মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘ইরানি ছিল, ইরানি আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানিই থাকবে।’
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি নৌপথটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক এক্স (টুইটার) পোস্টে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া এই প্রণালিটি ‘কেবলমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ করা হবে’।
তিনি আরও লেখেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন যে ইরান পরাজিত হওয়ার পর তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। এ পর্যন্ত আপনারা যে কৌশলগত ও বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন—একবার অন্তত সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করুন।’
তবে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরবর্তীতে স্পষ্ট করেন যে ট্রাম্প মূলত রসিকতা করে ওই কথাটি বলেছিলেন।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং মার্কিন নৌঅবরোধ এমন এক ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ গড়ে তুলেছে যা ভেদ করার ক্ষমতা ইরানের নেই।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব-নিকাশ করছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এবার তারা আরও বড় ধরনের ভুল ধারণায় ভুগছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সি আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন, যার জবাবে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে পালটা হামলা চালায় ইরান।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
