জ্ঞানেশকে সরতেই হবে-ককরোচ প্রধান

প্রতিবেদন:

·

, ,

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

এমনকি নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের পুণেতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন দীপকে। মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে।

দীপকের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন। তার অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, তার মতে যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কারণ বিজয়ী কে হবেন, তা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

দীপকে আরও অভিযোগ করেন, ভারতের এমন কিছু রাজ্যে বিজেপি জয়ী হচ্ছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ সময়েও দলটি জয় পায়নি। এই বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

‌মহারাষ্ট্রের পুণেতে বর্তমানে মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এতে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের নেতা রোহিত পাওয়ারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের সব পরীক্ষার্থী এবং তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের প্রতি তিনি সমর্থন জানাচ্ছেন। তার দাবি, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীরা মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের একাংশ আগে থেকেই নানা অভিযোগ তুলে আসছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে দীপকের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে দীপকের এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ