এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য ঘুরিয়ে বা নতুন পরিচয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে। এতে অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পায় দেশটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
হোয়াইট হাউজের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনের নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। এতে বলা হয়, চীনা পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্য মার্কিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হোয়াইট হাউজ জানায়, এ ধরনের পণ্যের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে পণ্য স্থানান্তরকে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ বলছেন অনেকে। সহজভাবে বললে, চীন থেকে কোনো পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে আগে অন্য একটি দেশে নেয়া হয়। পরে সে দেশ থেকে পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে পণ্যের উৎস বা উৎপাদনস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে চীনের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য ও উৎপাদন নীতি দপ্তর। দপ্তরটির প্রধান পিটার নাভারোর ভাষ্য, ‘২০১৮ সালে চীনের ওপর প্রথম শুল্ক আরোপের পর থেকেই বেইজিং অত্যন্ত জটিল পদ্ধতিতে এ ধরনের পণ্য স্থানান্তর করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পর এ প্রবণতা আরো বেড়েছে।’
নাভারোর দাবি, বিভিন্ন দেশের শুল্ক হারে বড় পার্থক্য তৈরি হওয়ায় পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। এতে চীনের পণ্য কম শুল্কের দেশে পাঠিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পাশাপাশি বেশি শুল্কের মুখে পড়া অন্য দেশগুলোও একই কৌশল অনুসরণ করতে পারে। নাভারো বিশেষভাবে ভারত ও ভিয়েতনামের কথা উল্লেখ করেছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর শুল্ক বাড়ালে তারাও একই ধরনের পণ্য স্থানান্তরের পথ বেছে নিতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মে মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। ফলে নতুন অভিযোগটি দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।
সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থের রফতানি নিয়ে উদ্বেগ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন এসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানি কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো পালন করছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নাভারো জানান, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন সংস্থা ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের গঠন ও প্রকৃতি আরো ভালোভাবে শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শুল্কের জন্য পণ্যের সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
