প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার নীতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক স্তরে ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবী দাবি, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হলে শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রাথমিক স্তরে যেকোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বই ও পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শৈশব থেকেই শিশুদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় আবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ এবং এনসিটিবির বোর্ডবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিশুদের স্বার্থে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব। ’
পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব। ’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য। ’
শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’
যশোরের চৌগাছায় সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসার প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দফাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আসাদুল্লাহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রতিনিধি আফিল উদ্দিন দফাদার, মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক ওহিদুল ইসলাম বকুল,মাওলানা মুখতার হুসাইন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ওয়াজেদ আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, শফিউদ্দিন দেওয়ান, আজিম উদ্দিন দেওয়ান,সামছুল হুদা দফাদার প্রমুখ।
মাদ্রাসার এই প্রধান গেটটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। সিংহঝুলি গ্রামের দুই জন বিশিষ্ট ব্যাক্তি শফিউদ্দিন দেওয়ান ও আনোয়ার হোসেন দেওয়ান এই নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছেন ।
উল্লেখ্য তাদের পূর্বপুরুষরা এই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠা করতে ভুমিকা রেখেছিলেন।
মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।
আক্ষেপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বীন শিক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। এটা আমাদের জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। আগামীদিনের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্ম শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাহলে আগামীর যে বাংলাদেশ আমরা চাচ্ছি সেটা পাবো না। ’
এহসানুল হক মিলন আরও বলেন,‘মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে আধুনিক করা যায় সেটার জন্য আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছি। আজকের সমাজে আমাদের বেঁচে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। ’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কমিটির পৃথক দুটি সভায় এসব বই অনুমোদন দেওয়া হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত বই দুটি হলো—‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।
চতুর্থ শ্রেণির বই অনুমোদনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই অনুমোদনের জন্য অনুষ্ঠিত পৃথক সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খানসহ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির অন্যান্য সদস্য অংশ নেন।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহারের ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত এনে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা অপচয় হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ হয় ৫৭ টাকা।
সম্পূর্ণ একটি বইয়ের একটি মাত্র দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। তবে প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি সেখানে অন্য একটি বইয়ে রয়েছে ধানের শীষ। সেখানে পরিবর্তন আনা হবে কি না স্পষ্ট করেনি এনসিটিবি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বইটির মুদ্রণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় বইগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত এই পাঠ্যবইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে বৃত্তাকার প্রতীক, দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ চিত্র, তৃতীয় স্তরে মস্তিষ্ক এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। জানা গেছে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি থাকলেও ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের সংস্করণে তা বদলে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নতুন নকশায় পুনরায় পুরোনো ছবিটি ফিরে আসে। এনসিটিবির দাবি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের বইয়ের পুরোনো নকশাটি ভুলবশত আবার যুক্ত হয়েছে।
পাঠ্যপুস্তকে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারের ঘটনায় বই প্রণয়নপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এটিকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠ্যপুস্তকে এ ধরনের প্রতীকের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো বিশেষ আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে, যা শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইটি প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণি মিলিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এনসিটিবির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এনসিটিবির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবির অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের দাবি, প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে নৌকার ছবি অস্বাভাবিকভাবে বেশি রাখা হয়েছে।
অ্যাকটিভিস্ট খালিদ মোহাম্মদ তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে অন্তত ৩০টি এবং তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ২৪টি নৌকার ছবি রয়েছে। দুই বই মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫৪টি।
ভাইরাল পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অক্ষর পরিচয়, শব্দ শেখা ও ছবি দেখে চেনার পাঠে একই প্রতীক এতবার ব্যবহারের প্রয়োজন কী। পোস্টে আরো অভিযোগ করা হয়, এনসিটিবিতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
পোস্টের মন্তব্যে সালমান শামিল নামে একজন লেখেন, একই প্রতীকের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শিশুদের মনে নৌকার প্রতীক গেথে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য এক অ্যাকটিভিস্টও তৃতীয় শ্রেণির বইয়ে নৌকার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তবে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরতে পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহার স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নদীপথ, যোগাযোগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নৌকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, একই ধরনের ছবির পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও বৈচিত্র্য বাড়াতে কতটা কার্যকর। এর পরিবর্তে পরিবেশ, পেশা, প্রাণী, উদ্ভিদ ও দৈনন্দিন জীবনের আরো বহুমাত্রিক চিত্র ব্যবহার করা যেত কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ছবি শুধু অলংকার নয়, শেখার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই প্রতিটি ছবির পাঠের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা, বয়সভিত্তিক উপযোগিতা এবং শিক্ষাগত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা কাজ করেছে, প্রতিটি ছবির প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ছবি নির্বাচনে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না এটিও একটি প্রশ্নের বিষয় বলে মন্তব্য করেন একজন মন্তব্যকারী।
শিশুদের উপযোগী মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরিতে বিষয়বস্তুর যথার্থতার পাশাপাশি চিত্রের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।
এভাবে খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তরে মাদরাসা শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে একমুখী করা হয়। সেই কমিশনে মাদরাসা শিক্ষা এতই অবহেলিত ছিল, ২৯৮ পৃষ্ঠার কমিশন রিপোর্টে মাত্র আড়াই পৃষ্ঠা বরাদ্দ রাখা হয় মাদরাসা শিক্ষার বিবরণের জন্য।
ড. কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আলোকে প্রণীত ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে সাধারণ শিক্ষায় ইসলাম শিক্ষার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। কুদরাত-এ-খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তর করা হয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা নিয়ে তখন অবকাঠামোগতভাবে বড় ধরনের বিশৃ্ঙ্খলা দেখা দেয় এবং পরে তা স্বাভাবিকভাবেই অকার্যকর হয়ে যায়। এই কমিশনের আলোকে ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে মাদরাসা শিক্ষার সিলেবাসে ব্যাপকভাবে সাধারণ শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। এর ফলে মাদরাসায় স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সাধারণ শিক্ষার প্রায় সব বিষয় বাধ্যতামূলক করা হলে দ্বিগুণ সিলেবাসের বোঝা চাপে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাথায়। ফলে মাদরাসা শিক্ষার নেতারা পরে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুললে সংশোধন করা হয় শিক্ষানীতি। কিন্তু তারপরও মাদরাসার সিলেবাস থেকে ধর্মীয় অনেক বিষয় বাদ দিতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার বই বাধ্যতামূলক করার কারণে।
খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তর তথা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পাঠ্যপুস্তক না রেখে, সব ধর্মের মূল মানবিক ও নৈতিক বাণী নিয়ে একটি সমন্বিত ‘নীতিশিক্ষা’ নামক বই চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছিল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নীতির আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও উৎপাদনমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কারিগরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি করতে গিয়ে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল ধর্মীয় শিক্ষা। এ দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ কারিগরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলেন না কিন্তু বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে গিয়ে তখন সাধারণ শিক্ষা এবং মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার ওপর যেভাবে কুড়ালের কোপ বসানো হয়েছিল, এর বিরুদ্ধে তখন দেশের ৮০ ভাগ মানুষ ছিলেন তীব্র ক্ষুব্ধ।
বাংলাদেশকে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে গোড়া থেকে তার ভিত্তি মজবুত করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনন, চিন্তা, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সেই ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মীয় চিন্তা, মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বদলে দেওয়া ছিল এর একটি উদ্দেশ্য। তবে ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। কিন্তু ২০০৮ সালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈনসহ বিভিন্ন মহলের গভীর ষড়যন্ত্রে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দিকে যাত্রা করানোর প্রকল্প হাতে নেয়।
ভারতের মদতপুষ্ট এই দল শুধু ১৯৭৪ সালের খুদা কমিশনের রিপোর্ট নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি; বরং বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই ধ্বংস করার মিশন নেয় এবং তা সফল করে।
শেখ হাসিনার আমলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ইতিহাসসহ বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ের অন্যতম বিষয় ছিল শেখ মুজিব ও শেখ পরিবারের বন্দনা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। প্রায় সব পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদে স্থান পেত শেখ হাসিনার ছবি ও একপক্ষীয় স্লোগান। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ইতিহাসের সম্পূর্ণ একতরফা ও বিকৃত বয়ান। কোনো কোনো পাঠ্যবইয়ে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা পড়ে বোঝার উপায় ছিল না এটা বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা কোনো বই। ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশায় উৎসাহিত করতে মাধ্যমিক স্তরে সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর প্রণীত বই বিতরণ করা হতো নানা কৌশলে। শেখ হাসিনার আমলে পাবলিক পরীক্ষা মানেই ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস। অতিশয় নিম্নমানের লেখা পাঠ্যবই, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন, প্রাথমিক এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা চালু, শিক্ষা প্রশাসনের চরম দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনাসহ নানা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষার নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চূড়ান্ত নাজেহালসহ নিবর্তনমূলক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনবিমুখ করে শুধু সনদ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। পুরো শিক্ষা প্রশাসনকে পরিণত করা হয় দলীয় চাটুকার ও অযোগ্য লোকদের আখড়ায়।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি কমিশন গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত এই খাতের সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে পাঠ্যবইয়ে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ অন্তর্ভুক্তকরণ আর আওয়ামী-দলীয় একতরফা কিছু বয়ান বাদ দিলেই পাঠ্যবইয়ের মান ও শিক্ষার মান উন্নত হয়ে যায় না। বস্তুত সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই সম্পূর্ণ নতুন করে উপযুক্ত ও দক্ষ লোকদের মাধ্যমে প্রণয়ন করার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য দরকার একটি সম্পূর্ণ নতুন ও সময়োপযোগী শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি। তবে নতুন শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অতীতের কোনো শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি সামনে না রাখাই হবে উত্তম। বরং এর স্থলে জাপান, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের যেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো ও উন্নত, তা ভালো করে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য । তাদের শিক্ষাব্যবস্থা সামনে রেখে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজন, মূল্যবোধ, বর্তমান ও আগামীর কথা চিন্তা করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং সে আলোকে উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের বর্তমান যে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা, তা কোনো অবস্থাতেই বর্তমান প্রজন্মের উপযুক্ত নয়। ফলে বিদ্যমান পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাব্যবস্থা তাদের জন্য ভয়াবহ এক নির্যাতনমূলক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তাই এই শিক্ষাব্যবস্থা ঝেড়ে ফেলে আমূল পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, এআইসহ প্রযুক্তির দ্রুত ও অবিশ্বাস্য অগ্রগতির ফলে বিশ্বব্যাপী পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনেক কিছুই দ্রুত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। কাজেই নতুন একটি শিক্ষা কমিশন বা শিক্ষানীতির মাধ্যমে পুরোনো চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ কোনো কাজ আসবে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন লোকদের রাখতে হবে, যারা পরিবর্তনের এই ধারার সঙ্গে পুরোপুরিভাবে পরিচিত ও অবহিত। আর এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবশ্যই ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করতে হবে নতুন প্রজন্মের লোকদের সঙ্গে। তাদের কাছ থেকে জানতে হবে তারা কেমন পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থা চায় সে বিষয়ে।
আর সবার আগে পুরো শিক্ষা প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সব প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং নীতিনির্ধারণী প্রতিটি পর্যায় থেকে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের। তা না হলে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা কঠিন বা অসম্ভব হবে। তার নজির আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান না করে পাঠ্যপুস্তকে প্রথমপর্যায়ে যে পরিবর্তন আনা হয়, তাতে জুলাই চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। কারণ পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটিতে স্থান পেয়েছিল ফ্যাসিবাদের একজন দোসর। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও সংস্কার আনা অপরিহার্য।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পাঠ্যবইকে বিতর্কমুক্ত ও শিক্ষার্থী বান্ধব রাখার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ করে সংশোধনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, সরবরাহ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে পুনরায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর দেখানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরের ধারণা সহজে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে পৃথক প্রতীক। উপাত্তের জন্য বৃত্তাকার চিত্র, তথ্যের জন্য পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ প্রতীক, জ্ঞানের জন্য মানুষের মস্তিষ্ক এবং প্রজ্ঞার জন্য দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছে।
তবে দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় ছবিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।
সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের মুদ্রণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় বই সংগ্রহ ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুদ্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে সংশোধিত বই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে এ স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি যুক্ত করা হয়েছিল।
প্রজ্ঞা বোঝাতে নির্দিষ্ট কোনো একক প্রতীক সর্বজনস্বীকৃত নয়। প্যাঁচা, বইসহ বিভিন্ন প্রতীকও বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সংশোধিত বইয়ে এমন একটি উপযুক্ত প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রজ্ঞার ধারণাকে সহজ, স্পষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবে। তবে নতুন প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি এনসিটিবি।
দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে মাদ্রাসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষা ধারায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে।
শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় শিক্ষার্থী ভর্তির এই বিপরীতমুখী প্রবণতা শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের পছন্দ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল (পাস ও অনার্স) এবং কামিল পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হয়–এমন মাদ্রাসা ২০২৪ সালে ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। এই সংখ্যা বেড়ে ২০২৫ সালে ৯ হাজার ২৯৬টি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের কিছু বেশি ছিল। তা বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি, শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এ হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে দেশে সব ধরনের মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, আগে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী খুঁজতে হতো, কিন্তু এখন এমনিতেই মাদ্রাসায় অনেক শিক্ষার্থী আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। ধর্মীয় কারণেও অনেকে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী। করোনার পর দেশে অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ার যোগসূত্র দেখছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।
মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দাখিল মাধ্যমিক পর্যায়ের এবং আলিম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সমমানের। উচ্চ শিক্ষার স্তরে রয়েছে ফাজিল ও কামিল। দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম ও পরীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।
মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছ চার লাখের বেশি ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি। এক বছরে বিদ্যালয় বেড়েছে ৯৪টি, অথচ শিক্ষার্থী কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এক বছরে স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। দেশে এ ধরনের স্কুল রয়েছে ১৪৩টি। ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ৭৭। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২।
কারণ অনুসন্ধানে গবেষণার তাগিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার বিপরীতে মাদ্রাসায় বৃদ্ধির কারণ ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পছন্দের পরিবর্তন, অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা কিংবা শিক্ষার ব্যয়–কোন বিষয়টি এ প্রবণতায় কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কিনা– সেটিও স্পষ্ট নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, সাম্প্রতিক নানা পরিস্থিতি, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এগুলোর সম্ভাব্য কারণ ও প্রকৃত চিত্র জানতে গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাধ্যমিকে এত শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণসহ প্রতিবেদনের অন্যান্য পরিসংখ্যানের প্রবণতা বুঝতে নিবিড় গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু শিক্ষার্থী বাড়া-কমার পরিসংখ্যান দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি বিচার করা যথেষ্ট নয়। ঝরে পড়ার হার, শিক্ষার মান, শিক্ষক সংখ্যা ও যোগ্যতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় বাস্তব চাহিদা নিরূপণ এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর করণীয় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের হিসাব হাতে-কলমে করতে হওয়ায় তাদের নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কার্যক্রমের ওপর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এটি অর্থ বিভাগের হাতে। অর্থ বিভাগ যখন পৃথকভাবে গেজেট জারি করবে, তখন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।’
নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে
নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কত টাকা বকেয়া পাওনা হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়ার বিবরণী পাওয়া যায়।
তবে ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত নতুন পে স্কেলের সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; কেবল একটি অনানুষ্ঠানিক হিসাব সহায়ক। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ক্যালকুলেটর ফরম পূরণের নিয়ম
ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য ছাপা বিবরণীর শুরুতে থাকবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও হিসাব করা যাবে।
গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি তালিকা থেকে বেছে নিতে হবে।
৩০ জুনের মূল বেতন: পে স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় নিজের বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন বেছে অঙ্কটি লিখতে হবে।
১ জুলাইয়ের মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে যে মূল বেতন গ্রহণ করেছেন, সেটি দিতে হবে।
কর্মস্থল ও বাড়িভাড়া: বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে পে স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনে তা সংশোধন করা যাবে।
বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—নির্বাচিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে।
বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।
ঐচ্ছিক তথ্য ও হিসাবের বিবরণী
পে স্লিপে বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়া যাবে। আইবাস++ বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও ইনপুট হিসেবে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ওই অঙ্ক ধরেই হিসাব করবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচে হিসাবের বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে দেখানো হবে।
মাসিক হিসাবের মধ্যে থাকবে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনে তোলা বাড়িভাড়ার সমন্বয়। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা—১০ বা ১৫ শতাংশ—বিয়োগ করে হিসাব দেখানো হবে।তবে ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে চূড়ান্ত বেতন হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নির্ভুল হিসাবের জন্য মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি এর কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের কমিটি গঠন নীতিমালা এখনো বহাল আছে। ওই নীতিমালা বহাল থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন স্থগিতের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ড দিতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই রিটা ফাইল করা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।
দেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনাসহ শিক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, দেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক সংস্কার ও উন্নয়নে বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি।
এক নজরে মূল সিদ্ধান্তসমূহ:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ প্রদান।
ইএফটি (EFT) ও iBas++ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ।
গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বছরভিত্তিক মূল্যায়ন প্রবর্তন।
মালয়েশিয়ার শিক্ষা মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা রূপায়ণ।
এর আগে খুলনার একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের জন্য প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যাগের কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, এ বছর গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া হবে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া দ্রুত মেটানোর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, শুধু পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত মাপকাঠি হতে পারে না। শুধুমাত্র বছরভিত্তিক নয়, বরং প্রতি ৩ বা ৬ মাস অন্তর শিখনফল মূল্যায়নের পদ্ধতি চালু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকার বা ব্যক্তি পরিবর্তনের সাথে যাতে বার বারবার শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত না হয়, সেজন্য মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে স্থায়ী কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া জোর দিয়ে বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটি ৭ দফা সুপারিশ পেশ করেছে: শিক্ষার মান পরিমাপে বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সূচক ও মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি। শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধে আলাদা তালিকা তৈরি। বাজেটের সাপেক্ষে অন্যান্য বকেয়া ভাতা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা পরিচালনা করা। শিক্ষকদের নিয়মিত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো।
দেশের শিক্ষাবিদরা সরকারের এ উদ্যোগ এবং সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, কৃত্রিম পাসের হারের বদলে শিখনফল ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাক্রম চালু হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও স্থায়ী রূপান্তর ঘটবে।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত লিংকের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের সব অঞ্চলের পরিচালক ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মাউশি অধিদপ্তরের সব দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার যেসব ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হলো।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ‘গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি’ গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।
চিঠির অনুলিপি অবগতি ও কার্যার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাউশি মহাপরিচালক, সব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতেও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ।
এতে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথি, কূটনীতিক, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। পাশাপাশি এসব শিক্ষার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গঠনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে দ্রুত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, অকৃতকার্য ও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে।
তিনি জানান, এসব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে। যাদের ব্যবসা করার ভালো ধারণা রয়েছে, তাদের প্রাথমিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জাপানি, কোরীয়, চীনা কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিন থেকে ছয় মাসের ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু এসএসসি, এইচএসসি কিংবা অনার্সের সনদ থাকলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান থাকলে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে ভালো ফল করলেই জীবনে সফলতা নিশ্চিত হয় না। একইভাবে পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেই কেউ ব্যর্থ হয়ে যায় না। কেউ খেলাধুলায়, কেউ সংস্কৃতিতে, কেউ বিজ্ঞানের উদ্ভাবনে, আবার কেউ ব্যবসায় ভালো করতে পারে। একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে কারও অন্য প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, আগে পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত নম্বরের যোগ-বিয়োগ ঠিক আছে কি না, তা দেখা হতো। এখন উত্তরপত্রের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওইদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে উপ-সচিব রওশন আরা পলি স্বাক্ষরিত আদেশে নবযোগদানকৃত সহকারি শিক্ষকদের পদায়নের তারিখ পিছিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নবনিযুক্ত শিক্ষকগণের পদায়ন আদেশে ১১ অক্টোবর তারিখের পরিবর্তে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ এবং ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ১৫ অক্টোবর তারিখ পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এর আগে ১ অক্টোবর নতুন শিক্ষকদের নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান শেষে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের কথা ছিল। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা থাকলেও তা প্রথমে ১১ অক্টোবর করা হয়। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলো।
এর আগে এ নিয়োগের চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন যাচাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে প্রথম তালিকায় বিপুলসংখ্যক সুপারিশ প্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
সর্বশেষ হিসাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু ১ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে তাঁদের মধ্যে ৯১৮ জন যোগ দেননি। অন্যদিকে ৫৫৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন শেষ পর্যন্ত যোগদান করেননি।
এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের পরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীদের একজন। তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটের মধ্যেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। ফলে নতুন করে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অবস্থায় বারবার পদায়নের তারিখ পরিবর্তন এবং নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা দ্রুত নিরসনের দাবি উঠেছে।
যোগদান করা সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন প্রক্রিয়া পেছানোর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আছে কিনা তা জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপ-সচিব রওশন আরা পলির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তার হোয়াটস আপ নম্বরে বক্তব্য চাওয়া হলেও তার প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে নাম ও পদবী প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। অন্যদিকে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন।
ফলে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।
নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় এবার বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
দেশে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ শিক্ষকই এখনো শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ পাননি। শুধু মাধ্যমিক নয়, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও বড়সংখ্যক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। সব মিলিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো : পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন তিন লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষিত ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত। মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরো নাজুক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের প্রশিক্ষণ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষকতার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে উল্টোভাবে আগে নিয়োগ, পরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। যাদের প্রশিক্ষণ নেই, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মাননা তুলে দেন তিনি। গুণী শিক্ষক সম্মাননা হিসেবে প্রতিজনকে ২ লাখ টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
সারা দেশে শিক্ষকদের মধ্যে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ৯৫ জনকে চূড়ান্ত করেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছেন আরো ছয়জন। তবে এ তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ যাবে বলে জানা গেছে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ ছাড়া ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এ বছর প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন, কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত ৬ জন শিক্ষক সম্মাননা পান।
প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জনের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন ও মাদ্রাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০ জনের মধ্যে সাধারণ মাধ্যমিকের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন ও মাদরাসার ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জনের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ৫ জন চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও ৫ জন চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্মাননা পান। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মাটি ড্রেজিং (খনন) করতে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা-মনিটরিংয়ের জন্য ‘জেলা ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, শিক্ষা বা ধর্মীয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আবেদন যদি থাকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনামূল্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বরাদ্দ দেবে।
বৃহস্পতিবার এক গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়।
পুনর্গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক-সহকারী পরিচালক এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বিএডব্লিউটিএ’র বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। সভাপতির মনোনীত স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণমান্য ব্যক্তিকে, যার মধ্যে একজন নারী প্রতিনিধি থাকবেন।
গেজেটে আরো বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক মনোনীত একজন ছাত্র প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
যে সংস্থার নেতৃত্বে ড্রেজিং পরিচালিত হবে, ওই সংস্থার জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট কারণে উপযুক্ত প্রতিনিধি সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, এ কমিটি মাঠ ভরাট, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, খেলার মাঠ, সরকারি খাসজমি, পতিত জমি ও অন্যান্য সরকারি-সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নিচু জায়গা ভরাট-উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদন যদি থাকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনামূল্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বরাদ্দ দেবে।
আবেদন না থাকলে কমিটি বিধি মোতাবেক উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়ালের মূল্য নির্ধারণ, বিক্রি ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করবে, প্রতিযোগিতামূলক দর প্রাপ্তির লক্ষ্যে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল বিক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে, বিজ্ঞাপন খরচ সংশ্লিষ্ট সংস্থার বাজেট থেকে নির্বাহ করা হবে।
নির্ধারিত স্থান থেকে উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা দেবে ও ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন- ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল উত্তোলন কার্যক্রম তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেয়া, ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সংরক্ষণের স্থান নির্ধারণ করবে।
উত্তোলিত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল সরকারি খাসজমি-পতিত জমি-রিকুইজিশনকৃত জমিতে স্তূপ করে রাখার অনুমতি দেবে। ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল স্তূপীকরণের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তা নিরসন করবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি নদ-নদী ড্রেজিংয়ের ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।মা মাছের প্রজনন সময়ে মাছের আবাসস্থল-বিচরণক্ষেত্র-অভয়াশ্রম-প্রজননক্ষেত্রসমূহে নদ-নদী ড্রেজিং বন্ধ রাখবে। নদীর গতিপথের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং এর ফলে নদী ভাঙন হচ্ছে কিনা অথবা নদী তীরবর্তী জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। নৌ-পথে নৌযান চলাচল সুগম রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং সুপারিশ করবে। আন্তঃনদী সংযোগ স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ এবং খননের মাধ্যমে সচল রাখার ব্যবস্থা নিতে পারবে।
কিছু ছাপাখানায় নিম্নমানের কালি, বাঁধাইয়ে ত্রুটি।
১৪ ছাপাখানা, ১টি মান যাচাই প্রতিষ্ঠানকে শোকজ।
প্রাক্-প্রাথমিকের ৮৫%, প্রাথমিকের ৫২%, মাধ্যমিকের ১৪% বই ছাপানো শেষ।
আগামী বছরের বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা এবারও পুরোপুরি কাটছে না। দরপত্রের শর্তের চেয়ে পাঠ্যবইয়ে কম মানের জিএসএমের কাগজ ও নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও বাঁধাইয়েও ত্রুটি ধরা পড়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপানো ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রেই এসব তথ্য জানা গেছে।
এনসিটিবি সূত্র বলেছে, নিম্নমানের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিম্নমানের কাগজ ও ছাপার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ১৪টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বই ছাপার মান ও সার্বিক অবস্থা জানতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বইয়ের গুণগত মান ও ছাপার কাজের অগ্রগতি যাচাই করেন।
সূত্র বলেছে, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৮০ জিএসএম এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৭০ জিএসএম কাগজ ব্যবহারের শর্ত রয়েছে দরপত্রে। কিন্তু কিছু ছাপাখানায় এর চেয়ে কম জিএসএমের কাগজে বই ছাপার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহৃত কালি ও বাঁধাই নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে প্রতিবছরই বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের মান বজায় রাখার বিষয়ে এবার সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজের ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাপাখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে কোনো রকম ব্যত্যয় পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। ফর্মার মান খারাপ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই কেটে দেওয়া হচ্ছে।’
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ বই। বিনা মূল্যের এসব পাঠ্যবই ছাপায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই ছাপা চলছে ১৩৩টি ছাপাখানায়। এসব ছাপাখানার সিংহভাগ রাজধানী ঢাকার মাতুয়াইলে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়াতেও পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে।
এনসিটিবির হিসাবে, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক্-প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৬২ শতাংশের। প্রাথমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ৫২ শতাংশ, পিডিআই হয়েছে ২৪ শতাংশের। মাধ্যমিকের বই ছাপা শেষ হয়েছে ১৪ শতাংশ এবং পিডিআই হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশের।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অননুমোদিত ও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণেই বেশি শোকজ করা হচ্ছে। এর বাইরে ছাপা ও বাঁধাইয়ে ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করার অভিযোগও রয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এবার অনিয়মের বড় জায়গা কাগজ ও কালির মান। পাঠ্যবইয়ের জন্য দরপত্রে নির্দিষ্ট জিএসএমের কাগজের কথা বলা হলেও তা মানছে না অধিকাংশ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার করা কাগজের উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বেও ঘাটতি রয়েছে। দরপত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের কালি ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কালির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তা নকল বলে শনাক্ত হয়েছে। বইয়ের বাঁধাইয়েও ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে।
এনসিটিবি সূত্র বলছে, পিডিআইয়ের ছাড়পত্র পাওয়া কিছু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কাগজ পরে পরীক্ষা করে নির্ধারিত মান পাওয়া যায়নি। যদিও তা সংশ্লিষ্ট মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র পেয়েছিল।
এনসিটিবির তথ্যমতে, পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়মের জন্য আনন্দ প্রেস, রেদওয়ানী প্রেস, মেঘদূত প্রেসকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিখন আর্ট প্রেস, সাগরিকা, ন্যাশনাল প্রেস, সরকার, আনোয়ারা প্রেসকেও শোকজ করা হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ডিজিটাল, আনোয়ার, আমিন, মুত্তাহিদা, দশদিশা প্রেসকেও অনিয়মের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।
এবার পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের জন্য আলাদা পিডিআই প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে এনসিটিবি। প্রাথমিকের বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডি। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি।
সূত্র বলেছে, ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও শোকজ করেছে এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েকটি ছাপাখানার সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাগজে ছাপা বইকে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে আমরা কী করব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে, তা সঠিক নয়।
বিদ্যুৎ-সংকটে বাড়ছে ব্যয়
বিদ্যুৎ-সংকটে পাঠ্যবই ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কার্যাদেশ পাওয়া একাধিক মুদ্রণ ব্যবসায়ী। তাঁরা বলেছেন, দিনে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কাগজ। ছাপা চালু রাখতে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।
এনসিটিবি গত ২৩ আগস্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে যুক্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। চিঠিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মাতুয়াইলের অন্তত পাঁচজন ছাপাখানা মালিক জানান, এনসিটিবির চিঠির পরও প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকলেও মেশিন বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। মেশিন বন্ধ রাখলে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং বই ছাপা ব্যাহত হয়।
অন্য কয়েকটি ছাপাখানার মালিকেরা বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এতে নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালানোর বাড়তি ব্যয় পোষাতে গিয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বইয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘বই ছাপার কাজ আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই চলছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত মোট তেরোটি ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। ক্ষেত্রগুলোতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী এবং সংস্থার গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হবে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এ মনোনয়ন প্রস্তাব পাঠাতে হবে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লি উন্নয়ন, সমাজসেবা বা জনসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ক্ষেত্রসহ মোট ১৩টি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী এবং সংস্থার গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা ছক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইট (www.cabinet.gov.bd) থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
এমতাবস্থায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলি’ অনুসরণ করে নির্ধারিত ছকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ও আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৭’ এর মনোনয়ন প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ প্রস্তাবের ৩০ সেট আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সমন্বয় শাখায় পাঠাতে হবে।মনোনয়ন প্রস্তাবের হার্ডকপি ও সফটকপি Nikosh ফন্টে (ই-মেইল: sas_s4@moedu.gov.bd অথবা ডি-নথিতে) পাঠাতে বলা হয়েছে।
মধ্যরাতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে গিয়ে নতুন বই ছাপার মারাত্মক গলদ হাতেনাতে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর হঠাৎ তিনি মাতুয়াইল এলাকার ছয়টি প্রেস পরিদর্শন করেন। প্রেসগুলো হলো—মৌসুমী অফসেট প্রেস, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, শৈলী প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা অফসেট প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স এবং ন্যাশনাল প্রিন্টার্স।
গভীর রাতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে হঠাৎ পাঠ্যবই ছাপার মারাত্মক খারাপ অবস্থা দেখলাম। ছাপার মান খারাপ।”
প্রেস পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী বইয়ের গুণগত মান এবং ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি যাচাই করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন শিক্ষামন্ত্রী।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বই ছাপানো হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই ছাপানো হবে। নতুন বিষয়গুলোর বইসহ সংশোধিত ও পরিমার্জিত অন্যান্য বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এরপরই কতজন বাদ পড়ছেন তা জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র প্রদান বাকি আছে। এটা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ২০ জন ৫০ জন বাদ পড়ছে তা জানা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো ভিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে এ বিষয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলনে করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কিছু মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, কেউ কেউ বাবার কাছে, মায়ের কাছে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এটা চূড়ান্ত ছিল না। অনেক প্রার্থীর ঠিকানা পাল্টে গেছে। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন ও নিয়োগপত্র পাঠানো হচ্ছে।
মিডিয়ায় দুই প্রার্থীর বক্তব্য দিয়ে হৃদয়বিদারক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা চিঠি পেয়েছেন। আরেকজনের রেজাল্ট পাওয়ার আগেই মিডিয়া প্রচার চালিয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনে কাউকে বাদ দেওয়া হবে কি নাÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান মন্ত্রী।এদিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদিল বন্ধের বিষয়ে কোনো সার্কুলার দেওয়া হয়নি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলি করতেই হবে। এ নিয়ে দুর্নীতি হলে আমরা অনলাইনে করব।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না তারা। রোববার অনেকেই জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।
খুলনার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। গত বৃহস্পতিবার ১৯৬ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।
বাকি ৬৯ জনকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নিÑএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যাচাই শেষ করে জানানো হলে তাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
ছেলে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন তিনি। মুকুল বলেন, তেরখাদায় মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছি। এরপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, সেটা জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।
আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী সুদীপ মণ্ডল বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশ পেয়েছি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।
কুমিল্লায় ৫০৮ সুপারিশ, বাদ ৭৭কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫০৮ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৭৭ জন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে তারা বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের শর্তগুলো পূরণ করলেও শেষপর্যায়ে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চান্দিনার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেন বাদ দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।
নাঙ্গলকোটের তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কিছু জানেন না বলে জানান।
মাসুম বিল্লাহর বাবা দিদার হোসেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করছেন। ছেলে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিটা না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।
অনিশ্চয়তায় হবিগঞ্জের ৩০ জন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।
প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবির প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন।
নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে চাকরি নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমি না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।
কুড়িগ্রামে নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভ
কুড়িগ্রামে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়াদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে কিংবা শেষ হওয়ার পথে, তাদের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। বঞ্চিত প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া রৌমারীর প্রার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি। এই সরকার শুরু থেকেই আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল না। এজন্যই আমাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই বাদ পড়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুলাই আন্দোলন করেছিলাম, এটাই সমস্যা হতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, তারা অপেক্ষা করুক, তাদের জন্য ভালো সংবাদ রয়েছে।
গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিতের স্মারকলিপিসহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন গাইবান্ধার ৪১ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, তা আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছি।
ফুলছড়িতে বাদ ছয়জন
এদিকে, ফুলছড়িতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ৬৫ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ছয়জন। নিয়োগবঞ্চিত বেলাল হোসেন বলেন, মেধা আর পরিশ্রমে চাকরির শেষ বয়সে এসে এহেন পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করছি।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিএনপি সমর্থকের ছেলেও বাদ
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায়ও ছিল নাম। কিন্তু নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েন তিনি। জাহিদুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স করেন।
তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলায়। তার বাবা আব্দুল আজিজ সিকদার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সদস্য ফরমও কেনেন।
জাহিদুল বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাইনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই। মেডিকেল পরীক্ষায়ও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।
মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জব্বর খান বলেন, জাহিদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আজিজ সিকদার বিএনপি করেন।
রিকশাচালকের সন্তানের স্বপ্নভঙ্গবাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক ধাপও পেরিয়েছেন।
কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জের তাপস সরকার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা তাপসের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আশা যখন পূরণের পথে, তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
স্বপ্নভঙ্গ মেধাবী সোহানের
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মেধাবী সোহান। ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।
জানা গেছে, সোহান রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবা বশির গাজী নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করেন। ২০০৬ সাল থেকে সোহান পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। ছেলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।
সোহান বলেন, আমার নামে কোনো মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটেও কোনো সমস্যা নেই। পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দেব না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারব। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে না পাওয়াদের ৬৯৪ জন আজকে রোববার নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গতকাল মিটিংয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনার পর এই অগ্রগতি হয়েছে। বাকিদেরও ভেরিফাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। এগুলো ১ তারিখের পর যদি ক্লিয়ার না হয় তখন ইনডিভিজুয়াল কেস টু কেস দেখা হবে।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, টোটাল নিয়োগপত্র পাননি ১ হাজার ৩৮৩ জন। এরমধ্যে ৬৯৪ জনকে ভেরিফাই করে ক্লিয়ার করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন অন্যত্র চলে গেছেন তারা এই চাকরির জন্য বসে নেই। সব মিলিয়ে রিপোর্ট আসছিলো সারা দেশে ১ হাজার ৩৮৩ জন নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন না। গতকাল মিটিং করে আবার রিভিউ করা হলো। এরপর আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৯৪ জন অলরেডি ক্লিয়ার হয়ে গেছে। তার মানে হাফ হয়ে গেছে। আর ৭‘শর মতো আছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়াদের তালিকা আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরে জমা হচ্ছে। কী কারণে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি-এর মতামতসহ এই তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে।
রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আগের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা যে চিঠি দিয়েছি ওইটাই বহাল থাকবে। নতুন কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। আমরাও মাঠ পর্যায়ে কিছু জানাইনি।
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করার নির্দেশনা ছিলো। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা না হলে কারণ ও মতামতসহ তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপর আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারি করা হবে।
সূত্র জানায়, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারির পর প্রশিক্ষণের তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। সব জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
তারা বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বাকি ৬১ জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সব জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবেন।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় জানানো হয়।এ বিষয়ে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন-ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন।
তিনি আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে তার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ঘিরে একদল প্রবাসী বাংলাদেশির কটূক্তি ও রাজনৈতিক স্লোগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছেন ববি হাজ্জাজ। এ সময় কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁর পেছনে হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের কয়েকজনকে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ‘বাংলাদেশি টেরোরিস্ট’ ও ‘বাটপার’সহ বিভিন্ন কটূক্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করতে শোনা যায়।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা ববি হাজ্জাজের পিছু নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রতিমন্ত্রীকে কোনো বাদানুবাদে জড়াতে দেখা যায়নি। তিনি শান্তভাবে সেখান থেকে চলে যান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির স্থান ও সময় এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তাঁদের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ববি হাজ্জাজ। অধিবেশনের কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন আয়োজিত ‘মাল্টিপ্লাই পসিবিলিটি: এ নিউ এরা ফর এডুকেশন ফাইনান্সিং’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়তি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ববি হাজ্জাজ।
সভায় তিনি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
নিউইয়র্ক সফরে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিষয়েও কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, ববি হাজ্জাজকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন সরকারি প্রতিনিধিকে অনুসরণ ও কটূক্তি করার ঘটনাকে অনেকে সমালোচনা করছেন। পাশাপাশি ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেশের ৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তারা জানান, ‘শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। তা এখনো প্রাথমিক অবস্থাতেই রয়েছে, তবে আলোচনায় এ বিষয়টিকে সরকারের সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।’
এ বিষয়ে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে, কিন্তু সরকারি মাদ্রাসা মাত্র ৩টি। এ সংখ্যাটি খুবই নগন্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারি করণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি এ সরকারের আমলে ভালো কিছু হবে।’
জানা গেছে, দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি। এরমধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, যা ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পরে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে বর্তমান ঢাকার বকশীবাজারে স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে এবং কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিমে উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। এটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা। সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।
এদিকে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ ৭০৮টিসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি স্কুল-কলেজ থাকলেও সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র ৩টি। এ ছাড়াও ব্যানবেইসের সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি। এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।
এ ছাড়াও দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৬৭, ১ হাজার ২৮৫টি ও ফাজিল ৯৯৩টি ও ১৮৪টি। আর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ১ হাজার ২৫৮টি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদেশে সরকারি স্কুল-কলেজ থাকলেও বিভাগ-জেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা না থাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থী। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে অন্তত মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা প্রয়োজন। কারণ সীমিত সুযোগের মধ্যেই উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক-মেডিকেল ও বুয়েটে ভর্তি হচ্ছেন তারা। তাই সময়ের চাহিদানুযায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ জরুরি বলে জানান তারা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি স্কুল ও কলেজের বিস্তৃত উপস্থিতি থাকলেও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা তিনটিতে সীমাবদ্ধ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সাধারণের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বরে পড়াশুনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। তাই মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে, শিক্ষার্থীরা যেমন কম খরচে পড়তেও পারবে, পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তালিকায় নাম না থাকা অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষিত বেকারদের সবশেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের সরকার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও তাদের নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলেছে ভেরিফিকেশনের নামে এক অনিশ্চয়তা ও হয়রানির প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত এসব তরুণদের নিয়োগপত্র না দিয়ে গভীর হতাশার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য নেই। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।’এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি চেয়ে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন,‘এমন মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কোনো নাগরিককে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রতি অবিচার নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি জানাচ্ছি, যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, এমন প্রত্যেক নিরপরাধ প্রার্থীর নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছি, কারিকুলাম পরিবর্তন করছি। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনেক বেশি কঠোর হচ্ছে। আমাদের এখন ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য একটি শক্তিশালী ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন করেছি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে তৃতীয় ঢাকা-চায়না ডে-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশন এজেন্সির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। শিক্ষা খাতে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায় তা আমরা দেখছি। মোনাশ ইউনিভার্সিটি আমাদের দেশে একটি ক্যাম্পাস তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করব। এভাবেই আমরা আমাদের শিক্ষার উন্নয়ন করব এবং শিক্ষাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অনেক অবদান রাখছে। ’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে এটি আমাদের জিডিপির মাত্র ১.৩৯ শতাংশ ছিল, এখন আমরা অনেক বেশি পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এই বাজেট ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। তাই বাজেট আমাদের কোনো সমস্যা নয়। আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে চীন বা পশ্চিমা দেশগুলোর মতো উন্নত করতে পারি এবং আমরা তা করে দেখাব—এটিই আমাদের মিশন। ’
সমাজে তরুণদের পথভ্রষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা রাজনীতি নয়, সমাজ পরিবর্তনের একটি কর্মসূচি চাই। এই সমাজ কে পরিবর্তন করবে? প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কেবল শিক্ষা খাতই তা করতে পারে। আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং নেতিবাচকতার ধারা বন্ধ করতে জাতিকে সাহায্য করতে হবে। ’
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি ও জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া, সদস্যসংখ্যা, দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে গত ৩০ জুন মাদকের অপব্যবহার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত এ সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম গতিশীল ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া ৭ম সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী মাদকের কুফল সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, জনমানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত কমিটির কার্যক্রম গতিশীল ও দৃশ্যমান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত গতিশীল ও দৃশ্যমান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।
দেশের সব সরকারি কলেজের পাঠদানের রুটিন চেয়ে অধ্যক্ষদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফরম্যাটে রুটিন তৈরি করে ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাউশির কলেজ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, সরকারি কলেজগুলোর পাঠদানের রুটিন পিডিএফ ও ওয়ার্ড দুই ফাইলেই তৈরি করতে হবে।
এরপর নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় ফাইল দুটি পাঠাতে হবে।
রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে ফন্ট ব্যবহারের বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি। এতে বাংলা লেখার জন্য ইউনিকোড ফন্ট Nikosh, Kalpurush ইত্যাদি এবং ইংরেজি লেখার জন্য Times New Roman ফন্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রস্তুত করা রুটিনের পিডিএফ ও ওয়ার্ড ফাইল আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘dshegovtcollege1@gmail.com’ ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এ ভর্তি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত শিগগির চূড়ান্ত হবে বলে জানায় সূত্রটি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এ জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত সফটওয়্যারে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’ সারাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করবে।
লটারির আগে নির্বাচিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের যথার্থতা সরকার স্বীকৃত অন্য একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করতে হবে। এ-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
ডিজিটাল লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমান শিক্ষার্থীর তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকার ক্রমানুসারে পরবর্তী শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপেক্ষমান তালিকার ক্রম বজায় রাখতে হবে।
লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাবে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি কমিটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি সম্পন্ন করবে।
যৌক্তিক কোনো কারণে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণির কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।এদিকে ঢাকা মহানগরীর স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যালয় সংলগ্ন তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। এসব ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে গুণী শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা বা থানা থেকে ৩ জন গুণী শিক্ষকের প্যানেল প্রস্তুত করে তালিকা পাঠাতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। যা সব উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’-এ গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়ার লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রাথমিক (মাদ্রাসা), মাধ্যমিক (মাদ্রাসা) ও কলেজ (মাদ্রাসা) স্তরের প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রতিটি উপজেলা ও থানা থেকে ১ জনের বিপরীতে ৩ জন গুণী শিক্ষকের প্যানেল প্রস্তুত করে প্রস্তুতকৃত তালিকা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে মেইল: ada@dme.gov.bd-এ পাঠানোর জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম আজ (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ড অনুমোদিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়ার সুযোগ নেই। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিমালা লঙ্ঘন করলে কলেজের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের পাশাপাশি এমপিওভুক্তি বাতিল হতে পারে। সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ভর্তি কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে।নীতিমালার ৫.৭ ধারায় বলা হয়েছে, ৭কোন শিক্ষার্থীর নিকট হতে বোর্ড অনুমোদিত ফি-এর অতিরিক্ত কোন অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সকল ফি যথাযথ রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচের তালিকা স্ব স্ব কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।
ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ফি দেয়া কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে অন্যান্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে বিভাগ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোন সুযোগ নেই।
কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এই শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করতে পারবেনা বা অন্য কোন অজুহাতে কোন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটক রাখতে পারবে না। অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমাদানের সময় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র বিবরণীর সাথে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাতওয়ারি গৃহীত অন্যান্য ফি’র বিবরণী আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।
কলেজ-সমমানের প্রতিষ্ঠান বোর্ডের নির্ধারিত আসন সংখ্যা (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, শিফট, ছাত্র, ছাত্রী, সহশিক্ষা, ভার্সন) এবং বোর্ডের নির্ধারিত ভর্তি ফিসহ অনুমোদিত অন্যান্য সব ফি, ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ইত্যাদি তথ্যগুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি থাকবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে
এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গত ১২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে জারি করা ছুটির তালিকার অংশ-১৬৩ নম্বর প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধনক্রমে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম তারিখ সংশোধন করে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হলো।
এর আগে সর্বপ্রথম শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকমে ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আসছে, মিলতে পারে টানা চার দিন’ এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপরপরই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসার জায়গা তৈরি হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর লেখা রয়েছে। আর চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পড়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর- তাহলে ছুটি কবে? এসব প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ফের দৈনিক শিক্ষাডটকমে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২৩ নাকি ২৪ সেপ্টেম্বর, সিদ্ধান্ত আসছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এবার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে।
দৈনিক শিক্ষাডটকমের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। এর পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা নিয়মিত কার্যক্রম করবেন। এরপর ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কেউ যদি ঐচ্ছিক ছুটি নেয় তাহলে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সব সরকারি বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় পড়বে।
কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের অধিভুক্ত সব মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র নির্যাতন এবং কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কার্যকলাপসংক্রান্ত সংবাদ ও অভিযোগ প্রচারের প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণই শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তা প্রতিশোধমূলক হওয়া যাবে না। রাগের অবস্থায় শিক্ষার্থীকে শাস্তি না দেওয়ার পাশাপাশি শাসনের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজন হলে মৃদু ভর্ৎসনা এবং এরপর রাগ-ধমকের সুযোগ রাখা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন হলে সর্বশেষ ধাপে অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত করে অভিভাবকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে কোনো অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রীকে শাস্তিস্বরূপ প্রহার করা যাবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল, মাথা বা স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করা এবং হাড় ভাঙা, রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টি হয় এমন যেকোনো শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, তিরস্কার, কটু ভাষা বা ঘৃণাসূচক উপনামে সম্বোধনসহ যেকোনো ধরনের মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরিয়ত ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অপরাধ বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের নীতি। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে সমগ্র কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের দায় মাদ্রাসা, বোর্ড বা সামগ্রিক আলেম-উলামা ও ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে তদন্ত
প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদাচরণ, নির্যাতন বা হয়রানির অভিযোগ কমিটির কাছে জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
কোনো মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকা, নিষ্ক্রিয় থাকা বা অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলাহী কার্যক্রম ও অভিভাবক সমাবেশ
নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহী মজলিস আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি মজলিসের ব্যবস্থা এবং অভিভাবক-সমাবেশের আয়োজন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক জোরদার করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মনিটরিং সেল ও হটলাইন
মাদ্রাসার কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি বোর্ডকে পৃথক মাদ্রাসা মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণে পৃথক হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর বোর্ড, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সুরক্ষা কমিটিকে সমন্বিতভাবে তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর চরিত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়েও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মিথ্যা অপবাদ, ভিত্তিহীন সংবাদ বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষিকা, মুহতামিম বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বোর্ডগুলোর আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ (হোয়াটসঅ্যাপ)-এ যোগাযোগ করা যাবে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ৬৯তম সভা এবং এর আগে ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সাবকমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দেশনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি তৈরির ক্ষেত্রে হাকিমুল উম্মত খ্যাত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীসহ উলামায়ে দেওবন্দের তা‘লিম-তারবিয়তসংক্রান্ত রচনাবলি এবং প্রসিদ্ধ দীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফতোয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়।
নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নেওয়া যায়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।
শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে কোনো জাতিই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, একটা সময় শিক্ষার গুরুত্বকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিজভী অভিযোগ করেন, অনেক সময় প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। ‘আমাদের নিষ্ক্রিয় করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কোনো জাতি শিক্ষার যথাযথ সুযোগ ও প্রণোদনা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য বিনিয়োগ ও প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর আদেশ অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই তাদের যোগদান করানোর পথে আর কোনো বাধা থাকলো না। পাশাপাশি যোগদানের পরপরই তাদের পদায়ন নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানপত্র স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়টির প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে সই করেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে এলে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেবো। ’
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করি, ১ অক্টোবরের মধ্যেই সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
এদিকে যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে।
তবে তারা পদায়ন পেলেও ক্লাসে অংশ নেবেন না। নতুন এসব সহকারী শিক্ষক যোগদানের পর প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। এর আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না, এটা উচিতও হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি করে নেওয়া হয়। বিএনপি সরকার এসে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনেক ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়ো নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করানোর শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে পাস করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তবে এখন সেই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে বলে আমি মনে করি না। তবে এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। ’
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যেই যোগদান ও পদায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত রি-সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ষষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি-২০২৫ এবং সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬-এর আওতায় মোট ১৯৫ জন সুপারিশকৃত প্রার্থীকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ইতোমধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রার্থীরা এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) কিংবা নির্ধারিত লিংকে (http://ngi.teletalk.com.bd) ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিজেদের নতুন নিয়োগ সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতাভুক্ত প্রার্থীরা নিজস্ব ই-মেইল থেকে এই চিঠি ডাউনলোড করতে পারবেন। একইভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও ওয়েবসাইটে নিজ নিজ আইডি দিয়ে কিংবা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল থেকে নতুন শিক্ষকদের সুপারিশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রার্থীদের উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে এনটিআরসিএ।
তবে এই পুনর্নির্ধারিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে জয়েনিং স্ট্যাটাস পূরণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠান প্রধান-সহকারী প্রধান পরীক্ষার ভাইভা ১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বুধবার এনটিআরসিএ‘র এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬ এর এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে প্রার্থী। আগে দেয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে উল্লিখিত কাগজপত্রের মূলকপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ১ সেট ফটোকপি নিয়ে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে (৩৭/৩/এ, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০) নির্ধারিত তারিখ এবং নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।যেসব কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে: শিক্ষাগত যোগ্যতার সমর্থনে সব সনদপত্র (Certificates) ও নম্বরপত্র (Transcripts/Marks Sheets. অভিজ্ঞতার সনদপত্র (সংযুক্ত নমুনা অনুযায়ী)। এমপিওভুক্তি ও এমপিও সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, সব যোগদানপত্র ও নিয়োগপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনভাইজি), এমসিকিউ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র।৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬ এর এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। বিস্তারিত তথ্যের জন্য এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইট www.ntrca.gov.bd এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট ntrca.teletalk.com.bd ভিজিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, “আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।”
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।
এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বাসসকে বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫ মার্চের
গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তূর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূল কথায় যা আছেÑ
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো… ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো, যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’চট্টগ্রামে পকিস্তানি বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন এবং ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে… ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন… এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস… দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সেই রাত। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌবাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য…’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল… ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চ স্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে… ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না।
টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল… ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ… সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়… বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে…২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসস’কে বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’
২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সুপারকে এ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো- বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।
এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য পূর্বের ন্যায় পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।
এমতাবস্থায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে উপর্যুক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পৃথক পাঠ্যবই সংযোজন করা হচ্ছে। বইটির লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা’ নামে যে পাঠ্যপুস্তকটি সংযোজন করা হচ্ছে, সেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বইটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যায়। ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, নতুন এই পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও সমন্বয় থাকবে। কর্মসূচিতে যে ১০টি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বইয়েও সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ার অভ্যাস আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় নয়; এটি সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদ তৈরির জন্য শুধু জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে কাজ করলে হবে না। তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ লাখো নিবন্ধন তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধন হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধন আরও ব্যাপক হয়েছে। এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলে তা ২০ লাখেও পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করা হবে।
৩০৬ খেলোয়াড়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রথম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে যেসব খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেবে, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বিনা খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার খরচও সরকার বহন করবে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এরই মধ্যে ২০১টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
রাতারাতি ফল নয়খেলাধুলায় সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমের ফল পেতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন থেকে পরিকল্পিতভাবে শিশু ও তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।
এসময় তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নয়; বরং পদক জয়ের মতো অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি খেলাকে বেছে নিয়ে বছরজুড়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকরা হলেন- কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয় শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। ছুটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তাঁরা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সে হিসাবে পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ তলিয়ে গেছে। এতে দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে বন্যার পানি ঢুকে রোপা আমন ধান, কলা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি পৌঁছে যাওয়ায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গোখাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সম্ভাব্য সংকট নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।
চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শেখ নুরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো প্রয়োজন।’
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সব গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, পানি বাড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা না করলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষ সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের সহায়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও জানান, ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।
এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে সভাপতি জড়িত হতে পারবেন না।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্যও আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়।
তে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে অংশগ্রহণের ওপর বাধা-নিষেধ অংশে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না অথবা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না।
এতে আরো বলা হয়, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দেয়া বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারিবেন না।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা দিতে পারবেন না।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামী বছর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শনের মূলকথা হলো-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি আমাদের শিক্ষক সমাজ। যারা মাঠে চমৎকার কাজ করছেন, তাদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা দেশের শিক্ষকদের এই অবদানকে স্মরণ ও সম্মানিত করতে চাই।’
তিনি জানান, এজন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচনে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে ২ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। এরই আলোকে সরকার এই পরিধি বাড়িয়ে সারা দেশের দক্ষ ও গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের শিক্ষিত আচরণ দিয়েই সমাজকে আলোকিত করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযাচিত কর্মকাণ্ড রোধ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষকদের নিজেদের কন্ট্রিবিউশনের বকেয়া অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রদেয় বাকি অনুদানের অর্থও ক্রমান্বয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল খালেক জানান, নতুন পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। সরকারি কর্মচারীরা যে হারে সুবিধা পাবেন, শিক্ষকরাও সেই অনুপাতেই সুবিধা পাবেন।
সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে।
নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অনেকে একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।
এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
সদ্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের গুনতে হবে ২২০ টাকা।
একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দিতে পারবেন। আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে। গত বছরের মতো এবার তিন ধাপে নয়, এক ধাপেই আবেদন নেওয়া হবে। গত ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। একই দিন ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি প্রকাশ করে আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মঙ্গলবার জানান, একাদশে ভর্তির আবেদন গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর পরিবর্তিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
একই সময়ে অন্য শিক্ষার্থীরাও পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
আবেদন শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডকে বিভিন্ন খাতে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজ ও মাদরাসায় ভর্তি নেওয়া হবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।
ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে ঢাকা মহানগরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত কলেজে এ হার আরো বেশি। এর বাইরে রেড ক্রিসেন্ট ফি ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি বাবদ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা নেওয়া যাবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের জন্য ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং নবম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যয় হবে।
বৈঠকে অষ্টম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এজন্য মোট ১০০টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৫৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৩৪টি দরপ্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১০০টি দরপত্রের মধ্যে ৯৮টির বিপরীতে সুপারিশ করা গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বই কেনার সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহে গড়ে ব্যয় হবে ৬৩ টাকা ১৭ পয়সা।
এ ক্রয় প্রস্তাবে ৯২টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে এবং ছয়টি লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি দুটি লটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, একই বৈঠকে নবম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এ প্রস্তাবের আওতায় মোট ২১৫টি দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা।২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করা হবে।