মৌলভীবাজার

Moulvibazar district

  • কুলাউড়ায় সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর  করুণ মৃত্যু

    কুলাউড়ায় সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর করুণ মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিষাক্ত সাপের দংশনে সুনিয়া আক্তার (১৬) নামে এক মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সুনিয়া আক্তার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের কুদ্দুছ মিয়া ড্রাইভারের দ্বিতীয় মেয়ে। সে চৌধুরী বাজার জিএস কুতুবশাহ আলিম মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুনিয়ার দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। আগামী রোববার তার শেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে সামনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সুনিয়াকে বিষাক্ত সাপে দংশন করে। পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো: আনু মিয়া সাপের দংশনে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ,আর

  • কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    কার্পাস তুলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

    দেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মহাসড়কে নতুন এক মাইলফলক যোগ হতে চলেছে। সিলেট অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে কার্পাস তুলা চাষ।

    চা ও লেবুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষামূলক চাষেই মিলেছে তাক লাগানো বাম্পার ফলন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিবিড় পরিচর্যা ও উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই অর্জনে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার, যা গোটা অঞ্চলে কৃষিবিপ্লবের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    শ্রীমঙ্গলে প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য :

    উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সাইটুলা গ্রামের উদীয়মান কৃষক তাপস কুমার কুর্মী (৪০) চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রায় সাড়ে চার কেয়ার (প্রায় ১৫ শতক প্রতি কেয়ার) জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের ‘সিবি হাইব্রিড-১’ তুলার বীজ রোপণ করেন। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেতজুড়ে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা গোলাপী ও সাদা রঙের তুলাফুল ঝুলছে, যা দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে।

    কৃষক তাপস কুমার কুর্মী দৈনিক খোলা কাগজকে জানান, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ রোপণ ও পরিচর্যা পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাড়ে চার কেয়ার জমি থেকে প্রায় ৬০ মণ তুলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। প্রতি মণ তুলা ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার তুলা বিক্রির প্রত্যাশা তার।শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক হিসেবে আমরা প্রায় ৬০ মণ ফলন আশা করছি। তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে নতুন জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় সহযোগিতায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল উৎপাদনের লক্ষ্য :

    তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৫ লাখ বেল তুলার চাহিদা রয়েছে, যার বিপরীতে উৎপাদিত হয় মাত্র ২ লাখ বেল। বাকি তুলা আমদানিতে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

    এ বিষয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দীন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা যদি দেশে ১ কেজি তুলাও উৎপাদন করতে পারি, তবে প্রায় ৩ ডলার সাশ্রয় হয়। আমাদের ১৬ লাখ বেল তুলার মৌলিক চাহিদা পূরণে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলস কাজ করছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পতিত জমি থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উঁচু জমিগুলোকে টার্গেট করে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলে ছয়-সাতটি নতুন অফিস স্থাপন এবং চলতি বছরই সিলেটে একটি নিজস্ব ইউনিট অফিস চালু করা সম্ভব হবে।’

    দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সফল রূপায়ণ :

    এর আগে সিলেট বিভাগে তুলা চাষের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতায় তা থমকে গিয়েছিল। তবে এবার শ্রীমঙ্গলে সেই ধারণার সফল পতন ঘটেছে।তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা স্টোর কাম ফিল্ডম্যান ও শ্রীমঙ্গল এরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক দেব রায় খোলা কাগজকে বলেন, ‘শুরুতে অতিবৃষ্টির বাধাকে পেরিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ বিঘার মতো জমিতে সুস্থ-সবল তুলা দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকদের এই অদম্য আগ্রহ দেখে আমরা আগামীতে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘কৃষি বিভাগ ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে। শ্রীমঙ্গল তথা এই অঞ্চলের জন্য তুলা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল।’

    ‘সিবি হাইব্রিড-১’ চাষের মূল বৈশিষ্ট্য :

    উচ্চফলনশীল এই জাতের বিশুদ্ধতার হার ৯৮ শতাংশ এবং অঙ্কুরোদগম হার ৭০ শতাংশের বেশি। ১৭০-১৮০ দিন জীবনকালের প্রতিটি তুলার বলের ওজন ৫-৬ গ্রাম হয়ে থাকে।

    রোপণের উপযুক্ত সময় :

    ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট (শ্রাবণ মাস) বীজ বা চারা রোপণের শ্রেষ্ঠ সময়।

    মাটি ও পরিচর্যা :

    পানি জমে না এমন উঁচু দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি উপযোগী এবং প্রথম ৬০-৭০ দিন খেত আগাছামুক্ত রাখতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রণোদনা ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজারের উঁচু পতিত জমিতে কার্পাস তুলার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। এটি কেবল স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করবে এক নতুন শক্ত ভিত।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উঁচু জমিতে তুলা চাষের এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সিলেট অঞ্চলে তুলা চাষ বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • চ্যাটজিপিটি ও ইউটিউবে প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষে সাড়া

    চ্যাটজিপিটি ও ইউটিউবে প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষে সাড়া

    পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটবেন, নাকি হাজারো তরুণের মতো বেকারত্বের অভিশাপ বইবেন?—এই চিন্তাকে পেছনে ফেলে নিজেদের পথ নিজেরাই বেছে নিয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার তিন তরুণ। চাকরির বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় দিন না গুনে, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২৭০ বর্গফুটের ছোট্ট ঘরে তারা শুরু করেছেন অয়েস্টার মাশরুমের চাষ।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের তিন বন্ধু—সাখাওয়াত হোসেন (২৫), এমদাদুল হক মিলন (২৪) ও মো. তানিম মিয়া (২৪) নিজেদের শ্রম ও সীমিত পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন এই স্বপ্নের ডেরা।

    জানা যায়, এমদাদুল হক মিলন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্য দুই সহযোদ্ধার মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন এবং মো. তানিম মিয়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।

    গরু-ছাগলের খামার থেকে মাশরুমের পথে :

    উদ্যোক্তারা জানান, শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল একটি গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলার। কিন্তু বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তেমন খামার করতে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন—যা জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

    পরবর্তী তাদের এক শিক্ষকের পরামর্শে কম খরচে ও সীমিত জায়গায় শুরু করার মতো উদ্যোগ হিসেবে তারা মাশরুম চাষ বেছে নেন। মাশরুম চাষের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও তারা দমে যাননি। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ইউটিউব, চ্যাটজিপিটি ও গুগলে গবেষণা করে চাষাবাদের আদ্যোপান্ত শিখে নেন তারা।

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন :

    চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে টিনের ঘরে মাশরুম চাষ শুরু করেন তারা। শ্রীমঙ্গলের উষ্ণ আবহাওয়ায় মাশরুমের সঠিক পরিবেশ ধরে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ।

    স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ :

    তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ঘরে বসানো হয়েছে বায়ু নিষ্কাশন পাখা (এডজাস্ট ফ্যান) এবং স্বয়ংক্রিয় ওয়াটার স্প্রিংকলার (পানি ছিটানোর ব্যবস্থা)।

    অ্যাপসের ব্যবহার : পুরো ঘরের লাইটিং, ফ্যান ও ওয়াটার স্প্রিংকলার মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সফলতা ও বাজারজাতকরণ :

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের সেই টিনের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, দুই প্রান্তে দুই সারিতে ঝুলে রয়েছে সারি সারি মাশরুমের পলিব্যাগ। ইতোমধ্যেই প্রকল্প থেকে মাশরুম বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে মিলছে ব্যাপক সাড়াও।

    খামারের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রথমে মাশরুম চাষের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইচ্ছা ছিল গরু-ছাগলের খামার করার। কিন্তু মোটা অঙ্কের বাজেট না থাকায় সেই পথে এগোতে পারিনি। পরে এক স্যারের পরামর্শে স্বল্প বাজেটে মাশরুম চাষের কথা ভাবি। এরপর ইউটিউব, চ্যাটজিপিটি ও গুগলে অনুসন্ধান করে দেখি এটি বেশ লাভজনক এবং কম পুঁজিতেই সম্ভব। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমাদের মাশরুম বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে খামারটি বড় করে অন্যান্য বেকার তরুণদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার স্বপ্ন আছে আমাদের।’

    মো. তানিম মিয়া বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে আমাদের উৎপাদন একটু কম হচ্ছে। সরকারিভাবে যদি কুলিং সিস্টেমের সহযোগিতা পাই, তবে আমরা আরও বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়াতে পারব এবং বেকার যুবকদের কাজের ব্যবস্থা করতে পারব।’

    এলাকায় ব্যাপক সাড়া :

    তিন তরুণের এই নতুন উদ্যোগ দেখতে ও চাষের পদ্ধতি জানতে প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দারা খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জমির আলী বলেন–চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণদের এমন প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। এরা সফল হলে এলাকার আরও অনেকে উদ্বুদ্ধ হবে। এলাকার তরুণ হাসান বলেন–আমার জীবনে প্রথমবার মাশরুম চাষ দেখলাম। খুবই ভালো লেগেছে, আমিও এমন কিছু করার চেষ্টা করব।

    কৃষিবিদদের মতে, মাশরুম একটি ভোজ্য ছত্রাক যা সূর্যের আলো ছাড়াই ঘরের ভেতরের আবদ্ধ জায়গায় চাষ করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক স্পন (বীজ), পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক নিয়ন্ত্রণ।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘তরুণদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সঠিক কারিগরি জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ থাকলে মাশরুম চাষে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

  • পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    কয়েক বছর আগেও ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা যে ৮০ শতক জমি পড়ে ছিল অলসভাবে। এক ব্যবসায়ীর অদম্য চেষ্টায় আজ সেখানে ফলছে সোনালি সম্ভাবনা। পতিত জমিকে উর্বর শস্য খেতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫)। মূল ব্যবসার পাশাপাশি বিষমুক্ত এ সবজি বাগান এখন তার জীবনের গতি বদলে দেওয়া নির্ভরযোগ্য বাড়তি আয়ের পথ।

    ২০২২ সালে বাড়ির পাশে পারিবারিক ২০ শতক অনাবাদি জমি কাজে লাগানোর চিন্তা করেন মতিন। পাশের মালিকের আরও ৬০ শতক জমি পড়ে থাকতে দেখে উদ্যোগ বাড়ান তিনি। বছরে ২৫ হাজার টাকায় তা ইজারা নিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু হয় জমি প্রস্তুতের কাজ।

    প্রথমবার স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা মূলধনে চাষ করেন টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা। প্রথম মৌসুমেই মেলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়। এমন অভাবনীয় সাফল্য মতিনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সাল থেকে একক উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে মাঠে নামেন তিনি। দোকানের কেনাবেচা আর কৃষিকাজ দুই সামলানো কঠিন হলেও একাগ্রতা হারাননি মতিন। ভোররাতে ফজরের নামাজ শেষেই তিনি ছুটে যান খেতে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফিরে গোসল-নাশতা সেরে খোলেন দোকান। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন স্থায়ী শ্রমিকও নিয়োগ

    দিয়েছেন।

    মতিনের এ বাগান স্থানীয় একজনের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন এ উদ্যোক্তা। প্রথমবার সরাসরি মাটিতে সবজি চাষ করেছিলেন মতিন। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি সরে গিয়ে নানা সমস্যা হতো। তাই দ্বিতীয়বার চাষপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন। জমিতে ব্যবহার করছেন মাটির পুষ্টি রক্ষায় ‘মালচিং পেপার’, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ‘পলিশেড’ এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলনে ‘গ্রাফটিং’ (কলম) পদ্ধতি। রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া মূলত জৈব সার দিয়েই চাষ হচ্ছে সবজি। ফলে বাজারে তার বাগানের ফসলের চাহিদা অন্য যেকোনো খেতের চেয়ে অনেক বেশি।

    বর্তমানে ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ হাসছে মতিনের খেতে। মতিনের ভাষ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করেন। শীতকালে চাষ করেন লাউ, টমেটো ও আলু।বাজারদর ও সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আবদুল মতিন জানান, খেতের টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা এবং লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রির পর শীতের মুখ দেখার আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

    কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘জায়গাটা বেকার পড়ে আছিল, তাই কাজে লাগাইলাম। খেতের সবজিতে নিজেদের ঘরের চাহিদাতো মিটছেই, দুই ভাইয়ের পরিবারকেও দিচ্ছি।’

    তার ভাষ্যে, স্থানীয় কিছু পাইকার তার কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। আবার তার দোকানের সামনেও কিছু সবজি নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে অনেকে এক-দুই কেজি করে কিনে নেন। বাজারে নেওয়ার আগেই সবজি বিক্রি হয়ে যায়। ব্যবসার পাশাপাশি এটি তার বাড়তি আয়ের পথ হয়েছে।

    শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানও করেছেন মতিন। বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা লাগিয়েছেন। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি।

    গ্রীষ্মে শীতের সবজি মতিন জানান, জমিতে জৈব সারই বেশি ব্যবহার করেন। কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। টমেটো, লাউ ও শসা সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালে বাজারে এ সব সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণেই গ্রীষ্মকালীন চাষে এ সব সবজি রাখছেন। মতিনের এ অভূতপূর্ব সাফল্য নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগেরও।

    উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে গত ২৪ আগস্ট মতিনের বাগানেই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করা যায়-মতিন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুরো এলাকার জন্যই তিনি এখন অনুপ্রেরণা। অনাবাদি জমিতে বুনে দেওয়া সেই ছোট স্বপ্নটি আজ পুরো উপজেলার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপ নিয়েছে।

  • মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলার ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়ালের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর রেজাউল করিম নাঈমের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা। ধারালো ছুরির আঘাতে নাঈম গুরুতর আহত হন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা মিলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো: চেরাগ মিয়া ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

    পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজ বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মরহুম মো: ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো: নুরুল ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি, আব্দুল আজিজের ছেলে মো: সাইমন ইসলাম ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। সাজাপ্রাপ্ত নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

    খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো: রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দণ্ডপ্রাপ্ত মো: নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।

    এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি, উচ্চ আদালত এই সাজা বহাল রাখবেন। এ,আর

  • কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ মো: হাসান মিয়া (৩০) নামে এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর এলাকার জয়পাশা গ্রাম থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তাকে আটক করা হয়।

    হাসান বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে চলে যান।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ধৃত ডাকাতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ,আর

  • কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    জংলি বনবেগুনের শক্ত শিকড়ের সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর ডাল জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘গ্রাফটিং’ চারা। ব্লেডের নিখুঁত কাটে তৈরি এই চারা ঘিরে বদলে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি অর্থনীতির চিত্র। কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার, ময়মনসিংহ থেকে পটুয়াখালী—দেশের অন্তত ১০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে কমলগঞ্জের রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল টমেটোর চারার চাহিদা।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে কমলগঞ্জে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা ঘিরে মাত্র কয়েক মাসেই স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

    কমলগঞ্জের আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নার্সারিগুলোতে চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। সারি সারি চারার পাশে বসে শ্রমিকেরা ব্লেড দিয়ে বনবেগুনের গোড়া কেটে সেখানে জুড়ে দিচ্ছেন টমেটোর কাণ্ড।উদ্যোক্তারা জানান, বনবেগুনের বীজতলা তৈরি হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারা প্রস্তুত হতে ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর নির্দিষ্ট অংশ কেটে দুই ধরনের চারা জোড়া লাগিয়ে পলিথিন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়। পরে আরও ১০ থেকে ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যাকক্ষে রাখার পর এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। বর্তমানে প্রতিটি গ্রাফটিং চারা ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, সাধারণ টমেটো গাছ সামান্য বৃষ্টিতেই ঢলে পড়া কিংবা গোড়া পচে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে বনবেগুনের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় গ্রাফটিং করা টমেটো গাছে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম হয়।স্থানীয় কৃষক ও সফল চারা উৎপাদনকারী এম এ করিম বলেন, বনবেগুন টমেটোর একটি জংলি জাত। এর সঙ্গে টমেটোর চারা জোড়া দিলে গাছ সহজে মারা যায় না এবং ফলনও বেশি হয়। সাধারণ একটি গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি টমেটো পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা গাছে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চাহিদা বেশি থাকায় সিলেট, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও পটুয়াখালীসহ ৮-১০টি জেলা থেকে মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রিম বায়না আসে।

    গ্রাফটিং চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা জোড়া দিতে পারেন। এতে শ্রমিকদেরও ভালো আয় হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু কৃষকের মাঠে ফলন বাড়াচ্ছে না, ধীরে ধীরে এটি একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে। নার্সারিগুলোতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে শত শত নারী ও পুরুষের।

    কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করছেন অন্তত ৪৮০ জন কৃষক। কমলগঞ্জের চাষিদের উৎপাদিত ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এ খাত থেকে এক মৌসুমে গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষির জন্য বড় অর্জন।”

    স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, “কমলগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে গ্রাফটিং চারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সরকারি সহায়তা, মানসম্মত বীজ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এ খাত থেকে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।”

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার ননদ চামেলী আক্তারকে (২৫) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চামেলী আক্তার বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের মরহুম ইয়াছিন আলীর মেয়ে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মা রেনু বেগম বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জা-সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরো পাঁচজনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

    মামলা দায়েরের পর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বড়লেখা থানার এসআই শেখ কামরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

    পুলিশ জানায়, প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চামেলী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান চামেলী আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার সকালে তাকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়।

  • কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী বলেছেন, আধুনিক যুগে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমাদের জীবন যদি ঢেলে সাজাতে পারি আজকের এই যুগে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি সুনালি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলা সম্ভব। এই চেষ্টাই জামায়াতে ইসলামী বিগত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশে করছে। আমরা যদি কুরআন সুন্নাহ আলোকে জীবন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তাহলে সমাজের যে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা থাকবে না ।

    তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং কাগাবলা ইউনিয়নের দাওয়াতি সভায় প্রধান অতিথির রক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

    মঙ্গলবার রাতে কাগাবলা বাজারে ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সুমন আহমদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, উপজেলা কর্ম ও শুরা সদস্য দেওয়ান আশিক আল রশিদ চৌধুরী।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি অলিউর রহমান তালুকদার, আমতৈল ইউনিয়ন সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম, যুব বিভাগের ইউনিয়ন সভাপতি শরফ উদ্দীন।

    তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে একটি গণঅভ্যত্থান হয়েছিল। সেখানে যুবক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। সকলের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিলনা। তারা টাকা পয়সা চায়নি। তারা চেয়েছিল একটি পরিবর্তনশীল ও বৈষ্যমহীন নতুন বাংলাদেশ।

    দুভাগ্যভাবে আমরা লক্ষ্য করছি ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এদেশের জনগণ এ পরিবর্তনের জন্য ২টি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল। সবাই নিজ দায়িত্বে উৎসবমুখর পরিবেশ ভোট প্রয়োগ করেছিল কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে রিজাল্ট পরিবর্তন করতে শুরু করে। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ রাখার জন্য আমাদের আমীরে জামায়াত তা মেনে নিয়েছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার গঠন হয়ে জুলাইয়ের আক্ষাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করবে।

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    পিস্তল ও ইয়াবাসহ

    বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত অবস্থায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

    এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় ভারতীয় নাগরিক বলাই দাসকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫ শত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

  • কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আউটার সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর  লাশ উদ্ধার

    কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মাসুক মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মিন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদীর বালু চরের পাশ থেকে লাশটির উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কৃষক মাসুক মিয়া মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি গ্রামের মরহুম আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বলাই দাশ ও মাসুক মিয়া ধলাই নদী পার হওয়ার সময় দু’জনই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যান। কিছুক্ষণ ভাসার পর বলাই দাশ তীরে ভিড়তে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন মাসুক মিয়া। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সন্ধান করেন। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটনীকোণা এলাকায় ধলাই নদীর চরের পাশে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশটি মাসুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

    কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের দিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চার দিন পর তার লাশ ভেসে উঠেছে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, আমরা সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।

    এদিকে মাসুক মিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দু’টি চা বাগানের পুকুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৯ মে) সকালে ও বিকেলে ওই দুই লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বিকেলে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির একটি পুকুর থেকে মো: আবেদ আলী (৫৮) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পূর্ব নওয়াগাও এলাকার মরহুম কমরউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কৃষক আবেদ আলী বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

    অন্যদিকে, একইদিন সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজারার বাড়ির পুকুর থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) নামে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হোসেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মরহুম শরবত আলীর ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পুকুরে এক ব্যক্তির পা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে জানালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দু’টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুসকুড়ি চা বাগানের পুকুর থেকে এক কৃষক এবং ভাড়াউড়া চা-বাগানের পুকুর থেকে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ওসি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলো কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণ পাকা–কাঁচা সড়ক, উঁচু ফাঁকা জায়গা যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই রোদে ধান শুকানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ সড়কের ওপর, কেউ পলিথিন বা চটের চাটাইয়ে, আবার কেউ খলায় ধান মেলে দিয়েছেন। তবে ধান শুকাতে দিলেও কারও মনে স্বস্তি নেই।

    কৃষকেরা জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাঁদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। এতে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, বছরের খোরাকিও জুটবে না।

    মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। গতকাল বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

    একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, ‘খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা তপন দাস বলেন, ‘খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।’

    স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়। অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, ‘তার চেয়ে রুজি করতাম, ভালা থাকতাম। যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। অউদিনই এক রাইতে খেতর মধ্যে কোমরসমান পানি।’ এক নারী বলেন, ‘এলাকায় সুদ ছাড়া কেউ টাকা ধার দেয় না।’

    রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।’ সুমন দাস আধা পচা ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে স্তূপ করছিলেন, আর গান গাইছিলেন। তিনি বলেন, ‘আনন্দে নায় ভাই, মনের জ্বালায় গান গাইরাম। এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।’

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

  • কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল রক্ষা বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেয়।

    এ সময় পাহাড়ী ঢলে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলাসহ শতাধিক ফিশারি তলিয়ে যায়

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুরসহ ১৫ গ্রামের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

    ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রামের ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, কুলাউড়া ও জয়চণ্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছে।

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    শুক্রবার সকালে হাওরপারের বাড়িগুলো তখনো ঘুমিয়ে। হাওরপারের সেই স্থান থেকে পথের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাছের খামার। এখন বোরোখেত চাষের সময়। বিভিন্ন স্থানে বোরো ফসলের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। অনেক স্থানেই হালিচারার জমিকে মনে হয় সবুজ চাদরের মতো, যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে।

    একটি খেতে কয়েকজন কৃষক রোপণের জন্য হালি চারা উত্তোলন করছেন। কোথাও চারা রোপণ করছেন কৃষক। কিছু খেতে এরই মধ্যে চারা রোপণ শেষ হয়ে গেছে। ধূসর কুয়াশায় সেই খেতগুলো ডুবে আছে।

    একটি স্থানে মাছ ধরতে কয়েকজন সেচযন্ত্র লাগিয়ে ডোবার পানি শুকিয়ে নিচ্ছেন। পানি শুকানো হলে তাঁরা মাছ ধরবেন, চলছে সেই প্রস্তুতি। কেউ রাতের বেলা, নয়তো ভোরে হাওরের বিভিন্ন খাল-বিলে মাছ ধরে একা একা বাড়ি ফিরছেন।

    কেউ সেঁউতি (পানি সেচার বাঁশ-বেতের যন্ত্র), কাকরাইন (বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ রাখার পাত্র) কাঁধে ঝুলিয়ে হাওরের দিকে ছুটছেন। তাঁরা ‘খাইনজা (ছোট ছোট ডোবা)’ সেচ দিয়ে মাছ ধরবেন। নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করতে পারেন।

  • বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া আহত পোষা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসাচেষ্টার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পোষা হাতিটির নাম সুন্দরমালা। বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম হাতিটির মালিক।

    ঢাকার প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠান পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এটি মারা যায়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধার করার পর আহত হাতিটি ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল জানিয়ে রাকিবুল হক বলেন, প্রাণীটির দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। পেট ফোলা ছিল এবং পেছনের ডান পা নাড়াতে পারছিল না। পিঠে মেরুদণ্ডের মাঝবরাবর ক্ষত দেখা গেছে। এসব কারণে রক্তচাপ বেড়ে হাতিটির হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইমন ও রাকিব নামের দুজন মাহুত ছিলেন। ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে যায়।

    এরপর গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পেলোডার যন্ত্রের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে ডোবা থেকে টেনে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য এটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

  • মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আসছেন। এদিন তিনি শেরপুরের আইনপুর মাঠে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জনসভা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান এই অঞ্চলে আসছেন। এই সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মযজ্ঞ চলছে। বিএনপি আশা করছে, এ জনসভায় সারা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।

    জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য বুধবার রাতে আকাশপথে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।

    তারেক রহমান পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর এদিন বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

    সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-সিলেট সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এ সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় আইনপুর খেলার মাঠে দিনের দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে জনসভায় তাঁর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পরে

    তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, জেলার সাতটি উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও শেরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেবেন।

    জেলা বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সমাবেশের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রায় দিনই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা মাঠ ঘুরে দেখছেন

    জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এ জনসভা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজারের এই শেরপুর এলাকা সফর করেছেন।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম আজ সোমবার বলেন, ‘শেরপুরের আইনপুর মাঠে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই জনসভায় আমরা লক্ষাধিক লোকসমাবেশ আশা করছি। এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মাঠে কাজ চলছে। আমরা রেগুলার মাঠে যাচ্ছি, মিটিং করছি। জেলা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।’

  • পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    কৃষক পাখি মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ করছেন। এবার তিনি এক বিঘা পতিত জমি বর্গা নিয়ে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান করেন, যা থেকে ব্যাপক ফলন এসেছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ফলের আবাদ করেন।

    কুলগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ডাঁটাশাকের আবাদ করেছেন পাখি মিয়া। তাঁর এই সফলতায় আশপাশের অনেকেই এখন পতিত জমিতে কুলবাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।

    পাখি মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে। তিনি বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কুলবাগান করেন।

    গত রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ১ বিঘা জমিতে ২৩০টি আপেল ও বলসুন্দরী কুলগাছ, যেগুলোর সব গাছে কমবেশি ফলন এসেছে এবং ফলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কুলগাছের প্রতিটি সারির মাঝখানে ফাঁকা স্থানে ডাঁটাশাক লাগানো হয়েছে।

    পাখি মিয়া বলেন, ছয় মাস আগে যশোর থেকে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের কলমচারা কিনে এনে জমিতে লাগান এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন, এরপর ফলন আসে। সপ্তাহখানেক আগে পাইকারি বিক্রি শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কেজি বরই বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি দাম ৮০ টাকা। তাঁর আশা, অন্তত চার লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে, ফল আবাদে তাঁর খরচ পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফলে তিনি লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন।

    পাখি মিয়া বলেন, ‘আমার কিছু জমি আছে, কোনোটাই খালি ফালাই রাখছি না। লাউ, টমেটো, বেগুন ও শিমের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ আর বেগুন বিক্রি করছি, খরচ হয়ছে ২০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পর টমেটো আর শিম বিক্রি শুরু করব। মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি করে আল্লাহর রহমতে ভালোই সংসার চলছে।’

    কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন পাল বলেন, জুড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগে কেউ আপেল ও বলসুন্দরী কুলের চাষ করেননি। পাখি মিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং এ কাজে তাঁকে অনেক শ্রমও দিতে হয়েছে। হাসনাবাদ ও পাশের বাহাদুরপুর এলাকায় অনেক পতিত টিলাভূমি আছে। পাখি মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই পতিত টিলাভূমিতে বরইগাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাখি মিয়ার কুলবাগান পরিদর্শন করেন।