শিক্ষা ডেস্ক:
প্রক্টরের অপসারণ ও শাস্তি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠাসহ ৯ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।
জকসুর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যদি আন্দোলন প্রত্যাহার না করো, তাহলে সিনক্রিয়েট করে তোমাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’
এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুই জুলাইযোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জকসু আরো অভিযোগ করে, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও তা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জকসুর ৯ দফা দাবি হলো— প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া; বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা; ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা; শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করা এবং অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা।
স্মারকলিপির শেষাংশে জকসু জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
