দুই শিবির নেতার পায়ে গুলি; চৌগাছায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত টিম

War crimes tribunal probes 2016 police shooting of two Shibir leaders in Chougachha

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

চৌগাছা প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ইস্রাফিল ও রুহুল আমিন নামের দুই শিবির নেতার পায়ে পুলিশের গুলি করার ঘটনায় তদন্তে করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) দুপুরে এ তদন্ত হয়। এসময় ঘটনাস্থল বুন্দুলিতলা, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এবং থানায় গিয়ে তদন্তকাজ করেন তদন্ত টিম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

পুলিশের গুলিতে পাহারানো দুই শিবির নেতা জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট সাংগঠনিক কাজ শেষে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় চৌগাছা থানার এসআই মাজেদ এবং মখলেছুর রহমান তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। হ্যান্ডকাপ পরিয়ে সারা রাত এসআই মাজেদ এবং ওসি এম মশিউর রহমান নির্যাতন চালায় তাদের উপরে। ৪ আগস্ট সকালে তাদের ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সারাদিন নির্যাতন করে। সেখান থেকে চৌগাছা থানায় নিয়ে আসার পথে কয়ারপাড়া এলাকায় দুজনেরই দুই হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে পুলিশ।

এরপরে রাত আনুমানিক ২ টার দিকে তাদের বন্দুলিতলার নির্জন মাঠে নেয়। সেখানে নিয়ে দুজনের হাঁটুতে পুলিশ গুলি করে পা ঝাঁঝরা করে দেয়। উপর্যপুরি ক্ষতস্থানে বালু দিয়ে বেধে দেয় এস আই আকিকুল ইসলাম। তারা জানায় গুলি করার পরে চোখ খুলে দেয়। এসময় তারা দেখতে পায় এসআই আকিক, এসআই মখলেছুর, মাজেদ এবং ওসি এম মশিউরকে।

সেখান থেকে তাদের উপজেলা হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাদের রেফার করা হয় যশোর সদর হাসপাতলে। সেখানে দুদিন চিকিৎসার পর কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতলে পাঠানো হয়। ভর্তির সাতদিন পর চিকিৎসক পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয় বন্ধুকযুদ্ধে দুই শিবির নেতা আহত হওয়ার ঘটনা।

এসময় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটি উপজেলার গণমাধ্যম কর্মী ও এলাকাবাসির স্বাক্ষী গ্রহণে করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটা একটা লোমহর্ষক ঘটনা! এই ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তানাহলে অপরাধিরা বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে থাকবে।

এঘটনায় ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিবির নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ