১০০ বছর পর কানসাসে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত

প্রতিবেদন:

·

, ,

প্রায় ১০০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করে তিনি এ জয় পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হ্যামিল্টন ও মার্শালের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনের ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই কানসাসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য রয়েছে। সর্বশেষ ১৯৩২ সালে অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার প্রতিষ্ঠাতা হ্যামিল্টন নির্বাচনি প্রচারে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যান্য গ্রামীণ অঙ্গরাজ্যের মতো কানসাসেও ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষি ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার হ্যামিল্টন বলেন, ‘আমাদের সব সময় বলা হয়, রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কিন্তু এবার আমরা আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা করছি। আগামী দুই বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।’

অন্যদিকে মার্শাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পও তার পক্ষে প্রচার চালান।

প্রচারে মার্শাল ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্পের বরাদ্দ কমানোর পক্ষে ভোট দেওয়ায় তার এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পেশায় চিকিৎসক মার্শাল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ (এমএএইচএ) নীতির সমর্থক। এ নীতির সমালোচকদের দাবি, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। করোনাভাইরাস মহামারির সময় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

এছাড়া চিকিৎসক থাকাকালে সাবেক প্রায় ৭০০ রোগীর বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যয়ের বকেয়া আদায়ে মামলা করেছিলেন মার্শাল—নিউইয়র্ক টাইমসের এমন এক প্রতিবেদনের কারণে নির্বাচনি প্রচারে চাপে পড়েন তিনি। হ্যামিল্টনের প্রচারশিবির এ বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রায় ১১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা কানসাসের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন।