যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

Replacement hero (Wikimedia, Public domain, SECWAR) — US-Iran ceasefire — diplomatic institutional

প্রতিবেদন:

·

, ,

এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দুই দেশ যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান এই সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হামলার মুখে পড়লেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই প্রণালি পার হয়েছে।

তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনায়াসেই ধ্বংস করেছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে সই না করলে আরো কঠোর হামলা চালানো হবে। তবে এত কিছুর পরেও যুদ্ধবিরতি এখনো ‘অক্ষত’ আছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে ৩০ দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে মতবিরোধই এই চুক্তির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ