মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

প্রতিবেদন:

·

, ,

শিক্ষা ডেস্ক:

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ শতাংশের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদই খালি পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট ১৫ হাজার ২৯৩টি। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ, প্রায় ১৮.৫৮ শতাংশ পদে কোনো শিক্ষক নেই।

শিক্ষক সংকটের এই চিত্র কেবল সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, বিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ প্রশাসনিক পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে ৩৮৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের এই শূন্য পদের পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি পড়ে আছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা না নিলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি সরকার। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার সব স্তরে জোর দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা বেশি জোর পাবে। শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে। এখন দরকার গুণমান বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভালো শিক্ষক।

দেশের শিক্ষা খাতে বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রচুর হলেও, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ইটের ওপর ইট গেঁথে ভবন নির্মাণ বা ভৌত অবকাঠামো বাড়ালেই শিক্ষার মান বাড়ে না; বরং শিক্ষার আসল মান বাড়াতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ