উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

কেউ এসেছেন বরগুনা থেকে, কেউ দিনাজপুর থেকে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে। তাদের মধ্যে মুসলিম যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষও। কেউ এসেছেন নামাজ আদায় করতে, আবার কেউ এসেছেন শুধু মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্য ও মনোরম পরিবেশ দেখতে। বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রতিদিনই দেখা মেলে এমন বৈচিত্র্যময় দর্শনার্থীর।

১৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত মসজিদটি প্রায় দুই দশক ধরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে।

গুঠিয়ার চেংগুটিয়া এলাকায় অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদে একসাথে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান। তবে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

মসজিদটিতে রয়েছে ২০টি গম্বুজ। মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, সিরামিক ও রঙিন কাচের নকশায় সাজানো হয়েছে এর বিভিন্ন অংশ। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আর-রহমানসহ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরা। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোকসজ্জায় মসজিদটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়।

বরগুনা থেকে পরিবার নিয়ে মসজিদ দেখতে আসা সাবিত মাহমুদ জানান, বায়তুল আমান মসজিদের স্থাপত্য, নকশা ও চারপাশের পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে মসজিদটির বিভিন্ন অংশ দেখেছেন তারা। এতো সুন্দর একটি স্থাপনা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভালো লেগেছে।

দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ধীরেন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও সাজসজ্জা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও স্থাপত্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি এতিমখানাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সেখানে মক্কা-মদিনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কাবা শরিফ, আরাফাতের ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান ও খলিফাদের কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজ অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলে নির্মাণকাজ। ২০০৬ সালে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

মসজিদটির তদারকির সাথে যুক্ত হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মসজিদটির দেখভালের সাথে যুক্ত আছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বায়তুল আমান মসজিদ দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও রয়েছেন। মসজিদের স্থাপত্য ও পরিবেশ দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

মসজিদকে ঘিরে গুঠিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও বায়তুল আমানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা বলেন, ‘গুঠিয়ার বায়তুল আমান মসজিদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। এর নান্দনিক স্থাপত্য দেখতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসছেন।’

নামাজের পাশাপাশি স্থাপত্যের টানেও এখানে আসছেন মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা এসব দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ এখন ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি মানুষের আগ্রহের একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ,আর

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ