যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দখলমুক্ত হলো লেবুতলার সেই সরকারি বাইপাস সড়ক

প্রতিবেদন:

·

, , ,

দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় অবৈধ দখলে থাকা যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের বীর নারায়ণপুরসহ চার গ্রামের সরকারি বাইপাস সড়কটি অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কটির দখল করা অংশ উদ্ধার করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশা দেখছেন লেবুতলা, বীর নারায়ণপুর, শুর্শনাদাহ ও ফুলবাড়ী গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ।
গত ১৫ আগস্ট সরকারি সড়কটি অবৈধ দখলে থাকার বিষয়ে দৈনিক নতুন সকালের বার্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সড়কটি পরিমাপ করা হয় এবং সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো হয়। গ্রাম পুলিশ এ সড়কের সীমানায় লাল ফ্ল্যাগ টানিয়ে চিহ্নিত করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সড়ক দখলমুক্ত করার কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বিভিন্ন সহযোগীতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি বাইপাস সড়কটি লেবুতলা, বীর নারায়ণপুর ও শুর্শনাদাহ গ্রামের মাঠের মধ্য দিয়ে বীর নারায়ণপুর ঈদগাহ হয়ে যশোর উপশহর-তৈলকূপ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে কয়েকজন ব্যক্তি দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও মাঝের অংশ বন্ধ থাকায় পুরো সড়কটি ব্যবহার করতে পারতেন না এলাকাবাসী।
এতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৩ অক্টোবর তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কটির বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে রাখার বিষয়টি দেখতে পান। এরপর সড়কটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
ভূমি অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডের ১ নম্বর খতিয়ান এবং মৌজা নকশায় সড়কটি সরকারি চলাচলের রাস্তা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট।
দীর্ঘ কয়েক দশক পর সরকারি সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হলে সরকারি এই বাইপাস সড়কটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ