রিপাবলিকানদের আসনে বিজয়ী নাবিলা সৈয়দ

প্রতিবেদন:

·

, ,

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ। রিপাবলিকান প্রার্থী ডারবি হিলসকে হারিয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছেন তিনি।

শিকাগোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলি এলাকার এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নাবিলার এই জয় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইলিনয়ের পালাটাইন এলাকায়। তার পরিবারের শিকড় ভারতের হায়দরাবাদে। তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আগ্রহী নাবিলা ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

পড়াশোনা শেষে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে নাগরিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি উচ্চবিদ্যালয়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষক হিসেবে তরুণদের পরামর্শ দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি।

২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন নাবিলা। সে সময় তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ নারীদের একজন এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম মুসলিম প্রতিনিধিদের একজন।

প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, ভোটাধিকার, শিশুদের যত্ন ও শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করেছেন নাবিলা।

তার উদ্যোগে জেনেরিক ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, অঙ্গদাতাদের জন্য বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা এবং ১৬ বছর বয়সীদের আগাম ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ তৈরিসহ বেশ কয়েকটি আইন পাস হয়েছে। আইনসভায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা-সংক্রান্ত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এবার সিনেট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ডারবি হিলস। নির্বাচনে হিলসকে পরাজিত করে ২৬তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন নাবিলা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর অঙ্গরাজ্যের আইনসভার উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন তিনি।

নাবিলার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ইলিনয়ের মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করে স্থানীয় পর্যায় থেকে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে পৌঁছানো তার এই পথচলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অভিবাসী বংশোদ্ভূত নেতৃত্বের উপস্থিতিও তুলে ধরছে।