এ সপ্তাহান্তে রাতের আকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণিমা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই চাঁদ কিছুটা ছোট ও কম উজ্জ্বল দেখাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলছেন ‘নীল ক্ষুদ্রচাঁদ’। একই সঙ্গে মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অবস্থান—এই দুই ঘটনার মিলেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ এই দৃশ্য।
‘নীল চাঁদ’ বলতে একই মাসে হওয়া দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বোঝানো হয়। আর ‘ক্ষুদ্রচাঁদ’ দেখা যায় তখন, যখন পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। এ কারণে চাঁদ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট ও ম্লান দেখায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক গণমাধ্যম সায়েন্স অ্যালার্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ মে বিশ্বসময়ের হিসাবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে এই পূর্ণিমা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। তখন চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬০ মাইল দূরে থাকবে। ফলে এটি সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ ছোট এবং প্রায় ১০ শতাংশ কম উজ্জ্বল দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নীল চাঁদ’ সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর দেখা যায়। কারণ চাঁদের এক পূর্ণ আবর্তন শেষ হতে প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা সময় লাগে, যা ক্যালেন্ডারের মাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
তবে নামের সঙ্গে ‘নীল’ শব্দ থাকলেও চাঁদ আসলে নীল রঙের হবে না। এটি সাধারণ পূর্ণিমার মতোই সাদা বা কিছুটা সোনালি-কমলা রঙের দেখা যাবে।
দক্ষিণ গোলার্ধ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দৃশ্য আরও সুন্দর দেখা যেতে পারে। সেখানে চাঁদকে বৃশ্চিক নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল লাল তারা ‘অ্যান্টারেস’-এর খুব কাছ দিয়ে যেতে দেখা যাবে। উত্তর গোলার্ধ থেকেও চাঁদকে ওই তারার কাছাকাছি দেখা সম্ভব হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, খালি চোখেই এই বিরল পূর্ণিমা দেখা যাবে। তবে দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠ আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
