জাবি

  • জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে উপাচার্যের (ভিসি) ভবনের পাশেই গরু জবাই করেছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত ‘শুক্রবারের গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভিসি ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়।

    এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গরুভোজ আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৪ অক্টোবর)। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
    বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার পেছনের কারণ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে গরুভোজের আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না।

  • জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    জাবি ছাত্রদলের পদ ছাড়লেন সুমাইয়া

    শিক্ষ ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি জানান তিনি।

    পোস্টে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না।

    তিনি লেখেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সুমাইয়া লেখেন, “আমার এই পদত্যাগকে কোনোভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে আমার সরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, আদর্শ থেকে নয়। ”

    তিনি জানান, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তার সাময়িক বিরতি। ভবিষ্যতে সংগঠনটি শহীদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে মনে হলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি।

    পরে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেয়া এক রিপ্লেতেও পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সুমাইয়া। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিবাদ করলে বহিষ্কারই খেতে হয়। বহিষ্কার থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো না?

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

    উল্লেখ্য, সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। র আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতের মোট সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষ্য, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন

    চলমান ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

  • সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে এ শোকজ দেওয়া হয়।

    শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- জবি শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

    নোটিশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ওই দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক গ্রুপের কর্মীর সঙ্গে অন্য গ্রুপের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

    তবে জবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান, টার্ম ফাইনাল ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে আজ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ১১ জন নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮ এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন

    জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। বর্তমান প্রক্টরের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম। তার আবেদন অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

    এর পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

    অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।এ ছাড়া বিদায়ী ও নবনিযুক্ত প্রক্টরকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে সংশ্লিষ্ট সনদ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

  • জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

    অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন, জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।

    বংশাল থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় একদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

    তদন্তে উঠে আসে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তাঁর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক নম্বর আসামিসহ কেউই ছাড় পাবে না।