কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুবাইদা রহমান এ আহ্বান জানান। শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো- যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির মাঝে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সকলের সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০ টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’
শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন এবং খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তীতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্নÑ নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছাÑ আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছেÑ সকলে মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তীতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভ কামনা জানান।বক্তব্যের আগে ডা. জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো-সহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপি সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন ব্লু স্কাই স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়। পরে বাফওয়া কর্মসূচি এবং ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরো বক্তব্য রাখেন, ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ ( পিএসসি)। অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রীবৃন্দ, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাটাগরি স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা
-

শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ চান জুবাইদা
-

স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’
‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করছে MHTC।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—Alpha IVF Specialist Center, IHH Healthcare Malaysia, KL Fertility and Gynecology Centre, Sunway Medical Centre এবং KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital। প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় তাদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০,৮০০-এরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রায় RM ১০.৪ মিলিয়ন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।
ঢাকায় কার্যক্রমের পাশাপাশি MHTC ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC। এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত সুবিধাগুলো আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
-

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৫১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন। -

অপরাধী ধরা মন্ত্রীর কাজ হতে পারে না
সরকারের একজন সম্মানিত মন্ত্রীর কাজ অপরাধী ধরা হতে পারে না—এমনকি যদি সেই কাজের পরিধি, প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে, বেসরকারি খাত পর্যন্ত ও বিস্তৃত হয়। কাজের বিশালতার কারণে এটি কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া না, অপরাধ প্রতিরোধ করা কোনো মন্ত্রণালয়ের একমাত্র লক্ষ্য না। সম্মানিত মন্ত্রীদের মনোযোগ দেওয়ার মতো আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যারা নীতিনির্ধারকদের ভোট দিয়েছেন, সেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটানোর দায়িত্ব নীতিনির্ধারকরা নিজেরাই গ্রহণ করেছেন। তাদের মূল কাজ হবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হালনাগাদ করা ও শক্তিশালী করা—যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামাল দিতে পারবে। এর একটি উপায় হতে পারে কর্মীদের স্বচ্ছতা, কাজের মান এবং ফল তদারকির জন্য একটি ত্রুটিমুক্ত কর্মপরিধি। একই সঙ্গে তদারককারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা যে, ব্যর্থতার দায়ে তাদের শুধু তিরস্কারই শুনতে হবে না, বরং চাকরিও হারাতে হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় শীর্ষে থাকা কর্মকর্তা মন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন সরাসরি। এই জবাবদিহির আওতা সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য হতে হবে। এই ব্যবস্থায় নিশ্চিত করতে হবে যে, নিম্নস্তরের তদারককারীরা যেন পর্যায়ক্রমে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করেন। তবে জবাবদিহি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও তা একমাত্র কাজ নয়।
মানুষের চোখে যা প্রথমেই ধরা দেয়
স্বাস্থ্য খাত-প্রদত্ত সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধির আশায় মন্ত্রী অপরাধী ধরার জন্য ব্যগ্র। নিঃসন্দেহে, এই দুটি লক্ষ্য পূরণ করাই এ খাতের প্রত্যাশিত কাজ। তবে যখন অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিই মুখ্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তখন কিছু কিছু ভুল পদক্ষেপও দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ঘটনা দেখা গেছে যেখানে মন্ত্রণালয়কে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না—মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান জানান দিতে গিয়ে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিকে তাড়াহুড়োর সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সামগ্রিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে। আমরা মন্ত্রীর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু স্বাস্থ্য খাত অত্যন্ত জটিল, দুরূহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এটি একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় খাত, যেখানে রয়েছে অসংখ্য বিষয়, দক্ষতা, পদমর্যাদা, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং নানা মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এই খাতের প্রকৃত প্রভাব অনেক সময় গভীরভাবে অদৃশ্য বা অস্পষ্ট থেকে যায়।
স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকারগুলো কী হওয়া উচিতস্বাস্থ্য খাত থেকে মানুষ যে সেবা পায় এবং তা পাওয়ার যে জটিল ও দুরূহ প্রক্রিয়া—এর ফলে মানুষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আমাদের বুঝতে হবে যে, যাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন তাদের সবাই তা পান না; আবার কেউ কেউ সেবা পেলেও তা পেতে দেরি হয়ে যায়। এর একটি কারণ হলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিজস্ব আচরণ; যেমন—হাতুড়ে চিকিৎসকদের পেছনে ছোটা এবং অকার্যকর চিকিৎসার পেছনে সময় ও অর্থ নষ্ট করা। এর ফলে যোগ্য ও দক্ষ চিকিৎসকদের পক্ষে সেবা প্রদান করা জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার কারণ হয়। তবে এই বিলম্বের দায় সরকারের ওপরও বর্তায়। জনগণের অজ্ঞতা আসলে সরকারেরই অজ্ঞতার পরিচায়ক। পরিস্থিতি জটিল হয়ে চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলার আগেই, যাদের প্রয়োজন তাদের সবার কাছে সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারকে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এই কৌশলের দুটি দিক থাকা উচিত : প্রথমত, সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের তথ্য সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং দ্বিতীয়ত, সেবাগ্রহীতারা যেন প্রাপ্ত সেবায় সন্তুষ্ট হন তা নিশ্চিত করা। এই দুটি বিষয় সেবার আওতা ও গুণমান সম্পর্কিত। সেবার আওতা বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত গুণমান নিশ্চিত করার ওপর ও নির্ভরশীল হতে হবে; অন্যথায়, সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল খোলা থাকা সত্ত্বেও মানুষ সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। গুণমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সেবার আওতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হবে। সেবার আওতাকে অর্থবহ ও দৃশ্যমান করে তোলার লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ প্রথমে উপজেলাভিত্তিক জরিপ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি উপজেলার জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো, যা একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে, তা নিরূপণ করা। জরিপের পরবর্তী ধাপে সরকারকে উপযুক্ত ধরনের/শ্রেণির পর্যাপ্তসংখ্যক, দক্ষতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে—অর্থাৎ কোন ধরনের সেবাপ্রদানকারী কী সংখ্যায় প্রয়োজন, কোথায় প্রয়োজন, তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া এবং শর্ত নির্ধারণ।স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন—ওষুধ, যন্ত্রপাতি, অন্যান্য সামগ্রী) এবং পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ (ভৌত অবকাঠামো) দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। এছাড়া, কোনোভাবেই যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সেভাবে পর্যাপ্ত পরিচালন বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। এই বাজেটের খাতগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, সেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করার জন্য তত্ত্বাবধান, লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য মনিটরিং এবং বিভিন্ন সেবা, কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ফলের পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা এবং সেবাগ্রহণকারী, সেবা প্রদানকারী ও সেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, বিদেশে গিয়ে যাতে সেবা নিতে না হয় এবং দেশের ভেতরেই যাতে সেবার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য দেশে সেন্টার অব এক্সেলেন্স হাসপাতাল তৈরি ও ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ট্যুরিজম সৃষ্টি ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক, আইসিইউ ও সিসিইউসহ হাসপাতালে সব ধরনের শয্যা ও সেবাপ্রদানকারী, চাকরির শর্তাবলির হালনাগাদকরণ এবং দায়-দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস, ক্রয় ও সংগ্রহের নীতিমালার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও
এর আলোকে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলো ও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সর্বোপরি এমন একটি কৌশল থাকা প্রয়োজন, যা অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে এবং অসুস্থতাকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত রাখতে এবং রোগীর পুনর্বাসনে সক্ষম হবে। এই কৌশলটির দুটি দিক আছে প্রথমত, অসুস্থতা কেন হয় এবং কীভাবে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুফল পাওয়া যায়—সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। দ্বিতীয়ত, অসুস্থতা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা শনাক্ত করা এবং এর বিস্তার রোধ করা। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণযোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে অসুস্থতার ঘটনা সম্পর্কে নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এই দুটি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই সর্বোত্তম সুফল পাওয়া সম্ভব।উপযুক্ত পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বাজেট প্রণয়নের শুরুতে মন্ত্রণালয়কে যথেষ্ট সময়, অভিজ্ঞতা, গভীরতা এবং প্রজ্ঞার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। পরিকল্পনা ও বাজেটের দুর্বলতা পরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে। এই বিপর্যয় রোধে পরে যতই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, তা আর কোনো কাজে আসবে না। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত খাতভিত্তিক কার্যকর নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, যেখানে আন্তঃখাত দৃষ্টিভঙ্গি—‘সকল খাতের নীতিতে স্বাস্থ্য’—বিবেচনায় রাখা হবে। এর জন্য নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত করা উচিত, যারা এই খাত এবং সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। আমাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি বিষয়সমৃদ্ধ এই খাতটি এমন ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা জ্ঞানভিত্তিক, অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত বা সমাধান প্রদানের ক্ষেত্রে অদক্ষ।
ক্লিনিক্যালসেবা এবং জনস্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থাপনা পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করার জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। রোগীর চিকিৎসা এবং অসুস্থতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী ক্ষেত্র; তাই এ দুটির মধ্যে পৃথককরণ অপরিহার্য।
সেবার মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সেবা প্রদানকারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত কার্যক্রম। মানসম্মত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক অনুপাত, উপযুক্ত ও পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, কার্যকর প্রশিক্ষণ ও এর ম্যানুয়াল এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি এবং গবেষণা। শিক্ষকদের মধ্যে উন্নততর শিক্ষাদান-পদ্ধতি ও আচরণের চর্চা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের—যারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক ও সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করবেন—তাদের মধ্যেও একই গুণাবলি সঞ্চারিত করতে পারেন। এ লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ শিক্ষকদের—যাতে তারা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের প্রতি নিরুৎসাহিত হন এবং দুর্গম এলাকায় কর্মরত সেবা প্রদানকারীদের —যাতে তারা সেসব এলাকায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক, পুরস্কার, ক্ষতিপূরণ, ভাতা, বোনাস ইত্যাদি প্রদানের সুপারিশ করেছে; তবে এসব সুবিধা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কর্মস্থল ত্যাগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। এই কৌশল বাস্তবায়নের সুবিধার্থে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাত যেসব সমস্যার সম্মুখীন, যেমন—অনুপযুক্ত কাঠামো, কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি; অদক্ষতা এবং কার্যক্রম ও কর্মসূচির সমন্বয়ের অভাব—সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে মন্ত্রণালয়কে। এসব কার্যক্রম ও কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অথবা বিশৃঙ্খলভাবে, পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে ও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একাধিক সংস্থা, দপ্তর ও খাতের মাধ্যমে একই ধরনের সেবা সংগঠনের কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়ছে।
সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু আইনের সংশোধন ও নতুন আইনের প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—হাসপাতালের মানের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন; ওষুধের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা আইন (২০১০), কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮ রহিতকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা—অর্থায়ন আইনপ্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন কাউন্সিলের আইনের সংশোধন ও নবায়ন, হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষাগারের ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কিত আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অ্যাক্ট ২০২৩, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলভিত্তিক আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন
(যা প্রকৃতপক্ষে হওয়া উচিত—স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা আইন)। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি, রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্র এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো খাতগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন; পাশাপাশি প্রয়োজনে এসব সেবায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিশ্চয়ই অনুধাবন করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমেই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়। এমনকি যদি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একজন করে পুলিশ সদস্যও নিয়োগ করা হয়, তবু না। আশা করি, সম্মানিত পাঠকরা জানেন কেন। মন্ত্রী যদি অপরাধী ধরার পেছনে সময় ব্যয় না করে পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেন, তবে তিনি সমস্যাগুলো আরো ভালোভাবে সমাধান করতে পারবেন; কারণ একটি শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুধু অপরাধই রোধ করবে না, বরং পুরো খাতের সামগ্রিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।মন্ত্রণালয় যেসব নীতি, কৌশল ও পরিকল্পনা অনুমোদন করবে, এর মধ্যে কিছু বিষয় হবে আইনভিত্তিক শাসন এবং তদারকিসংক্রান্ত; কিছুর জন্য প্রয়োজন হবে সংস্কার ও সেই সংস্কারকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আইনি সহায়তা; আবার কিছু বিষয় হবে কর্মসূচিভিত্তিক সেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র এবং প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য, পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা পর্যালোচনায় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত নকশা এবং ওষুধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। এসব কাজের জন্য প্রয়োজন হবে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের, যারা সংশ্লিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা, কৌশল, কর্মপরিকল্পনা ও আইনি কাঠামো প্রণয়ন করবে; যা চূড়ান্ত পর্যায়ে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে এবং যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নকারী শাখাগুলো কার্যকর করবে। এই খসড়া প্রণয়নের জন্য অন্তত ছয় থেকে আট মাস এবং বাস্তবায়নের জন্য অন্তত দুই বছর সময়ের প্রয়োজন হবে—তবেই ব্যবস্থাটি নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, কোনো সরকারই তাদের মেয়াদের শেষ দুই বছরে জটিল সংস্কার, নতুন কৌশল, পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায় না; এমনকি যদি সেসব পদক্ষেপ সামান্য কিছু মানুষের কাছেও অপ্রীতিকর বা অস্বস্তিকর মনে হয়। কিন্তু একটি ঘরে সন্তোষজনকভাবে বসবাস করার জন্য প্রথমে ঘর সামগ্রিকভাবে এবং সুনিপুণভাবে সাজাতে হবে। এখানে-ওখানে পেরেক ঠুকে এটা করা যাবে না।
-

নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব
ঋতু পরিবর্তনের সময় কারো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি বাড়ে, কারো ত্বক ও চুলের সমস্যা দেখা দেয়, আবার কারো মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তনের সবই যে ঋতুর কারণে হবে, এমন নয়। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
আয়রনের ঘাটতি
মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কিছু নারীর আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ফ্যাকাশে ভাব দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
মাসিকের স্বাস্থ্যবিধিমাসিকের সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি পণ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে এবং ব্যবহৃত পণ্য যথাযথভাবে ফেলে দিতে হবে। মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অস্বাভাবিক মাসিকের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন। এক-দুবার সামান্য তারতম্য সবসময় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত নয়। কিন্তু মাসিক বারবার অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, খুব ঘন ঘন হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রক্তপাত হলে কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
ত্বকের যত্ন
আবহাওয়ার পরিবর্তনে ত্বক কখনো বেশি শুষ্ক, আবার কখনো বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে কারো কারো ব্রণ বা ত্বকের অস্বস্তি বাড়তে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু পরিষ্কারক ও প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন
ঋতু পরিবর্তনের সময় চুল পড়া, খুশকি বা মাথার ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ভেজা চুল দীর্ঘ সময় না রাখা এবং অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানো উপকারী। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা
ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক ও আবহাওয়ার পরিবর্তন কিছু মানুষের অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়াতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া বা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অন্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে চলা এবং পরিচিত ট্রিগার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্রাবের সমস্যাকে অবহেলা নয়
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব উপসর্গের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, কোমর বা পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষানারীর বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারীস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই ভালো।
-

হার্ট অ্যাটাকের নীরব সতর্ক সংকেত অবহেলায় বাড়তে পারে বিপদ
হার্ট অ্যাটাক বলতেই মনে হয় হঠাৎ অসুস্থতা। তবে অনেক সময় শরীর আগে থেকে সংকেত দেয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ অনেক সময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বুকব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত কিছু লক্ষণও হৃদযন্ত্রের সমস্যার আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেক নারী এই উপসর্গকে দৈনন্দিন ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, বয়স, মেনোপজ বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি হতে পারে।
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সবসময় পুরুষদের মতো একই ধরনের হয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা বা বুকে চাপের অনুভূতি বেশি পরিচিত হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সূক্ষ্ম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে হৃদরোগ শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।
যে নীরব লক্ষণটি উপেক্ষা করা যাবে নানারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্মের পর যে ধরনের ক্লান্তি হওয়ার কথা নয়, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু ক্লান্তি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, এমন নয়। ক্লান্তির পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে— শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ হাঁপিয়ে যাওয়া, বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি, চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা। ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি, ঘুমের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি, সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যাবে এমন নয়। ব্যক্তিভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে: নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস, মেনোপজ, অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ। হঠাৎ বুকের অস্বস্তি বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা হাতে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেয়া উচিত। বিশেষ করে উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গকে শুধু গ্যাস, স্ট্রেস বা ক্লান্তি মনে করে অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। -

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার কারণে যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই হয়তো আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে না। নতুন এক গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার কারণে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া হাজারও রোগীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, স্তন ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ওষুধ দেয়া হয়। বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় চারটি হাসপাতালের ৯০ জন নারী অংশ নেন। এসব নারীর স্তন ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ ও ৫০-এর কোঠায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার কমে যেতে পারে- এই আশঙ্কায় তাদের সাধারণত আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হতো। তবে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব নারী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছিলেন, তাদের ৯৮ শতাংশের এক বছর পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাত্র একজন নারীর হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ বন্ধ করা নারীরা তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। তবে এসব ওষুধের কারণে হৃদযন্ত্রের যে ক্ষতি হতে পারে, তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী ও চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার চিকিৎসা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তাদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা প্রতিরোধের ওষুধ নিরাপদে বন্ধ করা যেতে পারে। তার ভাষায়, আমরা আশা করি, এই ফলাফল রোগী ও তাদের চিকিৎসকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা থেকে মুক্ত একটি জীবনের আশা তৈরি করবে। হার্টফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা লুসি শেফার্ডও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, গবেষণায় অংশ নেয়ার পর তিনি নিজেকে শক্তিশালী মনে করছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারব- এমন আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সের পর শেফার্ডের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার সময় করা পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ক্যানসারের চিকিৎসার আরেকটি ধাপ শুরু করার আগে তাকে হৃদযন্ত্রের ওষুধ দেয়া হয়। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী শেফার্ড বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা কঠিন ছিল। কারণ, হৃদযন্ত্রের ওষুধ আমার বন্ধ করা উচিত নাকি চালিয়ে যাওয়া উচিত- এ বিষয়ে কেউ আমাকে নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হতে পেরে এবং হৃদযন্ত্রের ওষুধ বন্ধ করার সুযোগ পাওয়ায় আমার জীবন নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। আমি এখনো হরমোন থেরাপি নিচ্ছি। কিন্তু আগের মতো ভয় নিয়ে বেঁচে নেই। এটি আমাকে আবার নিজের শরীরের ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে। গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের আগামী পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, হাজারও স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হবে। গবেষণার ফলাফল আশা জাগাচ্ছে যে, হৃদযন্ত্র সুস্থ হয়ে ওঠার পর অনেক নারী নিরাপদে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এসব নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে এই ফলাফল স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা এই নারীদের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর। -

রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের যোগসূত্র, কী বলছে গবেষণা
পরিবর্তিত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও নানা পরিবেশগত কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হৃদরোগের পাশাপাশি স্ট্রোকও বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফিরলেও অনেক রোগী দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতার শিকার হন।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা এবং হৃদরোগও স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্ভাব্য সম্পর্ক। ২০২২ সালে নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের ‘এ১’ উপধরনের মানুষের ৬০ বছর বয়সের আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। ‘বি’ গ্রুপের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। বিপরীতে, ‘ও১’ গ্রুপের মানুষের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণাটি ছিল বড় পরিসরের। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত ৪৮টি জেনেটিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এতে প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ছয় লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ড. স্টিভেন কিটনারের মতে, ‘এ’ গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির এই সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া, প্লাটলেটের কার্যক্রম, রক্তনালির অভ্যন্তরীণ কোষ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ছিল ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ফলে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একই সম্পর্ক প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বৈচিত্র্যময় মানুষের ওপর গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল সীমিত করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
এক হাত বা এক পা হঠাৎ দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা
হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
এসবের কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
-

এলইডির আলোয় হরমোনের ছন্দঃপতন!
শোবার ঘরের বাতি নিভলেও জানালা দিয়ে ঢোকে সড়কের আলো, পাশে জ্বলে ফোনের পর্দা। আধুনিক জীবনে রাত আর পুরোপুরি অন্ধকার থাকে না।গবেষকরা বলছেন, বিশেষ করে নীল আলোর মাত্রা বেশি থাকা শীতল সাদা এলইডি রাতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ফরাসি গবেষক ইভান তুইতু ও সেবাস্তিয়াঁ পয়েন্ট এলইডির নীল আলোকে সম্ভাব্য ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর’ বা হরমোনব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে—এলইডির নীল আলোর কারণে মেলাটোনিন নিঃসরণ কমে যাওয়া। মেলাটোনিন ঘুম আনতে সাহায্য করে, এবং আমাদের দেহঘড়ির সময়ও ঠিক রাখে।চোখের রেটিনায় থাকা বিশেষ সংবেদনশীল কোষের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘মাস্টার ক্লক’-এ সংকেত পাঠায় আলো। দিনের বেলা এই সংকেত প্রয়োজনীয়। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল নীলসমৃদ্ধ আলো মস্তিষ্ককে দিনের ভুল বার্তা দেয়। ফলে মেলাটোনিনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়, ঘুমের সময় পিছিয়ে যায় এবং কর্টিসল, ইনসুলিন ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের দৈনিক ছন্দও বদলে দিতে পারে।সব এলইডি আলো অবশ্য এক রকম নয়। সাধারণত শীতল সাদা বাতিতে নীল আলোর অংশ উষ্ণ সাদা বাতির চেয়ে বেশি। আলো কতটা উজ্জ্বল, চোখের কত কাছে, কতক্ষণ এবং দিনের কোন সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব। দিনে নীল আলো জৈব ঘড়ির সঠিক তাল বজায় রাখতে সাহায্য করে। উদ্বেগটা রাতের অনুপযুক্ত আলো নিয়ে।
নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর রাতের কৃত্রিম আলোর প্রভাব নিয়ে ২০২৬ সালের আরেকটি পর্যালোচনায় অনিয়মিত বা দীর্ঘ মাসিক চক্র এবং হরমোনের পরিবর্তনের সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মস্তিষ্ক, পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ের পারস্পরিক সংকেতেও জৈব ঘড়ির গোলযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রমাণ কুব একটা পায়নি গবেষকরা। অন্য প্রাণীর ওপর গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যই বেশি। রাতে কাজ, কম ঘুম, মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এলইডি বাতি ব্যবহার করলেই যে বন্ধ্যত্ব, পিসিওএস বা অন্য হরমোনজনিত রোগ হবে—এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়।
ঝুঁকি কমাতে সন্ধ্যার পর ঘরের আলো প্রয়োজনের চেয়ে উজ্জ্বল রাখবেন না। কম উজ্জ্বল ও উষ্ণ রঙের আলো ব্যবহার করুন। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে ফোন-কম্পিউটারের ব্যবহার ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে নিতে পারে। শোবার ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা জরুরি। সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোর সান্নিধ্যে থাকলে জৈব ঘড়ি ঠিক রাখতে তা সহায়তা করে। নারীদের ঋতৃস্রাবে অনিয়ম, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা বা অন্য হরমোনজনিত উপসর্গ থাকলে তখন শুধু আলোকে দায়ী না করে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
-

ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। ব্যক্তির ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি টিকা ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করে ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে টিকাটি। উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় কিট্রুডা নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।
মার্ক ও মডার্নার এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে টিকা ও কিট্রুডার সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্যানসারমুক্ত থাকার সময় শুধু কিট্রুডা নেওয়া রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।
‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটি প্রস্তুত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।
তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের সবারই অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীরাও ছিলেন।
গবেষকদের এই ফলাফলকে ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়া টিকার মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএসের আওতায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। গবেষণার ফলাফল শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা নতুন একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।