোবর খাদ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়।

    তবে এপিএসের ওই সফর সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিষয়টি জানার পর তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরে আবদুল আউয়ালকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

    এদিকে, একই দিন জারি করা পৃথক এক আদেশে মিজানুর রহমানকে খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম যত দিন দায়িত্বে থাকবেন অথবা মিজানুর রহমানকে এপিএস পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, তত দিন এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

  • খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

    জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ নামের নতুন এই প্রবিধানমালা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

    নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত ৪ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যসমূহের নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬টি শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রয়েছে।

    এর আওতায় পথের ধারে ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও বড় আকারের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, খাবারের ব্যবসায় জড়িত এমন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে।

    প্রবিধানের তফশিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্যব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে যারা বিশেষ ধরনের বা সুপার ফুড পণ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের লাইসেন্স নিতে হবে।

    রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ এবং ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে যারা পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসা করেন, নতুন এই নিয়মের আওতায় তাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

    এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করে, যেমন: শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরিকৃত বিশেষ ধরনের খাবার, এমন চার ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে এ প্রবিধানের মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণন।এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি-সম্পন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফশিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে।

    কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময় থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর এটি নবায়ন করতে হবে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্যব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হয়েছে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার নিম্নে প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ফি ১০হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

    প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা বুঝতে পারবে এবং যে কোনো অভিযোগ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেই করতে পারবে।

    প্রাথমিক অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য খাতে ১১–২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চায় মন্ত্রণালয়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও সিভিল সার্জনদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির, অর্থাৎ ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ, ছাড়কৃত পদের সংখ্যা, নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের সংখ্যা এবং নিয়োগের তারিখ সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনো পদে নিয়োগ না হয়ে থাকলে তার কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা

    স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা

    ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৪ লাখ নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার নারী এই রোগে মারা গেছেন।

    আসুন, এই স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাসে জেনে নিই—কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়, কীভাবে রোগের লক্ষণ শনাক্ত করা যায় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    স্তন ক্যানসার কী

    স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্যানসার তৈরি করে, তখন তাকে স্তন ক্যানসার বলে।

    এটি নারীদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও পুরুষেরও স্তন ক্যানসার হতে পারে।

    মনে রাখবেন—

    * স্তনে গাঁট হলেই ক্যানসার নয়।

    * স্তনে ব্যথা না থাকলেও ক্যানসার হতে পারে।

    * শুধু বয়স্ক নারীদের নয়, কম বয়সেও স্তন ক্যানসার হতে পারে।

    * পরিবারের কারো স্তন ক্যানসার না থাকলেও এই রোগ হতে পারে।

    গুরুত্বপূর্ণ : এসব লক্ষণের অনেকেই ক্যানসার ছাড়াও অন্য কারণে হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা না করে নিশ্চিত হওয়া যায় না। নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন

    বয়স বৃদ্ধি : বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে।

    পারিবারিক ইতিহাস : মা, বোন বা মেয়ের স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    বংশগত জিনের পরিবর্তন : BRCA1 ও BRCA2-এর মতো জিনের পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়ায়।

    অতিরিক্ত ওজন : বিশেষত মেনোপজের পর।

    অ্যালকোহল গ্রহণ : স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

    পূর্ববর্তী রেডিয়েশন : বিশেষত অল্প বয়সে বুকে রেডিয়েশন নেওয়ার ইতিহাস।

    প্রজনন ও হরমোন : কিছু প্রজনন-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য ও হরমোন ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি পরিবর্তিত হতে পারে।

    মনে রাখবেন : প্রায় ৮০ শতাংশ স্তন ক্যানসার এমন নারীদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের নারী হওয়া ও বয়স বৃদ্ধির বাইরে নির্দিষ্ট কোনো পরিচিত ঝুঁকির কারণ থাকে না। তাই ঝুঁকির কারণ না থাকলেও সচেতন থাকা জরুরি।

    প্রতিরোধে কী করবেন

    স্তন ক্যানসারের সব ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    * নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।

    * স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

    * শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

    * অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।

    * ধূমপান পরিহার করুন।

    * চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

    * পরিবারে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করুন।

    * বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী উপযুক্ত স্ক্রিনিং করান।

    সতর্কতা : স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু স্তন ক্যানসার হওয়া সম্পূর্ণভাবে ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

    শনাক্ত করতে কী পরীক্ষা করা হয়

    ক. Breast awareness

    নিজের স্তনের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। নতুন কোনো পরিবর্তন দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    খ. চিকিৎসকের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা

    প্রশিক্ষিত চিকিৎসক স্তন ও বগল পরীক্ষা করে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারেন।

    গ. ম্যামোগ্রাফি (Mammography)

    এটি স্তনের বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা। কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই কিছু ক্যানসার শনাক্ত করতে পারে।

    ঘ. আলট্রাসনোগ্রাফি

    স্তনের গাঁট বা অন্য অস্বাভাবিকতা মূল্যায়নে ব্যবহার করা হয়। এটি ম্যামোগ্রাফির বিকল্প বা সম্পূরক হিসেবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাজে লাগে।

    ঙ. বায়োপসি (Biopsy)

    সন্দেহজনক টিস্যুর নমুনা পরীক্ষা করে ক্যানসার আছে কি না, নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষভাবে মনে রাখুন : স্তনে গাঁট বা অন্য সন্দেহজনক লক্ষণ থাকলে শুধু স্ক্রিনিংয়ের জন্য অপেক্ষা করবেন না। চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করাতে হবে।

    ধরা পড়লে কী করবেন

    প্রথমেই আতঙ্কিত হবেন না। সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করুন। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের স্টেজ, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। চিকিৎসার ধরন—কখন প্রয়োজন হতে পারে।

    সার্জারি : উপযুক্ত রোগীর টিউমার অপসারণ বা স্তন অপসারণ।

    রেডিওথেরাপি : নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমাতে।

    কেমোথেরাপি : টিউমারের ধরন, স্টেজ ও পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনুযায়ী।

    হরমোন থেরাপি : হরমোন রিসেপ্টর-পজিটিভ ক্যানসারে।

    টার্গেটেড থেরাপি : HER2 বা অন্যান্য নির্দিষ্ট বায়োমার্কার অনুযায়ী।

    ইমিউনোথেরাপি : নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষত নির্দিষ্ট ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যানসারে।

    চিকিৎসা শুরুর আগে প্রয়োজন অনুযায়ী Histopathology, ER, PR, HER2 এবং Ki-67 পরীক্ষা করা হয়। নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে অন্যান্য বায়োমার্কার বা জেনেটিক পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেরি করাও বিপজ্জনক। তাই যোগ্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

  • কিটো ডায়েট ও ‘ডিটক্স’: ফ্যাশন নাকি বিজ্ঞান?

    কিটো ডায়েট ও ‘ডিটক্স’: ফ্যাশন নাকি বিজ্ঞান?

    না। কিটো ডায়েটের চিকিৎসাগত ব্যবহার রয়েছে—বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে, যেমন : Drug-resistant Epilepsy। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘সবাই কিটো ডায়েট করুন, দ্রুত রোগ ও চর্বি উধাও হয়ে যাবে’—এ ধরনের প্রচারণা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে, Diabetes, Kidney disease, Liver disease, Cardiovascular disease, Pregnancy বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসক বা Dietitian-এর পরামর্শ ছাড়া চরম Carbohydrate restriction শুরু করা উচিত নয়। আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ওজন কমা মানেই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমা নয়।

    ‘ডিটক্স’ ও কফি এনেমা

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শরীরে টক্সিন জমে আছে’, ‘কোলন পরিষ্কার করতে হবে’, ‘লিভার ডিটক্স করতে হবে’-এ ধরনের কথা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন টক্সিন? কীভাবে সেটি মাপা হয়েছে? চিকিৎসার আগে কত ছিল এবং পরে কত কমেছে? বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় কোনো চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হলে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

    কফি এনেমায় কফি পায়ুপথ দিয়ে Rectum ও Colon-এ প্রবেশ করানো হয়। এটি মূলত কিছু ‘detox’ বা Alternative medicine পদ্ধতির অংশ হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু এর কথিত Detoxification বা রোগ নিরাময়ের উপকারিতা সমর্থন করার মতো শক্তিশালী Clinical Evidence নেই। বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবের Documented Evidence রয়েছে।

    কফি পায়ুপথ দিয়ে সরাসরি লিভারে যায়

    শরীরের Anatomy ও Physiology-কে এমন সরলীকরণ করে বলা যায় না যে পায়ুপথে কফি প্রবেশ করালেই তা কোনো ‘সুপারহাইওয়ে’ দিয়ে সরাসরি লিভারে পৌঁছে যাবে এবং সেখানে বিশেষ Detoxification শুরু হবে। লিভার ও কিডনি নিজেরাই প্রতিনিয়ত শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ‘কোলনে জমে থাকা টক্সিন’ বের করার জন্য নিয়মিত Coffee enema প্রয়োজন—এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    কফি এনেমার পর ভালো বোধ করেন কেন

    কেউ কোনো পদ্ধতি নেওয়ার পর ভালো অনুভব করতেই পারেন। কিন্তু ভালো লাগা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অর্থে কার্যকারিতা এক জিনিস নয়। এর পেছনে থাকতে পারে—

    • মলত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই হালকা লাগা;

    • Caffeine-এর সাময়িক Stimulant effect;

    • Placebo effect;

    • একই সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের পরিবর্তন;

    • রোগের উপসর্গের স্বাভাবিক ওঠানামা।

    তাই কোনো ব্যক্তি বললেন, ‘আমি ব্যবহার করে ভালো হয়েছি’—এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে পারে; কিন্তু সেটি Clinical Evidence-এর বিকল্প নয়।

    ওজন কমাব কীভাবে

    ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ কোনো ‘ম্যাজিক ডায়েট’ নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত—ধীরে, নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে অতিরিক্ত শরীরের চর্বি কমানো। সহজ কিছু নিয়ম—

    ১. ভাত বা রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ কমিয়ে খাবারের ভারসাম্য ঠিক করুন।

    ২. প্রায় অর্ধেক সবজি, এক-চতুর্থাংশ protein—মাছ, ডিম, মুরগি, ডাল—এবং এক-চতুর্থাংশ ভাত বা রুটি রাখা যেতে পারে।

    ৩. শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, ছোলা, বাদাম ও পরিমিত দই পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    ৪. কোমলপানীয়, মিষ্টি, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, Fast food ও প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।

    ৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট Moderate-intensity physical activity এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন Muscle-strengthening exercise করার চেষ্টা করুন।

    ৬. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ৭. Crash diet এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অত্যন্ত দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।

  • সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, দিনে গড়ে ১৪ মৃত্যু

    দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সড়কে ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । এসব দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৩, শিশু ৬১। রোববার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫৪ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২.৮৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৮৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১২.৫২ শতাংশ।

    এই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন, বাসের যাত্রী ২৬ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রলি আরোহী ১৯ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের আরোহী ২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া থ্রি-হুইলার—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র ও টমটমের যাত্রী ১৮ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৭৮টি দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে, ১৪৫টি জাতীয় মহাসড়কে, ৬৩টি শহরের সড়কে এবং ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে আঞ্চলিক সড়কে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ, জাতীয় মহাসড়কে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ। এছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৯টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৬১টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৯১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার, ১১৩টি বাস, ৯৩টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি পিকআপ, ১২টি মাইক্রোবাস, ১৫টি প্রাইভেটকার, ৮টি অ্যাম্বুলেন্স, ৫টি জীপ এবং ৪৬টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।

    সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে সকালে। এ সময়ে ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকালে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাণহানি, খুলনা বিভাগে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রাণহানি এবং রাজশাহী বিভাগে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে।

    অন্যদিকে বরিশালে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রাণহানি, সিলেটে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রাণহানি, রংপুরে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রাণহানি এবং ময়মনসিংহে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

    রাজধানীতেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

    নিহতদের পেশাগত পরিচয়েও উঠে এসেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণহানির চিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের ২৪ জন নেতাকর্মী, স্থানীয় পর্যায়ের ২৫ জন ব্যবসায়ী, ১৮ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং ১৩ জন শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা কর্মচারী ১১ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, প্রকৌশলী ৪ জন, মোটর মেকানিক ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, মসজিদের ইমাম/খাদেম ৩ জন, পুলিশ সদস্য ২ জন ও চিকিৎসক ২ জন নিহত হয়েছেন। সেনা সদস্য, কাস্টমস কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী একজন করে এবং একজন বিদেশি নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

    শুধু সড়কেই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • ইসরায়েলি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল নার্সিং সংগঠনের

    ইসরায়েলি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল নার্সিং সংগঠনের

    ইসরায়েলি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তেভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং অতীতের দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেভা ইউকে-কে একটি আসন্ন অনুষ্ঠানের স্পনসর ও অংশীদার হিসেবে সরিয়ে দিয়েছে আরসিএন। ৩০ অক্টোবর লন্ডনে আরসিএনের সদর দপ্তরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রায় ৬ লাখ নার্সের প্রতিনিধিত্বকারী আরসিএন। নার্সেস ফর প্যালেস্টাইন এবং ইউকে হেলথকেয়ার পিটিশনস টু রয়্যাল কলেজেসের প্রচারণার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

    নার্স, মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি খোলা চিঠিতে তেভার সঙ্গে আরসিএনের অংশীদারত্বের সমালোচনা করা হয়। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

    আরসিএনের কাউন্সিল চেয়ার কারমেল ও’বয়েল নার্সেস ফর প্যালেস্টাইনকে দেওয়া এক চিঠিতে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, এখন থেকে তেভা ইউকের সঙ্গে আরসিএনের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব থাকবে না। তবে ৩০ অক্টোবরের অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

    আরসিএন জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর তেভা ফার্মাসিউটিক্যালসের কয়েকটি কার্যক্রম সম্পর্কে আইনি নিষেধাজ্ঞা ও জনসমালোচনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় আরসিএন ও তাদের শিক্ষা ও প্রকাশনা শাখা আরসিএনআইয়ের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংগঠনটি মনে করেছে।

    এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে প্যালেস্টাইনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। তারা এটিকে বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    তবে তেভা আরসিএনের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, আরসিএন স্বাস্থ্যসেবাকে রাজনীতিকরণের সুযোগ দিয়েছে।

    তেভা বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। গত এক দশকে দাম নির্ধারণে কারসাজি, ঘুষ এবং বাজারে প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগে ইউরোপীয় কমিশন ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড বা ১৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে বলে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে।

    এছাড়া দাম নির্ধারণে কারসাজির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তেভার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলাও চলছে।

  • আঙুল ফোটালে হাড় ক্ষয় হয়?

    আঙুল ফোটালে হাড় ক্ষয় হয়?

    ‘আঙুল ফুটিও না, হাড় ক্ষয় হয়ে যাবে!’ ছোটবেলা থেকে আমরা প্রায় সবাই এই সতর্কবাণী শুনে বড় হয়েছি। কেউ বলেন, জয়েন্টে ‘পানি’ কমে যাওয়ায় এই শব্দ হয়। কেউ বলেন, হাড় একে অপরের সঙ্গে ঘষা লাগার কারণেই এই আওয়াজ। আবার অনেকে মনে করেন, বারবার আঙুল ফোটালে ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস হবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আসুন, জেনে নেওয়া যাক জয়েন্টের এই রহস্যময় শব্দের আসল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

    জয়েন্টের ভেতরে কী থাকে

    আমাদের শরীরের প্রতিটি সচল জয়েন্ট একটি বিশেষ ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত থাকে। এর ভেতরে থাকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড, যা এক ধরনের স্বচ্ছ ও পিচ্ছিল তরল। এই তরল জয়েন্টকে সহজে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। এই তরলের মধ্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

    ‘ফট’ শব্দটি আসে কোথা থেকে

    যখন আমরা আঙুল বা অন্য কোনো জয়েন্ট টেনে হঠাৎ প্রসারিত করি, তখন জয়েন্টের ভেতরের চাপ দ্রুত কমে যায়। চাপ কমে যাওয়ার ফলে সাইনোভিয়াল তরলে দ্রবীভূত গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট গ্যাস বুদবুদ (বাবল) তৈরি করে। এই বুদবুদ তৈরির ঘটনাকেই ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন বলা হয়। এই আকস্মিক বুদবুদ সৃষ্টির সময়ই ‘ফট’ বা ‘কট’ ধরনের শব্দ শোনা যায়। আগে মনে করা হতো, শব্দটি গ্যাস বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, শব্দটি বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে নয়, বরং বুদবুদ তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই হয়। অর্থাৎ, শব্দটি হাড়ের ঘর্ষণ থেকে নয়, বরং জয়েন্টের ভেতরে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হওয়ার ফল।

    কেন সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোটানো যায় না

    অনেকে লক্ষ করেছেন, একবার আঙুল ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আবার শব্দ হয় না। এর কারণ তৈরি হওয়া গ্যাস বুদবুদটি আবার ধীরে ধীরে সাইনোভিয়াল তরলে মিশে যেতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর আবার একই জয়েন্টে শব্দ করা সম্ভব হয়।

    সব জয়েন্টের শব্দ কি একই কারণে হয়

    না। জয়েন্টের শব্দ মূলত দুধরনের হতে পারে। প্রথমটি স্বাভাবিক শব্দ (ফিজিওলজিকাল)। ব্যথা নেই, ফোলা নেই, নড়াচড়ায় সমস্যা নেই; মাঝে মাঝে ‘ফট’ বা ‘কট’ শব্দ হয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। দ্বিতীয়টি রোগজনিত শব্দ (প্যাথলজিকাল)। যদি শব্দের সঙ্গে থাকে—ব্যথা, ফোলা, জয়েন্ট আটকে যাওয়া, নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা ও আঘাতের ইতিহাস, তাহলে এটি কার্টিলেজ ক্ষয়, লিগামেন্ট ইনজুরি, মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়া, টেনডন স্ন্যাপিং বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।আঙুল

    ফোটালে কি আর্থ্রাইটিস হয়

    বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আঙুল ফোটানোর সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে প্রমাণিত হয়নি।

    তবে অতিরিক্ত জোরে বা অভ্যাসবশত বারবার জয়েন্ট টানাটানি করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিগামেন্ট বা নরম টিস্যুতে সামান্য আঘাত লাগতে পারে, হাতের গ্রিপ শক্তি কমে যেতে পারে বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই অকারণে বারবার জয়েন্ট ফোটানোর অভ্যাস না করাই ভালো।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শব্দের সঙ্গে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, হাঁটতে বা কাজ করতে সমস্যা, জয়েন্ট বারবার লক হয়ে যাওয়া, আঘাতের পর নতুন করে শব্দ শুরু হওয়া, কিংবা শব্দের সঙ্গে অস্থিরতা বা দুর্বলতা অনুভব করা।

    শেষকথা, জয়েন্টের ‘ফট’ শব্দ মানেই রোগ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি জয়েন্টের ভেতরে সাইনোভিয়াল তরলে থাকা গ্যাসের বুদবুদ তৈরির একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। তবে যদি এই শব্দের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা বা চলাফেরায় অসুবিধা থাকে, তাহলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ তখন এটি কোনো অর্থোপেডিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। মনে রাখবেন, শব্দ নয়, শব্দের সঙ্গে থাকা উপসর্গই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

    লেখক : সহকারী অধ্যাপক (স্পাইন সার্জারি), জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোর, ঢাকা

  • জীবনভর সুস্থ ফুসফুসের অঙ্গীকার

    জীবনভর সুস্থ ফুসফুসের অঙ্গীকার

    প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমরা বাঁচি, কিন্তু সেই নিঃশ্বাসের উৎস ফুসফুসের কথা আমরা কতটুকু ভাবি? বিশ্ব ফুসফুস দিবস আমাদের সেই ভাবনাটাই মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ফিরে আসে। প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফুসফুস দিবস। এর উদ্যোক্তা হলো Forum of International Respiratory Societies (FIRS)। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘A Lifetime of Lung Health’—জীবনভর ফুসফুসের সুস্থতা। এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। FIRS বলছে, ফুসফুসের স্বাস্থ্য এক দিনের বিষয় নয়, এটি সারা জীবনের যাত্রা।

    দিবসটি উপলক্ষে দেশের বক্ষব্যাধির সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, যেমন সেমিনার, টিভি টকশো ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রোগ্রামের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে। এ ব্যাপারে বিএমআরসি পরিচালক ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সচিব ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর বলেন, ‘সুস্থ ফুসফুস মানেই প্রাণবন্ত জীবন। প্রতি নিঃশ্বাস আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অমূল্য উপহার। একটি সচেতন সিদ্ধান্ত আপনার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যকে বদলে দিতে পারে। যদি ধূমপান করেন, আজই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন।’

    এদিকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর খান বলেন, ‘সুস্থ ফুসফুসের জন্য শুধু রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই পারে আমাদের ফুসফুসকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সক্রিয় থাকুন। ফাঁকা ব্যায়াম বা খেলাধুলার মতো অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন। পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রতিও গুরুত্ব দিন।’

    ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ বলেন, ‘পরিষ্কার বাতাস আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু বায়ুদূষণ আজ আমাদের ফুসফুসের জন্য একটি বড় হুমকি। ধোঁয়া, ধুলা ও ক্ষতিকর বায়ুকণা প্রতিদিন আমাদের শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে শিশু থেকে বড় সবার ওপরই প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ফুসফুস এখনো বিকাশমান। তাই তাদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী সবাই মাস্ক পরিধান করবেন। ধূমপান বর্জন করুন। যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া কমানোসহ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহিত করুন। বেশি বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ তৈরি করাও আমাদের দায়িত্ব।’

    বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে দেশের অন্য একটি বক্ষব্যাধি সংগঠনের সভাপতি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, “বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ফুসফুসের স্বাস্থ্য এবং ফুসফুসকে ভালো রাখার বিভিন্ন উপায় নিয়ে সেমিনার করছে। চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সেই ধারাবাহিকতায় চারটি সেমিনার এবং একটি র‍্যালি করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘A healthy lung of lifetime’—মানে সারাজীবন ফুসফুসকে সুস্থ রাখুন। এ জন্য আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, ধূমপান বর্জন করতে হবে, ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে, পরিবেশদূষণ রোধ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হ্যাজার্ড—সেখানে গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া—সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া আমাদের সমন্বিতভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনগণকে এ বিষয়গুলো জানাতে হবে। রাজনৈতিক কমিটমেন্টের মধ্যে এগুলোর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন করেছে, এটার বাস্তবায়ন করতে হবে। বায়ুদূষণের জন্য আমাদের সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা হলো—যানবাহন, ইটভাটার ধোঁয়াসহ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকার পরিবেশ রক্ষা করার জন্য ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমাদের সবাইকে এই গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। সবাইকে দুটি গাছ লাগাতে হবে এবং সেটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে। এছাড়া আমরা ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ভালো খাবার খেতে হবে। আমাদের ব্যায়াম করতে হবে। পরিবেশ যাতে সুন্দর থাকে, পরিবেশ যাতে নির্মল থাকে, এর জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

    জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুৎ বলেন, ‘সারা বছর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাই ফুসফুস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা জীবন সুস্থ ফুসফুস নিয়ে বাঁচতে হলে আজই নিজেকে সচেতন করুন। তাহলেই লাইফটাইম হেলদি লাং নিয়ে আমাদের বাঁচা সম্ভব।’

    এছাড়া বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের ফুসফুস জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নীরবে আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে পৌঁছে দেয় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। তাই ফুসফুসের সুস্থতা মানেই স্বাভাবিক জীবনের ভিত্তি। কিন্তু বায়ুদূষণ, ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ফুসফুসের জন্য বড় ঝুঁকি। ফুসফুসের যত্ন শুরু করতে হবে আজ থেকেই। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য কেউ ধূমপানমুক্ত থাকতে উৎসাহিত করুন। ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন। দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গকে অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’

    আসুন, বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬-এ অঙ্গীকার করি—প্রতিটি নিঃশ্বাস হবে বিশুদ্ধ, প্রতিটি ফুসফুস পাবে সারাজীবন যত্ন।

    লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

    হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

    প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।

    যেসব উপকার পাবেন

    রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

    মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।

    শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।

    শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই। সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।

  • স্বাস্থ্য-শিক্ষা-যোগাযোগে বাংলা কিউআর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-যোগাযোগে বাংলা কিউআর ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ, স্কুলের বেতন ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধ—মানুষের নিয়মিত সম্পৃক্ততার এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব খাতে বাংলা কিউআর চালু হলে লেনদেন সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও ভাংতির সমস্যাও কমবে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা কিউআর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। জানা গেছে, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরকে আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আগামী তিন মাসে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত জুনের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও বড় হবে। এ কারণে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির লেনদেনগুলোও যদি হিসাবের আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থনীতির আকার আরও বড় হতে পারে। এ ধরনের বড় অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের বাজারকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।

    তিনি বলেন, বিদেশিরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেখানে বাজার আছে কি না এবং বাজারের আকার কত— তা বিবেচনা করে। বাংলাদেশকে যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, দেশের বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণত ক্যাশলেস পদ্ধতিতে হয়। কিন্তু ছোট ছোট দৈনন্দিন লেনদেন এখনো মূলত নগদনির্ভর। মুদি দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অল্প অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার বেশি। এই ছোট লেনদেনগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, নগদ লেনদেনে নানা ধরনের বিড়ম্বনা রয়েছে। বাজারে নিম্ন মূল্যমানের নোটের সংকট রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতার কাছে ৫০ টাকার নোট থাকলেও ১০ বা ২০ টাকার ভাংতি পাওয়া যায় না। আবার পুরোনো ও মলিন নোট নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। এসব কারণে লেনদেনে সময় লাগে, কখনো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, গত ১ জুলাই থেকে সর্বস্তরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এরপর গত তিন মাস ধরে বাস্তবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এখন সেসব বাধা দূর করতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে মার্চেন্টের সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
    তবে এখনো বাংলা কিউআর ব্যবহারে অন্যতম সমস্যা হিসেবে ফি বা চার্জের বিষয়টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রি করার পর যদি তার প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ কেটে রাখা হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের লেনদেনে উৎসাহিত হবেন না। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি কীভাবে সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে বিভিন্ন সমাধান বের করা হয়েছে। বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কোনো মার্চেন্ট একটি নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংকের কিউআর ব্যবহার করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো মার্চেন্ট বিকাশের কিউআর ব্যবহার করলে নগদের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। একইভাবে কোনো ব্যাংকের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর থাকলে সমস্যায় পড়তেন।

    কিন্তু বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন একটি সার্বজনীন কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। ফলে সবাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার জন্য গভর্নরের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কার্যকরী কমিটি কাজ করছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দিয়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের প্রায় ১৯টি জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা কিউআরে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে এটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং কী ধরনের খরচ হলে এটি সবার জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী হবে—এসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।

    আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করতে কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ ১ নভেম্বর থেকে এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পদক্ষেপ চালু হলে আগামী তিন মাসে গত তিন মাসের তুলনায় আরও দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কেনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ টাকার টিকিট কিনতে ৫০ টাকার নোট দিলে ভাংতি পাওয়া যায় না। এতে লাইনে অপেক্ষার সময় বাড়ে। বাংলা কিউআর থাকলে মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

    শিক্ষা খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিনে খাবার কেনা, স্টেশনারি, পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার বা জ্যামিতি বক্স কেনার মতো ছোট লেনদেনও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা সম্ভব। ইতোমধ্যে বেসরকারি স্কুলের বেতন ক্যাশলেস করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পেমেন্ট বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
    যোগাযোগ খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টোল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিউআর ব্যবহার করা গেলে সময় কমানো সম্ভব। এতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হবে না এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি, সেসব খাতে দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাংলা কিউআরের উপযোগিতা, এর সুবিধা এবং বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তাদের জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নির্দেশনাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে শুধু একটি পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে নয়, দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাসে নতুন পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে এবং দৈনন্দিন ছোট লেনদেনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • আরামদায়ক ঘুমের জন্য খুঁজে নিন সঠিক বালিশ

    আরামদায়ক ঘুমের জন্য খুঁজে নিন সঠিক বালিশ

    ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু সমস্যার কারণ হতে পারে বালিশও। ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ, গদির নরম-শক্তভাব—এসব বিবেচনা করেই নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট ড. ক্রিস ম্যাকার্থি।

    বিবিসির ‘Sliced Bread’ পডকাস্টে তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ তিন ধরনের ভঙ্গিতে ঘুমান—কাত হয়ে, চিৎ হয়ে এবং উপুড় হয়ে। তবে উপুড় হয়ে ঘুমানোকে তিনি নিরুৎসাহিত করেন। কারণ এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘাড় একদিকে ঘোরানো থাকে, ফলে ঘাড়ের কোনো পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

    চিৎ হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক বিবেচনা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের বাঁক অনেকেরই কিছুটা বাড়ে। যাদের এই বাঁক বেশি, তাদের তুলনামূলক মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে।

    অন্যদিকে, কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাঁধের প্রস্থ। কাঁধ যত চওড়া, সাধারণত বালিশও তত মোটা হওয়া দরকার। তবে এখানে গদির নরম-শক্তভাবও বড় ভূমিকা রাখে। শক্ত গদিতে কাঁধ কম ডোবে, তাই মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। নরম গদিতে কাঁধ বেশি ডুবে যাওয়ায় তুলনামূলক পাতলা বালিশই যথেষ্ট।

    বালিশ খুব পাতলা মনে হলে ম্যাকার্থির সহজ একটি কৌশল রয়েছে—বালিশের নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে রাখা। কতটা উঁচু বালিশ প্রয়োজন, তা বুঝতে তোয়ালের ভাঁজের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো যায়। একইভাবে তোয়ালে গুটিয়ে বালিশের নিচে রাখলে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচের অংশে বাড়তি সমর্থন প্রয়োজন কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যায়।

    ‘কনট্যুরড’, ‘এরগোনমিক’ বা ‘অর্থোপেডিক’ বালিশের কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ নেই বলেও জানান ম্যাকার্থি। তবে কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বালিশের সামনের অংশ সামান্য উঁচু হলে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে।

    বালিশের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। পালক ও ডাউন ভরা বালিশ ঘাড় ও মাথাকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা রাখতে পারে, তবে রাতে নড়াচড়া করলে বালিশগুলোর আকার বদলে গিয়ে একদিকে জমাট বাঁধতে পারে। এতে বালিশটি ঢালু হয়ে ঘাড় বেঁকে যেতে পারে। হোলো ফাইবার ও মাইক্রোফাইবার সাধারণত আকৃতি ভালোভাবে ধরে রাখে, যদিও এগুলো তাপ সরাতে পারে কম।

    ম্যাকার্থির নিজের পছন্দ ফোমের বালিশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি প্রায় ৫০ পাউন্ড দিয়ে এমন একটি বালিশ কিনেছেন, যাতে বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। কাত হয়ে ঘুমানোর কারণে তিনিও নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে ব্যবহার করে উচ্চতা সামঞ্জস্য করেন। তাঁর মতে, সবার জন্য একই ধরনের বালিশ উপযুক্ত নয়। তাই বালিশ কেনার সময় সুযোগ থাকলে ট্রায়াল পিরিয়ড ব্যবহার করে নিজের ঘুমের ভঙ্গি ও আরামের সঙ্গে মানানসই বালিশ বেছে নেওয়াই ভালো।

  • ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি সরকারকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকহারে এসব মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

    তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। যার ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া তার জন্যও অত্যন্ত কষ্টের।

    তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতিও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া এবং এর সঙ্গে থাকা অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব শিশু স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে পারছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। করোনার সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর কাছাকাছি অন্য শিশুরা থাকলে তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই বিছানায় একাধিক শিশু থাকা কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাতায়াতের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু টিকা পেয়েছিল। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন এ বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন করে শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়ার পরের দিন থেকে ঈদুল আজহার পরের দিন পর্যন্ত আরও প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে এরপরও হাম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি নেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। আগের কিছু মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেয়া শিশু এবং বাকি ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

    তিনি বলেন, আজ থেকে সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্যাম্প এবং প্রত্যেক উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে আগের চেয়েও জোরদারভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক মা কর্মজীবী হওয়ায় দিনের বেলায় সন্তানকে নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে আসতে পারেন না। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে বন্ধের দিনেও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি জানান, এই টিকাদান কর্মসূচির পরও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। ইতোমধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের মপআপ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্যও টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

  • আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক। যা আছে, তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। ’

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের সরবরাহ, খাবারের মান, চিকিৎসক সংকটসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসব মানুষের সার্বিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে বর্তায়। অতীতের অজুহাত দিয়ে আর লাভ নেই। আমরা সারাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। যা আছে, তা দিয়েই গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই।এ কারণে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। ’

    এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংস্কার ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম দূর করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। ’তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ’

    পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ ও ঝুঁকি

    ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ ও ঝুঁকি

    নারীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঙ্গগুলোর একটি ডিম্বাশয়। জরায়ুর দুপাশে থাকা এই অঙ্গ দুটি ডিম্বাণু তৈরি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি নারীদেহের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই ডিম্বাশয়ের কোষ যখন স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং ক্যানসারে রূপ নেয়, তখন তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বলা হয়।

    নারীদের ক্যানসারের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটির লক্ষণ অনেক সময় খুবই সাধারণ মনে হয়। পেট ফাঁপা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, তলপেটে অস্বস্তি কিংবা অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়ার মতো সমস্যাকে অনেকেই স্বাভাবিক বা সাময়িক পেটের সমস্যা মনে করেন। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সম্ভাব্য লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সচেতনতার উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।

    কেন হয়

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত কিছু পরিবর্তন এবং কয়েকটি শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তবে কম বয়সেও ডিম্বাশয়ের কিছু ধরনের ক্যানসার দেখা দিতে পারে। মা, বোন বা মেয়ের মতো নিকট আত্মীয়ের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসককে তা জানানো উচিত। বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ নামের কিছু জিনের বংশগত পরিবর্তন এবং লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো কিছু বংশগত অবস্থার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কিছু ধরনের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে কোনো ঝুঁকির কারণ থাকলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। আবার কোনো পরিচিত ঝুঁকি না থাকলেও এ রোগ হতে পারে।

    যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং সাধারণ পেটের অসুখের সঙ্গে মিল থাকে। তাই নিচের পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হলে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—

    * পেট বারবার ফাঁপা বা ফুলে থাকা

    * তলপেট বা শ্রোণিতে ব্যথা কিংবা চাপ

    * অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি

    * ক্ষুধার পরিবর্তন

    * বারবার বদহজম

    * কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন

    * ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

    * পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া

    * অকারণে দুর্বলতা বা ক্লান্তি

    * ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    * মাসিকের স্বাভাবিক ধারায় পরিবর্তন

    * অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত

    * ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর রক্তপাত

    এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে—এমন নয়। অন্যান্য অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে নতুন কোনো উপসর্গ বারবার হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    প্রকারভেদ

    ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন ধরনের কোষ থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানত তিনটি শ্রেণি উল্লেখযোগ্য।

    * ডিম্বাশয়ের বাইরের আবরণী কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার হয় এবং এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

    * ডিম্বাণু তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হয়। এটি তুলনামূলক বিরল হলেও অল্পবয়সি নারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

    * ডিম্বাশয়ের ভেতরের সহায়ক ও হরমোন উৎপাদনকারী টিস্যু থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। ক্যানসারের প্রকৃত ধরন নির্ধারণের জন্য টিস্যু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে।

    কী কী জটিলতা হতে পারে

    সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার আশপাশের টিস্যু এবং পেটের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অগ্রসর অবস্থায় পেটে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। ক্ষুধা কমে যাওয়া, অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া, দুর্বলতা ও ওজন কমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যানসার আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে অন্ত্র ও মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা আরো জটিল হয়ে ওঠে।

    রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য একটি মাত্র পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। রোগীর বয়স, লক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    শ্রোণি পরীক্ষা : জরায়ু, ডিম্বাশয় ও আশপাশের অঙ্গের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়ন করা হয়।

    আলট্রাসনোগ্রাম : শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের আকার, গঠন, সিস্ট বা অস্বাভাবিক অংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    সিএ-১২৫ রক্ত পরীক্ষা : কিছু ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অন্য কিছু রোগেও এটি বাড়তে পারে। তাই শুধু এই পরীক্ষার ফল দিয়ে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।

    চিত্র পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারনির্ভর চিত্র পরীক্ষা বা চৌম্বকীয় অনুরণন পদ্ধতির সাহায্যে রোগের অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

    টিস্যু পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী টিস্যু সংগ্রহ করে অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়। ক্যানসারের প্রকৃতি নিশ্চিত করতে এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

    চিকিৎসা

    চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, বিস্তার, রোগীর বয়স এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর। অস্ত্রোপচার, ক্যানসারবিরোধী ওষুধ, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

    কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল ও রোগের পর্যায় বিবেচনা করে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। তাই ক্যানসারের সন্দেহ হলে চিকিৎসা বিলম্ব না করে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

    বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

    ওটমিল
    এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

    কাঠবাদাম
    এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

    টক দই
    ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

    তিসির বীজ
    খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

    আপেল
    ‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

    পুদিনা পাতার চাবারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
    সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

  • চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

    এ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকো সিটিতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের যৌথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।

    বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা ও ছাড় দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ গ্রিন মেডিক্যাল চ্যানেল এবং চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানায়। হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন বাংলাদেশি পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্যকে আমরা কী হিসেবে দেখব—সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত? সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি চিকিৎসার মানবিকতা, রোগীর অধিকার, স্বাস্থ্য কর্মীর মর্যাদা, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ন্যায্য সীমারেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
    সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— স্বাস্থ্য সেবা মূলত সেবা খাত; তবে স্বাস্থ্য সেবাকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য শিল্পের অংশ। স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিল্প পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু শিল্পের মুনাফা যদি সেবার মানবিক লক্ষ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।

    একজন রোগী হাসপাতালে আসেন ক্রেতা হিসেবে নয়। তিনি আসেন বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা, ক্যানসার, কিডনি বিকল বা অন্য কোনো জীবন সংকট নিয়ে। তাঁর হাতে সময় থাকে না, তথ্য থাকে না, অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও থাকে না। এই অসহায় অবস্থায় চিকিৎসা কোনো সাধারণ পণ্য বা বাজারের লেনদেন হতে পারে না। চিকিৎসার কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগীর জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সর্বোত্তম স্বার্থ।স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য হলো রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মানুষের কর্মক্ষম ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে—
    * নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা;
    * মাতৃ ও নবজাতক সেবা;
    * টিকাদান ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ;
    * উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ;
    * জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা;
    * ওষুধ, পরীক্ষা, পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা;
    * প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সহায়তা।
    এসবের প্রতিটিই জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। একজন ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হলে শুধু তার পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রি করলে বা ঋণগ্রস্ত হলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়; সেটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রতিফলন।স্বাস্থ্য সেবা তাই সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়ের অংশ। একটি কার্যকর রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হয়—কেউ যেন অর্থের অভাবে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন; প্রাথমিক পর্যায়ে যেন রোগ শনাক্ত হয়; জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও পরীক্ষা যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে; এবং বিপদে পড়লে রোগী যেন দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন।স্বাস্থ্য শিল্প কোথায় এবং কেন প্রয়োজনস্বাস্থ্য সেবা মানবিক সেবা হলেও আধুনিক চিকিৎসা চালাতে শক্তিশালী শিল্পভিত্তিক সহায়তা অপরিহার্য। ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, ইনসুলিন, রিএজেন্ট, রক্তের ব্যাগ, ক্যাথেটার, স্টেন্ট, পেসমেকার, ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ল্যাবরেটরি প্রযুক্তি, হাসপাতাল সফটওয়্যার, টেলিমেডিসিন ও অ্যাম্বুলেন্স—সবকিছুর পেছনে রয়েছে গবেষণা, উৎপাদন, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিতরণ এবং দক্ষ জনবল।

    এই অংশটিই স্বাস্থ্য শিল্প। একটি মানসম্মত ওষুধশিল্প দেশের জন্য সম্পদ। স্থানীয়ভাবে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ উৎপাদন হলে রোগীর ব্যয় কমে, বিদেশ-নির্ভরতা কমে এবং জরুরি সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। চিকিৎসা-সরঞ্জাম, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি ও গবেষণায় দেশীয় সক্ষমতা গড়ে উঠলে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।

    তবে স্বাস্থ্য শিল্পের একটি মৌলিক শর্ত আছে—পণ্য ও প্রযুক্তি রোগীর স্বার্থে ব্যবহৃত হবে, রোগীকে পণ্যের বাজারে পরিণত করার জন্য নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, কোন ওষুধ উপযুক্ত, কোন ডিভাইস ব্যবহার হবে বা কোনো অপারেশন দরকার কি না—এসব সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ, নৈতিকতা এবং রোগীর স্বার্থই প্রধান হওয়া উচিত।

    বাজারের যুক্তি যেখানে সীমিত

    সাধারণ বাজারে মানুষ পণ্য পছন্দ করেন, মূল্য তুলনা করেন, কিনবেন কি না সে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসায় এই স্বাধীনতা প্রায়ই সীমিত থাকে। হার্ট অ্যাটাকের রোগী, গুরুতর আহত ব্যক্তি বা জটিল প্রসবের রোগী পণ্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখেন।

    এই আস্থার কারণেই চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অন্য সব খাতের চেয়ে বেশি। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, অযৌক্তিক ওষুধ, প্রয়োজন ছাড়া ভর্তি, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্যাকেজ বা কমিশনভিত্তিক রেফারেল—এসব শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এগুলো রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসার মানবিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    একইভাবে, কেবল লাভজনক সেবা দিয়ে কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, পুনর্বাসন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও গ্রামীণ চিকিৎসা অনেক সময় লাভজনক নয়, কিন্তু জীবন রক্ষায় অপরিহার্য। এগুলোকে উপেক্ষা করলে হাসপাতাল হয়তো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভবান হবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে ব্যর্থ হবে।

    স্বাস্থ্য কর্মী শুধু কর্মচারী নন

    চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী এবং প্রশাসনিক সহায়ক কর্মীরা মিলে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করেন। একটি হাসপাতালের ভবন, যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞাপন যতই আধুনিক হোক, প্রশিক্ষিত ও নিরাপদ জনবল ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক স্বাস্থ্য কর্মী সীমিত জনবল, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অনিয়মিত বেতন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট এবং সামাজিক অসম্মানের মধ্যেও কাজ করেন। চিকিৎসকের ভুলের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার প্রতিটি জটিলতাকে অপরাধ হিসেবে দেখলে কেউ নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন না। তখন রোগীও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, আবাসন, বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত মর্যাদা—এসব বিলাসিতা নয়; এগুলো রোগীর নিরাপত্তারও শর্ত। ক্লান্ত, ভীত বা অবমূল্যায়িত স্বাস্থ্য কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সেবা আশা করা যায় না।

    সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক

    বাংলাদেশের মতো দেশে সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতকেই বাস্তবসম্মতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি খাতের দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা এবং দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া।

    বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা হাসপাতাল, পরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু এই বিনিয়োগের সঙ্গে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীর তথ্য জানার অধিকার, অভিযোগের নিরপেক্ষ প্রতিকার এবং চিকিৎসা-নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

    বেসরকারি হাসপাতাল লাভ করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানাতে পারে না। সরকারি হাসপাতাল বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে পারে, কিন্তু জবাবদিহিতাহীনতা, অব্যবস্থাপনা কিংবা অবহেলার আশ্রয় নিতে পারে না। দুই ক্ষেত্রেই মান, নৈতিকতা ও রোগীর অধিকার এক হওয়া উচিত।

    রোগীর অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

    রোগীর অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য সেবাকে মানবিক বলা যায় না। রোগী ও স্বজনদের জানার অধিকার আছে—
    * রোগের সম্ভাব্য ধরন কী;
    * কোন পরীক্ষা কেন প্রয়োজন;
    * চিকিৎসার বিকল্প কী কী;
    * সম্ভাব্য ঝুঁকি, উপকার ও সীমাবদ্ধতা কতটুকু;
    * চিকিৎসা ও পরীক্ষার আনুমানিক ব্যয় কত;
    * জরুরি অবস্থায় কোথায় এবং কীভাবে রেফার করা হবে;

    * চিকিৎসার নথি ও রিপোর্ট কীভাবে পাওয়া যাবে।

    চিকিৎসকেরও অধিকার আছে যুক্তিসংগত সময় নিয়ে রোগী দেখার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার, রোগীর সম্মতি নেওয়ার এবং অযৌক্তিক চাপ বা হুমকি ছাড়া পেশাগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। রোগী ও চিকিৎসককে মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, শক্তিশালী রেগুলেটরি কাঠামো, অভিযোগ তদন্তের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার।

    বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা স্বাস্থ্যকে কতটা জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে পারি তার ওপর। এ জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি।

    প্রথমত, একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োজন, যেখানে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবা, জনস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যবিমার সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে শক্তিশালী করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায়েই সহজলভ্য হওয়া দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই কমে।
    তৃতীয়ত, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, মা ও নবজাতকের জরুরি অবস্থা—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, টেলিমেডিসিন, ইসিজি, উপযুক্ত রেফারেল এবং দক্ষ চিকিৎসা সমন্বয় জীবন বাঁচাতে পারে।

    চতুর্থত, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, রোগীর-নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, জরুরি সাড়া, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।

    পঞ্চমত, স্বাস্থ্য শিল্পে গবেষণা ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে হবে, কিন্তু ওষুধ ও যন্ত্রপাতির মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম নিশ্চিত করাই হবে নীতির মূল কথা।

    ষষ্ঠত, রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাতে হবে। অসুস্থতা যেন পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে না ঠেলে দেয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি পরীক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

    উপসংহার

    স্বাস্থ্যকে শিল্প বললে কেবল অর্থনীতি দেখা হয়; স্বাস্থ্যকে শুধু সেবা বললে আধুনিক চিকিৎসার প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা আড়াল হয়ে যায়। সঠিক অবস্থান হলো— স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার ও মানবিক সেবা; স্বাস্থ্য শিল্প সেই সেবার প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো।

    তাই স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য মাপতে হবে শুধু কতটি হাসপাতাল, কতটি ভবন বা কত টাকার বিনিয়োগ হলো তা দিয়ে নয়। মাপতে হবে—একজন দরিদ্র রোগী সময়মতো চিকিৎসা পেলেন কি না, একজন মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিলেন কি না, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী দ্রুত জীবনরক্ষাকারী সেবা পেলেন কি না, একটি শিশুর টিকা হলো কি না, একজন স্বাস্থ্য কর্মী নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারলেন কি না।

    মানুষের জীবনকে মুনাফার ঊর্ধ্বে রেখে, আবার বিজ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সুশাসনকে সঙ্গে নিয়েই একটি মানবিক, জবাবদিহিতামূলক এবং সবার জন্য কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ চান জুবাইদা

    শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ চান জুবাইদা

    কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুবাইদা রহমান এ আহ্বান জানান। শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো- যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির মাঝে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সকলের সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০ টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’
    শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন এবং খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তীতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্নÑ নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছাÑ আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
    তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছেÑ সকলে মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তীতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভ কামনা জানান।বক্তব্যের আগে ডা. জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো-সহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপি সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন ব্লু স্কাই স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
    পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়। পরে বাফওয়া কর্মসূচি এবং ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরো বক্তব্য রাখেন, ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ ( পিএসসি)। অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রীবৃন্দ, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করছে MHTC।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—Alpha IVF Specialist Center, IHH Healthcare Malaysia, KL Fertility and Gynecology Centre, Sunway Medical Centre এবং KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital। প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় তাদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে।

    বাংলাদেশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০,৮০০-এরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রায় RM ১০.৪ মিলিয়ন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    ঢাকায় কার্যক্রমের পাশাপাশি MHTC ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

    ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC। এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত সুবিধাগুলো আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৫১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন।

  • অপরাধী ধরা মন্ত্রীর কাজ হতে পারে না

    অপরাধী ধরা মন্ত্রীর কাজ হতে পারে না

    সরকারের একজন সম্মানিত মন্ত্রীর কাজ অপরাধী ধরা হতে পারে না—এমনকি যদি সেই কাজের পরিধি, প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে, বেসরকারি খাত পর্যন্ত ও বিস্তৃত হয়। কাজের বিশালতার কারণে এটি কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া না, অপরাধ প্রতিরোধ করা কোনো মন্ত্রণালয়ের একমাত্র লক্ষ্য না। সম্মানিত মন্ত্রীদের মনোযোগ দেওয়ার মতো আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যারা নীতিনির্ধারকদের ভোট দিয়েছেন, সেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটানোর দায়িত্ব নীতিনির্ধারকরা নিজেরাই গ্রহণ করেছেন। তাদের মূল কাজ হবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হালনাগাদ করা ও শক্তিশালী করা—যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামাল দিতে পারবে। এর একটি উপায় হতে পারে কর্মীদের স্বচ্ছতা, কাজের মান এবং ফল তদারকির জন্য একটি ত্রুটিমুক্ত কর্মপরিধি। একই সঙ্গে তদারককারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা যে, ব্যর্থতার দায়ে তাদের শুধু তিরস্কারই শুনতে হবে না, বরং চাকরিও হারাতে হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় শীর্ষে থাকা কর্মকর্তা মন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন সরাসরি। এই জবাবদিহির আওতা সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য হতে হবে। এই ব্যবস্থায় নিশ্চিত করতে হবে যে, নিম্নস্তরের তদারককারীরা যেন পর্যায়ক্রমে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করেন। তবে জবাবদিহি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও তা একমাত্র কাজ নয়।

    মানুষের চোখে যা প্রথমেই ধরা দেয়

    স্বাস্থ্য খাত-প্রদত্ত সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধির আশায় মন্ত্রী অপরাধী ধরার জন্য ব্যগ্র। নিঃসন্দেহে, এই দুটি লক্ষ্য পূরণ করাই এ খাতের প্রত্যাশিত কাজ। তবে যখন অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিই মুখ্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তখন কিছু কিছু ভুল পদক্ষেপও দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ঘটনা দেখা গেছে যেখানে মন্ত্রণালয়কে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না—মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান জানান দিতে গিয়ে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিকে তাড়াহুড়োর সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সামগ্রিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে। আমরা মন্ত্রীর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু স্বাস্থ্য খাত অত্যন্ত জটিল, দুরূহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এটি একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় খাত, যেখানে রয়েছে অসংখ্য বিষয়, দক্ষতা, পদমর্যাদা, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং নানা মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এই খাতের প্রকৃত প্রভাব অনেক সময় গভীরভাবে অদৃশ্য বা অস্পষ্ট থেকে যায়।

    স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকারগুলো কী হওয়া উচিতস্বাস্থ্য খাত থেকে মানুষ যে সেবা পায় এবং তা পাওয়ার যে জটিল ও দুরূহ প্রক্রিয়া—এর ফলে মানুষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আমাদের বুঝতে হবে যে, যাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন তাদের সবাই তা পান না; আবার কেউ কেউ সেবা পেলেও তা পেতে দেরি হয়ে যায়। এর একটি কারণ হলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিজস্ব আচরণ; যেমন—হাতুড়ে চিকিৎসকদের পেছনে ছোটা এবং অকার্যকর চিকিৎসার পেছনে সময় ও অর্থ নষ্ট করা। এর ফলে যোগ্য ও দক্ষ চিকিৎসকদের পক্ষে সেবা প্রদান করা জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার কারণ হয়। তবে এই বিলম্বের দায় সরকারের ওপরও বর্তায়। জনগণের অজ্ঞতা আসলে সরকারেরই অজ্ঞতার পরিচায়ক। পরিস্থিতি জটিল হয়ে চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলার আগেই, যাদের প্রয়োজন তাদের সবার কাছে সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারকে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এই কৌশলের দুটি দিক থাকা উচিত : প্রথমত, সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের তথ্য সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং দ্বিতীয়ত, সেবাগ্রহীতারা যেন প্রাপ্ত সেবায় সন্তুষ্ট হন তা নিশ্চিত করা। এই দুটি বিষয় সেবার আওতা ও গুণমান সম্পর্কিত। সেবার আওতা বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত গুণমান নিশ্চিত করার ওপর ও নির্ভরশীল হতে হবে; অন্যথায়, সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল খোলা থাকা সত্ত্বেও মানুষ সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। গুণমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সেবার আওতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হবে। সেবার আওতাকে অর্থবহ ও দৃশ্যমান করে তোলার লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ প্রথমে উপজেলাভিত্তিক জরিপ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি উপজেলার জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো, যা একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে, তা নিরূপণ করা। জরিপের পরবর্তী ধাপে সরকারকে উপযুক্ত ধরনের/শ্রেণির পর্যাপ্তসংখ্যক, দক্ষতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে—অর্থাৎ কোন ধরনের সেবাপ্রদানকারী কী সংখ্যায় প্রয়োজন, কোথায় প্রয়োজন, তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া এবং শর্ত নির্ধারণ।স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন—ওষুধ, যন্ত্রপাতি, অন্যান্য সামগ্রী) এবং পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ (ভৌত অবকাঠামো) দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। এছাড়া, কোনোভাবেই যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সেভাবে পর্যাপ্ত পরিচালন বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। এই বাজেটের খাতগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, সেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করার জন্য তত্ত্বাবধান, লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য মনিটরিং এবং বিভিন্ন সেবা, কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ফলের পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা এবং সেবাগ্রহণকারী, সেবা প্রদানকারী ও সেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, বিদেশে গিয়ে যাতে সেবা নিতে না হয় এবং দেশের ভেতরেই যাতে সেবার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য দেশে সেন্টার অব এক্সেলেন্স হাসপাতাল তৈরি ও ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ট্যুরিজম সৃষ্টি ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক, আইসিইউ ও সিসিইউসহ হাসপাতালে সব ধরনের শয্যা ও সেবাপ্রদানকারী, চাকরির শর্তাবলির হালনাগাদকরণ এবং দায়-দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস, ক্রয় ও সংগ্রহের নীতিমালার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও

    এর আলোকে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলো ও গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সর্বোপরি এমন একটি কৌশল থাকা প্রয়োজন, যা অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে এবং অসুস্থতাকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত রাখতে এবং রোগীর পুনর্বাসনে সক্ষম হবে। এই কৌশলটির দুটি দিক আছে প্রথমত, অসুস্থতা কেন হয় এবং কীভাবে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুফল পাওয়া যায়—সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। দ্বিতীয়ত, অসুস্থতা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা শনাক্ত করা এবং এর বিস্তার রোধ করা। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণযোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে অসুস্থতার ঘটনা সম্পর্কে নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এই দুটি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই সর্বোত্তম সুফল পাওয়া সম্ভব।উপযুক্ত পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বাজেট প্রণয়নের শুরুতে মন্ত্রণালয়কে যথেষ্ট সময়, অভিজ্ঞতা, গভীরতা এবং প্রজ্ঞার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। পরিকল্পনা ও বাজেটের দুর্বলতা পরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে। এই বিপর্যয় রোধে পরে যতই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, তা আর কোনো কাজে আসবে না। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত খাতভিত্তিক কার্যকর নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, যেখানে আন্তঃখাত দৃষ্টিভঙ্গি—‘সকল খাতের নীতিতে স্বাস্থ্য’—বিবেচনায় রাখা হবে। এর জন্য নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত করা উচিত, যারা এই খাত এবং সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। আমাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি বিষয়সমৃদ্ধ এই খাতটি এমন ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা জ্ঞানভিত্তিক, অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত বা সমাধান প্রদানের ক্ষেত্রে অদক্ষ।

    ক্লিনিক্যালসেবা এবং জনস্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থাপনা পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করার জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। রোগীর চিকিৎসা এবং অসুস্থতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী ক্ষেত্র; তাই এ দুটির মধ্যে পৃথককরণ অপরিহার্য।

    সেবার মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সেবা প্রদানকারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত কার্যক্রম। মানসম্মত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক অনুপাত, উপযুক্ত ও পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, কার্যকর প্রশিক্ষণ ও এর ম্যানুয়াল এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি এবং গবেষণা। শিক্ষকদের মধ্যে উন্নততর শিক্ষাদান-পদ্ধতি ও আচরণের চর্চা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের—যারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক ও সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করবেন—তাদের মধ্যেও একই গুণাবলি সঞ্চারিত করতে পারেন। এ লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ শিক্ষকদের—যাতে তারা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের প্রতি নিরুৎসাহিত হন এবং দুর্গম এলাকায় কর্মরত সেবা প্রদানকারীদের —যাতে তারা সেসব এলাকায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক, পুরস্কার, ক্ষতিপূরণ, ভাতা, বোনাস ইত্যাদি প্রদানের সুপারিশ করেছে; তবে এসব সুবিধা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কর্মস্থল ত্যাগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। এই কৌশল বাস্তবায়নের সুবিধার্থে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

    স্বাস্থ্য খাত যেসব সমস্যার সম্মুখীন, যেমন—অনুপযুক্ত কাঠামো, কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি; অদক্ষতা এবং কার্যক্রম ও কর্মসূচির সমন্বয়ের অভাব—সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে মন্ত্রণালয়কে। এসব কার্যক্রম ও কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অথবা বিশৃঙ্খলভাবে, পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে ও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একাধিক সংস্থা, দপ্তর ও খাতের মাধ্যমে একই ধরনের সেবা সংগঠনের কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়ছে।

    সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু আইনের সংশোধন ও নতুন আইনের প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—হাসপাতালের মানের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন; ওষুধের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা আইন (২০১০), কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮ রহিতকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা—অর্থায়ন আইনপ্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন কাউন্সিলের আইনের সংশোধন ও নবায়ন, হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষাগারের ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কিত আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অ্যাক্ট ২০২৩, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলভিত্তিক আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন

    (যা প্রকৃতপক্ষে হওয়া উচিত—স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা আইন)। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি, রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্র এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো খাতগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন; পাশাপাশি প্রয়োজনে এসব সেবায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিশ্চয়ই অনুধাবন করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমেই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়। এমনকি যদি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একজন করে পুলিশ সদস্যও নিয়োগ করা হয়, তবু না। আশা করি, সম্মানিত পাঠকরা জানেন কেন। মন্ত্রী যদি অপরাধী ধরার পেছনে সময় ব্যয় না করে পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেন, তবে তিনি সমস্যাগুলো আরো ভালোভাবে সমাধান করতে পারবেন; কারণ একটি শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুধু অপরাধই রোধ করবে না, বরং পুরো খাতের সামগ্রিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।মন্ত্রণালয় যেসব নীতি, কৌশল ও পরিকল্পনা অনুমোদন করবে, এর মধ্যে কিছু বিষয় হবে আইনভিত্তিক শাসন এবং তদারকিসংক্রান্ত; কিছুর জন্য প্রয়োজন হবে সংস্কার ও সেই সংস্কারকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আইনি সহায়তা; আবার কিছু বিষয় হবে কর্মসূচিভিত্তিক সেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র এবং প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য, পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা পর্যালোচনায় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত নকশা এবং ওষুধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। এসব কাজের জন্য প্রয়োজন হবে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের, যারা সংশ্লিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা, কৌশল, কর্মপরিকল্পনা ও আইনি কাঠামো প্রণয়ন করবে; যা চূড়ান্ত পর্যায়ে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে এবং যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নকারী শাখাগুলো কার্যকর করবে। এই খসড়া প্রণয়নের জন্য অন্তত ছয় থেকে আট মাস এবং বাস্তবায়নের জন্য অন্তত দুই বছর সময়ের প্রয়োজন হবে—তবেই ব্যবস্থাটি নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, কোনো সরকারই তাদের মেয়াদের শেষ দুই বছরে জটিল সংস্কার, নতুন কৌশল, পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায় না; এমনকি যদি সেসব পদক্ষেপ সামান্য কিছু মানুষের কাছেও অপ্রীতিকর বা অস্বস্তিকর মনে হয়। কিন্তু একটি ঘরে সন্তোষজনকভাবে বসবাস করার জন্য প্রথমে ঘর সামগ্রিকভাবে এবং সুনিপুণভাবে সাজাতে হবে। এখানে-ওখানে পেরেক ঠুকে এটা করা যাবে না।

  • নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

    নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

    ঋতু পরিবর্তনের সময় কারো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি বাড়ে, কারো ত্বক ও চুলের সমস্যা দেখা দেয়, আবার কারো মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তনের সবই যে ঋতুর কারণে হবে, এমন নয়। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    আয়রনের ঘাটতি

    মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কিছু নারীর আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ফ্যাকাশে ভাব দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

    মাসিকের স্বাস্থ্যবিধিমাসিকের সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি পণ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে এবং ব্যবহৃত পণ্য যথাযথভাবে ফেলে দিতে হবে। মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অস্বাভাবিক মাসিকের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন। এক-দুবার সামান্য তারতম্য সবসময় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত নয়। কিন্তু মাসিক বারবার অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, খুব ঘন ঘন হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রক্তপাত হলে কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

    ত্বকের যত্ন

    আবহাওয়ার পরিবর্তনে ত্বক কখনো বেশি শুষ্ক, আবার কখনো বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে কারো কারো ব্রণ বা ত্বকের অস্বস্তি বাড়তে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু পরিষ্কারক ও প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

    চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন

    ঋতু পরিবর্তনের সময় চুল পড়া, খুশকি বা মাথার ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ভেজা চুল দীর্ঘ সময় না রাখা এবং অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানো উপকারী। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

    অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা

    ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক ও আবহাওয়ার পরিবর্তন কিছু মানুষের অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়াতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া বা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অন্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে চলা এবং পরিচিত ট্রিগার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্রাবের সমস্যাকে অবহেলা নয়

    প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব উপসর্গের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, কোমর বা পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষানারীর বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারীস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই ভালো।

  • হার্ট অ্যাটাকের নীরব সতর্ক সংকেত অবহেলায় বাড়তে পারে বিপদ

    হার্ট অ্যাটাকের নীরব সতর্ক সংকেত অবহেলায় বাড়তে পারে বিপদ

    হার্ট অ্যাটাক বলতেই মনে হয় হঠাৎ অসুস্থতা। তবে অনেক সময় শরীর আগে থেকে সংকেত দেয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ অনেক সময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বুকব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত কিছু লক্ষণও হৃদযন্ত্রের সমস্যার আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেক নারী এই উপসর্গকে দৈনন্দিন ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, বয়স, মেনোপজ বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি হতে পারে।

    নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সবসময় পুরুষদের মতো একই ধরনের হয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা বা বুকে চাপের অনুভূতি বেশি পরিচিত হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সূক্ষ্ম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে হৃদরোগ শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।

    যে নীরব লক্ষণটি উপেক্ষা করা যাবে না

    নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্মের পর যে ধরনের ক্লান্তি হওয়ার কথা নয়, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু ক্লান্তি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, এমন নয়। ক্লান্তির পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

    নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে— শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ হাঁপিয়ে যাওয়া, বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি, চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা। ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি, ঘুমের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি, সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যাবে এমন নয়। ব্যক্তিভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে: নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস, মেনোপজ, অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ। হঠাৎ বুকের অস্বস্তি বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা হাতে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেয়া উচিত। বিশেষ করে উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গকে শুধু গ্যাস, স্ট্রেস বা ক্লান্তি মনে করে অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর

    স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর

    স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার কারণে যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই হয়তো আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে না। নতুন এক গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার কারণে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া হাজারও রোগীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, স্তন ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ওষুধ দেয়া হয়। বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় চারটি হাসপাতালের ৯০ জন নারী অংশ নেন। এসব নারীর স্তন ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ ও ৫০-এর কোঠায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার কমে যেতে পারে- এই আশঙ্কায় তাদের সাধারণত আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হতো। তবে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব নারী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছিলেন, তাদের ৯৮ শতাংশের এক বছর পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাত্র একজন নারীর হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ বন্ধ করা নারীরা তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। তবে এসব ওষুধের কারণে হৃদযন্ত্রের যে ক্ষতি হতে পারে, তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী ও চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার চিকিৎসা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তাদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা প্রতিরোধের ওষুধ নিরাপদে বন্ধ করা যেতে পারে। তার ভাষায়, আমরা আশা করি, এই ফলাফল রোগী ও তাদের চিকিৎসকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা থেকে মুক্ত একটি জীবনের আশা তৈরি করবে। হার্টফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা লুসি শেফার্ডও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, গবেষণায় অংশ নেয়ার পর তিনি নিজেকে শক্তিশালী মনে করছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারব- এমন আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সের পর শেফার্ডের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার সময় করা পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ক্যানসারের চিকিৎসার আরেকটি ধাপ শুরু করার আগে তাকে হৃদযন্ত্রের ওষুধ দেয়া হয়। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী শেফার্ড বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা কঠিন ছিল। কারণ, হৃদযন্ত্রের ওষুধ আমার বন্ধ করা উচিত নাকি চালিয়ে যাওয়া উচিত- এ বিষয়ে কেউ আমাকে নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হতে পেরে এবং হৃদযন্ত্রের ওষুধ বন্ধ করার সুযোগ পাওয়ায় আমার জীবন নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। আমি এখনো হরমোন থেরাপি নিচ্ছি। কিন্তু আগের মতো ভয় নিয়ে বেঁচে নেই। এটি আমাকে আবার নিজের শরীরের ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে। গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের আগামী পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়।
    বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, হাজারও স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হবে। গবেষণার ফলাফল আশা জাগাচ্ছে যে, হৃদযন্ত্র সুস্থ হয়ে ওঠার পর অনেক নারী নিরাপদে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এসব নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে এই ফলাফল স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা এই নারীদের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।

  • রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের যোগসূত্র, কী বলছে গবেষণা

    রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের যোগসূত্র, কী বলছে গবেষণা

    পরিবর্তিত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও নানা পরিবেশগত কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হৃদরোগের পাশাপাশি স্ট্রোকও বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফিরলেও অনেক রোগী দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতার শিকার হন।

    চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা এবং হৃদরোগও স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্ভাব্য সম্পর্ক। ২০২২ সালে নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের ‘এ১’ উপধরনের মানুষের ৬০ বছর বয়সের আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। ‘বি’ গ্রুপের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। বিপরীতে, ‘ও১’ গ্রুপের মানুষের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

    গবেষণাটি ছিল বড় পরিসরের। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত ৪৮টি জেনেটিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এতে প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ছয় লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।

    গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ড. স্টিভেন কিটনারের মতে, ‘এ’ গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির এই সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া, প্লাটলেটের কার্যক্রম, রক্তনালির অভ্যন্তরীণ কোষ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ছিল ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ফলে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একই সম্পর্ক প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বৈচিত্র্যময় মানুষের ওপর গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল সীমিত করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

    মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া

    এক হাত বা এক পা হঠাৎ দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া

    কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া

    হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

    আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা

    হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

    এসবের কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

  • এলইডির আলোয় হরমোনের ছন্দঃপতন!

    এলইডির আলোয় হরমোনের ছন্দঃপতন!

    শোবার ঘরের বাতি নিভলেও জানালা দিয়ে ঢোকে সড়কের আলো, পাশে জ্বলে ফোনের পর্দা। আধুনিক জীবনে রাত আর পুরোপুরি অন্ধকার থাকে না।গবেষকরা বলছেন, বিশেষ করে নীল আলোর মাত্রা বেশি থাকা শীতল সাদা এলইডি রাতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

    এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ফরাসি গবেষক ইভান তুইতু ও সেবাস্তিয়াঁ পয়েন্ট এলইডির নীল আলোকে সম্ভাব্য ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর’ বা হরমোনব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে—এলইডির নীল আলোর কারণে মেলাটোনিন নিঃসরণ কমে যাওয়া। মেলাটোনিন ঘুম আনতে সাহায্য করে, এবং আমাদের দেহঘড়ির সময়ও ঠিক রাখে।চোখের রেটিনায় থাকা বিশেষ সংবেদনশীল কোষের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘মাস্টার ক্লক’-এ সংকেত পাঠায় আলো। দিনের বেলা এই সংকেত প্রয়োজনীয়। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল নীলসমৃদ্ধ আলো মস্তিষ্ককে দিনের ভুল বার্তা দেয়। ফলে মেলাটোনিনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়, ঘুমের সময় পিছিয়ে যায় এবং কর্টিসল, ইনসুলিন ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের দৈনিক ছন্দও বদলে দিতে পারে।সব এলইডি আলো অবশ্য এক রকম নয়। সাধারণত শীতল সাদা বাতিতে নীল আলোর অংশ উষ্ণ সাদা বাতির চেয়ে বেশি। আলো কতটা উজ্জ্বল, চোখের কত কাছে, কতক্ষণ এবং দিনের কোন সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব। দিনে নীল আলো জৈব ঘড়ির সঠিক তাল বজায় রাখতে সাহায্য করে। উদ্বেগটা রাতের অনুপযুক্ত আলো নিয়ে।

    নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর রাতের কৃত্রিম আলোর প্রভাব নিয়ে ২০২৬ সালের আরেকটি পর্যালোচনায় অনিয়মিত বা দীর্ঘ মাসিক চক্র এবং হরমোনের পরিবর্তনের সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মস্তিষ্ক, পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ের পারস্পরিক সংকেতেও জৈব ঘড়ির গোলযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রমাণ কুব একটা পায়নি গবেষকরা। অন্য প্রাণীর ওপর গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যই বেশি। রাতে কাজ, কম ঘুম, মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এলইডি বাতি ব্যবহার করলেই যে বন্ধ্যত্ব, পিসিওএস বা অন্য হরমোনজনিত রোগ হবে—এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়।

    ঝুঁকি কমাতে সন্ধ্যার পর ঘরের আলো প্রয়োজনের চেয়ে উজ্জ্বল রাখবেন না। কম উজ্জ্বল ও উষ্ণ রঙের আলো ব্যবহার করুন। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে ফোন-কম্পিউটারের ব্যবহার ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে নিতে পারে। শোবার ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা জরুরি। সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোর সান্নিধ্যে থাকলে জৈব ঘড়ি ঠিক রাখতে তা সহায়তা করে। নারীদের ঋতৃস্রাবে অনিয়ম, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা বা অন্য হরমোনজনিত উপসর্গ থাকলে তখন শুধু আলোকে দায়ী না করে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

    ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

    ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। ব্যক্তির ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি টিকা ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করে ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।

    ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে টিকাটি। উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় কিট্রুডা নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।

    মার্ক ও মডার্নার এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে টিকা ও কিট্রুডার সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্যানসারমুক্ত থাকার সময় শুধু কিট্রুডা নেওয়া রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

    ‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটি প্রস্তুত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।

    তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের সবারই অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীরাও ছিলেন।

    গবেষকদের এই ফলাফলকে ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়া টিকার মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

    ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএসের আওতায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। গবেষণার ফলাফল শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা নতুন একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের ৮২ শতাংশই মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই অপুষ্টির শিকার এবং তাদের অনেকে জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে ৩৫৪ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

    গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। শিশু হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

    অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

    গবেষণার মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার।

    গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ জন শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম) এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের (১৪২ জন) হাম শনাক্ত হয়। টিকার বয়স হওয়া সত্ত্বেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ শতাংশের (১২২ জন) শরীরে হামের সংক্রমণ মেলে।

    অন্যদিকে, এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেই এই হার দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হওয়ার পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা স্বাস্থ্যগত নানা ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে, যা নিয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

    গবেষণায় আরও শনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তদের শরীরে বিদ্যমান সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বি৩ ভাইরাসের অনুরূপ। এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।

  • সাপের কামড়ে করণীয়

    সাপের কামড়ে করণীয়

    বাংলাদেশে সাপের কামড় একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাভূমি-সংলগ্ন এলাকায় এর ঝুঁকি বেশি। সাপের কামড়ের পর আতঙ্ক, ওঝা-কবিরাজের কাছে যাওয়া, ক্ষত কেটে দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা শক্ত করে দড়ি বাঁধার মতো ভুল পদ্ধতির কারণে রোগীর অবস্থা আরো জটিল হতে পারে। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব সাপ বিষধর নয় । সব বিষধর সাপের কামড়ে একই ধরনের উপসর্গ হয় না। তাই সাপের ধরন অনুমান করে ঘরে চিকিৎসা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। যেখানে জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    সাপ কামড়ালে প্রথম কাজ কী

    সাপ কামড়ানোর পর রোগী ও স্বজনদের প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। আতঙ্ক ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়াতে পারে। রোগীকে যতটা সম্ভব শান্ত ও স্থির রাখতে হবে। সম্ভব হলে স্প্লিন্ট বা উপযুক্ত সহায়তা দিয়ে স্থির রাখতে হবে। রোগীকে হাঁটিয়ে হাসপাতালে নেওয়া উচিত নয়, সম্ভব হলে বহন করে বা স্ট্রেচারে নেওয়া ভালো। কামড়ের স্থান ফুলে যেতে পারে, তাই আক্রান্ত অঙ্গের আংটি, চুড়ি, পায়ের নূপুর বা অন্য আঁটসাঁট জিনিস দ্রুত খুলে ফেলতে হবে।

    যা কোনোভাবেই করা যাবে না

    সাপের কামড়ের পর কিছু প্রচলিত পদ্ধতি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

    * দড়ি বা টর্নিকেট দিয়ে শক্ত করে বাঁধা যাবে না। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি অঙ্গের গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বিশেষভাবে শক্তি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    * ক্ষতস্থান ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা যাবে না। এতে অতিরিক্ত রক্তপাত, সংক্রমণ ও টিস্যু ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

    * ক্ষত চেপে বিষ বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * কালো পাথর, ভেষজ ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ, আগুন বা গরম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে না।

    * ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা যাবে না।

    * ক্ষত কাটা, বিষ চোষা, ‘ব্ল্যাক স্টোন’ এবং অন্যান্য অপ্রমাণিত পদ্ধতি এড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    ব্যান্ডেজ বা চাপ প্রয়োগে সতর্কতা

    সাপের কামড়ে ব্যান্ডেজ ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়। সব ধরনের সাপের কামড়ে শক্ত করে দেওয়া নিরাপদ বা উপযোগী নয়। বিশেষ করে যেসব সাপের বিষ স্থানীয়ভাবে মারাত্মক টিস্যু ক্ষতি ও ফুলে যাওয়া সৃষ্টি করে, সেখানে ভুলভাবে চাপ প্রয়োগ করলে ক্ষতি হতে পারে।

    হাসপাতালে পৌঁছানোর পর

    সাপের কামড়ের রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে প্রথমেই রোগীর জীবন-সংকট আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসকরা সাধারণত—

    * শ্বাসনালি খোলা আছে কি না পরীক্ষা করুন।

    * শ্বাস-প্রশ্বাস ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * রক্তচাপ, নাড়ির গতি ও অন্যান্য পরীক্ষা করুন।

    * রোগীর স্নায়ুবিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * কামড়ের স্থান ও শরীরের অন্যান্য অংশে ফোলা, রক্তপাত বা টিস্যু ক্ষতি আছে কি না দেখুন।

    * প্রয়োজনে শিরায় ক্যানুলা স্থাপন করুন।

    * রক্ত ও প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করুন।

    নিউরোটক্সিক বিষের ক্ষেত্রে রোগীর চোখের পাতা পড়ে যাওয়া, কথা বলা বা গিলতে অসুবিধা এবং শ্বাসের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ গুরুতর নিউরোটক্সিক বিষক্রিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তখন দ্রুত ও প্রয়োজনে জীবন রক্ষা করতে পারে।

    কোন ধরনের বিষক্রিয়া হতে পারে

    সাপের বিষের প্রভাব সাপের প্রজাতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের মধ্যে কোবরা, ক্রেইট বা কালাচ এবং বিভিন্ন ভাইপার প্রজাতি উল্লেখযোগ্য।

    নিউরোটক্সিক বিষ

    কোবরা ও ক্রেইটের মতো কিছু সাপের বিষ প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—

    * চোখের পাতা পড়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া।

    * দ্বিদৃষ্টি।

    * কথা বলতে বা গিলতে অসুবিধা।

    * মুখ ও ঘাড়ের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

    * ক্রমশ শ্বাস নিতে অসুবিধা।

    * গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের পক্ষাঘাত।

    এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরসহ শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা দিতে হতে পারে।

    কখন অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন

    অ্যান্টিভেনম সাপের কামড়ের চিকিৎসার প্রধান ও জীবনরক্ষাকারী নির্দিষ্ট চিকিৎসা। তবে শুধু সাপ কামড়েছে বলেই প্রত্যেক রোগীকে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে—এমন নয়।

    বিষক্রিয়ার ক্লিনিক্যাল প্রমাণ থাকলে, যেমন—

    * নিউরোটক্সিক লক্ষণ।

    * শ্বাস-প্রশ্বাসের দুর্বলতা।

    * রক্ত জমাট বাঁধার গুরুতর সমস্যা।

    * উল্লেখযোগ্য বা অগ্রসরমান স্থানীয় ফোলা ও টিস্যু ক্ষতি।

    * গুরুতর রক্তপাত।

    * শক বা রক্তচাপের মারাত্মক পতন।

    * বিষক্রিয়াজনিত কিডনি ক্ষতির প্রমাণ।

    চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যান্টিভেনমের প্রকার, পরিমাণ, মিশ্রণ এবং আবার দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে সবার জন্য একইভাবে বলা যায় না। এগুলো সাপের সম্ভাব্য প্রজাতি, বিষক্রিয়ার ধরন, রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা এবং ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা ও স্থানীয় জাতীয় চিকিৎসা-প্রটোকল অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়।

  • ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    বয়স ৪০ পার হওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন শুরু হয়। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও শরীরের ভেতরে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা নীরবে তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার অনেকগুলোরই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই মধ্যবয়সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘৪০ বছর হলেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একই চারটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক’¬Ñএমন কোনো সর্বজনীন চিকিৎসা-নির্দেশনা নেই। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, পূর্ববর্তী রোগ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    ১. লিপিড প্রোফাইল (রক্তে কোলেস্টেরল ও চর্বির মাত্রা)

    কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। কোষের গঠন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না; রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা যায়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, LDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইডসহ রক্তের বিভিন্ন চর্বির মাত্রা মূল্যায়ন করা হয়। HDL তুলনামূলকভাবে হৃদযন্ত্রের জন্য সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে LDL বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

    ২. কিডনির কার্যক্ষমতা

    কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও শুরুতে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই ফলের ভিত্তিতে সাধারণত EGFR (estimated glomerular filtration rate) হিসাব করা হয়, যা কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে তার একটি ধারণা দেয়। কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে শুধু রক্তের ক্রিয়েটিনিন নয়, প্রস্রাবে albumin-to-creatinine ratio (ACR)-ও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা বা কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কিডনি পরীক্ষা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করার সুযোগ থাকে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

    ৩. দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করার হিসাব

    ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়েই একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। HbA1c একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে গত কয়েক মাসে একজন ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রক্তের গ্লুকোজ হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে glycated haemoglobin তৈরি করে, HbA1c পরীক্ষায় সেটিই পরিমাপ করা হয়। এটি শুধু পরিচিত ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণেই নয়, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে শুধু HbA1c দিয়েই ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায় না; কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থায় অন্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ বা আগে রক্তে শর্করা বেশি থাকার ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

    ৪. রক্তচাপ মাপাচতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আসলে কোনো রক্ত পরীক্ষা নয়Ñরক্তচাপ মাপা। ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে মাপার সময় ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি এবং বাড়িতে মাপার ক্ষেত্রে ১৩৫/৮৫ mmHg বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। তবে একটি মাত্র উচ্চ রিডিংয়ের ভিত্তিতে সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না; প্রয়োজন হলে বারবার মাপা বা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করা হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ত্যাগ এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়।

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    চা। এক অক্ষরের এই পানীয়টি কী করে যেন বাঙালি জীবনের অংশ হয়ে উঠলো। কারণে-অকারণে এককাপ চা নিয়ে চুমুক দেওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সম্ভবত আদা চা। পেটের সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদা চা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আদা হজমে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু গবেষণায় ওজন নিয়ন্ত্রণে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে। আপনি যদি দৈনন্দিন রুটিনে আদা চা যোগ করার কথা ভেবে থাকেন, তবে এর উপকারিতা এবং এটি পান করার সেরা সময় সম্পর্কে গবেষণা কী বলে তা জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    আদা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে
    আদা ভালো হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদা চা হজমকারক টনিক, যা পাকস্থলীর গতিশীলতা উন্নত করে এবং হজমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর কারণ হলো, এটি পাকস্থলীর মধ্য দিয়ে খাবার চলাচলে প্রভাব ফেলে। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত একটি ছোট র‍্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদা পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষকরা সামগ্রিক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নতি দেখতে পাননি।

    পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করতে পারে
    খাবারের পর যদি আপনার প্রধান উদ্বেগ হয় সেই ভারী, অস্বস্তিকর অনুভূতি তবে আদা উপকারী হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের গতিবিধির ওপর এর প্রভাব একটি সম্ভাব্য কারণ। ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ১২৬ জন ব্যক্তির ওপর ২০১১ সালের একটি গবেষণা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্লেসিবোর তুলনায় আদা ও আর্টিকোকের নির্যাসযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, পেট ভরা অনুভূতি এবং এপিগ্যাস্ট্রিক ব্যথার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করেছে। এই গবেষণায় আদা ও আর্টিকোকযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল, সাধারণ এক কাপ আদা চা নয়। তাই এই ফলাফলকে এই প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় যে ঘরে তৈরি চা একই রকম প্রভাব ফেলবে।

    এটি কি সত্যিই ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে?
    এখানেই এই দাবিটিকে কিছুটা প্রেক্ষাপটের আলোকে বিচার করা প্রয়োজন। আদা চা নিজে ওজন কমানোর কোনো চিকিৎসা নয়, তবে আদা সাপ্লিমেন্টের উপর গবেষণায় কিছু আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে।

    কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আদা সাপ্লিমেন্ট কোমরের পরিধি এবং শরীরের চর্বি অনেকটাই কমিয়েছে। তবে এটি শরীরের মোট ওজন বা বিএমআই তেমনভাবে কমাতে পারেনি। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কোনো দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং, আদা চা ওজন নিয়ন্ত্রণের রুটিনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটিকে চর্বি কমানোর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    সকাল না রাত: কখন এটি পান করা উচিত?
    আদার হজম বা ওজন-সম্পর্কিত প্রভাবের ক্ষেত্রে সকালের চেয়ে রাত বেশি ভালো, এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। আপনি যদি এটিকে আপনার রুটিনের অংশ করতে চান, তবে খাবারের পর বা সাধারণত যখন আপনার হজমে অস্বস্তি হয়, সেই সময়ে এটি পান করা একটি যুক্তিসঙ্গত।

    আপনি যদি রাতে এটি পান করেন, তবে চা পাতা দিয়ে তৈরি আদা চায়ের পরিবর্তে সাধারণ আদার নির্যাস বেছে নিন, বিশেষ করে যদি ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। গরম পানিতে টাটকা আদার টুকরো ভিজিয়ে রাখুন এবং স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত চিনি বা মধু এড়িয়ে চলুন।

  • ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়

    ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়

    বাজারে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। রাসায়নিক দেওয়া মাছ খেলে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা, যকৃতের সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এমনকি ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।

    মাছে ফরমালিন দেওয়া হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

    ফরমালিন ব্যবহার করলে তীব্র গন্ধ হয়। এ কারণে মাছিরা ফরমালিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাছ এড়িয়ে চলে। তাই মাছের ওপর মাছি না বসলে, সেই মাছ তাজা ভেবে ভুল করবেন না। হতে পারে সে মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    মাছে ফরমালিন থাকলে এর মাংস স্বাভাবিকভাবে নরম ও স্থিতিস্থাপক না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হয়। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে না। এর পরিবর্তে একটি ক্ষীণ, তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়। মাছটি পরিণত হলেও এর ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে। তাছাড়া এই রাসায়নিক থাকলে মাছের আঁশ শক্ত হয়।

    মাছের ফরমালিন দূর করার উপায়

    আজকাল বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে মাছ বিক্রয় করে। যদি বুঝতে পারেন মাছ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিন। ফরমালিন দূর করতে ১০-১২ মিনিট কল ছেড়ে চলমান পানিতে মাছ ধুয়ে নিন। পারলে মাছগুলো হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয় এবং ভালোভাবে ধুলে এর পরিমাণ কমে যায়।

    রাসায়নিক দূষণের সন্দেহ থাকলে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার খাবেন না। উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করে খান।

  • কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    ‘সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরেও হয়তো যেতে হবে না।’ এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

    সরকারপ্রধান বলেন, রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

  • অল্প রোদেই মিলতে পারে বড় উপকার

    অল্প রোদেই মিলতে পারে বড় উপকার

    সূর্যের আলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিন হাড় ও পেশি ভালো রাখতে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে প্রয়োজন। তবে বেশি সময় রোদে থাকলেই বেশি উপকার পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বক ও চোখের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই অল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকা এবং অতিরিক্ত রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাই ভালো।

    কতক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন, তা সবার জন্য এক নয়। বয়স, ত্বকের রং, শরীরের কতটা অংশ রোদে থাকছে, ঋতু এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রার ওপর প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে। গাঢ় ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ফর্সা ত্বকের মানুষের শরীরে কম সময়েই ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে।

    ভিটামিন ডির জন্য রোদ কেন দরকার

    সূর্যের অতিবেগুনি বি রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ভিটামিন হাড় ও পেশির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, খুব কম বাইরে বের হন বা শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখেন, তাদের শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে ভিটামিন ডির ঘাটতি পূরণের জন্য দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে অল্প সময় সূর্যের আলোতেও শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যায়। কতক্ষণ রোদ প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা।

    ল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকুন

    রোদে থাকার ক্ষেত্রে একবারে অনেকক্ষণ বাইরে থাকার চেয়ে নিয়মিত অল্প সময় বাইরে থাকা ভালো। বাইরে হাঁটা, ছাদ বা খোলা জায়গায় কিছু সময় থাকা কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময় পাওয়া সূর্যের আলোও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ত্বক পুড়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘ সময় রোদে থাকা উচিত নয়। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি রোদে থাকলে ত্বকে কালচে দাগ, অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    সবার জন্য একই সময় নয়

    ত্বকের রং রোদে থাকার প্রয়োজনীয় সময়ের ওপর প্রভাব ফেলে। গাঢ় ত্বকে মেলানিন বেশি থাকায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে গাঢ় ত্বকের মানুষও অতিরিক্ত রোদের ক্ষতি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নন। অন্যদিকে ফর্সা ত্বক, সহজে রোদে পুড়ে যাওয়ার প্রবণতা, শরীরে বেশি তিল বা আঁচিল থাকা কিংবা নিজের বা পরিবারের ত্বকের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    অতিরিক্ত রোদে বাড়ে ঝুঁকি

    অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বক পুড়ে যেতে পারে। ত্বকে কালচে দাগ ও অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। শুধু ত্বক নয়, চোখও অতিরিক্ত রোদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বয়সে অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ ভবিষ্যতে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তীব্র রোদে সুরক্ষা জরুরি

    সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝার একটি উপায় হলো অতিবেগুনি রশ্মির সূচক। এই সূচক ৩ বা তার বেশি হলে বাইরে থাকার সময় সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তীব্র রোদে ছায়ায় থাকা, শরীর ঢেকে রাখা, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করা এবং অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী চশমা পরা যেতে পারে। খোলা ত্বকে প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিনও ব্যবহার করা ভালো। তবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে আরও দীর্ঘ সময় রোদে থাকার চেষ্টা করা ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে পোশাক, ছাতা বা ছায়ার মতো সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিতে হবে।

    রোদ একেবারে এড়িয়ে চলাও ঠিক নয়

    যারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকেন, তাদের শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হয়েছে কি না, তা শুধু অনুমান করে বোঝা যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। ঘাটতি থাকলে খাবার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ডির ওষুধের মাধ্যমে তা পূরণ করা যায়। নিজের ইচ্ছায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করাও ঠিক নয়। অল্প সময় নিয়মিত বাইরে থাকুন। তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান এড়িয়ে চলুন। রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা জ্বালা শুরু হলে ছায়ায় চলে যান। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে পোশাক, টুপি, ছাতা, চশমা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

    রোদ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু বেশি রোদ মানেই বেশি উপকার নয়। অল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকা এবং অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে ভালো উপায়।

  • গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের গ্রামাঞ্চলে ‘হেলথ হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার (৮ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

    হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে চাঁদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুর আলম দীনকে স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম অতিরিক্ত দামে কেনার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে আসে। সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মতাদর্শগত অবস্থান স্বাভাবিক বিষয়। তবে রাজনীতি করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত থাকতে পারেন। এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই।

    তবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে নিজ নিজ পেশার দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

    জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    ‘ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি পেয়েছি’

    চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ধ্বংসস্তূপের মতো একটি পরিস্থিতি পেয়েছে।

    ‘দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা’—সব মিলিয়ে কঠিন একটি পরিস্থিতি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে। এর জন্য সময় প্রয়োজন এবং সব খাতকে ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করতে হবে।

    বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কথাও স্বীকার

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, মানুষ যে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কষ্ট ভোগ করছে, সরকার তা জানে। তবে সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ায় এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

  • বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ ‘ভীমরতি’, নৈতিক স্খলন নাকি মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে বিরল রোগ?

    বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ ‘ভীমরতি’, নৈতিক স্খলন নাকি মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে বিরল রোগ?

    ধরা যাক, সেন্টুর (ছদ্মনাম) বয়স ৭০ বছর। হঠাৎ করেই তার বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠল। সুযোগ পেলেই তিনি পরিবারের কম বয়সি নারী সদস্যদের জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চুমু দেন, এমনকি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তাও বলেন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে শুরু হয় তীব্র অস্বস্তি, ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি। অনেকেই মন্তব্য করেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে মানুষটার চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে!’

    কিন্তু একজন স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার কাছে মাঝেমধ্যেই এমন রোগী আসেন। অভিযোগগুলো প্রায় একই রকম—অশালীন কথাবার্তা, অনুপযুক্ত অঙ্গভঙ্গি, নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীদের প্রতি অনভিপ্রেত যৌন আচরণ এবং সামাজিক সীমারেখা অতিক্রম করা।

    কিন্তু রোগীর অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র উঠে আসে।

    পরিবারের সদস্যরা বিস্ময়কর একটি তথ্য জানান। এই মানুষটিই কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন ও প্রৌঢ়—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরহেজগার, সৎ ও আত্মসংযমী। তার সততা ও শালীনতা ছিল পরিবারের গর্ব। জীবনের সাত দশকে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ কখনোই ওঠেনি।

    তখন প্রথম প্রশ্ন আসে—এটি কি সত্যিই চরিত্রের পরিবর্তন, নাকি মস্তিষ্কের কোনো রোগের লক্ষণ?

    কারণ, বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ শুরু হওয়া এ ধরনের আচরণ অনেক সময় ডিসইনহিবিশন (Disinhibition) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোসাইকিয়াট্রিক উপসর্গের প্রকাশ হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ায় আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ফলে ব্যক্তি অশালীন কথা বলতে পারেন, যৌন আচরণে সংযম হারাতে পারেন, সামাজিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন, এমনকি নিজের আচরণ যে অনুপযুক্ত, সেটিও বুঝতে নাও পারেন (Stuss & Knight, 2013; Miller & Boeve, 2017)।ডিসইনহিবিশন কোনো রোগ নয়; এটি বিভিন্ন রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Behavioral Variant Frontotemporal Dementia (bvFTD)-এ। এছাড়া ফ্রন্টাল লোব স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার, আলঝেইমার রোগ, লিউই বডি ডিমেনশিয়া, হান্টিংটন রোগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ম্যানিক পর্ব, অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাব এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এ ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে (Rascovsky et al., 2011; American Psychiatric Association, 2022)।

    তাই কোনো বয়োবৃদ্ধ মানুষের আচরণে যদি হঠাৎ ও স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে যার অতীত জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাহলে তাঁকে দ্রুত “চরিত্রহীন” বা “নৈতিকভাবে অধঃপতিত” বলে দাগিয়ে দেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা জরুরি। Mental State Examination (MSE), স্নায়ুবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে MRI of the Brain রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে (Darby & Dickerson, 2017)।

    মনে রাখবেন—সব অনৈতিক বা সামাজিকভাবে অনুপযুক্ত আচরণ চরিত্রের ত্রুটি নয়; কখনও কখনও তা মস্তিষ্কের অসুস্থতার নীরব সংকেত। দ্রুত বিচার নয়, আগে প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন।

    লেখক: ডা. মোহাম্মদ সাঈদ এনাম

    এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), এমফিল (সাইকিয়াট্রি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

    অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, মনোরোগবিদ্যা

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

    ইন্টারন্যাশনাল ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন

    তথ্যসূত্র

    – American Psychiatric Association. Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM-5-TR). 5th ed. Text Revision. APA Publishing; 2022.

    – Darby RR, Dickerson BC. Continuum (Minneap Minn). 2017;23(2):440–456.

    – Miller BL, Boeve BF, eds. The Behavioral Neurology of Dementia. 2nd ed. Cambridge University Press; 2017.

    – Rascovsky K, Hodges JR, Knopman D, et al. Brain. 2011;134(9):2456–2477.

    – Stuss DT, Knight RT, eds. Principles of Frontal Lobe Function. 2nd ed. Oxford University Press; 2013.

  • সিঁড়ি ভাঙলেই শ্বাসকষ্ট?

    সিঁড়ি ভাঙলেই শ্বাসকষ্ট?

    ফিচার:

    সিঁড়ি ভাঙা বা দ্রুত হাঁটার সময় অনেকেরই শ্বাসকষ্ট হয়। বয়স, অতিরিক্ত ওজন বা শারীরিক অনুশীলনের অভাবে এমনটা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে সহজে করা যেত এমন কাজ করতে গিয়ে যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, রক্তাল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি অনেক সময় হৃদরোগের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়, এমনকি বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই।

    যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা রয়েছে বা যারা ধূমপান করেন, তাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম বা পা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    কীভাবে নির্ণয় করা হয় কারণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উপসর্গ দেখে শ্বাসকষ্টের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। রোগীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য ইতিহাস জানার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে রক্তচাপ, ইসিজি, বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন, রক্তে শর্করা, থাইরয়েড, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। হৃদরোগের সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট বা সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির মতো পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষাও করা হয়।

    দ্রুত রোগ শনাক্তের গুরুত্ব

    চিকিৎসকদের মতে, বিশ্রামের পরও শ্বাসকষ্ট না কমা বা হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া গুরুতর লক্ষণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে হার্ট ফেলিওর, করোনারি ধমনীর রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের অসুখ, রক্তনালিতে জমাট বাঁধা এবং রক্তাল্পতার মতো সমস্যার চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়। এতে বড় ধরনের জটিলতা ও বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

    মুম্বাইয়ের নিউবার্গ অজয় শাহ ল্যাবরেটরির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. অজয় শাহ বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর উপসর্গের ধরন, স্থায়িত্ব, তীব্রতা, জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

    অন্যদিকে, পুণের মণিপাল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অভিজিৎ যোশীর মতে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে—বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিস রোগীদের—বুকে ব্যথার আগেই শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের প্রথম সতর্কবার্তা হতে পারে।

    মুম্বাইয়ের গ্লেনেগলস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল গুপ্তা বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের বড় ঝুঁকির কারণ। আগে সহজে করা যেত এমন কাজ করতে গিয়ে যদি এখন শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    অবহেলা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে নতুন করে বা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট চলতে থাকলে সেটিকে শুধুমাত্র বয়স বা দুর্বলতার ফল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    তারা আরও বলেন, স্মার্টওয়াচ বা নিজস্ব পর্যবেক্ষণ কখনো চিকিৎসকের মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না। শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে বা তা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, তবে সেই তথ্যের কতটা সত্য আর কতটা গুজব, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলো নারীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্তন ক্যানসারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যা বছরের পর বছর ধরে নারীরা বিশ্বাস করে আসছেন।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ড. ক্রিস্টিন লাই স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন কিছু বহুল প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভয় কখনো ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে না, বরং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞানই পারে সচেতনতা বাড়াতে। ড. লাইয়ের মতে, ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ওপর নির্ভর করা উচিত।

    নিচে স্তন ক্যানসার নিয়ে ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের আলোচিত ৮টি ভুল ধারণা ও সেগুলোর প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলো:

    ১. অন্তর্বাস বা ব্রা পরলে কি ক্যানসার হয়?

    অনেক নারীই মনে করেন দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকা, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার ব্রা বা ব্রা পরে ঘুমানো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ড. লাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের সাথে ক্যানসারের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। ক্যানসার অস্ট্রেলিয়ার তালিকাতেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. কফি পান ও স্তনের ব্যথা

    অনেকে মনে করেন কফি খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যাফেইন পানের ফলে কিছু নারীর স্তন কিছুটা নরম বা পিণ্ডাকৃতির মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়, ক্যানসারের জন্য নয়। তাই ক্যানসারের ভয়ে প্রিয় পানীয়টি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

    ৩. চিনি কি ক্যানসারের খাবার?

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় মিথ হলো, চিনি ক্যানসারকে পুষ্ট করে। ড. লাইয়ের মতে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ বা চিনির ওপর নির্ভর করে চলে। কেবল চিনি বর্জন করলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সুস্থ কোষগুলোকেও প্রভাবিত করবে। কার্বোহাইড্রেট বা চিনি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

    ৪. সয়াবিন জাতীয় খাবারের প্রভাব

    সয়াবিন, টফু বা সয়া মিল্ক স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সয়াবিনে থাকা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন শরীরের প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে না এবং কিছু গবেষণায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবেও দেখা গেছে।

    ৫. স্তনের আকার ও ক্যানসার ঝুঁকি

    অনেকে বিশ্বাস করেন স্তনের আকার বড় হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ড. লাই জানিয়েছেন, স্তন ছোট বা বড় হওয়ার ওপর ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ভর করে না। এটি একটি শারীরিক গঠনগত বিষয় মাত্র।

    ৬. আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্যানসার

    হঠাৎ কোথাও পড়ে যাওয়া বা গাড়ির সিটবেল্ট থেকে স্তনে কোনো আঘাত পেলে অনেকেই ক্যানসারের ভয় পান। ড. লাই জানান, আঘাতের ফলে স্তনে সাময়িকভাবে কোনো পিণ্ড বা দলা তৈরি হতে পারে যা নিরাময়যোগ্য, তবে এটি ক্যানসারে রূপান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

    ৭. গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ

    ১৬টি দেশের প্রায় ৮৩ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের সাথে স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যা কেবল মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে।

    ৮. আইভিএফ বা প্রজনন চিকিৎসা

    অনেকের ধারণা আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোনগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ড. লাইয়ের মতে, এই চিকিৎসার সাথে ক্যানসারের ঝুঁকির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি, তাই যারা আইভিএফ করার কথা ভাবছেন তাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    শেষ কথা

    ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য হলো নারীদের মন থেকে ভয় দূর করা, ভয় বাড়িয়ে দেওয়া নয়’। স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত চেকআপ করানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। ভুল তথ্যের মায়াজাল ছিন্ন করে সঠিক জ্ঞানে সচেতন হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

  • গরম পানি পানে কী পেটের চর্বি কমে?

    গরম পানি পানে কী পেটের চর্বি কমে?

    ওজন কমাতে, পেটের মেদ দূর করতে অনেকেই গরম পানি পান করেন। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস গরম পানি পান করলে কী আসলেই পেটের চর্বি কমে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এই ধারণার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গরম পানি সরাসরি শরীরের চর্বি গলিয়ে দেয় বা শুধু গরম পানি পানেই পেটের চর্বি কমে যায়, এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।

    গরম পানি সরাসরি ওজন কমায় না, তবুও এর কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরের পর্যাপ্ত জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। হজম প্রক্রিয়াকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরার অনুভূতি দিতেও সাহায্য করে গরম পানি। ফলে নিয়মিত গরম পানি পানে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া গরম পানি গলা ও পরিপাকতন্ত্রে আরামও দিতে পারে।

    ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অভিদীপ্ত হাজরার মতে, পেটের চর্বি কমানোর জন্য কোনো একটি খাবার বা পানীয়ের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এই চারটি বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সংক্ষিপ্ত পদ্ধতির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্থায়ী সমাধান।

    ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা উচিত। তেল-চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।

  • জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত

    জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত

    ষড়ঋতুর সবসময়ই জুতা পরতে হয়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ—যে ঋতুই হোক, পায়ে জুতা-মোজা পরা ছাড়া তো চলবে না। বিশেষ করে, কর্মজীবী পুরুষ ও নারীদের প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়। তবে বর্ষাকালে যাদের জুতা পরে বাইরে হাঁটতে হয়, তাদের ভোগান্তির অন্ত নেই।

    কাদা ও বৃষ্টির পানিতে জুতা ময়লা হওয়ার সমস্যা প্রকট হয়। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো জুতা-মোজার দুর্গন্ধ। তবে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি এর সমাধানও আছে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে নিচে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো।

    * প্রতিদিন একই জোড়া জুতা না পরে পালা করে পরতে পারেন। এতে কিছুটা সমাধান মিলতে পারে।

    * মোজা পরার আগে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন।

    * সাধারণত পা ঘামার প্রবণতা থাকলেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঘামে ভেজা স্যাঁতসেঁতে পায়ে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার দ্রুত হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে দুর্গন্ধও বাড়তে থাকে। তাই অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পাউডার লাগিয়ে নিলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

    * বাড়ি ফিরে লবণ মেশানো কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

    * স্ক্রাব করে পায়ের মৃত কোষ সরিয়ে ফেললেও দুর্গন্ধ কমবে।

    * প্রতিদিন একই মোজা না পরে পালা করে পরলেও কিছুটা সমাধান মিলতে পারে। সবসময় পরিষ্কার মোজা পরা উচিত। আর ত্বক সংবেদনশীল হলে মোজা একদিনের বেশি না পরাই ভালো।

    * দীর্ঘ সময় জুতা বা মোজা পরে না থেকে মাঝেমধ্যে জুতা খুলে পায়ের পাতায় বাতাস লাগালে দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

    * বাইরে থেকে ঘরে ফিরে মোজা বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। আর সাবান-পানিতে ধোয়ার পরও ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে, নইলে দুর্গন্ধ ফিরে আসবে।

    * জুতা বদ্ধ জায়গায় না রেখে আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখা উচিত।

    * অনেকক্ষণ জুতা পরে থাকতে হলে ফিতা আলগা করে বাঁধতে পারেন, যাতে সুযোগ পেলেই জুতা খুলে ফেলা যায় এবং আবার সহজে পরা যায়।

    * সিনথেটিক মোজা পায়ের দুর্গন্ধ বাড়ায়। তাই এ ধরনের মোজা পরা থেকে বিরত থাকুন; সুতি মোজা পরুন।

    * বর্তমানে বাজারে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার বিভিন্ন সুগন্ধি পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের প্রতি যত্নবান হলে দুর্গন্ধ সহজেই এড়ানো যায়।

  • দিনভর শক্তি পেতে সকালে যা খাবেন

    দিনভর শক্তি পেতে সকালে যা খাবেন

    সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়, বাড়ায় কর্মক্ষমতা এবং কমায় নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। অথচ অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান বা পুষ্টির বদলে স্বাদকে প্রাধান্য দেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন—এই তিনটি বিষয়ই সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকালের খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে দুর্বলতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং বিভিন্ন পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    সকালে খালি পেটে যেসব খাবার উপকারী:লেবু ও মধু মেশানো পানি:
    ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু ও মধু মিশিয়ে পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে। যাদের লেবুতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা শুধু মধু মিশিয়ে পানি পান করতে পারেন। মধুতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও এনজাইম শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে।

    ভেজানো কাঠবাদাম:
    সারারাত ভিজিয়ে রাখা কয়েকটি কাঠবাদাম সকালে খালি পেটে খেলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ই, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

    ডিম:
    সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখা ভালো। ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে এবং শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়।ওটস ও পাকা কলার পরিজ:
    ওটস ও পাকা কলা দিয়ে তৈরি পরিজ স্বাস্থ্যকর সকালের খাবার হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। চাইলে এতে সামান্য দুধ, মধু বা গুড় এবং বাদাম যোগ করা যেতে পারে।

    তাজা ফল:
    সকালের নাশতায় মৌসুমি ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ফল খেলে শরীর দ্রুত ভিটামিন, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শক্তি পায়। এতে সারাদিন সতেজ থাকা সহজ হয়।

  • চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    সাধারণভাবে শরীরের মেদ বা চর্বিকে (ফ্যাট) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। অনেকেই ভাবেন, চর্বির পরিমাণ যত কম হবে, শরীর তত বেশি সুস্থ থাকবে।

    অতিরিক্ত ওজন, হৃদরোগ কিংবা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য অতিরিক্ত চর্বি দায়ী—এ কথা সত্যি হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ভালো বা কার্যকর ফ্যাট টিস্যুর অত্যন্ত প্রয়োজন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর থেকে এই ‘উপকারী’ চর্বি কমে গেলে অজান্তেই বৃদ্ধি পেতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ডায়াবেটিস শুধু অতিরিক্ত মেদের কারণেই হয় না; বরং কোনো রোগের কারণে উপকারী ফ্যাট টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত বা উধাও হয়ে গেলেও এই রোগ থাবা বসাতে পারে।

    নিচে বিষয়টির বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। ভালো চর্বি কেন শরীরের জন্য জরুরি?

    আমাদের শরীরের ফ্যাট টিস্যু (অ্যাডিপোজ টিস্যু) কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি জমিয়ে রাখে না, এটি একটি সক্রিয় অঙ্গের মতো কাজ করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হরমোন নিঃসরণ এবং প্রদাহ দূর করতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো ফ্যাট সেলগুলো খাবার থেকে আসা অতিরিক্ত মেদ নিরাপদে নিজের মধ্যে জমা রাখে। এর ফলে লিভার, মাংসপেশি বা অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে না এবং শরীর ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয়।

    সুস্থ চর্বি কমে গেলে শরীরে কী ঘটে?গবেষকেরা ‘ফ্যামিলিয়াল পারশিয়াল লিপোডিস্ট্রোফি টাইপ ২’ নামের একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণা করেন। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে ধীরে ধীরে ভালো চর্বি উধাও হয়ে যায়। ফলে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন না থাকা সত্ত্বেও তারা ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং রক্তে অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় উপাদানের সমস্যায় ভোগেন।

    রোগীদের ফ্যাট টিস্যু পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চর্বি কোষগুলো বিলুপ্ত হওয়ার অনেক আগেই তা ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হতে শুরু করে।

    ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার ৩টি ধাপ

    গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:

    ১. ফ্যাট সংরক্ষণে অক্ষমতা: চর্বি কোষগুলো ধীরে ধীরে চর্বি জমা রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ২. প্রদাহ সৃষ্টি: ফ্যাট টিস্যুর মধ্যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ইমিউন কোষগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ফ্যাট সেলগুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    ৩. মাইটোকন্ড্রিয়ার অকার্যকারিতা: কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শক্তির অভাবে ফ্যাট সেলগুলো শুকিয়ে উধাও হয়ে যায়।

    কীভাবে এটি ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দেয়?

    সুস্থ ফ্যাট সেলগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মেদ আর নিরাপদে জমা থাকতে পারে না। তখন এগুলো লিভার ও পেশিতে গিয়ে জমতে শুরু করে, যা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না।

    এ ছাড়া, উপকারী ফ্যাট টিস্যু থেকে নিঃসৃত হরমোন কমতে থাকায় ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়—এমনকি ব্যক্তি শারীরিকভাবে মোটা না হলেও।এতদিন মনে করা হতো ডায়াবেটিস মূলত স্থূলতা এবং অগ্ন্যাশয়ের বিটা সেলের সমস্যার কারণে হয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করল যে, ভালো ফ্যাট সেলের মান ও কার্যকারিতা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ওজন কমানো কি তবে ঝুঁকিপূর্ণ?

    না, সুস্থ উপায়ে ওজন কমানো একদমই ক্ষতিকর নয়। অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের জন্য সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে বাড়তি মেদ ঝরানো এখনো ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধের সেরা উপায়।

    গবেষণার মূল বার্তা হলো—রোগ বা জিনগত সমস্যার কারণে ফ্যাট সেলের যে ক্ষতি হয় তা প্রতিরোধ করা, সাধারণ স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করা নয়।

  • ডেঙ্গু সম্পর্কে যা জানা দরকার

    ডেঙ্গু সম্পর্কে যা জানা দরকার

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, আর্দ্র আবহাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এ বছর বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

    কীভাবে ছড়ায়

    এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা আবার সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

    লক্ষণ

    হঠাৎ বা অনিয়মিত জ্বর, শরীরব্যথা, বমি, তীব্র পেটব্যথা, চোখে ব্যথা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্লাটিলেট হ্রাস ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় র্যাশ বা তীব্র শরীরব্যথা না থাকায় রোগীরা সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসায় দেরি করেন, যা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    চিকিৎসা

    ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, অতিরিক্ত বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

    পরীক্ষা

    জ্বরের প্রথম ১-২ দিনের মধ্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং ৪-৬ দিন পর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যায়। সিবিসি ও প্লাটিলেট কাউন্ট সাধারণত যথেষ্ট। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার প্লাটিলেট পরীক্ষা করার দরকার নেই।

    প্লাটিলেট ও রক্ত

    শুধু প্লাটিলেট কমলেই প্লাটিলেট বা রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তক্ষরণ বা চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরামর্শ থাকলেই এগুলোর প্রয়োজন হয়।

    প্রতিরোধই সেরা উপায়

    ডেঙ্গুর কার্যকর প্রতিরোধ হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশারি ব্যবহার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    মনে রাখুন

    ডেঙ্গু ছোঁয়াচে নয়; আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায় না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

  • হাড়ের ক্ষয় রোধে খাবারের ভূমিকা

    হাড়ের ক্ষয় রোধে খাবারের ভূমিকা

    লাইফস্টাইল

    দুধ খেলে হাড় মজবুত হয়—এ কথা ছোটবেলা থেকেই প্রায় সবাই শুনে বড় হয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দুধ নয়; সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাই দীর্ঘমেয়াদে হাড়কে সুস্থ ও শক্ত রাখার মূল চাবিকাঠি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় দুর্বল হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার অনেক আগেই এর ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল মাসকিউলোস্কেলেটাল হেলথের অধ্যাপক কেট ওয়ার্ড বলেন, শৈশব ও কৈশোরে যত বেশি শক্তিশালী ‘বোন রিজার্ভ’ তৈরি হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি তত কম থাকে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন। এই রোগে হাড় ধীরে ধীরে পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। রয়্যাল অস্টিওপোরোসিস সোসাইটির জুলি থম্পসনের ভাষ্য, এটি একটি ‘নীরব রোগ’। কারণ হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত সাধারণত এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

    বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হিপ ফ্র্যাকচার বা কোমরের হাড় ভাঙা একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর এক কোটিরও বেশি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। হাড় ভাঙার পর নিউমোনিয়া বা হৃদরোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ঝুঁকি আরও বেড়ে গেলেও পুরুষরাও অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হতে পারেন।

    টাফটস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বেস ডসন-হিউজ বলেন, একসময় অস্টিওপোরোসিসকে শুধু নারীদের রোগ মনে করা হলেও বর্তমানে দীর্ঘায়ুর কারণে পুরুষদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে।

    হাড় ভালো রাখতে কী খাবেন?

    দুধ, দই ও পনির

    দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ডির অন্যতম ভালো উৎস। ২০০ মিলিলিটার এক গ্লাস দুধে প্রায় ২৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেশি দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং কোমরের হাড় ভাঙার ঝুঁকি ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা প্রায় ১,২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

    সয়া ও টোফু

    দুগ্ধজাত খাবার না খেলেও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। ১০০ গ্রাম টোফুতে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। সয়াতে থাকা আইসোফ্ল্যাভোন নামের উদ্ভিদ-যৌগ ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে, যা বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফারমেন্টেড সয়া খাবার ‘টেম্পে’ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণেও সহায়তা করে।

    চিয়া বীজ

    চিয়া বীজে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। মাত্র এক টেবিল চামচ চিয়া বীজেই প্রায় ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহ কমিয়ে হাড় ক্ষয়ের গতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    শুকনো ফল

    প্রুন, ডুমুর ও এপ্রিকটের মতো শুকনো ফলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পলিফেনল। গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছর নিয়মিত প্রুন খাওয়া নারীদের হাড়ের ক্ষয় তুলনামূলক কম হয়েছে।

    ক্যানজাত সার্ডিন ও স্যামন

    কাঁটাসহ ক্যানজাত সার্ডিন ক্যালসিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। ৬০ গ্রাম সার্ডিনে প্রায় ২৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। পাশাপাশি এসব মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি ও উচ্চমানের প্রোটিন, যা হাড়ের পাশাপাশি পেশিও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী পেশি থাকলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং হাড় ভাঙার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

    সাপ্লিমেন্ট কি প্রয়োজন?

    গবেষকদের মতে, সবার জন্য ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না। যাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নেই বা যাদের শরীরে সূর্যালোকের অভাবে ভিটামিন ডি ঘাটতি রয়েছে, মূলত তাদের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে এবং এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

    ভেগানদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, তিল, ডাল এবং ক্যালসিয়াম-ফর্টিফাইড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, নিয়মিত ওজন বহনকারী (ওয়েট-বেয়ারিং) ব্যায়াম করা এবং শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা। এতে বয়স বাড়লেও হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে রাখা সম্ভব।

  • ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকানো সম্ভব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকানো সম্ভব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ধূমপান, বায়ুদূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবিলা করা গেলে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ কিংবা বিলম্বিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে একটি হালনাগাদ নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ ডিমেনশিয়া। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে এটি শারীরিক অক্ষমতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। রোগটি স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।

    বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ধরন আলঝেইমার্স, যা মোট রোগীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জীবনমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ।

    স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালের পর ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস বলেন, মানসিক ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন দেশগুলোর জন্য তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর সুপারিশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছরের পর বেশি দেখা দিলেও এটি বার্ধক্যের অনিবার্য অংশ নয়।

    ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, মৃদু মানসিক ও জ্ঞানীয় সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডিমেনশিয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এর প্রায় অর্ধেকই রোগীদের পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া অবৈতনিক পরিচর্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

  • স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরিকারকদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিকিৎসাসামগ্রীগুলো ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, আলাদা দুটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা যাবে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করবে।বিশেষজ্ঞরা জানান, গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম হিসেবে ভেন্টিলেটর মেশিনটি ব্যবহৃত হয়। এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। অন্যদিকে, শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যায় ব্যবহারোপযোগী হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিদ্যুতের সংযোগ ছাড়াই চালানো যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই যন্ত্রগুলোর সফল উৎপাদন শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

  • নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ। প্রতি বছর ২৮ জুলাই দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়। ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। সাভারের বাসিন্দা ছিদ্দিক হোসেন (৪২) দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন । বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে চলছিল সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিলেও দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটে তার।

    তিনি জানান, এক বছর আগেও জানতাম না আমি ভয়াবহ এ রোগে আক্রান্ত। শরীরে কোনো ধরনের লক্ষণ ছিল না। শুধু পেটে মাঝেমধ্যে ব্যথা হতো এবং বমি বমি ভাব হতো। তবে শরীর খুব দুর্বল এবং ক্লান্তি লাগত। এরই মধ্যে আমার লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো টাকা যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনাসহ গ্রামের বাড়িতে জমিও বিক্রি করেছি। এখন নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই।

    শুধু ছিদ্দিক নয়, তার মতো দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন না হেপাটাইটিস কি, কীভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় কিংবা চিকিৎসা কি। যেহেতু এ রোগের উপসর্গ খুব কম, তাই এতে আক্রান্ত হলেও সহজে ধরা পড়ে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটা শরীরের ভেতর নীরবে থেকে যায়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে অনেকেই রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস নীরব ঘাতকে পরিণত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    চিকিৎসকরা জানান, দেশে অধিকাংশ মানুষ হেপাটাইটিসকে ‘জন্ডিস রোগ’ নামেই চেনেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ। হেপাটাইটিসের এ, বি, সি, ডি এবং ই—এ পাঁচটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ খাদ্য ও পানিবাহিত, যা থেকে স্বল্পমাত্রার জন্ডিস হয়ে থাকে। তবে এটি সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে শরীরে ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) মাধ্যমে সেরে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক লিভার ফেইলিউর হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত জটিলতায় প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার প্রায় এক শতাংশ, যার সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার। আবার দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রায় ১৮ লাখ নারী হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত। এছাড়া দেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে, তারা এ রোগে আক্রান্ত। ফলে তারা চিকিৎসার বাইরে থেকে যান এবং অজান্তেই জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাংশেরও কম মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন। লিভার ক্যানসারে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে দায়ী বি এবং সি ভাইরাস। এছাড়া উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। হেপাটাইটিস বি ও সি-জনিত মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে—প্রথমে চীন এবং দ্বিতীয় ভারত। আর ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সারা বিশ্ব থেকে হেপাটাইটিস বি, সি ভাইরাস প্রতিরোধ এবং লিভার ক্যানসার নির্মূলের কথা বলা হয়েছে।হেপাটইিটিসে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাঈদুল হক আমার দেশকে বলেন, হেপাটাইটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে অসচেতনতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতে পারেন না যে, তারা হেপাটাইটিস বি বা সিতে আক্রান্ত, কারণ রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গহীন থাকে। বেশিরভাগ রোগী অন্য রোগের পরীক্ষা, গর্ভাবস্থার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চাকরির মেডিকেল চেকআপের সময় সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন। আবার অনেক রোগী লিভার জটিল আকার ধারণ করার পর, যেমন পেটে পানি আসা, রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

    তিনি বলেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায় এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি মূলত রক্তবাহিত ভাইরাস। অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ, দূষিত ব্লেড বা জীবাণুমুক্ত না করা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমে এ সংক্রমণ ছড়ায়। তিনি বলেন, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নেন না, ফলে জটিলতা বাড়ে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই হেপাটাইটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করা যায় আর বিশেষায়িত কিংবা শহরের হাসপাতালে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। আবার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরীক্ষার খরচ ও ওষুধের দামও তুলনামূলক কম। তাই তিনি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • খাদ্যাভ্যাসে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

    খাদ্যাভ্যাসে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

    দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকা সাধারণ কিছু খাবার অজান্তেই বাড়িয়ে দিচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করার জোর তাগিদ দিয়েছেন। মানুষের অসচেতনতার সুযোগেই এই নীরব ঘাতক শরীরে বাসা বাঁধছে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

    উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রায়শই নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সহজে প্রকাশ পায় না। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এমনকি দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, মিষ্টি পানীয় এবং ফাস্টফুডের মতো দৈনন্দিন খাবারগুলো উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে পানি জমে যায়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

    বর্তমানে মানুষের শরীরে যে পরিমাণ সোডিয়াম প্রবেশ করে, তার সিংহভাগই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে।

    লবণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং মিষ্টি পানীয়র নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা ওজন বৃদ্ধি পায়, যা হাইপারটেনশনের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভাজাপোড়া, পেস্ট্রি, কেক এবং ফাস্টফুডের মতো খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    বিশেষ করে বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি এবং হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের সাথে সরাসরি জড়িত। তাই এসব খাবার পরিহার করে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ হৃদপিণ্ড পেতে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবুজাতীয় খাবার, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু এবং শিম জাতীয় খাবারে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে, যা সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হাইপারটেনশন থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রসেসড ফুড ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়র পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সঠিক ওজন বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

  • জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ফিচার, স্বাস্থ্য

    দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, শরীরে সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা উচিত। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা এবং গায়ে রেশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ।

    এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ না খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হলো সতর্কতা ও জনসচেতনতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হলো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

    রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১০ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    ডেঙ্গু চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেন, জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে হবে। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা, গায়ে রেশ দেখা দিলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাব্যবস্থা নেওয়া নিরাপদ। নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো ওষুধ ক্রয় করে খাবেন না। শিশুদের জ্বর হলে ডাবের পানি, শরবতসহ বেশি বেশি পানি পান করাবেন। এছাড়া বাইরে বের হলে শিশুদের ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট, পায়ে মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক ভাইরাস বাড়ছে— করোনা, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে যে কোনটা কোন রোগ। এজন্য ভয়ের কিছু নেই, সচেতনতা জরুরি। লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু হচ্ছে, ভাবছি আগামী বছর হবে না। একটা সাময়িক ব্যবস্থা করে সন্তুষ্ট থাকছি। সিটি কর্পোরেশনের এত কম জনবল দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের লোকজন শুধু কীটনাশক প্রয়োগ করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারকে মূল উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণ মশার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন স্বভাবের। এটি গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি বসবাস করতে পছন্দ করে। এর অন্যতম কারণ হলো প্রজননের জন্য এডিস মশা অল্প গভীর ও স্বচ্ছ পানিকে বেছে নেয়। কাদা বা ময়লাযুক্ত পানিতে এটি ডিম পাড়ে না। ফলে ফুলের টব, ছাদ বা বারান্দায় রাখা পাত্র, টায়ার কিংবা অন্যান্য ছোট পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে ওঠে।

    তিনি বলেন, এডিস মশার একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ রয়েছে। সূর্যোদয়ের পরের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এদের সবচেয়ে সক্রিয় সময়। এ সময়ই এডিস মশার কামড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেনভ-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এতে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

  • বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পায়ে সংক্রমণ হলে কী করবেন? 

    বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পায়ে সংক্রমণ হলে কী করবেন? 

    দিনভর বৃষ্টিতে রাজধানীতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জমে থাকা পানিতে হাঁটলে পায়ের সংক্রমণ বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলেও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। পায়ে লালচে র‌্যাশ বের হয়। তাতে আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে চুলকানি বা ঘা হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ফিরে সঠিক উপায়ে পায়ের যত্ন নিতে হবে।

    কীভাবে পায়ের যত্ন নেবেন?

    জীবাণু ধ্বংস করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে লবণ। তাই বাড়ি ফিরেই গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে তাতে মিনিট দশেক পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পা ঘষে মৃতকোষগুলো দূর করুন। হয়ে গেলে পা ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে পা মুছে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের তলায় নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে শুষ্ক ত্বক মোলায়েম হবে।

    পায়ের মাস্ক
    বর্ষায় পায়ের খেয়াল রাখতে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র একটি প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে পায়ের সংক্রমণ এড়াতে চারকোল মাস্ক বেশ ভালো কাজ করে। চারকোল ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা ময়লা দূর করে। এ ছাড়া ভিটামিন সি মাস্কও পায়ের ত্বকে ব্যবহারের জন্য কার্যকরী। কফি মাস্কও পায়ের জন্য সমান উপকারী।

    বর্ষাকালে পা থেকে বেশি দুর্গন্ধ বের হয়। সেই সমস্যা কমাবে কর্পূর ও ট্যালকম পাউডার। মোজা পরার আগে পায়ে ভালো করে ট্যালকম পাউডার মেখে নিন। পাউডারের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিতে পারেন। গন্ধ দূর হবে। টি ট্রি অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পায়ে মালিশ করলেও সংক্রমণ দূর হবে।

    বর্ষায় পায়ের র‌্যাশ কমাবে নিম ও হলুদের প্যাক। এক মুঠো নিম পাতা এবং এক টুকরো কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি পায়ে এবং বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। ২০-৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

  • বন্যায় নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী করবেন?

    বন্যায় নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী করবেন?

    দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা অন্যতম। ভারি সৃষ্টি থেকে এ বছর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। স্বাস্থ্যকর খাবার, সুপেয় পানি, থাকার নূনতম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্যা দুর্গতরা।

    বন্যার সময় কিছু রোগ-বালাই দেখা দেয়।দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি এসব রোগ-বালাই থেকেই সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে সবাইকে।

    * বিশুদ্ধ পানি

    বন্যার সময় পানির উৎস হওয়ায় তা ভালোমতো ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করাসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর এ পানি ঢেলে দিন। এবার আধা ঘণ্টা রেখে এরপর একটানা আধা ঘণ্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিলে সে পানি খাওয়ার উপযোগী হয়। আর ব্লিচিং পাউডার না থাকলে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে। তবে নিরাপত্তার জন্য টিউবওয়েলের পানিও ভালোমতো ফুটিয়ে নেওয়া উচিত এবং পানি একটানা ৩০ মিনিট ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করতে হবে। কিন্তু পানি ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি দেড় লিটার খাওয়ার পানিতে ৭.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোজেন ট্যাবলেট (হ্যালো ট্যাব), তিন লিটার পানিতে ১৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এবং ১০ লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট

    আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা রেখে দিলে পানি বিশুদ্ধ হয়। আবার বাসার পানির ট্যাংকের প্রতি এক হাজার লিটার পানিতে ২৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার এক ঘণ্টা রাখলে পানি বিশুদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ভাইরাস জীবাণু ধ্বংস হয় না।

    * ডায়রিয়া প্রতিরোধে

    বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হলো ডায়রিয়া। এজন্য খাওয়ার আগে এবং পায়খানা করার পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া শুরু হলে পরিমাণ মতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন না থাকলে বিকল্প হিসাবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে। এ সময় শিশুর পুষ্টিহীনতা রোধে খিচুড়ি খাওয়ানো যেতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও খাওয়ানো যেতে পারে। যদি পাতলা পায়খানা ও বমির মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

    * খাবার গ্রহণে সতর্কতা

    বন্যার সময় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী। খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালা-বা

    সন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালা-বাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

    * দুর্ঘটনা থেকে সাবধানতা

    বন্যার সময় আকস্মিক নানা দুর্ঘটনা ঘটে। সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেলে বা পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে তা স্পর্শ না করে বিদ্যুৎ কর্মীদের জরুরিভাবে খবর দিতে হবে। সাপ ও ইঁদুর তাদের আবাস হারিয়ে শুকনো স্থানে মানুষ ও গবাদি পশুপাখির সঙ্গে অবস্থান নেয়। এ জন্য সাপ ও ইঁদুরে কাটার পরিমাণ বেড়ে যায়। বিষহীন সাপে কাটলে ভয়ের কিছু নেই। তবে বিষধর সাপে কাটলে সাপে কাটা স্থানের সামনে মোটা কাপড় বা গামছা বা রশি দিয়ে দিয়ে গিঁট দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম এবং টিটেনাস প্রতিষেধক দিতে হবে। ইঁদুরে কাটলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

    * মলত্যাগে সতর্কতা

    বন্যার সময় যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মলত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মলত্যাগের সময় কখনো খালি পায়ে থাকলে বক্রকৃমির জীবাণু শরীরে সংক্রমিত হয়। এ সময় বাসার সবাইকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত। তবে দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    * বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা

    বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষ (দুই বছরের নিচের শিশু ছাড়া) ও গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খা

    ওয়াতে হবে। শামুক মানুষ ও পশু-পাখির বিভিন্ন পরজীবীর বা কৃমির মধ্যবর্তী পোষক হিসাবে কাজ করে। এসব শামুক হাঁসের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা এগুলোকে নিধন করতে হবে। এ ছাড়া কৃমিনাশক ওষুধ নিয়মিতভাবে চার থেকে ছয় মাস অন্তর খাওয়াতে হবে।

  • শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: সচেতনতা ও করণীয়

    শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: সচেতনতা ও করণীয়

    ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ, যা Dengue Virus দ্বারা হয়। এটি মূলত Adees aegypti মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশার বংশবিস্তার বেশি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।
    রোগ ছড়ানোর উপায়
    আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড় দিলে, মশা এই ভাইরাস বহন করে। সাধারণত সকালে ও বিকালে এডিস মশা বেশি কামড়ায় এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সরাসরি ডেঙ্গু ছড়ায় নাডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল লক্ষণ:
    হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর
    মাথাব্যথা
    চোখের পিছনে ব্যথা
    শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা
    বমি বা বমিভাব
    দুর্বলতা ও খাওয়ায় অনীহা
    পেটে ব্যথা
    ত্বকে লাল দ্বাগ বা র‍্যাশকিছু কিছু ক্ষেত্রে নাক/মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়াবিপদ সংকেতঃ
    নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে-
    বারবার বমি
    অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব
    তীব্র পেটব্যথা
    শ্বাসকষ্ট
    প্রস্রাব কমে যাওয়া
    ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: হাত-পা
    খেতে না পারা
    খিঁচুনি হলে
    জ্বর কমে যাবার পর শিশুর অবস্থা খারাপ হওয়াপ্রাথমিক পরীক্ষা:
    জ্বরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে = CBC, Dengue NS1 antigen
    জ্বরের ৫ ম দিনে প্রয়োজনে = Dengue Antibody
    প্রয়োজনে = Livere function test, S. albumin, Chest X-ray,চিকিৎসা:
    পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার
    জ্বরের জন্য paracetamol
    পর্যাপ্ত বিশ্রামগুরুত্বর ক্ষেত্রে: IV Fluid দিতে হয়
    দেওয়া যাবেনা =
    Ibuprofen, Aspirin ব্যবহার নিষেধ
    প্রয়োজনের অতিরিক্ত IV fluid / খুব দ্রুত শিরায় Fluid দেওয়া যাবেনা
    প্রয়োজন ছাড়া ব্লাড ট্রান্সফিউশন এবং steroid ঔষধ।Dengue Shock এর লক্ষণ ও জরুরি ব্যবস্থপনাঃ
    → রক্তচাপ কমে যাওয়া
    → হাত-পা ঠান্ডা,
    → দ্রুত দুর্বল,

    → Pulse খুঁজে না পাওয়া
    → অস্থিরতা বা জ্ঞান হারানো

    জরুরী ব্যবস্থাপনা
    দ্রুত হাসপাতালে এনে IV Finid, অক্সিজেন, Vital monitoring এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ICU Support দিতে হয়।

    প্রতিরোধ:
    জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা
    মশারি ব্যবহার
    ফুলহাতা জামা পরানো
    বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা
    মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা

    লেখক
    ডা. ইসমাত জাহান ফেরদৌসী
    শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ

  • লবঙ্গের স্বাস্থ্যগুণ

    লবঙ্গের স্বাস্থ্যগুণ

    রান্নার জনপ্রিয় মসলা লবঙ্গ শুধু স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, এতে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

    লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়া এতে থাকা ‘ইউজেনল’ নামের প্রাকৃতিক যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা লবঙ্গের অধিকাংশ স্বাস্থ্য উপকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুস করলে অনেকেই লবঙ্গ চিবিয়ে খান কিংবা গরম পানিতে লবঙ্গ দিয়ে পানীয় তৈরি করেন। এটি গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে এবং সাময়িক আরাম দিতে সহায়ক হতে পারে।

    দাঁতের ব্যথা উপশমেও লবঙ্গের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। এতে থাকা ইউজেনল সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে অনেক টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশে লবঙ্গের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এটি মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক।

    হজমের সমস্যায়ও পরিমিত লবঙ্গ উপকারী হতে পারে। গ্যাস, বদহজম বা পেট ফাঁপার ক্ষেত্রে এটি হজমে সহায়ক কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে খাবার সহজে হজমে সাহায্য করতে পারে।

    এ ছাড়া লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের প্রদাহনাশক উপাদান শরীরের ফোলা ভাব ও জয়েন্টের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে অনেকেই মালিশের জন্য লবঙ্গ তেল ব্যবহার করেন। তবে লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্য সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শ্রেয়। অনেকেই দিনের শুরুতে গ্রিন টি কিংবা ফলের রস পান করেন। এ অভ্যাস ঠিক নয়। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই যেসব খাবার খাওয়া হয়, কিংবা যে পানীয় পান করা হয় তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সারারাত না খেয়ে থাকার পর শরীর দীর্ঘ সময় উপবাস অবস্থায় থাকে। তাই দিনের প্রথম খাবার বা পানীয় হজম, শক্তির মাত্রা এমনকি দিনের পরবর্তী সময়ে খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ কারণেই দিনের শুরুতে খালি পেটে কী খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ভারতের পরামর্শক কিরণ কুকরেজা খালি পেটে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে যেসব খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলবেন

    লেবুজাতীয় ফল
    সকালের নাশতায় কমলা বা আনারস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। কিরণ কুকরেজার মতে, লেবুজাতীয় ফল স্বাভাবিকভাবেই বেশ অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। খালি পেটে এগুলো খেলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে, তবু খাওয়ার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

    গ্রিন টি
    ওজন কমানো ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি খালি পেটে পান করা সবসময় ভালো নাও হতে পারে। কিরণের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অম্বল, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

    চা ও কফি
    অনেকের দিনই শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে চা কিংবা কফি পান করলে অম্লতা, পেট ফাঁপা ও হজমতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন কিরণ কুকরেজা। ফলে দিনের শুরুটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।

    ঝাল খাবার
    সবুজ বা শুকনো মরিচসমৃদ্ধ ঝাল খাবার খালি পেটে খেলে পাকস্থলীর আবরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। এতে বুকজ্বালা, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।ফলের রস
    ফলের রসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিরণের মতে, ফলের রসে সম্পূর্ণ ফলের তুলনায় আঁশ (ফাইবার) অনেক কম থাকে। ফলে সকালে খালি পেটে ফলের রস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

  • গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    অনেকেই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন। কারও আবার সুযোগ হয় পুকুরে সাঁতার কাটার। সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ কানে পানি ঢুকে যাওয়ার সমস্যায় পড়েননি, এমন মানুষ কম। অনেকে সময় বাড়িতেও গোসলের সময় অসাবধানবশত কানে পানি ঢুকতে পারে। কানে পানি ঢুকলে শুধু যে অস্বস্তি হয় তাই নয়, মাথা ধরা, কান ভারী হয়ে থাকা এবং ঠিকমতো শুনতে না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই এই পানি বের করার জন্য দেশলাই কাঠি, ইয়ার বাড বা সেফটি পিন কানের ভেতর ঢুকিয়ে দেন, যা কানের পর্দার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।ভারতের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. অরিজিৎ মহাপাত্র জানান, ইয়ার বাড, দেশলাই কাঠি, পেন বা সেফটি পিনের মতো কোনোও জিনিস কানের ভেতর ঢোকানো খুবই বিপজ্জনক। আমাদের কানের চামড়া খুবই সংবেদনশীল এবং কানের পর্দা খুবই পাতলা হয়। এই ধরণের শক্ত জিনিস ব্যবহার করলে কানের ভেতরের ময়লা নরম জলের সংস্পর্শে এসে ফুলে যায় এবং কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, কানে পানি জমলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ‘সুইমার্স ইয়ার’-এর মতো রোগ হতে পারে। তাই কানের ক্ষতি না করে ঘরোয়ার উপায়ে কীভাবে পোনি বের করবেন তা জানানো হয়েছে ‘টিভি নাইনে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    কানে পানি বের করার সবচেয়ে সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে পাশ ফিরে শুয়ে পড়া। যে কানে পানি ঢুকেছে, সেই দিকটি নিচের দিকে রেখে বালিশের ওপর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে কানের ভেতরের পানি এমনিতেই বাইরে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া, যে কানে পানি ঢুকেছে সেই দিকে মাথাটি কাত করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে হালকা লাফ দিলেও সহজেই পানি বেরিয়ে যায়।

    হাতের তালু দিয়ে কানের ভেতর একটি হালকা ভ্যাকুয়াম বা হাওয়া বন্দি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করলে পানি বেরিয়ে যাবে। এর জন্য মাথাটি আক্রান্ত কানের দিকে কাত করুন। এবার হাতের তালু কানের ওপর শক্ত করে চেপে ধরে রাখুন। এরপর দ্রুত হাতটি সরিয়ে নিন। এইভাবে কয়েকবার করলে কানের ভেতরের আটকে থাকা পানি বাতাসের চাপে বাইরে চলে আসবে।

    অনেক সময় গরম ভাপ কানের পানি বের করতে সাহায্য করে। একটি পরিষ্কার নরম কাপড় বা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। এবার তোয়ালেটি আক্রান্ত কানের ওপর ৫ থেকে ১০ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। গরম ভাপের ফলে কানের ভেতরের পেশি শিথিল হয় । সেই সাথে জমে থাকা পানি সহজেই নালী বেয়ে বেরিয়ে আসে।

    এসব সমাধান চেষ্টা করার পরও যদি কানের পানি বের না হয় তাহলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।