বরিশাল বিভাগ

  • বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

    ঘটনার পেছনে মূল ইন্ধন কার ছিল, লাশ বাড়িতে না নিয়ে কেন ইউএনও অফিস বা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মানিক পশারীর লাশ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপরে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    তাদের দাবি, গত শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে আসার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং তারা দফায় দফায় লাশ দাফনে বাধা দেন। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম নাঈম বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং পাড়েরহাট বাজারে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

    অপরদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তারা জানাজা বা দাফনে কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর মরহুম নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর জুলুমের প্রতিবাদ হিসেবে মিথ্যা সাক্ষীর গেজেটভুক্তি নিয়ে ফুঁসে উঠে সাধারণ জনতা।

    সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, জনরোষ ও দাফনে বাধার নেপথ্য কারণ কী ছিল, পশারী আদৌ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কী না এসব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতেই বুধবার ভোরে পিরোজপুর প্রতিনিধিকে নিয়ে এ প্রতিবেদক পৌঁছান সদর উপজেলার শঙ্করপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। কথা হয় মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। পাশাপাশি কথা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি ও জামায়াত নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। তবে সংবেদনশীল এ ইস্যুর গভীরে যেতে প্রশাসনের অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

    জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান।

    ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মানিক পশারী আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেখানে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

    ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি নিয়ে বিতর্ক

    মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া ও গেজেটভুক্তি নিয়ে এলাকায় রয়েছে তীব্র বিতর্ক। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক গতকাল বুধবার আমার দেশকে জানান, তিনি ৪০ বছর আগের নির্বাচিত কমান্ডার থাকাকালে মানিকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০১৭ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হওয়ার আট বছর পর মানিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।

    তবে ২০১৭ সালের তালিকার হালনাগাদের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বর্তমানে একটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রম সমাপ্তির পর যে নতুন গেজেট হবে, সেটা হবে চূড়ান্ত।

    এখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ বাদ পড়ে থাকলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আবার যদি কেউ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকে, সে বাদ যাবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথি যাচাই করে দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালের কাছে মানিক পশারী নিজেই স্বীকার করছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। ২০১১ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি; তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আউয়ালের (সাইদুর রহমান) দেওয়া একটি ডিও লেটারের (আধাসরকারিপত্র) মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; মূলত আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্রতিদান হিসেবেই তাকে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছিল।

    গার্ড অব অনারে জনরোষ

    ২৪ অক্টোবর দুপুরে মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এক অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে গার্ড অব অনারে বাধা দেন।

    মানিকের মেয়ে-জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় মৃত্যুর পর দুপুর ১২টায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ বা চা-পাতা ছাড়াই লাশ রাখা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন দাফনের কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় লাশ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    নিজ গ্রামে দাফনে তীব্র বাধা

    পুলিশ লাইনস থেকে লাশ শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মানিকের মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে আল্লামা সাঈদীর ওপর জুলুম করা হয়েছিল এমন আবেগ ও ক্ষোভ থেকে স্থানীয় জনগণ তার জন্য খুঁড়ে রাখা কবর মাটি ও বাঁশ দিয়ে ভরাট করে দেয়।

    পাড়েরহাট বাজারে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মঈনের নেতৃত্বে পিরোজপুরে মানিককে দাফন না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    রাতের আঁধারে দাফন সম্পন্ন ও গ্রামপুলিশের বয়ান

    গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে গিয়ে তিনি মানিক পশারীর বোনদের পান এবং তারা ও স্থানীয় দুই ব্যক্তি মিলে কবর খনন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওই সময় নারীরা মাটি সরাচ্ছিলেন মাত্র। পরে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে চিথলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে জানাজায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নিজ এলাকায় তার জানাজাও হয়নি।

    পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান

    ঘটনার সময় খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন জানিয়ে মানিকের বোন হেনা পশারী জানান, তার ভাই ওই মামলার বিষয়ে কখনো কিছু জানাননি। তবে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। কিন্তু তিনি সে বক্তব্য অস্বীকার করেন। তবে তার আগের বক্তব্যের ভিডিওচিত্র সাংবিদিকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    ভাগনে আজিজুল জানান, দাফনের জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কবর তৈরি করে তারা খাবার খেতে গেলে তার বাবা ফোন করে জানান, লোকজন আসছে; ফলে ভয়ে তারা আর সেখানে যাননি।

    শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ইন্ধন প্রসঙ্গে বক্তব্য

    আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী গতকাল বুধবার বলেন, মানিক পশারী ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি যুদ্ধ করেননি। তাহলে তিনি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন? তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবে তিনি ডিও লেটার নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং ১০ বছর ধরে জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদেই সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেখানে জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরাই দাফনের কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

    জেলা জামায়াত সেক্রেটারি জহিরুল হক ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা লাশ দাফনে কোনো বাধা দেননি। তাদের আপত্তি ছিল মানিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে। সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে দাফনে বাধা দেওয়ার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

    পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপের এক গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে। ষড়যন্ত্র করে লাশটি ইউএনও অফিস ও পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছিল। আমি চাই, সরকারি পর্যায়ে প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক লাশ কীভাবে সদরে বা ইউএনওর কাছে এলো এবং এর পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল।

    থমথমে জনপদ

    সরেজমিনে চিথলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মানিকের বাড়ি এখন তালাবদ্ধ ও নির্জন। গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান, প্রতিবেশী সাফিয়া বেগম এবং আরিফ জানান, এলাকার সার্বিক পরিবেশ থমথমে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অজানা আতঙ্কে কথা বলতে চায় না কেউই।

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগন বলছেন, পিরোজপুরের ঘটনাটি কেবল একটি দাফনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাময়িক উত্তেজনা নয়; বরং এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তার বিপরীতে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জনক্ষোভের এক জটিল প্রতিফলন।

    তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

    মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    গত ২৪ অক্টোবর মানিকের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। সাঈদী সাহেব কখনো রাজাকার ছিলেন না।

    “১৯৭১ সালে মানুষ তাকে চিনত না। তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। সাঈদী সাহেব একজন ভালো বয়ানকারী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ছিলেন।তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, সে কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে। সাঈদী সাহেবের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন সরকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সাঈদীর অনুসারীরা গার্ড অব অর্নার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরাও জানি, তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।”

    আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সেখানে চাপে হোক বা যেভাবেই হোক, মানিক পশারী সাঈদীর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। পরে আর যাচাই-বাছাই হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সরকারি নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেবে, কারণ তিনি এখনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সে কারনে সেখানে গার্ড অব অনার দিতে জামায়াত আপত্তি জানায়।

    গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সি মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বিকালে পুলিশ লাইনসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

    সুত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তার ছোটভাই চান মিয়া পশারী।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চান পশারী জানান, তিনি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। তবে সাঈদীর পক্ষে কথা বলায় তার ভাই মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, ‘তখন আমার ভাই (মানিক পশারী) মেট্রিক পাশ। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি। ’চান পশারী আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম ভাই (মানিক পশারী) দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই, সে ভালো বলতে পারে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে, তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় (তালিকা) নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই। কারণ সাঈদী রে ভালো বলছি এ কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোনো সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি, এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম, তাহলে তো আমার নামটা মুক্তিবাহিনীতে থাকত।’এদিকে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার ছোটভাই চান পশারীর একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায়— তিনি ও তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি আর্থিক লোভে না পড়লেও তার বড়ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এবং সাক্ষী দেয়।তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চান মিয়া পশারীর বাড়িতে যান এ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার নিজেরই।এক প্রশ্নের উত্তরে চান পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সেই সময় অনেক ছোট ছিল সাঈদী। রাজাকার ছিল রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, সেকেন্দার শিকদার।

    এদিন মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।’

    মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার ছলে বলেন, ‘হয় আমার ভাই রে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে।’অপরদিকে সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর আরেক বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি মাসুদ সাঈদীর

    দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

    মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। ’“কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি। আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।”সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’

    তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

    ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’ ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি

    একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’”

    মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল?

    মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

    মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মোটরসাইকেল দুর্ঘটানায় হাসপাতালের বেডে স্কুলছাত্র

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটানায় হাসপাতালের বেডে স্কুলছাত্র

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে নাঈম হাসান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কাউখালী থেকে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় আশ্রমসংলগ্ন উখালী-স্বরূপকাঠি সড়কের ধোপাবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত নাঈম উপজেলার আশপদ্দি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ও স্থানীয় সদর ইউনিয়নের জয়কুল আদর্শ কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে নাঈম মোটরসাইকেল নিয়ে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় ধোপাবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: নাহিদ হাসান জানান, আহত স্কুলছাত্রের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বর্তমানে কম বয়সি কিশোর ও যুবকরা কোনো নিয়মকানুন না মেনে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালনা বন্ধে ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ,আর

  • ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৮ জেলে আটক

    ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৮ জেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৮ জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তিন লাখ মিটার অবৈধ জাল, ৫০ কেজি মা ইলিশ ও তিনটি কাঠের ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিষেধাজ্ঞার ১৮তম দিনে এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড।

    পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মশিউর রহমানের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ১৮ জেলেকে প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দ করা ট্রলারগুলো নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এদিকে, জব্দ করা ৫০ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ,আর

  • উজিরপুরে যুবদল নেতা কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ৯

    উজিরপুরে যুবদল নেতা কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাস থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কাওসার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।

    পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন মো: সজল মোল্লা (৩৮), মো: শামীম মোল্লা (৩৬), মো: তারিকুল ইসলাম (৩০), সোহাগ হোসেন (৩০), সাগর শেখ (২৬), মো: হাসিব শেখ (৩০), হাবিব শেখ (১৮), মো: মাহবুবুর রহমান (৫০) ও মো: শরিফ হোসাইন (৩০)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারসহ কয়েকজন সজল মোল্লাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদিপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত বুধবার তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।

    শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জেরে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদের বিরুদ্ধে ইকবাল ও তার ছেলে সাজিদ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের বিরোধ আরো তীব্র হয়।

    স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এ ঘটনার খবর পেয়ে সজল ও শামীম একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে কাওসারকে পেয়ে সজল ও শামীমসহ তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত একটি মাইক্রোবাস করে পালানোর সময় নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ এ,আর

  • কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কাউখালীতে টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লো্বাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৬) নামের এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেন্ডি গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্বপন উপজেলা সদরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার ‘শ্রুতি টেইলার্স’-এর মালিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় স্বপনের লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা কাউখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ কাউখালী থানায় নেয়া হয়।

    স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বপনের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। তিনি দোকানের কাজে মনোযোগ না দিয়ে মোবাইল ফোনে গেম খেলায় বেশি সময় ব্যয় করতেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হত। ঘটনার আগে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’এ,আর

  • বরিশালে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

    বরিশালে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। সোমবার সকাল সাতটার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. নয়ন (২৫) ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তারা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালভিটা লেনের কাশেম মহলে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশালের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে নগরীর বিএম কলেহজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনকভাবে তাদের তল্লাশি চালিয়ে ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ,আর

  • কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। এ সময় নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া মোহনা, লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জব্দ করা জালের মধ্যে সাত হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল ও এক হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন ব্যক্তি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে অবৈধ জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আজকের অভিযানে প্রায় আট হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো প্রজনন মৌসুমে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    কাউখালীর ইউএনও রেহানা আক্তার বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিন-রাত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এ,আর

  • কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    কাঁঠালিয়ায় ছোট ভাই হত্যা মামলার আসামি বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুল ইসলাম হাওলাদার দক্ষিণ মহিষকান্দি গ্রামের মরহুম মমিন উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন-চার বছর আগে আপন ছোট ভাই বেল্লাল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় নিহতদের বোন ফিরোজা বেগম কাঁঠালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর এক বছর আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন নুরুল ইসলাম।

    স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মামলার বাদী ও নিহতের বোন ফিরোজা বেগম জমি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। এ সময় নুরুল ইসলাম মামলাটি তুলে নেয়ার অনুরোধ জানালে দুই ভাই বোনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

    স্বজনরা আরো জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে এক প্রতিবেশীর আমগাছের ডালের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন নুরুল ইসলাম। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

    নিহতের ছেলে অটোচালক সাকিব হাওলাদার ও স্ত্রী পাখি বেগম জানান, দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে হয়তো নুরুল ইসলাম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

    কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ, আর

  • বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় একজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ইলিশ মাছ, যা স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা। মা ইলিশ সংরক্ষণে তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একটি মামলা করা হয়। এতে একজনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এ ছাড়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জেলেদের মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন এবং বরিশালের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।

    ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মাদক, জুয়া ও বালু উত্তোলনে বিরোধিতা করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    মাদক, জুয়া ও বালু উত্তোলনে বিরোধিতা করায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক, জুয়ার আসর বন্ধ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানানোর জেরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন বিএনপি নেতা শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪২)।

    গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চর ধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে এবং গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছিলেন।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা ও নয়াভাঙনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে এসব অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথা প্রকাশ্যেই জানান তিনি।

    পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার জের ধরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালায় এবং তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

    পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বরিশাল যাবার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো: সোহেল রানা জানান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল হাসপাতালে নেয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এ,আর

  • পাথরঘাটায় কারাগারে সেনা সদস্যসহ চারজন

    পাথরঘাটায় কারাগারে সেনা সদস্যসহ চারজন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার পাথরঘাটায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় সেনা সদস্যসহ চারজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ এ আদেশ দেন।

    কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন উপজেলার ছোট পাথরঘাটা এলাকার মৃত আব্দুস সোবাহান দফাদারের ছেলে সেনা সদস্য মো. এরশাদ ও তার ভাই মো. জাকির হোসেন, ইউনুস মাঝির ছেলে আলামিন ও একই এলাকার কামাল হোসেন।

    তবে মামলার অপর দুই আসামি ইউনুস মাঝির ছেলে আব্দুল জলিল ও আবু সালেহ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর আগে মামলার বাদী গোলাম রব্বানীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক ৩৪.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন গোলাম রব্বানী ও তার মায়ের নামে। সেই থেকে গোলাম রব্বানী ও তার পরিবার ওই জমি ভোগ দখল করে আসছে। গোলাম রব্বানী আমতলী কলেজের প্রভাষক হওয়ার কারণে পাথরঘাটায় কম থাকেন।
    এ সুযোগে মামলার প্রধান আসামি সেনা সদস্য মো. এরশাদ ও তার ভাই জাকির হোসেনসহ অন্য আসামিরা মিলে পাকা ভবন নির্মাণ করার জন্য দখল করেন। ঘটনাস্থলে এসে জমির মালিক গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকি দেন তারা। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ মার্চ গোলাম রব্বানী পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে চার আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন জানান, ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়ের করা মামলায় সেনা সদস্য এরশাদ ও তার ভাইসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ৩ ও ৬ নম্বর আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ,আর

  • মৎস্য সংরক্ষণ অভিযানে ৩ জেলে আটক, ২১ দিনের সাজা

    মৎস্য সংরক্ষণ অভিযানে ৩ জেলে আটক, ২১ দিনের সাজা

    ভোলার তজুমদ্দিনে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে তিন জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ। পরে আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে (মোবাইল কোর্ট) হাজির করা হলে প্রত্যেককে ২১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তড়িৎ চন্দ্র শীল এই দণ্ডাদেশ দেন।

    এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ওই তিন জেলেকে আটক করা হয়।

    সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— মো: ছলেমান (৪৯), মো: কবির (৩০) ও মো: শাহিন (২২)। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।

    মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আমির হোসেনের নেতৃত্বে মৎস্য অফিসের একটি টিম মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালা করে। এ সময় মাছ শিকার করতে নদীতে জাল ফালানো অবস্থায় তিন জেলেকে আটক করে মৎস্য প্রশাসন।

    তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আমির হোসেন বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের প্রজনন রক্ষায় নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে যে সরকারি আইন লঙ্ঘন করবে, তার বিরুদ্ধেই প্রশাসন মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ,আর

  • কাঁঠালিয়ায় অভিযানের গুজবে পালাতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

    কাঁঠালিয়ায় অভিযানের গুজবে পালাতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মৎস্য বিভাগের অভিযানের গুজবে দৌড়ে পালাতে গিয়ে মো: ফরিদ তালুকদার (৫৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত ফরিদ তালুকদার কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

    মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদ আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা এলাকার খালে মাছ ধরতে বাঁধাজাল বসান। সকাল ৬টার দিকে খালে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের শব্দ শুনে মৎস্য বিভাগের অভিযানের ভয়ে তিনি নৌকা থেকে নেমে খালের পাড়ে দৌড় দেন।

    এ সময় ফরিদ তালুকদার তার ভাই আবদুর রহমান তালুকদারকে ফোন করে বলেন, ‘আজ মনে হয় আমার জালটা নিয়ে যাবে।’ খবর পেয়ে আবদুর রহমান খালের পাড়ে গিয়ে দেখেন, সেখানে কোনো মৎস্য কর্মকর্তা নেই এবং তার নৌকাটি খালের মাঝখানে খালি পড়ে আছে। পরে বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নৌকা থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে ছোনাউটা গ্রামের একটি বাগানে ফরিদকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, ওই রাতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করেন। আমুয়া ইউনিয়নে তাদের কোনো দল অভিযান চালায়নি।

    কাঁঠালিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ,আর

  • পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির পদ স্থগিত

    পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির পদ স্থগিত

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাতুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাতুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। জানা যায়, গত বুধবার পবিপ্রবির এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে কক্ষ ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ ও সিয়াম আহমেদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। ভাঙচুরে একটি কক্ষের দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি ল্যাপটপও নষ্ট হয়। উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে জাহিদুল ইসলাম রাতুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনার সঙ্গে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

  • রাজাপুরে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত, চালক গ্রেপ্তার

    রাজাপুরে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত, চালক গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে ইমাদ পরিবহনের বাসচাপায় মো. মতিয়ার রহমান মল্লিক (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে পিরোজপুর-রাজাপুর মহাসড়কের শুক্তাগড় ইউনিয়নের মোল্লারহাট বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মতিয়ার রহমান শুক্তাগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত সিরাজুল ইসলাম মল্লিক।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে মোল্লারহাট বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন মতিয়ার রহমান। এ সময় পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ইমাদ পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে রাজাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক এবং চালক শামসুল হক (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

    রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটি আটক ও চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ,আর

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দু’জন হলেন—উপজেলা সদরের জালিয়াবাড়ি এলাকার মরহুম বাবুল হাওলাদারের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেল এবং দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকার মরহুম আব্দুল শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে মো: কামাল হোসেন নয়ন (৩৩)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাসেল ও নয়নকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।

    রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রেফতার দু’জনকে বুধবার সকালে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, আইন শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িত থাকায় রাজাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: জুবায়ের আল হাসান রাসেলকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ,আর

  • বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ সংঘর্ষে শিশু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মিফতাহুল জান্নাত রাফা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারসংলগ্ন বৌদ্ধেরপোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিফতাহুল জান্নাত রাফার মা ফেরদৌস আরা মুন্নি মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে শিশুটি তার বাবা-মায়ের সাথে যাচ্ছিল, এমন সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু রাফার মৃত্যু হয় এবং তার বাবা গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আস্রাফ আলী বলেন, ‘মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষে রাফা নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। তার মা-বাবাও আহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বরগুনায় স্কুলে গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

    অসুস্থদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থীকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

    স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ক্লাস চলার সময় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির আরো ১৯ শিক্ষার্থীর মাঝে একই ধরনের শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

    বরগুনা লাকুরতলা সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন জানান, ‘ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। স্বজনেরা উপস্থিত হয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থীকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হয়।’

    অন্যদিকে, বাকি শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন।

    এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, ‘শ্বাসকষ্টের লক্ষণ নিয়ে আসা ৯ শিক্ষার্থীকেই চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তারা সকলেই মূলত গণ-হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমানে ভর্তি থাকা সকল শিক্ষার্থীই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।’ এ,আর

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • পিতা হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৬ বছর পর রায় ঘোষণা

    পিতা হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৬ বছর পর রায় ঘোষণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালে পিতাকে হত্যার দায়ে পুত্রকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    একই মামলায় অপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে।

    মামলার বাদী নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অপর পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন। তাদের মা দীর্ঘদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। তার (শহিদ) মেঝ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর ঘর সংসার করে। পরবর্তীতে পুনরায় সে (পলাশ) পরিবারের সকলের অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাঁধা প্রদান করেন। এনিয়ে বাবা আলী আকবরের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত ছিলো পলাশ। এরইমধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোন প্রকার ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাশ বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়।

    মামলার বাদি বলেন, ওই মামলা দায়েরের জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযুক্ত করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে সে (পলাশ) মরিয়া হয়ে ওঠে। এনিয়ে ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর তাদের পিতার সাথে পলাশের তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়।

    ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরেরদিন (৩ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পার্শ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখমুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দেখে তাদের (শহিদ) বাড়িতে খবর দেয়।

    পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তার (আলী আকবর) মৃত্যু হয়।

    চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন। এ,আর

  • বরিশালে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

    বরিশালে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জে একটি ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলে রিফাতের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আমেনা হিজলা উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি নগরীর রোকেয়া আজিম সড়কের একটি ভবনের দোতলার ফ্ল্যাটে প্রায় এক বছর ধরে একা ভাড়া থাকতেন।

    কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, আমেনার বড় ছেলে রিফাত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং কর্মসূত্রে রাজধানীতে থাকেন। ছোট ছেলে রিয়াদ থাকেন হিজলার গ্রামের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙে খাটের ওপর আমেনার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ ফুলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

    ভবন মালিক রিনা বেগম জানান, আমেনা প্রায় এক বছর আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। তাঁর দুই ছেলে মাঝে মাঝে মায়ের কাছে আসতেন। ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর আমেনার বড় ছেলেকে খবর দেওয়া হয়।

    পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তানিয়া জানান, মঙ্গলবার সর্বশেষ আমেনাকে দেখেছেন তিনি। এরপর ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা দেখে ভেবেছিলেন, তিনি কোথাও বেড়াতে গেছেন। বুধবার বিকেল থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, বড় ছেলের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তালাবদ্ধ অবস্থায় ফ্ল্যাটটি পাওয়া যায়। পরে ভেতর থেকে কাপড় দিয়ে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। এ,আর

  • বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের বাকেরগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হওয়া দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে কদমতলী থানার আওতাধীন শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পরে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো: আদিল হোসেনের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। উপ-পরিদর্শক নাজমুল মোল্লা ও সবিতা রানীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

    ওসি আদিল বলেন, ‘দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ এ,আর

  • গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    গলাচিপায় ১৩৫ লিটার চোলাই মদসহ বাবা-ছেলে আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুকুর পাড়ে লুকিয়ে রাখা ড্রাম ভর্তি ১৩৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ বাবা-ছেলেকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামর্দ্দন এলাকা থেকে এই মদ উদ্ধার করা হয়।

    আটকরা হলেন মো: আল আমিন মীর (৫০) ও তার ছেলে মো: রাব্বি মীর (৩০)। এ সময় রাব্বি মীরের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলে গোপনে দেশীয় মদ তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন। সোমবার স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে মাদক থাকার সন্দেহে তল্লাশি করলে একপর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশে মাটির নিচে ড্রাম দেখতে পান। পরে ড্রামের ভেতর বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গলাচিপা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবা-ছেলে নিজেরাই কাঁচামাল সংগ্রহ করে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় চোলাই মদ তৈরি করে আসার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, চোলাই মদসহ আটক করা বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এরকম মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ১৭টি কারখানার মধ্যে ৭টি চালু, ঝালকাঠির লবণ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

    ১৭টি কারখানার মধ্যে ৭টি চালু, ঝালকাঠির লবণ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাণিজ্যিক নদীবন্দর হিসেবে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাতি অর্জন করেছিল প্রাচীনতম শতবর্ষী শহর ঝালকাঠি। যার মূল কারণ ছিল লবণ শিল্প। কিন্তু একের পর এক লবণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই শিল্পটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

    লবণ শিল্পের প্রসারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির পরিচিতি ছিল দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। আধুনিক প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদনকারী অন্য কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে না পারায় সেই পরিচিতিতে ভাটা পড়েছে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এখনো ঝালকাঠির লবণের মিলগুলো থেকে উৎপাদন হয় বছরে ২০০ কোটি টাকার লবণ।

    নদীপথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্রিটিশ আমল থেকে বাসন্ডা নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠে একেক করে ১৭টি লবণ কারখানা। সেই সময় থেকে এই বাসন্ডা নদীর তীরে দেখা যেতো বড় বড় সাম্পান নৌকা আর ট্রলার। যা এখন আর চোখে পড়ে না। একটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র হওয়ায় এই জেলাকে বলা হতো দ্বিতীয় কলকাতা। আবার লবণ শিল্পের প্রসার ও ঐতিহ্যের কারণেই খ্যাতি অর্জন করেছিল ঝালকাঠি বন্দরের মর্যাদা।

    এখানকার লবণ শিল্প সনাতনী পদ্ধতিতে প্রস্তুত করার মাধ্যমে উৎপাদন হয়। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম থেকে লবণের কাঁচামাল এনে শোধন করে সনাতনী পদ্ধতিতে বেশ কয়েক ধাপে পানি মিশ্রিত লবণের দানাগুলো রাসিন মেশিনে শুকিয়ে ঝরঝরা করা হয়। তৈরি হয় বিভিন্ন শিল্পের ব্যবহার উপযোগী লবণ। পরে পরিমাণমত আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়। আশির দশকে লবণ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হলে পিছিয়ে পড়ে ঝালকাঠির লবণ শিল্প।

    জানা গেছে, ঝালকাঠিতে ১৭টি লবণ মিলের মধ্যে মিতালী সল্ট, নুর সল্ট, সুরভি সল্টসহ ১০টি লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শরীফ সল্ট, নিউ ঝালকাঠি সল্টসহ টিকে আছে সাতটি লবণ মিল।

    আধুনিক কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতা কঠিন হলেও এখানকার লবণ উৎপাদন আগের চেয়েও দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাজারের বড় বড় কোম্পানির লবণ যেখানে খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৫-৪০ টাকায়, সেখানে ঝালকাঠির লবণ বিক্রি হয় ২০-২২ টাকায়। দাম কম হওয়ায় এখানকার লবণ পার্শ্ববর্তী রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া থেকে পাইকাররা এসে নিয়ে যায়।

    ঝালকাঠি জেলার বিসিকের উপব্যবস্থাপক আল আমিন জানান, আমরা সার্বক্ষণিক লবণ শিল্পের মান ধরে রাখতে সব ধরনের সহায়তা করে আসছি। এই শিল্পকে টিকে রাখা এবং আধুনিকায়ন করার জন্য বিসিক সব সময়ই পাশে আছে এবং বিসিক সেটা করে থাকে।

    ঝালকাঠি জেলা লবণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জামাল শরীফ জানান, আধুনিক কোম্পানিগুলোর (অটোমিল) সাথে পাল্লা দিয়ে লবণ উৎপাদনে টিকে থাকতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় লবণ শিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো করার চিন্তা করছে মালিক সমিতি। মূলধন ও সরকারি সার্বিক সহযোগিতা পেলে, বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পেলে আবারো দেশীয় লবণ শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ,আর

  • বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বেঁধে রাখা বাবাকে শিশু মেয়ের খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাবার দুই হাত-পা বাঁধা। চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলফোনে ভিডিও করছেন। এর মধ্যেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে এগিয়ে যায় নয় বছরের তুবা আক্তার তারিন। হাতে রুটি ও চা। বাবার সামনে বসে চায়ে রুটি ভিজিয়ে এক লোকমা করে তার মুখে তুলে দেয়। কখনো খাবারে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে, কখনোবা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে যতো মানুষই থাকুক, সেই মুহূর্তে তুবার কাছে মানুষটি শুধু বাবা।

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার এ দৃশ্যের ভিডিও গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামনে আসে অনিক সরদারের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট, তার নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত, চুরির অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা। কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ছিল, এখন তার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা। কেউ খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, আবার কেউ কাজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শনিবার রাতে বামরাইল এলাকার একটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে অনিককে স্থানীয় লোকজন আটক করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। সে সময়ের ভিডিওতেই তুবাকে বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে দেখা যায়।

    তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। অনিকের পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগের সাথে তাদের পুরোনো জমি বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সে বিরোধের জেরেই অনিককে আটক ও মারধর করা হয়েছে।

    অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, আয়াত খন্দকার, খাইরুল ইসলাম, আরিফ, হানিফ, সাকিব ও সাহিদসহ কয়েকজনের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, ওই বিরোধের কারণেই চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তবে আয়াত খন্দকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, অনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল ও এবার তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, মেয়ের সামনে অনিককে মারধর করা হয়নি।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অনিকের বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগ ওঠার কথা বলেছেন। কেউ কেউ তাকে নেশাগ্রস্ত বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনিকের পরিবারও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    অনিকের স্ত্রী জানান, তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে নিয়মিত কোনো আয় নেই। অভাবের মধ্যেই সন্তানদের বড় করছেন তারা। এইচএসসি পাস করা জান্নাতুল ফিরদাউস প্রয়োজনে নিজেও কাজ করতে চান।

    পরিবারের ভাষ্য, অনিকের বাবা একসময় সচ্ছল ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের অনেক সম্পদ চলে যায়। একপর্যায়ে অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, তার এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে স্থানীয় একটি মাদকচক্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান অনিক। তিনি বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আয়-রোজগারের একটা পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’

    দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও কাজ করে বাঁচতে চান তিনি। সন্তানদের মানুষ করতে চান।

    ভাইরাল ভিডিওটি শুধু মানুষের আবেগ নাড়া দেয়নি, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি যাচাই করতে ওয়েব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরিশাল টিমকে জানানো হয়। পরে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা তুবার সাথে দেখা করেন।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুবা বাবার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছে। গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় অনিক একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চেয়েছেন। তাকে একটি অটোভ্যান কিনে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

    এ বিষয়ে উজিরপুর থানার সাথেও কথা বলা হয়েছে। এসআই (তদন্ত) ফারুক বিষয়টি দেখার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

    উজিরপুর থানার ওসি মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অনিকের স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    রোববার সকালে অনিকের পরিবারের খোঁজ নিতে বাড়িতে যান উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা। তিনি বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে প্রশাসন।’

    পরে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তুবার পরিবারের সাথে দেখা করেন বরিশাল জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এসআই মো: জসীম উদ্দীন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।

    সংশ্লিষ্টরা জানায়, অনিকের নেশায় জড়িয়ে পড়ার অতীত ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

    তুবার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অনিক যদি নেশা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে নিয়মিত কাজের সাথে যুক্ত হতে পারেন, তাহলে সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এ,আর

  • গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    গলাচিপায় চুরি করা ৫ মহিষসহ গ্রেফতার ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় চোর সন্দেহে পাঁচটি মহিষসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝাটিবুনিয়া বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাহমুদুর রহমান, গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খায়রুল ইসলাম সাগর, মো: শাহজাদা শিকদার, শাহীন সিকদার ও জাকির।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত স্থান থেকে চুরি করা পাঁচটি মহিষ নিয়ে ঝাটিবুনিয়া বাজারের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রেফতাররা। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের পথরোধ করে মহিষের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এ সময় তারা কোনো কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করেন। উদ্ধার করা পাঁচটি মহিষ বর্তমানে স্থানীয় শাকিল চৌকিদার ওরফে মিন্টু মিয়ার কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিষ স্থানীয় চৌকিদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

    গলাচিপা থানা ওসি মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ,আর

  • বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    বরিশাল বোর্ডের ৮ কলেজের একাদশে মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের অন্তত ১০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী মেলেনি। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের।

    শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় এগুলো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেওয়া শিক্ষকরাও একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। ফলে চরম শিক্ষকসংকটে থমকে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ওই আটটি কলেজের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একই দাঁড়িয়েছে।বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দাবি—শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই মূলত কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করা হয়। তবে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় হালনাগাদ তথ্য না থাকায়, এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমনই একটি প্রতিষ্ঠান বেতাগীর চান্দুখালী বাজারের বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে এসে একাদশে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করায় তাদের ওপর ভরসা করেই কলেজ শাখা চালু করা হয়েছিল। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ

    স্থাপন করেছেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

    কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশে দাতা সেজে বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কেবল পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মিললেও অন্য কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিচালনা ব্যয় বহন করতে না পেরে দাতা কেটে পড়লে চার বছর আগে এর কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেখান থেকে মাত্র দুইজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।একই উপজেলায় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ছয়জন পরীক্ষা দেন।স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তার কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

    পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি তিন মাস আগে যোগদান করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীশূন্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোর বিষয়ে সব তথ্য এখনও তার জানা নেই। সবেমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

  • চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে

    চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাজারের একটি খুঁটির সাথে বাঁধা বাবা। চারপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে ছুটে গেল ছোট্ট মেয়ে। এরপর দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিলো সে।

    বাবার প্রতি মেয়ের এই মমতার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের নজর কাড়ে। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবাকে দেখতে বাজারে আসে তার ছোট্ট মেয়ে। বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে একটি দোকান থেকে রুটি ও চা কিনে আনে। এরপর বাবার মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয়।

    ঘটনাটি দেখে স্থানীয় এক যুবক মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
    ভিডিওতে দেখা যায়, খুঁটির সাথে বাঁধা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েটি তাকে রুটি ও চা খাওয়াচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চুরির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে বাবাকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে মেয়েটি যেভাবে ছুটে এসে খাবার এনে খাইয়েছে, দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে অনিক সরদারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

    উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক বলেন, চুরির অভিযোগে একজনকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ,আর

  • ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে নবীনবরণ প্রোগ্রাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষ ও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ‘জ্ঞান, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী চেতনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তরুণদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থী, কলেজের শিক্ষক, সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    ক্যারিয়ারভিত্তিক আলোচনায় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক মো: সুমন সরকার ও সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান। এ,আর

  • কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    ভোরের আলো ফুটতেই জোয়ারের পানি সরে গেলে কুয়াকাটার বিভিন্ন অংশে চোখে পড়ে ঝিনুকের সমারোহ। বিশেষ করে তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতী, লেম্বুরচর, দোলনা পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য ঝিনুক ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও সারি সারি ঝিনুক, কোথাও আবার অগভীর পানির সঙ্গে মিশে থাকা সাদা খোলস– সব মিলিয়ে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

    সাগরের নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর দিগন্তজোড়া আকাশ– এমন অপার সৌন্দর্যের কারণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটক। এবার কুয়াকাটার চিরচেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাদা ঝিনুক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সৈকতের সাদা গালিচা বিছানো।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে সমুদ্র থেকে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস সৈকতের দিকে ভেসে আসে। জোয়ারের পানিতে এগুলোর তীরে পৌঁছানোর পর ভাটার সময় পানি সরে গেলে বালুচরে পড়ে থাকে। ফলে ভাটার সময় সৈকতে ঝিনুকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পর্যটকদের কেউ কেউ এগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যান।

    কুয়াকাটার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্থানীয় জেলেদের মতে, প্রতিবছর কোনো না কোনো সময়ে সৈকতে ঝিনুকের খোলস দেখা যায়। তবে সব বছর একই পরিমাণে দেখা যায় না। সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার-ভাটার প্রবাহ, স্রোত ও উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ওপর উপস্থিতি কম-বেশি হতে পারে।

    স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীত মৌসুমের শুরু পর্যন্ত কুয়াকাটার বিভিন্ন সৈকত এলাকায় ঝিনুক তুলনামূলক বেশি চোখে পড়তে পারে। তবে প্রতিবছর একই সময়ে বা একই পরিমাণে ঝিনুক পাওয়া যাবে– এমন নিশ্চয়তা নেই।

    বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত সৈকতে ঝিনুক তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ঝিনুক ও মোহনার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন হওয়া জরুরি। ঝিনুক সৈকতে এসে একটানা কয়েক মাস একই জায়গায় পড়ে থাকে না। জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলোর অবস্থান বদলে যায়। কোনো দিন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি ঝিনুক দেখা গেলেও পরদিন ঢেউ বা স্রোতের কারণে সেগুলো অন্যত্র সরে যেতে পারে। সৈকতে ঝিনুক দেখে অনেক পর্যটকের সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তাই স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের আহ্বান– ঝিনুক দেখুন, ছবি তুলুন, সৌন্দর্য উপভোগ করুন; কিন্তু কুড়িয়ে নিয়ে যাবেন না।

    উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটার (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটার সৈকতে ঝিনুকের এই প্রাকৃতিক সমারোহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব ঝিনুক সৈকতে এসে জমা হয়। পর্যটকদের কাছে এটি যেমন নান্দনিক সৌন্দর্যের নতুন আকর্ষণ, তেমনি উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশেরও একটি অংশ।

    ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা খোলস সমুদ্রে বসবাসকারী ঝিনুক ও অন্যান্য মোলাস্কের অবশিষ্টাংশ। ঝিনুক মারা যাওয়ার পর তার খোলস সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকে। পরে ঢেউ, জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতের টানে এসব ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে চলে আসে এবং ভাটার সময় পড়ে থাকে।

  • মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    মাছ ধরার ট্রলারে ৭ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি-পাঞ্জাবি, আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে আনা অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    আটকরা হলেন, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইশদিয়া এলাকার সোহাগ সরদার (৩২), একই উপজেলার মৌডুবি এলাকার সাগর হাওলাদার (৩৮), কুয়াকাটার মহিপুর এলাকার মঞ্জু মোল্লা (৩২), কলাপাড়া উপজেলার খলিলপুর এলাকার রেজাউল গাজী (৩৭) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নবানখালী এলাকার বিল্লাল হাওলাদার (৪৫)।

    কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা বুধবার রাত ২টার দিকে পাথারঘাটার কাকচিরা ইউনিয়নের বিষখালী নদী সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের সদস্যরা একটি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মাছ ধরার ট্রলার ও কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১৩ হাজার ৫০৭টি শাড়ি ও ১ হাজার ৪৬৬টি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

    পরবর্তীতে উদ্ধার করা শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত ট্রলার এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে জব্দসহ জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়ে লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা সকল আলামত ও আটক করা চোরাকারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    উজিরপুরে নামাজের পাশাপাশি মসজিদ দেখতে ছুটছেন নানা ধর্মের মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কেউ এসেছেন বরগুনা থেকে, কেউ দিনাজপুর থেকে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে। তাদের মধ্যে মুসলিম যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষও। কেউ এসেছেন নামাজ আদায় করতে, আবার কেউ এসেছেন শুধু মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্য ও মনোরম পরিবেশ দেখতে। বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রতিদিনই দেখা মেলে এমন বৈচিত্র্যময় দর্শনার্থীর।

    ১৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত মসজিদটি প্রায় দুই দশক ধরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও রয়েছে।

    গুঠিয়ার চেংগুটিয়া এলাকায় অবস্থিত বায়তুল আমান জামে মসজিদে একসাথে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান। তবে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

    মসজিদটিতে রয়েছে ২০টি গম্বুজ। মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, সিরামিক ও রঙিন কাচের নকশায় সাজানো হয়েছে এর বিভিন্ন অংশ। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আর-রহমানসহ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরা। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোকসজ্জায় মসজিদটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়।

    বরগুনা থেকে পরিবার নিয়ে মসজিদ দেখতে আসা সাবিত মাহমুদ জানান, বায়তুল আমান মসজিদের স্থাপত্য, নকশা ও চারপাশের পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে মসজিদটির বিভিন্ন অংশ দেখেছেন তারা। এতো সুন্দর একটি স্থাপনা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভালো লেগেছে।

    দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ধীরেন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও সাজসজ্জা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও স্থাপত্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

    মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি এতিমখানাও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সেখানে মক্কা-মদিনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কাবা শরিফ, আরাফাতের ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান ও খলিফাদের কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজ অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলে নির্মাণকাজ। ২০০৬ সালে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

    মসজিদটির তদারকির সাথে যুক্ত হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মসজিদটির দেখভালের সাথে যুক্ত আছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বায়তুল আমান মসজিদ দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও রয়েছেন। মসজিদের স্থাপত্য ও পরিবেশ দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

    মসজিদকে ঘিরে গুঠিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও বায়তুল আমানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

    উজিরপুরের ইউএনও মো: আলী সুজা বলেন, ‘গুঠিয়ার বায়তুল আমান মসজিদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। এর নান্দনিক স্থাপত্য দেখতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসছেন।’

    নামাজের পাশাপাশি স্থাপত্যের টানেও এখানে আসছেন মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা এসব দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে গুঠিয়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদ এখন ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি মানুষের আগ্রহের একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ,আর

  • দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন, প্রকাশ্যে ধ্বংস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ও বর্তমানে অযোগ্য হয়ে পড়া বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী কন্ডেমেশন বোর্ডের মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করে ধ্বংস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে কন্ডেমেশন বোর্ড এসব সামগ্রী পর্যালোচনা শেষে অকেজো ঘোষণা করে এবং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    ধ্বংস করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিছানার চাদর, মশারি, কম্বল, বালিশ, মেট্রেস, পর্দা এবং ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার।

    সিভিল সার্জন, পটুয়াখালীর অনুমতি ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: জি এম এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া সামগ্রী অপসারণের অংশ হিসেবে এ কন্ডেমেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ,আর

  • পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ চাজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার সংলগ্ন ধলু গাজী মোড় এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০), একই ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার শিল্পি রাণী (৪০), তার মেয়ে বিথি রাণী (২২) ও গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৌবাজার এলাকার চায়ের দোকানী শিল্পি রাণী তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে বিথি রাণীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শনিবার বিকেলে বৌবাজার থেকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে পটুয়াখালী যান।

    রাতে ডাক্তার দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বশাক বাজার এলাকায় পৌঁছালে বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস-এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় গাড়ি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর ইমরান ট্রাভেলসের গাড়িটি পটুয়াখালী থানা পুলিশ আটক করেছে।

    গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার স্থান পটুয়াখালী সদর থানায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা নেবে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালেক বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

    বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মালেক মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

  • কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    কুয়াকাটায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে আবারও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকা হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্তও নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

    অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে ওই স্থানেই দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার স্বার্থে পাউবোর ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে গড়ে ওঠা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন এবং বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়।

  • কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    কাউখালীতে মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরে কাউখালীতে গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী মহাসড়কের উপজেলার কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের উপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে থাকা টিনশেড ভবনসহ পাঁচটি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস ও পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আল আমিনের উপস্থিতিতে সড়ক বিভাগ বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

    ওই স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সওজের পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় আদালতের নির্দেশনায় এবং জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    ডেপুটি কালেক্টর মো: রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, জনস্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্থাপনাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মরহুম সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

    বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাখাওয়াত হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্ত্রীকে আটক ও পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

  • মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে মুলাদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে মো. আমিনুল খান (৩৫), একই এলাকার মৃত ইসমাইল খানের ছেলে আব্দুস সালাম খান (৪৮) এবং মুলাদী পৌরসভার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের দেলোয়ার দর্জির ছেলে সজল দর্জিকে (২৮) আটক করা হয়।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ পাঠানকে (২০) আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সালাম পাঠানের ছেলে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ইয়াবাসহ আটক চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    মাদকসেবী ও কারবারিদের নির্মূল করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া দুটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিনব প্রতিবাদ করা হয়।

    সড়কের গর্ত ও কাদায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

    এতে সড়ক দুটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সড়ক দুটি সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রোববার সকালে কাদাপানি ও খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানোর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেছেন।

    স্থানীয় পথচারী মো. সামসুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে পৌরসভার এ সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সড়কের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

    শৌলকর সড়কের সংস্কারের বিষয়ে বাটাজোর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

    অন্যদিকে, পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিষয়ে গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, ‘জনগুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

    পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ’

    স্বেচ্ছাচারিতা, কোর্সে নাম থাকলেও নিজে ক্লাস না নেওয়া, পরীক্ষা না নিয়ে পছন্দ অনুযায়ী নম্বর দেওয়াসহ নানা অভিযোগে হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন তাঁরা বিক্ষোভ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত ১০টার দিকে হাফিজ আশরাফুল হক পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে উঠে যান।

    আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে হাফিজ আশরাফুল হককে দিয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তাঁকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আমরা যে দাবি করেছিলাম, তিনি কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবেন না, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে। তাঁকে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে তাঁকে অপসারণ করা না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টেকসই ও নিরাপত্তার জন্য সারাবিশ্বেই আইফোন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সেই বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কিনেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।

    অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।

    সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক

    মারুফ জানায়, ‘তিনি আইফোন-১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের ব্যবহৃত ফোনটি একই এলাকার ইমরান নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কেনেছেন। ফোন কেনার পর অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা তিনি নিজের দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করে ফেলেছেন।’

    আলোচিত দেড় বছরের শিশু মুসার সুরক্ষার এগিয়ে এলেন ইউএনও

    এদিকে সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো চরম অনৈতিক কাজ করলেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নতুন আইফোন হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

    এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।

    ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।

    এ ঘটনার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান। শিশু মুসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া ও নাঙ্গলী এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

    অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জেলেসহ সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

    মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

  • দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
    আজ শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটটি বেছে নেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক ও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। দ্রুত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির নলছিটিতে অটোরিকশার চার্জিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সজল চন্দ্র দেবনাথ (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাহসিন (৯) নামে আরও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেওপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওপাশা গ্রামের একটি অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেওপাশা গ্রামের বাবুল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সজল চন্দ্র দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপর আহত শিশু তাহসিনের (৯) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।

    নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • লাল শাপলা দেখতে পর্যটকের ঢল, নৌভাড়ায় ভোগান্তি

    লাল শাপলা দেখতে পর্যটকের ঢল, নৌভাড়ায় ভোগান্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    বরিশালের উজিরপুরের সাতলা-হারতার বিস্তীর্ণ বিল ছেয়ে গেছে লাল, সাদা আর নীল শাপলায়। ভোরের আলো ফুটতেই শাপলা রাজ্যে লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট নৌকায় চড়ে বিলের বুক ঘুরে দেখছেন শাপলার সৌন্দর্য, তুলছেন ছবি। তবে অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায়, নির্দিষ্ট হারের অভাব এবং পর্যাপ্ত পর্যটন বান্ধব সুযোগ-সুবিধার অভাবে নারী ও শিশুরা বেশ বিপাকে পড়ছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই সাতলার শাপলার বিলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে আবার কেউ দলবদ্ধভাবে নৌকায় চড়ে বিলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখছেন। নৌকার চারপাশে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও নীল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাতলার বিলগুলো শাপলায় ভরে ওঠে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল হলেই সাতলা এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। সরকারি ছুটির দিনে ভিড় আরো বেড়ে যায়। বিলের পানিতে ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা।

    তবে পর্যটকদের বড় অভিযোগ নৌকা ভাড়া নিয়ে। দর্শনার্থীদের দাবি, এক ঘণ্টার জন্য নৌকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকা। এতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেকেই বাড়তি খরচের কারণে বিপাকে পড়ছেন। নৌকা ভাড়া নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক হার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    শাপলার সৌন্দর্য দেখতে আসা ব্যবসায়ী মিঠু হাওলাদার বলেন, ‘লাল নীল আর সাদা শাপলায় পুরো এলাকা নয়নাভিরাম হয়ে উঠেছে। কিন্তু এক ঘণ্টার জন্য দুই হাজার টাকা নৌকা ভাড়া নেয়ায় আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।’

    দর্শনার্থী দুলাল মৃধা বলেন, ‘বরিশালে এত সুন্দর শাপলার বিল আছে, এখানে না এলে তা বুঝতে পারতাম না। নৌকা ভাড়া কমানো হলে আরো বেশি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।’

    পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আনিকা ইসলাম বলেন, ‘শাপলার অসাধারণ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। চারদিকে শাপলা আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে।’

    শুধু নৌকা ভাড়াই নয়, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আসা পরিবারগুলোকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। পাশাপাশি মানসম্মত খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

    ব্যবসায়ী কামাল তালুকদার বলেন, ‘শাপলার বিল দেখতে এসে খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু পরিবারের নারীদের নিয়ে এসে ওয়াশরুম, টয়লেট বা বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

    দর্শনার্থী ব্যাংকার শারমিন জাহান বলেন, ‘শাপলার বিলকে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে।’

    বরিশাল শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরের সাতলা বিল বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির অনন্য রূপ ধারণ করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে শাপলা ফুটে ওঠে। ভোরের দিকে ফুলগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকে; বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেক শাপলা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোরেই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।

    স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় সাতলা এলাকায় স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কেউ নৌকা চালাচ্ছেন, কেউ খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছেন। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে এই সুযোগ আরো বাড়বে।

    উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘সাতলা-হারতার শাপলার বিল পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। শাপলার বিলকে আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে সাতলা লাল শাপলা পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। এতে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে।’

    নৌকা ভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হবে।’

    পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে হলে শুধু সৌন্দর্যনির্ভর পর্যটন নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। নৌকা ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ নৌযান, পর্যাপ্ত টয়লেট ও ওয়াশরুম, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাতলা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

  • তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার তালতলীতে দেশীয় তৈরি একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম গাবতলী গ্রামের লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গাবতলী গ্রামের রিয়াজ কাজী তার বাসা লিমন সিকদারের কাছে ভাড়া দেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ওই বাসায় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গোপনে এসে অবস্থান নেন। গত তিন দিন ধরে তারা ছোটবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের চলাফেরা ও কথাবার্তা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে বুধবার দুপুরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা লিমন সিকদারের ভাড়া বাসায় যান।

    এ সময় বাসার ভেতরে থাকা জিহাদ খান পিস্তল উঁচিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা আরো লোকজন জড়ো করে ধাওয়া দিয়ে জিহাদ খান (৩৫), হৃদয় মোল্লা (২৫), অনিক মজুমদার (২৫), লিমন সিকদার (২৮) ও জামাল মল্লিককে (২৭) আটক করেন।

    পরে আটক ব্যক্তিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিহাদ খান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার কাঁঠালতলী গ্রামের আলম খানের ছেলে। হৃদয় মোল্লা বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো: মোকলেচ মোল্লার ছেলে ও জামাল মল্লিক একই গ্রামের শাহ আলম মল্লিকের ছেলে। অপরদিকে লিমন সিকদার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন সিকদারের ছেলে ও অনিক মজুমদার একই গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে।

    তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

  • রাজাপুরে ভবন নির্মাণে সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগ

    রাজাপুরে ভবন নির্মাণে সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খালের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    বুধবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা সদরের কাঁচাবাজার-সংলগ্ন ব্রিজের উত্তর পাশে ভবন নির্মাণ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

    মঠবাড়ি ইউনিয়নের মরহুম মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো: আবুল কালাম আজাদ ওই ভবন নির্মাণ করছেন বলে জানা যায়। তিনি বর্তমানে বাগড়ি মৃধা বাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় প্রশাসন জমি পরিমাপ করে ভবনের দক্ষিণ পাশের একটি অংশ সরকারি জায়গায় পড়েছে বলে চিহ্নিত করে। পরে ওই অংশের ব্যালকনি কেটে ফেলা এবং সরকারি জায়গা ছেড়ে দিতে ছাদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়।

    তবে, পরবর্তী সময়ে আবারো সরকারি খালের জায়গায় ব্যালকনি সম্প্রসারণ, মেঝে ঢালাই, ব্রিজের সাথে সিঁড়ি নির্মাণ ও বেড়া দেয়ার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি কেটে দেয়া ব্যালকনির রড রাতের আঁধারে ওয়েল্ডিং করে জোড়া লাগিয়ে পুনরায় ঢালাই করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

    তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি যে পরিমাণ জায়গা কিনেছি, তার চেয়েও কম জায়গা ভোগদখলে আছি। চলাচলের জন্য সরকারি জায়গায় ইট সলিং করেছি এবং ওঠানামার জন্য সিঁড়ি দিয়েছি।’

    রাজাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শামীম রেজা সজিব বলেন, ‘শীঘ্রই সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গাটি পরিমাপ করা হবে। সরকারি খালের জমির মধ্যে চলে আসার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’