ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো: সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।
রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো: আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম খান।
আদালত সূত্র জানায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউল হকের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা গোপন রাখতে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়।
আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় আকাশের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
