ক্যাটাগরি মৌলভীবাজার

Moulvibazar district

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত অবস্থায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

    এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় ভারতীয় নাগরিক বলাই দাসকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫ শত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

  • কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আউটার সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর  লাশ উদ্ধার

    কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মাসুক মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মিন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদীর বালু চরের পাশ থেকে লাশটির উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কৃষক মাসুক মিয়া মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি গ্রামের মরহুম আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বলাই দাশ ও মাসুক মিয়া ধলাই নদী পার হওয়ার সময় দু’জনই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যান। কিছুক্ষণ ভাসার পর বলাই দাশ তীরে ভিড়তে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন মাসুক মিয়া। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সন্ধান করেন। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটনীকোণা এলাকায় ধলাই নদীর চরের পাশে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশটি মাসুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

    কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের দিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চার দিন পর তার লাশ ভেসে উঠেছে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, আমরা সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।

    এদিকে মাসুক মিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দু’টি চা বাগানের পুকুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৯ মে) সকালে ও বিকেলে ওই দুই লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বিকেলে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির একটি পুকুর থেকে মো: আবেদ আলী (৫৮) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পূর্ব নওয়াগাও এলাকার মরহুম কমরউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কৃষক আবেদ আলী বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

    অন্যদিকে, একইদিন সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজারার বাড়ির পুকুর থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) নামে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হোসেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মরহুম শরবত আলীর ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পুকুরে এক ব্যক্তির পা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে জানালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দু’টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুসকুড়ি চা বাগানের পুকুর থেকে এক কৃষক এবং ভাড়াউড়া চা-বাগানের পুকুর থেকে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ওসি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।