গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

মাটিতে রোপিত একটি চারাগাছ — প্রতীকী ছবি

প্রতিবেদন:

·

, , , , ,

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ দাদি ও বাবার কবরের পাশে তিনটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন, হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। একদিন গিয়ে দেখেন গাছগুলো নেই। কে বা কারা ফুলসমেত তুলে নিয়ে গেছে। হতাশ হন শামীম। কাউকে কিছু না বলে তিনি ভিন্নরকম প্রতিবাদের পথ বেছে নেন, তা হলো রাস্তার দুপাশে, সারা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ফুলগাছ রোপণ করবেন।নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৫শ বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে দেড় হাজার ফুলগাছ রোপণ করেছেন। দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলো পরিচর্যা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গ্রামজুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত চুরির ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু শামীম যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলগাছ রোপণ করছেন, তা সত্যিই বিরল। কয়েকমাস পর যখন এই গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুবাসে ভরে যাবে।

শামীম বলেন, আমি চোর খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। হয়তো চোরের বাড়িও আমার গাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় এসে গেছে। সে যদি আমার এই কাজ দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয় বরং পুরো উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করা। ভবিষ্যতে সদরপুরের প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু হক বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের যে কোনো নেতিবাচক ঘটনার এমন সুন্দর ও ইতিবাচক সমাধান তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

একই গ্রামের শামছু বলেন, রাস্তার পাশে ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে, খুবই ভালো উদ্যোগ। একসময় ফুলগুলো সুবাস ছড়াবে। পথচারী সৌন্দর্য উপভোগ করবে। সুবাসে মুগ্ধ হবে। শামীমের শ্রম সার্থক হবে। এ বিষয়ে সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, হাওলাদার বাড়ির শামীমের এ উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। উদ্যোগটি ভালো।

এ এম

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ