ক্যাটাগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • যেসব বিষয়ে দাখিল ও এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন

    যেসব বিষয়ে দাখিল ও এসএসসিতে অভিন্ন প্রশ্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সুপারকে এ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো- বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।

    এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য পূর্বের ন্যায় পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

    এমতাবস্থায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে উপর্যুক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

  • ২০২৭ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই

    ২০২৭ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পৃথক পাঠ্যবই সংযোজন করা হচ্ছে। বইটির লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা’ নামে যে পাঠ্যপুস্তকটি সংযোজন করা হচ্ছে, সেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বইটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যায়। ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, নতুন এই পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও সমন্বয় থাকবে। কর্মসূচিতে যে ১০টি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বইয়েও সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ার অভ্যাস
    আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় নয়; এটি সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদ তৈরির জন্য শুধু জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে কাজ করলে হবে না। তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

    ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ লাখো নিবন্ধন
    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধন হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধন আরও ব্যাপক হয়েছে। এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলে তা ২০ লাখেও পৌঁছাতে পারে।
    তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করা হবে।

    ৩০৬ খেলোয়াড়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ
    প্রথম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: আমিনুল হক
    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে যেসব খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেবে, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বিনা খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার খরচও সরকার বহন করবে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা
    তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এরই মধ্যে ২০১টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

    তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

    রাতারাতি ফল নয়খেলাধুলায় সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমের ফল পেতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন থেকে পরিকল্পিতভাবে শিশু ও তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।

    এসময় তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নয়; বরং পদক জয়ের মতো অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি খেলাকে বেছে নিয়ে বছরজুড়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

  • শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শেকৃবির ৬ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • দৌলতপুরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত

    দৌলতপুরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।

    বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সে হিসাবে পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ তলিয়ে গেছে। এতে দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে বন্যার পানি ঢুকে রোপা আমন ধান, কলা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি পৌঁছে যাওয়ায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গোখাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সম্ভাব্য সংকট নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

    চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শেখ নুরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো প্রয়োজন।’

    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সব গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

    বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, পানি বাড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা না করলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষ সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের সহায়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ইউএনও জানান, ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

    এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

  • স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির ওপর  নিষেধাজ্ঞা

    স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে সভাপতি জড়িত হতে পারবেন না।

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্যও আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়।

    তে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে অংশগ্রহণের ওপর বাধা-নিষেধ অংশে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না অথবা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না।

    এতে আরো বলা হয়, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।

    নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দেয়া বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারিবেন না।

    নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা দিতে পারবেন না।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামী বছর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শনের মূলকথা হলো-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক।

  • শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষক পাবে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষক পাবে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি আমাদের শিক্ষক সমাজ। যারা মাঠে চমৎকার কাজ করছেন, তাদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা দেশের শিক্ষকদের এই অবদানকে স্মরণ ও সম্মানিত করতে চাই।’

    তিনি জানান, এজন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচনে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে ২ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। এরই আলোকে সরকার এই পরিধি বাড়িয়ে সারা দেশের দক্ষ ও গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

    শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের শিক্ষিত আচরণ দিয়েই সমাজকে আলোকিত করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযাচিত কর্মকাণ্ড রোধ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষকদের নিজেদের কন্ট্রিবিউশনের বকেয়া অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রদেয় বাকি অনুদানের অর্থও ক্রমান্বয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল খালেক জানান, নতুন পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। সরকারি কর্মচারীরা যে হারে সুবিধা পাবেন, শিক্ষকরাও সেই অনুপাতেই সুবিধা পাবেন।

    সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার

    এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত হবে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে।

    নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অনেকে একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে।

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।

    এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।