দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতার আওতায় ইরান সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা পেতে পারে বলে জানা গেছে। চুক্তির ফলে আগে থেকে অবরুদ্ধ থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রথমে দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়। ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তহবিল ছাড় করা হবে। এরপর ৬০ দিনের আলোচনাকালে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার উন্মুক্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অবমুক্ত তহবিলের মোট মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে এই অর্থ ইরানের হাতে সম্পূর্ণ অবাধ নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে, এমন অর্থ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় মুক্ত হওয়া অর্থ প্রধানত খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মতো খাতে ব্যয়ের অনুমতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, অনুমোদিত মার্কিন-সংযুক্ত বাজার ও আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব পণ্য ক্রয় করতে হবে।
এই শর্তগুলো নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এখন পর্যন্ত ইরান প্রকাশ্যে কোনো আপত্তি জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
