ক্যাটাগরি বরিশাল বিভাগ

  • বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বরিশালে স্ত্রীর হাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মরহুম সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

    বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাখাওয়াত হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতের পলাতক স্ত্রীকে আটক ও পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

  • মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    মুলাদীতে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবক গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের মুলাদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে মুলাদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার সিনেমা হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে মো. আমিনুল খান (৩৫), একই এলাকার মৃত ইসমাইল খানের ছেলে আব্দুস সালাম খান (৪৮) এবং মুলাদী পৌরসভার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের দেলোয়ার দর্জির ছেলে সজল দর্জিকে (২৮) আটক করা হয়।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের তিনজনের কাছ থেকে মোট ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ পাঠানকে (২০) আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সালাম পাঠানের ছেলে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, ইয়াবাসহ আটক চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    মাদকসেবী ও কারবারিদের নির্মূল করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    সড়ক যেন ধানের ক্ষেত! গর্তে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া দুটি সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অভিনব প্রতিবাদ করা হয়।

    সড়কের গর্ত ও কাদায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সোয়া কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

    এতে সড়ক দুটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সড়ক দুটি সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই রোববার সকালে কাদাপানি ও খানাখন্দে ভরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানোর মতো অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেছেন।

    স্থানীয় পথচারী মো. সামসুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে পৌরসভার এ সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সড়কের সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

    শৌলকর সড়কের সংস্কারের বিষয়ে বাটাজোর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

    অন্যদিকে, পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিষয়ে গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, ‘জনগুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

    পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ’

    স্বেচ্ছাচারিতা, কোর্সে নাম থাকলেও নিজে ক্লাস না নেওয়া, পরীক্ষা না নিয়ে পছন্দ অনুযায়ী নম্বর দেওয়াসহ নানা অভিযোগে হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন তাঁরা বিক্ষোভ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত ১০টার দিকে হাফিজ আশরাফুল হক পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে উঠে যান।

    আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে হাফিজ আশরাফুল হককে দিয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তাঁকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আমরা যে দাবি করেছিলাম, তিনি কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবেন না, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে। তাঁকে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে তাঁকে অপসারণ করা না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।