ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

প্রতিবেদন:

·

, , ,

ফরিদপুরে মিলনের আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন

ডেক্স নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সালথায় এই প্রথম বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ অঞ্চলে আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। সেখানে আশাতীত ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

মিলন বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিই। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। মিলন আরও বলেন, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন এলাকার অনন্য কৃষকরাও।

সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখিনি। মিলনের বাগান দেখে আমরা উৎসাহবোধ করছি। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন উৎস।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে ফল চাষে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও অনেক কৃষক আনারস চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ এম

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ